সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

মিনিমালিজম কি ? কিভাবে মিনিমালিস্ট হওয়া যায় ?

মিনিমামলিজম


এই ধারণাটি বিগত কয়েক বছরে বেশ জনপ্রিয়তা লাভ করেছে এবং এর যথেষ্ট কারণও আছে. এই পুরো ব্যাপারটা কি? সেটাকে সঙ্গায়িত করা যায় এভাবে যে,  মিনিমালিজম হচ্ছে যা আমাদের জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সেগুলোকে ধারণ করা এবং বাকি সব কিছু যা আমাদের দৃষ্টিকে অন্যদিকে সরিয়ে নেয় সেগুলোকে ইচ্ছাকৃতভাবে ত্যাগ করা।  অর্থাৎ কোন কোন বিষয়ে জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং কোন জিনিসগুলোকে আমাদের কাছে সবচেয়ে মূল্যবান সেই সম্পর্কে একটা পরিষ্কার ধারণা থাকা এবং বাকি সব ত্যাগ  করে দেয়. সেগুলো নিয়েই জীবন ধারণ করা. কিন্তু এমন সংজ্ঞায়ন সত্ত্বেও minimalism কোন ধরাবাধা জীবন ব্যবস্থা নয় বা মিনিমালিস্ট হতে হলে কোন নির্দিষ্ট মানদণ্ড মেনে চলতে হবে এরকমটিও কিন্তু নয়. মিনিমালিস্ট লাইফ স্টাইল এমন একটি বিষয় যা প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য স্বতন্ত্র। এক্ষেত্রে মূল বিষয়টি হচ্ছে সত্যিকার অর্থে কোন কোন বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও প্রয়োজনীয় সেই সম্পর্কে একটা পরিষ্কার ধারণা নিয়ে সেই অনুযায়ী জীবন ধারণ করা. প্রিয় দর্শক চলুন দেখি মিনিমালিজম কিভাবে আপনার জীবনধারা বদলে দিতে পারে। 


মিনিমালিস্ট জীবন অবশ্যই ইচ্ছাকৃতভাবে বেছে নিতে হবে এবং তা হতে হবে স্বচ্ছ, নির্মম এবং উদ্দেশ্যপূর্ণ. কারণ যেহেতু প্রত্যেক ব্যক্তির জীবন চিন্তাভাবনা, ধ্যান , ধারণা স্বতন্ত্র এর জন্য প্রয়োজন নিজের গভীরে প্রবেশ করা এবং প্রথমে নিজের প্যাশন এবং কি গুরুত্বপূর্ণ তা খুঁজে বের করা।  মিনিমালিজম লাইফ লিখে যদি আপনি গুগোলে সার্চ করেন তাহলে দেখা যায় সুন্দর গোছানো পরিপাটি ঘরের ছবি. একটা খাট, একটা টেবিল, পাশে একটা ফুলের টপ. রান্নাঘরে মাত্র কয়েকটা ক্রুকে কেস. কাপড়ের আলমারিতে হাতে গোনা কয়েকটা কাপড়. সবকিছু ঝকঝকে পরিপাটি। আসলে এই মিনিমালিজম জীবন মানে আরো অনেক কিছু জীবন থেকে পরিপাটি করা. যেমন আমাদের ফেসবুকে বন্ধুদের সংখ্যা তিন হাজার প্লাস. সঠিক মানুষগুলোকে চিনে নেয়া বাকিগুলোকে ডিলিট করে দেওয়া. মিনিমালিজম দিতে পারে আপনাকে বস্তুগত জীবন থেকে মুক্তি. 



