সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

শিক্ষা শ্রম কি ? কিভাবে বের হতে পারা যায় এই অসুস্থ জগৎ থেকে ?

  

  এইতো কয়েকদিন আগের কথা. বিশ্বসেরা all rounder সাকিব আল হাসান সাংবাদিক উৎপল সুটের কাছে একটা ইন্টারভিউ দিয়েছিলেন. পঞ্চপাণ্ডব  সহ আরো কিছু বিষয় সোজাসাপ্টা মন্তব্যের কারণে সেই সাক্ষাৎকার নিয়ে বেশ বিতর্ক হলো কিন্তু ক্রিকেট ও আলোচনা বা বিতর্কিত আলাপের বাইরেও সাকিব সেই সাক্ষাৎকারে খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা কথা বলেছিলেন যেটা নিয়ে বিন্দুমাত্র আলোচনা হয়নি । পরিবার আমেরিকাতেই স্থায়ী হবে এমন আভাস দিয়ে সাকিব বলেছিলেন বাংলাদেশে থাকার সময় স্কুলে যাওয়ার আগে আমার বড় মেয়ে অ্যালাইনা ঘুম থেকে উঠে প্রতিদিন কাঁদতো. অথচ আমেরিকায় এক ডাক দেওয়ার আগেই নিজে উঠে চোখ বন্ধ করে নিজে ব্রাশ করে স্কুলের জন্য রেডি হয়ে যায়. এর থেকে ভালো আমার জন্য আর কি হতে পারে?  সাকিব কেন নিজেকে একমাত্র পাণ্ডব বলে দাবি করেছেন সাকিবের বক্তব্যে অন্যান্য সিনিয়র প্লেয়ারদের অসম্মান করা হয়েছে কিনা এসবের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু কিন্তু এই কয়েকটা লাইনে লুকিয়ে আছে । স্কুল জায়গাটা কেন পাঁচ থেকে ছয় বছর বয়সের একটা বাচ্চা মেয়ের কাছে বিভীষিকার নাম হয়ে উঠবে.


 এই গল্পটা শুধু এলাইনার নয়. এই দেশের লক্ষ্য কোটি শিশুর । সাকিবের সামর্থ্য আছে. তিনি তার পরিবারকে বিদেশে পাঠিয়ে দিয়েছেন. এলাইনা এখন হাসিমুখে স্কুলে যাচ্ছে. কিন্তু আমাদের মুখে সেই হাসি নেই. হাসিটা কেড়ে নিয়েছে এদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার অসুস্থ সিস্টেম. বিশ্ব ব্যাঙ্কের একটা রিপোর্টে দেখা গেছে আমাদের দেশে এগারো বছর বয়সে একটি শিশু যা শেখে তা বিশ্বমানের সাড়ে চার বছর বয়সে শেখার সমান. আমাদের শিক্ষকদেরও কিন্তু শেখানোর জায়গায় প্রচুর ঘাটতি আছে. গণশিক্ষার জন্য প্রচার অভিযান নামক একটি সংস্থার প্রতিবেদনে  জানা গেছে বাংলাদেশের শতকরা সাঁইত্রিশ জন শিক্ষকই শিক্ষাদানের জন্য গাইড বইয়ের উপর নির্ভরশীল। একইভাবে তারা সৃজনশীল প্রশ্ন করতেও অক্ষম, বাংলাদেশের শিক্ষার ধরণ নিয়ে যদি একটু ঘাটাঘাটি করতে যায় কেউ আঁতকে ওঠা ছাড়া তার কোনো উপায় নেই। 

এখানে বাংলা মিডিয়াম আছে. ইংরেজি মিডিয়াম আছে. আলাদাভাবে আছে. ক্যাডেট কারিকুলাম. এর বাইরেও vocational বা কারিগরি শিক্ষা ব্যবস্থাও রয়েছে. আছে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়. পৃথিবীর আর কোনো দেশের এডুকেশনাল সিস্টেম এমন জগাখিচুড়ি মার্কা নয়, শিক্ষা এখানে আনন্দের উপকরণ নয় বরং একটা রেট রেসের নাম আর তার চেয়ে বড় কথা এই শিক্ষা ব্যবস্থা কতটা রিয়েল লাইফে কার্যকর। 

বিশ বছর পর এই প্রজন্ম কি করবে? স্কুল কলেজের সার্টিফিকেট কতটা কার্যকর থাকবে? 

