সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

এরিয়া ফিফটি one কি ?

এরিয়া ফিফটি ওয়ান 


এটা এক অচেনা জগৎ. এখানে না আছে কোনো মোবাইল নেটওয়ার্ক, না আছে কোনো সুইট সাইন. নেই পিচ ছাড়া রাস্তা বা প্রাণের খুব একটা স্পন্দন। এমনকি বাইরের বিশ্বের সংস্কৃতি এবং সমাজের সামান্যতম বিস্তরণও নেই এখানে। এই নিরীহ নির্মম গোপন রহস্য আসলে কি তা জানার সুযোগ হয়েছে বলা চলে খুবই কম । কখনো কখনো বলা হয় এটা এলিয়ান গবেষণাগার. ইউএফও বা আন আইডেন্টিফায়েড ফ্লাইং অবজেক্স নিয়েও নাকি প্রচুর গবেষণা করা হয়েছে. অনেকে ধারণা করেন যে একবারই স্থানে ঢুকলে আর বের হওয়া যায় না. বাইরের মানুষের কাছে একটা মিথ হয়ে রয়ে গেছে এই অঞ্চল. অন্তত এখনো পর্যন্ত. বলা হয় পৃথিবীর সবচেয়ে গোপন ও সবচেয়ে রহস্যময় এলাকা এটি. নাম এরিয়া ফিফটি ওয়ান. শুরু থেকেই গোপনীয়তার দুর্ভেদ্য চাদরে মোড়ানো বলে এরিয়া ফিফটি ওয়ান নিয়ে রহস্য ঘনীভূত হয়েছে দিনকে দিন । জমাট বাঁধা এই রহস্য থেকেই কালক্রমে জন্ম নিয়েছে বেশ কিছু কন্সপিরেসি থিওরি ।


 আমেরিকার নেভা স্টেটের দক্ষিণে লাস ভেগাস থেকে একশো পঞ্চাশ কিলোমিটার উত্তর পশ্চিমে পাহাড় গেরা মরুভূমির মধ্যে ঊনত্রিশ লক্ষ একর জায়গা জুড়ে আছে কুখ্যাত এবং বিদ্রুপজনকভাবে সুপরিচিত এই আইকনিক এরিয়া । বহু নামে ডাকা হয় স্থানটিকে ড্রিমল্যান্ড, প্যারাডাইস ব্যাঞ্চ, হোমি বিমান বন্দর আর অবশ্যই area fifty one. চলুন আমাদের আজকের যাত্রা হোক কুখ্যাত ও রোমাঞ্চকর এরিয়া fifty one এর পথে. শুরুটা হোক একদম প্রথম থেকে.


 উনিশশো সাতচল্লিশ সালের আটই জুলাই মার্কিন একাধিক সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয় নিউ ম্যাক্সিকোর রোজ ওয়েলের কাছে একটি ইউএফও বা আন আইডেন্টিফায়েড ফ্লাইং অবজেক্ট দুর্ঘটনাগ্রস্ত হয়ে মাটিতে পড়েছে. এবং সেই ইউএফও থেকে এলিয়েনদের পাওয়া গেছে যাদের চোখ বড় বড় এবং শরীর পাতলা. খবর ছড়িয়ে পড়তে ওই অঞ্চল ঘিরে ফেলে মার্কিন সেনা. ওয়াল্টার হুট নামে এক মার্কিন সেনা তার মৃত্যুর আগে এই তথ্য দিয়ে যায়। কিন্তু এই দাবি মিথ্যে বলে উড়িয়ে দেওয়া হয় যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে । মার্কিন সরকারের তরফে বিবৃতি দিয়ে জানানো হয় ওই স্থান মার্কিন সেনাবাহিনীর এবং একটি গ্যাস বেলুনে সেই স্থানে দুর্ঘটনা ঘটেছে এই অঞ্চলে কি ঘটেছিল তা নিয়ে জনসম্মুখে আসা সমস্ত তথ্য নষ্ট করে দেওয়া হয় মার্কিন সরকারের দিক থেকে. মানুষের মাঝে হইচই শুরু হলেও তা থেমে যায় ধীরে ধীরে. Cold war বা শীতল যুদ্ধে তখন রমরমা অবস্থা. সৌভিয়েত ইউনিয়ন আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মাঝে চূড়ান্ত উত্তেজনা বিরাজ করছে। সে সময় উপগ্রহের মাধ্যমে নজরদারির প্রযুক্তি ছিল না. এই কাজ করার একটাই রাস্তা ছিল তা হল ছবি তোলার প্রযুক্তি । সম্পূর্ণ নজরদারি বিমানের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করা।সাধারণ বিমান দিয়ে এই কাজ করা কোনভাবেই সম্ভব ছিল না. সাথে আরও সমস্যা ছিল সৌভিয়েত ইউনিয়নের বিশাল আয়তন. তাদের রাডার ব্যবস্থাও ছিল যথেষ্ট উন্নত. ফলে সেই রাডার ফাঁকি দিয়ে ছবি তুলে আনা ছিল এক কথায় অসম্ভব. তখনই পরিকল্পনা করা হয় যে এমন একটা বিমান দরকার যে অনেক উঁচু দিয়ে উঠতে পারবে. ফলে রাডারে ধরা পড়বে না. যেকোনো বিমান বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ওই উচ্চতায় গিয়ে আঘাত হানতে পারবে না. এরপর এরপর অনেক গবেষণার পর উনিশশো পঞ্চান্ন সালে ইউটিউব গোয়েন্দা বিমান তৈরি করা হয়. 

