সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

সিকাডা থ্রী থ্রী জিরো ওয়ান কি ?

সিকাডা থ্রী থ্রী জিরো ওয়ান


দু হাজার বারো সালের চৌঠা জানুয়ারি। ডব্লিউ ডব্লিউ ডব্লিউ ডট ফোর চ্যান ডট কম নামের ওয়েবসাইটের বুলেটিন বোর্ডে ছবি সহ একটি ম্যাসেজ পোস্ট করা হয়. ওয়েবসাইটের নীতিমালা অনুযায়ী ছবি প্রকাশকারীর নাম পরিচয় গোপন রাখা হয়. অজ্ঞাত পোস্ট করি সেই ছবিতে ব্যবহারকারীদের চিত্রের মাঝেই লুকানো একটি বার্তা উন্মোচন করার জন্য চ্যালেঞ্জ জানান. সেই মেসেজটিতে লেখা ছিল হ্যালো আমরা অত্যন্ত বুদ্ধিমান ব্যক্তিদের খুঁজছি তাদের খোঁজার জন্য আমরা একটা পরীক্ষার ব্যবস্থা করেছি । এই ছবিতে একটা মেসেজ লুকানো আছে এটাকে খুঁজে বের করো । এটাই তোমাদের আমাদের কাছে নিয়ে আসবে. আমরা সেসব স্বল্প সংখ্যক ব্যক্তিকে দেখার অপেক্ষায় আছি যারা এটি সম্পূর্ণ করতে পারবে. Good luck । আর নিচে ছিল একটি কোড থ্রি থ্রি জিরো ওয়ান. পুরো ইন্টারনেট দুনিয়া তোলপাড় হয়ে গেল যেন হঠাৎ করে. পৃথিবীর সেরা হ্যাকার এবং কোড সমাধানকারীরা নিজেদের বুদ্ধিমত্তা প্রমানের জন্য এই পরীক্ষায় ঝাঁপিয়ে পড়লো আর এই রহস্যময় ধাঁধার নাম দেওয়া হলো সিকাডা থ্রী থ্রী জিরো ওয়ান। 


সিকাডা অর্থ মত বা ঘুগরি পোকা. ছবি পোস্ট করার কিছুক্ষণের মাঝেই গুজব ছড়িয়ে পড়ল যে এটি কোন গোপন গোয়েন্দা সংস্থার কাজ হতে পারে. ক্রিপ্টোগ্রাফি, স্টেনোগ্রাফি এবং অন্যান্য সম্পর্কিত ক্ষেত্রে দক্ষ ব্যক্তিদের নিয়োগের উদ্দেশ্যে. অবশ্য তখনও এটি গুজব ছাড়া কিছুই ছিল না. সারা বিশ্বের সব কোড সমাধানকারীরা ব্যস্ত তখন ছবি নিকট করতে কিন্তু কেউই কোনো ক্রিউ পায়না এই ধাঁধার সমাধান করা যেন অন্ধকারে ঢিল ছুড়ে এগিয়ে যাওয়া কারণ কেউ জানে না এর শেষ গন্তব্য কি ?  কিংবা কারা অপেক্ষা করছে পর্দার ওপারে। অবশেষে ছবি প্রকাশের কিছুদিন পর জুয়েল এরিকসন নামের এক যুবক আবিষ্কার করেন যে এই ছবি টেক্সট এডিটর দিয়ে ওপেন করলে গোপনীয় ইনক্রিপটেড কিছু কোড পাওয়া যাচ্ছে । চলুন জুয়েল এরিকসনের সাথেই আগানো যাক এই ধাঁধার উন্মোচনের দিকে। শুরু হলো তার মাথা ঘামানো. শেষ স্টেনোগ্রাফি সফটওয়্যারের সাহায্যে এগিয়ে যায়. জুয়েল বলেন যে ঘটনাক্রমে আমি দু হাজার বারো সালে প্রকাশিত সেই সিকাডা থ্রী থ্রী জিরো ওয়ানের ধাঁধার সন্ধান পাই. দুর্ভাগ্যক্রমে আমি সবার থেকে পিছিয়ে ছিলাম কারণ আমি ছবি প্রকাশিত হওয়ার অনেক পরে একটি দেখতে পাই. প্রথম দিকে আমি ব্যাপারটা বেশ সহজ ভাবেই নিয়েছিলাম. যেন কোন সহজ ধাঁধার সমাধান করছি. কিন্তু পরে বুঝতে পারলাম ব্যাপারটা এত সহজ হবে না. আমি কখনো হাল ছেড়ে দিই নি.


সবসময় এমন কিছু চাইতাম যা আমার ঘাম ছুটিয়ে দেবে. তাই সিকাডা আমার জন্য খুব আকর্ষণীয় ছিল. যাই হোক. টেক্সট এডিটর দিয়ে ওপেন করার পর দেখা গেল কোডগুলো সাজালে অন্য আর একটা লিঙ্ক তৈরি হয়. jewel এরিকসন এর সেই লিঙ্কে ক্লিক করতেই তার চোখের সামনে ভেসে উঠলো একটি হাঁসের ছবি এবং সেই সাথে একটি ইংরেজিতে লেখাপস এটা শুধুই ফাঁদ । মনে হচ্ছে তুমি ঠিক মতো ধারার সমাধান করতে পারোনি হতাশ না হয়ে আউট গ্যাস নামের এক স্টেনোগ্রাফি সফট্ওয়ারের মাধ্যমে জুয়েল এরিক্সন আবার শুরু করলেন মাথা ঘামানো। পেশায় ক্লিপোগ্রাফি গবেষক জুয়েল লেবার খুঁজে পেলেন আসল জিনিস. হাঁসের এই ছবির মাঝেই লুকোনো বেশ কিছু সংখ্যার সমন্বয়ে তৈরি এক নতুন ধাঁধা. কোড ব্রেক করে আবার পাওয়া গেল লিংক. এবার reddit ওয়েবসাইটে ঢুকে পড়লেন তিনি. সেখানে পড়লেন আরেক বিপদে. রেডিটের পুরো পেজ জুড়ে সব অদ্ভুত সাংকেতিক ভাষায় কিছু পোস্ট করা হয়েছে. শুরু হল আবার মাথা ঘামানো. এদিকে সিকাডা ফোরাম জমে উঠেছে বিভিন্ন ফ্যান ফিকশন. তাদের সাহায্য নিয়ে রেডিটের সেই পেজে পাওয়া গেল কিছু ক্লু। কিন্তু তা সমাধানের প্রয়োজন একটা বই।


