আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বহুল চর্চিত এবং ব্যবহৃত একটি শব্দ. মানুষের বুদ্ধিমত্তা ও চিন্তা শক্তিকে কম্পিউটার প্রোগ্রামিং এর মাধ্যমে মেশিন ল্যাঙ্গুয়েজে স্থাপন করা টেকনোলজিটাই হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ।
এর মাধ্যমে কোন যন্ত্র নির্দিষ্ট প্রোগ্রামের আওতাধীন কিছু কাজ নিজে থেকেই করতে পারে নিজে নিজে সিদ্ধান্ত নিতে পারে। টার্মিনেচার টাইপের কোনো সাইফাই সিনেমার গুরু বন্ধুর সংলাপ নয়। A.I নিয়ে ভবিষ্যৎবাণী করেছিলেন পৃথিবীর সেরা বিজ্ঞানীদের একজন স্টিফেন হকিং আমার ভয় হয় তারা সত্যিই হয়তো একদিন মানুষকে হটিয়ে নিয়ন্ত্রকের আসনে বসে যাবে। বেঁচে থাকতেই BBC কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স তথা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে এভাবেই সবাইকে সতর্ক করেছিলেন তিনি। হকিংসের এই ভয় এখনো ভবিষ্যতের বিষয় হলেও অমূলক নয় মোটেও যন্ত্রকে বুদ্ধিমান করে তার আশীর্বাদ অনেক আছে। কিন্তু দীর্ঘ মেয়াদে সেই যন্ত্রই পৃথিবীর দখল নিতে চলেছে কিনা স্বয়ং সম্পূর্ণ হয়ে মানুষকেই বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে একদিন অপদার্থ তে পরিণত করবে কিনা সেই প্রশ্নটা উঠছে বারবার।
যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয় মেসাচুসেট ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি অথবা এমআইটির কম্পিউটার বিজ্ঞানী জন মেকার থিয়ে উনিশশো পঞ্চান্ন সালে এই প্রযুক্তির নাম দিয়েছিলেন আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা।
কম্পিউটার কিভাবে মানুষের মতো চিন্তা করবে কিভাবে অসম্পূর্ণ তথ্য নিয়ে পূর্ণ সিদ্ধান্তে পৌঁছবে ? কিভাবে বিচক্ষণতার পরিকল্পনা প্রণয়ন করবে ? এই সমস্ত বিষয়গুলোর জন্যই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ওপর এত গবেষণা । যদিও ম্যাকার্থীর আগেই ব্রিটিশ বিজ্ঞানী এলার্ন টিউরিং এই আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে কাজ করেছিলেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে জার্মান রেডিও সংকেতের দুর্বুদ্ধ অ্যানিক বা কোড ব্রেক করার জন্য বোম্বে নামের একটি যন্ত্র আবিষ্কার করেছিলেন তিনি । দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষের দিকে বোম্বে একে একে জার্মান সেনাবাহিনীর সমস্ত ইনক্রিপটেড তথ্য ভাঙতে শুরু করে । নিজের উদ্ভাবিত আরেক যন্ত্র টুরিং টেস্টের কাজ শেষ করে যেতে পারেননি তিনি । এখন আমরা গুগুলে যে ক্যাপচার টেস্টের মুখোমুখি হই সেটাই ছিল টুইং টেস্টের বিষয়বস্তু। artificial intelligence এর বড়ো একটা ব্যবহারিক দিক হলো অটোমেশান বা স্বয়ংক্রিয়তা. তথ্যপ্রযুক্তির জগতে অটোমেশান নতুন কিছু নয়. তথ্য প্রযুক্তির জন্মের আদি যুগ থেকে আমরা স্বয়ংক্রিয় যন্ত্র দেখছি. টিকিট কাটা বা টাকা তোলার ক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয় যন্ত্র, মানুষের কাজের ভার লাঘব করেছে. কিন্তু এই ধরনের স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রই সবটা instruction বেসড বা নির্দেশ ভিত্তি কয়েকটি পূর্ব পরিকল্পিত উপায়ের মাধ্যমেই আমরা এই সব স্বয়ংক্রিয় মেশিনের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করতে পারি আজকের দিনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রয়োগে স্বয়ংক্রিয়তাকে এক অন্য পর্যায়ে নিয়ে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত।