পুরো প্রকল্পটি ছিল কঠোর গোপনীয় ব্যাপার. বিমানটি ইউ দ্বারা নামকরণ করার কারণ হল ইউ দিয়ে বোঝায় ইউটিউটি. অর্থাৎ পরিবহন বিভাগ. সাধারণ কার্গো বিমানের মতোই ছিল দেখতে। এটা যে আসলে গোয়েন্দা বিমান তা এই ইউ এর আড়ালে গোপন রাখা হয়. মার্কিন মিলিটারি অফিসার আইজেন আওয়ার ইউটিউব বিমানের পরীক্ষা ও উন্নয়নের জন্য আদেশ দেন. নতুন এই গুপ্তচর বিমানের পরীক্ষার জন্য মার্কিন এয়ার ফোর্সের একটি টেস্টিং গ্রাউন্ডের প্রয়োজন হয়. যেহেতু ইউটিউব বিমান তাই তাদের প্রয়োজন ছিল লোকালয় থেকে দূরের কোন অঞ্চল. অনেক খোঁজাখুঁজির পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র লোকচক্ষু থেকে দূরে ইউকা উপত্যকায় সিআইএর একটি টপ সিক্রেট প্রোজেক্টের কাছে ষাট বর্গ মাইল অঞ্চল অধিগ্রহণ করে. ইউটিউব স্পাইভ বিমানের পরীক্ষার জন্য এখানে এয়ারবেস প্রতিষ্ঠা করা হয়. যদিও ঘাঁটিটি বিমানবাহিনীর একটা প্রাক্তন এয়ার ফিল্ডে তৈরি করা হয়. যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে বোমাবর্ষণের ব্যবহৃত হয়েছিল. লোকমুখে শোনা যায় ইউটিউব এক্স ফিফটিন এবং এ টুয়েলভ মতো নানা প্রকার আধুনিক মার্কিন সামরিক বিমান এখানে নির্মিত হয়. যার মধ্যে A twelve নামক বিমানটি তৈরি করা হয়েছিল উনিশশো পঞ্চাশ এবং ষাটের দশকের দিকে. এটি রাডারের আওতার বাইরে থেকে ঘন্টায় প্রায় বাইশ মাইল বেগে ওড়ার ক্ষমতা রাখতো. উনিশশো ষাট সালের মাঝে এই বেজ ছয়শো square মাইলেরও বেশি বর্ধিত করা হয়.


 নতুন নতুন এয়ারফিল্ড ও বিল্ডিং বানানো হয় এরই মাঝে. পারমাণবিক শক্তি কমিশনের নেভাটা অংশ এই এরিয়ার মাঝে চলে আসলে তা বন্ধ করে দেওয়া হয়. সাথে চারপাশে ঘেরা দিয়ে প্রতিটা গেট বন্ধ করে দেওয়া হয়. সাধারণ মানুষের জন্য প্রবেশাধিকার হয় নিষিদ্ধ. জন্ম হয় এরিয়া ফিফটি-ওয়ান. প্রথম প্রথম মার্কিন সরকার এরিয়া fifty one এর কথা অস্বীকার করে গেছে নানা টালবাহানায়. পৃথিবীর মানুষকে আমেরিকা দীর্ঘদিন ধরে জানিয়ে আসছে এরিয়া fifty one হলো তাদের সবচেয়ে সুরক্ষিত সামরিক বিমানঘাঁটি. অবাক করার বিষয় হলো দুহাজার তেরো সালে এসে মার্কিন সরকার স্বীকার করে এরিয়া ফিফটি ওয়ানের কথা । গোপনীয়তার রক্ষার্থে তৎকালীন যুক্তরাষ্ট্র সরকার এতটাই তৎপর ছিল যার কারণে সরকারি কাগজপত্র বা দলিলে এর সম্পর্কে কোনো তথ্যই রাখেনি তারা । উক্ত স্থানের জন্য নির্দিষ্ট করা বিমান ব্যতীত আকাশসীমায় সামরিক বা বেসামরিক ধরনের বিমান প্রবেশের অনুমতি ছিল না. বলতে গেলে ওই ঘাঁটি নো ফ্লাই জোন হিসেবে অফিসিয়ালি ভাবে ঘোষিত ছিল. এরিয়া ফিফটি ওয়ান এর প্রচণ্ড গোপনীয়তা ও এর অত্যাধুনিক সিকিউরিটি সিস্টেম এমনকি মার্কিন জনগনের মাঝেও সন্দেহের ভান্ডার বপন করে তোলে. তাদের সকল সন্দেহ ছিল খারাপ কিছু হচ্ছে এই অঞ্চলে. সর্বোপরি আমেরিকানরা তাদের রাজ্যের ফ্যান্টাসি যেমন এলিয়ান, ডুমস্টি প্রজেক্ট ইত্যাদি নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়ে. তবে সবচেয়ে যেটাই তাদের মাথা খারাপ করে দেয় তা হলো এলিয়েন. তো এই বীজ আসলে কি? গুপ্তচর বিমানের জন্য একটি ফ্লাই জোন? এলিয়ন জোন নাকি একদম অন্য কিছু. এক সময় আপনি প্রায়ই এরিয়া ফিফটি ওয়ানের কাছাকাছি পর্যন্ত যেতে পারতেন. কিন্তু তবে বিক্ষোভকারীরা সহ অনেক কৌতূহলী নাগরিকেরা পার্শ্ববর্তী পারমাণবিক পরীক্ষার স্থানে বিক্ষোভ করে তাদের গোপনীয়তা নষ্ট করতে থাকে. ফলে উনিশশো চুরাশি সালে এরিয়া ফিফটি ওয়ান ম্যানেজমেন্ট তাদের বেইজের আশেপাশের প্রচুর জমি এয়ার ফোর্সের ঘাটি এবং বন্দুকের পরিসেবা হিসেবে ঘোষণা করে.


