লক্ষ্য করেছেন যে cash টাকার ব্যবহার কমতে শুরু করেছে. বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানেই সরাসরি ব্যাঙ্ক থেকে আপনার একাউন্টে টাকা ঢুকছে বেতন হিসেবে. মুদিখানা বা চায়ের টন দোকান বাদে। সম্প্রতি যা কিছু কেনাকাটা করেছেন একটু লক্ষ্য করলেই দেখবেন তার বেশিরভাগ লেনদেনই আপনাকে ডিজিটাল পেমেন্টে করতে হয়েছে. আর সেটা অনলাইন কেনাকাটা হলে তো কথাই নেই. বিশ্বের অনেক দেশের মতো আমাদের দেশেও এখন মোবাইল পেমেন্ট ই ওয়ালে, ট্যাপ টু পে, ডেবিট এবং ক্রেডিট কার্ড বহুল ব্যবহৃত payment পদ্ধতি।
তার মানেটা কি দাঁড়াচ্ছে? আমরাও কি ধীরে ধীরে ক্যাশলেস সোসাইটির ধারণার সাথে অভ্যস্ত হতে শুরু করেছি? ক্যাশলেস সোসাইটি হলো এমন একটা সুব্যবস্থা যে সমাজে ক্যাশ টাকা বা মুদ্রার ব্যবহার একেবারেই থাকবে না. এখন অনেকের কাছে এটা কল্প কাহিনীর মত শোনাবে কিন্তু আসল সত্য হচ্ছে আমরা একটু একটু করে সেদিকেই এগোচ্ছি । বর্তমান সময়ে অনেক আর্থিক কর্মকান্ড এবং লেনদেন ক্যাশ টাকা ছাড়াই সম্পন্ন হচ্ছে এবং সেক্ষেত্রে অনেক আর্থিক প্রতিষ্ঠান পরিষেবা সংস্থা এমনকি সরকারও এই পরিবর্তনকে প্রমোট করছে. যদিও ক্যাশলেস সোসাইটির ধারণাটি এখনো বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই প্রক্রিয়াধীন. তবে একটি ক্যাশলেস সমাজ কিভাবে বিকশিত হবে সেই সম্পর্কিত কিছু বৈশিষ্ট্য কিন্তু এখনই দেখা যাচ্ছে.
মূলত চার ভাগে একটা সমাজ ক্যাশলেস হতে পারে. ক্রেডিট এবং ডেবিট কার্ড. কার্ডগুলো বর্তমানে ব্যবহৃত সবচেয়ে জনপ্রিয় ক্যাশ বিকল্প গুলোর মধ্যে একটি. কিন্তু শুধুমাত্র কার্ড একশো পার্সেন্ট ক্যাশহীন সমাজ গঠন করার জন্য যথেষ্ট নাও হতে পারে. মোবাইল ডিভাইসগুলো এর পরিবর্তে অর্থ প্রদানের জন্য হতে পারে একটা প্রাথমিক হাতিয়ার. ইলেকট্রনিক পেমেন্ট অ্যাপস. জেল, পেপার এবং ভেনমোর মতো অ্যাপ গুলো ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি অর্থ প্রদানের জন্য যথেষ্ট সহায়ক. যাকে বলা হয় পিটুপি পেমেন্ট.
মোবাইল পেমেন্ট সার্ভিস অ্যাপেল পে, গুগোল পে, উই চ্যাট পে বা হোয়াটসঅ্যাপ পে এর মত মোবাইল ওয়ালেট সহ এই পরিষেবাগুলো নিরাপদ এবং ক্যাশ মুক্ত অর্থ প্রদান করে। অনেক দেশে তারা এরই মধ্যে অর্থ প্রদানের জন্য জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।
ক্রিপ্টো কারেন্সি। ক্রিপ্টো কারেন্সি ইতিমধ্যে বিশ্বের আলোচনার শীর্ষে এটা অর্থ জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে অলরেডি এবং এটা প্রতিযোগিতার মুখে ফেলে দিয়েছে অন্য সকল সিস্টেমকে. যাইহোক এতে ঝুঁকি এবং কিছু নিয়ন্ত্রক বা বাধা রয়েছে যা বেশিরভাগ গ্রাহকের জন্য এখনো ঠিক অতটা সুবিধাজনক নয়. ক্রেডিট এবং ডেবিট কার্ড, পেপাল কিংবা অ্যাপেল পে এর মত পেমেন্ট পরিষেবা সারা বিশ্বেই এখন জনপ্রিয়. কার্ড পরিষেবা বর্তমানে ব্যবহৃত সবচেয়ে জনপ্রিয় মাধ্যমগুলোর মধ্যে একটি. একটু খেয়াল করলেই দেখবেন ক্রেডিট এবং ডেবিট কার্ড পরিষেবাকে আরো বিস্তৃত করতে কেনাকাটায় নানা ধরনের লোভনীয় অফার দেওয়া হচ্ছে. রেস্তোরাঁ থেকে শপিং মল. সবখানেই মেলে ব্যাপক ডিসকাউন্ট. এইসবই কিন্তু ক্যাশলেস সোসাইটিতে মানুষকে অভ্যস্ত বা উৎসাহিত করার একটা সরল উদ্যোগ.
