সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

ডাচ ডিজিজ কি ? অর্থনীতি কিভাবে রোগে ভুগতে পারে ?

সো হোয়াট দ্য হেল দিস ডাচ ডিজিজ? ডাচ ডিজিজ শব্দটা শুনলে আপনার স্বাভাবিক ভাবেই মনে হবে এটা কোন রোগের নাম । হ্যাঁ এটা একটা রোগ. তবে মানুষের নয়. কোন প্রাণীরও নয়. তাহলে? এটা মূলত অর্থনীতির একটা সিন্ড্রোম. কিন্তু অর্থনীতির টার্মের সঙ্গে ডিজিজ কথাটা যুক্ত হল কেন? ডাচ বা নেদারল্যান্ড দেশটারই বা কি ভূমিকা এতে?  না এটা বুঝতে আপনাকে অর্থনীতির ছাত্র হতে হবে না ।কিন্তু বিষয়টা বেশ মজার দু হাজার সতেরো সালে বুকিং ইনস্টিটিউট কর্তৃক প্রকাশিত ডাচ ডিজিজ এন্ড ইকোনমিক ইলনেস ইজি টু ক্যাচ ডিফিকাল্ট টু কিওর শিরোনামের আর্টিকেলের শুরুতেই বলা হয়ে ছিল- what a persistantly low oil price, dose to oil richan prises like what a long cold winter dust to people একথার তাৎপর্য কি? 


সহজ বাংলায় বুঝিয়ে বলা যায় যদি বিশ্ববাজারে ক্রমাগতভাবে তেলের দাম কমতে থাকে তখন তেল সমৃদ্ধ তেলের ওপর ভাবে নির্ভরশীল দেশগুলোর অর্থনীতি নানান সমস্যায় ভুগতে পারে. এখানে তেল একটা রূপক মাত্র. তেলের জায়গায় চাল, ডাল, লবণ, চিনি যেকোনো কিছুই হতে পারে. হতে পারে কোন শিল্প যেমন টেক্সটাইল গার্মেন্টস বা ইনফরমেশন টেকনোলজিও. মূল বিষয়টা হচ্ছে নির্দিষ্ট কোন পণ্য বা জিনিসের ওপর মাত্রাতিরিক্ত নির্ভরতা. যে নির্ভরতা গোটা দেশের অর্থনীতিকে টালমাটাল করে তুলতে পারে. অর্থনীতি নিয়ে যারা একটু ঘাটাঘাটি করেন তাদের কাছে ডাচ ডিজিজ বেশ পরিচিত একটা কনসেপ্ট. তেলের চাহিদা তো বাংলাদেশেও আছে. তাহলে কি বাংলাদেশ ডাচ ডিজিজ দ্বারা আক্রান্ত হবে কোন একদিন? এর প্রতিরোধই বা কি?   ডাচ disease অর্থনীতির এমন একটা অবস্থান যখন কোনো দেশের অর্থনীতির একটা বিশেষ সেক্টরের খুব দ্রুত উন্নতি হয় সাথে অন্য সেক্টরের পতন শুরু হয়. ফলে ওই দেশের মুদ্রার মান স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেড়ে যায়. আরেকটু যদি সহজভাবে বলি ডাচ ডিজিজ  হলো এমন একটি অর্থনৈতিক ঘটনা যা একটি দেশের জন্য একদিকে ইতিবাচক খবর নিয়ে আসে. সাথে সাথে অর্থনীতির অন্য কোন সেক্টরের উপর নীতিবাচক প্রভাব বয়ে আনে. ধরুন কোন দেশ হঠাৎ একটা প্রাকৃতিক সম্পদের সন্ধান পেল. এর ফলে দেশটির অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়ার কথা. ইতিবাচক প্রভাবের পরিবর্তে যদি অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে বা ইতিবাচক প্রভাবের চেয়েও যদি সেই সম্পদের নেতিবাচক প্রভাব বেড়ে যায় তখন তাকে বলা হয় ডাচ disease. 


আপনার মনে প্রশ্ন আসতেই পারে একটা দেশের কোনো একটি সেক্টরের উন্নতি হলে অন্য সেক্টরে কেন নেগেটিভ প্রভাব পড়বে? বিষয়টি উদাহরণ দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায়. আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের একটি জনপ্রিয় থিওরি হল তুলনামূলক সুবিধাতত্ত্ব বা কম্পিটিটিভ অ্যাডভান্টেজ থিওরি.