ভালো করে ভেবে দেখুন আমাদের বাস্তবিক জীবনে কাজে লাগে এমন স্কিলফুল অ্যাক্টিভিটি গুলোও কিন্তু ইন্টারমিডিয়েট  পর্যন্ত বারো বছরের শিক্ষা জীবনে আমাদের স্কুল বা কলেজগুলো শেখাতে পারে না । এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ব্যর্থ এই জায়গায়. উদাহরণ চান. ধরুন ভালো একটা সিভি বানানো. এই বিদ্যেটা আমাদের একাডেমিক শিক্ষার অন্তর্ভুক্ত নয়. চাকরির বাজারে বাংলা বা ইংরেজিতে দ্রুত টাইপ করতে পারাটাকে একটা বিশেষ যোগ্যতা হিসেবে ধরা হয়. সেটাও কিন্তু কলেজ বা ভার্সিটিতে শেখানো হয় না. অথচ জব লাইফে গেলে আগে এই দুটো লাগবেই. একইভাবে ভালো প্রেজেন্টেশন বানানো মাইক্রোসফ্ট ওয়ার্ল্ড এক্সেলের কাজ গুছিয়ে ইমেইল লিখতে পারা এগুলো আমাদের পাঠ্য সূচির অন্তর্ভুক্ত নয়. নিজেকেই আলাদাভাবে শিখতে হয় এগুলো. কুইক লার্নিং এবিলিটি নিয়ে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় কোন কাজ হয় না. টিম ওয়ার্ক সম্পর্কে ভালোভাবে ধারণা দেওয়া হয় না. বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সনদ বিক্রির কারখানা হয়ে উঠেছে দিনে দিনে. ছাত্র ছাত্রীদের স্কিল ফুল করে তোলার ব্যাপারে তাদের বিন্দুমাত্র মাথাব্যথা নেই. এই কারণে অনার্স বা মাস্টার শেষে একজন ছাত্র যখন চাকরি খোঁজার মহাসাগরে নামে তখন সে নিজেকে আবিষ্কার করে নিঃস্ব রিক্ত অবস্থায়. স্কুলের দশ বছর কলেজের দুই বছর চার থেকে ছয় বছর. মোট ষোলো থেকে আঠেরো বছরের ক্লান্তিকর একটা জার্নি শেষেও সে দেখে তার মেধার ঝুলি আসলে ফাঁকা. সার্টিফিকেট ধুয়ে পানি খেতে হচ্ছে তখন. আমাদের দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা খুব বাজে একটা কালচার হচ্ছে. স্কুল কলেজের বাইরে আলাদাভাবে টিউশন বা প্রাইভেট পড়ানোর ব্যবস্থা. 


 এটা অনেক প্রাচীন কথা. এটা নিয়ে কথা না বলি. কিন্তু এই tuition বাণিজ্যের জন্য শিক্ষকদের একচেটিয়া ভাবে দোষারোপ করে কিন্তু কোন লাভ নেই. আমাদের দেশে পেশা জীবিদের মধ্যে শিক্ষকের বেতন বোধহয় সবচেয়ে কম. প্রাইমারি higher secondary থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদেরও এত অল্প বেতন দুনিয়ার আর কোনো দেশে পাওয়া যাবে কিনা যথেষ্ট সন্দেহ আছে। মাধ্যমিকে শিক্ষকদের বেতন ভাতা যেমন অনারকর্ষিও তেমনি পদোন্নতির সুযোগও নেই বললেই চলে । দশম রেডের একজন সহকারী শিক্ষক চোদ্দ থেকে পনেরো বছরেও পদোন্নতি পাননা. একদিকে বলা হয় শিক্ষায় জাতির মেরুদন্ড এবং শিক্ষকরাই মানুষ গড়ার কারিগর. অন্যদিকে সেই শিক্ষকরা তাদের অধিকার আদায়ে রাজপথে নামলে পুলিশের জলকামানের সামনে পড়ে. শিক্ষকরা তাহলে উপরি আয়ের চিন্তা করবেন না কেন? বেশিরভাগ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ইংরেজি এবং অংকে ডিগ্রীধারী শিক্ষক নেই. বিশেষ করে গ্রামের স্কুলগুলোতে একেবারে নেই বললেই চলে। ফলে এই দুটো বিষয় অত্যন্ত অপ্রতুল জ্ঞান নিয়ে কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছাত্রীরা ভর্তি হচ্ছে অথচ মানব বিদ্যা, সামাজিক বিজ্ঞান, ব্যবসায়ী, প্রশাসন, বিজ্ঞানের, বিভিন্ন শাখার সব বইও জার্নাল পড়তে এবং জানতে হলে ইংরেজি এবং অঙ্ক জানাটা আবশ্যক। এই দুর্বলতা নিয়ে প্রতি বছর আমাদের লাখ লাখ ছাত্রছাত্রী উচ্চশিক্ষার পথে যাত্রা করছে যার কারণে এমএ, এমএসসি ও এমবিএ নামক ডিগ্রীগুলো যথাযথ গুরুত্ব বা সম্মানজনক না হয়ে অনেক ক্ষেত্রে হালকা বা হাস্যকর হয়ে দাঁড়িয়েছে । ভালো ছাত্রদের আমরা দেশে ধরে রাখতে পারি না উচ্চ শিক্ষার্থী তারা পাড়ি জমাচ্ছে বিদেশে পাচার হচ্ছে মেধা. না এ দেশে গুণীর কদর আছে না আছে গবেষণার রাস্তা. তাহলে তারা কেন দেশে পড়ে থাকবে? সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হচ্ছে শিক্ষার পেছনে বড় অঙ্কের বাজেট রাখতে হয়. উন্নয়নের যথাযথ পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং বাস্তবায়ন করতে হয় । 