কিন্তু শুধুমাত্র এই কার্ড দিয়েই সমাজকে শতভাগ ক্যাশলেস করা যাবে না. প্রান্তিক মানুষদেরকে কিংবা ভিন্ন ভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষদেরকে এই সেবার সাথে খুব সহজেই সম্পৃক্ত করা যাবে না. সেক্ষেত্রে মোবাইল ডিভাইসগুলি অর্থ আদান প্রদানের জন্য একটা মোক্ষম প্রক্রিয়া হয়ে উঠতে যাচ্ছে. যেখানে শুধু ক্যাশলেস নয় বরং কার্ডলেস সোসাইটির ধারণাটাও কিন্তু চলে আসছে. হচ্ছেও কিন্তু তাই. মোবাইল ফাইনাল সার্ভিস খুব দ্রুত আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে হয়ে উঠেছে খুব গুরুত্বপূর্ণ. বৈশিকভাবে বেশ কিছু দেশ এরই মধ্যে ক্যাশলেস সমাজ গঠনে খুব দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে.
সুইডেনের কথায় ধরা যাক. ব্যাংক নোট জারি করা প্রথম ইউরোপীয় এই দেশটি ক্যাশলেস প্রথম দেশগুলোর মধ্যে হতে যাচ্ছে অন্যতম. সুইডেনের প্রতি এক লক্ষ মানুষের জন্য এখন গড়ে গুনে গুনে মাত্র বত্রিশটি এটিএম বুথ চালু আছে. অপরদিকে শতকরা আটানব্বই ভাগ নাগরিকের কাছেই আছে ডেভিড অথবা ক্রেডিট কার্ড। কিন্তু তারপরেও সুইডেন মোবাইল পেমেন্টের পদ্ধতি ব্যবহার করা শীর্ষস্থানীয় দেশগুলোর মধ্যে একটি. ইউরোপীয় পেমেন্ট কাউন্সিলের মতে দু হাজার উনিশ সালে ক্যাশ অর্থ লেনদেনের পরিমাণ সুইডেনের জিডিপির মাত্র এক পার্সেন্ট ছিল এবং আগামী দু হাজার চব্বিশ সালের মধ্যেই সুইডেন শতভাগ ডিজিটাল অর্থনীতির পাশাপাশি বিশ্বের প্রথম cashless দেশ হওয়ারও প্রস্তুতি নিচ্ছে. অনেকেই ভাবছেন এতে লাভ কি? পকেট ভর্তি টাকা থাকলে সমস্যা কোথায়?