 এই থিওরির মূল বক্তব্য হল একটা দেশ যে পণ্য উৎপাদনে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে সেই পণ্যটি উৎপাদনে বিশেষত্ব বা পারদর্শিতা অর্জন করে সেটি রপ্তানি করা উচিত. এতে করে অন্যান্য দেশের তুলনায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বাড়তি সুবিধা পাওয় যাবে. ধরুন বাংলাদেশ হঠাৎ করে একটা প্রাকৃতিক সম্পদ আবিষ্কার করল. আমরা জানি যে এই ধরনের sector labor intensive না. অর্থাৎ এই প্রাকৃতিক সম্পদ আহরণের উদ্যোগ নিলে খুব বেশি কর্মসংস্থান তৈরি হবে না. অন্যদিকে প্রাকৃতিক সম্পদ খনি থেকে উঠিয়ে যথাযথভাবে প্রক্রিয়াজিত করার পরেই ব্যবহার উপযোগী করতে প্রচুর অর্থের প্রয়োজন. এখন ধরা যাক প্রাকৃতিক সম্পদ উত্তোলনের জন্য বাংলাদেশের পর্যাপ্ত অর্থ নেই. একটি বিদেশি কোম্পানি এদের বিনিয়োগ করলো. ফলে বাংলাদেশে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা আসবে. এর ফলে বাংলাদেশের টাকার মান অন্য দেশের তুলনায় বেড়ে যাবে. যাকে অর্থনীতির ভাষায় বলা হয় কারেন্সি অ্যাপ্রিসিয়েশন.


 এর ফলে বাংলাদেশ অন্য কোন দেশ থেকে কম দামে পণ্য আমদানি করতে পারবে. আবার কেউ বাংলাদেশ থেকে আমদানি করতে চাইলে তার খরচ পড়বে অনেক বেশি. অন্য দেশ থেকে যেহেতু কম দামে পণ্য আসছে বাংলাদেশে দেশি পণ্যের চেয়ে বিদেশি পণ্যের দাম কম হবে. ফলে দেশে অনেক শিল্প কারখানা বিদেশি প্রতিযোগিতার মুখে টিকতে না পেরে ধ্বংস হয়ে যাবে. আর এভাবেই নতুন আবিষ্কৃত প্রাকৃতিক সম্পদ অর্থনীতির অন্যান্য সেক্টরকে হুমকির মুখে ফেলে দিয়ে সমগ্র অর্থনীতিকে সংকটে ফেলতে পারে. ডাচ ডিজিজ শব্দটা কিভাবে এলো? উনিশশো সাতানব্বই সালে দ্য ইকোনমিক্স ম্যাগাজিন সর্ব প্রথম ডাচ ডিজিজ শব্দটি ব্যবহার করে. প্রাকৃতিক গ্যাস আবিষ্কারের পর নেদারল্যান্ডের অর্থনীতিতে সৃষ্ট জটিল অবস্থা ব্যাখ্যা করতে ডাচ ডিজিজ শব্দটি ব্যবহার করা হয়.

 উনিশশো ঊনষাট সাল। সে বছর নেদারল্যান্ড বিপুল পরিমান প্রাকৃতিক গ্যাসের সন্ধান পায়। এরপর দেশটি অতিরিক্ত পরিমানে প্রাকৃতিক গ্যাস রপ্তানি শুরু করে। এসময় তাদের রপ্তানি আয় বেড়ে যায় অনেকটা। মূল সমস্যা ঠিক তখনই শুরু হয় যখন অধিক রপ্তানি আয়ের ফলে ডাচমুদ্রার মূল্য বেড়ে যায় এবং নেদারল্যান্ড তার মুদ্রার মান স্থিতিশীল রাখতে ব্যর্থ হয়। এই যে নেদারল্যান্ডে রপ্তানি আয় বাড়লো তার সুবিধা মূলত গ্যাসের সাথে জড়িত সকলেই পেলো। অন্যদিকে যেসব দ্রব্য প্রাকৃতিক গ্যাসের সাথে সংযুক্ত নয় সেগুলো বিশ্ববাজারে কম প্রতিযোগিতামূলক হয়ে গেলো। এ কারণে ডলারের বিপরীতে ডাচ মুদ্রার মান বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদনের ব্যয় বেড়ে গিয়েছিল। ফলে দেখা গেল প্রাকৃতিক গ্যাস ছাড়া অর্থনীতির বাকি ক্ষেত্রগুলো থেকে রপ্তানি আয় কমে গিয়েছিল। অর্থাৎ সামগ্রিক রপ্তানি আয় কমে গিয়েছিল। এখান থেকে পরবর্তীতে ডাচ ডিজিজ কনসেপ্ট নিয়ে আসে । বাংলাদেশ কি ডার্চ ডিজিজের সিন্ড্রোমে ভুগবে? 