হোটেলের রিসেপশন কল সেন্টার বা অন্যান্য অনেক জায়গায় যেখানে আমরা উল্টো দিকের মানুষটির সঙ্গে সাধারণত কথা বলতে অভ্যস্ত সেখানে ধীরে ধীরে প্রবেশ করছে স্বয়ংক্রিয় রোবটের। হ্যাঁ এই সবই হচ্ছে কোন সার্ভিস কম্প্রোমাইজ না করে অর্থাৎ আপনি কথা বলবেন রিসেপশনে দাঁড়ানো কোন এক যন্ত্র মানব বা যন্ত্র মানবীর সঙ্গে যেমনটি বলছিলেন আগে এরই একটু ছোট সংস্করণ আমাদের আইফোনের সিরিয়া এন্ড্রয়েড ফোনের গুগল নাও অথবা আমাদের ড্রইংরুমের শোভা পাওয়া, আমাজন ইকো নামের বাহারি পণ্যগুলো. আপনি জানছেনও না যে ঠিক কোন কোন এআই আপনি প্রতিদিন ব্যবহার করা শুরু করেছেন. মাইক্রোসফ্ট, ফেসবুক, গুগলের মতো প্রযুক্তি বিশ্বের নেতৃত্ব দানকারী সংস্থাগুলো তাদের নিজস্ব ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তার জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্য নিচ্ছে। ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তা প্রদানের জন্য স্প্যাম মেইল শনাক্ত করতে পারে এমন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্য নিচ্ছে গুগল । আজগুবি খবর ছড়িয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে সন্ত্রাসবাদ ও উস্কানিমূলক পোস্ট থেকে পরিত্রান পেতে ফেসবুক ও আশ্রয় খুঁজছে এই আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের কাছে. আর মাইক্রোসফ্টের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে তৈরি মেশিন ট্রান্সলেটার । ভাষা অনুবাদের ক্ষেত্রে মানুষের সমান নির্ভুল দক্ষতা অর্জন করেছে. ডাটা পাইরেসির হিসাবটা গোনায় না ধরলে ফেসবুক বা গুগলের এই এআই কিন্তু তেমন একটা ক্ষতিকারক নয় অন্তত সরাসরি কোনো ক্ষতির শিকার তার মানবজাতি হচ্ছে না। কিন্তু না আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের ব্যবহারটা যেহেতু সীমাবদ্ধ নেই তাই দৃশ্যমান ক্ষতির চেয়ে অদৃশ্য ক্ষতিটাই কিন্তু বেশি । artificial intelligence এর ক্ষতিকর দিকগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে বেকারত্বের হার বেড়ে যাওয়া. যন্ত্রকে যখন আপনি নিজ থেকে কাজ করতে পারার মতো ক্ষমতা দিয়ে দিচ্ছেন তখন সে একাই হাজার হাজার মানুষের কাজ করে ফেলতে পারবে. এমনকি তাকে অপারেট করার জন্যও কারো দরকার নেই. তাহলে ঠাণ্ডা মাথায় ভাবুন. কোম্পানির মালিকেরা তাহলে একটু বেশি টাকা বিনিয়োগ করে কেন যন্ত্রই কিনবে না? তাঁরা তো ব্যবসা করতে এসেছেন. লাভটা বুঝবেন সবার আগে. বাতির নিচে অন্ধকার অংশটা নজরে পড়ছে তো আপনার।