প্রথমত cash টাকা বহন করতে গেলে আপনার কি ধরনের পরিস্থিতিতে করতে হয় সেই কথা না হয় কোলসাগরে আর নাই বললাম অপরাধীদের জন্য আপনার পকেট থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়া যতটা সহজ ডিজিটাল ওয়ালেট থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়া কিন্তু ততটাই কঠিন। এছাড়া জাল টাকা বলে কিন্তু তখন আর কিছুই থাকবে। আরেকটা ব্যাপার হচ্ছে এ ধরনের প্রেমের পদ্ধতিতে প্রত্যেকটি লেনদেনের স্টেটমেন্ট থাকায় অপরাধমূলক কাজ করা খুব কঠিন কঠোর মতো মনে হচ্ছে তাই না আমেরিকা এবং জার্মানির গবেষকদের এক সমীক্ষায় দেখা গেছে আমেরিকার মিসৌরিতে ডিজিটাল পেমেন্ট পদ্ধতি চালু করার পর থেকে এই অঞ্চলে অপরাধ কমেছে প্রায় নয় দশমিক আট শতাংশ।
শুধু তাই নয় দু হাজার একুশ সালের ডিসেম্বরে প্রকাশিত Master card economic আউট look রিপোর্ট বলছে বিশ্ব জুড়ে কোভিড মহামারী চলাকালীন সময়ে বিভিন্ন দেশ বড় অঙ্কের রাজস্ব আদায় করতে পেরেছে আর এর পেছনে মূল ভূমিকা পালন করেছে ডিজিটাল ফাইনান্সিয়াল অ্যাক্টিভিটিজ।
এবার ফিরে আসা যাক বাংলাদেশের দিকে বড় অর্থনীতির দেশ চীন, ভারত কিংবা অন্যান্য ইউরোপীয় দেশে সম্ভব হলেও বাংলাদেশিকে ক্যাশলেস সোসাইটির সম্ভাবনা আছে খুব স্পষ্ট করে বললে ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মানে ক্যাশলেস সোসাইটির ধারণা একটা গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার ।কোভিড নাইনটিন মহামারীর কারণে লকডাউন এবং বিভিন্ন বিধি নিষেধের ফলে সমগ্র বিশ্বই যখন থেমে গিয়েছিল মানুষকে যখন ঘরের মধ্যেই আবদ্ধ থাকতে হয়েছিল দিনের পর দিন সেই সময়টাতে অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও ডিজিটাল পেমেন্টের ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। উদ্যোক্তা বেড়েছে প্রচুর যার বেশিরভাগটাই অনলাইন বেজড।। বিকাশ, নগদ, রকেটে, উপায় বা সিটিটা , সেলফিন ইত্যাদি ডিজিটাল পেমেন্ট উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছে। তবে একটি কথা, ডিজিটাল পেমেন্টের অনেক সুবিধা থাকলেও নিরাপত্তার ঝুঁকিও আছে কিছু কিছু ক্ষেত্রে. বিশেষ করে বাংলাদেশে যেহেতু মোবাইল ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থা জনপ্রিয় তাই এই বিশেষভাবে টার্গেট করেছে প্রতারক চক্র. মাঝে মাঝেই শোনা যায় গ্রাহককে ফাঁদে ফেলে অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার কথা. এছাড়াও বিভিন্নভাবে গ্রাহককে হয়রানির মুখেও ফেলে প্রতারকরা. কোম্পানিগুলো চেষ্টা করছে আরো বেশি নিরাপত্তা প্রদানের.
যেমন উপায় সম্প্রতি এসে বেশ সাড়া ফেলে দিয়েছে. উপায় অ্যাপ যেমন নিরাপদ তেমনই উপায় অ্যাপ ব্যবহার করা সহজ এবং সুবিধাজনক এ ছাড়াও অ্যাপটি এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যা আপনাকে দেবে দুর্দান্ত এক অভিজ্ঞতা ব্যক্তিগত ওয়ালেটের মতোই ব্যবহার করা যাবে উপায়ে কারণ ক্যাশিং, ক্যাশ আউট, সেন মানি, মোবাইল রিচার্জ বিল পেমেন্ট সহ অন্যান্য সবকিছুই এখন করা যাচ্ছে উপায় অ্যাপ থেকে কোনো চার্জ ছাড়াই। আর সারা দেশে ফ্রি তে টাকা পাঠানোর সুবিধা তো আছেই অ্যাপ কিংবা ইন্টারনেট সংযোগ না থাকলেও কোন অসুবিধা নেই মোবাইলে স্টার টু সিক্স এইট হ্যাশ ডায়াল করলেও উপায় ব্যবহার করা যাবে স্বাচ্ছন্দে । সবকিছুই এত সহজেই যখন উপায় করা যায় তখন অন্য কোথাও কেন? জীবন হবে আরো ফার্স্ট আরো স্মার্ট. আর উপায় অ্যাকাউন্ট খুললেই পাচ্ছেন সর্বোচ্চ পঞ্চান্ন টাকা পর্যন্ত ক্যাশ রিওয়ার্ড. একাউন্ট খুলে ফেলুন নিজে নিজেই. থাকুন. অন্যদের থেকে এক কদম এগিয়ে।
বাংলাদেশে কোভিড পরবর্তী সময়ের পরিসংখ্যানেও কিন্তু সেই চিত্র ফুটে উঠেছে. ডিজিটাল লেনদেন দু হাজার বিশ সালের মার্চ মাসে যেখানে পনেরো শতাংশ ছিল সেখানে দু হাজার একুশের জুনে দ্বিগুণেরও বেশি. তিরিশ থেকে পঁয়ত্রিশ শতাংশে উন্নত হয়েছে. যেখানে কার্ডের ব্যবহার এক সময় দুশো পঁচিশ কোটি টাকা থেকে বারোশো পঞ্চাশ কোটি টাকা অর্থাৎ পাঁচ গুণ বেড়েছে.