 নেদারল্যান্ড যখন সিন্ড্রমে ভুগছিল তখন তাদের মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় চুরাশি ভাগ আসতো গ্যাস থেকে. আমরা জানি যে বর্তমানে বাংলাদেশেরও রপ্তানি আয়ের আশি ভাগের বেশি আসছে তৈরি পোশাক শিল্প থেকে. তাহলে কি অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশ Dutch disease syndrome এ ভুগতে যাচ্ছে. বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পূরণের জন্য অনেকাংশে কৃতিত্ব গার্মেন্ট শিল্প পাবে. কিন্তু সেই সেক্টরটাই কি আবার অভিশাপ হয়ে দাঁড়াবে বাংলাদেশের জন্য? সেই সম্ভাবনা. কতটুকু? আমরা শুরুতেই বলেছি যে প্রাকৃতিক সম্পদ কোন শ্রমবান্ধব শিল্প নয়. কিন্তু বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত একটি শ্রমবান্ধব শিল্প. এই সেক্টরে কাজের জন্য প্রচুর পরিমাণ শ্রমিকের প্রয়োজন হয়. দেশের প্রায় তিরিশ লাখ মানুষ সরাসরি পোশাক শিল্পের সাথে জড়িত. পাশাপাশি এই শিল্পের সঙ্গে অন্য অনেক শিল্পও ওতপ্রোতভাবে জড়িত. ব্যাংক. বীমা, পরিবহন, সমুদ্র বন্দর, হোটেল. নির্মাণ সহ অনেক খাত পোশাক শিল্পের সাথে সংশ্লিষ্ট. পোশাক শিল্প, প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এইসব শিল্পের উন্নয়নে অবদান রাখছে. অনেকে আবার তেল নির্ভর ভেনিস জুয়েলার অর্থনৈতিক সংকটের দিকে নির্দেশ করে বলেন যে বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের ওপর মাত্রাতিরিক্ত নির্ভরতা বাংলাদেশকে ডাচ disease এর দিকে নিয়ে যাবে. কিন্তু বাস্তবতা হলো ভেনিজুয়েলা আর বাংলাদেশের অর্থনীতি সম্পূর্ণ বিপরীত।  


ভেনিজুয়েলা সমাজতান্ত্রিক দেশ. ওই দেশের অর্থনীতি, সরকারের হস্তক্ষেপে নিয়ন্ত্রিত হয়. অন্যদিকে বাংলাদেশ পুঁজিবাদী ধারা অনুসরণ করে। বাংলাদেশের অর্থনীতি নিয়ন্ত্রণ বেসরকারি খাতের হাতে। বাংলাদেশের পোশাক শিল্প সরকারিভাবে নিয়ন্ত্রিত কোনো শিল্প না যে সরকার চাইলেই ইচ্ছেমতো বিভিন্ন গার্মেন্টসে নিয়োগ দেবে। দুহাজার-ষোলো সালে জাপানের সাইদামা ইউনিভার্সিটি থেকে বাংলাদেশ ও নেপালের রেমিটেন্স ও ডাচ ডিজিজ নিয়ে গবেষণা করা হয়। গবেষণাটিতে দেখা যায় রেমিটেন্স সইয়ের কারণে নেপালে ডাজ ডিজিজ হলেও বাংলাদেশি ডাচ ডিজিজের কোন প্রভাব পড়েনি. এর ব্যাখ্যা হিসেবে তাঁরা দুটো কারণ উল্লেখ করেছেন. 


প্রথমত নেপাল তাঁর রেমিটেন্সের সিংহভাগই ভোগের জন্য ব্যয় করে. কিন্তু বাংলাদেশের অর্থ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ করে মূলধন বাড়িয়েছে. দ্বিতীয়ত বাংলাদেশ বৈদেশিক আয়ের অর্থ উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগ করেছে. এছাড়া ইকোনমির বিভিন্ন খাতের উন্নয়নে বাংলাদেশ উনিশশো-নব্বই সাল থেকে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করে যেমন ইকোনমিক জোন তৈরি , এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোন তৈরি,  যুগোপযোগী শিল্পনীতি গ্রহণ ও অবকাঠামো তৈরি ইত্যাদি. কিন্তু নেপাল ম্যানুফ্যাকচারিং খাতের পুনর্গঠনের লক্ষ্যে এমন কোন পলিসি কখনোই গ্রহণ করেনি. তাহলে কি  বাংলাদেশের কোন চ্যালেঞ্জ নেই? বিষয়টি এমন না যে ডাচ ডিজিজের দুশ্চিন্তা ভুলে বাংলাদেশ নিশ্চিন্তে নাকে তেল দিয়ে ঘুমাবে।  বাংলাদেশের সামনে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে. বাংলাদেশ দু হাজার ছাব্বিশ সালের মধ্যে এলডিসি গ্রাজুয়েশন করে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে উপনীত হবে. স্বল্পনত দেশ হিসেবে বাংলাদেশ ইউরোপ আমেরিকার বাজার থেকে এখন যে সুবিধাগুলো পাচ্ছে তখন আর এসব সুবিধা পাবে না। আর এজন্য বাংলাদেশকে এখন থেকে বিভিন্ন দেশের সাথে ফ্রি ট্রেড এগ্রিমেন্ট সাক্ষর করার উদ্যোগ নিতে হবে। পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক বিভিন্ন অর্থনৈতিক ফোরাম যেমন আসিয়ান, রিসেপ্ট ইত্যাদিতে যোগ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত । এখনো বাংলাদেশের অর্থনীতি বহুলাংশে পোশাক শিল্পের উপর একক ভাবে নির্ভরশীল, বিশ্ববাজারে ভিয়েতনাম, চায়না সহ অন্যান্য দেশের সাথে এখন বাংলাদেশের পোশাক শিল্পকে রীতিমতো প্রতিযোগিতা করতে হচ্ছে. তাই এই খাতের উপর মাত্রাতিরিক্ত নির্ভরতা আগামী দিনগুলোতে বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ নিয়ে আসতে পারে। তাহলে বাংলাদেশের করনীয় কি? বাংলাদেশ আপাতত দুটি বিষয়ের উপর নজর দিতে পারে। প্রথমত প্রোডাক্ট ডাইবার সিফিকেশন বা রপ্তানি পণ্য বহুমুখী করণ। শুধুমাত্র আর এম জি এর  উপর নির্ভর না করে অন্যান্য পণ্য রপ্তানি বাড়াতে হবে. বাংলাদেশ পাট ও পাটজাত পণ্য চামড়া চামড়া জাত পন্য প্লাস্টিক জাতীয় পণ্য রপ্তানিতে নজর দিতে পারে.

দ্বিতীয়ত মার্কেট ডাইভার সিফিকেশন বা বাজার বহুমুখীকরণ. বাংলাদেশ এখন মূলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কিংবা  কতিপয় ইউরোপের দেশেই সিংহভাগ রপ্তানি করে. বাংলাদেশের উচিত নতুন নতুন বাজার খুঁজে বের করা. এই ভার্সিটাইলিটি আনতে না পারলে বাংলাদেশের সামনে ঝুঁকি আছে Dutch disease এ আক্রান্ত হবার. নতুন মার্কেট হিসেবে আমরা চায়নার কথা উল্লেখ করতে পারি. দুহাজার-উনিশ, বিশ সালে চায়না দুই দশমিক চার ট্রিলিয়ন ডলার মূল্যের পণ্য আমদানি করে. যেখানে বাংলাদেশের অংশ ছিল মাত্র শূন্য দশমিক শূন্য পাঁচ শতাংশ. ডক্টর রাজ্জাক নামের একজন বাংলাদেশী গবেষণা করে দেখিয়েছেন. যদি বাংলাদেশ চায়নার মার্কেটের মাত্র এক শতাংশ ধরতে পারে. তাতে বাংলাদেশ বছরে পঁচিশ বিলিয়ন ডলার আয় করতে পারবে. খুব সম্প্রতি নিজেদের বাজারে বাংলাদেশের আটানব্বই পার্সেন্ট পণ্যকে শুল্কমুক্ত রপ্তানি সুবিধা দেয়ার ঘোষণা দেয় চায়না. এতে চীনের বাজারে বাংলাদেশের আট হাজার নয়শো ত্রিশটি পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে শুল্ক মুক্ত সুবিধা পাওয়া যাবে। বাংলাদেশের উচিত চায়না সহ অন্যান্য নতুন মার্কেটে যেমন দক্ষিণ আমেরিকা, আসিয়ান ভুক্ত দেশ, মধ্যপ্রাচ্য এসব দেশে রপ্তানি বাড়ানোর চেষ্টা করা। তাহলেই নেদারল্যান্ড বা ভিয়েতনামের মতো করুন পরিণতি থেকে দূরে থাকাটা সম্ভব হবে খুব সহজেই ।  আজ এই পর্যন্তই.  ধন্যবাদ ।


মন্তব্যসমূহ

Blog Posts

পেগাসাস স্পাইওয়ার কি ?

গত কিছুদিন ধরেই বিশ্ব রাজনীতি এবং প্রযুক্তি জগৎ এই দুই জায়গাতেই আলোচনার বিষয়বস্তু একটাই। সেটা হচ্ছে পেগাসাস স্পাইওয়ার. বিশ্বজুড়ে নানান দেশের মানবাধিকার কর্মী সাংবাদিক আইনজীবী ও রাজনীতিকদের ফোনের নজরদারি চালানোর ঘটনা ফাঁস হওয়ার পর ইজরায়েলের বেসরকারি কোম্পানি nso গ্রুপের তৈরি করা এই সফটওয়্যার নিয়ে এখন তুমুল তরজা চলছে দুনিয়া জুড়ে । চলুন কথা বলি দুনিয়া ওলট পালট করে দেওয়া স্পাইওয়ার সম্পর্কে । পেগাসাস মূলত একটি নজরদারি বিষয়ক সফটওয়্যার । ইজরাইলের সংস্থা এনএসও ই সফটওয়্যার তৈরি করেছে। যা দিয়ে যে কারো মোবাইলে আড়ি পাতা যায়. এটা কিন্তু সাধারণ কোন নজরদারি নয়. আগে ফোনে আড়ি পেতে শুধু দুই প্রান্তের কথাবার্তা শোনা যেত. আর সফটওয়্যারের মাধ্যমে গোটা ফোনটারই নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় হ্যাকাররা. ফোনের কথাবার্তা WhatsApp এর চ্যাট, ছবি, ফোনে কি কি তথ্য আছে সবই জানা যায়. আরো ভয়ানক ব্যবহার হচ্ছে মোবাইল যিনি ব্যবহার করছেন তিনি জানতেই পারেন না যে তার ফোন হ্যাক করা হয়েছে. সমস্ত তথ্য পাচার হয়ে যাচ্ছে নির্দিষ্ট একটি গোষ্ঠীর কাছে. কিন্তু কারো ফোনে পেগাসাস software install করতে হলে তো সেই ফোনটাকে...

প্রযুক্তি দুনিয়াতে পর্দার আড়ালে থেকে যাওয়া এক প্রতিভাবান এর গল্প ।

পর্দার আড়ালে একা খেলে যাচ্ছেন একজন. কামাচ্ছেন বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার. অথচ তাকে চেনে খুব কম সংখ্যক মানুষ. আইটি জগতে ইলন মাস্ক, জেফ বোজোস বা বিট গ্রেটসের সাথে তার নামও সমান তালে চলার কথা ছিল. কিন্তু বিহাইন্ড দা সিনে একা গোল করে যাচ্ছেন তিনি. নাম ড্রোন ইয়াং পিং ড্রোন ইয়াং পিং নামটি মোবাইল ফোনের জগতে খুবই কম মানুষের শোনা. তবে তার নাম অজানা থাকলেও তার কোম্পানি বিবিকে ফোন গিগদের মধ্যে বেশ পরিচিত. ওয়ান প্লাস, রিয়েলমি, অপো, ভিভো এবং আইকিউ. এই পাঁচটি জনপ্রিয় মোবাইল ব্র্যান্ডের একক মালিক ডোন ইয়াং পিন.  এই ব্র্যান্ড গুলো তার কোম্পানিতে পরিণত করেছে বর্তমানের সবচেয়ে বড় মোবাইল ফোন উৎপাদনকারী কোম্পানিতে. অ্যাপেল , শাওমি বা স্যামসাং যারা মোবাইল ফোনের জগতে বর্তমানে সবচেয়ে বড় ব্র্যান্ড তাদেরকেও পেছনে ফেলে এগিয়ে গিয়েছে বিবিকে কোম্পানি। কিন্তু এত সফলতার সত্ত্বেও বেশিরভাগ মোবাইল ফোন ব্যবহারকারী এমনকি ফোন গিগরাও তার সম্পর্কে বলতে গেলে তেমন কিছুই জানে না. এলেন মাস্ক, স্টিভ জবস বা জ্যাকমা, যারা কিনা টেকনোলজির জগতে খুবই পরিচিত তাদের সম্পর্কে অনলাইনে  অগণিত তথ্য রয়েছে। কিন্তু ডন ইয়ং পিং এর...

ডিপ্রেশন কি ? এটা কত প্রকার ? বাইপোলার ডিসঅর্ডার কি ?

আজকাল খুব কমন একটা শব্দ ডিপ্রেশন. যার বাংলা অবসাদ । ডিপ্রেশনের সাথে সাথে পরিচিত হয়ে উঠছি আমরা মুড সুইং শব্দটার সাথেও । এই জেনারেশনের কারো সোশ্যাল মিডিয়ায় ডিপ্রেশনে না ভোগাটাই যেন বিরাট অপমানজনক। সবাই কেন যেন অস্থির হয়ে আছে বোঝাতে যে সে ডিপ্রেশনে ভুগছে । কখনো গানের লিরিক্স আবার কখনো বিখ্যাত লেখকের কোটেশন সবকিছুতেই ডিপ্রেশন । সাইকিয়াট্রিতে এই ডিপ্রেশন হল এক ধরনের মুড ডিসঅর্ডার । যেটা একমুখী অবসর বা ইউনিফুলার ডিপ্রেশন । কিন্তু সম্প্রতি আর এক ধরণের অবসাদ বিজ্ঞানীদের মাথা খারাপ করে দিচ্ছে। যেটাকে বলা হচ্ছে বাই পোলার ডিপ্রেশন । বাই পোলার অর্থাৎ দ্বিমুখী । একে ম্যানিক ডিপ্রেশনে বলা হয়। এখনো পর্যন্ত মনোবিজ্ঞানীরা বাই পোলার ডিসঅর্ডারের কারণ সম্পর্কে সঠিকভাবে জানতে পারেন নি। এর ওপর প্রচুর গবেষণা চলছে। জানলে অবাক হবেন যে শুধুমাত্র আমেরিকাতেই সাত মিলিয়নেরও বেশি মানুষ বাইপোলার ডিসঅর্ডারে ভুগছে । কিন্তু আসলে কি ঘটে? বাইপোলার ডিসঅর্ডারে? চলুন কথা বলি বাই পোলার ডিসঅর্ডার নিয়ে আজ কথা বলা যাক।   বাইপোলার ডিসঅর্ডার কাকে বলে? খুব সংক্ষেপে বলা যায় বাইপোলার ডিসঅর্ডার একটি মানসিক অবস্থা। যে...

