সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

স্কিল না সার্টিফিকেট? সার্টিফিকেটের দিন কি তাহলে শেষ হয়ে এল ? দেশে এত বেকার কেন ?

  একদিকে বেকারের সংখ্যা বাড়ছে. অন্যদিকে চাকরিদাতারা বলছেন যোগ্য লোকের অভাব. আসলে বিষয়টা কি?


 বেকার সমস্যা. বিশাল জনগোষ্ঠী, দেশ, বাংলাদেশের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুতর একটা সমস্যা. সমস্যাটা আরো গুরুতর যখন এই বিশাল বেকার জনগোষ্ঠীর মধ্যে শিক্ষিতের সংখ্যাই বেশি. বিআইডিএস এর এক জরিপে দেখা গেছে বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষিতদের মধ্যে স্নাতকোত্তর পর্যায়ে বেকারত্বের হার চৌত্রিশ শতাংশ এবং স্নাতক পর্যায়ে এই হার সাইত্রিশ শতাংশ যুক্ত রাজ্যের প্রভাবশালী সময় কিনা ইকোনমিস্টের কলামেও বলা হয়েছে বর্তমানে বাংলাদেশের সাতচল্লিশ শতাংশ স্নাতকই বেকার. অর্থাৎ প্রতিবছর যদি বাংলাদেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক, স্নাতকোত্তর সহ উচ্চতর ডিগ্রী নিয়ে সারে তিন লাখ মানুষও বের হয় তবে তাদের প্রায় অর্ধেকই থেকে যাবে কর্মহীন।



  কেন এত এত বিএসসি, এমএসসি, বিবিএ, এমবিএ, বিএ, এমএস সার্টিফিকেটধারী উচ্চশিক্ষিত তরুণ তরুণী দিন শেষে বেকার থেকে যাচ্ছে হ্যাঁ এটা সত্য যে চাকরি প্রত্যাশীদের বিপরীতে যথেষ্ট কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা আমাদের দেশে নেই. কিন্তু আমাদের দেশে উচ্চশিক্ষিতদের অনেকেই যখন বেকার তখন প্রতিবেশী দেশ থেকে বহু মানুষ বাংলাদেশের বিভিন্ন সেক্টরে মোটা টাকা স্যালারিতে কাজ করছে. বাংলাদেশে কর্মনিত বিদেশিদের সংখ্যা কত হতে পারে? জানলে অবাক হবেন দেশের বিভিন্ন কোম্পানি সহ মাল্টি ন্যাশনাল প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রায় দশ লাখ বিদেশি এই মুহূর্তে কাজ করছে যাদের বেশিরভাগই উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা. তাদের একেকজনের বেতন প্রায় পাঁচ জন বাংলাদেশি কর্মকর্তার বেতনের সমপরিমাণ কিংবা ক্ষেত্রবিশেষে তার চেয়েও বেশি. কর্মসংস্থানের অভাব আছে সত্য কিন্তু যাও বা আছে সেখানেও কেন আমাদের উচ্চশিক্ষিত বেকার তরুণীরা সুযোগ পাচ্ছে না.


 certificate? নাকি দক্ষতা? যদি বলি শুধুমাত্র দক্ষতা না থাকার কারণেই পিছিয়ে পড়তে হচ্ছে আমাদেরকে. বাংলাদেশের যুবসমাজ স্কুল কলেজে যে শিক্ষা পাচ্ছে সেটা তাদেরকে কর্ম জীবনের জন্য পরিপূর্ণরূপে তৈরি করতে পারছে না ।



