আচ্ছা এমনটা হয়েছে যে একদম নতুন কোনো জায়গায় প্রবল বৃষ্টিতে একটা ছাউনিতে আপনি আশ্রয় নিয়েছেন অথবা ধরুন কোথাও ট্যুরে গিয়ে আপনি আয়েশ করে বসে চা হাতে নিয়ে বই পড়ছেন । হঠাৎ আপনার মনে হলো এই জায়গায় আপনি আগেও ঠিক একইভাবে আটকে ছিলেন বৃষ্টিতে বা একই জায়গায় বসে চা হাতে বই পড়ছিলেন । অথচ বাস্তবে আপনি আগে কখনো এমন কিছু করেছেন বলে কিছুতেই মনে পড়ছে না কিন্তু ঘটনাগুলো এতটাই পরিচিত যে আপনি প্রাণপণ চেষ্টা চালাচ্ছেন মনে করার জন্য। হ্যাঁ এটাই দেযা ভু এফেক্ট ।
দেযা ভু এফেক্ট আমাদের সবার সাথেই কম বেশি হরহামেশাই ঘটে থাকে । ফরাসি এই শব্দের প্রথম প্রবর্তন করেন দার্শনিক এমএল বোরাক । যার অর্থ ইতিপূর্বে ঘটে গিয়েছে । এটি এমন একটি অনুভূতি যা থেকে মনে হতে পারে বর্তমানে ঘটতে থাকা কোন ঘটনা এর আগেও একই ভাবে অতীতে ঘটেছে। গবেষকদের মতে মোট জনসংখ্যার প্রায় সত্তর শতাংশের সাথে দেযা ভু এফেক্ট নিয়মিত ঘটে। অন্যান্য বয়সের তুলনায় পনেরো থেকে পঁচিশ বছর বয়সের মানুষের মধ্যে এ ধরনের ঘটনা ঘটে থাকে সবচেয়ে বেশি। না, এটি কোন রোগ নয় । একদম সুস্থ মানুষের সাথেও নিয়মিত এমন অভিজ্ঞতা ঘটতে পারে যারা অনেক বেশি ভ্রমণ করেন বা সিনেমা দেখেন, তাদের ক্ষেত্রে এই অভিজ্ঞতা একটু একটু বেশি ঘটে বলে ধারণা করা হয় । যেহেতু দেযা ভু এফেক্ট কোনরকম পূর্ব লক্ষণ ব্যতীত যেকোনো মানুষের সাথেই ঘটতে পারে । তাই কেন এটি ঘটে তা নিয়ে অনেক জল্পনা-কল্পনা রয়েছে । অধিকাংশ মনোবিজ্ঞানী দেযা ভু কে বুকে সাধারণ কল্পনা বা ফ্যান্টাসি বলে মনে করেন।
আবার অনেক প্যারাসাইকোলজিস্ট বিশ্বাস করেন এটি অতীত জীবনের অভিজ্ঞতার সাথে কোনভাবে সম্পর্কিত । বর্তমানে নিউরো ইমেজিং এর অগ্রসরতার কারণে বিজ্ঞানীরা তিনটি তত্ত্বে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেছেন । প্রথম তত্ত্বটি হলো dual processing । যেখানে কোনো ঘটনা একসাথে ঘটে কিন্তু আপনার মস্তিস্ক প্রতি ঘটনাকে পৃথক পৃথক ভাবে ধারণ করে। আমাদের মস্তিস্ক অনবরত দৃষ্টি শ্রবণ ও ঘ্রাণ শক্তির মাধ্যমে নিয়মিত আমাদের সাথে ঘটে যাওয়া প্রতিটি ঘটনাকে রেকর্ড করতে থাকে স্মৃতিতে । অনেক সময় আমাদের এই সংবেদনশীল অঙ্গগুলোর যে কোন একটি হুট করে ঘটে যাওয়া কোন ঘটনা ঠিক মতো ধারণ করতে বিলম্ব করে ফেলে । ফলে মস্তিষ্ক বিলম্বিত হওয়া তথ্যকে আলাদা ঘটনা হিসেবে ধারণ করে । আর এই আলাদা হয়ে যাওয়া ঘটনা মাঝে মাঝে ইতিপূর্বে কাছাকাছি ধরনের ঘটে যাওয়া কোন ঘটনার সাথে মিলে যায । তখনই মনে হয় যেন এই ঘটনা আগেও ঘটেছিল ।
দ্বিতীয় তত্ত্বটি হচ্ছে হলগ্রাম তত্ত্ব ।.l এই তত্ত্বের মতে আমাদের স্মৃতি হল গ্রামের আকারে আমাদের মস্তিষ্কে রক্ষিত থাকে । আর হল গ্রামের কোন একটা অংশ আমাদের মস্তিষ্কের সামনে এলেই সম্পূর্ণ স্মৃতি চোখের সামনে ভেসে ওঠে । কিন্তু কিছুতেই এই স্মৃতি কোথা থেকে এলো? তা আমরা শনাক্ত করতে পারি না । তাই পরিচিত কোন কিছুর সাথে সম্পর্ক পেলেও স্মৃতির উৎস সম্পর্কে আমাদের ধারণা থাকে না । হয়তো কোন রেস্টুরেন্টের মেনু কার্ডে কিছু ধারাবাহিক লেখা আপনার মস্তিষ্কে ধারণ করে রাখা হয়েছে । আপনি লাইব্রেরিতে কোন বইয়ে ঠিক একই ধরনের ধারাবাহিক লেখা পেলেন? তখন মনে হতে পারে যে এই ঘটনা আগেও আপনার সাথে ঘটেছে ।
তৃতীয় এবং শেষ তথ্যটি হচ্ছে ডিভিডেন্ট অ্যাটেনশন । আমাদের মস্তিস্ক একটি নির্দিষ্ট বস্তুর দিকে আকৃষ্ট হয়ে আশেপাশের কোনদিকে মনোযোগ দিতে পারে না। কিন্তু আপনার অবসরই মস্তিষ্কতা ধারণ করে ফেলে । যখন আমাদের মনোযোগ ফিরে আসে তখন হঠাৎ করে সবকিছু একসাথে দেখে আমাদের মনে হয় যেন এর আগেও এই ঘটনা আমাদের সাথে ঘটে গেছে । এই তিন তত্ত্বের বাইরে আছে পদার্থবিজ্ঞানী এবং স্ট্রিং তত্ত্বের সহ প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে পরিচিত মিছি ও কাকুর প্যারালাল ইউনিভার্স তত্ত্ব । তাঁর মতে দেযা ভু এফেক্ট এর সাথে প্যারালাল ইউনিভার্স বা টাইম ট্রাভেলের একটা সম্পর্ক আছে।
অন্য কোনো ইউনিভার্সে আমাদের সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনার পুনরাবৃত্তিই হল দেযা ভু ।. স্বাভাবিকভাবেই মানুষ এই তথ্য বেশি পছন্দ করে। দেযা ভু এফেক্ট আমাদের কাছে পরিচিত তবুও কেন কোথায় কিভাবে ঘটেছিল অজানা থেকে যায় । গবেষকরা অনেক চেষ্টা করেও এই অনুভূতির ব্যাখ্যার একদম সঠিক তত্ত্ব উপস্থাপন করতে পারেননি । কারণ অনুভূতি ল্যাবে পরীক্ষা করার কোনো সুযোগ নেই। আসলে কি দেযা ভু কোনো প্যারালাল মহাবিশ্বের হতে পারে? তাহলে কি টাইম ট্রাভেল সম্ভব? বিজ্ঞান কি বলে? জানতে হলে চোখ রাখুন আমাদের লেখনীতে। আজ বিদায় নিচ্ছি । ভালো থাকুন , সুস্থ থাকুন নিজের খেয়াল রাখুন ।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন