সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

প্রযুক্তি দুনিয়াতে পর্দার আড়ালে থেকে যাওয়া এক প্রতিভাবান এর গল্প ।

পর্দার আড়ালে একা খেলে যাচ্ছেন একজন. কামাচ্ছেন বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার. অথচ তাকে চেনে খুব কম সংখ্যক মানুষ. আইটি জগতে ইলন মাস্ক, জেফ বোজোস বা বিট গ্রেটসের সাথে তার নামও সমান তালে চলার কথা ছিল. কিন্তু বিহাইন্ড দা সিনে একা গোল করে যাচ্ছেন তিনি. নাম ড্রোন ইয়াং পিং ড্রোন ইয়াং পিং নামটি মোবাইল ফোনের জগতে খুবই কম মানুষের শোনা. তবে তার নাম অজানা থাকলেও তার কোম্পানি বিবিকে ফোন গিগদের মধ্যে বেশ পরিচিত. ওয়ান প্লাস, রিয়েলমি, অপো, ভিভো এবং আইকিউ. এই পাঁচটি জনপ্রিয় মোবাইল ব্র্যান্ডের একক মালিক ডোন ইয়াং পিন. 


এই ব্র্যান্ড গুলো তার কোম্পানিতে পরিণত করেছে বর্তমানের সবচেয়ে বড় মোবাইল ফোন উৎপাদনকারী কোম্পানিতে. অ্যাপেল , শাওমি বা স্যামসাং যারা মোবাইল ফোনের জগতে বর্তমানে সবচেয়ে বড় ব্র্যান্ড তাদেরকেও পেছনে ফেলে এগিয়ে গিয়েছে বিবিকে কোম্পানি। কিন্তু এত সফলতার সত্ত্বেও বেশিরভাগ মোবাইল ফোন ব্যবহারকারী এমনকি ফোন গিগরাও তার সম্পর্কে বলতে গেলে তেমন কিছুই জানে না. এলেন মাস্ক, স্টিভ জবস বা জ্যাকমা, যারা কিনা টেকনোলজির জগতে খুবই পরিচিত তাদের সম্পর্কে অনলাইনে  অগণিত তথ্য রয়েছে। কিন্তু ডন ইয়ং পিং এর ক্ষেত্রে বিষয়টা একেবারে ভিন্ন. তিনি অ্যাপেলের সবচেয়ে বড় শেয়ার হোল্ডারদেরও একজন. যা কিছু তথ্য তার সম্পর্কে এখনো পর্যন্ত জানা গেছে তার বেশিরভাগই এসেছে তার দেওয়া গুটিকয়েক সাক্ষাৎকার থেকে এবং এগুলোর বেশিরভাগই চাইনিজ ভাষায় দেওয়া সাক্ষাৎকার. আবার এসব সাক্ষাৎকারের বেশিরভাগই প্রায় এক যুগ পুরোনো এবং তার নিজস্ব ব্লগেও তার নিজস্ব সম্পর্কে তেমন কোনো তথ্যই নেই. এসব কারণে টেকনোলজির জগতে তিনি বলতে গেলে রহস্যে ঘেরা একজন মানুষ.


মিস্টার ডোয়ান উনিশশো আশির দশকে জুসাইন ইউনিভার্সিটি থেকে রেডিও প্রযুক্তিতে ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করেন. তারপর তিনি বেইজিং এর রেনমিন ইউনিভার্সিটিতে ইকোনমিক্স নিয়ে পড়াশোনা করেন. ইউনিভার্সিটি থেকে বের হওয়ার পর পরই তিনি দক্ষিণ চীনের জংশন নামক শহরে একটি ছোট্ট ইলেকট্রনিক কোম্পানিতে চাকরি নেন. যে কোম্পানি তখন প্রায় দেউলিয়া হয়ে যাওয়ার অবস্থায় ছিল. চাকরিতে প্রবেশের সাথে সাথেই তিনি বলতে গেলে একটা অলৈকিক অর্থনৈতিক ঘটনা ঘটান. ইলেকট্রনিক জগতে কাজ করা অন্য অনেকের মতোই তিনি তার ক্যারিয়ার শুরু করেন সানজাই হিসেবে. এই কাজটি হচ্ছে মূলত অন্য ইলেকট্রিক যন্ত্রের কপি এবং রিপ্লিকা তৈরি করা. সেই সময় নিনটেন্ডো গেমিং টেকনোলজির জগতে ঝড় তুলেছে। কিন্তু চীনের কোথাও তখন নীল্টেন্ডও কিনতে পাওয়া যেত না। মিস্টার ঢোয়ান তখন চিপ তৈরিকারী কোম্পানি মিডিয়াটেকের সাথে যুক্ত হয়ে চীনের বাজারের জন্য নীল্টেন্ডও এর ক্লোন বা কপি তৈরি করেন।