 এর কারণ হিসেবে বলা যায় বাংলাদেশের বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থা কারিগরি ও কমিউনিকেশনস এর দক্ষতা এবং কৌশলগত কর্ম ব্যবস্থাপনায় পার্শ্ববর্তী অন্যান্য দেশ যেমন ভারত, শ্রীলংকা, মালদ্বীপ, এমনকি ভুটানের চেয়েও অনেক পিছিয়ে রয়েছে. চীনে দুহাজার বিশ সালে প্রকৃত গ্রাজুয়েটের সংখ্যা ছিল বিয়াল্লিশ লাখের সামান্য একটু বেশি. একটু ভেবে দেখলে বোঝা যায় আমাদের দেশে উচ্চশিক্ষিতের হার চীনের চেয়ে কিন্তু কম নয়. অথচ পার্থক্যটা দেখুন. বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাক, বিআইজিডি এবং ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় যৌথভাবে করা এক জরিপে দেখা গেছে বাংলাদেশে শিক্ষার্থীদের মধ্যে কম্পিউটার ও ইংরেজি ভাষায় আত্মবিশ্বাসী মাত্র ষোলো শতাংশ । গবেষণার প্রতিবেদন অনুযায়ী মাত্র চোদ্দ শতাংশ তরুণ তরুণী কারিগরি প্রশিক্ষণ পেয়েছে। আবার ওই দক্ষতার মাপকাঠিতে দক্ষ তরুনের হার চব্বিশ শতাংশ অর্থাৎ নারীদের কম্পিউটারে দক্ষতার হার মাত্র দশ শতাংশ. অন্যদিকে ইংরেজি ভাষায় দক্ষতায় এগিয়ে মাত্র একুশ শতাংশ তরুণ. যেখানে নারীদের এই ভাষাগত দক্ষতার হার মাত্র চোদ্দ শতাংশ. এখানে ছোট্ট করে বলে রাখি skill development এর ওপর বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান আছে বাংলাদেশে.             কিন্তু দক্ষ করে তোলার ব্যাপারে বাংলাদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা নিয়েও আছে প্রশ্ন. ডেইলিস্টারের একটি প্রতিবেদন থেকে জানা যায় দেশের সত্তর শতাংশ শিক্ষার্থী মনে করে তাদের চাকরির বাজারের জন্য তৈরিতে তাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তেমন কোন অবদান নেই. অথবা এই ব্যাপারে তারা নিশ্চিত নন.



 আবার তাদের পাঠ্যসূচি একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কতটা সহায়ক এমন প্রশ্নেও পঁচাত্তর শতাংশ শিক্ষার্থীর মতামত নেতিবাচক । এছাড়াও দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এমন অনেক বিভাগ আছে যেগুলোর জন্য আক্ষরিক অর্থে কোন চাকরির ব্যবস্থাই নেই. যুগের সাথে তাল মিলিয়ে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার কারিকুলাম বা ল্যাব ফেসিলিটি আপডেট হচ্ছে না. অথচ যুক্তরাষ্ট্রের রকগার স্কুল অফ ম্যানেজমেন্ট এন্ড লেবার রিলেশনসের অধ্যাপক বিল ক্যাশেল মতে, সব প্রতিষ্ঠানে ভবিষ্যতের চাহিদার কথা চিন্তা করে প্রযুক্তিগত দক্ষতার দিকে মনোযোগী হচ্ছে. আর এসব দক্ষতা অর্জনের জন্য সার্টিফিকেট নয়. অধ্যাবসায় ও উদ্যোগ প্রয়োজন. সময়ের সঙ্গে বদলাচ্ছে চাকরির বাজার. বদলাচ্ছে প্রয়োজনীয় দক্ষতা.


 world economic forum এর মতে আগামী দশকের মধ্যেই বিশ্বব্যাপী এক বিলিয়নেরও বেশি চাকরি অর্থাৎ বিশ্ব চাকরি বাজারে প্রায় এক তৃতীয়াংশই প্রযুক্তির মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হবে । সম্প্রতি ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম তাদের প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে,  বাইশ সালের মধ্যে কর্মক্ষেত্রে নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানগুলো যে প্রযুক্তিগত দক্ষতাগুলোকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেবে তার শীর্ষে রয়েছে বিগ অ্যানালিটিকস মেশিন লার্নিং, ক্লাউড কম্পিউটিং ইত্যাদি আর এর কোনোটি সেভাবে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে শেখার কোনো ব্যবস্থা এখনো নেই । কেননা কর্মক্ষেত্রের চাহিদার কথা ভেবে শিক্ষা কার্যক্রমের যে পরিবর্তন প্রয়োজন ছিল তা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সম্ভব হয়নি. 



