সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

ন্যানো টেকনোলজি কিভাবে কাজ করে ?

  যদি বলি আপনার চোখ দেখতে পারে না এমন গভীর ও প্রায় অনাবিষ্কৃত একটা পৃথিবী আছে. হয়তো বলতে পারেন যে মহাবিশ্বে কত গ্রহই তো আছে? সব খোঁজ কি আমরা পেয়েছি? কিন্তু যদি বলি আমাদের এই পৃথিবীর ভেতরে আরো একটি জগত আছে এবং যে জগৎ ছড়িয়ে আছে আমাদের গোটা বিশ্ব জুড়ে. এইবার হয়তো নড়েচড়ে বসবেন. হ্যাঁ আমাদের চোখের সামনেই রয়েছে এমন এক রাজ্য যে আমরা খালি চোখে দেখতে পাই না. এটাকে বলা হয় অণুবীক্ষণিক বিশ্ব. এই অণুবীক্ষণই বিশ্ব প্রচন্ড আকর্ষণীয় ও চমকে দেওয়ার মতো. কি কি ঘটছে এখানে তা আমার আপনার কল্পনারও বাইরে. এটা যেন কোনো ভিন গ্রহ বাসীদের রাজ্য. সম্ভাবনার দুয়ার খুলে রাখা আছে এই অণুবীক্ষণিক বা nano বিশ্বে.


 ন্যানো কি ন্যানো হলো পরিমাপের একক। এক মিটারের একশো কোটি ভাগের এক ভাগ হচ্ছে এক ন্যানো। আর ন্যানো টেকনোলজি হলো বিজ্ঞানের এই অতি ক্ষুদ্র স্তরে একটা কিছু তৈরী করা আসলে শুধু তৈরি করা না. ন্যানোমিটার স্কেলে পরিবর্তন, পরিবর্তন, ধ্বংস বা সৃষ্টি সম্পর্কিত টেকনোলজিকেই ন্যানো টেকনোলজি বলে. অর্থাৎ ন্যানোমিটার স্কেলে পরিমিত যেকোনো বিষয়ে বহুমাত্রিক টেকনোলজিকে ন্যানো প্রযুক্তি বা ন্যানো টেকনোলজি বলা যেতে পারে. কথা হচ্ছে কতটা ক্ষুদ্র স্তরে কাজ করে ন্যানো টেকনোলজি. 


 বর্তমান বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তির সবচাইতে আশ্চর্যজনক নিদর্শন ন্যানো টেক. আমরা এমন এক পৃথিবীর সাথে পরিচিত যেখানে আমরা মিটার কিলোমিটার গ্রাম বা লিটার. এমনকি মিলিমিটার ইত্যাদি পরিমাপের সাথে অভ্যস্ত. কিন্তু এমন কোন জিনিসের আকার সম্পর্কে কল্পনা করাও কষ্টের যেটা এতটাই ছোট যে চোখে দেখা সম্ভব নয়. এক কাজ করুন. নিজের মাথা থেকে একটা চুল ছিঁড়ে আঙ্গুলে নিন. এখন এই চুলের ব্যস কত হতে পারে? খুবই কম. তাই না? এখন যদি বলি মানুষের চুল প্রায় এক লক্ষ ন্যানোমিটার ব্যাসবিশিষ্ট. বা একটা কলমের আকার দাগ প্রায় মিলিয়ান ন্যানোমিটার প্রশস্ত হয়. তাহলে হয়তো বুঝতে পারবেন কতটা ক্ষুদ্র এক ন্যানোমিটার. বলা হয় ভবিষ্যৎ পৃথিবী হতে যাচ্ছে ন্যানোটেকলজির রাজত্ব.  . ন্যানো টেকনোলজিতে তৈরি হচ্ছে অণুবীক্ষণে সব রোবট. যেগুলোকে ন্যানো বোর্ড বলা হয়. হার্ট কিংবা লিভার. যেটার ই হোক না সমস্যা. সেখানেই পৌঁছে যাবে ন্যানো রোবট.