 কিন্তু এরপরেও দূর থেকে ভেতরটা দেখা যায় এমন এক পাশের পাহাড়ের দুই পয়েন্টে হাইকারদের জন্য যাতায়াত করা সম্ভব ছিল. ফলে সেখানে টেলিভিশন ও নিউজ পেপারের লোকেরা জমায়েত হতে থাকে. কিন্তু এরপর নিস্তব্ধতা. সেগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়. একদম বাইরের পৃথিবী থেকে আলাদা হয়ে যায় এরিয়া ফিফটি ওয়ান. এরপর বহু বছর এরিয়া ফিফটি ওয়ান সংবাদের শিরোনামে আসেনি. মানুষের মন থেকেও ধীরে ধীরে হারিয়ে যায় একসময়. একদিন হঠাৎই খবর আসে এরিয়া ফিফটি ওয়ানের ওপরের আকাশে আনআইডেন্টিফাইট ফ্লাইং অবজেক্ট বা ইউএফও উঠতে দেখা গেছে. ব্যাস. সমুদ্রের জোয়ারের মতো মানুষের মাঝে ছুটতে থাকে গসিপ. সোর্স কি ছিল তা জানা যায় না অবশ্য. কিন্তু গল্প কি আর থেমে থাকে? আস্তে আস্তে সেই গল্পও হারিয়ে যায়. আবার এই নিড ওয়েস্টার্ন ওয়েস্ট ল্যান্ড একাকী হয়ে যায় দীর্ঘদিনের জন্য. কিন্তু একদিন একজন মানুষ সব কিছু বদলে দেয়। তেরোই নভেম্বর উনিশশো উননব্বই. লাস ভেগাস নেভাদার কেএলএস টিভির নিউজ রিপোর্টার জর্জ ম্যাপ এক অবিশ্বাস্য গল্প শোনান.  নয়টি উড়ন্ত সসারি ডিস্ক  দেখা গেছে এরিয়া fifty one এর আকাশে. তখন আরেকজন বিজ্ঞানী রবার্ট স্কট লেজার বলেন যে মার্কিন সরকার সেই ইউএফও গুলোর ধ্বংসাবশেষ কব্জা করে প্রযুক্তিগত দিক থেকে অসাধারণ অগ্রগতি অর্জন করেছিল। তিনি দাবি করেন যে, তিনি area fifty one এর S force section এ কাজ করতেন. সেখানে তিনি কিছু document করেছেন যেগুলো anti গ্র্যাভিটি রিঅ্যাক্ট নিয়ে কাজ করছে। তিনি দাবি করেন তিনি এই document গুলো দেখে যত না অবাক হন তার চেয়ে বেশি অবাক হয়েছেন নয়টি UFO সেখানকার হ্যাঙ্গারে দেখে. এগুলো ওয়ান ওয়ান ফাইভ নামের এক অজানা এলিমেন্ট ব্যবহার করেছে যে এতটাই ভারী যে পৃথিবীতে পাওয়া প্রায় অসম্ভব. অবশ্যই এই এলিমেন্ট বাইরের কোন উৎস থেকে এসেছে যেখানে এমন  সুপার হেভি এলিমেন্ট প্রাকৃতিক ভাবে উৎপাদিত হয়. তিনি আরো বলেন যে মার্কিন সরকারের কাছে এই অঞ্চলে পাঁচশো পাউন্ডেরও বেশি ওয়ান ওয়ান ফাইভ এলিমেন্ট মজুদ আছে. এই এলিমেন্ট প্রচন্ড রেডিও অ্যাক্টিভ এবং যে কোন এলিমেন্টের চেয়ে তা ভারী. অভিকর্ষ আঁকড়ে ধরে এগিয়ে যাবার জন্য এই এলিমেন্ট দারুন কার্যকর. এমনকি এখনো পর্যন্ত বিজ্ঞানীরা এই ভরের কোনো এলিমেন্ট গবেষণাগারেও তৈরিতে ব্যর্থ হয়েছেন. নেভাদা মরুভূমির এরিয়া ফিফটি ওয়ান অঞ্চলের অভ্যন্তরীণ কাজ সম্পর্কে বিশ্বব্যাপী মানুষের জল্পনা কল্পনা করার জন্য এক ববলাজারই যথেষ্ট ছিলেন. তিনি প্রাণের ভয়ে নিজের পরিচয়ে প্রথমে গোপন রাখলেও পরে একের পর এক সাক্ষাৎকার নেওয়া হতে থাকে তার আসল পরিচয়ে।  এরিয়া fifty one নিয়ে আরেকটি বোমা ফাটান এই বিজ্ঞানী, তিনি এক টিভি সাক্ষাৎকারে বলেন যে,  ঘাটের ভেতরে ভিন গ্রহ বাসীদের ধ্বংস হয়ে যাওয়া একটি আকাশ যান আছে. দুর্ঘটনায় মৃত এক এলিয়নের শরীর ব্যাবচ্ছেদ করে নাকি জানা গেছে ওই প্রাণীটি এসেছে ক্রিটিক্যাল অফ ফোর নামের এক যৌতিষ্ক থেকে. উচ্চতায় প্রাণীটি সাড়ে তিন ফুট লঙ্ঘিন শীর্ণ শরীর কালো বড় বড় চোখ । 