সব কাজ যদি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন যন্ত্রই করে ফেলে তাহলে মানুষ কি করবে? ব্রিটিশ দৈনিক ডেইলি মেইলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে আগামী পনেরো বছরের মধ্যে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের ব্যবহার প্রায় সত্তর কোটি মানুষকে করে তুলবে কর্মহীন. এর ভুক্তভোগী সবচেয়ে বেশি হবে নারীরা. অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় দু হাজার তেরো সালের একটি রিপোর্টে বলা হয়েছিল যদি শিল্পে রোবটের ব্যবহার ঠিক মতো শুরু করা হয় তবে সাতচল্লিশ শতাংশ মার্কিন নাগরিক চাকরি হারাবেন. ভাবতে পারছেন. আমেরিকার অর্ধেক কর্মজীবী সম্পূর্ণভাবে বেকার হয়ে পড়বে শুধুমাত্র সব জায়গায় আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের ব্যবহারের কারণে. আমাদের দেশের লক্ষ লক্ষ মানুষ শ্রমিক হিসেবে কাজ করে মধ্যপ্রাচ্য সহ বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে. আজ থেকে দশ বারো বছর পর বেকার হয়ে এই লক্ষ লক্ষ শ্রমিককে দেশে ফিরে আসতে হয়. তাহলে আমাদের অবস্থাটা কি হবে? ভাবুন তো একবার. এটা তো গেল দৃশ্যমান ক্ষতির দিকটা. অদৃশ্য এবং সবচেয়ে বড় ক্ষতিটা দেখা যাচ্ছে না কিন্তু এখনো. কিন্তু তাঁর আগমনের যে খুব বেশি দেরি নেই সেটা কিন্তু বোঝা যাচ্ছে পরিষ্কার. একটা ঘটনার কথা উল্লেখ করি. তাহলেই বুঝতে পারবেন ।
মোটামুটি দু হাজার তেরো থেকে দু হাজার চোদ্দ সালের মধ্যে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স নিয়ে বড় আকারে কাজ শুরু করে ফেসবুক. দু হাজার সতেরো সালে এমন একটা ঘটনা ঘটেছিল ফেসবুকের হেডকোয়ার্টারে বাধ্য হয়ে কিছুদিনের জন্য আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এর সম্পূর্ণ কম্পিউটারের ব্যবহারই বন্ধ রাখতে হয়েছিল বিশ্বের সবচেয়ে বড় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমটিতে। কি ঘটেছিল তখন?
ফেসবুক বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছিল আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স সমৃদ্ধ বিশেষ ধরনের রোবট যেগুলোকে চ্যাটপোটস নামে ডাকা হয় সেগুলো হটাৎই নিজেদের মধ্যে কথা বলা শুরু করেছিল তখন. আর যেই ভাষায় চ্যাট বটসরা কথা বলছিল তা মানুষের পক্ষে বোঝা সম্ভবপর হচ্ছিল না. পরিস্থিতি হাতের বাইরে বেরিয়ে যাওয়ার আগেই তাই এআই মেশিনগুলো শাটডাউন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল ফেসবুক। টার্মিনেটর টু সিনেমাটাতে দেখেছেন। সেই ভয়ঙ্কর আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের থাবায় প্রায় গ্রাস হয়ে গিয়েছিল গোটা মানব সভ্যতা। রোবট শাসিত সেই পৃথিবীতে শোচনীয় পরিণতি হয়েছিল মানুষের। হ্যাঁ সেই ভবিষ্যতেরই একটা ট্রেলার ছিল যেন ফেসবুকের আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স রোবটদের বিগড়ে যাওয়ার এই ঘটনাটা । যে ব্যাপারটা নিয়ে বিশ্বের সেরা বিজ্ঞানীটির ভবিষ্যৎবাণী করে গেছেন যে ভয়টা প্রযুক্তি জগতের সবচেয়ে বড় স্বপ্নদ্রষ্টা ইলান মাস্কেও আচ্ছন্ন করে রাখে । সেই আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের সুপার পাওয়ারকে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করা কিন্তু মোটেই উচিত হবে না।
আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সকে মোটামুটি তিনটি ভাগে ভাগ করেছেন বিজ্ঞানীরা। প্রথম ভাগে আছে উইথ A.I . এই ইন্টেলিজেন্স শুধুমাত্র নির্দিষ্ট বিষয়ের উপর কাজ করতে পারে. বর্তমানে আমরা এই ইন্টেলিজেন্স ব্যবহার করছি.
দ্বিতীয় ধাপে রাখা হয়েছে স্ট্রং এ আইকে. মেশিন বা কম্পিউটার যখন মানুষের মতো কাজ করতে পারবে তখন তাকে বলা হবে strong care.
আর তিন নম্বর ক্যাটাগরি যেটি মানবজাতির ধ্বংসের কারণ হতে পারে বলে অনেকেই মনে করছেন সেটি হচ্ছে সিঙ্গুলারিটি বা সুপার ইন্টেলিজেন্স. এটি এমন একটা বুদ্ধিমত্তা যা কিনা সবচেয়ে প্রতিভাধর মানুষের ক্ষমতাকেও অতিক্রম করবে. ধ্বংস করবে এবং এই গ্রহ থেকে বিতাড়িত করবে. স্টিফেন হকিং আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স নিয়ে যে সঙক্ষা সব সময় প্রকাশ করে এসেছেন তার জীবন দশায় সেটাই হচ্ছে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের সিঙ্গুলালিটি অবস্থা ।
সিঙ্গুলারিটি হচ্ছে এমন একটা সিচুয়েশন যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পূর্ণ যন্ত্র গুলো নিজেরাই নিজেদের কমান্ড করতে পারবে । সেই অনুযায়ী কাজ করবে এবং একই ধরণের আনলিমিটেড যন্ত্র প্রস্তুতও করতে পারবে । সহজ করে বলি মানুষ হচ্ছে এই পৃথিবীর সবচেয়ে বুদ্ধিমান প্রাণী তাইতো।
যদি পৃথিবীর সব জীবের বুদ্ধিভিত্তিক ক্ষমতা কোন স্কেল দিয়ে মাপা হয় তাহলে সবচেয়ে কম পয়েন্ট পাবে ইঁদুর. সেটা হচ্ছে এক পয়েন্ট. তাহলে এই পরীক্ষায় ডলফিন পাবে চার. শিম্পাঞ্জির সাত এবং মানুষ পাবে দশ. কিন্তু এই মেথডেই যদি সিঙ্গেলারিটি পাওয়ার সমৃদ্ধ আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের কোন মেশিনের সক্ষমতা যাচাই করা হয়. তাহলে দেখা যাবে এটি এক হাজার পয়েন্ট পেয়েছে. মানুষের পক্ষে কখনোই এই পয়েন্ট অর্জন করা সম্ভব নয়. কারণ মানুষের বুদ্ধিমত্তার রয়েছে একটা লিমিটেশন. মানুষের ব্রেনও কাজ করে নিউরন সেলের হিসেবে.
যন্ত্রিত্ব সেই ঝামেলাটি। লিমিটেশন, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সেরও আছে। কিন্তু যখনই সেই লিমিটেশনকে সে ক্রস করে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কাজ করতে শুরু করবে তখনই উদ্ভব হবে ভয়ানক এই সিঙ্গুলার একটি দশা। আর তখনই মানব জাতির মহা বিপদের শুরুটা হয়ে যাবে। আজ নয় হয়তো কাল কাল কিংবা পরশুও নয় কিন্তু আজ থেকে দশ, বিশ, তিরিশ বা পঞ্চাশ বছর পর যখন প্রসেসরের ক্ষমতা এখন কাটছে কয়েক হাজার গুণ বেড়ে যাবে তখন আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স সমৃদ্ধ যন্ত্রগুলো অনেক বেশি কম্পিটিটিভ পাওয়ার এক্সেস করতে পারবে. কম্পিউটার প্রসেসরের কমিউনিকেশন স্পিড মানুষের ব্রেনের কমিউনিকেশন স্পিডের চেয়ে প্রায় আড়াই হাজার গুণ বেশি দ্রুত গতি.
আপাতত তার ঘাটতির জায়গা একটাই. নিজের খেয়াল খুশি মতো সে কাজ করতে পারে না. কম্যান্ড অনুযায়ী নির্দিষ্ট কাজ করে. প্রযুক্তি জগতের খোঁজ খবর রাখলে কিরা রোবট নামটা আপনার পরিচিত হবারই কথা । মানুষের কোন সাহায্য ছাড়া শত্রুপক্ষকে চিহ্নিত করে তার ওপর আঘাত হানতে পারে এই যন্ত্র দানব। যদিও বর্তমানে এই ধরনের কোন অস্ত্রের অস্তিত্ব নেই । কিন্তু আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের মাধ্যমে এই ধরনের অস্ত্র তৈরি করা সম্ভব । আবিষ্কারের পর এই মেশিন বা রোবট যে মানুষের নিয়ন্ত্রণে থাকবে বা তার উদ্ভাবকের কথা শুনবে এর কিন্তু কোনো নিশ্চয়তা নেই। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন সিঙ্গুলারিটি এটি কোনো মিথ নয় এটি ভবিষ্যৎ । মানুষের কাজ একটাই সেই আসন্ন দিন টাকে যত বেশি পেছানো যায় । সেটাই নিরলসভাবে করে চলেছেন বিজ্ঞানীরা। কেউ বলছেন সিঙ্গুলারিটির দেখা মিলবে দু হাজার তিরিশ থেকে দু হাজার চল্লিশ সালের মধ্যেই । আবার আশাবাদী কেউ কেউ দু হাজার একশো সালের আগে সিঙ্গুলারিটির আগমনের কোনো সম্ভাবনাই দেখছেন না ।
কিন্তু সবাই নিশ্চিত. একদিন একটা যুদ্ধ হবে. সেই যুদ্ধে মানুষ আর যন্ত্র দাঁড়াবে মুখোমুখি. তাতে যন্ত্রের জয়ী হবার সম্ভাবনাটা প্রবল. কারণ মানুষের মৃত্যু আছে. ব্যথা আছে. আহত হবার যন্ত্রণা আছে, আছে রক্তক্ষরণের বেদনা. কিন্তু যন্ত্র. এসব ব্যথা, যন্ত্রণা থেকে মুক্ত. যন্ত্রতায় এমন এক দানব হয়ে উঠবে যে দানবের কোন বিনাশ নেই. স্টিফেন হকিং কে দিয়ে শুরু করেছিলাম আবার তার কাছেই ফিরে যাই হকিং নিজেই কথা বলা এবং যোগাযোগের জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন যন্ত্র ব্যবহার করেছেন জীবনের বড় একটা সময় জুড়ে । সেই মানুষটাই বলে গিয়েছিলেন আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স হতে পারে মানব সভ্যতার সর্বশেষ স্মার্ট ইনোভেশন বা শেষ বুদ্ধি বৃদ্ধি আবিষ্কার. কারণ এরপর মানুষ আর নতুন কিছু আবিষ্কারের সুযোগই হয়তো পাবে না. মানুষকে সেই সুযোগ দেবেই না বুদ্ধিমান যন্ত্রগুলো. প্রিয় দর্শক বন্ধ করছি আজকের কলমের কালি ব্যয় করা । তবে তার আগে বলে নেই এই লিখাটিতে বলা প্রতিটা কথা ধ্রুব সত্য বলে মেনে নেওয়ার কিন্তু কোন দরকার নেই । আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স নিয়ে শঙ্খার পাশাপাশি একদম বিপরীত ঘরানার অজস্র মতামতও আপনারা গুগল করলেই পেয়ে যাবেন ।আমরা কিছু সম্ভাবনার কথা বলছি আসন্ন কিছু বিপদের দিকে আঙুল তুলেছি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খুব দ্রুত বিকশিত হচ্ছে আর ভয়টা এখানেই।আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স হতে পারে আমাদের জন্য অনেক বড় সম্ভাবনা। আবার হতে পারে মানব জাতির ধ্বংসের প্রধান কারণ আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সকে যতক্ষণ নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখা যাচ্ছে এটি থেকে চমৎকার আউটপুট বের করে আনা সম্ভব । কিন্তু ঘোড়া যদি কোনদিন লাগাম ছেড়ে পালায় সেদিনের পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য আমরা প্রস্তুত তো? আমরা শুধু এই সাদা মোটা প্রশ্নটি তুলতে চাইছি বারবার আপনাদের সামনে.
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন