সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

লুসিড ড্রিম কাকে বলে ? লুসিড ড্রিম কিভাবে দেখতে হয় ?

 স্বপ্ন নিয়ন্ত্রণ করার কথা ভেবেছেন কখনো? নিশ্চয়ই ভাবছেন জেগে জেগে দিবাস্বপ্ন দেখার কথা বলছি না তো? কিন্তু না, রীতিমতো ঘুমিয়ে দেখা স্বপ্নও নিয়ন্ত্রণের কথাই বলছি, আপনার ইচ্ছামত স্বপ্ন দেখবেন। ইচ্ছা মতো নিয়ন্ত্রণ করবেন। আর পছন্দ না হলে অর্থাৎ দুঃস্বপ্ন দেখা শুরু করলে সেটার গতিপথ পাল্টে দেবেন একেবারে নিমেষে। আধুনিক বিজ্ঞানের ভাষায় এটা খুবই সম্ভব একে বলা হয় লুসিভ ড্রিম। লুসিড ড্রিমিং এর সাথে আপনারা অনেকেই হয়তো পরিচিত আছেন। অনেকে পরিচিত থাকলেও হয়তো এটা কেন হচ্ছে বা কিভাবে হচ্ছে তা নিয়ে বেশ দ্বিধা দ্বন্দ্বে আছে এসবেরই উত্তর মিলবে আজকের এই লিখাতে।  

লুসিড ড্রিম অর্থ কি? সহজ বাংলায় অনুবাদ করতে গেলে বলা যায় লুসিড অর্থ পরিষ্কার. অর্থাৎ স্পষ্ট আর dream মানে তো আমরা সবাই জানি যে স্বপ্ন। লুসিড ডিম হলো সেই স্বপ্ন যে আমাদের স্পষ্ট ভাবে মনে থাকে এবং স্বপ্ন চলাকালীন সময়েও আমরা এ উপলব্ধি করতে পারি যে এটি বাস্তব নয় বরং এটি স্বপ্ন কিন্তু শুধুমাত্র আক্ষরিক অর্থ দিয়ে লুসিড ড্রিম ব্যাখ্যা করলে ভুল হবে একটু অন্যভাবে বলা যাক । 

মনে করুন স্বপ্নে আপনি কি পাহাড়ের উপর থেকে দ্রুত গতিতে নিচে পড়ে যাচ্ছেন এবং নিচে পড়বার পর আপনার বাঁচার কোন সম্ভাবনাই নেই। হুট করে আপনি ভাবছেন, ইস যদি পাথরের মধ্যে একটা নরম বিছানা থাকতো তাহলে হয়তো আপনি বেঁচে যেতে পারতেন। যেই ভাবনা সেই কাজ, আপনার ভাবনা অনুযায়ী স্বপ্নটা মডিফাই হয়ে গিয়ে আপনি পড়লেন একটা নরম বিছানার ওপরে এটাই হচ্ছে লুসিড ড্রিম । এবার চলুন দেখি লুসিড ড্রিম কেন? এবং কিভাবে হয় ? তবে লুসিড ড্রিম কিন্তু এই যুগের আবিষ্কৃত কোনো বস্তু নয়। বলছি শুরুর কথা, সর্বপ্রথম গ্রীক দার্শনিক অ্যারিস্টটল এই নিয়ে প্রথম ধারণা দেন। এছাড়াও আরো অনেক বিজ্ঞানী বর্তমানে এর উপর গবেষণা করছেন। অ্যারিস্টটল তার ঘুমের মাঝে একদিন লুসিড ড্রিম উপলব্ধি করে লিখেছিলেন যে মাঝেমধ্যে ঘুমানোর পরেও তার সচেতন একটা অংশ জাগ্রত থাকে এবং স্বপ্ন দেখার মুহূর্তে তিনি বুঝতে পারেন যে তিনি স্বপ্ন দেখছেন। লুসিড ড্রিম শুধু স্বপ্ন নয় এটি হলো আপনার brain power.


বিভিন্ন বিভিন্ন স্থানের সাধু সন্ন্যাসী গণ রীতিমতো লুসিড ড্রিমের চর্চা করেন এবং এটাকে তারা গ্রীন ইয়গা নামে ডেকে থাকেন। কারণ লুসিড ড্রিম মানসিক শক্তি এবং সৃজনশীলতা বাড়াতে সরাসরি সহায়তা করে। আমরা গড়ে প্রতিদিন ঘুমের মাঝে প্রায় চার থেকে ছয় বার স্বপ্ন দেখে থাকি। তবে বেশিরভাগ স্বপ্নই আমরা ভুলে যাই। এখন প্রশ্ন উঠতে পারে দৈনিক দেখা স্বপ্নগুলোর মধ্যে ঠিক কোন স্বপ্নগুলো লুসিড ড্রিম এর অংশ হতে পারে। তো আমরা কখন লুসিড ড্রিম দেখি? বিজ্ঞানীদের মতে আমাদের ঘুমকে দুটো পর্যায়ে ভাগ করা যায়- রেম এবং নন রেম স্লিপ। রেম শব্দটি মূলত ইংরেজি রেপিড আই মুভমেন্টের সংক্ষিপ্ত রূপ। ঘুমিয়ে পড়ার প্রায় নব্বই মিনিটের মাথায় রেম পর্যায় শুরু হয়। এই ধাপে আমাদের মস্তিষ্ক অত্যন্ত সক্রিয় থাকে। পৃথক্রিয়া বৃদ্ধি পায় এবং চোখের পাতার কাপন বেড়ে যায়। চোখের পাতার কাঁপন থেকেই এই পর্যায়ের নাম হয়েছে রেপিড আই মুভমেন্ট বা রেম । অপরদিকে নন রেম অবস্থায় আমাদের মস্তিষ্কের ক্রিয়া, ঋত্বক ক্রিয়া এবং চোখের পাতার কাঁপন. অনেকটাই কম থাকে। 


কিত্ত হেরেন নামের একজন প্যারাসাইকোলজিস্ট লুসিড ড্রিম কিভাবে হয় তার জানার জন্য উনিশশো সত্তর সালে একটি গবেষণা শুরু হয়। তিনি দেখেন যে লুসিড ড্রিমিং যিনি সাধারণত রেম স্লিপের সময় ঘটে থাকে। সাধারণত রেম স্লিপ থেকেই স্বপ্ন দেখার প্রক্রিয়াটা শুরু হয়। ঘুমের যে কোন পর্যায়ে আমরা স্বপ্ন দেখলেও রেম পর্যায়ের স্বপ্ন অনেকটাই প্রাণবন্ত হয়ে থাকে। মুলত এই ধাপে লুসিড ডিম দেখা যায়। লুসিড ডিমের উপর একজন ব্যক্তিটি কতটুকু কর্তৃত্ব খাটাতে পারবেন তা ব্যক্তি ভেবে ভিন্ন হয়ে থাকে। অনেকে লুসিড ড্রিম এ নিজের অস্তিত্ব টের পাওয়ার সাথে সাথেই জেগে ওঠেন । আবার অনেকেই দিব্যি স্বপ্নের ঘটনা নিজের ইচ্ছামত বদলে দিতে থাকেন। ঠিক কি কারণে একটা স্বপ্ন লুসিড ড্রিম হিসেবে দেখা হয় তা পরিষ্কার জানা যায়নি এখনো। তবে স্বপ্ন বিশারদ ডক্টর ম্যাথি ও ওয়াকারের মতে আমাদের মস্তিষ্কের যুক্তি তর্ক ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ করে যেই অংশ সেটা এর পেছনে দায়ী। রেম ঘুমের সময় মস্তিষ্কের এই অংশ নিষ্ক্রিয় থাকার কথা। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে এই অংশ সষ্ক্রিয় হয়ে উঠলে আমরা একই সাথে স্বপ্ন দেখি এবং যুক্তি বিচার করতে পারি। এ ধরনের ঘটনা ব্যক্তিকে স্বপ্নের মাঝেও সজাগ থাকার সক্ষমতা প্রদান করে। সম্ভবত এই কারণে আমরা লুসিড ড্রিম দেখে থাকি। সাধারণত আমাদের মনের দুটো অংশ থাকে. সচেতন এবং অবচেতন মন। আমরা স্বপ্ন দেখি, অবচেতন মনে কিন্তু স্বপ্নের মাঝে সচেতন মন খানিকটা সক্রিয় হলেই এই লুসিভ ড্রিমিং শুরু হয়। অর্থাৎ চেতন ও অবচেতন মনের একটা বিরল সংমিশ্রণে এমনটা হয়ে থাকে। 


