সারোগেসির মাধ্যমে সন্তান ধারণ করা নিয়ে এখনো বহু বিতর্ক আছে. শুধু আমাদের দেশে নয়, সারা বিশ্বেই এই পদ্ধতি নিয়ে তর্ক বিতর্কের শেষ নেই. এটার আইনি প্রক্রিয়াও জটিল। কারণ এটি একেক রাষ্ট্রে. শারোগেসি আইন একেক রকম.
নারী মা হবেন প্রাকৃতিক নিয়ম সমাজ এমনটাই দেখতে অভ্যস্ত. কিন্তু কোন কারণে মা হবার ক্ষমতা না থাকলে তাকে পরিবার ও আশপাশ থেকে যে পরিমাণ কটু কথা শুনতে হয় তা সাধারণ মানুষের ধারণারও বাইরে. সরোগেসি বিষয়টি কি? চিকিৎসা শাস্ত্রের অগ্রগতি এমন মায়েদের সামনে এনেছে যারা গর্ভ ভাড়া দিয়ে নিজে বাঁচেন অন্যদের মাতৃ সুখ দেন । একজন নারীর গর্ভে অন্য দম্পতির সন্তান ধারণের পদ্ধতিকে সারোগেসি বলা হয়.সারোগেসির এই পদ্ধতি বেশ দীর্ঘকালীন. আইভিএফ পদ্ধতিতে স্ত্রী ও পুরুষের ডিম্বাণু শুক্রাণু দেহের বাইরে নিষিক্ত করে তা নারীর গর্ভাশয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়. কিন্তু এখানেও জটিলতা. কেন? সে বিষয়ে পরে আসছি. বাংলাদেশ সহ বহু দেশই এই সারোগেসি একরকম ভাবে নিষিদ্ধ. সুতরাং বিষয় টি সংবেদনশীল. এমনকি বেশিরভাগ ধর্মেও রয়েছে নিষেধাজ্ঞা. চলুন কথা বলি সারোগেসি মাদার সম্পর্কে।
আইভিএফ বা টেস্ট টিউব চিকিৎসা পদ্ধতির সফল পদযাত্রা শুরু হয় উনিশশো আট সালে যুক্তরাজ্যে লুইস ব্রাউনের জন্মের মধ্য দিয়ে. এই বাচ্চাটির ক্ষেত্রে নিশিক্ত করা হয়েছিল একটি টেস্ট টিউবে. প্রকৃতপক্ষে ভ্রূণ টেস্টিউবে বেড়ে ওঠে না. বারে মায়ের জরায়ুতি আট দশটি বাচ্চার মতোই. আইভিএফ অথবা টেস্ট টিউব পদ্ধতিতে যে সকল দম্পতির স্বাভাবিক উপায়ে সন্তান হয় না তাদের শুক্রাণু ও ডিম্বাণুকে কৃত্রিম উপায়ে মিলিত করে শরীরের বাইরে ফার্টিলাইজ করে embryo বা ভ্রূণ তৈরি করা হয়. ভ্রূণ তৈরি হয়ে গেলে তা মাতৃগর্ভের প্রতিস্থাপন করা হয়. স্ত্রীর ডিম্বপাত বা অবলিউশনের সময় ডিম্বাণু যখন একদম পরিপক্ক হয় তখন তা ডিম্বাশয় থেকে বের করে আনা হয় লেপার্ডোস্কোপি নামের এক পদ্ধতির মাধ্যমে. যেসব নারীর ডেম্বু উৎপাদনের সমস্যা তাদের ক্ষেত্রে প্রথমে ডেম্বু উৎপাদনের সহায়তা করে এমন কিছু ওষুধ প্রয়োগ করা হয়. ল্যাপারোস্কোপি ছাড়াও যোনিপথের ছোট্ট একটি অপারেশনের মাধ্যমে ডিম্বাণু সংগ্রহ করা যায়. সংগ্রহের পর ডিম্বো রাখা হয় টেস্ট টিউবে. এদিকে স্বামীর শুক্রাণু সংগ্রহ করে প্রক্রিয়াজাত