আধুনিক জীবন এবং সংস্কৃতি আমাদের শিখিয়েছে যে বস্তুগত সম্পদ অধিকার করার মাঝেই সমস্ত সুখ নিহিত এবং যত বেশি বস্তুগত সম্পদ অধিকার করবো জীবন হবে তত সুখের।  আমাদের শেখানো হয়েছে যে যত বেশি অর্জন করা যায় ততই ভালো এবং বিজ্ঞাপনগুলো এই ধরনের প্রচার করছে যে সুখ এখন ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে কিনতে পাওয়া যায় ।


কিন্তু এই ধারণা নিঃসন্দেহে ভুল মিনিমালিস্ট জীবন বস্তুগত সম্পদ অধিকার করার এই সর্বগ্রাসী চেতনা থেকে মুক্তি দেন। ভোগবাদের এই যান্ত্রিক জীবন থেকে সরে এসে অন্য কোথাও সুখ খোঁজার জন্য সাহস যোগায়. মেনিম্যালিজম গুরুত্ব দেয় সম্পর্ককে, অভিজ্ঞতাকে এবং অবশ্যই আত্মিক যত্নকে. এটা আমাদের দেখায় যে আমরা ইতিমধ্যে যা অধিকার করেছি তাই যথেষ্ট । minimalism আমাদের কৃতজ্ঞ হতে শেখায় এবং এর মাধ্যমে আমরা স্বল্পের মধ্যেই প্রাচুর্যতা খুঁজে পাই. মিনিমালিজম আধুনিক জীবনের উন্মাদনা থেকে মুক্তি দেয়. আধুনিক জীবন প্রচন্ড গতিময়।



 আমরা সবসময় একটা কেমন যেন তারার মধ্যে থাকি সবকিছু দ্রুত চাই এবং সারাক্ষণ মানসিক পীড়ন ভোগ করি. বিভিন্ন রকমের বিল ট্যাক্স এসব প্রদানের জন্য আমাদের দীর্ঘ সময় কাজ করতে হয়. কিন্তু এরপরেও দিন দিন আমাদের ঋণ বাড়তেই থাকে. আমরা ক্রমাগত এক কাজ থেকে আর এক কাজে ছুটে যাই. এমনকি রাস্তায়ও কাজ নিয়ে থাকি। তারপর আমাদের কাজ কখনই শেষ হয় না. সারাক্ষণ আমরা একে অপরের সাথে ফোনে যোগাযোগ করতে থাকি. কিন্তু সত্যিকারের সম্পর্ক যা জীবনকে সুন্দর করে তুলবে তার দেখা কখনোই পাইনি. কিন্তু মিনিমালিজম জীবনের এই দুর্বিষহ গতিময়তা থেকে মুক্তি আনে এবং আধুনিক জীবনের এই উন্মাদনা থেকে বেরিয়ে আসার সুযোগ দেয়. এটা আমাদের দেখায় যে অপ্রয়োজনীয় কাজগুলো না করার স্বাধীনতা আমাদের আছে এবং শুধুমাত্র যার নিতান্তই প্রয়োজনীয়. সেগুলো নিয়ে জীবনধারণ করতে শেখায়. ইচ্ছাকৃতভাবে না হলেও আধুনিক জীবন বেশিরভাগ মানুষকে বাধ্য করেছে একটা ছলনাময় জীবনযাপনে. তারা তাদের পরিবারের সাথে থাকে একভাবে. কর্মক্ষেত্রে তাদের সহকর্মীদের সাথে আরেকভাবে. আবার প্রতিবেশীদের সাথে দেখা যায় একেবারে অন্য একটা রূপে। যেই জীবন তারা বেছে নিয়েছে সে জীবন তাদের বাধ্য করে একটা বাহ্যিক রূপ তৈরি করতে যা অবস্থার সাথে সাথে বারবার পরিবর্তন করতে হয়. অন্যদিকে minimalism আমাদের শেখায় একটা দৃঢ় এবং অটল জীবন ও চরিত্র তৈরি করতে । যা যে কোন অবস্থার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ. একজন মিনিমাম লিস্টের চরিত্র শুক্রবার ছুটির দিনে যেরকম রবিবার কর্মক্ষেত্রে ঠিক একই রকম. এই ধরনের চরিত্র নির্ভরযোগ্য এবং স্বস্তির। একজন মিনিমাম লিস্টের চরিত্র সকল ক্ষেত্রে একই রকম এবং তার জীবন. সৎ, স্বচ্ছ এবং নির্মল. 