লুসিড ড্রিম এর সময় আমরা স্বপ্নটা বেশ পরিষ্কার ভাবে দেখতে পাই এবং স্বপ্নে প্রদত্ত অনুভূতিগুলো খুবই তীব্র হয়। প্রায় বাস্তবের মতই এবং যে কেউ চাইলেই স্বপ্নের দৃশ্যগুলো নিজ ইচ্ছা মতো সাজিয়ে নিতে পারেন। লুসিড ড্রিম বাদে অন্য সাধারণ স্বপ্নগুলোতে কিন্তু স্বপ্নের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ আমার নিজ হাতে নিয়ে নিতে পারি না। আপনি হয়তো বছরের পর বছর ধরে কোন দুঃস্বপ্ন দেখছেন। কখনো হয়তো স্বপ্নের আপনাকে কিছু সাপ ধাওয়া করছে অথবা কখনো হয়তো ভয়ঙ্কর সব দৈত্য দানবেরা আপনার পিছু নিয়েছে। ঘুম থেকে ওঠার পর এই স্বপ্নের কারণে আপনার মন মেজাজ খারাপ হয়ে আছে। কোন কিছুতেই মন ভালো হচ্ছে না বছরের পর বছর। এই দুঃস্বপ্নের জন্য একই মানসিক অবসাদ ঘিরে আছে আপনাকে। ঠিক এখানেই লুসিড ড্রিম এর ব্যবহার। আপনি লুসিড ড্রিমকে ব্যবহার করে দুঃস্বপ্নে আপনাকে ধাওয়া করার সাপ এবং দৈত্যদেরকে মেরে ফেলতে পারবেন। লুসিড ড্রিম আপনার দুঃস্বপ্নগুলোকে সুন্দর স্বপ্নে রূপান্তরিত করে স্বপ্ন বিষয়টাকে আপনার জীবনে একটা মোটিভেশন হিসেবে দাঁড় করাতে সক্ষম। এর সম্পূর্ণটাই আপনার মনস্তাত্ত্বিক এর উপর নির্ভর করে।কেউ কেউ লুসিড ড্রিম এমনিতেই দেখতে পারেন।

 আবার কারো কারো ক্ষেত্রে প্রয়োজন হয় চর্চা। আমরা যখন স্বপ্ন দেখি ঘুম থেকে ওঠার সাথে সাথে আমাদের পরিষ্কার মনে থাকলেও খানিকটা পরেই কিন্তু আবার ভুলে যাই। সেক্ষেত্রে বিছানার পাশে সবসময় একটা ডায়েরি এবং কলম রাখতে হবে যেন ঘুম থেকে স্বপ্ন দেখে উঠে সেখানে লিখে রাখা যায়। এটা স্বপ্ন মনে রাখতে সাহায্য করে এবং স্বপ্নের সময় চেতনাও অনেক বেশি সজাগ হয়ে থাকে। এ ছাড়া কিছু ড্রাগসও আছে যা কৃত্রিম উপায়ে মানুষকে লুসিড ড্রিম খাতে সাহায্য করে. লুসিড ড্রিমের বিনোদন আর অ্যাডভেঞ্চারের পাশাপাশি এরও কিন্তু রয়েছে উপকারিতা।

 

যদিও লুসিড ড্রিম কে  নিরাপদ ধরা হয় তবে যাদের মানসিক অসুস্থতা বা কোনো সমস্যা রয়েছে তাদের জন্য একটা বিরাট ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। লুসিড ড্রিম  এর মধ্যে আপনাকে জেগে থাকতে হচ্ছে । এজন্য হয়তো আপনার ঘুমের প্রধান উদ্দেশ্যটাই ব্যাহত হবে।  বিশ্রাম এবং ঘুমের অভাবে আপনার শারীরিক এবং মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটতে পারে ব্যাপকভাবে। এই ঘুমের ব্যাঘাত আপনার মানসিক অস্থিরতা বাড়িয়ে দিতে পারে। আবার যেহেতু আপনি স্বপ্নের মাঝেও জেগে আছেন তাই স্বপ্ন আর বাস্তবতার মধ্যে তালগুল লেগে যেতে পারে । অনেক ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে ব্যক্তি কোনটা বাস্তব আর কোনটা স্বপ্ন তা নির্ধারণ করতে হিমশিম খেয়ে যায় । এ ধরনের যে কোন সমস্যা বড় ধরনের বিপদ ডেকে আনে। 

 তাই লুসিড ড্রিমের পূর্বে নিজের মানসিক স্থিরতা এবং বিশ্রাম নিয়ে কোনো কার্পণ্য করা যাবে না। এবার খুব বড়সড় সুযোগ আপনার সামনে। চাইলে এখন আপনি নিজেও কিন্তু ঘুরে আসতে পারেন  স্বপ্নের জাদুকড়ি দুনিয়া থেকে। স্বপ্নের ইচ্ছে হলে আপনিও পাখির মতো উড়ে যেতে পারেন বা যা ইচ্ছা করতে পারেন।  স্বপ্নের সেই পুরো পৃথিবীটা শুধুই আপনার।


 


মন্তব্যসমূহ

Blog Posts

ন্যানো টেকনোলজি কিভাবে কাজ করে ?

  যদি বলি আপনার চোখ দেখতে পারে না এমন গভীর ও প্রায় অনাবিষ্কৃত একটা পৃথিবী আছে. হয়তো বলতে পারেন যে মহাবিশ্বে কত গ্রহই তো আছে? সব খোঁজ কি আমরা পেয়েছি? কিন্তু যদি বলি আমাদের এই পৃথিবীর ভেতরে আরো একটি জগত আছে এবং যে জগৎ ছড়িয়ে আছে আমাদের গোটা বিশ্ব জুড়ে. এইবার হয়তো নড়েচড়ে বসবেন. হ্যাঁ আমাদের চোখের সামনেই রয়েছে এমন এক রাজ্য যে আমরা খালি চোখে দেখতে পাই না. এটাকে বলা হয় অণুবীক্ষণিক বিশ্ব. এই অণুবীক্ষণই বিশ্ব প্রচন্ড আকর্ষণীয় ও চমকে দেওয়ার মতো. কি কি ঘটছে এখানে তা আমার আপনার কল্পনারও বাইরে. এটা যেন কোনো ভিন গ্রহ বাসীদের রাজ্য. সম্ভাবনার দুয়ার খুলে রাখা আছে এই অণুবীক্ষণিক বা nano বিশ্বে.  ন্যানো কি ন্যানো হলো পরিমাপের একক। এক মিটারের একশো কোটি ভাগের এক ভাগ হচ্ছে এক ন্যানো। আর ন্যানো টেকনোলজি হলো বিজ্ঞানের এই অতি ক্ষুদ্র স্তরে একটা কিছু তৈরী করা আসলে শুধু তৈরি করা না. ন্যানোমিটার স্কেলে পরিবর্তন, পরিবর্তন, ধ্বংস বা সৃষ্টি সম্পর্কিত টেকনোলজিকেই ন্যানো টেকনোলজি বলে. অর্থাৎ ন্যানোমিটার স্কেলে পরিমিত যেকোনো বিষয়ে বহুমাত্রিক টেকনোলজিকে ন্যানো প্রযুক্তি বা ন্যানো টেকনোলজি বলা যে...

প্রযুক্তি দুনিয়াতে পর্দার আড়ালে থেকে যাওয়া এক প্রতিভাবান এর গল্প ।

পর্দার আড়ালে একা খেলে যাচ্ছেন একজন. কামাচ্ছেন বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার. অথচ তাকে চেনে খুব কম সংখ্যক মানুষ. আইটি জগতে ইলন মাস্ক, জেফ বোজোস বা বিট গ্রেটসের সাথে তার নামও সমান তালে চলার কথা ছিল. কিন্তু বিহাইন্ড দা সিনে একা গোল করে যাচ্ছেন তিনি. নাম ড্রোন ইয়াং পিং ড্রোন ইয়াং পিং নামটি মোবাইল ফোনের জগতে খুবই কম মানুষের শোনা. তবে তার নাম অজানা থাকলেও তার কোম্পানি বিবিকে ফোন গিগদের মধ্যে বেশ পরিচিত. ওয়ান প্লাস, রিয়েলমি, অপো, ভিভো এবং আইকিউ. এই পাঁচটি জনপ্রিয় মোবাইল ব্র্যান্ডের একক মালিক ডোন ইয়াং পিন.  এই ব্র্যান্ড গুলো তার কোম্পানিতে পরিণত করেছে বর্তমানের সবচেয়ে বড় মোবাইল ফোন উৎপাদনকারী কোম্পানিতে. অ্যাপেল , শাওমি বা স্যামসাং যারা মোবাইল ফোনের জগতে বর্তমানে সবচেয়ে বড় ব্র্যান্ড তাদেরকেও পেছনে ফেলে এগিয়ে গিয়েছে বিবিকে কোম্পানি। কিন্তু এত সফলতার সত্ত্বেও বেশিরভাগ মোবাইল ফোন ব্যবহারকারী এমনকি ফোন গিগরাও তার সম্পর্কে বলতে গেলে তেমন কিছুই জানে না. এলেন মাস্ক, স্টিভ জবস বা জ্যাকমা, যারা কিনা টেকনোলজির জগতে খুবই পরিচিত তাদের সম্পর্কে অনলাইনে  অগণিত তথ্য রয়েছে। কিন্তু ডন ইয়ং পিং এর...

সারোগেসি কি ?

সারোগেসির মাধ্যমে সন্তান ধারণ করা নিয়ে এখনো বহু বিতর্ক আছে. শুধু আমাদের দেশে নয়, সারা বিশ্বেই এই পদ্ধতি নিয়ে তর্ক বিতর্কের শেষ নেই.  এটার আইনি প্রক্রিয়াও জটিল। কারণ এটি একেক রাষ্ট্রে. শারোগেসি আইন একেক রকম. নারী মা হবেন প্রাকৃতিক নিয়ম সমাজ এমনটাই দেখতে অভ্যস্ত. কিন্তু কোন কারণে মা হবার ক্ষমতা না থাকলে তাকে পরিবার ও আশপাশ থেকে যে পরিমাণ কটু কথা শুনতে হয় তা সাধারণ মানুষের ধারণারও বাইরে.   সরোগেসি বিষয়টি কি? চিকিৎসা শাস্ত্রের অগ্রগতি এমন মায়েদের সামনে এনেছে যারা গর্ভ ভাড়া দিয়ে নিজে বাঁচেন অন্যদের মাতৃ সুখ দেন । একজন নারীর গর্ভে অন্য দম্পতির সন্তান ধারণের পদ্ধতিকে সারোগেসি বলা হয়.সারোগেসির এই  পদ্ধতি বেশ দীর্ঘকালীন. আইভিএফ পদ্ধতিতে স্ত্রী ও পুরুষের ডিম্বাণু শুক্রাণু দেহের বাইরে নিষিক্ত করে তা নারীর গর্ভাশয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়. কিন্তু এখানেও জটিলতা. কেন? সে বিষয়ে পরে আসছি. বাংলাদেশ সহ বহু দেশই এই সারোগেসি একরকম ভাবে নিষিদ্ধ. সুতরাং বিষয় টি  সংবেদনশীল. এমনকি বেশিরভাগ ধর্মেও রয়েছে নিষেধাজ্ঞা. চলুন কথা বলি সারোগেসি মাদার সম্পর্কে। আইভিএফ বা টেস্ট টি...

পেগাসাস স্পাইওয়ার কি ?