করা হয়. পরে ডিম্বাণু সহ সেই টিউবে শুক্রাণু রাখা হয়। এ সময় একটি ডিম্বাণুর বিপরীতে প্রায় পঁচাত্তর হাজার শুক্রাণু থাকে. এরপর টিউবটি কয়েক ঘণ্টা রাখা হয় ইন কিউবিটারে. ইন কিউবিটারের পরিবেশ রাখা হয় জরায়ুর অনুরূপ. এখানে উপযুক্ত শুক্রাণু আর ডিম্বাণু নিষেকের ফলে মানব ভ্রূণের সৃষ্টি হয়। তারপর বিশেষ নলের সাহায্যে স্ত্রীর জরায়ুতে রাখা হয় ভ্রূণটি. অনেক ক্ষেত্রে ভ্রূণ কোষ টি জরায়ুতে প্রতিস্থাপনের আগে বিশেষ প্রক্রিয়ায় হিমায়িত করে রাখা হয় কিছুদিন. সব ভ্রূণ অবশ্য কাজে লাগানো হয় না | গর্ভধারণ নিশ্চিত করতে এদের গুণগত মান পরীক্ষা করে স্কোরিং করা হয়.
ভ্রূণে কোষের সংখ্যা যথাযথ বৃদ্ধি ও বংশ বৃদ্ধির গতির উপর ভিত্তি করে উপযুক্ত ভ্রুণ বাছাই করা হয়. ভ্রূণ প্রতিস্থাপনার ক্ষেত্রে যদি মায়ের ইউটেরাস সন্তান ধারণে অপারক হয় তবেই সারোগেট মায়ের প্রয়োজন হয়. অর্থাৎ আসল মায়ের পরিবর্তে অন্য নারীর গল্প ভাড়া করে ভ্রূণটি স্থাপন করা হয় এবং সন্তান জন্ম হলে বাচ্চা আসল মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেয় এই পদ্ধতিকেই বলা হয় পদ্ধতি সারোগেসি মেথড। অনেক চেষ্টার পরেও যখন সন্তান লাভের আর কোনো পথ থাকে না তখন সারোগেসি হয় অন্যতম উপায়. তবে এর পেছনে অনেকগুলো কারণ থাকতে পারে. যেমন নারীর ইউটিউরেস বা জরায়ু কোনো কারণে না থেকে থাকলে বা জরায়ু সন্তান ধারণের অপারক হলে অর্থাৎ কোন অপারেশনের কারণে আংশিক জরায়ু বাদ পড়লে। জরায়ু খুব বাজে ভাবে ড্যামেজ থাকলে এবং মেডিসিন ও অপারেশন করেও যখন কোনভাবেই জরায়ু ভ্রূণ প্রতিস্থাপন করা যায় না । জরায়ুর আকৃতির তারতম্যের কারণে অনেক সময় বারবার গর্ভপাত হয়। এক্ষেত্রে ডাক্তার পরামর্শ দেন. জীবনের ঝুঁকি না নিয়ে সারোগেসি পদ্ধতি বেছে নিতে. কিডনি ড্যামেজ, হার্ট ব্লক, ক্যান্সারের মতো বড় রোগ কোন নারীর দেহে থাকলে সে স্বেচ্ছায় অন্য কারোর গর্ভ ভাড়া নিতে পারে. মূলত সারোগেসি পদ্ধতিটিতে সন্তান জন্ম দেওয়ার জন্য প্রয়োজন পরে একটি সুস্থ সবল জরায়ু. biological সন্তানের চাহিদা এবং সন্তান ধারণ করার অপারগতার কারণ থেকে সারোগেসি পদ্ধতির ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা দেখা যায়. জরায়ু সমস্যার কারণে যে শুধু সরোগেসি পদ্ধতি বেছে নেওয়া হয় তা কিন্তু নয়.