সেই পেজেই আরো সব কোড ভেঙে দেখা গেলো বইয়ের নাম দ্য নবীন নোসিয়ান । সিকাডা ফোরামের অন্যান্য হ্যাকাররাও বইটি বের করতে সহায়তা করেছিল। এটি মধ্যযুগীয় কাব্যমালার সমন্বয় রচিত একটি পুস্তক।  এরিকসন তার স্টেনোগ্রাফি নিয়ে কাজে লেগে গেলেন সেই কোড ডিকোড করতে। কিন্তু আবার বিপদ কারণ বার্তার মাঝে বেশ কিছু ধাঁধা লুকিয়ে আছে যার উত্তরে বেরিয়ে আসবে কিছু সংখ্যা । এবার পাওয়া গেলো একটা ফোন নাম্বারের অংশ   এটি ছিল টেক্সাসের কারো নাম্বারের অংশ। জুয়েল এরিকসন টেক্সাসের ফোন সহায়িকা খেটে বেশ কয়েকটি সম্ভাব্য নাম্বারের তালিকা তৈরি করে সেগুলোতে ফোন দিতে থাকেন এক এক করে. এক সময় পাওয়া গেল কাঙ্ক্ষিত ফোন নাম্বার.  কোনো মানুষ ধরেনি সেই ফোন রেকর্ড করা যান্ত্রিক কন্ঠে কেউ বলে ওঠে দারুন তুমি খুবই ভালো করেছো. এবার প্রথম ছবিতে ফিরে যাও. সেখানে আরো তিনটি প্রাইম নাম্বার লুকিয়ে আছে. তাদের একটা থ্রী থ্রী জিরো ওয়ান. বাকি দুটো তুমি খুঁজে বের করবে। এরপর তিনটি সংখ্যা একত্রে গুণ করে গুণফলের পরে ডট কম বসিয়ে চলে যাও তোমার পরবর্তী ধাঁধার জগতে. শুভকামনা, বিদায়. শুধু জুয়েলারিক্সও না. এমনকি কিছু প্রাইভেট মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাও এর সমাধান করতে লেগে গেছিল. ধাঁধা কি জন্য ছিল? এর পেছনে কে ছিল? শেষে পৌঁছলে কি হয়?


কেউই জানত না এর উত্তর. অনেকেই এটাকে নিছক রসিকতা হিসেবে মন্তব্য করেন. জুয়েল তখনও ব্যস্ত বাকি দুটো সংখ্যা খুঁজে বের করতে. স্টেনোগ্রাফি ফেল হলো এখানে. jewelry এর ভ্রু কুচকে গেলো কি মুশকিল ? এই ধাঁধার কি কোনো শেষ আছে? কিন্তু তিনি হাল ছাড়লেন না. যেহেতু স্টেনোগ্রাফি ব্যবহার করেও তিনি নতুন কিছু বের করতে পারলেন না. তাই তিনি সফটওয়্যার ব্যবহার ছেড়ে নিজের চোখে ছবি খানা পরখ করতে থাকেন. বেশ কিছুদিন পরক করার পর তিনি পরবর্তী দুটো সংখ্যা বের করার খুব সহজ একটা উপায় বের করলেন. মজার বিষয় হলো বাকি দুটো নাম্বার পাওয়া গেলো প্রথম ছবির দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ হিসাব করে. দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ও three three zero one গুণ করে শেষে ডট কম লাগিয়ে যে web address পাওয়া গেলেও সেখানে একটা count down চলছিল. সাথে ছিল মথের একটি ছবি. জুয়েলা এরিকসন অপেক্ষা করতে থাকলেন কাউন্টডাউন শেষ হওয়া পর্যন্ত.

 তারপর পুরো ওয়েবসাইটের চেহারা একদমই বদলে গেল. সেখানে চলে এলো বেশ কিছু সংখ্যা যা দেখে বোঝাই যাচ্ছিল কিছু স্থানের স্থানাংকের তালিকা.  স্থানাঙ্ক গুলো বিশ্বজুড়ে পাঁচটি ভিন্ন দেশে চোদ্দটি অবস্থান দেখাচ্ছিল. স্পেন, রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং পোল্যান্ডের বিভিন্ন স্থান নির্দেশ করা আছে সেই স্থানাঙ্ক গুলোতে. কিন্তু এরিকশনের পক্ষে এতগুলো দেশ ভ্রমণ করা সম্ভব নয়. তাই তিনি সিকাডা সমাধানকারীদের নিজস্ব ব্লগে  চোখ রাখতেন. এরিকসন জানতেন তিনি থামবেন না এতদূরে এসে. শেষ পর্যন্ত চেষ্টা করে যাবেন. অপরদিকে সিকাডা থ্রী থ্রী জিরো ওয়ান একটা সংগঠন বলে যারা বিশ্বাস করতে শুরু করেছিলেন তারা এবার নড়েচড়ে বসলেন. বুঝতে পারলেন এটা কোনো ট্রল নয়. একদমই অন্য কিছু. প্রচণ্ড মাথা খাটানো হয়েছে প্রতিটি কোড এ । কিন্তু জুয়েল তার হতাশা জানতে ভুললেন না. তিনি বললেন ফোরামে পুরো ব্যাপারটা খুব হতাশা জনক ছিল. বিশেষ করে যখন মানুষজন সমাধান বের করে অন্যজনকে জানিয়ে দিচ্ছিল. সবাই যেন মজার সাথে নিয়েছিল. এটা অত্যন্ত দুঃখজনক. আমরা অনেকেই নিজের প্রচেষ্টায় এগিয়ে যাচ্ছিলাম. তাই খুব বিরক্ত হয়েছিলাম. মানুষের বোকামিতে. 