কিভাবে লিমিটলেস হওয়া যায় ? লিমিটলেস আসলে কিভাবে কাজ করে ?

এনজিটিপিল,  এটা এমন এক পিল যা আপনাকে করবে আল্ট্রা ফোকাসড. দেবে দুর্দান্ত মোটিভেশন. বের করে আনবে আপনার সর্বোচ্চ সম্ভাবনা. আপনি হয়ে উঠবেন আনস্টপল. বাস্তবতা পাবে প্রতিটি স্বপ্ন. কিন্তু সমস্যা হচ্ছে এমন কোন পিলের অস্তিত্ব নেই. ফলাফল আপনি আটকে আছেন একটি খাদে. সারাক্ষণ ক্লান্তি নিয়ে হয়ে উঠছেন আনপ্রোডাক্টিভ. নষ্ট হচ্ছে ক্রিয়েটিভিটি. সময় গড়িয়ে যায়. ঋতুর পরিবর্তন ঘটে. কিন্তু আপনি ডুবে থাকেন এক হতাশায় যাতে আপনি দিন দিন পিছিয়ে পরছেন. আপনি যা যা এতদিন অর্জন করবেন ভেবেছিলেন তা কিছুই আপনি অর্জন করতে পারেননি । নিজেকে সান্তনা দিচ্ছেন আগামীকাল হবে ভিন্ন। কিন্তু তা কখনোই হয়ে ওঠে না এখন যদি আপনাকে বলি কোনো জাদুকরী পিলের সাহায্যে নয় বাস্তবিক লিমিটলেস হয়ে ওঠা সম্ভব।  একদম প্রমাণিত পদ্ধতিতে যা একেবারে ফ্রিতে ব্যবহার করা সম্ভব.  তো আছেন তো শেষ পর্যন্ত ?  Limit less হওয়ার যাত্রায় ।  স্টেপ ওয়ান : এনার্জি--  মাত্র কয়েক মাস আগে আমি নিজেও আপনার মতো কর্মশক্তিহীন অনুভব করতাম. সামান্য কাজেই আসতো অবসন্নতা, গেয়ে ধরতো ক্লান্তি একদিন হঠাৎ টের পেলাম আমি নিজেই নিজের energy নি...

ম্যান্ডেলা ইফেক্ট কেনো হয়?

   আচ্ছা নিজের স্মৃতি শক্তির উপর কতটা বিশ্বাস আছে আপনার? আচ্ছা বাদ দিয়ে আপনার কথা. গণমানুষের স্মৃতিশক্তির উপর নিশ্চয়ই বিশ্বাস আছে অনেকটা. না না. ধর্মীয় কোন বিশ্বাস না. এই গ্রহে ঘটে যাওয়া এমন সব ঘটনা. যা সবাই জানে. তা কি রকম মিথ্যা? এক দশক আগেও পৃথিবীর প্রায় এক তৃতীয়াংশ মানুষ জানতো যে অস্ট্রেলিয়ার রাজধানীর নাম সিডনি. আসলে কি তাই? গত এক দশকে এই ধারণা মোটামুটি পরিবর্তন হয়ে মানুষ জেনেছে অস্ট্রেলিয়ার রাজধানীর নাম ক্যানভেরা. এখনো এই ভুল হরমামেশাই করে যাচ্ছে মানুষ. বিশ্বাস না হলে আশেপাশের কিছু মানুষকে জিজ্ঞেস করে দেখতে পারে. প্রশ্ন করতে পারেন ম্যান্ডেলার নাম কেন? এই ফ্ললস মেমোরি সিন্ড্রোমকে ম্যান্ডেল এফেক্ট নামকরণ করেছেন প্যারানরমাল কনসালটেন্ট ফীয়না ব্রুম তার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে । দু হাজার দশ সালের এক আলোচনা সভায় উঠে আসে দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদ বিরোধী আন্দোলনের নেতা উনিশশো আশি সালে কারা জানে মারা যাওয়ার প্রসঙ্গ । অনেকেই সেদিন বলেছিল, টিভিতে এই নেতার শেষকৃত্যের আনুষ্ঠানিকতা দেখার অভিজ্ঞতার কথা. ম্যান্ডেলার স্ত্রীর হৃদয় নিন্দারও ভাষণের কথা উল্লেখ করেছিলেন কেউ কেউ. এমনক...

সারোগেসি কি ?