কাউন্টার কালচার বলতে বোঝায় মূল ধারার সংস্কৃতির বিপরীতে অন্য আর এক ধারার সংস্কৃতির সৃষ্টি করা. আমরা বর্তমানে এমন এক যুগে বাস করি যেখানে সেলিব্রিটিদের বলতে গেলে উপাসনা করা হয় । দৈনিক পত্রিকা, ম্যাগাজিন টিভি, রেডিও সর্বত্র তাদের পথচারণা এবং তাদের জীবনকে দেখানো হয় আধুনিক জীবনের সর্বোচ্চ মানদণ্ড হিসেবে. এর ফলাফল হিসেবে সাধারণ মানুষ অন্ধভাবে তাদের ভোগবাদী জীবনযাপন অনুকরণের চেষ্টা করে. 



মিনিমালিস্ট হওয়া কোন অসম্ভব বিষয় বা ইউটুপিয়ান কল্পনা নয়. সম্পূর্ণভাবে অর্জনীয়. অনেক ব্যক্তি এবং পরিবার এর জীবন্ত উদাহরণ যারা সকল রকম বাহ্যিক চাকচিক্য ত্যাগ করে খুব সাধারণ একটা বাসায় অতি সাধারণ জীবন যাপন করছে. তাদের অনেককেই জিজ্ঞেস করে জানা গেছে যে তারা এই জীবনে সন্তুষ্ট এবং তাদের পূর্বের জীবনে আর ফিরে যেতে চান না. বর্তমানের জন্য মিনিমাম জীবন বেছে নেওয়া উত্তম সময়. কারণ এই একটা গ্যাজেট ফোন আমাদের অনেকটা সময় কেড়ে নিচ্ছে প্রতিনিয়ত. এর ওর জীবন দেখে নিজের সাথে তুলনা করে আমরা অস্থির হয়ে পড়ছি. শুধু তাই নয়, হতাশার মতো ভয়াবহ রূপ আমাদের ভেতর দানা বাঁধছে. 



মিনিমালিজম সম্পর্কে মানুষের কিছু ভুল ধারণা রয়েছে যেগুলো উল্লেখ করা প্রয়োজন. অনেকের ধারণা মিনিমারিজম হচ্ছে সবকিছু ত্যাগ করার ব্যাপার। কিন্তু বাস্তবে মিনিমালিজম মানে সবকিছু ত্যাগ করা নয় বরং শুধুমাত্র যা জীবনে মূল্যবান এবং প্রয়োজনীয় শুধুমাত্র সেগুলোই ধারণ করা. দুটি ব্যাপার কাছাকাছি মনে হলেও পার্থক্যটা কিন্তু একেবারে ভিত্তিগত. আবার অনেকে মনে করেন মিনিমালিজমে অনেক রকম নিষেধাজ্ঞা আছে যে জীবনকে আরো কঠিন করে তোলে. আগে যেমন বলা হয়েছে মিনিমালিজমের কোনো ধরাবাধা নিয়ম বা মানদণ্ড নেই । মিনিমালিজম মানে এও না যে কোনো ধরণের শখ বা কোনো কিছুর সংগ্রহের অভ্যাস দেখা যাবে না । যা অনেকেই ধরে নেন।  এমনকি অনেকে এরকমও মনে করেন যে সন্তান, সন্তানাদি থাকলে মিনিমালিস্ট জীবনধারণ সম্ভব না. এটা ঠিক যে পারিবারিকভাবে মিনিমালিস্ট জীবন ধারণ এবং একাকে মিনিমালিস্ট জীবন ধারণের মধ্যে কিছুটা পার্থক্য আছে. কিন্তু উভয়ই সমানভাবে সম্ভব এবং কিছু ক্ষেত্রে সন্তানদের মিনিমালিস্ট জীবন ধারণ শেখানো বরং বেশি গুরুত্বপূর্ণ । ক্রিয়েটিভ মানুষদের যত সিম্পল থাকা যায় ততই ভালো। কমপ্লেক্সিটি আসলে অন্যান্য বিষয় নিয়ে চিন্তা করতেই সময়গুলো পার হয়ে যায় ভালো কিছু নিয়ে চিন্তা করার সুযোগ তখন আর থাকে না। আধুনিক জীবন নিঃসন্দেহে নানাবিধ জটিলতায় পরিপূর্ণ.  