নারীর জ্বরে সমস্যার সাথে সাথে যদি ডিম্বাণুতেও সমস্যা থেকে থাকে তাহলেও সারোগেট মায়ের প্রয়োজন দেখা দিতে পারে. প্রত্যেক নারী তার ডিম্বাশয় নির্দিষ্ট সংখ্যক ডিম্বাণু নিয়ে জন্মগ্রহণ করে. প্রত্যেক মাসে যখন একজন নারীর পিরিয়ড শুরু হয় তখন ডিম পরিপক্ক হয় এবং সেটি যদি কোনোভাবে শুক্রাণুর সংস্পর্শে আসতে পারে তাহলেই ভ্রূণ তৈরি হয় এবং একজন নারী গর্ভবতী হয়. কিন্তু এই যে একটি ডিম বড় হচ্ছে তার সাথে সাথে আরো শত শত ডিম নষ্ট হচ্ছে. স্বাভাবিকভাবে একজন নারীর বয়স যখন পঁয়তাল্লিশ থেকে পঞ্চাশ বছর হয়ে যায় তখন রাতারাতি এইসব ব্যাগ নষ্ট হয়ে যায় এবং সে সন্তান ধারণ করতে পারে না. এ সময় নারী মেনু পজ যায় চলে যায়. অর্থাৎ তার পিরিওড বন্ধ হয়ে যায়. .
দুঃখজনক ভাবে কোন কোন নারীর খুব কম বয়সী অর্থাৎ পঁচিশ থেকে পঁয়ত্রিশ বছর বয়সেই ডিম্বাণুর সংখ্যা কমে যায় এবং সে মেনু পজে চলে যায়. অর্থাৎ ডিম্বাশয় যে সম্ভাব্য ম্যাচিওর ডিম থাকে তা নষ্ট হয়ে যেতে থাকে. একে বলে পোর ওভারিয়েন রিভার্স. এক্ষেত্রে নারীর probable fertilize ডিম ঠিকমতো পাওয়া যায় না এবং কিছু ক্ষেত্রে ডিম্বাণুগুলো সন্তান তৈরীর জন্য পর্যাপ্ত উপযোগী হয় না শরীরে ডিম্বাণু না থাকলে বা ডিম্বাণুজনিত কোনো শারীরিক সমস্যা থাকলে সারগেট মাদারের কাছ থেকেও দম্পতি ডিম্বাণু ধার নিতে পারে।
সারোগেসি দুই রকমের হয়. পার্শিয়াল সারোগেসি অনেকদিন থেকে এটি চলছে. সন্তান ধারণে এখানে কোন ভূমিকাই পালন করেন না মা. বাবার শুক্রাণু আর সারোগেট মায়ের ডিম্বাণু থেকে শিশুর জন্ম হয়. ক্রু সারোগেসি যে স্টেশনাল আইভিএফসি হচ্ছে মা এর ডিম্বাণু নিয়ে ল্যাবের ভ্রূণ তৈরি করা. এরপর সারাগেট মায়ের জরায়ুতে প্রতিস্থাপন করা হয় এই ভ্রূণটি. এটিই এখন প্রচলিত পদ্ধতি. নিঃসন্তান দম্পতিদের মা-বাবা হওয়ার লক্ষ্যে অনেকদিন ধরেই গবেষণা করে আসছেন গবেষকরা. টেস্টটিউব বেবি পদ্ধতিটির পর আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের তেমনি এক নতুন চমক এই সারোগেসি পদ্ধতি কোনো দম্পতি যখন নিজেরা সন্তানের জন্ম দিতে ব্যর্থ ।তারা এই সারোগেসি পদ্ধতিটির সাহায্যে নিজেদের সন্তান জন্ম দিতে পারেন।
পার্শিয়াল সারোগেসিতে স্বামীর শুক্রাণু কৃত্রিম উপায়ে সারোগেট মাদার বা মাতৃভূমিকা পালিকা নারীর গর্ভে স্থাপন করা হয়. সন্তানের জন্ম হলে নিঃসন্তান দম্পতি সন্তানটি লাভ করে. কিন্তু এক্ষেত্রে সন্তানটির সঙ্গে মাতৃভূমিকা পালিতা নারীর একটি জৈবিক যুগ থেকে যাচ্ছে কারণ ডিম্বাণু তার হবার কারণে সন্তানটিও তারই সন্তান. এক্ষেত্রে নিজের সন্তান পরিত্যাগ করার সময় একটি প্রবল মানসিক চাপের মধ্য দিয়ে সারোগেট মাদারকে যেতে হয়. ফলে অনেক বেশি এইভাবে সন্তান লাভ আইন সঙ্গত নয় ।সুইডেন ফ্রান্স, স্পেন ইত্যাদি সহ ইউরোপের বহু দেশে সারোগেট মাদার নিষিদ্ধ. এই পদ্ধতি সন্তানহীন দম্পতিকে অপর সন্তান লাভের সুযোগ দিচ্ছে ঠিকই কিন্তু পরিবর্তে অন্য একটি নারীর শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর যে প্রভাব ফেলছে তা মোটেই উপেক্ষনীয় নয়. যেই নারী সারোগেট মায়ের দায়িত্ব নিচ্ছেন তার গর্ভাবস্থায় প্রসবকালে এবং সন্তানকে হস্তান্তর করার সময় নিজের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য এতে বিপন্ন হচ্ছে.
অপরদিকে IVF এ মায়ের ডিম্বাণুর স্পার্ম ব্যাঙ্ক থেকে আনা হয় অন্য পুরুষের শুক্রাণুর সঙ্গে অথবা বাবার শুক্রাণু ডোনার মহিলার ডিম্বাণু দেহের বাইরেও নিষিক্ত করে ভাড়া দেওয়া মহিলার গর্ভে প্রতিস্থাপন করা হয়। যেহেতু গর্ভ ভাড়া দেওয়া মহিলার ডিম্বাণু ব্যবহার করা হয়নি সেহেতু ভবিষ্য সন্তানের ওপর সেই মহিলার কোনো অধিকার বর্তায় না। ফলে মা বাবার শুক্রাণু এবং ডিম্বাণু নিষিক্ত করে যে ভ্রূণ তৈরি করা হয় তার পিতৃত্ব বা মাতৃত্ব নিয়ে কোনো সংশয় থাকে না। তবে IVF পদ্ধতিতে শুক্রাণু ও ডিম্বাণু নিষিক্ত করাকে টেস্টিটিউব বেবি মনে করা যাবে না. কারণ টেস্টিটিউব বেবি ভ্রূণ অবস্থায় মাতৃগর্ভেই বেড়ে ওঠে. কিন্তু এই ক্ষেত্রেও গর্ভধারণের ফলে সারগেট মাদারের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের উপর যথেষ্ট প্রভাব পড়তে পারে. বাণিজ্যিক সারোগেসি তে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থের বিনিময়ে একজন মা তার নিজের গর্ভে অন্য একজনের সন্তান ধারণ করেন. এক্ষেত্রে সারগেট মাদার পান অর্থ এবং ইন্টেন্ডেড প্যারেন্টস পান সন্তান. দু হাজার পাঁচ থেকে দু হাজার পনেরো সাল পর্যন্ত ভারত ছিল কমার্শিয়াল সারোগেসির হটস্পট. সারোগেসি আইন দুহাজার ষোলো পাস হবার পর বাণিজ্যিক সারগিসি সেখানেও নিষিদ্ধ হয়ে গেছে. শুধু তাই নয় দু হাজার ষোলো সালে বাণিজ্যিক সারোগেসি নিষিদ্ধ করতে সারোগেসি নিয়ন্ত্রণ আইন দুহাজার ষোলো নামে সংসদে একটি বিল আনা হয়. তাতে গর্ভ ভাড়া করার এই প্রক্রিয়াকে অনৈতিক হিসেবে চিহ্নিত করা হয় এবং বলা হয় আইন না থাকায় গরীব ও অশিক্ষিত মহিলাদের দুর্বলতার সুযোগ নিচ্ছে ধনবানরা. অর্থাৎ সারোগীসি ক্লিনিকগুলো ধনীদের জন্য নিছক বেবি ফ্যাক্টরি হয়ে দাঁড়িয়েছে.