সারোগেসির মাধ্যমে সন্তান ধারণ করা নিয়ে এখনো বহু বিতর্ক আছে. শুধু আমাদের দেশে নয়, সারা বিশ্বেই এই পদ্ধতি নিয়ে তর্ক বিতর্কের শেষ নেই.  এটার আইনি প্রক্রিয়াও জটিল। কারণ এটি একেক রাষ্ট্রে. শারোগেসি আইন একেক রকম. নারী মা হবেন প্রাকৃতিক নিয়ম সমাজ এমনটাই দেখতে অভ্যস্ত. কিন্তু কোন কারণে মা হবার ক্ষমতা না থাকলে তাকে পরিবার ও আশপাশ থেকে যে পরিমাণ কটু কথা শুনতে হয় তা সাধারণ মানুষের ধারণারও বাইরে.   সরোগেসি বিষয়টি কি? চিকিৎসা শাস্ত্রের অগ্রগতি এমন মায়েদের সামনে এনেছে যারা গর্ভ ভাড়া দিয়ে নিজে বাঁচেন অন্যদের মাতৃ সুখ দেন । একজন নারীর গর্ভে অন্য দম্পতির সন্তান ধারণের পদ্ধতিকে সারোগেসি বলা হয়.সারোগেসির এই  পদ্ধতি বেশ দীর্ঘকালীন. আইভিএফ পদ্ধতিতে স্ত্রী ও পুরুষের ডিম্বাণু শুক্রাণু দেহের বাইরে নিষিক্ত করে তা নারীর গর্ভাশয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়. কিন্তু এখানেও জটিলতা. কেন? সে বিষয়ে পরে আসছি. বাংলাদেশ সহ বহু দেশই এই সারোগেসি একরকম ভাবে নিষিদ্ধ. সুতরাং বিষয় টি  সংবেদনশীল. এমনকি বেশিরভাগ ধর্মেও রয়েছে নিষেধাজ্ঞা. চলুন কথা বলি সারোগেসি মাদার সম্পর্কে। আইভিএফ বা টেস্ট টি...

রেট রেস কি ?

      আপনি ঠিক কখন ইঁদুর দৌড়ে যোগ দিয়েছেন এটা হিসাব করা কঠিন. কিন্তু নিশ্চিত থাকুন আপনি এই দৌড়ে আছেন. ক্লাস eight এ পড়ার সময়ের কথা মনে আছে? সামনে বৃত্তি পরীক্ষা পাটিগণিত বীজগণিতের অংক প্যাঁচ লাগাচ্ছে বিজ্ঞানের জটিল সব সূত্র ভোরে ওঠে প্রাইভেট টিউটরের বাসায় ছোটা রাত জেগে পড়াশোনা. বয়সের তুলনায় অনেক বেশি কর্ম ব্যস্ত একটা সময় নিশ্চয়ই কাটিয়েছেন তখন? আমরা সবাই কাটিয়েছি. সেই সময় নিশ্চয়ই অভিভাবক বলেছে এই তো আর কটা দিন. বৃত্তি পরীক্ষা শেষ হলেই জীবন শান্তি আর শান্তি. জীবনের নানা এপিসোডে আপনি এই কথাগুলো শুনেছেন অনেকবার অনেকের মুখে. এসএসসি পরীক্ষাটা দাও, কলেজে উঠলেই তো স্বাধীনতা. একবার ভার্সেটিতে উঠতে পারলেই জীবন হবে আনন্দে ভরপুর. একবার জব লাইফে ঢোকো. নিজের টাকায় আয়েশ করার মজাই অন্যরকম. শুনেছেন না এসব?  বয়স ঘড়ির ত্রিশের প্রান্তে দাঁড়িয়ে হিসেবগুলো মেলাতে পারেন কি? কি মনে হয়? এই এপিসোডগুলোর কোনোটা পার হবার সময় জীবন খানিকটা হলেও সহজ হয়েছে? সুন্দর হয়েছে? হয়নি, হবেও না, মিথ্যা একটা মরীচিকার আশায় আমরা ছুটেছি ঠিকই আমাদের ছোটানো হয়েছে, কিন্তু হিসাব মেলেনি ছুটত...

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কি ? আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কতটা ভযঙ্কর হতে পারে আগামী দিনের জন্য ?

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বহুল চর্চিত এবং ব্যবহৃত একটি শব্দ. মানুষের বুদ্ধিমত্তা ও চিন্তা শক্তিকে কম্পিউটার প্রোগ্রামিং এর মাধ্যমে মেশিন ল্যাঙ্গুয়েজে স্থাপন করা টেকনোলজিটাই হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স । এর মাধ্যমে কোন যন্ত্র নির্দিষ্ট প্রোগ্রামের আওতাধীন কিছু কাজ নিজে থেকেই করতে পারে নিজে নিজে সিদ্ধান্ত নিতে পারে।  টার্মিনেচার টাইপের কোনো সাইফাই সিনেমার গুরু বন্ধুর সংলাপ নয়।  A.I নিয়ে ভবিষ্যৎবাণী করেছিলেন পৃথিবীর সেরা বিজ্ঞানীদের একজন স্টিফেন হকিং আমার ভয় হয় তারা সত্যিই হয়তো একদিন মানুষকে হটিয়ে নিয়ন্ত্রকের আসনে বসে যাবে। বেঁচে থাকতেই BBC কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স তথা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে এভাবেই সবাইকে সতর্ক করেছিলেন তিনি। হকিংসের এই ভয় এখনো ভবিষ্যতের বিষয় হলেও অমূলক নয় মোটেও যন্ত্রকে বুদ্ধিমান করে তার আশীর্বাদ অনেক আছে। কিন্তু দীর্ঘ মেয়াদে সেই যন্ত্রই পৃথিবীর দখল নিতে চলেছে কিনা স্বয়ং সম্পূর্ণ হয়ে মানুষকেই বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে একদিন অপদার্থ তে পরিণত করবে কিনা সেই প্রশ্নটা উঠছে বারবার।  যুক্তরাষ্ট্রে...

রাশিয়ান হ্যাকাররা এত ভয়ঙ্কর কেন ?

  হ্যাকিং !  খুব ছোট্ট একটা শব্দ কিন্তু এই তাৎপর্য এবং গুরুত্ব দুটোই অপরিসীম. একজন মানুষের জীবন ধ্বংস করার ক্ষমতা তো হ্যাকারদের আছেই. গোটা একটা জাতির অপরিসীম ক্ষতি সাধনা করা সম্ভব. শুধুমাত্র এই হ্যাকিংএর মাধ্যমে. বাংলাদেশ ব্যাংকের টাকা চুরির ঘটনাটা কি উদাহরণ ধরতে পারেন. স্প্যাম মেল পাঠিয়ে সার্ভারের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সরকারি ছুটির সময়টাকে কাজে লাগানোর মাধ্যমে হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশের কিছু ব্যাংক একাউন্টে ট্রান্সফার করে নিয়েছিল এই হ্যাকাররা. এর মধ্যে কিছু টাকা ফিরিয়ে আনা গেছে সত্যি কিন্তু বেশিরভাগেরই কোন হদিস পাওয়া যায় নি.  সাউথ ইন্ডিয়ান সিনেমায় হ্যাকিং এর দৃশ্য দেখে আপনি যদি ভেবে থাকেন যে ভার্সিটি থেকে ড্রপ আউট হওয়া ক্র্যাক হেডেট কিছুর দরুন দিনরাত কম্পিউটারের সামনে বসে এসব করে ফেলছে তাহলে আপনি বোকার স্বর্গে বাস করছেন । হ্যাঁ এরকম হ্যাকার যে নেই তা নয় । ইন্ডিপেন্ডেন্ট হ্যাকার সংখ্যাও পৃথিবীতে কম নয় । কিন্তু দুনিয়া জুড়ে হ্যাকিংকে যারা শিল্পে পরিণত করেছে যারা হ্যাকার হিসেবে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে হয়ে উঠেছে মূর্তিমান আতঙ্কের নাম ...

কেনো বাংলাদেশীরা ইন্ডিয়াকে ঘৃনা করে?

একাত্তর সালের ডিসেম্বর মাস মুক্তিযুদ্ধ চলছে। ভারত তখনও সরাসরি অংশগ্রহণ করেনি মুক্তিযুদ্ধে। বাংলাদেশের পক্ষে কূটনৈতিক তৎপরতা চালাচ্ছে তাঁরা। প্রায় এক কোটি শরণার্থী আশ্রয় নিয়েছে ভারতে। মুজিবনগর সরকারের অস্থায়ী সদর দপ্তর স্থাপিত হয়েছে কোলকাতায়। মুক্তি যোদ্ধারা ভারতের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে ক্যাম্প করে সেখান থেকে আক্রমণ হানছে পাকিস্তানি সেনাদের উপর.  তেসরা ডিসেম্বর বিকেলে ভারতের তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল শ্যাম টেলিফোন করলেন ভারতের ইস্টার্ন আর্মির চিফ অফ স্টাফ, লেফটেন্যান্ট জেনারেল জ্যাক জ্যাকবের এর কাছে. মানিক সো জ্যাকব কে বললেন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীকে বলুন, পাকিস্তানি বিমান থেকে ভারতের পশ্চিমাঞ্চলের এয়ার ফিল্ড গুলোতে বোমা বর্ষণ করা হয়েছে. ইন্দিরা গান্ধী তড়িৎ সিদ্ধান্ত নিলেন. পাকিস্তানের বিপক্ষে যুদ্ধ ঘোষণা করল ভারত। ছয় ডিসেম্বর প্রথম রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশকে স্বাধীন দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দিল ইন্দিরা গান্ধীর সরকার। বাংলাদেশের বয়স পঞ্চাশ বছর পূর্ণ হয়েছে. ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের বয়সও হয়ে গেছে পঞ্চাশ বছর. কিন্তু গত পঞ্চাশ বছরে এদেশের অনেক মানুষের মধ্যে ভারত বির...