আস্তে আস্তে সিকাডা ফোরামে স্থানীয় সিকাডা সমাধানকারীরা প্রতিটি স্থানে একটা করে মথের পোস্টারের সাথে কিউআর কোড আবিষ্কার করে. শুরু করেন তার মাথা খাটানো. কিউআর কোডগুলো নিয়ে যায় একটা ছবিতে. সেই ছবিতে আবার ধাঁধা. ধাঁধার সমাধান নিয়ে যায় আর একটি বইয়ে. সেই বই থেকে আরেকটি ওয়েবসাইটে. কিন্তু সেই লিঙ্কে প্রবেশ করতে প্রয়োজন টর ব্রাউজার. যারা  যারা ডিপ ওয়েব ডার্কওয়েব সম্পর্কে হালকা একটু জানেন তাদেরই টর নেটওয়ার্ক  সম্পর্কে শোনার কথা. টর র্নেটওয়ার্কে আপনার অনলাইন পরিচয়কে ছদ্মবেশে বিভিন্ন টর্চ সার্ভার দিয়ে ইনফেকশান করিয়ে তারপরে সেই ট্রাফিককে নির্দিষ্ট স্থানে পাঠানো হয়. ফলে আপনার পরিচয় ট্র্যাক করা অসম্ভব হয়ে পরে. মাথা খারাপ হওয়ার মতো অবস্থা. তবে এখানে ধাঁধাটি একটি অপ্রত্যাশিত মোড় নেয়. কারণ প্রথম কয়েকজন ধাঁধা সমাধানকারীদের খুঁজে পাওয়ার পর বাকি সবার প্রবেশাধিকার বন্ধ করে দিয়েছে তারা. একটা বার্তা দিয়ে সাইটটি বন্ধ করে দিয়েছে তারা. 

আমরা অনুসরণকারীদের নয় সেরাকে চাই. চূড়ান্ত প্রার্থীদের অন্যদের সাথে পাজলের ফাইনাল স্টেজের কিছু শেয়ার করতেও নিষেধ করা হয়. সময়ের সাথে হেরে যান জুয়েল এরিকসন. প্রায় এক মাস নিরবতার পর রেডিটে ধাঁধাটির সমাপ্তি ঘোষণা করে একটি ছবি পোস্ট করা হয়. সেখানে লেখা ছিল হ্যালো আমরা যাদের খুঁজছিলাম তাদের পেয়েছি আর এখানেই শেষ হচ্ছে আমাদের জার্নি এখন ধন্যবাদ সবাইকে তাদের চেষ্টার জন্যে যারা টেস্ট কমপ্লিট করতে পারেননি বা আমাদের থেকে কোনো ইমেইল পাননি তারা হতাশ হবেন না আরো সুযোগ আসবে ধন্যবাদ সবাইকে থ্রী থ্রী জিরো ওয়ান। দীর্ঘ একুশ দিন যাবত তার সিকাডা যাত্রার তাই এখানেই যবনিকা পাথ হয় । এখানে অনেকেই ব্যাখ্যা দেয় যে ধাঁধাটি সবার সময় নষ্ট করা রসিকতা ছাড়া আর কিছুই ছিল না কিন্তু প্রশ্নগুলো উত্তরহীন রয়ে যায়. দেখে মনে হচ্ছিল এখানেই সব শেষ. কিন্তু কে জানতো এটা কেবল শুরু মাত্র. এরিকসন বিফল হলেও যারা টরের  লিংকে ঢুকতে পেরেছিলেন তাদের মাঝে একজনের নাম টেকনো লগি। তিনি সিকাডা ত্রি থ্রি জিরো ওয়ানের রহস্যটা খুলতে সক্ষম হয়েছিলেন. 