 না কাটাছেঁড়া করে প্রবেশ করা নয় আপনার রক্তের প্রবাহে সাধারণ সিরিঞ্জের মাধ্যমে প্রবেশ করবে এই সব রোবট । দেবের চিকিৎসা তাহলে চিন্তা করুন টেকনোলজি কতটা ক্ষুদ্র স্তরে কাজ করছে কেন তা গুরুত্বপূর্ণ । কারণ পারমানবিক স্তরে বিজ্ঞানের কাজ করার অর্থ হলো পদার্থের পরমাণুগুলোকে নতুন করে সাজানোর একটা সুযোগ. আমরা সবাই জানি এই পৃথিবীর সবকিছুই পরমাণু দিয়ে তৈরি. আমরা যাই খাই যাই পড়ি আর যেখানেই বাস করি এমনকি আমাদের দেহ অঙ্গ প্রত্যঙ্গ সব কিছুই।  আর ন্যানো টেকনোলজিতে বদলে দেওয়া সম্ভব পদার্থের গঠন । আমরা সবাই লেগো ব্লগস এর সাথে পরিচিত  । যেভাবে লেগো ব্লগস খুলে পুনরায় বিভিন্ন ভাবে সাজানো সম্ভব একই ভাবে ন্যানো টেকনোলজিতে পদার্থের গঠন বদলে ফেলা সম্ভব । যা এক বিশাল সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দেয় ও আমাদের মহাবিশ্বকে আরো ভালোভাবে জানার সুযোগ তৈরি করে দেয়. বিজ্ঞান এই ন্যানো সাইন্সের মাধ্যমে আমাদের বিশ্বকে একদমই নতুন আকার দিতে পারে. বদলে ফেলা সম্ভব পদার্থের গলনাঙ্ক বা স্ফুটনাঙ্ক বিদ্যুৎ বা চুম্বক পরিবাহকতা, রাসায়নিক বিক্রিয়া ইত্যাদি. সমুদ্রের নোনাপানিকে বদলে সুপেয়ো করে ফেলা সম্ভব. সম্ভব পানি থেকে আর্সেনিক নামক বিষ দূর করা. সুপীয় পানি নিয়ে যে আশঙ্কা ছিল ভবিষ্যৎ পৃথিবীতে তা অনেকটাই কেটে যাচ্ছে ন্যানো টেকের কারণে. ন্যানো টেকনোলজির বেশিরভাগ সুবিধা হয়তো ভবিষ্যৎ কয়েক দশকের মধ্যে চোখে দেখতে পাওয়া যাবে. কিন্তু বর্তমানেও এই প্রযুক্তি নানান ভাবে আমাদের পৃথিবীকে পরিবর্তিত করতে সাহায্য করছে. আপনি হয়তো ভাবছেন ন্যানো টেকনোলজি একেবারে অসাধারণ জিনিস. এবং এটি সম্পূর্ণ নতুন প্রযুক্তি. কারণ টেকনোলজি বলতে আমরা মানুষের তৈরি টেকনিক কি মনে করি? কিন্তু আমাদের জীবন নিজ থেকেই ন্যানো টেকনোলজির এক বিরাট উদাহরণ. আমাদের শরীরে প্রোটিন, ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, কোষ ইত্যাদি ন্যানো টেকনোলজির সূত্রেই কাজ করে. আমাদের খাদ্যাভ্যাস বদলে দিতে পারে. ইতিমধ্যে তা শুরুও হয়ে গেছে. আপনার খাবারের স্বাদ বৃদ্ধি করার সাথে আরো স্বাস্থ্য সম্মত করে গড়ে তুলবে পুষ্টিগত দিক থেকে. যেমন খাদ্যের প্রয়োজন হবে অনেক কম লবণ বা চিনির পরিমান. অথচ স্বাদ থাকবে ঠিক আগের মতো. যাদের উচ্চ রক্তচাপ তাদের চিন্তা আর করতে হবে না মিষ্টি খেতে. বিভিন্ন খাদ্যজাত পণ্যের প্যাকেজিং ও প্রলেপ তৈরিতে ন্যানো টেকনোলজির ব্যবহৃত হচ্ছে । এটা জাস্ট একটা উদাহরণ. ন্যানো টেকনোলজিতে তৈরি কাপড়গুলোর তন্তু এতটাই সূক্ষ্ম যে এতে ধূলি, বালু কণা আটকে থাকতে পারে না. ফলে কাপড় অনেক কম নোংরা হয়. অনেক সানস্ক্রিন ক্রিমে ন্যানো টেকনোলজি ব্যবহার করা হয়. এতে ক্রিমটি আপনার স্কিনে লাগানো মাত্র এটি টাইটেনিয়াম অক্সাইড অথবা জিঙ্ক অক্সাইডের আস্তরণ ফেলে দেয়. ফলে এটি সূর্যের ক্ষতিকর আলট্রাভায়োলেট রশ্মিকে ব্লক করে ফেলে. এমনকি ন্যানো টেকনোলজির সাহায্যে বিভিন্ন কৃত্রিম অঙ্গ প্রত্যঙ্গ তৈরি করা সম্ভব.


 ইলেকট্রনিক ডিভাইসে এই প্রযুক্তির কথা বলে শেষ করা যাবে না. আপনার হাতে স্মার্ট ফোন বা ল্যাপটপই আছে এই প্রযুক্তি. প্রসেসর দিন দিন উন্নত হচ্ছে. অথচ আরো কম বিদ্যুৎ বা ব্যাটারি খরচ করছে এই কারণে. হাতে স্মার্ট ফোন এখন স্ক্র্যাচ প্রুফ, ন্যানো টেকের কারণে.


 কম্পিউটার চিপ শব্দটি শুনে আমরা অভ্যস্ত. একটি কম্পিউটার শিপে ন্যানো টেকের কারণে এখন প্রায় দুই বিলিয়ন ট্রানজিস্টর অনায়াসেই এটে যেতে পারে. যার প্রতিটি এক একটি স্বতন্ত্র ট্রানজিস্টারের কাজ করে. চিন্তা করুন তাহলে কোথায় নিয়ে যাচ্ছে প্রযুক্তিকে এই ন্যানো টেকনোলজি. এক সময় বিশাল কম্পিউটার এখন আরো অনেক বেশি দ্রুতগতির এবং কার্যকর ক্ষমতা নিয়ে আপনার চোখের কন্টাক্ট লেন্সে অবস্থান করতে পারছে অনায়াসে. শুরু হয়ে গেছে ফ্লেক্সিবল বা বাঁকানো সম্ভব ডিসপ্লে ফোনের বাজার. টিভির পর্দা হয়ে উঠছে ক্যালেন্ডারের পাতার মতোই পাতলা যাকে বলা হচ্ছে wallpaper টিভি.


 সব সম্ভব হয়ে উঠেছে. ওই যে ন্যানো প্রযুক্তির কারণে. শুধু তাই নয়. প্রতিদিন পৃথিবীতে বৃদ্ধি পাচ্ছে আবর্জনা. আশা করা যাচ্ছে ন্যানোটেক বিশাল ভূমিকা রাখবে পৃথিবীকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখার ক্ষেত্রে । ন্যানো প্রযুক্তিতে কোন প্রকার কার্বন উৎপাদন না করেই আবর্জনা ধ্বংস করা সম্ভব. সম্ভব আরো সুনিপুন ভাবে সমস্ত আবর্জনা রিসাইকেল করা. এর ফলে ভবিষ্যৎ পৃথিবীতে বায় বিদ্যুৎ উৎপাদন করে অনায়াসেই কমিয়ে দেওয়া যাবে গ্রিনহাউস এফেক্ট.


 পরিবেশ হয়ে উঠবে আরো সুন্দর, আরো পরিচ্ছন্ন. শুধুমাত্র অনুর কাঠামোগত পার্থক্য হবার কারণেই কয়লা এত সস্তা আর হীরা এত দামি. এতদিন পর্যন্ত অনুপমানুর সংযোগ শুধুমাত্র রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমেই সংগঠিত হতো. ন্যানো টেকনোলজির মাধ্যমে অনুপরমাণুকে ভেঙে কিংবা জোড়া লাগিয়ে অনেক কিছুই করার সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে.      ন্যানো টেকনোলজিতে কয়লাকে হিরায় পরিণত করা সময়ের ব্যাপার মাত্র. কিন্তু সাইড এফেক্ট থাকবে না তা তো আর হয় না. অবশ্যই আছে. সাইড এফেক্ট নির্ভর করছে কিভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে এই প্রযুক্তি তার উপর. আপনার ব্যক্তিগত বলতে হয়তো তখন আর কিছুই থাকবে না এই ন্যানো টেকনোলজির কারণে । আমাদের দেহের মাঝে কিভাবে চিপ প্রবেশ করবে তা আমরা টেরও পাবো না. ডেটা ট্রান্সফার হতে থাকবে নিয়মিতভাবে আমাদের অজান্তেই. বদলে যেতে পারে সহজেই জীবনযাত্রা. ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে পরিস্থিতি. আপনার চলাফেরা দৈনন্দিন কাজকর্ম সহ প্রতিটা বিষয়ের খুঁটিনাটি চলে যাবে আরেকজনের হাতে. নিশ্চয়ই তা চাইবেন না আপনি. আসলে প্রযুক্তি দিন দিন উন্নত হচ্ছে তাতে আপনার বা আমার এই বিষয়ে কিছুই করার নেই. ন্যানো টেকনোলজি যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে তাতে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের রাজত্ব শুরু হতে খুব বেশি দেরি নেই.     

মন্তব্যসমূহ

Blog Posts

লুসিড ড্রিম কাকে বলে ? লুসিড ড্রিম কিভাবে দেখতে হয় ?

 স্বপ্ন নিয়ন্ত্রণ করার কথা ভেবেছেন কখনো? নিশ্চয়ই ভাবছেন জেগে জেগে দিবাস্বপ্ন দেখার কথা বলছি না তো? কিন্তু না, রীতিমতো ঘুমিয়ে দেখা স্বপ্নও নিয়ন্ত্রণের কথাই বলছি, আপনার ইচ্ছামত স্বপ্ন দেখবেন। ইচ্ছা মতো নিয়ন্ত্রণ করবেন। আর পছন্দ না হলে অর্থাৎ দুঃস্বপ্ন দেখা শুরু করলে সেটার গতিপথ পাল্টে দেবেন একেবারে নিমেষে। আধুনিক বিজ্ঞানের ভাষায় এটা খুবই সম্ভব একে বলা হয় লুসিভ ড্রিম। লুসিড ড্রিমিং এর সাথে আপনারা অনেকেই হয়তো পরিচিত আছেন। অনেকে পরিচিত থাকলেও হয়তো এটা কেন হচ্ছে বা কিভাবে হচ্ছে তা নিয়ে বেশ দ্বিধা দ্বন্দ্বে আছে এসবেরই উত্তর মিলবে আজকের এই লিখাতে।   লুসিড ড্রিম অর্থ কি? সহজ বাংলায় অনুবাদ করতে গেলে বলা যায় লুসিড অর্থ পরিষ্কার. অর্থাৎ স্পষ্ট আর dream মানে তো আমরা সবাই জানি যে স্বপ্ন। লুসিড ডিম হলো সেই স্বপ্ন যে আমাদের স্পষ্ট ভাবে মনে থাকে এবং স্বপ্ন চলাকালীন সময়েও আমরা এ উপলব্ধি করতে পারি যে এটি বাস্তব নয় বরং এটি স্বপ্ন কিন্তু শুধুমাত্র আক্ষরিক অর্থ দিয়ে লুসিড ড্রিম ব্যাখ্যা করলে ভুল হবে একটু অন্যভাবে বলা যাক ।  মনে করুন স্বপ্নে আপনি কি পাহাড়ের উপর থেকে দ্রুত গ...

সারোগেসি কি ?

সারোগেসির মাধ্যমে সন্তান ধারণ করা নিয়ে এখনো বহু বিতর্ক আছে. শুধু আমাদের দেশে নয়, সারা বিশ্বেই এই পদ্ধতি নিয়ে তর্ক বিতর্কের শেষ নেই.  এটার আইনি প্রক্রিয়াও জটিল। কারণ এটি একেক রাষ্ট্রে. শারোগেসি আইন একেক রকম. নারী মা হবেন প্রাকৃতিক নিয়ম সমাজ এমনটাই দেখতে অভ্যস্ত. কিন্তু কোন কারণে মা হবার ক্ষমতা না থাকলে তাকে পরিবার ও আশপাশ থেকে যে পরিমাণ কটু কথা শুনতে হয় তা সাধারণ মানুষের ধারণারও বাইরে.   সরোগেসি বিষয়টি কি? চিকিৎসা শাস্ত্রের অগ্রগতি এমন মায়েদের সামনে এনেছে যারা গর্ভ ভাড়া দিয়ে নিজে বাঁচেন অন্যদের মাতৃ সুখ দেন । একজন নারীর গর্ভে অন্য দম্পতির সন্তান ধারণের পদ্ধতিকে সারোগেসি বলা হয়.সারোগেসির এই  পদ্ধতি বেশ দীর্ঘকালীন. আইভিএফ পদ্ধতিতে স্ত্রী ও পুরুষের ডিম্বাণু শুক্রাণু দেহের বাইরে নিষিক্ত করে তা নারীর গর্ভাশয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়. কিন্তু এখানেও জটিলতা. কেন? সে বিষয়ে পরে আসছি. বাংলাদেশ সহ বহু দেশই এই সারোগেসি একরকম ভাবে নিষিদ্ধ. সুতরাং বিষয় টি  সংবেদনশীল. এমনকি বেশিরভাগ ধর্মেও রয়েছে নিষেধাজ্ঞা. চলুন কথা বলি সারোগেসি মাদার সম্পর্কে। আইভিএফ বা টেস্ট টি...

পেগাসাস স্পাইওয়ার কি ?

গত কিছুদিন ধরেই বিশ্ব রাজনীতি এবং প্রযুক্তি জগৎ এই দুই জায়গাতেই আলোচনার বিষয়বস্তু একটাই। সেটা হচ্ছে পেগাসাস স্পাইওয়ার. বিশ্বজুড়ে নানান দেশের মানবাধিকার কর্মী সাংবাদিক আইনজীবী ও রাজনীতিকদের ফোনের নজরদারি চালানোর ঘটনা ফাঁস হওয়ার পর ইজরায়েলের বেসরকারি কোম্পানি nso গ্রুপের তৈরি করা এই সফটওয়্যার নিয়ে এখন তুমুল তরজা চলছে দুনিয়া জুড়ে । চলুন কথা বলি দুনিয়া ওলট পালট করে দেওয়া স্পাইওয়ার সম্পর্কে । পেগাসাস মূলত একটি নজরদারি বিষয়ক সফটওয়্যার । ইজরাইলের সংস্থা এনএসও ই সফটওয়্যার তৈরি করেছে। যা দিয়ে যে কারো মোবাইলে আড়ি পাতা যায়. এটা কিন্তু সাধারণ কোন নজরদারি নয়. আগে ফোনে আড়ি পেতে শুধু দুই প্রান্তের কথাবার্তা শোনা যেত. আর সফটওয়্যারের মাধ্যমে গোটা ফোনটারই নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় হ্যাকাররা. ফোনের কথাবার্তা WhatsApp এর চ্যাট, ছবি, ফোনে কি কি তথ্য আছে সবই জানা যায়. আরো ভয়ানক ব্যবহার হচ্ছে মোবাইল যিনি ব্যবহার করছেন তিনি জানতেই পারেন না যে তার ফোন হ্যাক করা হয়েছে. সমস্ত তথ্য পাচার হয়ে যাচ্ছে নির্দিষ্ট একটি গোষ্ঠীর কাছে. কিন্তু কারো ফোনে পেগাসাস software install করতে হলে তো সেই ফোনটাকে...

রেট রেস কি ?