আগামী দশ বছরে কোন শিল্পগুলোই মানুষ দরকার হবে এবং কি ধরনের দক্ষতা আমাদের প্রয়োজন পরবে? এখানে  অটোমেশানের কথা মাথায় রাখা হচ্ছে কিনা, অটোমেশিন নিয়ে আমরা আলাদা পর্ব তৈরী করবো. সার্টিফিকেট কি তাহলে শুধুই সামাজিক মর্যাদা? না এটা একটা আত্মপরিচয়. একটা সময় ডিগ্রি বা সার্টিফিকেশনকে নিজেকে প্রমান করার লাইসেন্স মনে করা হলো.


 কেউ কেউ ভাবতো শুধু ডিগ্রী বা সার্টিফিকেশন থাকলেই যেকোনো নিয়োগ কর্তা আপনাকে বিবেচনা করবে. এখন আর সেটা দেখা যায় না. বরং আপনার প্রয়োজনীয় দক্ষতা না থাকলে আপনি কিছুই করতে পারবেন না. মজার বিষয় হচ্ছে বিশ্বব্যাপী প্রায় সাতান্ন দশমিক পাঁচ শতাংশ স্নাতক ডিগ্রীধারীদের চাকরি জীবনে তাদের পড়াশোনার বিষয় কোনো কাজেই আসে না লিংকিং এর সিও যেক উইনার বলেছেন চাকরির ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো প্রাসঙ্গিক দক্ষতা । সেক্ষেত্রে আপনি কিভাবে আপনার দক্ষতা অর্জন করেছেন? তা কিন্তু বিবেচ্য বিষয় নয়. এই তো কয়েক বছর আগে, এক প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়েছিল যে যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যাপেল কম্পিউটার ইনকপোরেটেডে যারা নিয়োগ পেয়েছেন  তাদের মধ্যে পঞ্চাশ শতাংশ কর্মীরই স্নাতক ডিগ্রি নেই । শুধু অ্যাপেল নয় নিউয়র্গ টাইমস কে দিয়ে এক সাক্ষাৎকারে গুগলের মানবসম্পদ বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট লাজলু বক বলেন কোনো প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি ছাড়া গুগুল কর্মীর সংখ্যা ধীরে ধীরে পাচ্ছে। গুগলের কিছু টিমে চোদ্দ শতাংশ কর্মীর প্রাতিষ্ঠানিক কোন ডিগ্রি নেই.



 তবে বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্ম এখন আগের চেয়ে অনেক আপডেটেড. তাঁরাও নিয়মিত চেষ্টা করে যাচ্ছে একাডেমিক শিক্ষার বাইরে গিয়ে. নিজেকে দক্ষ করে তোলার।  তাদের কেউ কেউ ভার্সিটি শেষ করার পর নিজে নিজে চেষ্টা করে আবার কেউ কেউ নিজে নিজে চেষ্টা করে সুবিধা করতে না পারলে শরণাপন্ন হয় বিভিন্ন স্কিল ডেভেলপমেন্ট প্রতিষ্ঠানের কাছে । বাংলাদেশের মতো একটি দেশ যে দেশে যুগোপযোগী শিক্ষা ব্যবস্থা নেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে স্কুল ডেভেলপমেন্টের তেমন কোনো সুযোগ নেই সেখানে বিভিন্ন আই টি ইনস্টিটিউতের মতো স্কিল ডেভেলপমেন্ট প্রতিষ্ঠানগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে আজ শেষ করতে চলেছি আমরা তার আগে বিশ্বের বড়ো বড়ো প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের দিকে তাকানো যাক বেশ কয়েকটি বিশ্ব বিখ্যাত প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা এই ড্রপ আউটের তালিকায় নাম লিখিয়েছেন যেমন মাইক্রোসফ্টের বিল গেটস , ফেসবুকের মার্ক জাকার্গবার্গ , টুইটারের জ্যাক Dorsey, ডেলের মাইকেল দেল, উবারের ট্রেভিস, হোয়াটসঅ্যাপের জেন কাম।  অতএব তাদের কাছ থেকে কেন ডিগ্রী খুব একটা গুরুত্বপূর্ণ নয় সেটা খুব সহজেই অনুমান করা যায়। অর্থাৎ আগামী দিনে দেখা যাবে তারাই ভালো জব পাচ্ছে যাদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আছে সেক্ষেত্রে কার কতগুলো ডিগ্রি আছে সেটা কিন্তু মোটেও বিবেচিত হবে না।   


 

মন্তব্যসমূহ

Blog Posts

লুসিড ড্রিম কাকে বলে ? লুসিড ড্রিম কিভাবে দেখতে হয় ?

 স্বপ্ন নিয়ন্ত্রণ করার কথা ভেবেছেন কখনো? নিশ্চয়ই ভাবছেন জেগে জেগে দিবাস্বপ্ন দেখার কথা বলছি না তো? কিন্তু না, রীতিমতো ঘুমিয়ে দেখা স্বপ্নও নিয়ন্ত্রণের কথাই বলছি, আপনার ইচ্ছামত স্বপ্ন দেখবেন। ইচ্ছা মতো নিয়ন্ত্রণ করবেন। আর পছন্দ না হলে অর্থাৎ দুঃস্বপ্ন দেখা শুরু করলে সেটার গতিপথ পাল্টে দেবেন একেবারে নিমেষে। আধুনিক বিজ্ঞানের ভাষায় এটা খুবই সম্ভব একে বলা হয় লুসিভ ড্রিম। লুসিড ড্রিমিং এর সাথে আপনারা অনেকেই হয়তো পরিচিত আছেন। অনেকে পরিচিত থাকলেও হয়তো এটা কেন হচ্ছে বা কিভাবে হচ্ছে তা নিয়ে বেশ দ্বিধা দ্বন্দ্বে আছে এসবেরই উত্তর মিলবে আজকের এই লিখাতে।   লুসিড ড্রিম অর্থ কি? সহজ বাংলায় অনুবাদ করতে গেলে বলা যায় লুসিড অর্থ পরিষ্কার. অর্থাৎ স্পষ্ট আর dream মানে তো আমরা সবাই জানি যে স্বপ্ন। লুসিড ডিম হলো সেই স্বপ্ন যে আমাদের স্পষ্ট ভাবে মনে থাকে এবং স্বপ্ন চলাকালীন সময়েও আমরা এ উপলব্ধি করতে পারি যে এটি বাস্তব নয় বরং এটি স্বপ্ন কিন্তু শুধুমাত্র আক্ষরিক অর্থ দিয়ে লুসিড ড্রিম ব্যাখ্যা করলে ভুল হবে একটু অন্যভাবে বলা যাক ।  মনে করুন স্বপ্নে আপনি কি পাহাড়ের উপর থেকে দ্রুত গ...

সারোগেসি কি ?

সারোগেসির মাধ্যমে সন্তান ধারণ করা নিয়ে এখনো বহু বিতর্ক আছে. শুধু আমাদের দেশে নয়, সারা বিশ্বেই এই পদ্ধতি নিয়ে তর্ক বিতর্কের শেষ নেই.  এটার আইনি প্রক্রিয়াও জটিল। কারণ এটি একেক রাষ্ট্রে. শারোগেসি আইন একেক রকম. নারী মা হবেন প্রাকৃতিক নিয়ম সমাজ এমনটাই দেখতে অভ্যস্ত. কিন্তু কোন কারণে মা হবার ক্ষমতা না থাকলে তাকে পরিবার ও আশপাশ থেকে যে পরিমাণ কটু কথা শুনতে হয় তা সাধারণ মানুষের ধারণারও বাইরে.   সরোগেসি বিষয়টি কি? চিকিৎসা শাস্ত্রের অগ্রগতি এমন মায়েদের সামনে এনেছে যারা গর্ভ ভাড়া দিয়ে নিজে বাঁচেন অন্যদের মাতৃ সুখ দেন । একজন নারীর গর্ভে অন্য দম্পতির সন্তান ধারণের পদ্ধতিকে সারোগেসি বলা হয়.সারোগেসির এই  পদ্ধতি বেশ দীর্ঘকালীন. আইভিএফ পদ্ধতিতে স্ত্রী ও পুরুষের ডিম্বাণু শুক্রাণু দেহের বাইরে নিষিক্ত করে তা নারীর গর্ভাশয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়. কিন্তু এখানেও জটিলতা. কেন? সে বিষয়ে পরে আসছি. বাংলাদেশ সহ বহু দেশই এই সারোগেসি একরকম ভাবে নিষিদ্ধ. সুতরাং বিষয় টি  সংবেদনশীল. এমনকি বেশিরভাগ ধর্মেও রয়েছে নিষেধাজ্ঞা. চলুন কথা বলি সারোগেসি মাদার সম্পর্কে। আইভিএফ বা টেস্ট টি...