শুধু তাই নয় বাংলাদেশ ব্যাঙ্কের মোবাইল আর্থিক সেবার পরিসংখ্যান বলছে. দুহাজার-বাইশ সালের এপ্রিলে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে গ্রাহকের তিরানব্বই-হাজার-বত্রিশ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে. যা গত মার্চ মাসের তুলনায় বেড়েছে পনেরো হাজার সাতশো তিরিশ কোটি টাকা. বিশেষ করে মোবাইল ফাইনান্সিয়াল সার্ভিস বা এমএফএস দেশে মোবাইল ব্যাংকিং সেবায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন নিয়ে এসেছে. শহর কিংবা গ্রাম. মুহূর্তের মধ্যেই দেশের যেকোনো স্থানে টাকা পাঠানো যাচ্ছে এই পদ্ধতিতে. শুধু একটা বিষয় মোবাইল ফিনান্সিয়াল কোম্পানিগুলোকে চার্জ কমাতে হবে আরো বেশি. তাহলেই এই পরিসংখ্যান অনেক গুণ বেড়ে যাবে.
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য বলছে দেশে বর্তমানে বিকাশ রকেট উপায়ে মাইকেশ, সিওর ক্যাশ বিভিন্ন নামে তেরোটি ব্যাংক মোবাইল ব্যাংকিং সেবা দিচ্ছে. দু হাজার বাইশ সালের মার্চ শেষে মোবাইল ব্যাংকিংএ নিবন্ধিত গ্রাহক সংখ্যা এগারো কোটি উননব্বই লাখেরও বেশি.
এরমধ্যে শহরে গ্রাহক আছে পাঁচ কোটি পঁয়ত্রিশ লাখ এবং গ্রামে রয়েছে পাঁচ কোটি তিয়াত্তর লাখ এছাড়া নিবন্ধিতদের মধ্যে পুরুষ ছয় কোটি একচল্লিশ লাখ এবং নারী গ্রাহক আছে চার কোটি তেষট্টি লাখ । বোঝাই যাচ্ছে মোবাইল ফাইনান্সিয়াল সার্ভিসের আওতায় শহরের পাশাপাশি গ্রামীণ জনপদের প্রান্তিক নারী পুরুষ সবাই সমানভাবে সুবিধা আদায় করতে পারছে. একথা বলতেই হবে যে বাংলাদেশ সরকারও এই অগ্রযাত্রাকে নানাভাবে বিকশিত করতে সাহায্য করছে. সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মানে বিশেষ করে সরকারি সব ধরনের ভাতা উপবৃত্তি ও প্রণোদনা মোবাইল আর্থিক সেবা খাতকে ব্যবহার করছে । অতএব বলাই যায় মোবাইল ব্যাংকিং এর ব্যবহার তাই ধীরে ধীরে আরো বিস্তৃত হচ্ছে এবং আরো হবে শুধু ব্যক্তিগত আদান প্রদানই নয় গত এপ্রিল মাসেই মোবাইল ফাইনাল সার্ভিসের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বেতন ভাতা বিতরণ করা হয়েছে দুই হাজার আটশো আটাত্তর কোটি । বিদ্যুৎ বিল, গ্যাস বিল সহ বিভিন্ন সেবার বিল পরিশোধ করা হয়েছে দু হাজার ছয়শো আটষট্টি কোটি টাকা. শেষ করতে চলেছি আজকে বাংলাদেশের জন্য ক্যাশলেস ইকোনমি এখন কিন্তু একটা সময়ের ব্যাপার মাত্র. এখনই মানুষ ফোন থেকে ফোনে টাকা পাঠাচ্ছে খুব সহজেই. একজন সাধারণ কৃষক তার ফসল বিক্রি করে মোবাইলে টাকা জমা রাখবে. আর যেই টাকাটা সে একটা দোকানে গিয়ে খরচ করবে সেটাও মোবাইলের মাধ্যমেই পেমেন্ট করবে. তখন হাতে আর আর ক্যাশ রাখার প্রয়োজনই হবে না. কষ্ট করে আয় করার টাকাটা তখন চুরি কিংবা দুর্ঘটনাবশত নষ্ট হবে না. ডিজিটাল বাংলাদেশ রূপায়ণে যা এক বিরাট ভূমিকা রাখবে.
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন