সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কি ? আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কতটা ভযঙ্কর হতে পারে আগামী দিনের জন্য ?

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বহুল চর্চিত এবং ব্যবহৃত একটি শব্দ. মানুষের বুদ্ধিমত্তা ও চিন্তা শক্তিকে কম্পিউটার প্রোগ্রামিং এর মাধ্যমে মেশিন ল্যাঙ্গুয়েজে স্থাপন করা টেকনোলজিটাই হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ।


এর মাধ্যমে কোন যন্ত্র নির্দিষ্ট প্রোগ্রামের আওতাধীন কিছু কাজ নিজে থেকেই করতে পারে নিজে নিজে সিদ্ধান্ত নিতে পারে।  টার্মিনেচার টাইপের কোনো সাইফাই সিনেমার গুরু বন্ধুর সংলাপ নয়।  A.I নিয়ে ভবিষ্যৎবাণী করেছিলেন পৃথিবীর সেরা বিজ্ঞানীদের একজন স্টিফেন হকিং আমার ভয় হয় তারা সত্যিই হয়তো একদিন মানুষকে হটিয়ে নিয়ন্ত্রকের আসনে বসে যাবে। বেঁচে থাকতেই BBC কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স তথা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে এভাবেই সবাইকে সতর্ক করেছিলেন তিনি। হকিংসের এই ভয় এখনো ভবিষ্যতের বিষয় হলেও অমূলক নয় মোটেও যন্ত্রকে বুদ্ধিমান করে তার আশীর্বাদ অনেক আছে। কিন্তু দীর্ঘ মেয়াদে সেই যন্ত্রই পৃথিবীর দখল নিতে চলেছে কিনা স্বয়ং সম্পূর্ণ হয়ে মানুষকেই বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে একদিন অপদার্থ তে পরিণত করবে কিনা সেই প্রশ্নটা উঠছে বারবার।


 যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয় মেসাচুসেট ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি অথবা এমআইটির কম্পিউটার বিজ্ঞানী জন মেকার থিয়ে উনিশশো পঞ্চান্ন সালে এই প্রযুক্তির নাম দিয়েছিলেন আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। 


 কম্পিউটার কিভাবে মানুষের মতো চিন্তা করবে কিভাবে অসম্পূর্ণ তথ্য নিয়ে পূর্ণ সিদ্ধান্তে পৌঁছবে ? কিভাবে বিচক্ষণতার  পরিকল্পনা প্রণয়ন করবে ? এই সমস্ত বিষয়গুলোর জন্যই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ওপর এত গবেষণা । যদিও ম্যাকার্থীর আগেই ব্রিটিশ বিজ্ঞানী এলার্ন টিউরিং এই আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে কাজ করেছিলেন।  দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে জার্মান রেডিও সংকেতের দুর্বুদ্ধ অ্যানিক বা কোড ব্রেক করার জন্য বোম্বে নামের একটি যন্ত্র আবিষ্কার করেছিলেন তিনি । দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষের দিকে বোম্বে একে একে জার্মান সেনাবাহিনীর সমস্ত ইনক্রিপটেড তথ্য ভাঙতে শুরু করে ।  নিজের উদ্ভাবিত আরেক যন্ত্র টুরিং টেস্টের কাজ শেষ করে যেতে পারেননি তিনি । এখন আমরা গুগুলে যে ক্যাপচার টেস্টের মুখোমুখি হই সেটাই ছিল টুইং টেস্টের বিষয়বস্তু। artificial intelligence এর বড়ো একটা ব্যবহারিক দিক হলো অটোমেশান বা স্বয়ংক্রিয়তা. তথ্যপ্রযুক্তির জগতে অটোমেশান নতুন কিছু নয়. তথ্য প্রযুক্তির জন্মের আদি যুগ থেকে আমরা স্বয়ংক্রিয় যন্ত্র দেখছি. টিকিট কাটা বা টাকা তোলার ক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয় যন্ত্র, মানুষের কাজের ভার লাঘব করেছে. কিন্তু এই ধরনের স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রই সবটা instruction বেসড বা নির্দেশ ভিত্তি কয়েকটি পূর্ব পরিকল্পিত উপায়ের মাধ্যমেই আমরা এই সব স্বয়ংক্রিয় মেশিনের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করতে পারি আজকের দিনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রয়োগে স্বয়ংক্রিয়তাকে এক অন্য পর্যায়ে নিয়ে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। 


হোটেলের রিসেপশন কল সেন্টার বা অন্যান্য অনেক জায়গায় যেখানে আমরা উল্টো দিকের মানুষটির সঙ্গে সাধারণত কথা বলতে অভ্যস্ত সেখানে ধীরে ধীরে প্রবেশ করছে স্বয়ংক্রিয় রোবটের।  হ্যাঁ এই সবই হচ্ছে কোন সার্ভিস কম্প্রোমাইজ না করে অর্থাৎ আপনি কথা বলবেন রিসেপশনে দাঁড়ানো কোন এক যন্ত্র মানব বা যন্ত্র মানবীর সঙ্গে যেমনটি বলছিলেন আগে এরই একটু ছোট সংস্করণ আমাদের আইফোনের সিরিয়া এন্ড্রয়েড ফোনের গুগল নাও অথবা আমাদের ড্রইংরুমের শোভা পাওয়া, আমাজন ইকো নামের বাহারি পণ্যগুলো. আপনি জানছেনও না যে ঠিক কোন কোন এআই আপনি প্রতিদিন ব্যবহার করা শুরু করেছেন. মাইক্রোসফ্ট, ফেসবুক, গুগলের মতো প্রযুক্তি বিশ্বের নেতৃত্ব দানকারী সংস্থাগুলো তাদের নিজস্ব ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তার জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্য নিচ্ছে। ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তা প্রদানের জন্য স্প্যাম মেইল শনাক্ত করতে পারে এমন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্য নিচ্ছে গুগল । আজগুবি খবর ছড়িয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে সন্ত্রাসবাদ ও উস্কানিমূলক পোস্ট থেকে পরিত্রান পেতে ফেসবুক ও আশ্রয় খুঁজছে এই আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের কাছে. আর মাইক্রোসফ্টের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে তৈরি মেশিন ট্রান্সলেটার । ভাষা অনুবাদের ক্ষেত্রে মানুষের সমান নির্ভুল দক্ষতা অর্জন করেছে. ডাটা পাইরেসির হিসাবটা গোনায় না ধরলে ফেসবুক বা গুগলের এই এআই কিন্তু তেমন একটা ক্ষতিকারক নয় অন্তত সরাসরি কোনো ক্ষতির শিকার তার মানবজাতি হচ্ছে না।  কিন্তু না আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের ব্যবহারটা যেহেতু সীমাবদ্ধ নেই তাই দৃশ্যমান ক্ষতির চেয়ে অদৃশ্য ক্ষতিটাই কিন্তু বেশি । artificial intelligence এর ক্ষতিকর দিকগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে বেকারত্বের হার বেড়ে যাওয়া. যন্ত্রকে যখন আপনি নিজ থেকে কাজ করতে পারার মতো ক্ষমতা দিয়ে দিচ্ছেন তখন সে একাই হাজার হাজার মানুষের কাজ করে ফেলতে পারবে. এমনকি তাকে অপারেট করার জন্যও কারো দরকার নেই. তাহলে ঠাণ্ডা মাথায় ভাবুন. কোম্পানির মালিকেরা তাহলে একটু বেশি টাকা বিনিয়োগ করে কেন যন্ত্রই কিনবে না? তাঁরা তো ব্যবসা করতে এসেছেন. লাভটা বুঝবেন সবার আগে. বাতির নিচে অন্ধকার অংশটা নজরে পড়ছে তো আপনার।



 সব কাজ যদি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন যন্ত্রই করে ফেলে তাহলে মানুষ কি করবে? ব্রিটিশ দৈনিক ডেইলি মেইলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে আগামী পনেরো বছরের মধ্যে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের ব্যবহার প্রায় সত্তর কোটি মানুষকে করে তুলবে কর্মহীন. এর ভুক্তভোগী সবচেয়ে বেশি হবে নারীরা. অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় দু হাজার তেরো সালের একটি রিপোর্টে বলা হয়েছিল যদি শিল্পে রোবটের ব্যবহার ঠিক মতো শুরু করা হয় তবে সাতচল্লিশ শতাংশ মার্কিন নাগরিক চাকরি হারাবেন. ভাবতে পারছেন. আমেরিকার অর্ধেক কর্মজীবী সম্পূর্ণভাবে বেকার হয়ে পড়বে শুধুমাত্র সব জায়গায় আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের ব্যবহারের কারণে. আমাদের দেশের লক্ষ লক্ষ মানুষ শ্রমিক হিসেবে কাজ করে মধ্যপ্রাচ্য সহ বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে. আজ থেকে দশ বারো বছর পর বেকার হয়ে এই লক্ষ লক্ষ শ্রমিককে দেশে ফিরে আসতে হয়. তাহলে আমাদের অবস্থাটা কি হবে? ভাবুন তো একবার. এটা তো গেল দৃশ্যমান ক্ষতির দিকটা. অদৃশ্য এবং সবচেয়ে বড় ক্ষতিটা দেখা যাচ্ছে না কিন্তু এখনো. কিন্তু তাঁর আগমনের যে খুব বেশি দেরি নেই সেটা কিন্তু বোঝা যাচ্ছে পরিষ্কার. একটা ঘটনার কথা উল্লেখ করি. তাহলেই বুঝতে পারবেন । 


মোটামুটি দু হাজার তেরো থেকে দু হাজার চোদ্দ সালের মধ্যে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স নিয়ে বড় আকারে কাজ শুরু করে ফেসবুক. দু হাজার সতেরো সালে এমন একটা ঘটনা ঘটেছিল ফেসবুকের হেডকোয়ার্টারে বাধ্য হয়ে কিছুদিনের জন্য আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এর  সম্পূর্ণ কম্পিউটারের ব্যবহারই বন্ধ রাখতে হয়েছিল বিশ্বের সবচেয়ে বড় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমটিতে। কি ঘটেছিল তখন?  


ফেসবুক বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছিল আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স সমৃদ্ধ বিশেষ ধরনের রোবট যেগুলোকে চ্যাটপোটস নামে ডাকা হয় সেগুলো হটাৎই নিজেদের মধ্যে কথা বলা শুরু করেছিল তখন. আর যেই ভাষায় চ্যাট বটসরা কথা বলছিল তা মানুষের পক্ষে বোঝা সম্ভবপর হচ্ছিল না. পরিস্থিতি হাতের বাইরে বেরিয়ে যাওয়ার আগেই তাই এআই মেশিনগুলো শাটডাউন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল ফেসবুক। টার্মিনেটর টু সিনেমাটাতে দেখেছেন। সেই ভয়ঙ্কর আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের থাবায় প্রায় গ্রাস হয়ে গিয়েছিল গোটা মানব সভ্যতা। রোবট শাসিত সেই পৃথিবীতে শোচনীয় পরিণতি হয়েছিল মানুষের। হ্যাঁ সেই ভবিষ্যতেরই একটা ট্রেলার ছিল যেন ফেসবুকের আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স রোবটদের বিগড়ে যাওয়ার এই ঘটনাটা । যে ব্যাপারটা নিয়ে বিশ্বের সেরা বিজ্ঞানীটির ভবিষ্যৎবাণী করে গেছেন যে ভয়টা প্রযুক্তি জগতের সবচেয়ে বড় স্বপ্নদ্রষ্টা ইলান মাস্কেও আচ্ছন্ন করে রাখে । সেই আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের সুপার পাওয়ারকে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করা কিন্তু মোটেই উচিত হবে না। 



আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সকে মোটামুটি তিনটি ভাগে ভাগ করেছেন বিজ্ঞানীরা। প্রথম ভাগে আছে উইথ A.I . এই ইন্টেলিজেন্স শুধুমাত্র নির্দিষ্ট বিষয়ের উপর কাজ করতে পারে. বর্তমানে আমরা এই ইন্টেলিজেন্স ব্যবহার করছি.

 দ্বিতীয় ধাপে রাখা হয়েছে স্ট্রং এ আইকে. মেশিন বা কম্পিউটার যখন মানুষের মতো কাজ করতে পারবে তখন তাকে বলা হবে strong care. 

আর তিন নম্বর ক্যাটাগরি যেটি মানবজাতির ধ্বংসের কারণ হতে পারে বলে অনেকেই মনে করছেন সেটি হচ্ছে সিঙ্গুলারিটি বা সুপার ইন্টেলিজেন্স. এটি এমন একটা বুদ্ধিমত্তা যা কিনা সবচেয়ে প্রতিভাধর মানুষের ক্ষমতাকেও অতিক্রম করবে. ধ্বংস করবে এবং এই গ্রহ থেকে বিতাড়িত করবে.  স্টিফেন হকিং আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স নিয়ে যে সঙক্ষা সব সময় প্রকাশ করে এসেছেন তার জীবন দশায় সেটাই হচ্ছে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের সিঙ্গুলালিটি অবস্থা । 


সিঙ্গুলারিটি হচ্ছে এমন একটা সিচুয়েশন যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পূর্ণ যন্ত্র গুলো নিজেরাই নিজেদের কমান্ড করতে পারবে । সেই অনুযায়ী কাজ করবে এবং একই ধরণের আনলিমিটেড যন্ত্র প্রস্তুতও করতে পারবে । সহজ করে বলি মানুষ হচ্ছে এই পৃথিবীর সবচেয়ে বুদ্ধিমান প্রাণী তাইতো।


 যদি পৃথিবীর সব জীবের বুদ্ধিভিত্তিক ক্ষমতা কোন স্কেল দিয়ে    মাপা হয় তাহলে সবচেয়ে কম পয়েন্ট পাবে ইঁদুর. সেটা হচ্ছে এক পয়েন্ট. তাহলে এই পরীক্ষায় ডলফিন পাবে চার. শিম্পাঞ্জির সাত এবং মানুষ  পাবে দশ. কিন্তু এই মেথডেই যদি সিঙ্গেলারিটি পাওয়ার সমৃদ্ধ আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের কোন মেশিনের সক্ষমতা যাচাই করা হয়. তাহলে দেখা যাবে এটি এক হাজার পয়েন্ট পেয়েছে. মানুষের পক্ষে কখনোই এই পয়েন্ট অর্জন করা সম্ভব নয়. কারণ মানুষের বুদ্ধিমত্তার রয়েছে একটা লিমিটেশন. মানুষের ব্রেনও কাজ করে নিউরন সেলের হিসেবে.


 যন্ত্রিত্ব সেই ঝামেলাটি। লিমিটেশন, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সেরও আছে। কিন্তু যখনই সেই লিমিটেশনকে সে ক্রস করে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কাজ করতে শুরু করবে তখনই উদ্ভব হবে ভয়ানক এই সিঙ্গুলার একটি দশা। আর তখনই মানব জাতির মহা বিপদের শুরুটা হয়ে যাবে।  আজ নয় হয়তো কাল কাল কিংবা পরশুও নয় কিন্তু আজ থেকে দশ, বিশ, তিরিশ বা পঞ্চাশ বছর পর যখন প্রসেসরের ক্ষমতা এখন কাটছে কয়েক হাজার গুণ বেড়ে যাবে তখন আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স সমৃদ্ধ যন্ত্রগুলো অনেক বেশি কম্পিটিটিভ পাওয়ার এক্সেস করতে পারবে. কম্পিউটার প্রসেসরের কমিউনিকেশন স্পিড মানুষের ব্রেনের কমিউনিকেশন স্পিডের চেয়ে প্রায় আড়াই হাজার গুণ বেশি দ্রুত গতি. 


আপাতত তার ঘাটতির জায়গা একটাই. নিজের খেয়াল খুশি মতো সে কাজ করতে পারে না. কম্যান্ড অনুযায়ী নির্দিষ্ট কাজ করে. প্রযুক্তি জগতের  খোঁজ খবর রাখলে কিরা রোবট নামটা আপনার পরিচিত হবারই কথা । মানুষের কোন সাহায্য ছাড়া শত্রুপক্ষকে চিহ্নিত করে তার ওপর আঘাত হানতে পারে এই যন্ত্র দানব। যদিও বর্তমানে এই ধরনের কোন অস্ত্রের অস্তিত্ব নেই । কিন্তু আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের মাধ্যমে এই ধরনের অস্ত্র তৈরি করা সম্ভব । আবিষ্কারের পর এই মেশিন বা রোবট যে মানুষের নিয়ন্ত্রণে থাকবে বা তার উদ্ভাবকের কথা শুনবে এর কিন্তু কোনো নিশ্চয়তা নেই।  বিশেষজ্ঞরা বলেছেন সিঙ্গুলারিটি এটি কোনো মিথ নয় এটি ভবিষ্যৎ । মানুষের কাজ একটাই সেই আসন্ন দিন টাকে  যত বেশি পেছানো যায় । সেটাই নিরলসভাবে করে চলেছেন বিজ্ঞানীরা।  কেউ বলছেন সিঙ্গুলারিটির দেখা মিলবে দু হাজার তিরিশ থেকে দু হাজার চল্লিশ সালের মধ্যেই । আবার আশাবাদী কেউ কেউ দু হাজার একশো সালের আগে সিঙ্গুলারিটির আগমনের কোনো সম্ভাবনাই দেখছেন না । 


কিন্তু সবাই নিশ্চিত. একদিন একটা যুদ্ধ হবে. সেই যুদ্ধে মানুষ আর যন্ত্র দাঁড়াবে মুখোমুখি. তাতে যন্ত্রের জয়ী হবার সম্ভাবনাটা প্রবল. কারণ মানুষের মৃত্যু আছে. ব্যথা আছে. আহত হবার যন্ত্রণা আছে, আছে রক্তক্ষরণের বেদনা. কিন্তু যন্ত্র. এসব ব্যথা, যন্ত্রণা থেকে মুক্ত. যন্ত্রতায় এমন এক দানব হয়ে উঠবে যে দানবের কোন বিনাশ নেই. স্টিফেন হকিং কে দিয়ে শুরু করেছিলাম আবার তার কাছেই ফিরে যাই হকিং নিজেই কথা বলা এবং যোগাযোগের জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন যন্ত্র ব্যবহার করেছেন জীবনের বড় একটা সময় জুড়ে । সেই মানুষটাই বলে গিয়েছিলেন আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স হতে পারে মানব সভ্যতার সর্বশেষ স্মার্ট ইনোভেশন বা শেষ বুদ্ধি বৃদ্ধি আবিষ্কার. কারণ এরপর মানুষ আর নতুন কিছু আবিষ্কারের সুযোগই হয়তো পাবে না. মানুষকে সেই সুযোগ দেবেই না বুদ্ধিমান যন্ত্রগুলো. প্রিয় দর্শক বন্ধ করছি আজকের কলমের কালি ব্যয় করা । তবে  তার আগে বলে নেই এই লিখাটিতে বলা প্রতিটা কথা ধ্রুব সত্য বলে মেনে নেওয়ার কিন্তু কোন দরকার নেই । আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স নিয়ে শঙ্খার পাশাপাশি একদম বিপরীত ঘরানার অজস্র মতামতও আপনারা গুগল করলেই পেয়ে যাবেন ।আমরা কিছু সম্ভাবনার কথা বলছি আসন্ন কিছু বিপদের দিকে আঙুল তুলেছি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খুব দ্রুত বিকশিত হচ্ছে আর ভয়টা এখানেই।আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স হতে পারে আমাদের জন্য অনেক বড় সম্ভাবনা।  আবার হতে পারে মানব জাতির ধ্বংসের প্রধান কারণ আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সকে যতক্ষণ নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখা যাচ্ছে এটি থেকে চমৎকার আউটপুট বের করে আনা সম্ভব । কিন্তু ঘোড়া যদি কোনদিন লাগাম ছেড়ে পালায় সেদিনের পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য আমরা প্রস্তুত তো? আমরা শুধু এই সাদা মোটা প্রশ্নটি তুলতে চাইছি বারবার আপনাদের সামনে.   

মন্তব্যসমূহ

Blog Posts

লুসিড ড্রিম কাকে বলে ? লুসিড ড্রিম কিভাবে দেখতে হয় ?

 স্বপ্ন নিয়ন্ত্রণ করার কথা ভেবেছেন কখনো? নিশ্চয়ই ভাবছেন জেগে জেগে দিবাস্বপ্ন দেখার কথা বলছি না তো? কিন্তু না, রীতিমতো ঘুমিয়ে দেখা স্বপ্নও নিয়ন্ত্রণের কথাই বলছি, আপনার ইচ্ছামত স্বপ্ন দেখবেন। ইচ্ছা মতো নিয়ন্ত্রণ করবেন। আর পছন্দ না হলে অর্থাৎ দুঃস্বপ্ন দেখা শুরু করলে সেটার গতিপথ পাল্টে দেবেন একেবারে নিমেষে। আধুনিক বিজ্ঞানের ভাষায় এটা খুবই সম্ভব একে বলা হয় লুসিভ ড্রিম। লুসিড ড্রিমিং এর সাথে আপনারা অনেকেই হয়তো পরিচিত আছেন। অনেকে পরিচিত থাকলেও হয়তো এটা কেন হচ্ছে বা কিভাবে হচ্ছে তা নিয়ে বেশ দ্বিধা দ্বন্দ্বে আছে এসবেরই উত্তর মিলবে আজকের এই লিখাতে।   লুসিড ড্রিম অর্থ কি? সহজ বাংলায় অনুবাদ করতে গেলে বলা যায় লুসিড অর্থ পরিষ্কার. অর্থাৎ স্পষ্ট আর dream মানে তো আমরা সবাই জানি যে স্বপ্ন। লুসিড ডিম হলো সেই স্বপ্ন যে আমাদের স্পষ্ট ভাবে মনে থাকে এবং স্বপ্ন চলাকালীন সময়েও আমরা এ উপলব্ধি করতে পারি যে এটি বাস্তব নয় বরং এটি স্বপ্ন কিন্তু শুধুমাত্র আক্ষরিক অর্থ দিয়ে লুসিড ড্রিম ব্যাখ্যা করলে ভুল হবে একটু অন্যভাবে বলা যাক ।  মনে করুন স্বপ্নে আপনি কি পাহাড়ের উপর থেকে দ্রুত গ...

সারোগেসি কি ?

সারোগেসির মাধ্যমে সন্তান ধারণ করা নিয়ে এখনো বহু বিতর্ক আছে. শুধু আমাদের দেশে নয়, সারা বিশ্বেই এই পদ্ধতি নিয়ে তর্ক বিতর্কের শেষ নেই.  এটার আইনি প্রক্রিয়াও জটিল। কারণ এটি একেক রাষ্ট্রে. শারোগেসি আইন একেক রকম. নারী মা হবেন প্রাকৃতিক নিয়ম সমাজ এমনটাই দেখতে অভ্যস্ত. কিন্তু কোন কারণে মা হবার ক্ষমতা না থাকলে তাকে পরিবার ও আশপাশ থেকে যে পরিমাণ কটু কথা শুনতে হয় তা সাধারণ মানুষের ধারণারও বাইরে.   সরোগেসি বিষয়টি কি? চিকিৎসা শাস্ত্রের অগ্রগতি এমন মায়েদের সামনে এনেছে যারা গর্ভ ভাড়া দিয়ে নিজে বাঁচেন অন্যদের মাতৃ সুখ দেন । একজন নারীর গর্ভে অন্য দম্পতির সন্তান ধারণের পদ্ধতিকে সারোগেসি বলা হয়.সারোগেসির এই  পদ্ধতি বেশ দীর্ঘকালীন. আইভিএফ পদ্ধতিতে স্ত্রী ও পুরুষের ডিম্বাণু শুক্রাণু দেহের বাইরে নিষিক্ত করে তা নারীর গর্ভাশয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়. কিন্তু এখানেও জটিলতা. কেন? সে বিষয়ে পরে আসছি. বাংলাদেশ সহ বহু দেশই এই সারোগেসি একরকম ভাবে নিষিদ্ধ. সুতরাং বিষয় টি  সংবেদনশীল. এমনকি বেশিরভাগ ধর্মেও রয়েছে নিষেধাজ্ঞা. চলুন কথা বলি সারোগেসি মাদার সম্পর্কে। আইভিএফ বা টেস্ট টি...

ন্যানো টেকনোলজি কিভাবে কাজ করে ?

  যদি বলি আপনার চোখ দেখতে পারে না এমন গভীর ও প্রায় অনাবিষ্কৃত একটা পৃথিবী আছে. হয়তো বলতে পারেন যে মহাবিশ্বে কত গ্রহই তো আছে? সব খোঁজ কি আমরা পেয়েছি? কিন্তু যদি বলি আমাদের এই পৃথিবীর ভেতরে আরো একটি জগত আছে এবং যে জগৎ ছড়িয়ে আছে আমাদের গোটা বিশ্ব জুড়ে. এইবার হয়তো নড়েচড়ে বসবেন. হ্যাঁ আমাদের চোখের সামনেই রয়েছে এমন এক রাজ্য যে আমরা খালি চোখে দেখতে পাই না. এটাকে বলা হয় অণুবীক্ষণিক বিশ্ব. এই অণুবীক্ষণই বিশ্ব প্রচন্ড আকর্ষণীয় ও চমকে দেওয়ার মতো. কি কি ঘটছে এখানে তা আমার আপনার কল্পনারও বাইরে. এটা যেন কোনো ভিন গ্রহ বাসীদের রাজ্য. সম্ভাবনার দুয়ার খুলে রাখা আছে এই অণুবীক্ষণিক বা nano বিশ্বে.  ন্যানো কি ন্যানো হলো পরিমাপের একক। এক মিটারের একশো কোটি ভাগের এক ভাগ হচ্ছে এক ন্যানো। আর ন্যানো টেকনোলজি হলো বিজ্ঞানের এই অতি ক্ষুদ্র স্তরে একটা কিছু তৈরী করা আসলে শুধু তৈরি করা না. ন্যানোমিটার স্কেলে পরিবর্তন, পরিবর্তন, ধ্বংস বা সৃষ্টি সম্পর্কিত টেকনোলজিকেই ন্যানো টেকনোলজি বলে. অর্থাৎ ন্যানোমিটার স্কেলে পরিমিত যেকোনো বিষয়ে বহুমাত্রিক টেকনোলজিকে ন্যানো প্রযুক্তি বা ন্যানো টেকনোলজি বলা যে...

পেগাসাস স্পাইওয়ার কি ?

গত কিছুদিন ধরেই বিশ্ব রাজনীতি এবং প্রযুক্তি জগৎ এই দুই জায়গাতেই আলোচনার বিষয়বস্তু একটাই। সেটা হচ্ছে পেগাসাস স্পাইওয়ার. বিশ্বজুড়ে নানান দেশের মানবাধিকার কর্মী সাংবাদিক আইনজীবী ও রাজনীতিকদের ফোনের নজরদারি চালানোর ঘটনা ফাঁস হওয়ার পর ইজরায়েলের বেসরকারি কোম্পানি nso গ্রুপের তৈরি করা এই সফটওয়্যার নিয়ে এখন তুমুল তরজা চলছে দুনিয়া জুড়ে । চলুন কথা বলি দুনিয়া ওলট পালট করে দেওয়া স্পাইওয়ার সম্পর্কে । পেগাসাস মূলত একটি নজরদারি বিষয়ক সফটওয়্যার । ইজরাইলের সংস্থা এনএসও ই সফটওয়্যার তৈরি করেছে। যা দিয়ে যে কারো মোবাইলে আড়ি পাতা যায়. এটা কিন্তু সাধারণ কোন নজরদারি নয়. আগে ফোনে আড়ি পেতে শুধু দুই প্রান্তের কথাবার্তা শোনা যেত. আর সফটওয়্যারের মাধ্যমে গোটা ফোনটারই নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় হ্যাকাররা. ফোনের কথাবার্তা WhatsApp এর চ্যাট, ছবি, ফোনে কি কি তথ্য আছে সবই জানা যায়. আরো ভয়ানক ব্যবহার হচ্ছে মোবাইল যিনি ব্যবহার করছেন তিনি জানতেই পারেন না যে তার ফোন হ্যাক করা হয়েছে. সমস্ত তথ্য পাচার হয়ে যাচ্ছে নির্দিষ্ট একটি গোষ্ঠীর কাছে. কিন্তু কারো ফোনে পেগাসাস software install করতে হলে তো সেই ফোনটাকে...

রেট রেস কি ?

      আপনি ঠিক কখন ইঁদুর দৌড়ে যোগ দিয়েছেন এটা হিসাব করা কঠিন. কিন্তু নিশ্চিত থাকুন আপনি এই দৌড়ে আছেন. ক্লাস eight এ পড়ার সময়ের কথা মনে আছে? সামনে বৃত্তি পরীক্ষা পাটিগণিত বীজগণিতের অংক প্যাঁচ লাগাচ্ছে বিজ্ঞানের জটিল সব সূত্র ভোরে ওঠে প্রাইভেট টিউটরের বাসায় ছোটা রাত জেগে পড়াশোনা. বয়সের তুলনায় অনেক বেশি কর্ম ব্যস্ত একটা সময় নিশ্চয়ই কাটিয়েছেন তখন? আমরা সবাই কাটিয়েছি. সেই সময় নিশ্চয়ই অভিভাবক বলেছে এই তো আর কটা দিন. বৃত্তি পরীক্ষা শেষ হলেই জীবন শান্তি আর শান্তি. জীবনের নানা এপিসোডে আপনি এই কথাগুলো শুনেছেন অনেকবার অনেকের মুখে. এসএসসি পরীক্ষাটা দাও, কলেজে উঠলেই তো স্বাধীনতা. একবার ভার্সেটিতে উঠতে পারলেই জীবন হবে আনন্দে ভরপুর. একবার জব লাইফে ঢোকো. নিজের টাকায় আয়েশ করার মজাই অন্যরকম. শুনেছেন না এসব?  বয়স ঘড়ির ত্রিশের প্রান্তে দাঁড়িয়ে হিসেবগুলো মেলাতে পারেন কি? কি মনে হয়? এই এপিসোডগুলোর কোনোটা পার হবার সময় জীবন খানিকটা হলেও সহজ হয়েছে? সুন্দর হয়েছে? হয়নি, হবেও না, মিথ্যা একটা মরীচিকার আশায় আমরা ছুটেছি ঠিকই আমাদের ছোটানো হয়েছে, কিন্তু হিসাব মেলেনি ছুটত...

ম্যান্ডেলা ইফেক্ট কেনো হয়?

   আচ্ছা নিজের স্মৃতি শক্তির উপর কতটা বিশ্বাস আছে আপনার? আচ্ছা বাদ দিয়ে আপনার কথা. গণমানুষের স্মৃতিশক্তির উপর নিশ্চয়ই বিশ্বাস আছে অনেকটা. না না. ধর্মীয় কোন বিশ্বাস না. এই গ্রহে ঘটে যাওয়া এমন সব ঘটনা. যা সবাই জানে. তা কি রকম মিথ্যা? এক দশক আগেও পৃথিবীর প্রায় এক তৃতীয়াংশ মানুষ জানতো যে অস্ট্রেলিয়ার রাজধানীর নাম সিডনি. আসলে কি তাই? গত এক দশকে এই ধারণা মোটামুটি পরিবর্তন হয়ে মানুষ জেনেছে অস্ট্রেলিয়ার রাজধানীর নাম ক্যানভেরা. এখনো এই ভুল হরমামেশাই করে যাচ্ছে মানুষ. বিশ্বাস না হলে আশেপাশের কিছু মানুষকে জিজ্ঞেস করে দেখতে পারে. প্রশ্ন করতে পারেন ম্যান্ডেলার নাম কেন? এই ফ্ললস মেমোরি সিন্ড্রোমকে ম্যান্ডেল এফেক্ট নামকরণ করেছেন প্যারানরমাল কনসালটেন্ট ফীয়না ব্রুম তার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে । দু হাজার দশ সালের এক আলোচনা সভায় উঠে আসে দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদ বিরোধী আন্দোলনের নেতা উনিশশো আশি সালে কারা জানে মারা যাওয়ার প্রসঙ্গ । অনেকেই সেদিন বলেছিল, টিভিতে এই নেতার শেষকৃত্যের আনুষ্ঠানিকতা দেখার অভিজ্ঞতার কথা. ম্যান্ডেলার স্ত্রীর হৃদয় নিন্দারও ভাষণের কথা উল্লেখ করেছিলেন কেউ কেউ. এমনক...

কিভাবে লিমিটলেস হওয়া যায় ? লিমিটলেস আসলে কিভাবে কাজ করে ?

এনজিটিপিল,  এটা এমন এক পিল যা আপনাকে করবে আল্ট্রা ফোকাসড. দেবে দুর্দান্ত মোটিভেশন. বের করে আনবে আপনার সর্বোচ্চ সম্ভাবনা. আপনি হয়ে উঠবেন আনস্টপল. বাস্তবতা পাবে প্রতিটি স্বপ্ন. কিন্তু সমস্যা হচ্ছে এমন কোন পিলের অস্তিত্ব নেই. ফলাফল আপনি আটকে আছেন একটি খাদে. সারাক্ষণ ক্লান্তি নিয়ে হয়ে উঠছেন আনপ্রোডাক্টিভ. নষ্ট হচ্ছে ক্রিয়েটিভিটি. সময় গড়িয়ে যায়. ঋতুর পরিবর্তন ঘটে. কিন্তু আপনি ডুবে থাকেন এক হতাশায় যাতে আপনি দিন দিন পিছিয়ে পরছেন. আপনি যা যা এতদিন অর্জন করবেন ভেবেছিলেন তা কিছুই আপনি অর্জন করতে পারেননি । নিজেকে সান্তনা দিচ্ছেন আগামীকাল হবে ভিন্ন। কিন্তু তা কখনোই হয়ে ওঠে না এখন যদি আপনাকে বলি কোনো জাদুকরী পিলের সাহায্যে নয় বাস্তবিক লিমিটলেস হয়ে ওঠা সম্ভব।  একদম প্রমাণিত পদ্ধতিতে যা একেবারে ফ্রিতে ব্যবহার করা সম্ভব.  তো আছেন তো শেষ পর্যন্ত ?  Limit less হওয়ার যাত্রায় ।  স্টেপ ওয়ান : এনার্জি--  মাত্র কয়েক মাস আগে আমি নিজেও আপনার মতো কর্মশক্তিহীন অনুভব করতাম. সামান্য কাজেই আসতো অবসন্নতা, গেয়ে ধরতো ক্লান্তি একদিন হঠাৎ টের পেলাম আমি নিজেই নিজের energy নি...

প্রযুক্তি দুনিয়াতে পর্দার আড়ালে থেকে যাওয়া এক প্রতিভাবান এর গল্প ।

পর্দার আড়ালে একা খেলে যাচ্ছেন একজন. কামাচ্ছেন বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার. অথচ তাকে চেনে খুব কম সংখ্যক মানুষ. আইটি জগতে ইলন মাস্ক, জেফ বোজোস বা বিট গ্রেটসের সাথে তার নামও সমান তালে চলার কথা ছিল. কিন্তু বিহাইন্ড দা সিনে একা গোল করে যাচ্ছেন তিনি. নাম ড্রোন ইয়াং পিং ড্রোন ইয়াং পিং নামটি মোবাইল ফোনের জগতে খুবই কম মানুষের শোনা. তবে তার নাম অজানা থাকলেও তার কোম্পানি বিবিকে ফোন গিগদের মধ্যে বেশ পরিচিত. ওয়ান প্লাস, রিয়েলমি, অপো, ভিভো এবং আইকিউ. এই পাঁচটি জনপ্রিয় মোবাইল ব্র্যান্ডের একক মালিক ডোন ইয়াং পিন.  এই ব্র্যান্ড গুলো তার কোম্পানিতে পরিণত করেছে বর্তমানের সবচেয়ে বড় মোবাইল ফোন উৎপাদনকারী কোম্পানিতে. অ্যাপেল , শাওমি বা স্যামসাং যারা মোবাইল ফোনের জগতে বর্তমানে সবচেয়ে বড় ব্র্যান্ড তাদেরকেও পেছনে ফেলে এগিয়ে গিয়েছে বিবিকে কোম্পানি। কিন্তু এত সফলতার সত্ত্বেও বেশিরভাগ মোবাইল ফোন ব্যবহারকারী এমনকি ফোন গিগরাও তার সম্পর্কে বলতে গেলে তেমন কিছুই জানে না. এলেন মাস্ক, স্টিভ জবস বা জ্যাকমা, যারা কিনা টেকনোলজির জগতে খুবই পরিচিত তাদের সম্পর্কে অনলাইনে  অগণিত তথ্য রয়েছে। কিন্তু ডন ইয়ং পিং এর...

মিনিমালিজম কি ? কিভাবে মিনিমালিস্ট হওয়া যায় ?

মিনিমামলিজম এই ধারণাটি বিগত কয়েক বছরে বেশ জনপ্রিয়তা লাভ করেছে এবং এর যথেষ্ট কারণও আছে. এই পুরো ব্যাপারটা কি? সেটাকে সঙ্গায়িত করা যায় এভাবে যে,  মিনিমালিজম হচ্ছে যা আমাদের জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সেগুলোকে ধারণ করা এবং বাকি সব কিছু যা আমাদের দৃষ্টিকে অন্যদিকে সরিয়ে নেয় সেগুলোকে ইচ্ছাকৃতভাবে ত্যাগ করা।   অর্থাৎ কোন কোন বিষয়ে জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং কোন জিনিসগুলোকে আমাদের কাছে সবচেয়ে মূল্যবান সেই সম্পর্কে একটা পরিষ্কার ধারণা থাকা এবং বাকি সব ত্যাগ  করে দেয়. সেগুলো নিয়েই জীবন ধারণ করা. কিন্তু এমন সংজ্ঞায়ন সত্ত্বেও minimalism কোন ধরাবাধা জীবন ব্যবস্থা নয় বা মিনিমালিস্ট হতে হলে কোন নির্দিষ্ট মানদণ্ড মেনে চলতে হবে এরকমটিও কিন্তু নয়. মিনিমালিস্ট লাইফ স্টাইল এমন একটি বিষয় যা প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য স্বতন্ত্র। এক্ষেত্রে মূল বিষয়টি হচ্ছে সত্যিকার অর্থে কোন কোন বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও প্রয়োজনীয় সেই সম্পর্কে একটা পরিষ্কার ধারণা নিয়ে সেই অনুযায়ী জীবন ধারণ করা. প্রিয় দর্শক চলুন দেখি মিনিমালিজম কিভাবে আপনার জীবনধারা বদলে দিতে পারে।  মিনিমালিস্ট জীবন অবশ...