তবে এখনো আইভিএফ সারোগেসি চালু আছে । প্রস্তাবিত বিল অনুযায়ী আন্তরিক চেষ্টা সত্ত্বেও সন্তান জন্ম দিতে অক্ষম ভারতীয় দম্পতিদের ক্ষেত্রে সারোগেসি বৈধ. তবে তাদের সন্তান উৎপাদনের অক্ষমতার মেডিক্যাল সার্টিফিকেট দাখিল করতে হবে. এক্ষেত্রে স্ত্রীর বয়স তেইশ থেকে পঞ্চাশের মধ্যে ও স্বামীর বয়স ছাব্বিশ থেকে পঞ্চান্ন বছরের মধ্যে হতে হবে। এবং সার্ভিসে করতে চান এমন দম্পতির বিবাহ পাঁচ বছরের বেশি হতে হবে. কোনো দম্পতির যদি একটি সন্তান থাকে তাহলে দ্বিতীয় সন্তানের জন্য অন্য নারীর গর্ভ ব্যবহার করা যাবে না. প্রস্তাবিত বিলে সমকামী দম্পতি লিভিং পার্টনারশিপ সিঙ্গেল পুরুষ বা সিঙ্গেল মহিলাদের জন্য সরোগেসি অবৈধ বলে গণ্য করা হয়েছে. তাছাড়া যার গর্ভ ব্যবহার করা হবে তাকে যে দম্পতি সন্তান চান তাদের আত্মীয় হতে হবে. এমনকি গর্ভ ব্যবহার করার জন্য সেই নারীকে চিকিৎসার খরচপাতি ছাড়া আর অন্য কোন টাকা পয়সা দেওয়া যাবে না. কোনো নারী যদি একবার সারোগেট মা হয়ে থাকেন তাহলে দ্বিতীয়বার তিনি তা হতে পারবেন না. গোপনে হলেও বাংলাদেশের গর্ভ ভাড়া নিয়ে সন্তানের বাবা মা হওয়ার ঘটনা ঘটেছে. এখানে বিষয়টি আইনগত বৈধ না হওয়ায় কেউ তা প্রকাশ করছেন না. আবার কেউ কেউ ঝামেলা এড়াতে বিদেশে বিশেষ করে ভারতে গিয়ে গর্ভ ভাড়া নিচ্ছেন. ফিরছেন সন্তান নিয়ে. ভারতের চেন্নাই সহ আরো কয়েকটি শহরে গিয়ে গর্ভ ভাড়া নিয়ে সন্তানের পিতা মাতা হয়েছেন বাংলাদেশের অনেক দম্পতি. তবে তারাও বিষয়টি সামাজিক কারণে গোপন রাখেন.
সারোগেট মায়েদের কোথাও পুরো নয় মাসই কাটাতে হয় বন্দীর মতো. হাসপাতালের ঘরে কখনো কখনো তারা অবশ্য নিজের বাড়িতেও থাকতে পারেন. কোথাও তারা সদ্যোজাত সন্তানটিকে দেখতে পান, আদর করতে পারেন. এমনকি প্রথম দু-তিনটে সপ্তাহ বুকের দুধও খাওয়াতে পারেন. কোথাও আবার সন্তানকে দেখার অধিকারটুকুও তাদের নেই. তাহলে বাণিজ্যিক আরো বেশি বন্ধ করলে কি সারোগেট মায়েদের কোনো উপকার হবে? ভারতের বাণিজ্যিক সরোগেসি যিনি শুরু করেছিলেন আনুন শহরের সেই ডাক্তার নায়না প্যাটেল বলেন, নিষিদ্ধ করা হলে এটা আন্ডারগ্রাউন্ডে অর্থাৎ গোপনে চলতে পারে. তাছাড়া হবু সারোগেট মা যে সন্তানহীন দম্পতির আত্মীয় তারই বা কি গ্যারান্টি থাকবে? ভারতে তো জাল সার্টিফিকেট করাটা কোনো ব্যাপারই না. তাই আমি কিভাবে বুঝবো? যে যাকে সারগেট মা হওয়ার জন্য আমার কাছে নিয়ে আসা হয়েছে. তিনি সত্যিই আত্মীয়া এবং ইচ্ছুক গৃহকর্মী অথবা অন্য কেউ নন. ডঃ নায়না প্যাটেল বরং বাণিজ্যিক সারোগেসি বন্ধ না করে এই প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করার সুপারিশ করেন. তার কথাই আমার মনে হয় এক্ষেত্রে জাতীয় পর্যায়ে রেজিস্ট্রেশনের ব্যবস্থা থাকা উচিত. রেজিস্ট্রেশন থাকলে যখনই আমার কাছে কোনো সারোগেট মা আসবে সারা দেশ তখনই জেনে যাবে আমার ক্লিনিকে একজন সারোগেট মা এসেছেন.