বিশ্বে যেসব দেশ উন্নতি করেছে এবং করছে যাদের দেখে আমরা অবাক হই এবং কিছুটা ঈর্ষা অনুভব করি তারা সবাই শিক্ষায় সর্বোচ্চ বিনিয়োগ করেছে । অনেক সময় সাধ্যের বাইরে গিয়েও করেছে। যেমন কিউবা ও কোরিয়া দীর্ঘদিন থেকেই কিউবার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে পশ্চিমা দেশগুলো অবরোধ আরোপ করেছে. তাতে তার অর্থনীতি খুবই নাজুক অবস্থায় পড়েছে. কিন্তু দেশটি শিক্ষাক্ষেত্রে বিনিয়োগ থেকে পিছপা হয়নি এক পাও. এর সুফল তারা এখন পাচ্ছে. এখন যুক্তরাষ্ট্র কিউবাকে কাছে পেতে চায়. কয়েক বছর ধরে দেশটি তার জিডিপির নয় শতাংশ বরাদ্দ দিচ্ছে শিক্ষায়. অন্যদিকে আমাদের মোট বাজেটের মাত্র দুই দশমিক এক শতাংশ বরাদ্দ থাকে শিক্ষার পেছনে. শতাংশের অঙ্কে যেটি কিনা নেপালের চেয়েও কম. উচ্চ শিক্ষার শ্রুতিকাগার বলা হয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে. এখানে গবেষণা হবে নতুন নতুন আবিষ্কার হবে, হবে মেধাবীদের মিলন মেলা. আমাদের দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গবেষণার জন্য যে বাজেট বরাদ্দ থাকে এর চেয়ে বেশি টাকা এক একটা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতি বছর অতিথি আপ্যায়নে খরচ করে। রাজনীতিতে কলুষিত হয়ে আছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গন । হলের সিট পেতে হলেও ছাত্রনেতাদের সঙ্গে দহরম মহরমের সম্পর্ক তৈরি করতে হয়. ছাত্রদের কথা বাদই থাকুক ।


শিক্ষকরা পর্যন্ত দলাদলিতে জড়িয়ে আছে সেই নব্বইয়ের দশক থেকে. দেশের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি যখন তার ক্যান্টিনের চা-চপ আর সিঙ্গারা নিয়ে গর্ব করেন. তখন বোঝা যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মান কতটা তলানিতে নেমেছে. | ইউনেসেফের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে নেদারল্যান্ডসের প্রাথমিক স্কুলে শিশুদের কোনো বাড়ির কাজ দেওয়া হয় না হলেও খুব কম । লেখাপড়া করতে শিশুদের ওপর চাপ প্রয়োগ করা হয় না । বারো বছর বয়স পর্যন্ত তাদের গুরুগম্ভীর কোনো পরীক্ষায় বসতে হয় না দেশটির শিশুরা সবচেয়ে বেশি সুখী জীবন কাটায়. রোজকার হোমওয়ার্ক নিয়ে মাথা ব্যথা নেই ফিনল্যান্ডের শিক্ষার্থীদেরও. ষোল বছর বয়সে গিয়ে তাদের মাত্র একটি বাধ্যতামূলক পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়. আর আমরা প্রাথমিক শিক্ষা নিয়ে কি করছি. আমরা দু বছর পর পর পাবলিক পরীক্ষার আয়োজন করছি. জিপিএ ফাইভ বিলিয়ে বেড়াচ্ছি. একটা অসুস্থ মানসিকতার আইএমজিপিএ ফাইভ জেনারেশন তৈরি হয়ে গেছে. যারা পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট করাটা কি দুনিয়ার সব কিছু বলে মনে করে. ফ্রান্স, স্কুলের শিক্ষা ব্যবস্থার পাশাপাশি যোগ্য শিক্ষকদের বাছাই শিক্ষকদের প্রশিক্ষিত করতে মনোযোগী. জাপানে কিন্ডার গার্ডেনের শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ ও বাছাই করার ক্ষেত্রে দেওয়া হয় বিশেষ গুরুত্ব।  ভুটান থেকে শুরু করে ভিয়েতনাম, ফিলিপাইন, থাইল্যান্ডের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রয়েছে শতভাগ প্রশিক্ষিত শিক্ষক. এই দেশগুলো দায়িত্ব নিয়ে তাদের শিক্ষকদের প্রশিক্ষিত করেছে. অথচ এক্ষেত্রে আমাদের অবস্থান কিন্তু অনেক দূরে. ইউনেস্কের গ্লোবাল এডুকেশন মনিটরিং প্রতিবেদনে দেখা গেছে পাকিস্তান, শ্রীলংকা ,নেপাল ,মিয়ানমারে যেখানে আশি থেকে নব্বই শতাংশেরও বেশি প্রশিক্ষিত শিক্ষক রয়েছে. সেখানে বাংলাদেশে এই হার মাত্র পঞ্চাশ পার্সেন্ট. অর্থাৎ আমাদের দেশের স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা বা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্ধেক শিক্ষকই প্রশিক্ষিত নন.

 আপনি যদি ভালোভাবে চারপাশে একটু খেয়াল করেন দেখবেন প্রচুর শিক্ষিত মানুষ কর্মহীন হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে. তাদের প্রত্যেকের অনার্স বা মাস্টার্স ডিগ্রি আছে।  গ্রেড পয়েন্টও যথেষ্ট ভালো। চাকরি পাচ্ছে না. কারণ চাকরির বাজারে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার মতো স্কিল তাদের ভান্ডারে নেই. স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্ঞান তারা আহরণ করেছে ঠিকই কিন্তু সেই জ্ঞান সে কোনো কাজে লাগাতে পারছে না. শিক্ষা ব্যবস্থার আরেকটা বাজে ব্যাপার হচ্ছে শুধুমাত্র চাকরি পাওয়াটা কি শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য বানিয়ে ফেলা.  বিসিএস এর নেশায় পড়ে জীবন থেকে অনেকগুলো বছর হারিয়ে ফেলছে অজস্র তরুণ তরুণী. এই সময় শ্রম তারা অন্য কোথাও দিলে এর চেয়ে অনেক ভালো কিছুই করতে পারত. এতক্ষণ তো শুধু হতাশার গল্প শোনালাম। অবশ্য আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে কথা বলতে গেলে চারপাশে অন্ধকারটাই চোখে পড়বে বেশি. এই অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে হবে. শিক্ষকদের বেতন বাড়াতে হবে তাদেরকে প্রশিক্ষিত করতে হবে. জিপিএ অর্জনের অসুস্থ প্রতিযোগিতা বন্ধ করতে হবে. পাশাপাশি কর্মজীবনে গুরুত্বপূর্ণ এমন স্কিলফুল কোর্স অন্তর্ভুক্ত করতে হবে পাঠ্যসূচিতে. প্রাথমিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছ ও জটিলতা মুক্ত করে তুলতে হবে. বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের প্রমোশন বেতন বৃদ্ধি ও অন্যান্য সব সুযোগ সুবিধা তাদের গবেষণার উপর ভিত্তি করে হওয়া উচিত.   


 ফিনল্যান্ডের স্কুলগুলোতে প্রাথমিক শ্রেণী থেকেই উঁচু বেতনে খুব ভালো মানের শিক্ষক নিয়োগ হয়. অন্যদিকে পড়ার পাশাপাশি খেলাধুলার জন্য প্রচুর সময় দেওয়া হয়.   তা ছাড়া ফিনল্যান্ডে homework তো দেওয়াই হয় না. আর খুব দরকার না থাকলে বেশিরভাগ ক্লাসে পরীক্ষাও নেওয়া হয় না. আমাদেরও শুধু ক্লাস পরীক্ষা, টিউশনের এই দুষ্টু চক্র থেকে বেরিয়ে এসে আউট অফ দা বক্স কাজ করতে হবে. এই পরিবর্তনের সুফল হয়তো সাথে সাথে পাওয়া যাবে না. কিন্তু আজ থেকেও যদি কাজ শুরু হয় তাহলে বিশ পঁচিশ বছর পরে এদেশের চেহারাটাই বদলে যাবে। কারণ আজ যারা ছাত্র তখন তারা জাতির নেতৃত্বে থাকবে। তারাই এগিয়ে দেবে দেশকে প্রশ্ন শুধু একটাই বেড়ালের গলায় ঘন্টা বাঁধার এই কঠিন কাজটা কে করবে?

মন্তব্যসমূহ

Blog Posts

ন্যানো টেকনোলজি কিভাবে কাজ করে ?

  যদি বলি আপনার চোখ দেখতে পারে না এমন গভীর ও প্রায় অনাবিষ্কৃত একটা পৃথিবী আছে. হয়তো বলতে পারেন যে মহাবিশ্বে কত গ্রহই তো আছে? সব খোঁজ কি আমরা পেয়েছি? কিন্তু যদি বলি আমাদের এই পৃথিবীর ভেতরে আরো একটি জগত আছে এবং যে জগৎ ছড়িয়ে আছে আমাদের গোটা বিশ্ব জুড়ে. এইবার হয়তো নড়েচড়ে বসবেন. হ্যাঁ আমাদের চোখের সামনেই রয়েছে এমন এক রাজ্য যে আমরা খালি চোখে দেখতে পাই না. এটাকে বলা হয় অণুবীক্ষণিক বিশ্ব. এই অণুবীক্ষণই বিশ্ব প্রচন্ড আকর্ষণীয় ও চমকে দেওয়ার মতো. কি কি ঘটছে এখানে তা আমার আপনার কল্পনারও বাইরে. এটা যেন কোনো ভিন গ্রহ বাসীদের রাজ্য. সম্ভাবনার দুয়ার খুলে রাখা আছে এই অণুবীক্ষণিক বা nano বিশ্বে.  ন্যানো কি ন্যানো হলো পরিমাপের একক। এক মিটারের একশো কোটি ভাগের এক ভাগ হচ্ছে এক ন্যানো। আর ন্যানো টেকনোলজি হলো বিজ্ঞানের এই অতি ক্ষুদ্র স্তরে একটা কিছু তৈরী করা আসলে শুধু তৈরি করা না. ন্যানোমিটার স্কেলে পরিবর্তন, পরিবর্তন, ধ্বংস বা সৃষ্টি সম্পর্কিত টেকনোলজিকেই ন্যানো টেকনোলজি বলে. অর্থাৎ ন্যানোমিটার স্কেলে পরিমিত যেকোনো বিষয়ে বহুমাত্রিক টেকনোলজিকে ন্যানো প্রযুক্তি বা ন্যানো টেকনোলজি বলা যে...

লুসিড ড্রিম কাকে বলে ? লুসিড ড্রিম কিভাবে দেখতে হয় ?

 স্বপ্ন নিয়ন্ত্রণ করার কথা ভেবেছেন কখনো? নিশ্চয়ই ভাবছেন জেগে জেগে দিবাস্বপ্ন দেখার কথা বলছি না তো? কিন্তু না, রীতিমতো ঘুমিয়ে দেখা স্বপ্নও নিয়ন্ত্রণের কথাই বলছি, আপনার ইচ্ছামত স্বপ্ন দেখবেন। ইচ্ছা মতো নিয়ন্ত্রণ করবেন। আর পছন্দ না হলে অর্থাৎ দুঃস্বপ্ন দেখা শুরু করলে সেটার গতিপথ পাল্টে দেবেন একেবারে নিমেষে। আধুনিক বিজ্ঞানের ভাষায় এটা খুবই সম্ভব একে বলা হয় লুসিভ ড্রিম। লুসিড ড্রিমিং এর সাথে আপনারা অনেকেই হয়তো পরিচিত আছেন। অনেকে পরিচিত থাকলেও হয়তো এটা কেন হচ্ছে বা কিভাবে হচ্ছে তা নিয়ে বেশ দ্বিধা দ্বন্দ্বে আছে এসবেরই উত্তর মিলবে আজকের এই লিখাতে।   লুসিড ড্রিম অর্থ কি? সহজ বাংলায় অনুবাদ করতে গেলে বলা যায় লুসিড অর্থ পরিষ্কার. অর্থাৎ স্পষ্ট আর dream মানে তো আমরা সবাই জানি যে স্বপ্ন। লুসিড ডিম হলো সেই স্বপ্ন যে আমাদের স্পষ্ট ভাবে মনে থাকে এবং স্বপ্ন চলাকালীন সময়েও আমরা এ উপলব্ধি করতে পারি যে এটি বাস্তব নয় বরং এটি স্বপ্ন কিন্তু শুধুমাত্র আক্ষরিক অর্থ দিয়ে লুসিড ড্রিম ব্যাখ্যা করলে ভুল হবে একটু অন্যভাবে বলা যাক ।  মনে করুন স্বপ্নে আপনি কি পাহাড়ের উপর থেকে দ্রুত গ...

প্রযুক্তি দুনিয়াতে পর্দার আড়ালে থেকে যাওয়া এক প্রতিভাবান এর গল্প ।

পর্দার আড়ালে একা খেলে যাচ্ছেন একজন. কামাচ্ছেন বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার. অথচ তাকে চেনে খুব কম সংখ্যক মানুষ. আইটি জগতে ইলন মাস্ক, জেফ বোজোস বা বিট গ্রেটসের সাথে তার নামও সমান তালে চলার কথা ছিল. কিন্তু বিহাইন্ড দা সিনে একা গোল করে যাচ্ছেন তিনি. নাম ড্রোন ইয়াং পিং ড্রোন ইয়াং পিং নামটি মোবাইল ফোনের জগতে খুবই কম মানুষের শোনা. তবে তার নাম অজানা থাকলেও তার কোম্পানি বিবিকে ফোন গিগদের মধ্যে বেশ পরিচিত. ওয়ান প্লাস, রিয়েলমি, অপো, ভিভো এবং আইকিউ. এই পাঁচটি জনপ্রিয় মোবাইল ব্র্যান্ডের একক মালিক ডোন ইয়াং পিন.  এই ব্র্যান্ড গুলো তার কোম্পানিতে পরিণত করেছে বর্তমানের সবচেয়ে বড় মোবাইল ফোন উৎপাদনকারী কোম্পানিতে. অ্যাপেল , শাওমি বা স্যামসাং যারা মোবাইল ফোনের জগতে বর্তমানে সবচেয়ে বড় ব্র্যান্ড তাদেরকেও পেছনে ফেলে এগিয়ে গিয়েছে বিবিকে কোম্পানি। কিন্তু এত সফলতার সত্ত্বেও বেশিরভাগ মোবাইল ফোন ব্যবহারকারী এমনকি ফোন গিগরাও তার সম্পর্কে বলতে গেলে তেমন কিছুই জানে না. এলেন মাস্ক, স্টিভ জবস বা জ্যাকমা, যারা কিনা টেকনোলজির জগতে খুবই পরিচিত তাদের সম্পর্কে অনলাইনে  অগণিত তথ্য রয়েছে। কিন্তু ডন ইয়ং পিং এর...

সারোগেসি কি ?

সারোগেসির মাধ্যমে সন্তান ধারণ করা নিয়ে এখনো বহু বিতর্ক আছে. শুধু আমাদের দেশে নয়, সারা বিশ্বেই এই পদ্ধতি নিয়ে তর্ক বিতর্কের শেষ নেই.  এটার আইনি প্রক্রিয়াও জটিল। কারণ এটি একেক রাষ্ট্রে. শারোগেসি আইন একেক রকম. নারী মা হবেন প্রাকৃতিক নিয়ম সমাজ এমনটাই দেখতে অভ্যস্ত. কিন্তু কোন কারণে মা হবার ক্ষমতা না থাকলে তাকে পরিবার ও আশপাশ থেকে যে পরিমাণ কটু কথা শুনতে হয় তা সাধারণ মানুষের ধারণারও বাইরে.   সরোগেসি বিষয়টি কি? চিকিৎসা শাস্ত্রের অগ্রগতি এমন মায়েদের সামনে এনেছে যারা গর্ভ ভাড়া দিয়ে নিজে বাঁচেন অন্যদের মাতৃ সুখ দেন । একজন নারীর গর্ভে অন্য দম্পতির সন্তান ধারণের পদ্ধতিকে সারোগেসি বলা হয়.সারোগেসির এই  পদ্ধতি বেশ দীর্ঘকালীন. আইভিএফ পদ্ধতিতে স্ত্রী ও পুরুষের ডিম্বাণু শুক্রাণু দেহের বাইরে নিষিক্ত করে তা নারীর গর্ভাশয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়. কিন্তু এখানেও জটিলতা. কেন? সে বিষয়ে পরে আসছি. বাংলাদেশ সহ বহু দেশই এই সারোগেসি একরকম ভাবে নিষিদ্ধ. সুতরাং বিষয় টি  সংবেদনশীল. এমনকি বেশিরভাগ ধর্মেও রয়েছে নিষেধাজ্ঞা. চলুন কথা বলি সারোগেসি মাদার সম্পর্কে। আইভিএফ বা টেস্ট টি...

পেগাসাস স্পাইওয়ার কি ?

গত কিছুদিন ধরেই বিশ্ব রাজনীতি এবং প্রযুক্তি জগৎ এই দুই জায়গাতেই আলোচনার বিষয়বস্তু একটাই। সেটা হচ্ছে পেগাসাস স্পাইওয়ার. বিশ্বজুড়ে নানান দেশের মানবাধিকার কর্মী সাংবাদিক আইনজীবী ও রাজনীতিকদের ফোনের নজরদারি চালানোর ঘটনা ফাঁস হওয়ার পর ইজরায়েলের বেসরকারি কোম্পানি nso গ্রুপের তৈরি করা এই সফটওয়্যার নিয়ে এখন তুমুল তরজা চলছে দুনিয়া জুড়ে । চলুন কথা বলি দুনিয়া ওলট পালট করে দেওয়া স্পাইওয়ার সম্পর্কে । পেগাসাস মূলত একটি নজরদারি বিষয়ক সফটওয়্যার । ইজরাইলের সংস্থা এনএসও ই সফটওয়্যার তৈরি করেছে। যা দিয়ে যে কারো মোবাইলে আড়ি পাতা যায়. এটা কিন্তু সাধারণ কোন নজরদারি নয়. আগে ফোনে আড়ি পেতে শুধু দুই প্রান্তের কথাবার্তা শোনা যেত. আর সফটওয়্যারের মাধ্যমে গোটা ফোনটারই নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় হ্যাকাররা. ফোনের কথাবার্তা WhatsApp এর চ্যাট, ছবি, ফোনে কি কি তথ্য আছে সবই জানা যায়. আরো ভয়ানক ব্যবহার হচ্ছে মোবাইল যিনি ব্যবহার করছেন তিনি জানতেই পারেন না যে তার ফোন হ্যাক করা হয়েছে. সমস্ত তথ্য পাচার হয়ে যাচ্ছে নির্দিষ্ট একটি গোষ্ঠীর কাছে. কিন্তু কারো ফোনে পেগাসাস software install করতে হলে তো সেই ফোনটাকে...

রেট রেস কি ?

      আপনি ঠিক কখন ইঁদুর দৌড়ে যোগ দিয়েছেন এটা হিসাব করা কঠিন. কিন্তু নিশ্চিত থাকুন আপনি এই দৌড়ে আছেন. ক্লাস eight এ পড়ার সময়ের কথা মনে আছে? সামনে বৃত্তি পরীক্ষা পাটিগণিত বীজগণিতের অংক প্যাঁচ লাগাচ্ছে বিজ্ঞানের জটিল সব সূত্র ভোরে ওঠে প্রাইভেট টিউটরের বাসায় ছোটা রাত জেগে পড়াশোনা. বয়সের তুলনায় অনেক বেশি কর্ম ব্যস্ত একটা সময় নিশ্চয়ই কাটিয়েছেন তখন? আমরা সবাই কাটিয়েছি. সেই সময় নিশ্চয়ই অভিভাবক বলেছে এই তো আর কটা দিন. বৃত্তি পরীক্ষা শেষ হলেই জীবন শান্তি আর শান্তি. জীবনের নানা এপিসোডে আপনি এই কথাগুলো শুনেছেন অনেকবার অনেকের মুখে. এসএসসি পরীক্ষাটা দাও, কলেজে উঠলেই তো স্বাধীনতা. একবার ভার্সেটিতে উঠতে পারলেই জীবন হবে আনন্দে ভরপুর. একবার জব লাইফে ঢোকো. নিজের টাকায় আয়েশ করার মজাই অন্যরকম. শুনেছেন না এসব?  বয়স ঘড়ির ত্রিশের প্রান্তে দাঁড়িয়ে হিসেবগুলো মেলাতে পারেন কি? কি মনে হয়? এই এপিসোডগুলোর কোনোটা পার হবার সময় জীবন খানিকটা হলেও সহজ হয়েছে? সুন্দর হয়েছে? হয়নি, হবেও না, মিথ্যা একটা মরীচিকার আশায় আমরা ছুটেছি ঠিকই আমাদের ছোটানো হয়েছে, কিন্তু হিসাব মেলেনি ছুটত...

ম্যান্ডেলা ইফেক্ট কেনো হয়?

   আচ্ছা নিজের স্মৃতি শক্তির উপর কতটা বিশ্বাস আছে আপনার? আচ্ছা বাদ দিয়ে আপনার কথা. গণমানুষের স্মৃতিশক্তির উপর নিশ্চয়ই বিশ্বাস আছে অনেকটা. না না. ধর্মীয় কোন বিশ্বাস না. এই গ্রহে ঘটে যাওয়া এমন সব ঘটনা. যা সবাই জানে. তা কি রকম মিথ্যা? এক দশক আগেও পৃথিবীর প্রায় এক তৃতীয়াংশ মানুষ জানতো যে অস্ট্রেলিয়ার রাজধানীর নাম সিডনি. আসলে কি তাই? গত এক দশকে এই ধারণা মোটামুটি পরিবর্তন হয়ে মানুষ জেনেছে অস্ট্রেলিয়ার রাজধানীর নাম ক্যানভেরা. এখনো এই ভুল হরমামেশাই করে যাচ্ছে মানুষ. বিশ্বাস না হলে আশেপাশের কিছু মানুষকে জিজ্ঞেস করে দেখতে পারে. প্রশ্ন করতে পারেন ম্যান্ডেলার নাম কেন? এই ফ্ললস মেমোরি সিন্ড্রোমকে ম্যান্ডেল এফেক্ট নামকরণ করেছেন প্যারানরমাল কনসালটেন্ট ফীয়না ব্রুম তার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে । দু হাজার দশ সালের এক আলোচনা সভায় উঠে আসে দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদ বিরোধী আন্দোলনের নেতা উনিশশো আশি সালে কারা জানে মারা যাওয়ার প্রসঙ্গ । অনেকেই সেদিন বলেছিল, টিভিতে এই নেতার শেষকৃত্যের আনুষ্ঠানিকতা দেখার অভিজ্ঞতার কথা. ম্যান্ডেলার স্ত্রীর হৃদয় নিন্দারও ভাষণের কথা উল্লেখ করেছিলেন কেউ কেউ. এমনক...

কিভাবে লিমিটলেস হওয়া যায় ? লিমিটলেস আসলে কিভাবে কাজ করে ?

এনজিটিপিল,  এটা এমন এক পিল যা আপনাকে করবে আল্ট্রা ফোকাসড. দেবে দুর্দান্ত মোটিভেশন. বের করে আনবে আপনার সর্বোচ্চ সম্ভাবনা. আপনি হয়ে উঠবেন আনস্টপল. বাস্তবতা পাবে প্রতিটি স্বপ্ন. কিন্তু সমস্যা হচ্ছে এমন কোন পিলের অস্তিত্ব নেই. ফলাফল আপনি আটকে আছেন একটি খাদে. সারাক্ষণ ক্লান্তি নিয়ে হয়ে উঠছেন আনপ্রোডাক্টিভ. নষ্ট হচ্ছে ক্রিয়েটিভিটি. সময় গড়িয়ে যায়. ঋতুর পরিবর্তন ঘটে. কিন্তু আপনি ডুবে থাকেন এক হতাশায় যাতে আপনি দিন দিন পিছিয়ে পরছেন. আপনি যা যা এতদিন অর্জন করবেন ভেবেছিলেন তা কিছুই আপনি অর্জন করতে পারেননি । নিজেকে সান্তনা দিচ্ছেন আগামীকাল হবে ভিন্ন। কিন্তু তা কখনোই হয়ে ওঠে না এখন যদি আপনাকে বলি কোনো জাদুকরী পিলের সাহায্যে নয় বাস্তবিক লিমিটলেস হয়ে ওঠা সম্ভব।  একদম প্রমাণিত পদ্ধতিতে যা একেবারে ফ্রিতে ব্যবহার করা সম্ভব.  তো আছেন তো শেষ পর্যন্ত ?  Limit less হওয়ার যাত্রায় ।  স্টেপ ওয়ান : এনার্জি--  মাত্র কয়েক মাস আগে আমি নিজেও আপনার মতো কর্মশক্তিহীন অনুভব করতাম. সামান্য কাজেই আসতো অবসন্নতা, গেয়ে ধরতো ক্লান্তি একদিন হঠাৎ টের পেলাম আমি নিজেই নিজের energy নি...

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কি ? আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কতটা ভযঙ্কর হতে পারে আগামী দিনের জন্য ?

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বহুল চর্চিত এবং ব্যবহৃত একটি শব্দ. মানুষের বুদ্ধিমত্তা ও চিন্তা শক্তিকে কম্পিউটার প্রোগ্রামিং এর মাধ্যমে মেশিন ল্যাঙ্গুয়েজে স্থাপন করা টেকনোলজিটাই হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স । এর মাধ্যমে কোন যন্ত্র নির্দিষ্ট প্রোগ্রামের আওতাধীন কিছু কাজ নিজে থেকেই করতে পারে নিজে নিজে সিদ্ধান্ত নিতে পারে।  টার্মিনেচার টাইপের কোনো সাইফাই সিনেমার গুরু বন্ধুর সংলাপ নয়।  A.I নিয়ে ভবিষ্যৎবাণী করেছিলেন পৃথিবীর সেরা বিজ্ঞানীদের একজন স্টিফেন হকিং আমার ভয় হয় তারা সত্যিই হয়তো একদিন মানুষকে হটিয়ে নিয়ন্ত্রকের আসনে বসে যাবে। বেঁচে থাকতেই BBC কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স তথা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে এভাবেই সবাইকে সতর্ক করেছিলেন তিনি। হকিংসের এই ভয় এখনো ভবিষ্যতের বিষয় হলেও অমূলক নয় মোটেও যন্ত্রকে বুদ্ধিমান করে তার আশীর্বাদ অনেক আছে। কিন্তু দীর্ঘ মেয়াদে সেই যন্ত্রই পৃথিবীর দখল নিতে চলেছে কিনা স্বয়ং সম্পূর্ণ হয়ে মানুষকেই বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে একদিন অপদার্থ তে পরিণত করবে কিনা সেই প্রশ্নটা উঠছে বারবার।  যুক্তরাষ্ট্রে...

মিনিমালিজম কি ? কিভাবে মিনিমালিস্ট হওয়া যায় ?

মিনিমামলিজম এই ধারণাটি বিগত কয়েক বছরে বেশ জনপ্রিয়তা লাভ করেছে এবং এর যথেষ্ট কারণও আছে. এই পুরো ব্যাপারটা কি? সেটাকে সঙ্গায়িত করা যায় এভাবে যে,  মিনিমালিজম হচ্ছে যা আমাদের জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সেগুলোকে ধারণ করা এবং বাকি সব কিছু যা আমাদের দৃষ্টিকে অন্যদিকে সরিয়ে নেয় সেগুলোকে ইচ্ছাকৃতভাবে ত্যাগ করা।   অর্থাৎ কোন কোন বিষয়ে জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং কোন জিনিসগুলোকে আমাদের কাছে সবচেয়ে মূল্যবান সেই সম্পর্কে একটা পরিষ্কার ধারণা থাকা এবং বাকি সব ত্যাগ  করে দেয়. সেগুলো নিয়েই জীবন ধারণ করা. কিন্তু এমন সংজ্ঞায়ন সত্ত্বেও minimalism কোন ধরাবাধা জীবন ব্যবস্থা নয় বা মিনিমালিস্ট হতে হলে কোন নির্দিষ্ট মানদণ্ড মেনে চলতে হবে এরকমটিও কিন্তু নয়. মিনিমালিস্ট লাইফ স্টাইল এমন একটি বিষয় যা প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য স্বতন্ত্র। এক্ষেত্রে মূল বিষয়টি হচ্ছে সত্যিকার অর্থে কোন কোন বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও প্রয়োজনীয় সেই সম্পর্কে একটা পরিষ্কার ধারণা নিয়ে সেই অনুযায়ী জীবন ধারণ করা. প্রিয় দর্শক চলুন দেখি মিনিমালিজম কিভাবে আপনার জীবনধারা বদলে দিতে পারে।  মিনিমালিস্ট জীবন অবশ...