      আপনি ঠিক কখন ইঁদুর দৌড়ে যোগ দিয়েছেন এটা হিসাব করা কঠিন. কিন্তু নিশ্চিত থাকুন আপনি এই দৌড়ে আছেন. ক্লাস eight এ পড়ার সময়ের কথা মনে আছে? সামনে বৃত্তি পরীক্ষা পাটিগণিত বীজগণিতের অংক প্যাঁচ লাগাচ্ছে বিজ্ঞানের জটিল সব সূত্র ভোরে ওঠে প্রাইভেট টিউটরের বাসায় ছোটা রাত জেগে পড়াশোনা. বয়সের তুলনায় অনেক বেশি কর্ম ব্যস্ত একটা সময় নিশ্চয়ই কাটিয়েছেন তখন? আমরা সবাই কাটিয়েছি. সেই সময় নিশ্চয়ই অভিভাবক বলেছে এই তো আর কটা দিন. বৃত্তি পরীক্ষা শেষ হলেই জীবন শান্তি আর শান্তি. জীবনের নানা এপিসোডে আপনি এই কথাগুলো শুনেছেন অনেকবার অনেকের মুখে. এসএসসি পরীক্ষাটা দাও, কলেজে উঠলেই তো স্বাধীনতা. একবার ভার্সেটিতে উঠতে পারলেই জীবন হবে আনন্দে ভরপুর. একবার জব লাইফে ঢোকো. নিজের টাকায় আয়েশ করার মজাই অন্যরকম. শুনেছেন না এসব?  বয়স ঘড়ির ত্রিশের প্রান্তে দাঁড়িয়ে হিসেবগুলো মেলাতে পারেন কি? কি মনে হয়? এই এপিসোডগুলোর কোনোটা পার হবার সময় জীবন খানিকটা হলেও সহজ হয়েছে? সুন্দর হয়েছে? হয়নি, হবেও না, মিথ্যা একটা মরীচিকার আশায় আমরা ছুটেছি ঠিকই আমাদের ছোটানো হয়েছে, কিন্তু হিসাব মেলেনি ছুটত...

ম্যান্ডেলা ইফেক্ট কেনো হয়?

   আচ্ছা নিজের স্মৃতি শক্তির উপর কতটা বিশ্বাস আছে আপনার? আচ্ছা বাদ দিয়ে আপনার কথা. গণমানুষের স্মৃতিশক্তির উপর নিশ্চয়ই বিশ্বাস আছে অনেকটা. না না. ধর্মীয় কোন বিশ্বাস না. এই গ্রহে ঘটে যাওয়া এমন সব ঘটনা. যা সবাই জানে. তা কি রকম মিথ্যা? এক দশক আগেও পৃথিবীর প্রায় এক তৃতীয়াংশ মানুষ জানতো যে অস্ট্রেলিয়ার রাজধানীর নাম সিডনি. আসলে কি তাই? গত এক দশকে এই ধারণা মোটামুটি পরিবর্তন হয়ে মানুষ জেনেছে অস্ট্রেলিয়ার রাজধানীর নাম ক্যানভেরা. এখনো এই ভুল হরমামেশাই করে যাচ্ছে মানুষ. বিশ্বাস না হলে আশেপাশের কিছু মানুষকে জিজ্ঞেস করে দেখতে পারে. প্রশ্ন করতে পারেন ম্যান্ডেলার নাম কেন? এই ফ্ললস মেমোরি সিন্ড্রোমকে ম্যান্ডেল এফেক্ট নামকরণ করেছেন প্যারানরমাল কনসালটেন্ট ফীয়না ব্রুম তার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে । দু হাজার দশ সালের এক আলোচনা সভায় উঠে আসে দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদ বিরোধী আন্দোলনের নেতা উনিশশো আশি সালে কারা জানে মারা যাওয়ার প্রসঙ্গ । অনেকেই সেদিন বলেছিল, টিভিতে এই নেতার শেষকৃত্যের আনুষ্ঠানিকতা দেখার অভিজ্ঞতার কথা. ম্যান্ডেলার স্ত্রীর হৃদয় নিন্দারও ভাষণের কথা উল্লেখ করেছিলেন কেউ কেউ. এমনক...

কিভাবে লিমিটলেস হওয়া যায় ? লিমিটলেস আসলে কিভাবে কাজ করে ?

এনজিটিপিল,  এটা এমন এক পিল যা আপনাকে করবে আল্ট্রা ফোকাসড. দেবে দুর্দান্ত মোটিভেশন. বের করে আনবে আপনার সর্বোচ্চ সম্ভাবনা. আপনি হয়ে উঠবেন আনস্টপল. বাস্তবতা পাবে প্রতিটি স্বপ্ন. কিন্তু সমস্যা হচ্ছে এমন কোন পিলের অস্তিত্ব নেই. ফলাফল আপনি আটকে আছেন একটি খাদে. সারাক্ষণ ক্লান্তি নিয়ে হয়ে উঠছেন আনপ্রোডাক্টিভ. নষ্ট হচ্ছে ক্রিয়েটিভিটি. সময় গড়িয়ে যায়. ঋতুর পরিবর্তন ঘটে. কিন্তু আপনি ডুবে থাকেন এক হতাশায় যাতে আপনি দিন দিন পিছিয়ে পরছেন. আপনি যা যা এতদিন অর্জন করবেন ভেবেছিলেন তা কিছুই আপনি অর্জন করতে পারেননি । নিজেকে সান্তনা দিচ্ছেন আগামীকাল হবে ভিন্ন। কিন্তু তা কখনোই হয়ে ওঠে না এখন যদি আপনাকে বলি কোনো জাদুকরী পিলের সাহায্যে নয় বাস্তবিক লিমিটলেস হয়ে ওঠা সম্ভব।  একদম প্রমাণিত পদ্ধতিতে যা একেবারে ফ্রিতে ব্যবহার করা সম্ভব.  তো আছেন তো শেষ পর্যন্ত ?  Limit less হওয়ার যাত্রায় ।  স্টেপ ওয়ান : এনার্জি--  মাত্র কয়েক মাস আগে আমি নিজেও আপনার মতো কর্মশক্তিহীন অনুভব করতাম. সামান্য কাজেই আসতো অবসন্নতা, গেয়ে ধরতো ক্লান্তি একদিন হঠাৎ টের পেলাম আমি নিজেই নিজের energy নি...

প্রযুক্তি দুনিয়াতে পর্দার আড়ালে থেকে যাওয়া এক প্রতিভাবান এর গল্প ।

পর্দার আড়ালে একা খেলে যাচ্ছেন একজন. কামাচ্ছেন বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার. অথচ তাকে চেনে খুব কম সংখ্যক মানুষ. আইটি জগতে ইলন মাস্ক, জেফ বোজোস বা বিট গ্রেটসের সাথে তার নামও সমান তালে চলার কথা ছিল. কিন্তু বিহাইন্ড দা সিনে একা গোল করে যাচ্ছেন তিনি. নাম ড্রোন ইয়াং পিং ড্রোন ইয়াং পিং নামটি মোবাইল ফোনের জগতে খুবই কম মানুষের শোনা. তবে তার নাম অজানা থাকলেও তার কোম্পানি বিবিকে ফোন গিগদের মধ্যে বেশ পরিচিত. ওয়ান প্লাস, রিয়েলমি, অপো, ভিভো এবং আইকিউ. এই পাঁচটি জনপ্রিয় মোবাইল ব্র্যান্ডের একক মালিক ডোন ইয়াং পিন.  এই ব্র্যান্ড গুলো তার কোম্পানিতে পরিণত করেছে বর্তমানের সবচেয়ে বড় মোবাইল ফোন উৎপাদনকারী কোম্পানিতে. অ্যাপেল , শাওমি বা স্যামসাং যারা মোবাইল ফোনের জগতে বর্তমানে সবচেয়ে বড় ব্র্যান্ড তাদেরকেও পেছনে ফেলে এগিয়ে গিয়েছে বিবিকে কোম্পানি। কিন্তু এত সফলতার সত্ত্বেও বেশিরভাগ মোবাইল ফোন ব্যবহারকারী এমনকি ফোন গিগরাও তার সম্পর্কে বলতে গেলে তেমন কিছুই জানে না. এলেন মাস্ক, স্টিভ জবস বা জ্যাকমা, যারা কিনা টেকনোলজির জগতে খুবই পরিচিত তাদের সম্পর্কে অনলাইনে  অগণিত তথ্য রয়েছে। কিন্তু ডন ইয়ং পিং এর...