গত কিছুদিন ধরেই বিশ্ব রাজনীতি এবং প্রযুক্তি জগৎ এই দুই জায়গাতেই আলোচনার বিষয়বস্তু একটাই। সেটা হচ্ছে পেগাসাস স্পাইওয়ার. বিশ্বজুড়ে নানান দেশের মানবাধিকার কর্মী সাংবাদিক আইনজীবী ও রাজনীতিকদের ফোনের নজরদারি চালানোর ঘটনা ফাঁস হওয়ার পর ইজরায়েলের বেসরকারি কোম্পানি nso গ্রুপের তৈরি করা এই সফটওয়্যার নিয়ে এখন তুমুল তরজা চলছে দুনিয়া জুড়ে । চলুন কথা বলি দুনিয়া ওলট পালট করে দেওয়া স্পাইওয়ার সম্পর্কে । পেগাসাস মূলত একটি নজরদারি বিষয়ক সফটওয়্যার । ইজরাইলের সংস্থা এনএসও ই সফটওয়্যার তৈরি করেছে। যা দিয়ে যে কারো মোবাইলে আড়ি পাতা যায়. এটা কিন্তু সাধারণ কোন নজরদারি নয়. আগে ফোনে আড়ি পেতে শুধু দুই প্রান্তের কথাবার্তা শোনা যেত. আর সফটওয়্যারের মাধ্যমে গোটা ফোনটারই নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় হ্যাকাররা. ফোনের কথাবার্তা WhatsApp এর চ্যাট, ছবি, ফোনে কি কি তথ্য আছে সবই জানা যায়. আরো ভয়ানক ব্যবহার হচ্ছে মোবাইল যিনি ব্যবহার করছেন তিনি জানতেই পারেন না যে তার ফোন হ্যাক করা হয়েছে. সমস্ত তথ্য পাচার হয়ে যাচ্ছে নির্দিষ্ট একটি গোষ্ঠীর কাছে. কিন্তু কারো ফোনে পেগাসাস software install করতে হলে তো সেই ফোনটাকে...

রেট রেস কি ?

      আপনি ঠিক কখন ইঁদুর দৌড়ে যোগ দিয়েছেন এটা হিসাব করা কঠিন. কিন্তু নিশ্চিত থাকুন আপনি এই দৌড়ে আছেন. ক্লাস eight এ পড়ার সময়ের কথা মনে আছে? সামনে বৃত্তি পরীক্ষা পাটিগণিত বীজগণিতের অংক প্যাঁচ লাগাচ্ছে বিজ্ঞানের জটিল সব সূত্র ভোরে ওঠে প্রাইভেট টিউটরের বাসায় ছোটা রাত জেগে পড়াশোনা. বয়সের তুলনায় অনেক বেশি কর্ম ব্যস্ত একটা সময় নিশ্চয়ই কাটিয়েছেন তখন? আমরা সবাই কাটিয়েছি. সেই সময় নিশ্চয়ই অভিভাবক বলেছে এই তো আর কটা দিন. বৃত্তি পরীক্ষা শেষ হলেই জীবন শান্তি আর শান্তি. জীবনের নানা এপিসোডে আপনি এই কথাগুলো শুনেছেন অনেকবার অনেকের মুখে. এসএসসি পরীক্ষাটা দাও, কলেজে উঠলেই তো স্বাধীনতা. একবার ভার্সেটিতে উঠতে পারলেই জীবন হবে আনন্দে ভরপুর. একবার জব লাইফে ঢোকো. নিজের টাকায় আয়েশ করার মজাই অন্যরকম. শুনেছেন না এসব?  বয়স ঘড়ির ত্রিশের প্রান্তে দাঁড়িয়ে হিসেবগুলো মেলাতে পারেন কি? কি মনে হয়? এই এপিসোডগুলোর কোনোটা পার হবার সময় জীবন খানিকটা হলেও সহজ হয়েছে? সুন্দর হয়েছে? হয়নি, হবেও না, মিথ্যা একটা মরীচিকার আশায় আমরা ছুটেছি ঠিকই আমাদের ছোটানো হয়েছে, কিন্তু হিসাব মেলেনি ছুটত...

ম্যান্ডেলা ইফেক্ট কেনো হয়?

   আচ্ছা নিজের স্মৃতি শক্তির উপর কতটা বিশ্বাস আছে আপনার? আচ্ছা বাদ দিয়ে আপনার কথা. গণমানুষের স্মৃতিশক্তির উপর নিশ্চয়ই বিশ্বাস আছে অনেকটা. না না. ধর্মীয় কোন বিশ্বাস না. এই গ্রহে ঘটে যাওয়া এমন সব ঘটনা. যা সবাই জানে. তা কি রকম মিথ্যা? এক দশক আগেও পৃথিবীর প্রায় এক তৃতীয়াংশ মানুষ জানতো যে অস্ট্রেলিয়ার রাজধানীর নাম সিডনি. আসলে কি তাই? গত এক দশকে এই ধারণা মোটামুটি পরিবর্তন হয়ে মানুষ জেনেছে অস্ট্রেলিয়ার রাজধানীর নাম ক্যানভেরা. এখনো এই ভুল হরমামেশাই করে যাচ্ছে মানুষ. বিশ্বাস না হলে আশেপাশের কিছু মানুষকে জিজ্ঞেস করে দেখতে পারে. প্রশ্ন করতে পারেন ম্যান্ডেলার নাম কেন? এই ফ্ললস মেমোরি সিন্ড্রোমকে ম্যান্ডেল এফেক্ট নামকরণ করেছেন প্যারানরমাল কনসালটেন্ট ফীয়না ব্রুম তার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে । দু হাজার দশ সালের এক আলোচনা সভায় উঠে আসে দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদ বিরোধী আন্দোলনের নেতা উনিশশো আশি সালে কারা জানে মারা যাওয়ার প্রসঙ্গ । অনেকেই সেদিন বলেছিল, টিভিতে এই নেতার শেষকৃত্যের আনুষ্ঠানিকতা দেখার অভিজ্ঞতার কথা. ম্যান্ডেলার স্ত্রীর হৃদয় নিন্দারও ভাষণের কথা উল্লেখ করেছিলেন কেউ কেউ. এমনক...

কিভাবে লিমিটলেস হওয়া যায় ? লিমিটলেস আসলে কিভাবে কাজ করে ?

এনজিটিপিল,  এটা এমন এক পিল যা আপনাকে করবে আল্ট্রা ফোকাসড. দেবে দুর্দান্ত মোটিভেশন. বের করে আনবে আপনার সর্বোচ্চ সম্ভাবনা. আপনি হয়ে উঠবেন আনস্টপল. বাস্তবতা পাবে প্রতিটি স্বপ্ন. কিন্তু সমস্যা হচ্ছে এমন কোন পিলের অস্তিত্ব নেই. ফলাফল আপনি আটকে আছেন একটি খাদে. সারাক্ষণ ক্লান্তি নিয়ে হয়ে উঠছেন আনপ্রোডাক্টিভ. নষ্ট হচ্ছে ক্রিয়েটিভিটি. সময় গড়িয়ে যায়. ঋতুর পরিবর্তন ঘটে. কিন্তু আপনি ডুবে থাকেন এক হতাশায় যাতে আপনি দিন দিন পিছিয়ে পরছেন. আপনি যা যা এতদিন অর্জন করবেন ভেবেছিলেন তা কিছুই আপনি অর্জন করতে পারেননি । নিজেকে সান্তনা দিচ্ছেন আগামীকাল হবে ভিন্ন। কিন্তু তা কখনোই হয়ে ওঠে না এখন যদি আপনাকে বলি কোনো জাদুকরী পিলের সাহায্যে নয় বাস্তবিক লিমিটলেস হয়ে ওঠা সম্ভব।  একদম প্রমাণিত পদ্ধতিতে যা একেবারে ফ্রিতে ব্যবহার করা সম্ভব.  তো আছেন তো শেষ পর্যন্ত ?  Limit less হওয়ার যাত্রায় ।  স্টেপ ওয়ান : এনার্জি--  মাত্র কয়েক মাস আগে আমি নিজেও আপনার মতো কর্মশক্তিহীন অনুভব করতাম. সামান্য কাজেই আসতো অবসন্নতা, গেয়ে ধরতো ক্লান্তি একদিন হঠাৎ টের পেলাম আমি নিজেই নিজের energy নি...

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কি ? আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কতটা ভযঙ্কর হতে পারে আগামী দিনের জন্য ?

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বহুল চর্চিত এবং ব্যবহৃত একটি শব্দ. মানুষের বুদ্ধিমত্তা ও চিন্তা শক্তিকে কম্পিউটার প্রোগ্রামিং এর মাধ্যমে মেশিন ল্যাঙ্গুয়েজে স্থাপন করা টেকনোলজিটাই হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স । এর মাধ্যমে কোন যন্ত্র নির্দিষ্ট প্রোগ্রামের আওতাধীন কিছু কাজ নিজে থেকেই করতে পারে নিজে নিজে সিদ্ধান্ত নিতে পারে।  টার্মিনেচার টাইপের কোনো সাইফাই সিনেমার গুরু বন্ধুর সংলাপ নয়।  A.I নিয়ে ভবিষ্যৎবাণী করেছিলেন পৃথিবীর সেরা বিজ্ঞানীদের একজন স্টিফেন হকিং আমার ভয় হয় তারা সত্যিই হয়তো একদিন মানুষকে হটিয়ে নিয়ন্ত্রকের আসনে বসে যাবে। বেঁচে থাকতেই BBC কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স তথা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে এভাবেই সবাইকে সতর্ক করেছিলেন তিনি। হকিংসের এই ভয় এখনো ভবিষ্যতের বিষয় হলেও অমূলক নয় মোটেও যন্ত্রকে বুদ্ধিমান করে তার আশীর্বাদ অনেক আছে। কিন্তু দীর্ঘ মেয়াদে সেই যন্ত্রই পৃথিবীর দখল নিতে চলেছে কিনা স্বয়ং সম্পূর্ণ হয়ে মানুষকেই বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে একদিন অপদার্থ তে পরিণত করবে কিনা সেই প্রশ্নটা উঠছে বারবার।  যুক্তরাষ্ট্রে...

মিনিমালিজম কি ? কিভাবে মিনিমালিস্ট হওয়া যায় ?

মিনিমামলিজম এই ধারণাটি বিগত কয়েক বছরে বেশ জনপ্রিয়তা লাভ করেছে এবং এর যথেষ্ট কারণও আছে. এই পুরো ব্যাপারটা কি? সেটাকে সঙ্গায়িত করা যায় এভাবে যে,  মিনিমালিজম হচ্ছে যা আমাদের জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সেগুলোকে ধারণ করা এবং বাকি সব কিছু যা আমাদের দৃষ্টিকে অন্যদিকে সরিয়ে নেয় সেগুলোকে ইচ্ছাকৃতভাবে ত্যাগ করা।   অর্থাৎ কোন কোন বিষয়ে জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং কোন জিনিসগুলোকে আমাদের কাছে সবচেয়ে মূল্যবান সেই সম্পর্কে একটা পরিষ্কার ধারণা থাকা এবং বাকি সব ত্যাগ  করে দেয়. সেগুলো নিয়েই জীবন ধারণ করা. কিন্তু এমন সংজ্ঞায়ন সত্ত্বেও minimalism কোন ধরাবাধা জীবন ব্যবস্থা নয় বা মিনিমালিস্ট হতে হলে কোন নির্দিষ্ট মানদণ্ড মেনে চলতে হবে এরকমটিও কিন্তু নয়. মিনিমালিস্ট লাইফ স্টাইল এমন একটি বিষয় যা প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য স্বতন্ত্র। এক্ষেত্রে মূল বিষয়টি হচ্ছে সত্যিকার অর্থে কোন কোন বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও প্রয়োজনীয় সেই সম্পর্কে একটা পরিষ্কার ধারণা নিয়ে সেই অনুযায়ী জীবন ধারণ করা. প্রিয় দর্শক চলুন দেখি মিনিমালিজম কিভাবে আপনার জীবনধারা বদলে দিতে পারে।  মিনিমালিস্ট জীবন অবশ...