সারোগেট আসার পর থেকে যা হবে তার সমস্ত তথ্য প্রমাণ কেন্দ্রের কাছে পাঠানো হবে. আর স্টেশনে যদি ফিঙ্গারপ্রিন্টের মত কোন ব্যবস্থা থাকে তাহলে চিহ্নিতকরণও সহজ হবে. জাতীয় পর্যায়ে না হলেও রাজ্যেও এটা হতে পারে. সেক্ষেত্রে রাজ্যের কাছে সব তথ্য থাকবে. আর রাজ্য সেগুলো কেন্দ্রকে জানাবে. তার মতে নিষিদ্ধ করলে সারোগেসি হয়তো গোপনে চলবে. কিন্তু যদি নিয়ম করে দেওয়া হয়. গল্প ভাড়া দিচ্ছেন তাদের সঙ্গে কোনো অন্যায় করা হলে তারা অভিযোগ করতে পারবেন এজন্য অভিযোগ কেন্দ্রও খোলা যেতে পারে রইটার্সের খবরে জানানো হয় গত বছর থাইল্যান্ডে বেশ কয়েকটি সরোগেসির কেলেঙ্কারির ঘটনা ঘটেছে. অস্ট্রেলিয়ার এক দম্পতি থাইল্যান্ডে এক নারীর গর্ভ ভাড়া নেন . ওই গর্ভ থেকে দুটো যমজ মেয়ে শিশুর জন্ম নেয়. কিন্তু দম্পতি শিশু দুটির একটি ডাউন সিন্ড্রমে আক্রান্ত হওয়ায় তাকে না নিয়ে সুস্থ শিশুটিকে নিয়ে দেশে ফিরে যায়। এ ছাড়া এক জাপানী পুরুষ, থাইল্যান্ডে গর্ভভারানিয় অন্তত ষোলটি শিশুর বাবা হন. এ কারণে স্থানীয় পত্রিকাগুলো সারোগেসি কে শিশুর জন্ম দেওয়ার কারখানা হিসেবে অভিহিত করেন।
সারোগেসি কি হারাম ?
বেশিরভাগ ইসলামী স্কলারের মতে এই জাতীয় সড়কের মাতৃত্বের অনুমতি নেই. কারণ এটি ব্যভিচারের সমতুল্য. যেহেতু সারোগেট তাঁর বৈধ স্বামী নয়. এমন ব্যক্তি নিষিক্ত ডিম বহন করে. যে সন্তানের জন্ম হয় বৈধ বিবাহের মাধ্যমে তার কোনো বংশগত সম্পর্ক নেই. এই কারণে সন্তানটি অবৈধ বলে গণ্য হবে. যেহেতু সন্তানটি অবৈধ, সেহেতু এই পদ্ধতি অর্থাৎ সারোগেসিকে হারাম বলা হয়েছে. সুতরাং ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে এটাকে দেখার কোনো সুযোগই নেই. আপনারা জানাতে পারেন কমেন্ট বক্সে আপনাদের গঠনমূলক মন্তব্য. আজকের মতো এখানেই বিদায় নিচ্ছি.
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন