সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

বাংলাদেশ কি তবে শ্রীলংকা হতে যাচ্ছে ? বাংলাদেশ কি তাহলে দেউলিয়া হবার পথে ?


শ্রীলংকার সরকার অবশেষে জানিয়ে দিয়েছে বিপুল পরিমান বিদেশি ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা তাদের নেই অর্থাৎ নিজেদের দেউলিয়া হিসাবে ঘোষণা করতে বাধ্য হলো দেশটি । এটা অবশ্য বোঝাই যাচ্ছিলো গত কয়েকদিনের প্রেক্ষাপট দেখে ধারণা করা যাচ্ছিলো দেউলিয়া ঘোষণা করা ছাড়া অন্য কোনো রাস্তা খোলা নেই শ্রীলংকার সামনে । তবে শ্রীলঙ্কার এই দুরাবস্থায় বাংলাদেশের নাগরিকদের অনেকেই বেশ চিন্তিত। বিপুল পরিমান বিদেশি ঋণের ভারে জর্জরিত হওয়াটা শ্রীলংকার আজকের অবস্থার একটা বড়ো কারণ। অবকাঠামোগত উন্নয়ন কর্মকান্ড চালাতে বাংলাদেশকেও প্রচুর বৈদেশিক ঋণ নিতে হচ্ছে. এখানে দুর্নীতি আছে আছে মুদ্রাস্ফীতি , জিনিসপত্রের দাম বাড়ছে লাফিয়ে লাফিয়ে. আর তাই সাধারণ মানুষের মধ্যে একটা আতঙ্ক আছে. আজ থেকে কয়েক বছর পর বাংলাদেশের অবস্থাও শ্রীলংকার মতো হবে না তো?



তার আগে আমরা ব্যাখ্যা করবো শ্রীলঙ্কার বর্তমান দুরাবস্থার কারণগুলো নিয়ে. জটিল কোনো রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক আলোচনা নয়. খুব সাদামাটা ভাবে আমরা বোঝানোর চেষ্টা করবো পুরো বিষয়টি. তাহলে শুরু করা যাক.



 শ্রীলঙ্কায় গত কিছুদিন ধরেই জ্বালানি তেলের সংকট চলছে দারুণভাবে. রান্নার গ্যাসের অভাব. ভয়ঙ্কর খাদ্য সংকটও দেখা দিয়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে. দিনের বেশিরভাগ সময় থাকছে না বিদ্যুৎ. কাগজের অভাবে বন্ধ রয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষা ও সংবাদপত্র প্রকাশনা. অভাব দেখা দিয়েছে কেরোসিন কিংবা পেট্রোলের বাজারেও. শ্রীলঙ্কা এমন একটি দ্বীপ রাষ্ট্র যেখানে নিত্য প্রয়োজনীয় অনেক কিছুই আমদানি করতে হয়. যেমন LPG গ্যাস, পেট্রোল, ডিজেল কিন্তু এসব নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য আমদানির জন্য প্রয়োজনীয় টাকা দেশটির কোষাগারে নেই. কারণ তাদের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ফুরিয়ে গেছে. বিদেশি ঋণের ভারে জর্জরিত দেশটি পারছে না ঋণের কিস্তিও শোধ করতে. বৈদেশিক মুদ্রার তীব্র সংকট বেসামাল করে তুলেছে দেশটির অর্থনীতিকে. এই সংকট আর আকাশ ছোঁয়া দ্রব্যমূল্য তৈরি করেছে গণ অসন্তোষ. প্রেসিডেন্টের বাড়িতে হামলা চালিয়েছে শ্রীলঙ্কার সাধারণ মানুষ সেনাবাহিনীর সাথে হয়েছে তাদের সংঘর্ষ. কলম্বোর রাস্তায় কারফিউ জারি করা হয়েছে. উনিশশো-আটচল্লিশ সালে স্বাধীনতা পাওয়ার পর গত চুয়াত্তর বছরের ইতিহাসে এতটা খারাপ অবস্থায় দেশটি কখনো পড়েনি । এক সময়ের দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে অগ্রসর দেশ শ্রীলংকার এই মরণ দশা কেন?




 শ্রীলংকার আয়ের একটা বড় অংশ আসে পর্যটন থেকে. আয়তনে ছোটো হলেও প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশ বা পাকিস্তানের চেয়ে টুরিস্ট ডেসিনেশন হিসেবে শ্রীলঙ্কা অনেক বেশি জনপ্রিয়. দু হাজার উনিশ সালে শুধু এই খাত থেকে শ্রীলঙ্কার আয় ছিল বারো বিলিয়ন ডলারেরও বেশি. শ্রীলংকায় অজস্র মানুষ পর্যটন সংক্রান্ত নানা ব্যবসা এবং চাকরির সাথে যুক্ত ছিল. সবকিছুই ঠিকঠাক চলছিল. কিন্তু বিপত্তিটা বাধ্য দু-হাজার-বিশ সালে. করোনার আগমনে গোটা পৃথিবী ঘরবন্দি হয় পরল. বন্ধ হয়ে গেল বিমান চলাচল. দুর্যোগ নেমে এলো শ্রীলঙ্কার ট্যুরিস্ট সেক্টরে. মহামারীর কারণে রেমিটেন্সের পরিমাণ নেমে এলো প্রায় শূন্যের কোঠায়. শ্রীলঙ্কার অর্থনীতি একটা বড়সড় ধাক্কা খেলো. সেই ধাক্কার রেশ আর কখনোই কাটিয়ে উঠতে পারেনি এই দেশটি.


 দুহাজার উনিশ সালের ইস্টার সানডের অনুষ্ঠানে কলম্বোয় বোমা হামলা করে জঙ্গিরা. কয়েকশো মানুষ নিহত হয় সেই হামলায়. যাদের বেশিরভাগই ছিলেন পর্যটক. বিদেশি পর্যটকদের কাছে যে শ্রীলঙ্কা ছিল নিরাপদ এক গন্তব্য সেই ধারণাটা বদলে যায় সেই হামলার পর. তবে ইস্টার সানডে হামলা বা করোনাকে যদি একমাত্র কারণ ভাবেন শ্রীলংকার এই দুরাবস্থার তাহলে কিন্তু আপনার ভুল হবে । অনেক বছর ধরেই বৈদেশিক ঋণের ভারে জর্জরিত হয়ে আছে শ্রীলংকা । বিশেষ করে বিগত পনেরো বছরে শ্রীলংকা বেশ কিছু ব্যয়বহুল ও উচ্চাবিলাসী প্রকল্প হাতে নিয়েছে যার অধিকাংশই অপ্রয়োজনীয় এবং অর্থনৈতিকভাবে অলাভজনক হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে টাকা তো খরচ হচ্ছেই কিন্তু কাজে লাগছে না কোনো । উদাহরণ স্বরূপ হামান্ড টোটা সমুদ্র বন্দর ও বিমানবন্দরের কথা উল্লেখ করা যেতে পারে। এসব প্রকল্প বৈদেশিক ঋণের বোঝা বাড়ানো ছাড়া আর কিছুই বয়ে আনতে পারেনি এই দেশটির অর্থনীতির জন্য. শ্রীলঙ্কার আজকের অবস্থার পেছনে সরকারের ভুল নীতিতে চলাটাকেও দায়ী করতে হবে. অপরিকল্পিত প্রকল্প গ্রহণ ও গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের প্রতি উদাসীনতা । যেমন শ্রীলঙ্কায় প্রতি বছর বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ছে আট শতাংশ হারে কিন্তু দু হাজার চোদ্দ সাল থেকে দেশটি কোনো নতুন বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উদ্যোগ নেয় নি। বিদ্যুৎ সংকট এখন মরার ওপর খাড়ার ঘা হয়ে পরেছে। অপরিকল্পিত মেগা প্রজেক্ট শ্রীলংকার উন্নয়নের প্রতীক না হয়ে হয়েছে গলার কাঁটা। বিদেশে কাজ করা বহু শ্রীলংকার মানুষের চাকরি চলে গেছে করোনার সময়। কাজের পরিসরও কমেছে। কমেছে শ্রীলংকার রেমিট্যান্স আয়ের পরিমাণও কিন্তু রাজা পাক্সের সরকার এসবের দিকে নজর দেয়নি বিন্দুমাত্র।



 দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়েও নেয়নি যথাযথ কোনো ব্যবস্থা বাড়ায়নি বন্ধু রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ । পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ে সংস্কারের নামে চরম গাফিলতি করেছে শ্রীলংকার সরকার. স্বাধীনতার পর থেকেই শ্রীলঙ্কার অর্থনীতি ঋণ নির্ভর. কিন্তু বর্তমান সময়ের মতো ঋণের বোঝা শ্রীলঙ্কার ঘাড়ে কখনোই চেপে বসেনি. এমনকি গৃহযুদ্ধের সময়ও নয়. বর্তমানে শ্রীলংকার ঋণের হার জিডিপির একশো-উনিশ শতাংশ. বিগত দেড় দশকে ধীরে ধীরে ঋণের ভারে জর্জরিত হয়েছে দেশটি । আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের তথ্য বলছে ঋণের দায়ে পরিশোধ হিসেবে চলতি বছর শ্রীলঙ্কাকে সব মিলিয়ে পাঁচশো কোটি ডলার পরিশোধ দেওয়ার কথা । অথচ এখন শ্রীলংকার হাতেই আছে মাত্র দুশো একত্রিশ কোটি ডলারের সমপরিমাণ  বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ. সুতরাং ঋণ পরিশোধ তো দূরের কথা দৈনন্দিন কাজ চালাতেই নতুন করে আরো ঋণ নিতে হচ্ছে দেশটিকে. অন্যদিকে বৈদেশিক বিনিয়োগও কমেছে গত দুই বছরে. প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজপাক্সে জেতার জন্য vat ও tax কমানোর ঘোষণা দিয়েছিলেন. স্বাভাবিকভাবে তার এই ঘোষণা তাকে নির্বাচনী বৈতরণী পার করে আনতে সাহায্য করেছিল. ফলে সরকারের রাজস্ব আয় আগের তুলনায় পঁচিশ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়. যা শ্রীলংকাকে অধিক বৈদেশিক ঋণ নিতে বাধ্য করে.




 আর একটা ভুল শ্রীলঙ্কা করেছে. সেটা হচ্ছে কৃষি খাতের রাতারাতি অর্গানিক ফার্মিং চালুর হঠকারী সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন. বৈদেশিক মুদ্রার মজুদের চাপ কমাতে রাসায়নিক সার আমদানি নিষিদ্ধ করেন. নিষিদ্ধ হয় কৃষিতে রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যবহার. ফলশ্রুতিতে শ্রীলঙ্কায় খাদ্যদ্রব্য উৎপাদন প্রায় এক তৃতীয়াংশ কমে যায়. বেড়ে যায় খাদ্য দ্রব্যের দাম. শ্রীলংকার সরকার কোনদিক বিবেচনা না করে এক ডলারের মূল্যবান দুইশো-তিন শ্রীলংকার মুদ্রায় বেঁধে দিয়েছিল. অথচ বাজারে এখন এক ডলার বিক্রি হচ্ছে দুশো-চল্লিশ থেকে দুশো-ছেষট্টি শ্রীলংকার মুদ্রায়. এখন সেটা প্রায় তিনশো ছুঁয়েছে. ফলে অধিকাংশ মানুষ বেশি রোজগারের আশায় কালোবাজারে বিদেশী মুদ্রা ভাঙিয়েছেন. শ্রীলঙ্কার মুদ্রার স্ফীতি এখন এমন ভয়াবহ অবস্থায় দাঁড়িয়েছে যে সেখানে চালের কেজি বিক্রি হচ্ছে আড়াইশো থেকে তিনশো টাকায়.  বারো লিটারের এলপিজি সিলিন্ডার গ্যাসের জন্য তিন হাজার টাকা খরচ করতে হচ্ছে দেশের নাগরিকদের. টাকা হাতে নিয়ে বসে আছে তারা. কিন্তু পাওয়া যাচ্ছে না কাঙ্ক্ষিত পণ্যটি.



বাংলাদেশ কি কখনো শ্রীলঙ্কার পরিণতি বরণ করতে পারে?


 আলোচনার সুবিধার্থে বাংলাদেশ ও শ্রীলংকার অর্থনীতির তুলনামূলক অবস্থা সম্পর্কে একটা ধারণা থাকা আপনার জন্য খুবই প্রয়োজন. শ্রীলংকার মোট ঋণ তেত্রিশ বিলিয়ন ডলার. যেহেতু দেশটির মোট জনসংখ্যা দুই কোটি বিশ লাখ. সেই হিসেবে শ্রীলংকার মাথাপিছু ঋণের পরিমান ষোলশো পঞ্চাশ মার্কিন ডলার. অন্যদিকে বাংলাদেশের মোট ঋণ ঊনপঞ্চাশ দশমিক চার পাঁচ বিলিয়ন ডলার. আর যেহেতু বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার ষোল কোটি তিরানব্বই লাখ. সেই হিসেবে মাথাপিছু ঋণের পরিমান দুশো বিরানব্বই দশমিক এক এক ডলার . বাংলাদেশের চেয়ে শ্রীলংকার মাথাপিছু ঋণের পরিমান প্রায় ছয় গুণ বেশি. করোনা মহামারীতে শ্রীলঙ্কার রেমিটেন্স পৌঁছেছে তলানিতে. দু হাজার বিশ একুশ অর্থ বছরে দেশটির রেমিটেন্স ছিল আট দশমিক পাঁচ বিলিয়ন ডলার. অন্যদিকে ওই অর্থ বছরে বাংলাদেশের রেমিটেন্স ছিল চব্বিশ দশমিক সাত আট বিলিয়ন ডলার. যা শ্রীলংকার চেয়ে প্রায় তিনগুন বেশি. ঋণ পরিশোধের দায়ের দিক থেকেও বিপজ্জনক অবস্থানে নেই বাংলাদেশ. অর্থ মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী বাংলাদেশে ঋণের হার এখন জিডিপির আটত্রিশ শতাংশ. গত জুন পর্যন্ত হিসাবে বাংলাদেশের মোট দেনার পরিমাণ ছিল এগারো লাখ চুয়াল্লিশ হাজার দুশো সাতানব্বই কোটি টাকা. এর প্রায় সাতত্রিশ শতাংশ এসেছে বিদেশি উৎস থেকে. পরিমান চার লাখ বিশ হাজার তিনশো আটান্ন কোটি টাকা. বাংলাদেশের বিদেশি ঋণের হার জিডিপির তেরো শতাংশ. সুতরাং আপাতত চিন্তিত হবার তেমন একটা কারণ নেই বলেই মনে হচ্ছে. কেননা আইএমএফের হিসেবে এই হার পঞ্চান্ন শতাংশের বেশি মানেই হচ্ছে মহা বিপদ.




 তবে শ্রীলংকার উদাহরণ থেকে এখন থেকেই কয়েকটা ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে সতর্ক হতে হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা. রপ্তানি আয় কমে যাওয়াকে বিশেষজ্ঞরা এই সংকটের অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন. বর্তমানে শ্রীলংকার রপ্তানি আয় আট দশমিক পাঁচ বিলিয়ন ডলার যেখানে বাংলাদেশের রপ্তানিয় আটত্রিশ দশমিক সাত পাঁচ বিলিয়ন ডলার অর্থাৎ বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ে শ্রীলংকার প্রায় পাঁচ গুণ বেশি । মার্চ দু হাজার বাইশ পর্যন্ত শ্রীলংকার রিজার্ভের পরিমান দুই বিলিয়ন ডলার যেখানে বাংলাদেশের রিজার্ভের পরিমান চুয়াল্লিশ দশমিক চার বিলিয়ন ডলার. বর্তমানে বাংলাদেশের রিজার্ভের পরিমাণ শ্রীলংকার চেয়ে প্রায় বাইশ গুণ বেশি আছে. অর্গানিক কৃষি চালুর কারণে শ্রীলংকার কৃষিজ উৎপাদন কমেছে. কিন্তু বাংলাদেশ ক্রমশ খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে উঠছে. বিদেশি  ঋণ নিয়ে নির্মিত শ্রীলংকার উন্নয়ন প্রকল্প গুলো সে দেশের মানুষের কোনো কাজে আসছে না । কিন্তু বাংলাদেশ সরকারের উন্নয়ন প্রকল্পের সুফল সরাসরি পাচ্ছে এদেশের মানুষ পদ্মা সেতু , লেবুখালী সেতু দক্ষিণাঞ্চলের চেহারা পাল্টে দেবে আগামী কয়েক বছরে পাহারা বন্দর, রুপপুর বিদ্যুৎ কেন্দ্র, রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র কর্ণফুলী নদীর নিচ দিয়ে নির্মিত ট্যানেল, সোনাদিয়া গভীর সমুদ্র বন্দর, ঢাকা কক্সবাজার বাজার রেলওয়ে প্রকল্প কিংবা কক্সবাজার বাজার বিমানবন্দরের মতো প্রকল্প গুলো দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখবে এ কথা মোটামুটি নিশ্চিত ভাবেই বলা যায়.



 করোনা কালে শ্রীলঙ্কার কর্মীরা কাজ হারিয়ে বিদেশ থেকে ফিরে এসেছেন নিজ দেশে. অথচ বাংলাদেশে ঘটেছে উল্টোটা. করোনাকালে আমাদের রেমিটেন্স হাই রেকর্ড করেছে. বাংলাদেশের মেগা প্রকল্পগুলো জনবান্ধব, যুগোপযোগী ও টেকসই হলেও কিছু ব্যাপার মাথায় রাখতে হবে এখন থেকে। ভবিষ্যতের কোনো অবকাঠামোগত প্রকল্প গ্রহণের আগে প্রকল্পটির প্রয়োজনীয়তা, জনকল্যাণ এবং অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হওয়ার বিষয়গুলো বিবেচনায় নিতে হবে. বর্তমানে বাংলাদেশে বৈদেশিক ঋণের হার IMF এর ঘোষিত বিপদসীমার বেশ নিচে. সুতরাং এই মুহূর্তে ঋণ পরিশোধের দায়ের দিক থেকে বাংলাদেশ নিরাপদ অবস্থানেই রয়ছে. তবে শ্রীলংকা থেকে বাংলাদেশ বেশ কিছু বিষয় শিক্ষা নিতে পারে. দু হাজার ছাব্বিশ সালে স্বল্পনত দেশ থেকে বেরিয় যাওয়ার পর বাংলাদেশ আর কম সুদে ঋণ পাবে না. বেশি সুদে ঋণ নিয়ে বাড়বে দায়. তাই এখন থেকেই ঋণের দায় নিয়ে সতর্ক হতে হবে. পাশাপাশি মুদ্রাস্ফীতির কারণে বাড়ছে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম. নাগরিক জীবনে যার প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়ছে. এই বিষয়গুলোর দিকে একটু দৃষ্টি দিতে হবে খুব জলদি. বাংলাদেশে এখন বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের চেয়ে ব্যয় অনেক বেশি. এতে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমছে. আমদানি ব্যয় আরো বাড়লে রিজার্ভেও টান পড়বে. এতে রিজার্ভের অর্থ অবকাঠামো প্রকল্পে খরচ করার সুযোগ কমে যাবে অনেকটাই. সব মিলিয়ে তখন অর্থনীতির ওপরেও বাড়বে চাপ. এ কারণে বড় প্রকল্পে অর্থ ব্যয়, দায় পরিশোধ ও সমষ্টিক অর্থনীতির সুযোগ নিয়ে সতর্ক থাকার কথা বলেছেন বিশেষজ্ঞরা. এই সতর্কতা ছিল না বলেই আজ এই সীমাহীন বিপদে পড়েছে শ্রীলঙ্কা. তবে সবকিছু আমলে নিয়েও বাংলাদেশের জিডিপির পরিমাণ রপ্তানি আয় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ রেমিটেন্স সহ অর্থনীতির অন্যান্য সূচক বিবেচনায়  একথা নিশ্চিত ভাবে বলা যায় যে আপাত দৃষ্টিতে বাংলাদেশের পরিস্থিতি শ্রীলঙ্কার মতো হওয়ার মতো সম্ভাবনা রয়েছে খুবই কম. শ্রীলংকার নাগরিকেরা তাদের সরকারের ভুল সিদ্ধান্ত এবং করোনার বলি হয়েছেন  যেটি আমাদের দেশে ঘটার আপাতত কোনো সম্ভাবনা নেই. তবে মন্ত্রী মিনিস্টার রা যেভাবে টাকা পাচার করতেছেন দেশ থেকে সেক্ষেত্রে যেকোনো সময় বদলে যেতে পারে দেশের চেহারা । মুখ থুবড়ে পড়তে পারে অর্থনীতি। খুব দ্রুত গতিতে ই দেউলিয়া হতে পারে বাংলাদেশ । সেটা সময়ই বলে দেবে ।


 

মন্তব্যসমূহ

Blog Posts

লুসিড ড্রিম কাকে বলে ? লুসিড ড্রিম কিভাবে দেখতে হয় ?

 স্বপ্ন নিয়ন্ত্রণ করার কথা ভেবেছেন কখনো? নিশ্চয়ই ভাবছেন জেগে জেগে দিবাস্বপ্ন দেখার কথা বলছি না তো? কিন্তু না, রীতিমতো ঘুমিয়ে দেখা স্বপ্নও নিয়ন্ত্রণের কথাই বলছি, আপনার ইচ্ছামত স্বপ্ন দেখবেন। ইচ্ছা মতো নিয়ন্ত্রণ করবেন। আর পছন্দ না হলে অর্থাৎ দুঃস্বপ্ন দেখা শুরু করলে সেটার গতিপথ পাল্টে দেবেন একেবারে নিমেষে। আধুনিক বিজ্ঞানের ভাষায় এটা খুবই সম্ভব একে বলা হয় লুসিভ ড্রিম। লুসিড ড্রিমিং এর সাথে আপনারা অনেকেই হয়তো পরিচিত আছেন। অনেকে পরিচিত থাকলেও হয়তো এটা কেন হচ্ছে বা কিভাবে হচ্ছে তা নিয়ে বেশ দ্বিধা দ্বন্দ্বে আছে এসবেরই উত্তর মিলবে আজকের এই লিখাতে।   লুসিড ড্রিম অর্থ কি? সহজ বাংলায় অনুবাদ করতে গেলে বলা যায় লুসিড অর্থ পরিষ্কার. অর্থাৎ স্পষ্ট আর dream মানে তো আমরা সবাই জানি যে স্বপ্ন। লুসিড ডিম হলো সেই স্বপ্ন যে আমাদের স্পষ্ট ভাবে মনে থাকে এবং স্বপ্ন চলাকালীন সময়েও আমরা এ উপলব্ধি করতে পারি যে এটি বাস্তব নয় বরং এটি স্বপ্ন কিন্তু শুধুমাত্র আক্ষরিক অর্থ দিয়ে লুসিড ড্রিম ব্যাখ্যা করলে ভুল হবে একটু অন্যভাবে বলা যাক ।  মনে করুন স্বপ্নে আপনি কি পাহাড়ের উপর থেকে দ্রুত গ...

সারোগেসি কি ?

সারোগেসির মাধ্যমে সন্তান ধারণ করা নিয়ে এখনো বহু বিতর্ক আছে. শুধু আমাদের দেশে নয়, সারা বিশ্বেই এই পদ্ধতি নিয়ে তর্ক বিতর্কের শেষ নেই.  এটার আইনি প্রক্রিয়াও জটিল। কারণ এটি একেক রাষ্ট্রে. শারোগেসি আইন একেক রকম. নারী মা হবেন প্রাকৃতিক নিয়ম সমাজ এমনটাই দেখতে অভ্যস্ত. কিন্তু কোন কারণে মা হবার ক্ষমতা না থাকলে তাকে পরিবার ও আশপাশ থেকে যে পরিমাণ কটু কথা শুনতে হয় তা সাধারণ মানুষের ধারণারও বাইরে.   সরোগেসি বিষয়টি কি? চিকিৎসা শাস্ত্রের অগ্রগতি এমন মায়েদের সামনে এনেছে যারা গর্ভ ভাড়া দিয়ে নিজে বাঁচেন অন্যদের মাতৃ সুখ দেন । একজন নারীর গর্ভে অন্য দম্পতির সন্তান ধারণের পদ্ধতিকে সারোগেসি বলা হয়.সারোগেসির এই  পদ্ধতি বেশ দীর্ঘকালীন. আইভিএফ পদ্ধতিতে স্ত্রী ও পুরুষের ডিম্বাণু শুক্রাণু দেহের বাইরে নিষিক্ত করে তা নারীর গর্ভাশয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়. কিন্তু এখানেও জটিলতা. কেন? সে বিষয়ে পরে আসছি. বাংলাদেশ সহ বহু দেশই এই সারোগেসি একরকম ভাবে নিষিদ্ধ. সুতরাং বিষয় টি  সংবেদনশীল. এমনকি বেশিরভাগ ধর্মেও রয়েছে নিষেধাজ্ঞা. চলুন কথা বলি সারোগেসি মাদার সম্পর্কে। আইভিএফ বা টেস্ট টি...

ন্যানো টেকনোলজি কিভাবে কাজ করে ?

  যদি বলি আপনার চোখ দেখতে পারে না এমন গভীর ও প্রায় অনাবিষ্কৃত একটা পৃথিবী আছে. হয়তো বলতে পারেন যে মহাবিশ্বে কত গ্রহই তো আছে? সব খোঁজ কি আমরা পেয়েছি? কিন্তু যদি বলি আমাদের এই পৃথিবীর ভেতরে আরো একটি জগত আছে এবং যে জগৎ ছড়িয়ে আছে আমাদের গোটা বিশ্ব জুড়ে. এইবার হয়তো নড়েচড়ে বসবেন. হ্যাঁ আমাদের চোখের সামনেই রয়েছে এমন এক রাজ্য যে আমরা খালি চোখে দেখতে পাই না. এটাকে বলা হয় অণুবীক্ষণিক বিশ্ব. এই অণুবীক্ষণই বিশ্ব প্রচন্ড আকর্ষণীয় ও চমকে দেওয়ার মতো. কি কি ঘটছে এখানে তা আমার আপনার কল্পনারও বাইরে. এটা যেন কোনো ভিন গ্রহ বাসীদের রাজ্য. সম্ভাবনার দুয়ার খুলে রাখা আছে এই অণুবীক্ষণিক বা nano বিশ্বে.  ন্যানো কি ন্যানো হলো পরিমাপের একক। এক মিটারের একশো কোটি ভাগের এক ভাগ হচ্ছে এক ন্যানো। আর ন্যানো টেকনোলজি হলো বিজ্ঞানের এই অতি ক্ষুদ্র স্তরে একটা কিছু তৈরী করা আসলে শুধু তৈরি করা না. ন্যানোমিটার স্কেলে পরিবর্তন, পরিবর্তন, ধ্বংস বা সৃষ্টি সম্পর্কিত টেকনোলজিকেই ন্যানো টেকনোলজি বলে. অর্থাৎ ন্যানোমিটার স্কেলে পরিমিত যেকোনো বিষয়ে বহুমাত্রিক টেকনোলজিকে ন্যানো প্রযুক্তি বা ন্যানো টেকনোলজি বলা যে...

পেগাসাস স্পাইওয়ার কি ?

গত কিছুদিন ধরেই বিশ্ব রাজনীতি এবং প্রযুক্তি জগৎ এই দুই জায়গাতেই আলোচনার বিষয়বস্তু একটাই। সেটা হচ্ছে পেগাসাস স্পাইওয়ার. বিশ্বজুড়ে নানান দেশের মানবাধিকার কর্মী সাংবাদিক আইনজীবী ও রাজনীতিকদের ফোনের নজরদারি চালানোর ঘটনা ফাঁস হওয়ার পর ইজরায়েলের বেসরকারি কোম্পানি nso গ্রুপের তৈরি করা এই সফটওয়্যার নিয়ে এখন তুমুল তরজা চলছে দুনিয়া জুড়ে । চলুন কথা বলি দুনিয়া ওলট পালট করে দেওয়া স্পাইওয়ার সম্পর্কে । পেগাসাস মূলত একটি নজরদারি বিষয়ক সফটওয়্যার । ইজরাইলের সংস্থা এনএসও ই সফটওয়্যার তৈরি করেছে। যা দিয়ে যে কারো মোবাইলে আড়ি পাতা যায়. এটা কিন্তু সাধারণ কোন নজরদারি নয়. আগে ফোনে আড়ি পেতে শুধু দুই প্রান্তের কথাবার্তা শোনা যেত. আর সফটওয়্যারের মাধ্যমে গোটা ফোনটারই নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় হ্যাকাররা. ফোনের কথাবার্তা WhatsApp এর চ্যাট, ছবি, ফোনে কি কি তথ্য আছে সবই জানা যায়. আরো ভয়ানক ব্যবহার হচ্ছে মোবাইল যিনি ব্যবহার করছেন তিনি জানতেই পারেন না যে তার ফোন হ্যাক করা হয়েছে. সমস্ত তথ্য পাচার হয়ে যাচ্ছে নির্দিষ্ট একটি গোষ্ঠীর কাছে. কিন্তু কারো ফোনে পেগাসাস software install করতে হলে তো সেই ফোনটাকে...

রেট রেস কি ?

      আপনি ঠিক কখন ইঁদুর দৌড়ে যোগ দিয়েছেন এটা হিসাব করা কঠিন. কিন্তু নিশ্চিত থাকুন আপনি এই দৌড়ে আছেন. ক্লাস eight এ পড়ার সময়ের কথা মনে আছে? সামনে বৃত্তি পরীক্ষা পাটিগণিত বীজগণিতের অংক প্যাঁচ লাগাচ্ছে বিজ্ঞানের জটিল সব সূত্র ভোরে ওঠে প্রাইভেট টিউটরের বাসায় ছোটা রাত জেগে পড়াশোনা. বয়সের তুলনায় অনেক বেশি কর্ম ব্যস্ত একটা সময় নিশ্চয়ই কাটিয়েছেন তখন? আমরা সবাই কাটিয়েছি. সেই সময় নিশ্চয়ই অভিভাবক বলেছে এই তো আর কটা দিন. বৃত্তি পরীক্ষা শেষ হলেই জীবন শান্তি আর শান্তি. জীবনের নানা এপিসোডে আপনি এই কথাগুলো শুনেছেন অনেকবার অনেকের মুখে. এসএসসি পরীক্ষাটা দাও, কলেজে উঠলেই তো স্বাধীনতা. একবার ভার্সেটিতে উঠতে পারলেই জীবন হবে আনন্দে ভরপুর. একবার জব লাইফে ঢোকো. নিজের টাকায় আয়েশ করার মজাই অন্যরকম. শুনেছেন না এসব?  বয়স ঘড়ির ত্রিশের প্রান্তে দাঁড়িয়ে হিসেবগুলো মেলাতে পারেন কি? কি মনে হয়? এই এপিসোডগুলোর কোনোটা পার হবার সময় জীবন খানিকটা হলেও সহজ হয়েছে? সুন্দর হয়েছে? হয়নি, হবেও না, মিথ্যা একটা মরীচিকার আশায় আমরা ছুটেছি ঠিকই আমাদের ছোটানো হয়েছে, কিন্তু হিসাব মেলেনি ছুটত...

ম্যান্ডেলা ইফেক্ট কেনো হয়?

   আচ্ছা নিজের স্মৃতি শক্তির উপর কতটা বিশ্বাস আছে আপনার? আচ্ছা বাদ দিয়ে আপনার কথা. গণমানুষের স্মৃতিশক্তির উপর নিশ্চয়ই বিশ্বাস আছে অনেকটা. না না. ধর্মীয় কোন বিশ্বাস না. এই গ্রহে ঘটে যাওয়া এমন সব ঘটনা. যা সবাই জানে. তা কি রকম মিথ্যা? এক দশক আগেও পৃথিবীর প্রায় এক তৃতীয়াংশ মানুষ জানতো যে অস্ট্রেলিয়ার রাজধানীর নাম সিডনি. আসলে কি তাই? গত এক দশকে এই ধারণা মোটামুটি পরিবর্তন হয়ে মানুষ জেনেছে অস্ট্রেলিয়ার রাজধানীর নাম ক্যানভেরা. এখনো এই ভুল হরমামেশাই করে যাচ্ছে মানুষ. বিশ্বাস না হলে আশেপাশের কিছু মানুষকে জিজ্ঞেস করে দেখতে পারে. প্রশ্ন করতে পারেন ম্যান্ডেলার নাম কেন? এই ফ্ললস মেমোরি সিন্ড্রোমকে ম্যান্ডেল এফেক্ট নামকরণ করেছেন প্যারানরমাল কনসালটেন্ট ফীয়না ব্রুম তার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে । দু হাজার দশ সালের এক আলোচনা সভায় উঠে আসে দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদ বিরোধী আন্দোলনের নেতা উনিশশো আশি সালে কারা জানে মারা যাওয়ার প্রসঙ্গ । অনেকেই সেদিন বলেছিল, টিভিতে এই নেতার শেষকৃত্যের আনুষ্ঠানিকতা দেখার অভিজ্ঞতার কথা. ম্যান্ডেলার স্ত্রীর হৃদয় নিন্দারও ভাষণের কথা উল্লেখ করেছিলেন কেউ কেউ. এমনক...

কিভাবে লিমিটলেস হওয়া যায় ? লিমিটলেস আসলে কিভাবে কাজ করে ?

এনজিটিপিল,  এটা এমন এক পিল যা আপনাকে করবে আল্ট্রা ফোকাসড. দেবে দুর্দান্ত মোটিভেশন. বের করে আনবে আপনার সর্বোচ্চ সম্ভাবনা. আপনি হয়ে উঠবেন আনস্টপল. বাস্তবতা পাবে প্রতিটি স্বপ্ন. কিন্তু সমস্যা হচ্ছে এমন কোন পিলের অস্তিত্ব নেই. ফলাফল আপনি আটকে আছেন একটি খাদে. সারাক্ষণ ক্লান্তি নিয়ে হয়ে উঠছেন আনপ্রোডাক্টিভ. নষ্ট হচ্ছে ক্রিয়েটিভিটি. সময় গড়িয়ে যায়. ঋতুর পরিবর্তন ঘটে. কিন্তু আপনি ডুবে থাকেন এক হতাশায় যাতে আপনি দিন দিন পিছিয়ে পরছেন. আপনি যা যা এতদিন অর্জন করবেন ভেবেছিলেন তা কিছুই আপনি অর্জন করতে পারেননি । নিজেকে সান্তনা দিচ্ছেন আগামীকাল হবে ভিন্ন। কিন্তু তা কখনোই হয়ে ওঠে না এখন যদি আপনাকে বলি কোনো জাদুকরী পিলের সাহায্যে নয় বাস্তবিক লিমিটলেস হয়ে ওঠা সম্ভব।  একদম প্রমাণিত পদ্ধতিতে যা একেবারে ফ্রিতে ব্যবহার করা সম্ভব.  তো আছেন তো শেষ পর্যন্ত ?  Limit less হওয়ার যাত্রায় ।  স্টেপ ওয়ান : এনার্জি--  মাত্র কয়েক মাস আগে আমি নিজেও আপনার মতো কর্মশক্তিহীন অনুভব করতাম. সামান্য কাজেই আসতো অবসন্নতা, গেয়ে ধরতো ক্লান্তি একদিন হঠাৎ টের পেলাম আমি নিজেই নিজের energy নি...

প্রযুক্তি দুনিয়াতে পর্দার আড়ালে থেকে যাওয়া এক প্রতিভাবান এর গল্প ।

পর্দার আড়ালে একা খেলে যাচ্ছেন একজন. কামাচ্ছেন বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার. অথচ তাকে চেনে খুব কম সংখ্যক মানুষ. আইটি জগতে ইলন মাস্ক, জেফ বোজোস বা বিট গ্রেটসের সাথে তার নামও সমান তালে চলার কথা ছিল. কিন্তু বিহাইন্ড দা সিনে একা গোল করে যাচ্ছেন তিনি. নাম ড্রোন ইয়াং পিং ড্রোন ইয়াং পিং নামটি মোবাইল ফোনের জগতে খুবই কম মানুষের শোনা. তবে তার নাম অজানা থাকলেও তার কোম্পানি বিবিকে ফোন গিগদের মধ্যে বেশ পরিচিত. ওয়ান প্লাস, রিয়েলমি, অপো, ভিভো এবং আইকিউ. এই পাঁচটি জনপ্রিয় মোবাইল ব্র্যান্ডের একক মালিক ডোন ইয়াং পিন.  এই ব্র্যান্ড গুলো তার কোম্পানিতে পরিণত করেছে বর্তমানের সবচেয়ে বড় মোবাইল ফোন উৎপাদনকারী কোম্পানিতে. অ্যাপেল , শাওমি বা স্যামসাং যারা মোবাইল ফোনের জগতে বর্তমানে সবচেয়ে বড় ব্র্যান্ড তাদেরকেও পেছনে ফেলে এগিয়ে গিয়েছে বিবিকে কোম্পানি। কিন্তু এত সফলতার সত্ত্বেও বেশিরভাগ মোবাইল ফোন ব্যবহারকারী এমনকি ফোন গিগরাও তার সম্পর্কে বলতে গেলে তেমন কিছুই জানে না. এলেন মাস্ক, স্টিভ জবস বা জ্যাকমা, যারা কিনা টেকনোলজির জগতে খুবই পরিচিত তাদের সম্পর্কে অনলাইনে  অগণিত তথ্য রয়েছে। কিন্তু ডন ইয়ং পিং এর...

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কি ? আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কতটা ভযঙ্কর হতে পারে আগামী দিনের জন্য ?

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বহুল চর্চিত এবং ব্যবহৃত একটি শব্দ. মানুষের বুদ্ধিমত্তা ও চিন্তা শক্তিকে কম্পিউটার প্রোগ্রামিং এর মাধ্যমে মেশিন ল্যাঙ্গুয়েজে স্থাপন করা টেকনোলজিটাই হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স । এর মাধ্যমে কোন যন্ত্র নির্দিষ্ট প্রোগ্রামের আওতাধীন কিছু কাজ নিজে থেকেই করতে পারে নিজে নিজে সিদ্ধান্ত নিতে পারে।  টার্মিনেচার টাইপের কোনো সাইফাই সিনেমার গুরু বন্ধুর সংলাপ নয়।  A.I নিয়ে ভবিষ্যৎবাণী করেছিলেন পৃথিবীর সেরা বিজ্ঞানীদের একজন স্টিফেন হকিং আমার ভয় হয় তারা সত্যিই হয়তো একদিন মানুষকে হটিয়ে নিয়ন্ত্রকের আসনে বসে যাবে। বেঁচে থাকতেই BBC কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স তথা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে এভাবেই সবাইকে সতর্ক করেছিলেন তিনি। হকিংসের এই ভয় এখনো ভবিষ্যতের বিষয় হলেও অমূলক নয় মোটেও যন্ত্রকে বুদ্ধিমান করে তার আশীর্বাদ অনেক আছে। কিন্তু দীর্ঘ মেয়াদে সেই যন্ত্রই পৃথিবীর দখল নিতে চলেছে কিনা স্বয়ং সম্পূর্ণ হয়ে মানুষকেই বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে একদিন অপদার্থ তে পরিণত করবে কিনা সেই প্রশ্নটা উঠছে বারবার।  যুক্তরাষ্ট্রে...

মিনিমালিজম কি ? কিভাবে মিনিমালিস্ট হওয়া যায় ?

মিনিমামলিজম এই ধারণাটি বিগত কয়েক বছরে বেশ জনপ্রিয়তা লাভ করেছে এবং এর যথেষ্ট কারণও আছে. এই পুরো ব্যাপারটা কি? সেটাকে সঙ্গায়িত করা যায় এভাবে যে,  মিনিমালিজম হচ্ছে যা আমাদের জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সেগুলোকে ধারণ করা এবং বাকি সব কিছু যা আমাদের দৃষ্টিকে অন্যদিকে সরিয়ে নেয় সেগুলোকে ইচ্ছাকৃতভাবে ত্যাগ করা।   অর্থাৎ কোন কোন বিষয়ে জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং কোন জিনিসগুলোকে আমাদের কাছে সবচেয়ে মূল্যবান সেই সম্পর্কে একটা পরিষ্কার ধারণা থাকা এবং বাকি সব ত্যাগ  করে দেয়. সেগুলো নিয়েই জীবন ধারণ করা. কিন্তু এমন সংজ্ঞায়ন সত্ত্বেও minimalism কোন ধরাবাধা জীবন ব্যবস্থা নয় বা মিনিমালিস্ট হতে হলে কোন নির্দিষ্ট মানদণ্ড মেনে চলতে হবে এরকমটিও কিন্তু নয়. মিনিমালিস্ট লাইফ স্টাইল এমন একটি বিষয় যা প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য স্বতন্ত্র। এক্ষেত্রে মূল বিষয়টি হচ্ছে সত্যিকার অর্থে কোন কোন বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও প্রয়োজনীয় সেই সম্পর্কে একটা পরিষ্কার ধারণা নিয়ে সেই অনুযায়ী জীবন ধারণ করা. প্রিয় দর্শক চলুন দেখি মিনিমালিজম কিভাবে আপনার জীবনধারা বদলে দিতে পারে।  মিনিমালিস্ট জীবন অবশ...