রাতারাতি সেলিব্রিটি হয়ে যান এই ভদ্রলোক. বলা যায় ইউএফও ও এলিয়ান বিশ্বাসীদের জন্য তিনি ছিলেন এক আশীর্বাদের নাম. পরবর্তীতে লেজার দাবি করেন যে মার্কিন সরকার তার শিক্ষাজীবনের সব নথি মুছে তাকে পাগল সাজাবার চেষ্টা চালাচ্ছে. নব্বই এর দশকের মাঝামাঝি দেখে হঠাৎ করেই সতেরো মিনিটের এক ভিডিও ক্লিপ ছড়িয়ে পড়েছিল । যেখানে দেখা যায় প্রটেকশন স্যুট পরা একদল মানুষ ছোটখাটো একটি এলিয়েনের দেহ নিয়ে গবেষণা করছেন তবে ভিডিওটি নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ থেকে যায় । তাদের যন্ত্রপাতি নাড়াচাড়ার ধরনটা ছিল বেশ আমার এই রকমের. যা একে ভুয়া হিসেবে প্রমাণিত করে. মানুষ এরিয়া ফিফটি ওয়ানের কাছাকাছি ক্যাম্প করতে শুরু করে শুধুমাত্র এক ঝলকের জন্য ইউএফও দেখার জন্য. নব্বই দশকের গোড়ার দিকে এই ঘাটি আরো চার হাজার একর জমি এবং পর্বত নিজেদের করে নেয়।  ফলে বহিরাগতদের জন্য এরিয়ায় ফিফটি ওয়ান নিষিদ্ধ হয়ে যায় আরও দূরের।     


 ইউএফও শিকারীদের একনিষ্ঠ আকর্ষণের কেন্দ্র হয়ে ওঠে এই অঞ্চল। পাশের ক্রেজ শহরে তারা একত্রিত হতে শুরু করে আর ভাবতে থাকে what the head is going on there । উনিশশো ছিয়ানব্বই সালে নেবাদা রাজ্যের রুট থ্রী সেভেন ফাইভ এর নাম পরিবর্তন করে এক্সট্রা টেরিস্ট্রিয়াল হাইওয়ে রাখা হয়. কল্পনা এখানেই থেমে থাকে না. টেলিপোর্টের মাধ্যমে পদার্থ ও শক্তি উভয়েরই স্থানান্তর সম্ভব বলে মনে করা হয়. সাইন্স ফিকশনের এই অদ্ভুত বিষয় নিয়ে এরিয়া ফিফটি ওয়ানে কাজ চলছে বলে মনে করেন অনেকে । কেউ কেউ ধোঁয়া দেখেন ওই এলাকাতে, কেউ উড়ন্ত অবাস্তব বস্তু দেখেন. কিন্তু এগুলোর কারণ কি? তা অজানাই থেকে যায়. মজার বিষয় হলো ষড়যন্ত্র তত্ত্বে বিশ্বাসীদের মতে, নীল আর্মস স্ট্রং আদৌ চাঁদে নামেনি নেমেছিলেন এরিয়ার ফিফটি ওয়ানের ঘাঁটিতে। এই চাঞ্চল্যকর ধারণাটির প্রবক্তার ষড়যন্ত্র তত্ত্বে বিশ্বাসী লেখক বিলকেস। উনিশশো চুয়াত্তর সালে তিনি তার win ever win to the moon america's thirty billion dollar swingle. বইটিতে বিভিন্ন যুক্তি দিয়ে প্রমাণ করতে চেয়েছিলেন আমেরিকার কোন মহাকাশচারী আদেও চাঁদে নামেননি. রাশিয়ার চাঁদে নামার স্বপ্ন ধূলিসাৎ করতে এটা ছিল পুরোটাই আমেরিকা সরকার ও নাসার সম্মিলিত ধাপ্পাবাজি. 


এমনকি এখনো শুধু মার্কিনীদেরই পাঁচ শতাংশ বিশ্বাস করে যে মানুষ চাঁদে যায়নি কখনোই. যত শুটিং সব এরিয়া ফিফটি-ওয়ানে হয়েছে । আসা কোন কোন কন্সপিরেসি থেরিস্টের মতে এরিয়া ফিফটি ওয়ানের মাটির নিচে বিশাল বাঙ্কার গড়ে তুলেছে যুক্তরাষ্ট্র সরকার. আর সেখানেও রয়েছে প্রযুক্তির অত্যাধুনিক আশীর্বাদপুষ্ট বিমানের আনাগোনা. সেই বিমানগুলোকে সেখানে লুকিয়ে রাখা হয় যাতে করে স্যাটেলাইট মাধ্যমে সেগুলোর কোন হদিস কেউ না পায়. মার্কিন সরকার দু হাজার তেরো সালে প্রথমবারের মতো এরিয়ার ফিফটি ওয়ানের অস্তিত্বকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করে. এর আগে স্থানীয়রা জানতো যে মরুভূমিতে অদ্ভুত কিছু ঘটছে তবে বিশদভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি কারো পক্ষে. বেসের ফেসিলিটি দিন দিন উন্নত করা হতেই থাকে. স্যাটেলাইট ইমেজে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য দেয় এরপর. মার্কিন স্যাটেলাইট করোনা এবং টেরা এরিয়া ফিফটি ওয়ানের ছবি তুলেছিল যার সবকটি মার্কিন সরকার মুছে ফেলে ডাটাবেস থেকে. এখন অবশ্য গুগল ম্যাপে এরিয়ার ফিফটি ওয়ান হাই পেলেও একটা তথ্য সমৃদ্ধ বা এ সম্পর্কে জ্ঞান প্রদানে ব্যর্থ. বেশিরভাগ ভোরে দর্শনার্থীরা এর আকাশে অদ্ভুত আলো জ্বলতে নিভতে দেখেন. না. এটা কোনো ইউএফও নয়. এটি আসলে এক ধরনের কলসাইন যার নাম জেনেট. যা লাস ভেগাস থেকে কর্মীদের এরিয়া ফিফটি ওয়ানে নিয়ে যাওয়ার সংকেত.


