সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

মানসিকতার কয় টা দিক ? Personalities theory কী ?

     আপনি মানুষের সামনে খুব হাসিখুশি থাকেন বলেই মানুষ আপনাকে ভেবে নিল. আহ মানুষটা কি ভিল দরিয়া? মানুষটা খুব মিশুক. এক্সট্রোভার্ট।  

কিন্তু আপনি আসলে ভেতরে ভেতরে উপলব্ধি করেন মানুষ আপনাকে যা ভাবে তা আপনি নন মানুষের সামনে হয়তো কোনোরকমে মানিয়ে নেন।  কিন্তু এত হাঙ্গামা আসলে আপনার পছন্দ নয় । আপনি আসলে নিজের ভুবনে থাকতেই বেশি পছন্দ করেন নিজস্ব সার্কেলে । কিন্তু এমন কিন্তু এমনটা কেন? কিছু মানুষের ভেতরে দৈত সত্তা খুব বেশি কাজ করে. মনের ভেতর আর বাইরের উপস্থাপনার একটা দ্বন্দ্ব চলতেই থাকে. মানুষ আপনাকে যতটা introvert ভাবে মনে করে. কি ভাব? আপনি তেমন নাও হতে পারেন । আপনিও জোৎস্ই জায়গা পেলে নিজেকে উজাড় করে দিয়ে এক্সপ্রেস করতে পারেন । এই যে দইতো একটা বৈচিত্র নিয়ে মানুষ বেঁচে আছে এটাকে তাহলে কি বলা যাবে? এই ধরণের মানুষগুলো আসলে এক্সট্রোভার্ট  আবার পুরোপুরি ইন্ট্রোভার্ট ও না । 

তারা মাঝামাঝি একটা অবস্থানে থাকে. এই মানুষগুলোকে বলা হয় হ্যান্ডবিভার. মজার ব্যাপার হল প্রচলিত একটা ধারণা আছে যে এক্সট্রোভার্টরা সেলস কমিউনিকেশানে খুব ভালো হয়. কিন্তু গবেষণায় দেখা যায় উল্টো চিত্র. তিনশো সেলস পারসনের উপর গবেষণা করে দেখা গেছে যারা ইন্ট্রোভার্ট এবং এক্সট্রোভার্ট এর মাঝামাঝি অর্থাৎ হেমবিভার্ট. তারাই আসলে সেলস ডিপার্টমেন্টের সেরা. মানুষ হিসেবে আপনি আসলে কেমন? এক্সট্রোভার্ট ইন্ট্রোভার্ট. নাকি হেম্বিভার্ট. এদের কোনটি হওয়াটা আমাদের জন্য সুবিধাজনক. ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করুন সেই জবাব গুলোই মিলবে আজ। পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার পঁচিশ থেকে চল্লিশ শতাংশ মানুষ ইন্ট্রোভার্ট. একজন ইন্ট্রোভার্ট ব্যক্তি হচ্ছেন তিনি. যিনি কিনা তাঁর নিজের সঙ্গ সবচেয়ে বেশি উপভোগ করেন. এমন ধরনের মানুষ যে নিজেকে খুশি করেই বাঁচতে পছন্দ করে. ইন্ট্রোভার্ট  ব্যক্তিদের কমন একটা অভ্যাস হচ্ছে এরা গাড়ির জানালার পাশের সিটে বসলে সবচেয়ে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে.   গাড়ির গতিবেগ কত স্পিকারে কোন গান বাজছে অথবা যাত্রীরা কি নিয়ে কথা বলছেন এসবের চাইতে বাইরের প্রাকৃতিক দৃশ্যে মন দেওয়াটা তার জন্য অনেক বেশি সুবিধাজনক ।


 ইন্ট্রোভার্ট ব্যক্তিরা একটু চাপা সহবের হয় তারা শ্রোতা হিসেবে বেশ ভালো । এরা নিজেদেরকে গুটিয়ে রাখতে ভালোবাসে. সাধারণত চুপচাপ লাজুক এবং স্বল্পভাষী স্বভাবের হয়ে থাকে. ইন্ট্রোভার্ট দের  বন্ধুবান্ধবের সংখ্যা থাকে কম. তবে বন্ধুর জন্য এরা জীবন দিয়ে ফেলতে পারে. কোন কাজ করার আগে চিন্তাভাবনা একটু বেশি করেই যেকোনো সিদ্ধান্ত নেয়. এরা সামাজিক অনুষ্ঠান সযত্নে দিয়ে চলে. বেশিরভাগ ইন্ট্রোভার্ট হয়ে থাকেন পড়ুয়া. ইন্ট্রোভার্ট লোকজন খুব সহজে কারো সাথে নিজের ব্যাপারে কথা বলেন না. তবে মন মতো কাউকে পেলে তার সাথে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কথা বলেই কাটিয়ে দিতে পারেন. অন্যদিকে এক্সট্রোভার্ট লোকজন একদম অপরিচিত কারো সাথেও প্রথম দেখায় খুবই আন্তরিকতার সাথে আলাপ জুড়ে দিতে পারে । রাজনৈতিক ক্রিকেট বাজারের হালচাল তাদের শুধু একটা টপিকের দরকার হয় এমনকি কখনও কখনও সামনের লোকটি তার কথা মনোযোগ দিয়ে আদৌ শুনছেন নাকি এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন এটিও একজন এক্সট্রা ভাটের মাথায় থাকেন না। এ ধরনের ব্যক্তিরা মিশুক স্বভাবের হয় যার ফলে সবার সাথে মিশতে পারেন খুব সহজেই ভাবিয়া করিও কাজ এই প্রবাদটি এক্সট্রোভার্ট  মানুষের জীবনে খুব কমই দেখা যায় । হুজুগে পড়ে এরা নানা কান্ডকারখানা ঘটিয়ে ফেলে. যেকোনো সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলে হুট হাট করে. আর যে কারণে অনেক সময় তাদের বেশ ঝামেলাতেও পড়তে হয়. এরা একা থাকতে পারে না একদমই. এমনকি প্রয়োজনে কোথাও একা যেতেও স্বচ্ছতা বোধ করে না. সবসময় সঙ্গী হিসেবে কাউকে তাদের লাগবেই লাগবে. এ ধরনের মানুষ বেশি কথা বলতে পছন্দ করে সাথে অন্যদের কথা শোনেন খুবই কম অর্থাৎ শ্রোতা হিসাবে কিন্তু এরা খুব একটা ভালো নন। 


তবে এক্সট্রা ভার্ট লোকজনের মধ্যে নেতৃত্ব গুণ থাকে অনেক বেশি । আগ বাড়িয়ে তারা দায়িত্ব কাঁধে নেন অন্যের বিপদে ঝাঁপিয়ে পড়েন. এরা সহজেই মানুষকে বিশ্বাস করে বিপদে পড়েন. কোন কথা পেটের ভেতর রাখতে পারে না. নিজের মনে যা কিছু আছে সব যে কাউকে বিশ্বাস করে গড়গড় করে বলে দেয়. সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে এক্সট্রোভার্টদের উপস্থিতি খুব বেশি. এরা নিজেদের প্রতিভাকে মানুষের সামনে প্রকাশ করতে ভালোবাসে. আর ভালোবাসে বাহুবলিতে।. এক্সট্রোভার্ট এবং ইন্ট্রোভার্টের বাইরের আর এক প্রজাতির মানুষ আছে যাদেরকে বলা হয় হ্যামবিভার্ট। এরা নতুন মানুষের সাথে পরিচয় হয়. সহজেই তবে সহজেই কাউকে ঘনিষ্ঠ বানায় না. বাইরে যেতে এদের কোন আপত্তি নেই. তবে ঘরে ফেরাটা তাদের কাছে অনেক স্বস্তিদায়ক. ambivert খুব দ্রুত পরিস্থিতি পড়তে পারেন. তারা ভেতরে যেমনই হোক দ্রুত মানিয়ে নিতে পারেন পরিস্থিতির সাথে. প্রফেশনাল লাইফে একদমই সেখানকার মত চলেন তাঁরা. সেখানে পেশার  খাতিরে নিজের রং বদলাতে সমস্যা হয় না একদমই. কিন্তু নিজের বন্ধুদের সামনে তারা আবার একেবারেই আলাদা. একদম রিয়েল. নিজস্ব রূপে পরিণত হয়ে যায় তখন. আবার ধরুন একজন মানুষ অনলাইনে খুব অ্যাক্টিভ। দিনে দশ বারোটা ফেসবুক পোস্ট দিচ্ছেন. সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তিনি দারুন জনপ্রিয়. সেই লোকটা বাস্তব জীবনে হয়তো ভীষণ চাপা স্বভাবের. ফেসবুক ফ্রেন্ড বা ফলোয়ারদের সাথে কোথাও দেখা হলে নিজের পরিচয়টাও দেন না. কেউ চিনে ফেললে লজ্জায় মাটিতে মিশে যেতে চান. এরাও কিন্তু ambivert।


 অক্সফোর্ড ডিকশেনারিতে ambivert এর সংজ্ঞায় বলা হয়েছে ambivert এমন এক প্রকার মানুষ যারা একই সাথে ইন্ট্রোভার্ট এবং এক্সট্রোভার্ট উভয়ের আচরণকে ধারণ করে এমবিভাগধর্মী মানুষেরা তাদের জীবনের চলার পথে নিজের ব্যক্তিগত ব্যক্তিগত বিষয়ে তুলনামূলক বেশি স্বাধীনতা ভোগ করতে চান. তবে যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে এরা কিন্তু বেশ খানিকটা সময় নেন. পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার আটত্রিশ শতাংশ মানুষ ambivert. ambivert রা সবার সাথে মেশিন ঠিকই কিন্তু ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠেন হাতে গোনা. অল্প কিছু মানুষের সাথে এবং তাদের জন্য নিজেদের সব কিছু উজাড় করে দিতেও তারা পিছুপা হন না । ইন্ট্রোভার্টরা চুপচাপ সব কিছু দেখে পর্যবেক্ষণ করে যায় কিছুই বলে না আবার এক্সট্রোভার্ট  এত কিছু সচেতন ভাবে খেয়াল করে না সব সময় কিছু না কিছু নিয়ে মেতে থাকে । এই জায়গাতেই ambivert রা আলাদা. মানসিকতার দিক দিয়ে এক্সট্রভার্ট বা ইন্ট্রোভার্টদের চাইতে ambivert রা বেশ balance. মানসিকতার এই তিনটি ধরনের মধ্যে আপনি কোনটি সেটি নিশ্চয়ই বুঝে গেছেন এতক্ষণে ।


 উঁকি দিচ্ছে তিন ধরনের মানুষের মধ্যে তারা সবচেয়ে ভালো তারা সবচেয়ে এগিয়ে এই প্রশ্নের জবাব যারা আশা করছেন তাদের উত্তেজনায় পানি ঢালার কাজটা আমাকেই করতে হচ্ছে । কারণ এই তিন ধরনের মানুষের মধ্যে কেউই সেরা নয় কেউ কারো চেয়ে এগিয়ে নয় এক একটা মানুষ এক এক রকম । ভিন্ন ভিন্ন  তার আচার তার ভাবনা তার স্বভাব. মানুষের এই বৈচিত্রই  কিন্তু মানুষের সবচেয়ে বড় সৌন্দর্য. আমাদের সমাজে ইন্ট্রোভার্ট মানুষকে মুডি ইন্ট্রোভার্ট হেয় করার একটা প্রবণতা আছে. আপনি যদি ইন্ট্রোভার্ট  হন আপনার জন্য কোন অনুপ্রেরণা কিংবা মোটিভেশনের প্রয়োজন নেই. কারণ আপনার ব্যক্তিত্বই অন্তর্মুখিতা. এটা কোনো অস্বাভাবিকতা নয়. Introvert মানুষ ও সফল হতে পারে কিনা বিখ্যাত মানুষজনের মধ্যে কে কে ছিল এসব জেনে. মোটিভেশন নেওয়ার কোনো দরকার নেই  কিংবা মোটিভেশনের প্রয়োজন নেই কারণ আপনার ব্যক্তিত্বই অন্তর্মুখী। এটা কোন অস্বাভাবিকতা নয়। ইন্ট্রোভার্ট মানুষও সফল হতে পারে কিনা বিখ্যাত মানুষজনের মধ্যে কে কে ছিল এসব জেনে মোটিভেশন নেওয়র কোনো দরকার নেই ।


আপনার আপনার কেবল জানা প্রয়োজন আপনি কি ইন্ট্রোভার্ট নাকিব একটু বেশি লাজুক। আপনি হয়তো আরেকটু আত্মবিশ্বাস পেলে নিজেকে আরো সামাজিক করতে পারবেন. সেক্ষেত্রে হিসাবটা আলাদা হয়ে যায়. কারণ ইন্ট্রোভার্সন আপনার ব্যক্তিত্ব, আর লজ্জা স্রেফ একটা চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য বলা যায়. আপনি ইন্ট্রোভার্ট হলে জেনে রাখুন. আপনি ভাগ্যবান. আপনি নিজেকে বেশি সময় দিতে পারছেন আপনি চাইলেই নিজের মতো মানসিক শান্তি অর্জন করে নিতে পারবেন আপনার বহুল ব্যবহৃত মস্তিস্ক এবং তার ক্ষমতা দিয়ে।   


 গুগলে সার্চ দিলে হাজার হাজার কনটেন্ট পাবেন কেন মানুষ হিসাবে ambivert সেরা । এসব বিষয়ে আমরা বিশ্বাস করি ambivert বা introvert নয় প্রতিটি মানুষই সেরা তার স্বভাব যেমনই হোক না কেন এই বিশ্বাসটা নিজের ভেতর রাখুন সফল আপনি অবশ্যই হবেন।   




মন্তব্যসমূহ

Blog Posts

ন্যানো টেকনোলজি কিভাবে কাজ করে ?

  যদি বলি আপনার চোখ দেখতে পারে না এমন গভীর ও প্রায় অনাবিষ্কৃত একটা পৃথিবী আছে. হয়তো বলতে পারেন যে মহাবিশ্বে কত গ্রহই তো আছে? সব খোঁজ কি আমরা পেয়েছি? কিন্তু যদি বলি আমাদের এই পৃথিবীর ভেতরে আরো একটি জগত আছে এবং যে জগৎ ছড়িয়ে আছে আমাদের গোটা বিশ্ব জুড়ে. এইবার হয়তো নড়েচড়ে বসবেন. হ্যাঁ আমাদের চোখের সামনেই রয়েছে এমন এক রাজ্য যে আমরা খালি চোখে দেখতে পাই না. এটাকে বলা হয় অণুবীক্ষণিক বিশ্ব. এই অণুবীক্ষণই বিশ্ব প্রচন্ড আকর্ষণীয় ও চমকে দেওয়ার মতো. কি কি ঘটছে এখানে তা আমার আপনার কল্পনারও বাইরে. এটা যেন কোনো ভিন গ্রহ বাসীদের রাজ্য. সম্ভাবনার দুয়ার খুলে রাখা আছে এই অণুবীক্ষণিক বা nano বিশ্বে.  ন্যানো কি ন্যানো হলো পরিমাপের একক। এক মিটারের একশো কোটি ভাগের এক ভাগ হচ্ছে এক ন্যানো। আর ন্যানো টেকনোলজি হলো বিজ্ঞানের এই অতি ক্ষুদ্র স্তরে একটা কিছু তৈরী করা আসলে শুধু তৈরি করা না. ন্যানোমিটার স্কেলে পরিবর্তন, পরিবর্তন, ধ্বংস বা সৃষ্টি সম্পর্কিত টেকনোলজিকেই ন্যানো টেকনোলজি বলে. অর্থাৎ ন্যানোমিটার স্কেলে পরিমিত যেকোনো বিষয়ে বহুমাত্রিক টেকনোলজিকে ন্যানো প্রযুক্তি বা ন্যানো টেকনোলজি বলা যে...

লুসিড ড্রিম কাকে বলে ? লুসিড ড্রিম কিভাবে দেখতে হয় ?

 স্বপ্ন নিয়ন্ত্রণ করার কথা ভেবেছেন কখনো? নিশ্চয়ই ভাবছেন জেগে জেগে দিবাস্বপ্ন দেখার কথা বলছি না তো? কিন্তু না, রীতিমতো ঘুমিয়ে দেখা স্বপ্নও নিয়ন্ত্রণের কথাই বলছি, আপনার ইচ্ছামত স্বপ্ন দেখবেন। ইচ্ছা মতো নিয়ন্ত্রণ করবেন। আর পছন্দ না হলে অর্থাৎ দুঃস্বপ্ন দেখা শুরু করলে সেটার গতিপথ পাল্টে দেবেন একেবারে নিমেষে। আধুনিক বিজ্ঞানের ভাষায় এটা খুবই সম্ভব একে বলা হয় লুসিভ ড্রিম। লুসিড ড্রিমিং এর সাথে আপনারা অনেকেই হয়তো পরিচিত আছেন। অনেকে পরিচিত থাকলেও হয়তো এটা কেন হচ্ছে বা কিভাবে হচ্ছে তা নিয়ে বেশ দ্বিধা দ্বন্দ্বে আছে এসবেরই উত্তর মিলবে আজকের এই লিখাতে।   লুসিড ড্রিম অর্থ কি? সহজ বাংলায় অনুবাদ করতে গেলে বলা যায় লুসিড অর্থ পরিষ্কার. অর্থাৎ স্পষ্ট আর dream মানে তো আমরা সবাই জানি যে স্বপ্ন। লুসিড ডিম হলো সেই স্বপ্ন যে আমাদের স্পষ্ট ভাবে মনে থাকে এবং স্বপ্ন চলাকালীন সময়েও আমরা এ উপলব্ধি করতে পারি যে এটি বাস্তব নয় বরং এটি স্বপ্ন কিন্তু শুধুমাত্র আক্ষরিক অর্থ দিয়ে লুসিড ড্রিম ব্যাখ্যা করলে ভুল হবে একটু অন্যভাবে বলা যাক ।  মনে করুন স্বপ্নে আপনি কি পাহাড়ের উপর থেকে দ্রুত গ...

প্রযুক্তি দুনিয়াতে পর্দার আড়ালে থেকে যাওয়া এক প্রতিভাবান এর গল্প ।

পর্দার আড়ালে একা খেলে যাচ্ছেন একজন. কামাচ্ছেন বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার. অথচ তাকে চেনে খুব কম সংখ্যক মানুষ. আইটি জগতে ইলন মাস্ক, জেফ বোজোস বা বিট গ্রেটসের সাথে তার নামও সমান তালে চলার কথা ছিল. কিন্তু বিহাইন্ড দা সিনে একা গোল করে যাচ্ছেন তিনি. নাম ড্রোন ইয়াং পিং ড্রোন ইয়াং পিং নামটি মোবাইল ফোনের জগতে খুবই কম মানুষের শোনা. তবে তার নাম অজানা থাকলেও তার কোম্পানি বিবিকে ফোন গিগদের মধ্যে বেশ পরিচিত. ওয়ান প্লাস, রিয়েলমি, অপো, ভিভো এবং আইকিউ. এই পাঁচটি জনপ্রিয় মোবাইল ব্র্যান্ডের একক মালিক ডোন ইয়াং পিন.  এই ব্র্যান্ড গুলো তার কোম্পানিতে পরিণত করেছে বর্তমানের সবচেয়ে বড় মোবাইল ফোন উৎপাদনকারী কোম্পানিতে. অ্যাপেল , শাওমি বা স্যামসাং যারা মোবাইল ফোনের জগতে বর্তমানে সবচেয়ে বড় ব্র্যান্ড তাদেরকেও পেছনে ফেলে এগিয়ে গিয়েছে বিবিকে কোম্পানি। কিন্তু এত সফলতার সত্ত্বেও বেশিরভাগ মোবাইল ফোন ব্যবহারকারী এমনকি ফোন গিগরাও তার সম্পর্কে বলতে গেলে তেমন কিছুই জানে না. এলেন মাস্ক, স্টিভ জবস বা জ্যাকমা, যারা কিনা টেকনোলজির জগতে খুবই পরিচিত তাদের সম্পর্কে অনলাইনে  অগণিত তথ্য রয়েছে। কিন্তু ডন ইয়ং পিং এর...

সারোগেসি কি ?

সারোগেসির মাধ্যমে সন্তান ধারণ করা নিয়ে এখনো বহু বিতর্ক আছে. শুধু আমাদের দেশে নয়, সারা বিশ্বেই এই পদ্ধতি নিয়ে তর্ক বিতর্কের শেষ নেই.  এটার আইনি প্রক্রিয়াও জটিল। কারণ এটি একেক রাষ্ট্রে. শারোগেসি আইন একেক রকম. নারী মা হবেন প্রাকৃতিক নিয়ম সমাজ এমনটাই দেখতে অভ্যস্ত. কিন্তু কোন কারণে মা হবার ক্ষমতা না থাকলে তাকে পরিবার ও আশপাশ থেকে যে পরিমাণ কটু কথা শুনতে হয় তা সাধারণ মানুষের ধারণারও বাইরে.   সরোগেসি বিষয়টি কি? চিকিৎসা শাস্ত্রের অগ্রগতি এমন মায়েদের সামনে এনেছে যারা গর্ভ ভাড়া দিয়ে নিজে বাঁচেন অন্যদের মাতৃ সুখ দেন । একজন নারীর গর্ভে অন্য দম্পতির সন্তান ধারণের পদ্ধতিকে সারোগেসি বলা হয়.সারোগেসির এই  পদ্ধতি বেশ দীর্ঘকালীন. আইভিএফ পদ্ধতিতে স্ত্রী ও পুরুষের ডিম্বাণু শুক্রাণু দেহের বাইরে নিষিক্ত করে তা নারীর গর্ভাশয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়. কিন্তু এখানেও জটিলতা. কেন? সে বিষয়ে পরে আসছি. বাংলাদেশ সহ বহু দেশই এই সারোগেসি একরকম ভাবে নিষিদ্ধ. সুতরাং বিষয় টি  সংবেদনশীল. এমনকি বেশিরভাগ ধর্মেও রয়েছে নিষেধাজ্ঞা. চলুন কথা বলি সারোগেসি মাদার সম্পর্কে। আইভিএফ বা টেস্ট টি...

পেগাসাস স্পাইওয়ার কি ?

গত কিছুদিন ধরেই বিশ্ব রাজনীতি এবং প্রযুক্তি জগৎ এই দুই জায়গাতেই আলোচনার বিষয়বস্তু একটাই। সেটা হচ্ছে পেগাসাস স্পাইওয়ার. বিশ্বজুড়ে নানান দেশের মানবাধিকার কর্মী সাংবাদিক আইনজীবী ও রাজনীতিকদের ফোনের নজরদারি চালানোর ঘটনা ফাঁস হওয়ার পর ইজরায়েলের বেসরকারি কোম্পানি nso গ্রুপের তৈরি করা এই সফটওয়্যার নিয়ে এখন তুমুল তরজা চলছে দুনিয়া জুড়ে । চলুন কথা বলি দুনিয়া ওলট পালট করে দেওয়া স্পাইওয়ার সম্পর্কে । পেগাসাস মূলত একটি নজরদারি বিষয়ক সফটওয়্যার । ইজরাইলের সংস্থা এনএসও ই সফটওয়্যার তৈরি করেছে। যা দিয়ে যে কারো মোবাইলে আড়ি পাতা যায়. এটা কিন্তু সাধারণ কোন নজরদারি নয়. আগে ফোনে আড়ি পেতে শুধু দুই প্রান্তের কথাবার্তা শোনা যেত. আর সফটওয়্যারের মাধ্যমে গোটা ফোনটারই নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় হ্যাকাররা. ফোনের কথাবার্তা WhatsApp এর চ্যাট, ছবি, ফোনে কি কি তথ্য আছে সবই জানা যায়. আরো ভয়ানক ব্যবহার হচ্ছে মোবাইল যিনি ব্যবহার করছেন তিনি জানতেই পারেন না যে তার ফোন হ্যাক করা হয়েছে. সমস্ত তথ্য পাচার হয়ে যাচ্ছে নির্দিষ্ট একটি গোষ্ঠীর কাছে. কিন্তু কারো ফোনে পেগাসাস software install করতে হলে তো সেই ফোনটাকে...

রেট রেস কি ?

      আপনি ঠিক কখন ইঁদুর দৌড়ে যোগ দিয়েছেন এটা হিসাব করা কঠিন. কিন্তু নিশ্চিত থাকুন আপনি এই দৌড়ে আছেন. ক্লাস eight এ পড়ার সময়ের কথা মনে আছে? সামনে বৃত্তি পরীক্ষা পাটিগণিত বীজগণিতের অংক প্যাঁচ লাগাচ্ছে বিজ্ঞানের জটিল সব সূত্র ভোরে ওঠে প্রাইভেট টিউটরের বাসায় ছোটা রাত জেগে পড়াশোনা. বয়সের তুলনায় অনেক বেশি কর্ম ব্যস্ত একটা সময় নিশ্চয়ই কাটিয়েছেন তখন? আমরা সবাই কাটিয়েছি. সেই সময় নিশ্চয়ই অভিভাবক বলেছে এই তো আর কটা দিন. বৃত্তি পরীক্ষা শেষ হলেই জীবন শান্তি আর শান্তি. জীবনের নানা এপিসোডে আপনি এই কথাগুলো শুনেছেন অনেকবার অনেকের মুখে. এসএসসি পরীক্ষাটা দাও, কলেজে উঠলেই তো স্বাধীনতা. একবার ভার্সেটিতে উঠতে পারলেই জীবন হবে আনন্দে ভরপুর. একবার জব লাইফে ঢোকো. নিজের টাকায় আয়েশ করার মজাই অন্যরকম. শুনেছেন না এসব?  বয়স ঘড়ির ত্রিশের প্রান্তে দাঁড়িয়ে হিসেবগুলো মেলাতে পারেন কি? কি মনে হয়? এই এপিসোডগুলোর কোনোটা পার হবার সময় জীবন খানিকটা হলেও সহজ হয়েছে? সুন্দর হয়েছে? হয়নি, হবেও না, মিথ্যা একটা মরীচিকার আশায় আমরা ছুটেছি ঠিকই আমাদের ছোটানো হয়েছে, কিন্তু হিসাব মেলেনি ছুটত...

ম্যান্ডেলা ইফেক্ট কেনো হয়?

   আচ্ছা নিজের স্মৃতি শক্তির উপর কতটা বিশ্বাস আছে আপনার? আচ্ছা বাদ দিয়ে আপনার কথা. গণমানুষের স্মৃতিশক্তির উপর নিশ্চয়ই বিশ্বাস আছে অনেকটা. না না. ধর্মীয় কোন বিশ্বাস না. এই গ্রহে ঘটে যাওয়া এমন সব ঘটনা. যা সবাই জানে. তা কি রকম মিথ্যা? এক দশক আগেও পৃথিবীর প্রায় এক তৃতীয়াংশ মানুষ জানতো যে অস্ট্রেলিয়ার রাজধানীর নাম সিডনি. আসলে কি তাই? গত এক দশকে এই ধারণা মোটামুটি পরিবর্তন হয়ে মানুষ জেনেছে অস্ট্রেলিয়ার রাজধানীর নাম ক্যানভেরা. এখনো এই ভুল হরমামেশাই করে যাচ্ছে মানুষ. বিশ্বাস না হলে আশেপাশের কিছু মানুষকে জিজ্ঞেস করে দেখতে পারে. প্রশ্ন করতে পারেন ম্যান্ডেলার নাম কেন? এই ফ্ললস মেমোরি সিন্ড্রোমকে ম্যান্ডেল এফেক্ট নামকরণ করেছেন প্যারানরমাল কনসালটেন্ট ফীয়না ব্রুম তার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে । দু হাজার দশ সালের এক আলোচনা সভায় উঠে আসে দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদ বিরোধী আন্দোলনের নেতা উনিশশো আশি সালে কারা জানে মারা যাওয়ার প্রসঙ্গ । অনেকেই সেদিন বলেছিল, টিভিতে এই নেতার শেষকৃত্যের আনুষ্ঠানিকতা দেখার অভিজ্ঞতার কথা. ম্যান্ডেলার স্ত্রীর হৃদয় নিন্দারও ভাষণের কথা উল্লেখ করেছিলেন কেউ কেউ. এমনক...

কিভাবে লিমিটলেস হওয়া যায় ? লিমিটলেস আসলে কিভাবে কাজ করে ?

এনজিটিপিল,  এটা এমন এক পিল যা আপনাকে করবে আল্ট্রা ফোকাসড. দেবে দুর্দান্ত মোটিভেশন. বের করে আনবে আপনার সর্বোচ্চ সম্ভাবনা. আপনি হয়ে উঠবেন আনস্টপল. বাস্তবতা পাবে প্রতিটি স্বপ্ন. কিন্তু সমস্যা হচ্ছে এমন কোন পিলের অস্তিত্ব নেই. ফলাফল আপনি আটকে আছেন একটি খাদে. সারাক্ষণ ক্লান্তি নিয়ে হয়ে উঠছেন আনপ্রোডাক্টিভ. নষ্ট হচ্ছে ক্রিয়েটিভিটি. সময় গড়িয়ে যায়. ঋতুর পরিবর্তন ঘটে. কিন্তু আপনি ডুবে থাকেন এক হতাশায় যাতে আপনি দিন দিন পিছিয়ে পরছেন. আপনি যা যা এতদিন অর্জন করবেন ভেবেছিলেন তা কিছুই আপনি অর্জন করতে পারেননি । নিজেকে সান্তনা দিচ্ছেন আগামীকাল হবে ভিন্ন। কিন্তু তা কখনোই হয়ে ওঠে না এখন যদি আপনাকে বলি কোনো জাদুকরী পিলের সাহায্যে নয় বাস্তবিক লিমিটলেস হয়ে ওঠা সম্ভব।  একদম প্রমাণিত পদ্ধতিতে যা একেবারে ফ্রিতে ব্যবহার করা সম্ভব.  তো আছেন তো শেষ পর্যন্ত ?  Limit less হওয়ার যাত্রায় ।  স্টেপ ওয়ান : এনার্জি--  মাত্র কয়েক মাস আগে আমি নিজেও আপনার মতো কর্মশক্তিহীন অনুভব করতাম. সামান্য কাজেই আসতো অবসন্নতা, গেয়ে ধরতো ক্লান্তি একদিন হঠাৎ টের পেলাম আমি নিজেই নিজের energy নি...

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কি ? আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কতটা ভযঙ্কর হতে পারে আগামী দিনের জন্য ?

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বহুল চর্চিত এবং ব্যবহৃত একটি শব্দ. মানুষের বুদ্ধিমত্তা ও চিন্তা শক্তিকে কম্পিউটার প্রোগ্রামিং এর মাধ্যমে মেশিন ল্যাঙ্গুয়েজে স্থাপন করা টেকনোলজিটাই হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স । এর মাধ্যমে কোন যন্ত্র নির্দিষ্ট প্রোগ্রামের আওতাধীন কিছু কাজ নিজে থেকেই করতে পারে নিজে নিজে সিদ্ধান্ত নিতে পারে।  টার্মিনেচার টাইপের কোনো সাইফাই সিনেমার গুরু বন্ধুর সংলাপ নয়।  A.I নিয়ে ভবিষ্যৎবাণী করেছিলেন পৃথিবীর সেরা বিজ্ঞানীদের একজন স্টিফেন হকিং আমার ভয় হয় তারা সত্যিই হয়তো একদিন মানুষকে হটিয়ে নিয়ন্ত্রকের আসনে বসে যাবে। বেঁচে থাকতেই BBC কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স তথা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে এভাবেই সবাইকে সতর্ক করেছিলেন তিনি। হকিংসের এই ভয় এখনো ভবিষ্যতের বিষয় হলেও অমূলক নয় মোটেও যন্ত্রকে বুদ্ধিমান করে তার আশীর্বাদ অনেক আছে। কিন্তু দীর্ঘ মেয়াদে সেই যন্ত্রই পৃথিবীর দখল নিতে চলেছে কিনা স্বয়ং সম্পূর্ণ হয়ে মানুষকেই বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে একদিন অপদার্থ তে পরিণত করবে কিনা সেই প্রশ্নটা উঠছে বারবার।  যুক্তরাষ্ট্রে...

মিনিমালিজম কি ? কিভাবে মিনিমালিস্ট হওয়া যায় ?

মিনিমামলিজম এই ধারণাটি বিগত কয়েক বছরে বেশ জনপ্রিয়তা লাভ করেছে এবং এর যথেষ্ট কারণও আছে. এই পুরো ব্যাপারটা কি? সেটাকে সঙ্গায়িত করা যায় এভাবে যে,  মিনিমালিজম হচ্ছে যা আমাদের জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সেগুলোকে ধারণ করা এবং বাকি সব কিছু যা আমাদের দৃষ্টিকে অন্যদিকে সরিয়ে নেয় সেগুলোকে ইচ্ছাকৃতভাবে ত্যাগ করা।   অর্থাৎ কোন কোন বিষয়ে জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং কোন জিনিসগুলোকে আমাদের কাছে সবচেয়ে মূল্যবান সেই সম্পর্কে একটা পরিষ্কার ধারণা থাকা এবং বাকি সব ত্যাগ  করে দেয়. সেগুলো নিয়েই জীবন ধারণ করা. কিন্তু এমন সংজ্ঞায়ন সত্ত্বেও minimalism কোন ধরাবাধা জীবন ব্যবস্থা নয় বা মিনিমালিস্ট হতে হলে কোন নির্দিষ্ট মানদণ্ড মেনে চলতে হবে এরকমটিও কিন্তু নয়. মিনিমালিস্ট লাইফ স্টাইল এমন একটি বিষয় যা প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য স্বতন্ত্র। এক্ষেত্রে মূল বিষয়টি হচ্ছে সত্যিকার অর্থে কোন কোন বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও প্রয়োজনীয় সেই সম্পর্কে একটা পরিষ্কার ধারণা নিয়ে সেই অনুযায়ী জীবন ধারণ করা. প্রিয় দর্শক চলুন দেখি মিনিমালিজম কিভাবে আপনার জীবনধারা বদলে দিতে পারে।  মিনিমালিস্ট জীবন অবশ...