মিডিয়টেক যা তখন সানজাই কিং নামে পরিচিত ছিল তারা নিনটেন্ডোর চিপটি নিয়ে রিভার্স ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে নিজস্ব চিপ তৈরি করে এবং মিস্টার দুয়ানের সাথে মিলিত হয়ে গড়ে তোলে শাওবা ওয়াং গেমিং কনসোল. এই গেমিং কনসোল সারাদেশে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে এবং বলতে গেলে রাতারাতি সাফল্য লাভ করে. মিস্টার ড্রোয়ান মূলত এই গেমিং কনসালটিকে নিজস্বতা প্রদান করার মাধ্যমে আরও সামনে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন. গেমিং কনসাল্টটি তৈরির পরপরই তিনি এতে যুক্ত করেন একটি কিবোর্ড এবং একটি সফটওয়্যার ডিকশেনারি. সাথে বুদ্ধি প্রয়োগ করে এই পুরো যন্ত্রটিকে তিনি বলেন একটি লার্নিং মেশিন. এতে করে বাচ্চাদের সাথে সাথে অভিভাবকদের মধ্যেও কনসোলটি জনপ্রিয়তা লাভ করে এবং বাচ্চারাও তাদের অভিভাবকদের এটা বোঝানোর সুযোগ পায় যে পড়াশোনা এবং স্কুলের প্রয়োজনে এই মেশিনটি তাদের দরকার। তারা এই লার্নিং মেশিনের প্রচার ঘটানোর জন্য তখনকার চিনে বিখ্যাত এক বিজ্ঞাপন তৈরি করে। যেখানে অভিনয় করেন জনপ্রিয় অভিনেতা জ্যাকি চ্যাং এবং বিজ্ঞাপনটি পুরো দেশে সাড়া ফেলে দেয়. এই বিজ্ঞাপনে একটি স্লোগান ব্যবহার করা হয় যা বাংলা অনুবাদ করলে দাঁড়ায়. আপনার সন্তানকে ড্রাগন হিসেবে বেড়ে ওঠার জন্য অনুপ্রাণিত করছি. চিনে ড্রাগন হিসেবে বেড়ে ওঠার অর্থ হচ্ছে পড়াশোনার মাধ্যমে সফলতা অর্জন যে কারণে বিজ্ঞাপনটি খুবই জনপ্রিয় হয়ে ওঠে এবং বিশাল সফলতা অর্জন করে. সফলতার জন্য তিনি দশটি ধাপ বিশিষ্ট একটি প্রক্রিয়ার বিকাশ ঘটান. প্রথমত আপনাকে একটি ভালো পণ্য তৈরি করতে হবে। পণ্যটি একেবারে স্বতন্ত্র হতে হবে এমন কোন কথা নেই.

 তবে তা ভালো মানের হতে হবে এবং এমন কিছু হতে হবে যার চাহিদা থাকবে বেশিরভাগ মানুষের কাছে বা অনেক বেশি সংখ্যক মানুষ তা কিনতে চাইবে. এরপর দ্বিতীয় ধাপ থেকে নবম ধাপ পর্যন্ত শুধুই মার্কেটিং, মার্কেটিং এবং মার্কেটিং. কারণ যে বাজারে প্রতিযোগিতা বেশি সে বাজারে পণ্যের দিকে ভোক্তার দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য মার্কেটিং খুবই গুরুত্বপূর্ণ. তারপর দশম ধাপটি হচ্ছে কর্মচারীদের প্রতি সততা এবং তাদের প্রতি উদার মনোভাব প্রদর্শন.  এক সময় মিস্টার দুয়ান চাকরি ছেড়ে দেন এবং তিনি নিজের কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেন যার নাম দেন বিবিকে. আগের কোম্পানিটি থেকে তিনি তার সাথে মাত্র ছয় জন কর্মচারী নিয়ে আসেন. কিন্তু অত্যন্ত সকলের সাথে অতন্ত্য সুব্যবহারের ফলাফল হিসেবে সকল ডিস্ট্রিবিউটার এবং সাপ্লাইআরা  তাকে অনুসরণ করে এবং দ্রুত তার ব্যবসা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তাকে সাহায্য করে. প্রথম পণ্য হিসেবে তারা ভিসিডি প্লেয়ার উৎপাদন শুরু করে এবং পরবর্তী ধাপ হিসাবে শুরু করে এর মার্কেটিং. বিজ্ঞাপনের জন্য বিবিকে কোম্পানি একবার জেটলির সাথে চুক্তি করে. যে কিনা তখন চীনের একেবারে প্রথম সারির অভিনেতা ছিলেন. এমনকি মিস্টার ডোয়ান ক্যারিয়ারের শীর্ষে থাকাকালীন সময় আর্নার সোঅ্যারস সাথেও বিজ্ঞাপনের জন্য চুক্তি করেন. যদিও বিভিন্ন কারণবশত সেই বিজ্ঞাপন প্রচার করা সম্ভব হয়নি. বিবিকের একদম অত্যাধিক মার্কেটিংয়ের জন্য পরবর্তীতে অনেকে একে ব্রেন ওয়াশিং ফ্যাক্টরিও বলেছেন. মিস্টার দোয়ান এবং তার কোম্পানি বিবিকে ব্যাপক সফলতা অর্জন দিয়ে চীনের বিসিডি এবং ডিভিডি মার্কেটে কর্তৃত্ব স্থাপন করতে সমর্থ হয়. এরপর তারা আবারও learning machine এবং সেই সাথে মোবাইল ফোন উৎপাদন শুরু করে।  এ সময় মিশ্র দোয়ান সিদ্ধান্ত নেন যে এই পণ্যগুলোর জন্য আলাদা আলাদা ব্র্যান্ড তৈরি করাটা লাভজনক হবে.


লার্নিং মেশিন বিবিকে ব্র্যান্ডের আওতাভুক্ত থাকে. অপো হয়ে ওঠে অডিও ভিজুয়াল প্রোডাক্ট. যেমন ভিসিডি ডিভিডির জন্য একটি নতুন ব্র্যান্ড. এবং ভিভো ব্র্যান্ডটি তৈরি হয় কোম্পানির মোবাইল ফোন ব্যবসার জন্য. তিনটি ব্র্যান্ডের জন্য তিনটি আলাদা সিইও নির্বাচিত করা হয় এবং এই তিনজনকেই কোম্পানির শুরুর ছয় জন মূল কর্মচারীর মধ্য থেকে বাছাই করা হয়. মিস্টার দোয়ানে তিনটি ব্র্যান্ডের দায়িত্ব ও তার বিশ্বাসী তিনজন সহযোগীর উপর দিয়ে মাত্র উনচল্লিশ বছর বয়সে ইলেকট্রনিক পণ্যের ব্যবসা থেকে অবসর নেন। এরপর তিনি ক্যালিফোর্নিইয়াতে চলে যান জীবনের বাকিটা সময় নিভৃতে পার করার জন্য. শুরুতে মিস্টার দোয়ানের প্রতিষ্ঠিত এই তিনটি ব্র্যান্ডের মধ্যে পরিষ্কার পার্থক্য ছিল যেহেতু তারা ভিন্ন ভিন্ন পণ্য উৎপাদন করতো.

 কিন্তু সময়ের সাথে সাথে এই পার্থক্য কমে আসে. প্রথমে লার্নিং মেশিনের চাহিদা কমে যাওয়ার সাথে সাথে বিবিকে ব্র্যান্ড ধীরে ধীরে হারিয়ে যায়. এরপর ভিসিডি এবং ডিভিডিরও চাহিদা কমে আসায় অপো কোম্পানিটি আরেকটি ভাগ খুলে যায়. সেই সময় জনপ্রিয় হয়ে ওঠা এমপি থ্রি প্লেয়ার তৈরি করা শুরু করে. কিন্তু এরপর অডিও প্লেয়ারও যখন মোবাইল ফোন দ্বারা প্রতিস্থাপিত হয় তখন অপো মোবাইল ফোন উৎপাদন শুরু করে. যার ফলে বিবিকে কোম্পানিরই দুটি মোবাইল ফোন উৎপাদনকারী ব্র্যান্ড অর্থাৎ অপো এবং ভিভো একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বীতে পরিণত হয়. বিবিকের মতো এই দুটি ব্র্যান্ড ও মার্কেটিং এর বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ করে এবং বিজ্ঞাপনের জন্য সেলিব্রিটিদের স্পনসর করে. উদাহরণস্বরূপ চীনে অপো স্মার্টফোনের সর্ব প্রথম বিজ্ঞাপনটিতেই প্রোমোটার হিসেবে দেখা যায় বিশ্বখ্যাত অভিনেতা লিওনাডু ডি ক্যাপিও কে. এখনো প্রতিটি অপূর্বা ভিভো মোবাইল ফোন লঞ্চ অনুষ্ঠানে দেখা যায় কোনো ভারতীয় ক্রিকেট খেলোয়াড় বা কোনো পপস্টার উপস্থিত থাকেন। পণ্য উৎপাদনের ক্ষেত্রেও তারা নিশ্চয়ই ডুয়ানের মতাদর্শ অনুসরণ করে।  


 শাওমি এবং স্যামসাং এর মতো অনেক ধরনের পণ্য উৎপাদনের পরিবর্তে অপো এবং ভিভো মূলত মোবাইল ফোন এবং গুটিকয়েক পণ্য উৎপাদনে মনোযোগ দেয় এবং বেশি ভাগ সময় তাদের প্রতিযোগীদের মতো ব্যবসায়িক ঝুঁকি নিয়ে বিভিন্ন নিত্য নতুন ধরনের মডেল তৈরি করে না। টেকনোলজি প্রেমীদের জন্য এধরণের পদ্ধতি কিছুটা হতাশা ব্যঞ্জক হলেও একে প্রযুক্তি বিমুখতা ভাবার কোনো কারণ নেই। এটাই তাদের ব্যবসায় কৌশল যা মূলত মিস্টার দোয়ানের একটি উক্তিরই আত্মপ্রকাশ। সর্বশেষে আসার সাহস করো এবং সেখান থেকে কর্তৃত্ব নাও   । আপাত দৃষ্টিতে এই ধরনের কৌশল বোরিং বা একঘেয়ে মনে হলেও এর ফলে মিস্টার দোয়ানের কোম্পানি কখনোই এমন পণ্য বাজারে ছাড়ে না যা অপমান জনক ব্যর্থতার সম্মুখীন হবে। তিনি এরই মাঝে শুরু করেন ওয়ান প্লাস মোবাইলের বাজার। রিয়েলমিও অফ কোর সিস্টার কনসাল্ট হিসেবে যাত্রা শুরু করে। ওয়ান প্লাস বাজারে এসেই মোবাইল গিগদের তাক লাগিয়ে দেয়। এখনো পর্যন্ত অ্যান্ড্রয়েড জগতের অন্যতম সেরা প্রিমিয়াম কোয়ালিটির মোবাইল উৎপাদন করে যাচ্ছে এরা। অপো ভিভো রিয়েলমি বা ওয়ান প্লাস মার্কেটিং এ কেউই কিন্তু পিছিয়ে নেই. অনেকটা নিজ ভাইবোনের মাঝে কে বেশি জনপ্রিয়তা লাভ করতে পারে সেই দৌড়ে আছে তারা. মিস্টার ডুয়ান রয়ে যান পর্দার পেছনেই তাকে নিয়ে লেখা বা ভিডিও পাওয়াও যথেষ্ট দুষ্কর কাজ. দর্শক আজ এই পর্যন্তই. কেমন লাগলো  তা কমেন্ট বক্সে জানাতে ভুলবেন না.   




 

মন্তব্যসমূহ

Blog Posts

ন্যানো টেকনোলজি কিভাবে কাজ করে ?

  যদি বলি আপনার চোখ দেখতে পারে না এমন গভীর ও প্রায় অনাবিষ্কৃত একটা পৃথিবী আছে. হয়তো বলতে পারেন যে মহাবিশ্বে কত গ্রহই তো আছে? সব খোঁজ কি আমরা পেয়েছি? কিন্তু যদি বলি আমাদের এই পৃথিবীর ভেতরে আরো একটি জগত আছে এবং যে জগৎ ছড়িয়ে আছে আমাদের গোটা বিশ্ব জুড়ে. এইবার হয়তো নড়েচড়ে বসবেন. হ্যাঁ আমাদের চোখের সামনেই রয়েছে এমন এক রাজ্য যে আমরা খালি চোখে দেখতে পাই না. এটাকে বলা হয় অণুবীক্ষণিক বিশ্ব. এই অণুবীক্ষণই বিশ্ব প্রচন্ড আকর্ষণীয় ও চমকে দেওয়ার মতো. কি কি ঘটছে এখানে তা আমার আপনার কল্পনারও বাইরে. এটা যেন কোনো ভিন গ্রহ বাসীদের রাজ্য. সম্ভাবনার দুয়ার খুলে রাখা আছে এই অণুবীক্ষণিক বা nano বিশ্বে.  ন্যানো কি ন্যানো হলো পরিমাপের একক। এক মিটারের একশো কোটি ভাগের এক ভাগ হচ্ছে এক ন্যানো। আর ন্যানো টেকনোলজি হলো বিজ্ঞানের এই অতি ক্ষুদ্র স্তরে একটা কিছু তৈরী করা আসলে শুধু তৈরি করা না. ন্যানোমিটার স্কেলে পরিবর্তন, পরিবর্তন, ধ্বংস বা সৃষ্টি সম্পর্কিত টেকনোলজিকেই ন্যানো টেকনোলজি বলে. অর্থাৎ ন্যানোমিটার স্কেলে পরিমিত যেকোনো বিষয়ে বহুমাত্রিক টেকনোলজিকে ন্যানো প্রযুক্তি বা ন্যানো টেকনোলজি বলা যে...

লুসিড ড্রিম কাকে বলে ? লুসিড ড্রিম কিভাবে দেখতে হয় ?

 স্বপ্ন নিয়ন্ত্রণ করার কথা ভেবেছেন কখনো? নিশ্চয়ই ভাবছেন জেগে জেগে দিবাস্বপ্ন দেখার কথা বলছি না তো? কিন্তু না, রীতিমতো ঘুমিয়ে দেখা স্বপ্নও নিয়ন্ত্রণের কথাই বলছি, আপনার ইচ্ছামত স্বপ্ন দেখবেন। ইচ্ছা মতো নিয়ন্ত্রণ করবেন। আর পছন্দ না হলে অর্থাৎ দুঃস্বপ্ন দেখা শুরু করলে সেটার গতিপথ পাল্টে দেবেন একেবারে নিমেষে। আধুনিক বিজ্ঞানের ভাষায় এটা খুবই সম্ভব একে বলা হয় লুসিভ ড্রিম। লুসিড ড্রিমিং এর সাথে আপনারা অনেকেই হয়তো পরিচিত আছেন। অনেকে পরিচিত থাকলেও হয়তো এটা কেন হচ্ছে বা কিভাবে হচ্ছে তা নিয়ে বেশ দ্বিধা দ্বন্দ্বে আছে এসবেরই উত্তর মিলবে আজকের এই লিখাতে।   লুসিড ড্রিম অর্থ কি? সহজ বাংলায় অনুবাদ করতে গেলে বলা যায় লুসিড অর্থ পরিষ্কার. অর্থাৎ স্পষ্ট আর dream মানে তো আমরা সবাই জানি যে স্বপ্ন। লুসিড ডিম হলো সেই স্বপ্ন যে আমাদের স্পষ্ট ভাবে মনে থাকে এবং স্বপ্ন চলাকালীন সময়েও আমরা এ উপলব্ধি করতে পারি যে এটি বাস্তব নয় বরং এটি স্বপ্ন কিন্তু শুধুমাত্র আক্ষরিক অর্থ দিয়ে লুসিড ড্রিম ব্যাখ্যা করলে ভুল হবে একটু অন্যভাবে বলা যাক ।  মনে করুন স্বপ্নে আপনি কি পাহাড়ের উপর থেকে দ্রুত গ...

সারোগেসি কি ?

সারোগেসির মাধ্যমে সন্তান ধারণ করা নিয়ে এখনো বহু বিতর্ক আছে. শুধু আমাদের দেশে নয়, সারা বিশ্বেই এই পদ্ধতি নিয়ে তর্ক বিতর্কের শেষ নেই.  এটার আইনি প্রক্রিয়াও জটিল। কারণ এটি একেক রাষ্ট্রে. শারোগেসি আইন একেক রকম. নারী মা হবেন প্রাকৃতিক নিয়ম সমাজ এমনটাই দেখতে অভ্যস্ত. কিন্তু কোন কারণে মা হবার ক্ষমতা না থাকলে তাকে পরিবার ও আশপাশ থেকে যে পরিমাণ কটু কথা শুনতে হয় তা সাধারণ মানুষের ধারণারও বাইরে.   সরোগেসি বিষয়টি কি? চিকিৎসা শাস্ত্রের অগ্রগতি এমন মায়েদের সামনে এনেছে যারা গর্ভ ভাড়া দিয়ে নিজে বাঁচেন অন্যদের মাতৃ সুখ দেন । একজন নারীর গর্ভে অন্য দম্পতির সন্তান ধারণের পদ্ধতিকে সারোগেসি বলা হয়.সারোগেসির এই  পদ্ধতি বেশ দীর্ঘকালীন. আইভিএফ পদ্ধতিতে স্ত্রী ও পুরুষের ডিম্বাণু শুক্রাণু দেহের বাইরে নিষিক্ত করে তা নারীর গর্ভাশয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়. কিন্তু এখানেও জটিলতা. কেন? সে বিষয়ে পরে আসছি. বাংলাদেশ সহ বহু দেশই এই সারোগেসি একরকম ভাবে নিষিদ্ধ. সুতরাং বিষয় টি  সংবেদনশীল. এমনকি বেশিরভাগ ধর্মেও রয়েছে নিষেধাজ্ঞা. চলুন কথা বলি সারোগেসি মাদার সম্পর্কে। আইভিএফ বা টেস্ট টি...

পেগাসাস স্পাইওয়ার কি ?

গত কিছুদিন ধরেই বিশ্ব রাজনীতি এবং প্রযুক্তি জগৎ এই দুই জায়গাতেই আলোচনার বিষয়বস্তু একটাই। সেটা হচ্ছে পেগাসাস স্পাইওয়ার. বিশ্বজুড়ে নানান দেশের মানবাধিকার কর্মী সাংবাদিক আইনজীবী ও রাজনীতিকদের ফোনের নজরদারি চালানোর ঘটনা ফাঁস হওয়ার পর ইজরায়েলের বেসরকারি কোম্পানি nso গ্রুপের তৈরি করা এই সফটওয়্যার নিয়ে এখন তুমুল তরজা চলছে দুনিয়া জুড়ে । চলুন কথা বলি দুনিয়া ওলট পালট করে দেওয়া স্পাইওয়ার সম্পর্কে । পেগাসাস মূলত একটি নজরদারি বিষয়ক সফটওয়্যার । ইজরাইলের সংস্থা এনএসও ই সফটওয়্যার তৈরি করেছে। যা দিয়ে যে কারো মোবাইলে আড়ি পাতা যায়. এটা কিন্তু সাধারণ কোন নজরদারি নয়. আগে ফোনে আড়ি পেতে শুধু দুই প্রান্তের কথাবার্তা শোনা যেত. আর সফটওয়্যারের মাধ্যমে গোটা ফোনটারই নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় হ্যাকাররা. ফোনের কথাবার্তা WhatsApp এর চ্যাট, ছবি, ফোনে কি কি তথ্য আছে সবই জানা যায়. আরো ভয়ানক ব্যবহার হচ্ছে মোবাইল যিনি ব্যবহার করছেন তিনি জানতেই পারেন না যে তার ফোন হ্যাক করা হয়েছে. সমস্ত তথ্য পাচার হয়ে যাচ্ছে নির্দিষ্ট একটি গোষ্ঠীর কাছে. কিন্তু কারো ফোনে পেগাসাস software install করতে হলে তো সেই ফোনটাকে...

রেট রেস কি ?

      আপনি ঠিক কখন ইঁদুর দৌড়ে যোগ দিয়েছেন এটা হিসাব করা কঠিন. কিন্তু নিশ্চিত থাকুন আপনি এই দৌড়ে আছেন. ক্লাস eight এ পড়ার সময়ের কথা মনে আছে? সামনে বৃত্তি পরীক্ষা পাটিগণিত বীজগণিতের অংক প্যাঁচ লাগাচ্ছে বিজ্ঞানের জটিল সব সূত্র ভোরে ওঠে প্রাইভেট টিউটরের বাসায় ছোটা রাত জেগে পড়াশোনা. বয়সের তুলনায় অনেক বেশি কর্ম ব্যস্ত একটা সময় নিশ্চয়ই কাটিয়েছেন তখন? আমরা সবাই কাটিয়েছি. সেই সময় নিশ্চয়ই অভিভাবক বলেছে এই তো আর কটা দিন. বৃত্তি পরীক্ষা শেষ হলেই জীবন শান্তি আর শান্তি. জীবনের নানা এপিসোডে আপনি এই কথাগুলো শুনেছেন অনেকবার অনেকের মুখে. এসএসসি পরীক্ষাটা দাও, কলেজে উঠলেই তো স্বাধীনতা. একবার ভার্সেটিতে উঠতে পারলেই জীবন হবে আনন্দে ভরপুর. একবার জব লাইফে ঢোকো. নিজের টাকায় আয়েশ করার মজাই অন্যরকম. শুনেছেন না এসব?  বয়স ঘড়ির ত্রিশের প্রান্তে দাঁড়িয়ে হিসেবগুলো মেলাতে পারেন কি? কি মনে হয়? এই এপিসোডগুলোর কোনোটা পার হবার সময় জীবন খানিকটা হলেও সহজ হয়েছে? সুন্দর হয়েছে? হয়নি, হবেও না, মিথ্যা একটা মরীচিকার আশায় আমরা ছুটেছি ঠিকই আমাদের ছোটানো হয়েছে, কিন্তু হিসাব মেলেনি ছুটত...

ম্যান্ডেলা ইফেক্ট কেনো হয়?

   আচ্ছা নিজের স্মৃতি শক্তির উপর কতটা বিশ্বাস আছে আপনার? আচ্ছা বাদ দিয়ে আপনার কথা. গণমানুষের স্মৃতিশক্তির উপর নিশ্চয়ই বিশ্বাস আছে অনেকটা. না না. ধর্মীয় কোন বিশ্বাস না. এই গ্রহে ঘটে যাওয়া এমন সব ঘটনা. যা সবাই জানে. তা কি রকম মিথ্যা? এক দশক আগেও পৃথিবীর প্রায় এক তৃতীয়াংশ মানুষ জানতো যে অস্ট্রেলিয়ার রাজধানীর নাম সিডনি. আসলে কি তাই? গত এক দশকে এই ধারণা মোটামুটি পরিবর্তন হয়ে মানুষ জেনেছে অস্ট্রেলিয়ার রাজধানীর নাম ক্যানভেরা. এখনো এই ভুল হরমামেশাই করে যাচ্ছে মানুষ. বিশ্বাস না হলে আশেপাশের কিছু মানুষকে জিজ্ঞেস করে দেখতে পারে. প্রশ্ন করতে পারেন ম্যান্ডেলার নাম কেন? এই ফ্ললস মেমোরি সিন্ড্রোমকে ম্যান্ডেল এফেক্ট নামকরণ করেছেন প্যারানরমাল কনসালটেন্ট ফীয়না ব্রুম তার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে । দু হাজার দশ সালের এক আলোচনা সভায় উঠে আসে দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদ বিরোধী আন্দোলনের নেতা উনিশশো আশি সালে কারা জানে মারা যাওয়ার প্রসঙ্গ । অনেকেই সেদিন বলেছিল, টিভিতে এই নেতার শেষকৃত্যের আনুষ্ঠানিকতা দেখার অভিজ্ঞতার কথা. ম্যান্ডেলার স্ত্রীর হৃদয় নিন্দারও ভাষণের কথা উল্লেখ করেছিলেন কেউ কেউ. এমনক...

কিভাবে লিমিটলেস হওয়া যায় ? লিমিটলেস আসলে কিভাবে কাজ করে ?

এনজিটিপিল,  এটা এমন এক পিল যা আপনাকে করবে আল্ট্রা ফোকাসড. দেবে দুর্দান্ত মোটিভেশন. বের করে আনবে আপনার সর্বোচ্চ সম্ভাবনা. আপনি হয়ে উঠবেন আনস্টপল. বাস্তবতা পাবে প্রতিটি স্বপ্ন. কিন্তু সমস্যা হচ্ছে এমন কোন পিলের অস্তিত্ব নেই. ফলাফল আপনি আটকে আছেন একটি খাদে. সারাক্ষণ ক্লান্তি নিয়ে হয়ে উঠছেন আনপ্রোডাক্টিভ. নষ্ট হচ্ছে ক্রিয়েটিভিটি. সময় গড়িয়ে যায়. ঋতুর পরিবর্তন ঘটে. কিন্তু আপনি ডুবে থাকেন এক হতাশায় যাতে আপনি দিন দিন পিছিয়ে পরছেন. আপনি যা যা এতদিন অর্জন করবেন ভেবেছিলেন তা কিছুই আপনি অর্জন করতে পারেননি । নিজেকে সান্তনা দিচ্ছেন আগামীকাল হবে ভিন্ন। কিন্তু তা কখনোই হয়ে ওঠে না এখন যদি আপনাকে বলি কোনো জাদুকরী পিলের সাহায্যে নয় বাস্তবিক লিমিটলেস হয়ে ওঠা সম্ভব।  একদম প্রমাণিত পদ্ধতিতে যা একেবারে ফ্রিতে ব্যবহার করা সম্ভব.  তো আছেন তো শেষ পর্যন্ত ?  Limit less হওয়ার যাত্রায় ।  স্টেপ ওয়ান : এনার্জি--  মাত্র কয়েক মাস আগে আমি নিজেও আপনার মতো কর্মশক্তিহীন অনুভব করতাম. সামান্য কাজেই আসতো অবসন্নতা, গেয়ে ধরতো ক্লান্তি একদিন হঠাৎ টের পেলাম আমি নিজেই নিজের energy নি...

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কি ? আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কতটা ভযঙ্কর হতে পারে আগামী দিনের জন্য ?

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বহুল চর্চিত এবং ব্যবহৃত একটি শব্দ. মানুষের বুদ্ধিমত্তা ও চিন্তা শক্তিকে কম্পিউটার প্রোগ্রামিং এর মাধ্যমে মেশিন ল্যাঙ্গুয়েজে স্থাপন করা টেকনোলজিটাই হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স । এর মাধ্যমে কোন যন্ত্র নির্দিষ্ট প্রোগ্রামের আওতাধীন কিছু কাজ নিজে থেকেই করতে পারে নিজে নিজে সিদ্ধান্ত নিতে পারে।  টার্মিনেচার টাইপের কোনো সাইফাই সিনেমার গুরু বন্ধুর সংলাপ নয়।  A.I নিয়ে ভবিষ্যৎবাণী করেছিলেন পৃথিবীর সেরা বিজ্ঞানীদের একজন স্টিফেন হকিং আমার ভয় হয় তারা সত্যিই হয়তো একদিন মানুষকে হটিয়ে নিয়ন্ত্রকের আসনে বসে যাবে। বেঁচে থাকতেই BBC কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স তথা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে এভাবেই সবাইকে সতর্ক করেছিলেন তিনি। হকিংসের এই ভয় এখনো ভবিষ্যতের বিষয় হলেও অমূলক নয় মোটেও যন্ত্রকে বুদ্ধিমান করে তার আশীর্বাদ অনেক আছে। কিন্তু দীর্ঘ মেয়াদে সেই যন্ত্রই পৃথিবীর দখল নিতে চলেছে কিনা স্বয়ং সম্পূর্ণ হয়ে মানুষকেই বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে একদিন অপদার্থ তে পরিণত করবে কিনা সেই প্রশ্নটা উঠছে বারবার।  যুক্তরাষ্ট্রে...

মিনিমালিজম কি ? কিভাবে মিনিমালিস্ট হওয়া যায় ?

মিনিমামলিজম এই ধারণাটি বিগত কয়েক বছরে বেশ জনপ্রিয়তা লাভ করেছে এবং এর যথেষ্ট কারণও আছে. এই পুরো ব্যাপারটা কি? সেটাকে সঙ্গায়িত করা যায় এভাবে যে,  মিনিমালিজম হচ্ছে যা আমাদের জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সেগুলোকে ধারণ করা এবং বাকি সব কিছু যা আমাদের দৃষ্টিকে অন্যদিকে সরিয়ে নেয় সেগুলোকে ইচ্ছাকৃতভাবে ত্যাগ করা।   অর্থাৎ কোন কোন বিষয়ে জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং কোন জিনিসগুলোকে আমাদের কাছে সবচেয়ে মূল্যবান সেই সম্পর্কে একটা পরিষ্কার ধারণা থাকা এবং বাকি সব ত্যাগ  করে দেয়. সেগুলো নিয়েই জীবন ধারণ করা. কিন্তু এমন সংজ্ঞায়ন সত্ত্বেও minimalism কোন ধরাবাধা জীবন ব্যবস্থা নয় বা মিনিমালিস্ট হতে হলে কোন নির্দিষ্ট মানদণ্ড মেনে চলতে হবে এরকমটিও কিন্তু নয়. মিনিমালিস্ট লাইফ স্টাইল এমন একটি বিষয় যা প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য স্বতন্ত্র। এক্ষেত্রে মূল বিষয়টি হচ্ছে সত্যিকার অর্থে কোন কোন বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও প্রয়োজনীয় সেই সম্পর্কে একটা পরিষ্কার ধারণা নিয়ে সেই অনুযায়ী জীবন ধারণ করা. প্রিয় দর্শক চলুন দেখি মিনিমালিজম কিভাবে আপনার জীবনধারা বদলে দিতে পারে।  মিনিমালিস্ট জীবন অবশ...