 আমেরিকার সবচেয়ে গোপনীয় সামরিক ঘাঁটিতে আসলে কি চলছে? কারো মতে উন্নত স্টেলস প্রযুক্তি, অস্ত্র, বৈদ্যুতিক যুদ্ধবিমান এবং বিশেষত মানবহীন বিমানবাহী যানবাহন সহ কিছু উন্নত প্রযুক্তির গবেষণা চলছে সেখানে. বিখ্যাত ইতিহাসবিদ ক্রিসপক্ষকের মতে সেখানে উন্নত রেডিও কমিউনিকেশন ব্যবস্থা, ক্লাসিফাইয়ার ট্রাপ, এনার্জি ওয়েপেন এবং লেজার নিয়ে গবেষণা চলছে। যদিও এগুলো শুধুমাত্র তাত্ত্বিক ধারণা এখনো পর্যন্ত রাশিয়ার গোয়েন্দা উপগ্রহ ইনোক্স ও রাশিয়ার বেসামরিক উপগ্রহ আমেরিকায় রাশিয়ার ঠান্ডা যুদ্ধের সময় এই এরিয়া ফিফটি ওয়ানের ভেতরে কি হচ্ছে তা জানার জন্য উচ্চ রেজুলেশনের ছবি তোলে. এই ছবিতে এর ভেতরকার উপরিভাগের প্রায় সবকিছু প্রকাশ হয়ে পড়ে. এই ছবিতে দেখা যায় যে এরিয়া ফিফটি ওয়ানের ভেতরে সাতটি রানওয়ে আছে. কিন্তু ভেতরে কি হচ্ছে তা জানা যায় নি । ফলে আমাদের থমকে যেতেই হয় এখানে এসে. অতি উৎসাহীদের সাবধান করতে এরিয়া ফিফটি ওয়ানের চারধারে লাগানো আছে নোটিশ. যেখানে লেখা আছে ইউস অফ টেকলি ফোর্স অথোরাইজড. যার অর্থ হচ্ছে বারণ সত্ত্বেও ভেতরে ঢুকতে গেলে নিশ্চিত মৃত্যু. প্রশ্ন রয়েই যায়. কি ঘটছে এই ফিফটি ওয়ানের ভেতরে? কি মনে হয় আপনার? জানাতে পারেন কমেন্ট বক্সে. আজ এই পর্যন্তই.     



মন্তব্যসমূহ

Blog Posts

ন্যানো টেকনোলজি কিভাবে কাজ করে ?

  যদি বলি আপনার চোখ দেখতে পারে না এমন গভীর ও প্রায় অনাবিষ্কৃত একটা পৃথিবী আছে. হয়তো বলতে পারেন যে মহাবিশ্বে কত গ্রহই তো আছে? সব খোঁজ কি আমরা পেয়েছি? কিন্তু যদি বলি আমাদের এই পৃথিবীর ভেতরে আরো একটি জগত আছে এবং যে জগৎ ছড়িয়ে আছে আমাদের গোটা বিশ্ব জুড়ে. এইবার হয়তো নড়েচড়ে বসবেন. হ্যাঁ আমাদের চোখের সামনেই রয়েছে এমন এক রাজ্য যে আমরা খালি চোখে দেখতে পাই না. এটাকে বলা হয় অণুবীক্ষণিক বিশ্ব. এই অণুবীক্ষণই বিশ্ব প্রচন্ড আকর্ষণীয় ও চমকে দেওয়ার মতো. কি কি ঘটছে এখানে তা আমার আপনার কল্পনারও বাইরে. এটা যেন কোনো ভিন গ্রহ বাসীদের রাজ্য. সম্ভাবনার দুয়ার খুলে রাখা আছে এই অণুবীক্ষণিক বা nano বিশ্বে.  ন্যানো কি ন্যানো হলো পরিমাপের একক। এক মিটারের একশো কোটি ভাগের এক ভাগ হচ্ছে এক ন্যানো। আর ন্যানো টেকনোলজি হলো বিজ্ঞানের এই অতি ক্ষুদ্র স্তরে একটা কিছু তৈরী করা আসলে শুধু তৈরি করা না. ন্যানোমিটার স্কেলে পরিবর্তন, পরিবর্তন, ধ্বংস বা সৃষ্টি সম্পর্কিত টেকনোলজিকেই ন্যানো টেকনোলজি বলে. অর্থাৎ ন্যানোমিটার স্কেলে পরিমিত যেকোনো বিষয়ে বহুমাত্রিক টেকনোলজিকে ন্যানো প্রযুক্তি বা ন্যানো টেকনোলজি বলা যে...

লুসিড ড্রিম কাকে বলে ? লুসিড ড্রিম কিভাবে দেখতে হয় ?

 স্বপ্ন নিয়ন্ত্রণ করার কথা ভেবেছেন কখনো? নিশ্চয়ই ভাবছেন জেগে জেগে দিবাস্বপ্ন দেখার কথা বলছি না তো? কিন্তু না, রীতিমতো ঘুমিয়ে দেখা স্বপ্নও নিয়ন্ত্রণের কথাই বলছি, আপনার ইচ্ছামত স্বপ্ন দেখবেন। ইচ্ছা মতো নিয়ন্ত্রণ করবেন। আর পছন্দ না হলে অর্থাৎ দুঃস্বপ্ন দেখা শুরু করলে সেটার গতিপথ পাল্টে দেবেন একেবারে নিমেষে। আধুনিক বিজ্ঞানের ভাষায় এটা খুবই সম্ভব একে বলা হয় লুসিভ ড্রিম। লুসিড ড্রিমিং এর সাথে আপনারা অনেকেই হয়তো পরিচিত আছেন। অনেকে পরিচিত থাকলেও হয়তো এটা কেন হচ্ছে বা কিভাবে হচ্ছে তা নিয়ে বেশ দ্বিধা দ্বন্দ্বে আছে এসবেরই উত্তর মিলবে আজকের এই লিখাতে।   লুসিড ড্রিম অর্থ কি? সহজ বাংলায় অনুবাদ করতে গেলে বলা যায় লুসিড অর্থ পরিষ্কার. অর্থাৎ স্পষ্ট আর dream মানে তো আমরা সবাই জানি যে স্বপ্ন। লুসিড ডিম হলো সেই স্বপ্ন যে আমাদের স্পষ্ট ভাবে মনে থাকে এবং স্বপ্ন চলাকালীন সময়েও আমরা এ উপলব্ধি করতে পারি যে এটি বাস্তব নয় বরং এটি স্বপ্ন কিন্তু শুধুমাত্র আক্ষরিক অর্থ দিয়ে লুসিড ড্রিম ব্যাখ্যা করলে ভুল হবে একটু অন্যভাবে বলা যাক ।  মনে করুন স্বপ্নে আপনি কি পাহাড়ের উপর থেকে দ্রুত গ...

প্রযুক্তি দুনিয়াতে পর্দার আড়ালে থেকে যাওয়া এক প্রতিভাবান এর গল্প ।

পর্দার আড়ালে একা খেলে যাচ্ছেন একজন. কামাচ্ছেন বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার. অথচ তাকে চেনে খুব কম সংখ্যক মানুষ. আইটি জগতে ইলন মাস্ক, জেফ বোজোস বা বিট গ্রেটসের সাথে তার নামও সমান তালে চলার কথা ছিল. কিন্তু বিহাইন্ড দা সিনে একা গোল করে যাচ্ছেন তিনি. নাম ড্রোন ইয়াং পিং ড্রোন ইয়াং পিং নামটি মোবাইল ফোনের জগতে খুবই কম মানুষের শোনা. তবে তার নাম অজানা থাকলেও তার কোম্পানি বিবিকে ফোন গিগদের মধ্যে বেশ পরিচিত. ওয়ান প্লাস, রিয়েলমি, অপো, ভিভো এবং আইকিউ. এই পাঁচটি জনপ্রিয় মোবাইল ব্র্যান্ডের একক মালিক ডোন ইয়াং পিন.  এই ব্র্যান্ড গুলো তার কোম্পানিতে পরিণত করেছে বর্তমানের সবচেয়ে বড় মোবাইল ফোন উৎপাদনকারী কোম্পানিতে. অ্যাপেল , শাওমি বা স্যামসাং যারা মোবাইল ফোনের জগতে বর্তমানে সবচেয়ে বড় ব্র্যান্ড তাদেরকেও পেছনে ফেলে এগিয়ে গিয়েছে বিবিকে কোম্পানি। কিন্তু এত সফলতার সত্ত্বেও বেশিরভাগ মোবাইল ফোন ব্যবহারকারী এমনকি ফোন গিগরাও তার সম্পর্কে বলতে গেলে তেমন কিছুই জানে না. এলেন মাস্ক, স্টিভ জবস বা জ্যাকমা, যারা কিনা টেকনোলজির জগতে খুবই পরিচিত তাদের সম্পর্কে অনলাইনে  অগণিত তথ্য রয়েছে। কিন্তু ডন ইয়ং পিং এর...

সারোগেসি কি ?

সারোগেসির মাধ্যমে সন্তান ধারণ করা নিয়ে এখনো বহু বিতর্ক আছে. শুধু আমাদের দেশে নয়, সারা বিশ্বেই এই পদ্ধতি নিয়ে তর্ক বিতর্কের শেষ নেই.  এটার আইনি প্রক্রিয়াও জটিল। কারণ এটি একেক রাষ্ট্রে. শারোগেসি আইন একেক রকম. নারী মা হবেন প্রাকৃতিক নিয়ম সমাজ এমনটাই দেখতে অভ্যস্ত. কিন্তু কোন কারণে মা হবার ক্ষমতা না থাকলে তাকে পরিবার ও আশপাশ থেকে যে পরিমাণ কটু কথা শুনতে হয় তা সাধারণ মানুষের ধারণারও বাইরে.   সরোগেসি বিষয়টি কি? চিকিৎসা শাস্ত্রের অগ্রগতি এমন মায়েদের সামনে এনেছে যারা গর্ভ ভাড়া দিয়ে নিজে বাঁচেন অন্যদের মাতৃ সুখ দেন । একজন নারীর গর্ভে অন্য দম্পতির সন্তান ধারণের পদ্ধতিকে সারোগেসি বলা হয়.সারোগেসির এই  পদ্ধতি বেশ দীর্ঘকালীন. আইভিএফ পদ্ধতিতে স্ত্রী ও পুরুষের ডিম্বাণু শুক্রাণু দেহের বাইরে নিষিক্ত করে তা নারীর গর্ভাশয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়. কিন্তু এখানেও জটিলতা. কেন? সে বিষয়ে পরে আসছি. বাংলাদেশ সহ বহু দেশই এই সারোগেসি একরকম ভাবে নিষিদ্ধ. সুতরাং বিষয় টি  সংবেদনশীল. এমনকি বেশিরভাগ ধর্মেও রয়েছে নিষেধাজ্ঞা. চলুন কথা বলি সারোগেসি মাদার সম্পর্কে। আইভিএফ বা টেস্ট টি...

পেগাসাস স্পাইওয়ার কি ?

গত কিছুদিন ধরেই বিশ্ব রাজনীতি এবং প্রযুক্তি জগৎ এই দুই জায়গাতেই আলোচনার বিষয়বস্তু একটাই। সেটা হচ্ছে পেগাসাস স্পাইওয়ার. বিশ্বজুড়ে নানান দেশের মানবাধিকার কর্মী সাংবাদিক আইনজীবী ও রাজনীতিকদের ফোনের নজরদারি চালানোর ঘটনা ফাঁস হওয়ার পর ইজরায়েলের বেসরকারি কোম্পানি nso গ্রুপের তৈরি করা এই সফটওয়্যার নিয়ে এখন তুমুল তরজা চলছে দুনিয়া জুড়ে । চলুন কথা বলি দুনিয়া ওলট পালট করে দেওয়া স্পাইওয়ার সম্পর্কে । পেগাসাস মূলত একটি নজরদারি বিষয়ক সফটওয়্যার । ইজরাইলের সংস্থা এনএসও ই সফটওয়্যার তৈরি করেছে। যা দিয়ে যে কারো মোবাইলে আড়ি পাতা যায়. এটা কিন্তু সাধারণ কোন নজরদারি নয়. আগে ফোনে আড়ি পেতে শুধু দুই প্রান্তের কথাবার্তা শোনা যেত. আর সফটওয়্যারের মাধ্যমে গোটা ফোনটারই নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় হ্যাকাররা. ফোনের কথাবার্তা WhatsApp এর চ্যাট, ছবি, ফোনে কি কি তথ্য আছে সবই জানা যায়. আরো ভয়ানক ব্যবহার হচ্ছে মোবাইল যিনি ব্যবহার করছেন তিনি জানতেই পারেন না যে তার ফোন হ্যাক করা হয়েছে. সমস্ত তথ্য পাচার হয়ে যাচ্ছে নির্দিষ্ট একটি গোষ্ঠীর কাছে. কিন্তু কারো ফোনে পেগাসাস software install করতে হলে তো সেই ফোনটাকে...

রেট রেস কি ?

      আপনি ঠিক কখন ইঁদুর দৌড়ে যোগ দিয়েছেন এটা হিসাব করা কঠিন. কিন্তু নিশ্চিত থাকুন আপনি এই দৌড়ে আছেন. ক্লাস eight এ পড়ার সময়ের কথা মনে আছে? সামনে বৃত্তি পরীক্ষা পাটিগণিত বীজগণিতের অংক প্যাঁচ লাগাচ্ছে বিজ্ঞানের জটিল সব সূত্র ভোরে ওঠে প্রাইভেট টিউটরের বাসায় ছোটা রাত জেগে পড়াশোনা. বয়সের তুলনায় অনেক বেশি কর্ম ব্যস্ত একটা সময় নিশ্চয়ই কাটিয়েছেন তখন? আমরা সবাই কাটিয়েছি. সেই সময় নিশ্চয়ই অভিভাবক বলেছে এই তো আর কটা দিন. বৃত্তি পরীক্ষা শেষ হলেই জীবন শান্তি আর শান্তি. জীবনের নানা এপিসোডে আপনি এই কথাগুলো শুনেছেন অনেকবার অনেকের মুখে. এসএসসি পরীক্ষাটা দাও, কলেজে উঠলেই তো স্বাধীনতা. একবার ভার্সেটিতে উঠতে পারলেই জীবন হবে আনন্দে ভরপুর. একবার জব লাইফে ঢোকো. নিজের টাকায় আয়েশ করার মজাই অন্যরকম. শুনেছেন না এসব?  বয়স ঘড়ির ত্রিশের প্রান্তে দাঁড়িয়ে হিসেবগুলো মেলাতে পারেন কি? কি মনে হয়? এই এপিসোডগুলোর কোনোটা পার হবার সময় জীবন খানিকটা হলেও সহজ হয়েছে? সুন্দর হয়েছে? হয়নি, হবেও না, মিথ্যা একটা মরীচিকার আশায় আমরা ছুটেছি ঠিকই আমাদের ছোটানো হয়েছে, কিন্তু হিসাব মেলেনি ছুটত...

ম্যান্ডেলা ইফেক্ট কেনো হয়?

   আচ্ছা নিজের স্মৃতি শক্তির উপর কতটা বিশ্বাস আছে আপনার? আচ্ছা বাদ দিয়ে আপনার কথা. গণমানুষের স্মৃতিশক্তির উপর নিশ্চয়ই বিশ্বাস আছে অনেকটা. না না. ধর্মীয় কোন বিশ্বাস না. এই গ্রহে ঘটে যাওয়া এমন সব ঘটনা. যা সবাই জানে. তা কি রকম মিথ্যা? এক দশক আগেও পৃথিবীর প্রায় এক তৃতীয়াংশ মানুষ জানতো যে অস্ট্রেলিয়ার রাজধানীর নাম সিডনি. আসলে কি তাই? গত এক দশকে এই ধারণা মোটামুটি পরিবর্তন হয়ে মানুষ জেনেছে অস্ট্রেলিয়ার রাজধানীর নাম ক্যানভেরা. এখনো এই ভুল হরমামেশাই করে যাচ্ছে মানুষ. বিশ্বাস না হলে আশেপাশের কিছু মানুষকে জিজ্ঞেস করে দেখতে পারে. প্রশ্ন করতে পারেন ম্যান্ডেলার নাম কেন? এই ফ্ললস মেমোরি সিন্ড্রোমকে ম্যান্ডেল এফেক্ট নামকরণ করেছেন প্যারানরমাল কনসালটেন্ট ফীয়না ব্রুম তার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে । দু হাজার দশ সালের এক আলোচনা সভায় উঠে আসে দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদ বিরোধী আন্দোলনের নেতা উনিশশো আশি সালে কারা জানে মারা যাওয়ার প্রসঙ্গ । অনেকেই সেদিন বলেছিল, টিভিতে এই নেতার শেষকৃত্যের আনুষ্ঠানিকতা দেখার অভিজ্ঞতার কথা. ম্যান্ডেলার স্ত্রীর হৃদয় নিন্দারও ভাষণের কথা উল্লেখ করেছিলেন কেউ কেউ. এমনক...

কিভাবে লিমিটলেস হওয়া যায় ? লিমিটলেস আসলে কিভাবে কাজ করে ?