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কি ? আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কতটা ভযঙ্কর হতে পারে আগামী দিনের জন্য ?

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বহুল চর্চিত এবং ব্যবহৃত একটি শব্দ. মানুষের বুদ্ধিমত্তা ও চিন্তা শক্তিকে কম্পিউটার প্রোগ্রামিং এর মাধ্যমে মেশিন ল্যাঙ্গুয়েজে স্থাপন করা টেকনোলজিটাই হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স । এর মাধ্যমে কোন যন্ত্র নির্দিষ্ট প্রোগ্রামের আওতাধীন কিছু কাজ নিজে থেকেই করতে পারে নিজে নিজে সিদ্ধান্ত নিতে পারে।  টার্মিনেচার টাইপের কোনো সাইফাই সিনেমার গুরু বন্ধুর সংলাপ নয়।  A.I নিয়ে ভবিষ্যৎবাণী করেছিলেন পৃথিবীর সেরা বিজ্ঞানীদের একজন স্টিফেন হকিং আমার ভয় হয় তারা সত্যিই হয়তো একদিন মানুষকে হটিয়ে নিয়ন্ত্রকের আসনে বসে যাবে। বেঁচে থাকতেই BBC কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স তথা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে এভাবেই সবাইকে সতর্ক করেছিলেন তিনি। হকিংসের এই ভয় এখনো ভবিষ্যতের বিষয় হলেও অমূলক নয় মোটেও যন্ত্রকে বুদ্ধিমান করে তার আশীর্বাদ অনেক আছে। কিন্তু দীর্ঘ মেয়াদে সেই যন্ত্রই পৃথিবীর দখল নিতে চলেছে কিনা স্বয়ং সম্পূর্ণ হয়ে মানুষকেই বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে একদিন অপদার্থ তে পরিণত করবে কিনা সেই প্রশ্নটা উঠছে বারবার।  যুক্তরাষ্ট্রে...

মিনিমালিজম কি ? কিভাবে মিনিমালিস্ট হওয়া যায় ?

মিনিমামলিজম এই ধারণাটি বিগত কয়েক বছরে বেশ জনপ্রিয়তা লাভ করেছে এবং এর যথেষ্ট কারণও আছে. এই পুরো ব্যাপারটা কি? সেটাকে সঙ্গায়িত করা যায় এভাবে যে,  মিনিমালিজম হচ্ছে যা আমাদের জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সেগুলোকে ধারণ করা এবং বাকি সব কিছু যা আমাদের দৃষ্টিকে অন্যদিকে সরিয়ে নেয় সেগুলোকে ইচ্ছাকৃতভাবে ত্যাগ করা।   অর্থাৎ কোন কোন বিষয়ে জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং কোন জিনিসগুলোকে আমাদের কাছে সবচেয়ে মূল্যবান সেই সম্পর্কে একটা পরিষ্কার ধারণা থাকা এবং বাকি সব ত্যাগ  করে দেয়. সেগুলো নিয়েই জীবন ধারণ করা. কিন্তু এমন সংজ্ঞায়ন সত্ত্বেও minimalism কোন ধরাবাধা জীবন ব্যবস্থা নয় বা মিনিমালিস্ট হতে হলে কোন নির্দিষ্ট মানদণ্ড মেনে চলতে হবে এরকমটিও কিন্তু নয়. মিনিমালিস্ট লাইফ স্টাইল এমন একটি বিষয় যা প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য স্বতন্ত্র। এক্ষেত্রে মূল বিষয়টি হচ্ছে সত্যিকার অর্থে কোন কোন বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও প্রয়োজনীয় সেই সম্পর্কে একটা পরিষ্কার ধারণা নিয়ে সেই অনুযায়ী জীবন ধারণ করা. প্রিয় দর্শক চলুন দেখি মিনিমালিজম কিভাবে আপনার জীবনধারা বদলে দিতে পারে।  মিনিমালিস্ট জীবন অবশ...