কিন্তু একটু চিন্তা করলেই দেখা যায় যে এই সকল জটিলতা প্রাকৃতিক নয় বরং এই ভোগবাদী আধুনিক জীবনের সৃষ্ট সমস্যা এবং এগুলো চেষ্টা করলেই পরিত্যাগ করা যায়. মিনিমালিস্ট জীবন পদ্ধতি সেক্ষেত্রে আমাদের অনেকটাই সাহায্য করতে পারে । আপনার ধ্যান ধারণা, জীবন, চেতনা, সবকিছু বদলে দিতে পারে মিনিমালিজম. আপনার বাসস্থানকে করে তুলে আরো শৈল্পিক. আপনার পরিবারের জন্য দেবে আরো বেশি সময়. থাকবেন চিন্তা মুক্ত. সাজানো, গোছানো ও নির্মলতাই মিনিমালিজমের প্রধান বিষয়. আজ এই পর্যন্তই প্রিয় দর্শক । ধন্যবাদ সাথে থাকার জন্য ।   

মন্তব্যসমূহ

Blog Posts

ন্যানো টেকনোলজি কিভাবে কাজ করে ?

  যদি বলি আপনার চোখ দেখতে পারে না এমন গভীর ও প্রায় অনাবিষ্কৃত একটা পৃথিবী আছে. হয়তো বলতে পারেন যে মহাবিশ্বে কত গ্রহই তো আছে? সব খোঁজ কি আমরা পেয়েছি? কিন্তু যদি বলি আমাদের এই পৃথিবীর ভেতরে আরো একটি জগত আছে এবং যে জগৎ ছড়িয়ে আছে আমাদের গোটা বিশ্ব জুড়ে. এইবার হয়তো নড়েচড়ে বসবেন. হ্যাঁ আমাদের চোখের সামনেই রয়েছে এমন এক রাজ্য যে আমরা খালি চোখে দেখতে পাই না. এটাকে বলা হয় অণুবীক্ষণিক বিশ্ব. এই অণুবীক্ষণই বিশ্ব প্রচন্ড আকর্ষণীয় ও চমকে দেওয়ার মতো. কি কি ঘটছে এখানে তা আমার আপনার কল্পনারও বাইরে. এটা যেন কোনো ভিন গ্রহ বাসীদের রাজ্য. সম্ভাবনার দুয়ার খুলে রাখা আছে এই অণুবীক্ষণিক বা nano বিশ্বে.  ন্যানো কি ন্যানো হলো পরিমাপের একক। এক মিটারের একশো কোটি ভাগের এক ভাগ হচ্ছে এক ন্যানো। আর ন্যানো টেকনোলজি হলো বিজ্ঞানের এই অতি ক্ষুদ্র স্তরে একটা কিছু তৈরী করা আসলে শুধু তৈরি করা না. ন্যানোমিটার স্কেলে পরিবর্তন, পরিবর্তন, ধ্বংস বা সৃষ্টি সম্পর্কিত টেকনোলজিকেই ন্যানো টেকনোলজি বলে. অর্থাৎ ন্যানোমিটার স্কেলে পরিমিত যেকোনো বিষয়ে বহুমাত্রিক টেকনোলজিকে ন্যানো প্রযুক্তি বা ন্যানো টেকনোলজি বলা যে...

লুসিড ড্রিম কাকে বলে ? লুসিড ড্রিম কিভাবে দেখতে হয় ?

 স্বপ্ন নিয়ন্ত্রণ করার কথা ভেবেছেন কখনো? নিশ্চয়ই ভাবছেন জেগে জেগে দিবাস্বপ্ন দেখার কথা বলছি না তো? কিন্তু না, রীতিমতো ঘুমিয়ে দেখা স্বপ্নও নিয়ন্ত্রণের কথাই বলছি, আপনার ইচ্ছামত স্বপ্ন দেখবেন। ইচ্ছা মতো নিয়ন্ত্রণ করবেন। আর পছন্দ না হলে অর্থাৎ দুঃস্বপ্ন দেখা শুরু করলে সেটার গতিপথ পাল্টে দেবেন একেবারে নিমেষে। আধুনিক বিজ্ঞানের ভাষায় এটা খুবই সম্ভব একে বলা হয় লুসিভ ড্রিম। লুসিড ড্রিমিং এর সাথে আপনারা অনেকেই হয়তো পরিচিত আছেন। অনেকে পরিচিত থাকলেও হয়তো এটা কেন হচ্ছে বা কিভাবে হচ্ছে তা নিয়ে বেশ দ্বিধা দ্বন্দ্বে আছে এসবেরই উত্তর মিলবে আজকের এই লিখাতে।   লুসিড ড্রিম অর্থ কি? সহজ বাংলায় অনুবাদ করতে গেলে বলা যায় লুসিড অর্থ পরিষ্কার. অর্থাৎ স্পষ্ট আর dream মানে তো আমরা সবাই জানি যে স্বপ্ন। লুসিড ডিম হলো সেই স্বপ্ন যে আমাদের স্পষ্ট ভাবে মনে থাকে এবং স্বপ্ন চলাকালীন সময়েও আমরা এ উপলব্ধি করতে পারি যে এটি বাস্তব নয় বরং এটি স্বপ্ন কিন্তু শুধুমাত্র আক্ষরিক অর্থ দিয়ে লুসিড ড্রিম ব্যাখ্যা করলে ভুল হবে একটু অন্যভাবে বলা যাক ।  মনে করুন স্বপ্নে আপনি কি পাহাড়ের উপর থেকে দ্রুত গ...

প্রযুক্তি দুনিয়াতে পর্দার আড়ালে থেকে যাওয়া এক প্রতিভাবান এর গল্প ।

পর্দার আড়ালে একা খেলে যাচ্ছেন একজন. কামাচ্ছেন বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার. অথচ তাকে চেনে খুব কম সংখ্যক মানুষ. আইটি জগতে ইলন মাস্ক, জেফ বোজোস বা বিট গ্রেটসের সাথে তার নামও সমান তালে চলার কথা ছিল. কিন্তু বিহাইন্ড দা সিনে একা গোল করে যাচ্ছেন তিনি. নাম ড্রোন ইয়াং পিং ড্রোন ইয়াং পিং নামটি মোবাইল ফোনের জগতে খুবই কম মানুষের শোনা. তবে তার নাম অজানা থাকলেও তার কোম্পানি বিবিকে ফোন গিগদের মধ্যে বেশ পরিচিত. ওয়ান প্লাস, রিয়েলমি, অপো, ভিভো এবং আইকিউ. এই পাঁচটি জনপ্রিয় মোবাইল ব্র্যান্ডের একক মালিক ডোন ইয়াং পিন.  এই ব্র্যান্ড গুলো তার কোম্পানিতে পরিণত করেছে বর্তমানের সবচেয়ে বড় মোবাইল ফোন উৎপাদনকারী কোম্পানিতে. অ্যাপেল , শাওমি বা স্যামসাং যারা মোবাইল ফোনের জগতে বর্তমানে সবচেয়ে বড় ব্র্যান্ড তাদেরকেও পেছনে ফেলে এগিয়ে গিয়েছে বিবিকে কোম্পানি। কিন্তু এত সফলতার সত্ত্বেও বেশিরভাগ মোবাইল ফোন ব্যবহারকারী এমনকি ফোন গিগরাও তার সম্পর্কে বলতে গেলে তেমন কিছুই জানে না. এলেন মাস্ক, স্টিভ জবস বা জ্যাকমা, যারা কিনা টেকনোলজির জগতে খুবই পরিচিত তাদের সম্পর্কে অনলাইনে  অগণিত তথ্য রয়েছে। কিন্তু ডন ইয়ং পিং এর...

সারোগেসি কি ?