এনজিটিপিল,  এটা এমন এক পিল যা আপনাকে করবে আল্ট্রা ফোকাসড. দেবে দুর্দান্ত মোটিভেশন. বের করে আনবে আপনার সর্বোচ্চ সম্ভাবনা. আপনি হয়ে উঠবেন আনস্টপল. বাস্তবতা পাবে প্রতিটি স্বপ্ন. কিন্তু সমস্যা হচ্ছে এমন কোন পিলের অস্তিত্ব নেই. ফলাফল আপনি আটকে আছেন একটি খাদে. সারাক্ষণ ক্লান্তি নিয়ে হয়ে উঠছেন আনপ্রোডাক্টিভ. নষ্ট হচ্ছে ক্রিয়েটিভিটি. সময় গড়িয়ে যায়. ঋতুর পরিবর্তন ঘটে. কিন্তু আপনি ডুবে থাকেন এক হতাশায় যাতে আপনি দিন দিন পিছিয়ে পরছেন. আপনি যা যা এতদিন অর্জন করবেন ভেবেছিলেন তা কিছুই আপনি অর্জন করতে পারেননি । নিজেকে সান্তনা দিচ্ছেন আগামীকাল হবে ভিন্ন। কিন্তু তা কখনোই হয়ে ওঠে না এখন যদি আপনাকে বলি কোনো জাদুকরী পিলের সাহায্যে নয় বাস্তবিক লিমিটলেস হয়ে ওঠা সম্ভব।  একদম প্রমাণিত পদ্ধতিতে যা একেবারে ফ্রিতে ব্যবহার করা সম্ভব.  তো আছেন তো শেষ পর্যন্ত ?  Limit less হওয়ার যাত্রায় ।  স্টেপ ওয়ান : এনার্জি--  মাত্র কয়েক মাস আগে আমি নিজেও আপনার মতো কর্মশক্তিহীন অনুভব করতাম. সামান্য কাজেই আসতো অবসন্নতা, গেয়ে ধরতো ক্লান্তি একদিন হঠাৎ টের পেলাম আমি নিজেই নিজের energy নি...

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কি ? আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কতটা ভযঙ্কর হতে পারে আগামী দিনের জন্য ?

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বহুল চর্চিত এবং ব্যবহৃত একটি শব্দ. মানুষের বুদ্ধিমত্তা ও চিন্তা শক্তিকে কম্পিউটার প্রোগ্রামিং এর মাধ্যমে মেশিন ল্যাঙ্গুয়েজে স্থাপন করা টেকনোলজিটাই হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স । এর মাধ্যমে কোন যন্ত্র নির্দিষ্ট প্রোগ্রামের আওতাধীন কিছু কাজ নিজে থেকেই করতে পারে নিজে নিজে সিদ্ধান্ত নিতে পারে।  টার্মিনেচার টাইপের কোনো সাইফাই সিনেমার গুরু বন্ধুর সংলাপ নয়।  A.I নিয়ে ভবিষ্যৎবাণী করেছিলেন পৃথিবীর সেরা বিজ্ঞানীদের একজন স্টিফেন হকিং আমার ভয় হয় তারা সত্যিই হয়তো একদিন মানুষকে হটিয়ে নিয়ন্ত্রকের আসনে বসে যাবে। বেঁচে থাকতেই BBC কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স তথা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে এভাবেই সবাইকে সতর্ক করেছিলেন তিনি। হকিংসের এই ভয় এখনো ভবিষ্যতের বিষয় হলেও অমূলক নয় মোটেও যন্ত্রকে বুদ্ধিমান করে তার আশীর্বাদ অনেক আছে। কিন্তু দীর্ঘ মেয়াদে সেই যন্ত্রই পৃথিবীর দখল নিতে চলেছে কিনা স্বয়ং সম্পূর্ণ হয়ে মানুষকেই বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে একদিন অপদার্থ তে পরিণত করবে কিনা সেই প্রশ্নটা উঠছে বারবার।  যুক্তরাষ্ট্রে...

মিনিমালিজম কি ? কিভাবে মিনিমালিস্ট হওয়া যায় ?

মিনিমামলিজম এই ধারণাটি বিগত কয়েক বছরে বেশ জনপ্রিয়তা লাভ করেছে এবং এর যথেষ্ট কারণও আছে. এই পুরো ব্যাপারটা কি? সেটাকে সঙ্গায়িত করা যায় এভাবে যে,  মিনিমালিজম হচ্ছে যা আমাদের জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সেগুলোকে ধারণ করা এবং বাকি সব কিছু যা আমাদের দৃষ্টিকে অন্যদিকে সরিয়ে নেয় সেগুলোকে ইচ্ছাকৃতভাবে ত্যাগ করা।   অর্থাৎ কোন কোন বিষয়ে জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং কোন জিনিসগুলোকে আমাদের কাছে সবচেয়ে মূল্যবান সেই সম্পর্কে একটা পরিষ্কার ধারণা থাকা এবং বাকি সব ত্যাগ  করে দেয়. সেগুলো নিয়েই জীবন ধারণ করা. কিন্তু এমন সংজ্ঞায়ন সত্ত্বেও minimalism কোন ধরাবাধা জীবন ব্যবস্থা নয় বা মিনিমালিস্ট হতে হলে কোন নির্দিষ্ট মানদণ্ড মেনে চলতে হবে এরকমটিও কিন্তু নয়. মিনিমালিস্ট লাইফ স্টাইল এমন একটি বিষয় যা প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য স্বতন্ত্র। এক্ষেত্রে মূল বিষয়টি হচ্ছে সত্যিকার অর্থে কোন কোন বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও প্রয়োজনীয় সেই সম্পর্কে একটা পরিষ্কার ধারণা নিয়ে সেই অনুযায়ী জীবন ধারণ করা. প্রিয় দর্শক চলুন দেখি মিনিমালিজম কিভাবে আপনার জীবনধারা বদলে দিতে পারে।  মিনিমালিস্ট জীবন অবশ...