চলুন এবার যাওয়া যাক তার সাথে. এরিকসন না পারলেও অনেকেই সেই টর ব্রাউজার লিংকে প্রবেশ করতে পেরেছিলেন. প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের সেই একজন হলেন টেকনো লগি নামের এক ছাত্র. এই নাম ব্যবহার করে তিনি সিকারা থ্রি থ্রি জিরো ওয়ানের রহস্যজন খুলতে সক্ষম হয়েছিলেন. । টর্ ব্রাউজারের সেই লিঙ্কে প্রবেশ করার পর নতুন ছবির ধাতার সন্ধান পাওয়া যায়. সেই ছবিতে সিকাডা থ্রী থ্রী জিরো ওয়ান একটি বইয়ের কথা ইঙ্গিত করেছিল. সেটি হচ্ছে উইলিয়াম ব্ল্যাক রচিত দ্যা ম্যারেজ অফ হেভেন এন্ড হেল্প. সেখান থেকে সহায়ক চাবি বের করে তিনি আরেকটি টর ব্রাউজার লিংকের সন্ধান পান. সেখান থেকে আরো কোড ডিকোড করার পর তাকে সিকাডা থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল এই কোডটি একটি নির্দিষ্ট জিমেল ঠিকানায় প্রেরণ করতে হবে. তিনি তাই করার পর তাকে সুসংবাদ প্রেরণ করা হলো. আর কোন ধাঁধা নেই. তুমি বিজয়ী হয়েছো. তারপর কি হল? সেটা একটু পরে বলছি. এই জটিল খেলার পেছনে যে ছিল সে সব সময় প্রতিটা ছবি বা ধাঁধায় একটা ডিজিটাল সিগনেচার জড়িয়ে দিতো ফলে ব্যবহারকারীরা সহজেই বুঝতে পারতো যে আসলেই তা সিকাডার কাছ থেকে এসেছে কিনা। সিকাডা হারিয়ে যাওয়ার ঠিক এক বছর একদিন পর এমনই আরেকটা ছবি আবার পোস্ট করা হয়। এটার ডিজিটাল সিগনেচার জানান দেয় তা সিকাডা থেকেই এসেছে. আবার তোলপাড় হয় ইন্টারনেট দুনিয়া. নেশার মতো লেগে যায় মানুষ. রহস্যের খোঁজে. দ্বিতীয় ধাঁধাটি  প্রথম থেকে খুব একটা আলাদা নয়. ছবি থেকে কোড, কোড থেকে বই,  বই থেকে লিঙ্ক আস্তে আস্তে পাজল খুলতে শুরু হয় আগের মতই.  একসময় সেই রেকর্ডিং এবার পার্থক্য হলো ইন্সট্যান্ট ইমার্জেন্স নামের একটি মিউজিক ফাইলে থাকে কোড। আরেকটি ক্লু একটা ইনক্রিপটে টুইটার একাউন্টে নিয়ে যায় সেখানে পাওয়া যায় একটা ছবি এটাতে ছিল রুনিক বর্ণমালায় লেখা কিছু বেশ কিছু সময় ব্যবহারকারীরা এখানে থমকে থাকে। তারা একসময় সফলও হয় কোড ভাঙ্গতে পাওয়া যায় আবার কিছু স্থানের স্থানাঙ্ক এর তালিকা. আবার কিছু পোস্টার. এবার ছিল চার দেশের আট জায়গা.


 কিন্তু আবারো প্রথম কয়েকজন ধাঁধা সমাধানকারীদের খুঁজে পাওয়ার পর বাকি সবার প্রবেশাধিকার বন্ধ করে দেয় তাঁরা। কিন্তু প্রথমবারের মতো রেডিটে ঘোষণা দেওয়া হয় না এবার. একদম উধাও হয়ে যায় তারা. কিন্তু এখানেও শেষ নয়. দু হাজার চোদ্দ সালে আসে তৃতীয় রাউন্ড। সেই একই ছবি বই কোড। কিন্তু এইবার দেখা গেল পাজেল একটা বইকে কেন্দ্র করে করছে. বইটির নাম ছিল লিভার প্রাইমাস. যার অর্থ প্রথম বই. লেখক কে জানেন? সিকাডা স্বয়ং। বইটা লেখা রুনিক ভাষায় প্রতি পদে পদে ইনকোড করা বিভিন্ন দার্শনিক ও আদর্শিক ধারণা । কিন্তু এবার বেশিরভাগ লিঙ্কই ছিল রেফারেন্স।  রুনিক ভাষায় লেখা সেই বইয়ের বেশিরভাগ কোড এখনো ভাঙা সম্ভব হয় নি। দুই হাজার পনেরো সালে কোনো ছবি পোস্ট না করলেও দুহাজার ষোলো সালে লিভার প্রাইমাস বইয়ের কোড ভাঙার অনুরোধের একটা ছবি পোস্ট করে তারা । এরপর আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি তাদের প্রশ্ন রয়ে যায় ধাঁধা কি জন্য ছিল ? এর পেছনে কে ছিল? শেষে পৌঁছলে কি হতো? প্রথম ধাঁধা শেষে চূড়ান্ত প্রার্থীরা এই email টি পেয়েছিলেন বলে মনে করা হয়.

 যার সারমর্ম ছিল আমরা একটি আন্তর্জাতিক সংঘ, যাদের কোনো নাম, চিহ্ন কিংবা পরিচয় নেই. আমাদের সদস্যদের কোনো তালিকাও আমরা তৈরি করিনি. আমাদের কোনো বিজ্ঞাপন নেই. তোমরা হয়তো ভাবছো আমরা কি করতে চাচ্ছি? শুধু এটুকুই বলবো আমরা তোমাদের মতো মেধাবী এবং চিন্তাবিদ. আমরা ইন্টারনেট মুক্তিতে বিশ্বাস করি. আমরা কিছু প্রকল্প হাতে নিয়েছি এবং তোমরা সম্মতি প্রদান করলে আমাদের পরবর্তী প্রকল্পের অংশীদার হতে পারবে. এই ইমেলে সিকাডা তাদের একটি আন্তর্জাতিক গোষ্ঠী হিসেবে প্রকাশ করে. তারা বিশ্বাস করে যে গোপনীয়তা একটি অবিচ্ছেদ্য অধিকার. প্রতিটি ধাঁধার উদ্দেশ্য হলো পৃথিবীতে গোপনীয়তা বিষয়ক সমস্যাগুলোর সমাধান করার প্রচেষ্টায় সম্ভাবনা ব্যক্তিদের নিয়োগ করা. বিজয়ীদের সম্ভবত ডাক কুয়োপের মাধ্যমে সিকাডার সংঘের সাথে বৈঠক ও নিয়োগ দেওয়া হয়. দু হাজার পনেরো সালে রোলিং স্টোনকে দেওয়া প্রথম ধাঁধার দুই তথাকথিত বিজয়ী একটি সাক্ষাৎকারে বলেন যে তাদের ডাক ওয়েবের একটি ফোরামে নেওয়া হয়েছিল. তাঁরা বলেন সেখানে বেশ কিছু লোক ছিল. 


আমি জানি না তাঁরা কারা কিংবা কি চায়। সবকিছুই কেমন যেন অদ্ভুত লাগছিল তারা যা বলছিল তা আমরা নিজেরাও ভালোমতো বুঝতে পারছিলাম না. এখানে তাদের কিছু অদ্ভুত প্রশ্ন করা হয়. তাদের বলা হয় আমরা ইন্টারনেট মুক্তিতে বিশ্বাস করি. আমরা কিছু প্রকল্প হাতে নিয়ছি. এতে হতাশ হয়ে ওই দুজন সরে আসেন. পরে সেখানেও তাদের সাথে আর যোগাযোগ করেনি. কিন্তু আরও যারা বিজয়ী ছিল তাদের পরিচয় কেউই জানে না. একটি গোপন সংস্থার ক্ ক্রিপ্টোগ্রাফি  ধাঁধা দিয়ে নিয়োগের  ধারণাটা কিছুটা অযৌক্তিক বা এমনকি ষড়যন্ত্রমূলক মনে হতে পারে. কিন্তু এটা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন নয়. ইউএস নেভি ও ব্রিটিশ গোয়েন্দা সংস্থা জিসিএইচ কিউ এর এমন ইতিহাস আগেও ছিল. সিকাডার থ্রি থ্রি জিরো ওয়ান ইন্টারনেটের জগতে অন্যতম এক বিস্ময় হয়েই রয়ে গেছে এখনো. এই ধাঁধার সূত্রপাত ইন্টারনেটে হলেও এর  কার্যক্রম কিন্তু পরিচালিত হয় টেলিফোনে সংগীতে অপ্রকাশিত এবং দুষ্প্রাপ্য কিছু বইতে। ডিজিটাল ছবি এমনকি বিভিন্ন জায়গায় ছাপানো কাগজের মাধ্যম । কিন্তু এর সবটাই লুকানো হয়েছে এনক্রিপশন এবং এনকোডিং করে। এই ধাঁধার সিরিজ গুলো শুধুমাত্র কম্পিউটারে বসে সন্ধান করা যাবে না। এর জন্য প্রতিযোগীকে যেতে হবে বিভিন্ন জায়গায়. এর পেছনে কারা আছে? কি তাদের উদ্দেশ্য কিংবা কেন? তাঁরা হঠাৎ করে চুপ হয়ে যায়. এসব প্রশ্নের উত্তর কারো জানা নেই. আবার কি ফিরে আসবে তাঁরা? নতুন কোন পাজেল নিয়? কে জানে?    

 

  









মন্তব্যসমূহ

Blog Posts

ন্যানো টেকনোলজি কিভাবে কাজ করে ?

  যদি বলি আপনার চোখ দেখতে পারে না এমন গভীর ও প্রায় অনাবিষ্কৃত একটা পৃথিবী আছে. হয়তো বলতে পারেন যে মহাবিশ্বে কত গ্রহই তো আছে? সব খোঁজ কি আমরা পেয়েছি? কিন্তু যদি বলি আমাদের এই পৃথিবীর ভেতরে আরো একটি জগত আছে এবং যে জগৎ ছড়িয়ে আছে আমাদের গোটা বিশ্ব জুড়ে. এইবার হয়তো নড়েচড়ে বসবেন. হ্যাঁ আমাদের চোখের সামনেই রয়েছে এমন এক রাজ্য যে আমরা খালি চোখে দেখতে পাই না. এটাকে বলা হয় অণুবীক্ষণিক বিশ্ব. এই অণুবীক্ষণই বিশ্ব প্রচন্ড আকর্ষণীয় ও চমকে দেওয়ার মতো. কি কি ঘটছে এখানে তা আমার আপনার কল্পনারও বাইরে. এটা যেন কোনো ভিন গ্রহ বাসীদের রাজ্য. সম্ভাবনার দুয়ার খুলে রাখা আছে এই অণুবীক্ষণিক বা nano বিশ্বে.  ন্যানো কি ন্যানো হলো পরিমাপের একক। এক মিটারের একশো কোটি ভাগের এক ভাগ হচ্ছে এক ন্যানো। আর ন্যানো টেকনোলজি হলো বিজ্ঞানের এই অতি ক্ষুদ্র স্তরে একটা কিছু তৈরী করা আসলে শুধু তৈরি করা না. ন্যানোমিটার স্কেলে পরিবর্তন, পরিবর্তন, ধ্বংস বা সৃষ্টি সম্পর্কিত টেকনোলজিকেই ন্যানো টেকনোলজি বলে. অর্থাৎ ন্যানোমিটার স্কেলে পরিমিত যেকোনো বিষয়ে বহুমাত্রিক টেকনোলজিকে ন্যানো প্রযুক্তি বা ন্যানো টেকনোলজি বলা যে...

লুসিড ড্রিম কাকে বলে ? লুসিড ড্রিম কিভাবে দেখতে হয় ?

 স্বপ্ন নিয়ন্ত্রণ করার কথা ভেবেছেন কখনো? নিশ্চয়ই ভাবছেন জেগে জেগে দিবাস্বপ্ন দেখার কথা বলছি না তো? কিন্তু না, রীতিমতো ঘুমিয়ে দেখা স্বপ্নও নিয়ন্ত্রণের কথাই বলছি, আপনার ইচ্ছামত স্বপ্ন দেখবেন। ইচ্ছা মতো নিয়ন্ত্রণ করবেন। আর পছন্দ না হলে অর্থাৎ দুঃস্বপ্ন দেখা শুরু করলে সেটার গতিপথ পাল্টে দেবেন একেবারে নিমেষে। আধুনিক বিজ্ঞানের ভাষায় এটা খুবই সম্ভব একে বলা হয় লুসিভ ড্রিম। লুসিড ড্রিমিং এর সাথে আপনারা অনেকেই হয়তো পরিচিত আছেন। অনেকে পরিচিত থাকলেও হয়তো এটা কেন হচ্ছে বা কিভাবে হচ্ছে তা নিয়ে বেশ দ্বিধা দ্বন্দ্বে আছে এসবেরই উত্তর মিলবে আজকের এই লিখাতে।   লুসিড ড্রিম অর্থ কি? সহজ বাংলায় অনুবাদ করতে গেলে বলা যায় লুসিড অর্থ পরিষ্কার. অর্থাৎ স্পষ্ট আর dream মানে তো আমরা সবাই জানি যে স্বপ্ন। লুসিড ডিম হলো সেই স্বপ্ন যে আমাদের স্পষ্ট ভাবে মনে থাকে এবং স্বপ্ন চলাকালীন সময়েও আমরা এ উপলব্ধি করতে পারি যে এটি বাস্তব নয় বরং এটি স্বপ্ন কিন্তু শুধুমাত্র আক্ষরিক অর্থ দিয়ে লুসিড ড্রিম ব্যাখ্যা করলে ভুল হবে একটু অন্যভাবে বলা যাক ।  মনে করুন স্বপ্নে আপনি কি পাহাড়ের উপর থেকে দ্রুত গ...

প্রযুক্তি দুনিয়াতে পর্দার আড়ালে থেকে যাওয়া এক প্রতিভাবান এর গল্প ।

পর্দার আড়ালে একা খেলে যাচ্ছেন একজন. কামাচ্ছেন বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার. অথচ তাকে চেনে খুব কম সংখ্যক মানুষ. আইটি জগতে ইলন মাস্ক, জেফ বোজোস বা বিট গ্রেটসের সাথে তার নামও সমান তালে চলার কথা ছিল. কিন্তু বিহাইন্ড দা সিনে একা গোল করে যাচ্ছেন তিনি. নাম ড্রোন ইয়াং পিং ড্রোন ইয়াং পিং নামটি মোবাইল ফোনের জগতে খুবই কম মানুষের শোনা. তবে তার নাম অজানা থাকলেও তার কোম্পানি বিবিকে ফোন গিগদের মধ্যে বেশ পরিচিত. ওয়ান প্লাস, রিয়েলমি, অপো, ভিভো এবং আইকিউ. এই পাঁচটি জনপ্রিয় মোবাইল ব্র্যান্ডের একক মালিক ডোন ইয়াং পিন.  এই ব্র্যান্ড গুলো তার কোম্পানিতে পরিণত করেছে বর্তমানের সবচেয়ে বড় মোবাইল ফোন উৎপাদনকারী কোম্পানিতে. অ্যাপেল , শাওমি বা স্যামসাং যারা মোবাইল ফোনের জগতে বর্তমানে সবচেয়ে বড় ব্র্যান্ড তাদেরকেও পেছনে ফেলে এগিয়ে গিয়েছে বিবিকে কোম্পানি। কিন্তু এত সফলতার সত্ত্বেও বেশিরভাগ মোবাইল ফোন ব্যবহারকারী এমনকি ফোন গিগরাও তার সম্পর্কে বলতে গেলে তেমন কিছুই জানে না. এলেন মাস্ক, স্টিভ জবস বা জ্যাকমা, যারা কিনা টেকনোলজির জগতে খুবই পরিচিত তাদের সম্পর্কে অনলাইনে  অগণিত তথ্য রয়েছে। কিন্তু ডন ইয়ং পিং এর...

সারোগেসি কি ?

সারোগেসির মাধ্যমে সন্তান ধারণ করা নিয়ে এখনো বহু বিতর্ক আছে. শুধু আমাদের দেশে নয়, সারা বিশ্বেই এই পদ্ধতি নিয়ে তর্ক বিতর্কের শেষ নেই.  এটার আইনি প্রক্রিয়াও জটিল। কারণ এটি একেক রাষ্ট্রে. শারোগেসি আইন একেক রকম. নারী মা হবেন প্রাকৃতিক নিয়ম সমাজ এমনটাই দেখতে অভ্যস্ত. কিন্তু কোন কারণে মা হবার ক্ষমতা না থাকলে তাকে পরিবার ও আশপাশ থেকে যে পরিমাণ কটু কথা শুনতে হয় তা সাধারণ মানুষের ধারণারও বাইরে.   সরোগেসি বিষয়টি কি? চিকিৎসা শাস্ত্রের অগ্রগতি এমন মায়েদের সামনে এনেছে যারা গর্ভ ভাড়া দিয়ে নিজে বাঁচেন অন্যদের মাতৃ সুখ দেন । একজন নারীর গর্ভে অন্য দম্পতির সন্তান ধারণের পদ্ধতিকে সারোগেসি বলা হয়.সারোগেসির এই  পদ্ধতি বেশ দীর্ঘকালীন. আইভিএফ পদ্ধতিতে স্ত্রী ও পুরুষের ডিম্বাণু শুক্রাণু দেহের বাইরে নিষিক্ত করে তা নারীর গর্ভাশয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়. কিন্তু এখানেও জটিলতা. কেন? সে বিষয়ে পরে আসছি. বাংলাদেশ সহ বহু দেশই এই সারোগেসি একরকম ভাবে নিষিদ্ধ. সুতরাং বিষয় টি  সংবেদনশীল. এমনকি বেশিরভাগ ধর্মেও রয়েছে নিষেধাজ্ঞা. চলুন কথা বলি সারোগেসি মাদার সম্পর্কে। আইভিএফ বা টেস্ট টি...

পেগাসাস স্পাইওয়ার কি ?

গত কিছুদিন ধরেই বিশ্ব রাজনীতি এবং প্রযুক্তি জগৎ এই দুই জায়গাতেই আলোচনার বিষয়বস্তু একটাই। সেটা হচ্ছে পেগাসাস স্পাইওয়ার. বিশ্বজুড়ে নানান দেশের মানবাধিকার কর্মী সাংবাদিক আইনজীবী ও রাজনীতিকদের ফোনের নজরদারি চালানোর ঘটনা ফাঁস হওয়ার পর ইজরায়েলের বেসরকারি কোম্পানি nso গ্রুপের তৈরি করা এই সফটওয়্যার নিয়ে এখন তুমুল তরজা চলছে দুনিয়া জুড়ে । চলুন কথা বলি দুনিয়া ওলট পালট করে দেওয়া স্পাইওয়ার সম্পর্কে । পেগাসাস মূলত একটি নজরদারি বিষয়ক সফটওয়্যার । ইজরাইলের সংস্থা এনএসও ই সফটওয়্যার তৈরি করেছে। যা দিয়ে যে কারো মোবাইলে আড়ি পাতা যায়. এটা কিন্তু সাধারণ কোন নজরদারি নয়. আগে ফোনে আড়ি পেতে শুধু দুই প্রান্তের কথাবার্তা শোনা যেত. আর সফটওয়্যারের মাধ্যমে গোটা ফোনটারই নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় হ্যাকাররা. ফোনের কথাবার্তা WhatsApp এর চ্যাট, ছবি, ফোনে কি কি তথ্য আছে সবই জানা যায়. আরো ভয়ানক ব্যবহার হচ্ছে মোবাইল যিনি ব্যবহার করছেন তিনি জানতেই পারেন না যে তার ফোন হ্যাক করা হয়েছে. সমস্ত তথ্য পাচার হয়ে যাচ্ছে নির্দিষ্ট একটি গোষ্ঠীর কাছে. কিন্তু কারো ফোনে পেগাসাস software install করতে হলে তো সেই ফোনটাকে...

রেট রেস কি ?

      আপনি ঠিক কখন ইঁদুর দৌড়ে যোগ দিয়েছেন এটা হিসাব করা কঠিন. কিন্তু নিশ্চিত থাকুন আপনি এই দৌড়ে আছেন. ক্লাস eight এ পড়ার সময়ের কথা মনে আছে? সামনে বৃত্তি পরীক্ষা পাটিগণিত বীজগণিতের অংক প্যাঁচ লাগাচ্ছে বিজ্ঞানের জটিল সব সূত্র ভোরে ওঠে প্রাইভেট টিউটরের বাসায় ছোটা রাত জেগে পড়াশোনা. বয়সের তুলনায় অনেক বেশি কর্ম ব্যস্ত একটা সময় নিশ্চয়ই কাটিয়েছেন তখন? আমরা সবাই কাটিয়েছি. সেই সময় নিশ্চয়ই অভিভাবক বলেছে এই তো আর কটা দিন. বৃত্তি পরীক্ষা শেষ হলেই জীবন শান্তি আর শান্তি. জীবনের নানা এপিসোডে আপনি এই কথাগুলো শুনেছেন অনেকবার অনেকের মুখে. এসএসসি পরীক্ষাটা দাও, কলেজে উঠলেই তো স্বাধীনতা. একবার ভার্সেটিতে উঠতে পারলেই জীবন হবে আনন্দে ভরপুর. একবার জব লাইফে ঢোকো. নিজের টাকায় আয়েশ করার মজাই অন্যরকম. শুনেছেন না এসব?  বয়স ঘড়ির ত্রিশের প্রান্তে দাঁড়িয়ে হিসেবগুলো মেলাতে পারেন কি? কি মনে হয়? এই এপিসোডগুলোর কোনোটা পার হবার সময় জীবন খানিকটা হলেও সহজ হয়েছে? সুন্দর হয়েছে? হয়নি, হবেও না, মিথ্যা একটা মরীচিকার আশায় আমরা ছুটেছি ঠিকই আমাদের ছোটানো হয়েছে, কিন্তু হিসাব মেলেনি ছুটত...

ম্যান্ডেলা ইফেক্ট কেনো হয়?

   আচ্ছা নিজের স্মৃতি শক্তির উপর কতটা বিশ্বাস আছে আপনার? আচ্ছা বাদ দিয়ে আপনার কথা. গণমানুষের স্মৃতিশক্তির উপর নিশ্চয়ই বিশ্বাস আছে অনেকটা. না না. ধর্মীয় কোন বিশ্বাস না. এই গ্রহে ঘটে যাওয়া এমন সব ঘটনা. যা সবাই জানে. তা কি রকম মিথ্যা? এক দশক আগেও পৃথিবীর প্রায় এক তৃতীয়াংশ মানুষ জানতো যে অস্ট্রেলিয়ার রাজধানীর নাম সিডনি. আসলে কি তাই? গত এক দশকে এই ধারণা মোটামুটি পরিবর্তন হয়ে মানুষ জেনেছে অস্ট্রেলিয়ার রাজধানীর নাম ক্যানভেরা. এখনো এই ভুল হরমামেশাই করে যাচ্ছে মানুষ. বিশ্বাস না হলে আশেপাশের কিছু মানুষকে জিজ্ঞেস করে দেখতে পারে. প্রশ্ন করতে পারেন ম্যান্ডেলার নাম কেন? এই ফ্ললস মেমোরি সিন্ড্রোমকে ম্যান্ডেল এফেক্ট নামকরণ করেছেন প্যারানরমাল কনসালটেন্ট ফীয়না ব্রুম তার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে । দু হাজার দশ সালের এক আলোচনা সভায় উঠে আসে দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদ বিরোধী আন্দোলনের নেতা উনিশশো আশি সালে কারা জানে মারা যাওয়ার প্রসঙ্গ । অনেকেই সেদিন বলেছিল, টিভিতে এই নেতার শেষকৃত্যের আনুষ্ঠানিকতা দেখার অভিজ্ঞতার কথা. ম্যান্ডেলার স্ত্রীর হৃদয় নিন্দারও ভাষণের কথা উল্লেখ করেছিলেন কেউ কেউ. এমনক...

কিভাবে লিমিটলেস হওয়া যায় ? লিমিটলেস আসলে কিভাবে কাজ করে ?