সারোগেসির মাধ্যমে সন্তান ধারণ করা নিয়ে এখনো বহু বিতর্ক আছে. শুধু আমাদের দেশে নয়, সারা বিশ্বেই এই পদ্ধতি নিয়ে তর্ক বিতর্কের শেষ নেই.  এটার আইনি প্রক্রিয়াও জটিল। কারণ এটি একেক রাষ্ট্রে. শারোগেসি আইন একেক রকম. নারী মা হবেন প্রাকৃতিক নিয়ম সমাজ এমনটাই দেখতে অভ্যস্ত. কিন্তু কোন কারণে মা হবার ক্ষমতা না থাকলে তাকে পরিবার ও আশপাশ থেকে যে পরিমাণ কটু কথা শুনতে হয় তা সাধারণ মানুষের ধারণারও বাইরে.   সরোগেসি বিষয়টি কি? চিকিৎসা শাস্ত্রের অগ্রগতি এমন মায়েদের সামনে এনেছে যারা গর্ভ ভাড়া দিয়ে নিজে বাঁচেন অন্যদের মাতৃ সুখ দেন । একজন নারীর গর্ভে অন্য দম্পতির সন্তান ধারণের পদ্ধতিকে সারোগেসি বলা হয়.সারোগেসির এই  পদ্ধতি বেশ দীর্ঘকালীন. আইভিএফ পদ্ধতিতে স্ত্রী ও পুরুষের ডিম্বাণু শুক্রাণু দেহের বাইরে নিষিক্ত করে তা নারীর গর্ভাশয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়. কিন্তু এখানেও জটিলতা. কেন? সে বিষয়ে পরে আসছি. বাংলাদেশ সহ বহু দেশই এই সারোগেসি একরকম ভাবে নিষিদ্ধ. সুতরাং বিষয় টি  সংবেদনশীল. এমনকি বেশিরভাগ ধর্মেও রয়েছে নিষেধাজ্ঞা. চলুন কথা বলি সারোগেসি মাদার সম্পর্কে। আইভিএফ বা টেস্ট টি...

পেগাসাস স্পাইওয়ার কি ?

গত কিছুদিন ধরেই বিশ্ব রাজনীতি এবং প্রযুক্তি জগৎ এই দুই জায়গাতেই আলোচনার বিষয়বস্তু একটাই। সেটা হচ্ছে পেগাসাস স্পাইওয়ার. বিশ্বজুড়ে নানান দেশের মানবাধিকার কর্মী সাংবাদিক আইনজীবী ও রাজনীতিকদের ফোনের নজরদারি চালানোর ঘটনা ফাঁস হওয়ার পর ইজরায়েলের বেসরকারি কোম্পানি nso গ্রুপের তৈরি করা এই সফটওয়্যার নিয়ে এখন তুমুল তরজা চলছে দুনিয়া জুড়ে । চলুন কথা বলি দুনিয়া ওলট পালট করে দেওয়া স্পাইওয়ার সম্পর্কে । পেগাসাস মূলত একটি নজরদারি বিষয়ক সফটওয়্যার । ইজরাইলের সংস্থা এনএসও ই সফটওয়্যার তৈরি করেছে। যা দিয়ে যে কারো মোবাইলে আড়ি পাতা যায়. এটা কিন্তু সাধারণ কোন নজরদারি নয়. আগে ফোনে আড়ি পেতে শুধু দুই প্রান্তের কথাবার্তা শোনা যেত. আর সফটওয়্যারের মাধ্যমে গোটা ফোনটারই নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় হ্যাকাররা. ফোনের কথাবার্তা WhatsApp এর চ্যাট, ছবি, ফোনে কি কি তথ্য আছে সবই জানা যায়. আরো ভয়ানক ব্যবহার হচ্ছে মোবাইল যিনি ব্যবহার করছেন তিনি জানতেই পারেন না যে তার ফোন হ্যাক করা হয়েছে. সমস্ত তথ্য পাচার হয়ে যাচ্ছে নির্দিষ্ট একটি গোষ্ঠীর কাছে. কিন্তু কারো ফোনে পেগাসাস software install করতে হলে তো সেই ফোনটাকে...

রেট রেস কি ?

      আপনি ঠিক কখন ইঁদুর দৌড়ে যোগ দিয়েছেন এটা হিসাব করা কঠিন. কিন্তু নিশ্চিত থাকুন আপনি এই দৌড়ে আছেন. ক্লাস eight এ পড়ার সময়ের কথা মনে আছে? সামনে বৃত্তি পরীক্ষা পাটিগণিত বীজগণিতের অংক প্যাঁচ লাগাচ্ছে বিজ্ঞানের জটিল সব সূত্র ভোরে ওঠে প্রাইভেট টিউটরের বাসায় ছোটা রাত জেগে পড়াশোনা. বয়সের তুলনায় অনেক বেশি কর্ম ব্যস্ত একটা সময় নিশ্চয়ই কাটিয়েছেন তখন? আমরা সবাই কাটিয়েছি. সেই সময় নিশ্চয়ই অভিভাবক বলেছে এই তো আর কটা দিন. বৃত্তি পরীক্ষা শেষ হলেই জীবন শান্তি আর শান্তি. জীবনের নানা এপিসোডে আপনি এই কথাগুলো শুনেছেন অনেকবার অনেকের মুখে. এসএসসি পরীক্ষাটা দাও, কলেজে উঠলেই তো স্বাধীনতা. একবার ভার্সেটিতে উঠতে পারলেই জীবন হবে আনন্দে ভরপুর. একবার জব লাইফে ঢোকো. নিজের টাকায় আয়েশ করার মজাই অন্যরকম. শুনেছেন না এসব?  বয়স ঘড়ির ত্রিশের প্রান্তে দাঁড়িয়ে হিসেবগুলো মেলাতে পারেন কি? কি মনে হয়? এই এপিসোডগুলোর কোনোটা পার হবার সময় জীবন খানিকটা হলেও সহজ হয়েছে? সুন্দর হয়েছে? হয়নি, হবেও না, মিথ্যা একটা মরীচিকার আশায় আমরা ছুটেছি ঠিকই আমাদের ছোটানো হয়েছে, কিন্তু হিসাব মেলেনি ছুটত...

ম্যান্ডেলা ইফেক্ট কেনো হয়?

   আচ্ছা নিজের স্মৃতি শক্তির উপর কতটা বিশ্বাস আছে আপনার? আচ্ছা বাদ দিয়ে আপনার কথা. গণমানুষের স্মৃতিশক্তির উপর নিশ্চয়ই বিশ্বাস আছে অনেকটা. না না. ধর্মীয় কোন বিশ্বাস না. এই গ্রহে ঘটে যাওয়া এমন সব ঘটনা. যা সবাই জানে. তা কি রকম মিথ্যা? এক দশক আগেও পৃথিবীর প্রায় এক তৃতীয়াংশ মানুষ জানতো যে অস্ট্রেলিয়ার রাজধানীর নাম সিডনি. আসলে কি তাই? গত এক দশকে এই ধারণা মোটামুটি পরিবর্তন হয়ে মানুষ জেনেছে অস্ট্রেলিয়ার রাজধানীর নাম ক্যানভেরা. এখনো এই ভুল হরমামেশাই করে যাচ্ছে মানুষ. বিশ্বাস না হলে আশেপাশের কিছু মানুষকে জিজ্ঞেস করে দেখতে পারে. প্রশ্ন করতে পারেন ম্যান্ডেলার নাম কেন? এই ফ্ললস মেমোরি সিন্ড্রোমকে ম্যান্ডেল এফেক্ট নামকরণ করেছেন প্যারানরমাল কনসালটেন্ট ফীয়না ব্রুম তার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে । দু হাজার দশ সালের এক আলোচনা সভায় উঠে আসে দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদ বিরোধী আন্দোলনের নেতা উনিশশো আশি সালে কারা জানে মারা যাওয়ার প্রসঙ্গ । অনেকেই সেদিন বলেছিল, টিভিতে এই নেতার শেষকৃত্যের আনুষ্ঠানিকতা দেখার অভিজ্ঞতার কথা. ম্যান্ডেলার স্ত্রীর হৃদয় নিন্দারও ভাষণের কথা উল্লেখ করেছিলেন কেউ কেউ. এমনক...

কিভাবে লিমিটলেস হওয়া যায় ? লিমিটলেস আসলে কিভাবে কাজ করে ?

এনজিটিপিল,  এটা এমন এক পিল যা আপনাকে করবে আল্ট্রা ফোকাসড. দেবে দুর্দান্ত মোটিভেশন. বের করে আনবে আপনার সর্বোচ্চ সম্ভাবনা. আপনি হয়ে উঠবেন আনস্টপল. বাস্তবতা পাবে প্রতিটি স্বপ্ন. কিন্তু সমস্যা হচ্ছে এমন কোন পিলের অস্তিত্ব নেই. ফলাফল আপনি আটকে আছেন একটি খাদে. সারাক্ষণ ক্লান্তি নিয়ে হয়ে উঠছেন আনপ্রোডাক্টিভ. নষ্ট হচ্ছে ক্রিয়েটিভিটি. সময় গড়িয়ে যায়. ঋতুর পরিবর্তন ঘটে. কিন্তু আপনি ডুবে থাকেন এক হতাশায় যাতে আপনি দিন দিন পিছিয়ে পরছেন. আপনি যা যা এতদিন অর্জন করবেন ভেবেছিলেন তা কিছুই আপনি অর্জন করতে পারেননি । নিজেকে সান্তনা দিচ্ছেন আগামীকাল হবে ভিন্ন। কিন্তু তা কখনোই হয়ে ওঠে না এখন যদি আপনাকে বলি কোনো জাদুকরী পিলের সাহায্যে নয় বাস্তবিক লিমিটলেস হয়ে ওঠা সম্ভব।  একদম প্রমাণিত পদ্ধতিতে যা একেবারে ফ্রিতে ব্যবহার করা সম্ভব.  তো আছেন তো শেষ পর্যন্ত ?  Limit less হওয়ার যাত্রায় ।  স্টেপ ওয়ান : এনার্জি--  মাত্র কয়েক মাস আগে আমি নিজেও আপনার মতো কর্মশক্তিহীন অনুভব করতাম. সামান্য কাজেই আসতো অবসন্নতা, গেয়ে ধরতো ক্লান্তি একদিন হঠাৎ টের পেলাম আমি নিজেই নিজের energy নি...

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কি ? আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কতটা ভযঙ্কর হতে পারে আগামী দিনের জন্য ?

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বহুল চর্চিত এবং ব্যবহৃত একটি শব্দ. মানুষের বুদ্ধিমত্তা ও চিন্তা শক্তিকে কম্পিউটার প্রোগ্রামিং এর মাধ্যমে মেশিন ল্যাঙ্গুয়েজে স্থাপন করা টেকনোলজিটাই হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স । এর মাধ্যমে কোন যন্ত্র নির্দিষ্ট প্রোগ্রামের আওতাধীন কিছু কাজ নিজে থেকেই করতে পারে নিজে নিজে সিদ্ধান্ত নিতে পারে।  টার্মিনেচার টাইপের কোনো সাইফাই সিনেমার গুরু বন্ধুর সংলাপ নয়।  A.I নিয়ে ভবিষ্যৎবাণী করেছিলেন পৃথিবীর সেরা বিজ্ঞানীদের একজন স্টিফেন হকিং আমার ভয় হয় তারা সত্যিই হয়তো একদিন মানুষকে হটিয়ে নিয়ন্ত্রকের আসনে বসে যাবে। বেঁচে থাকতেই BBC কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স তথা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে এভাবেই সবাইকে সতর্ক করেছিলেন তিনি। হকিংসের এই ভয় এখনো ভবিষ্যতের বিষয় হলেও অমূলক নয় মোটেও যন্ত্রকে বুদ্ধিমান করে তার আশীর্বাদ অনেক আছে। কিন্তু দীর্ঘ মেয়াদে সেই যন্ত্রই পৃথিবীর দখল নিতে চলেছে কিনা স্বয়ং সম্পূর্ণ হয়ে মানুষকেই বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে একদিন অপদার্থ তে পরিণত করবে কিনা সেই প্রশ্নটা উঠছে বারবার।  যুক্তরাষ্ট্রে...