ন্যানো টেকনোলজি কিভাবে কাজ করে ?

  যদি বলি আপনার চোখ দেখতে পারে না এমন গভীর ও প্রায় অনাবিষ্কৃত একটা পৃথিবী আছে. হয়তো বলতে পারেন যে মহাবিশ্বে কত গ্রহই তো আছে? সব খোঁজ কি আমরা পেয়েছি? কিন্তু যদি বলি আমাদের এই পৃথিবীর ভেতরে আরো একটি জগত আছে এবং যে জগৎ ছড়িয়ে আছে আমাদের গোটা বিশ্ব জুড়ে. এইবার হয়তো নড়েচড়ে বসবেন. হ্যাঁ আমাদের চোখের সামনেই রয়েছে এমন এক রাজ্য যে আমরা খালি চোখে দেখতে পাই না. এটাকে বলা হয় অণুবীক্ষণিক বিশ্ব. এই অণুবীক্ষণই বিশ্ব প্রচন্ড আকর্ষণীয় ও চমকে দেওয়ার মতো. কি কি ঘটছে এখানে তা আমার আপনার কল্পনারও বাইরে. এটা যেন কোনো ভিন গ্রহ বাসীদের রাজ্য. সম্ভাবনার দুয়ার খুলে রাখা আছে এই অণুবীক্ষণিক বা nano বিশ্বে.  ন্যানো কি ন্যানো হলো পরিমাপের একক। এক মিটারের একশো কোটি ভাগের এক ভাগ হচ্ছে এক ন্যানো। আর ন্যানো টেকনোলজি হলো বিজ্ঞানের এই অতি ক্ষুদ্র স্তরে একটা কিছু তৈরী করা আসলে শুধু তৈরি করা না. ন্যানোমিটার স্কেলে পরিবর্তন, পরিবর্তন, ধ্বংস বা সৃষ্টি সম্পর্কিত টেকনোলজিকেই ন্যানো টেকনোলজি বলে. অর্থাৎ ন্যানোমিটার স্কেলে পরিমিত যেকোনো বিষয়ে বহুমাত্রিক টেকনোলজিকে ন্যানো প্রযুক্তি বা ন্যানো টেকনোলজি বলা যে...

পেগাসাস স্পাইওয়ার কি ?

গত কিছুদিন ধরেই বিশ্ব রাজনীতি এবং প্রযুক্তি জগৎ এই দুই জায়গাতেই আলোচনার বিষয়বস্তু একটাই। সেটা হচ্ছে পেগাসাস স্পাইওয়ার. বিশ্বজুড়ে নানান দেশের মানবাধিকার কর্মী সাংবাদিক আইনজীবী ও রাজনীতিকদের ফোনের নজরদারি চালানোর ঘটনা ফাঁস হওয়ার পর ইজরায়েলের বেসরকারি কোম্পানি nso গ্রুপের তৈরি করা এই সফটওয়্যার নিয়ে এখন তুমুল তরজা চলছে দুনিয়া জুড়ে । চলুন কথা বলি দুনিয়া ওলট পালট করে দেওয়া স্পাইওয়ার সম্পর্কে । পেগাসাস মূলত একটি নজরদারি বিষয়ক সফটওয়্যার । ইজরাইলের সংস্থা এনএসও ই সফটওয়্যার তৈরি করেছে। যা দিয়ে যে কারো মোবাইলে আড়ি পাতা যায়. এটা কিন্তু সাধারণ কোন নজরদারি নয়. আগে ফোনে আড়ি পেতে শুধু দুই প্রান্তের কথাবার্তা শোনা যেত. আর সফটওয়্যারের মাধ্যমে গোটা ফোনটারই নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় হ্যাকাররা. ফোনের কথাবার্তা WhatsApp এর চ্যাট, ছবি, ফোনে কি কি তথ্য আছে সবই জানা যায়. আরো ভয়ানক ব্যবহার হচ্ছে মোবাইল যিনি ব্যবহার করছেন তিনি জানতেই পারেন না যে তার ফোন হ্যাক করা হয়েছে. সমস্ত তথ্য পাচার হয়ে যাচ্ছে নির্দিষ্ট একটি গোষ্ঠীর কাছে. কিন্তু কারো ফোনে পেগাসাস software install করতে হলে তো সেই ফোনটাকে...

রেট রেস কি ?

      আপনি ঠিক কখন ইঁদুর দৌড়ে যোগ দিয়েছেন এটা হিসাব করা কঠিন. কিন্তু নিশ্চিত থাকুন আপনি এই দৌড়ে আছেন. ক্লাস eight এ পড়ার সময়ের কথা মনে আছে? সামনে বৃত্তি পরীক্ষা পাটিগণিত বীজগণিতের অংক প্যাঁচ লাগাচ্ছে বিজ্ঞানের জটিল সব সূত্র ভোরে ওঠে প্রাইভেট টিউটরের বাসায় ছোটা রাত জেগে পড়াশোনা. বয়সের তুলনায় অনেক বেশি কর্ম ব্যস্ত একটা সময় নিশ্চয়ই কাটিয়েছেন তখন? আমরা সবাই কাটিয়েছি. সেই সময় নিশ্চয়ই অভিভাবক বলেছে এই তো আর কটা দিন. বৃত্তি পরীক্ষা শেষ হলেই জীবন শান্তি আর শান্তি. জীবনের নানা এপিসোডে আপনি এই কথাগুলো শুনেছেন অনেকবার অনেকের মুখে. এসএসসি পরীক্ষাটা দাও, কলেজে উঠলেই তো স্বাধীনতা. একবার ভার্সেটিতে উঠতে পারলেই জীবন হবে আনন্দে ভরপুর. একবার জব লাইফে ঢোকো. নিজের টাকায় আয়েশ করার মজাই অন্যরকম. শুনেছেন না এসব?  বয়স ঘড়ির ত্রিশের প্রান্তে দাঁড়িয়ে হিসেবগুলো মেলাতে পারেন কি? কি মনে হয়? এই এপিসোডগুলোর কোনোটা পার হবার সময় জীবন খানিকটা হলেও সহজ হয়েছে? সুন্দর হয়েছে? হয়নি, হবেও না, মিথ্যা একটা মরীচিকার আশায় আমরা ছুটেছি ঠিকই আমাদের ছোটানো হয়েছে, কিন্তু হিসাব মেলেনি ছুটত...

ম্যান্ডেলা ইফেক্ট কেনো হয়?

   আচ্ছা নিজের স্মৃতি শক্তির উপর কতটা বিশ্বাস আছে আপনার? আচ্ছা বাদ দিয়ে আপনার কথা. গণমানুষের স্মৃতিশক্তির উপর নিশ্চয়ই বিশ্বাস আছে অনেকটা. না না. ধর্মীয় কোন বিশ্বাস না. এই গ্রহে ঘটে যাওয়া এমন সব ঘটনা. যা সবাই জানে. তা কি রকম মিথ্যা? এক দশক আগেও পৃথিবীর প্রায় এক তৃতীয়াংশ মানুষ জানতো যে অস্ট্রেলিয়ার রাজধানীর নাম সিডনি. আসলে কি তাই? গত এক দশকে এই ধারণা মোটামুটি পরিবর্তন হয়ে মানুষ জেনেছে অস্ট্রেলিয়ার রাজধানীর নাম ক্যানভেরা. এখনো এই ভুল হরমামেশাই করে যাচ্ছে মানুষ. বিশ্বাস না হলে আশেপাশের কিছু মানুষকে জিজ্ঞেস করে দেখতে পারে. প্রশ্ন করতে পারেন ম্যান্ডেলার নাম কেন? এই ফ্ললস মেমোরি সিন্ড্রোমকে ম্যান্ডেল এফেক্ট নামকরণ করেছেন প্যারানরমাল কনসালটেন্ট ফীয়না ব্রুম তার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে । দু হাজার দশ সালের এক আলোচনা সভায় উঠে আসে দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদ বিরোধী আন্দোলনের নেতা উনিশশো আশি সালে কারা জানে মারা যাওয়ার প্রসঙ্গ । অনেকেই সেদিন বলেছিল, টিভিতে এই নেতার শেষকৃত্যের আনুষ্ঠানিকতা দেখার অভিজ্ঞতার কথা. ম্যান্ডেলার স্ত্রীর হৃদয় নিন্দারও ভাষণের কথা উল্লেখ করেছিলেন কেউ কেউ. এমনক...

কিভাবে লিমিটলেস হওয়া যায় ? লিমিটলেস আসলে কিভাবে কাজ করে ?

এনজিটিপিল,  এটা এমন এক পিল যা আপনাকে করবে আল্ট্রা ফোকাসড. দেবে দুর্দান্ত মোটিভেশন. বের করে আনবে আপনার সর্বোচ্চ সম্ভাবনা. আপনি হয়ে উঠবেন আনস্টপল. বাস্তবতা পাবে প্রতিটি স্বপ্ন. কিন্তু সমস্যা হচ্ছে এমন কোন পিলের অস্তিত্ব নেই. ফলাফল আপনি আটকে আছেন একটি খাদে. সারাক্ষণ ক্লান্তি নিয়ে হয়ে উঠছেন আনপ্রোডাক্টিভ. নষ্ট হচ্ছে ক্রিয়েটিভিটি. সময় গড়িয়ে যায়. ঋতুর পরিবর্তন ঘটে. কিন্তু আপনি ডুবে থাকেন এক হতাশায় যাতে আপনি দিন দিন পিছিয়ে পরছেন. আপনি যা যা এতদিন অর্জন করবেন ভেবেছিলেন তা কিছুই আপনি অর্জন করতে পারেননি । নিজেকে সান্তনা দিচ্ছেন আগামীকাল হবে ভিন্ন। কিন্তু তা কখনোই হয়ে ওঠে না এখন যদি আপনাকে বলি কোনো জাদুকরী পিলের সাহায্যে নয় বাস্তবিক লিমিটলেস হয়ে ওঠা সম্ভব।  একদম প্রমাণিত পদ্ধতিতে যা একেবারে ফ্রিতে ব্যবহার করা সম্ভব.  তো আছেন তো শেষ পর্যন্ত ?  Limit less হওয়ার যাত্রায় ।  স্টেপ ওয়ান : এনার্জি--  মাত্র কয়েক মাস আগে আমি নিজেও আপনার মতো কর্মশক্তিহীন অনুভব করতাম. সামান্য কাজেই আসতো অবসন্নতা, গেয়ে ধরতো ক্লান্তি একদিন হঠাৎ টের পেলাম আমি নিজেই নিজের energy নি...

প্রযুক্তি দুনিয়াতে পর্দার আড়ালে থেকে যাওয়া এক প্রতিভাবান এর গল্প ।

পর্দার আড়ালে একা খেলে যাচ্ছেন একজন. কামাচ্ছেন বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার. অথচ তাকে চেনে খুব কম সংখ্যক মানুষ. আইটি জগতে ইলন মাস্ক, জেফ বোজোস বা বিট গ্রেটসের সাথে তার নামও সমান তালে চলার কথা ছিল. কিন্তু বিহাইন্ড দা সিনে একা গোল করে যাচ্ছেন তিনি. নাম ড্রোন ইয়াং পিং ড্রোন ইয়াং পিং নামটি মোবাইল ফোনের জগতে খুবই কম মানুষের শোনা. তবে তার নাম অজানা থাকলেও তার কোম্পানি বিবিকে ফোন গিগদের মধ্যে বেশ পরিচিত. ওয়ান প্লাস, রিয়েলমি, অপো, ভিভো এবং আইকিউ. এই পাঁচটি জনপ্রিয় মোবাইল ব্র্যান্ডের একক মালিক ডোন ইয়াং পিন.  এই ব্র্যান্ড গুলো তার কোম্পানিতে পরিণত করেছে বর্তমানের সবচেয়ে বড় মোবাইল ফোন উৎপাদনকারী কোম্পানিতে. অ্যাপেল , শাওমি বা স্যামসাং যারা মোবাইল ফোনের জগতে বর্তমানে সবচেয়ে বড় ব্র্যান্ড তাদেরকেও পেছনে ফেলে এগিয়ে গিয়েছে বিবিকে কোম্পানি। কিন্তু এত সফলতার সত্ত্বেও বেশিরভাগ মোবাইল ফোন ব্যবহারকারী এমনকি ফোন গিগরাও তার সম্পর্কে বলতে গেলে তেমন কিছুই জানে না. এলেন মাস্ক, স্টিভ জবস বা জ্যাকমা, যারা কিনা টেকনোলজির জগতে খুবই পরিচিত তাদের সম্পর্কে অনলাইনে  অগণিত তথ্য রয়েছে। কিন্তু ডন ইয়ং পিং এর...

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কি ? আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কতটা ভযঙ্কর হতে পারে আগামী দিনের জন্য ?

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বহুল চর্চিত এবং ব্যবহৃত একটি শব্দ. মানুষের বুদ্ধিমত্তা ও চিন্তা শক্তিকে কম্পিউটার প্রোগ্রামিং এর মাধ্যমে মেশিন ল্যাঙ্গুয়েজে স্থাপন করা টেকনোলজিটাই হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স । এর মাধ্যমে কোন যন্ত্র নির্দিষ্ট প্রোগ্রামের আওতাধীন কিছু কাজ নিজে থেকেই করতে পারে নিজে নিজে সিদ্ধান্ত নিতে পারে।  টার্মিনেচার টাইপের কোনো সাইফাই সিনেমার গুরু বন্ধুর সংলাপ নয়।  A.I নিয়ে ভবিষ্যৎবাণী করেছিলেন পৃথিবীর সেরা বিজ্ঞানীদের একজন স্টিফেন হকিং আমার ভয় হয় তারা সত্যিই হয়তো একদিন মানুষকে হটিয়ে নিয়ন্ত্রকের আসনে বসে যাবে। বেঁচে থাকতেই BBC কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স তথা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে এভাবেই সবাইকে সতর্ক করেছিলেন তিনি। হকিংসের এই ভয় এখনো ভবিষ্যতের বিষয় হলেও অমূলক নয় মোটেও যন্ত্রকে বুদ্ধিমান করে তার আশীর্বাদ অনেক আছে। কিন্তু দীর্ঘ মেয়াদে সেই যন্ত্রই পৃথিবীর দখল নিতে চলেছে কিনা স্বয়ং সম্পূর্ণ হয়ে মানুষকেই বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে একদিন অপদার্থ তে পরিণত করবে কিনা সেই প্রশ্নটা উঠছে বারবার।  যুক্তরাষ্ট্রে...

মিনিমালিজম কি ? কিভাবে মিনিমালিস্ট হওয়া যায় ?

মিনিমামলিজম এই ধারণাটি বিগত কয়েক বছরে বেশ জনপ্রিয়তা লাভ করেছে এবং এর যথেষ্ট কারণও আছে. এই পুরো ব্যাপারটা কি? সেটাকে সঙ্গায়িত করা যায় এভাবে যে,  মিনিমালিজম হচ্ছে যা আমাদের জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সেগুলোকে ধারণ করা এবং বাকি সব কিছু যা আমাদের দৃষ্টিকে অন্যদিকে সরিয়ে নেয় সেগুলোকে ইচ্ছাকৃতভাবে ত্যাগ করা।   অর্থাৎ কোন কোন বিষয়ে জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং কোন জিনিসগুলোকে আমাদের কাছে সবচেয়ে মূল্যবান সেই সম্পর্কে একটা পরিষ্কার ধারণা থাকা এবং বাকি সব ত্যাগ  করে দেয়. সেগুলো নিয়েই জীবন ধারণ করা. কিন্তু এমন সংজ্ঞায়ন সত্ত্বেও minimalism কোন ধরাবাধা জীবন ব্যবস্থা নয় বা মিনিমালিস্ট হতে হলে কোন নির্দিষ্ট মানদণ্ড মেনে চলতে হবে এরকমটিও কিন্তু নয়. মিনিমালিস্ট লাইফ স্টাইল এমন একটি বিষয় যা প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য স্বতন্ত্র। এক্ষেত্রে মূল বিষয়টি হচ্ছে সত্যিকার অর্থে কোন কোন বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও প্রয়োজনীয় সেই সম্পর্কে একটা পরিষ্কার ধারণা নিয়ে সেই অনুযায়ী জীবন ধারণ করা. প্রিয় দর্শক চলুন দেখি মিনিমালিজম কিভাবে আপনার জীবনধারা বদলে দিতে পারে।  মিনিমালিস্ট জীবন অবশ...