এনজিটিপিল,  এটা এমন এক পিল যা আপনাকে করবে আল্ট্রা ফোকাসড. দেবে দুর্দান্ত মোটিভেশন. বের করে আনবে আপনার সর্বোচ্চ সম্ভাবনা. আপনি হয়ে উঠবেন আনস্টপল. বাস্তবতা পাবে প্রতিটি স্বপ্ন. কিন্তু সমস্যা হচ্ছে এমন কোন পিলের অস্তিত্ব নেই. ফলাফল আপনি আটকে আছেন একটি খাদে. সারাক্ষণ ক্লান্তি নিয়ে হয়ে উঠছেন আনপ্রোডাক্টিভ. নষ্ট হচ্ছে ক্রিয়েটিভিটি. সময় গড়িয়ে যায়. ঋতুর পরিবর্তন ঘটে. কিন্তু আপনি ডুবে থাকেন এক হতাশায় যাতে আপনি দিন দিন পিছিয়ে পরছেন. আপনি যা যা এতদিন অর্জন করবেন ভেবেছিলেন তা কিছুই আপনি অর্জন করতে পারেননি । নিজেকে সান্তনা দিচ্ছেন আগামীকাল হবে ভিন্ন। কিন্তু তা কখনোই হয়ে ওঠে না এখন যদি আপনাকে বলি কোনো জাদুকরী পিলের সাহায্যে নয় বাস্তবিক লিমিটলেস হয়ে ওঠা সম্ভব।  একদম প্রমাণিত পদ্ধতিতে যা একেবারে ফ্রিতে ব্যবহার করা সম্ভব.  তো আছেন তো শেষ পর্যন্ত ?  Limit less হওয়ার যাত্রায় ।  স্টেপ ওয়ান : এনার্জি--  মাত্র কয়েক মাস আগে আমি নিজেও আপনার মতো কর্মশক্তিহীন অনুভব করতাম. সামান্য কাজেই আসতো অবসন্নতা, গেয়ে ধরতো ক্লান্তি একদিন হঠাৎ টের পেলাম আমি নিজেই নিজের energy নি...

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কি ? আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কতটা ভযঙ্কর হতে পারে আগামী দিনের জন্য ?

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বহুল চর্চিত এবং ব্যবহৃত একটি শব্দ. মানুষের বুদ্ধিমত্তা ও চিন্তা শক্তিকে কম্পিউটার প্রোগ্রামিং এর মাধ্যমে মেশিন ল্যাঙ্গুয়েজে স্থাপন করা টেকনোলজিটাই হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স । এর মাধ্যমে কোন যন্ত্র নির্দিষ্ট প্রোগ্রামের আওতাধীন কিছু কাজ নিজে থেকেই করতে পারে নিজে নিজে সিদ্ধান্ত নিতে পারে।  টার্মিনেচার টাইপের কোনো সাইফাই সিনেমার গুরু বন্ধুর সংলাপ নয়।  A.I নিয়ে ভবিষ্যৎবাণী করেছিলেন পৃথিবীর সেরা বিজ্ঞানীদের একজন স্টিফেন হকিং আমার ভয় হয় তারা সত্যিই হয়তো একদিন মানুষকে হটিয়ে নিয়ন্ত্রকের আসনে বসে যাবে। বেঁচে থাকতেই BBC কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স তথা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে এভাবেই সবাইকে সতর্ক করেছিলেন তিনি। হকিংসের এই ভয় এখনো ভবিষ্যতের বিষয় হলেও অমূলক নয় মোটেও যন্ত্রকে বুদ্ধিমান করে তার আশীর্বাদ অনেক আছে। কিন্তু দীর্ঘ মেয়াদে সেই যন্ত্রই পৃথিবীর দখল নিতে চলেছে কিনা স্বয়ং সম্পূর্ণ হয়ে মানুষকেই বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে একদিন অপদার্থ তে পরিণত করবে কিনা সেই প্রশ্নটা উঠছে বারবার।  যুক্তরাষ্ট্রে...

মিনিমালিজম কি ? কিভাবে মিনিমালিস্ট হওয়া যায় ?

মিনিমামলিজম এই ধারণাটি বিগত কয়েক বছরে বেশ জনপ্রিয়তা লাভ করেছে এবং এর যথেষ্ট কারণও আছে. এই পুরো ব্যাপারটা কি? সেটাকে সঙ্গায়িত করা যায় এভাবে যে,  মিনিমালিজম হচ্ছে যা আমাদের জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সেগুলোকে ধারণ করা এবং বাকি সব কিছু যা আমাদের দৃষ্টিকে অন্যদিকে সরিয়ে নেয় সেগুলোকে ইচ্ছাকৃতভাবে ত্যাগ করা।   অর্থাৎ কোন কোন বিষয়ে জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং কোন জিনিসগুলোকে আমাদের কাছে সবচেয়ে মূল্যবান সেই সম্পর্কে একটা পরিষ্কার ধারণা থাকা এবং বাকি সব ত্যাগ  করে দেয়. সেগুলো নিয়েই জীবন ধারণ করা. কিন্তু এমন সংজ্ঞায়ন সত্ত্বেও minimalism কোন ধরাবাধা জীবন ব্যবস্থা নয় বা মিনিমালিস্ট হতে হলে কোন নির্দিষ্ট মানদণ্ড মেনে চলতে হবে এরকমটিও কিন্তু নয়. মিনিমালিস্ট লাইফ স্টাইল এমন একটি বিষয় যা প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য স্বতন্ত্র। এক্ষেত্রে মূল বিষয়টি হচ্ছে সত্যিকার অর্থে কোন কোন বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও প্রয়োজনীয় সেই সম্পর্কে একটা পরিষ্কার ধারণা নিয়ে সেই অনুযায়ী জীবন ধারণ করা. প্রিয় দর্শক চলুন দেখি মিনিমালিজম কিভাবে আপনার জীবনধারা বদলে দিতে পারে।  মিনিমালিস্ট জীবন অবশ...