এইতো কয়েকদিন আগের কথা. বিশ্বসেরা all rounder সাকিব আল হাসান সাংবাদিক উৎপল সুটের কাছে একটা ইন্টারভিউ দিয়েছিলেন. পঞ্চপাণ্ডব সহ আরো কিছু বিষয় সোজাসাপ্টা মন্তব্যের কারণে সেই সাক্ষাৎকার নিয়ে বেশ বিতর্ক হলো কিন্তু ক্রিকেট ও আলোচনা বা বিতর্কিত আলাপের বাইরেও সাকিব সেই সাক্ষাৎকারে খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা কথা বলেছিলেন যেটা নিয়ে বিন্দুমাত্র আলোচনা হয়নি । পরিবার আমেরিকাতেই স্থায়ী হবে এমন আভাস দিয়ে সাকিব বলেছিলেন বাংলাদেশে থাকার সময় স্কুলে যাওয়ার আগে আমার বড় মেয়ে অ্যালাইনা ঘুম থেকে উঠে প্রতিদিন কাঁদতো. অথচ আমেরিকায় এক ডাক দেওয়ার আগেই নিজে উঠে চোখ বন্ধ করে নিজে ব্রাশ করে স্কুলের জন্য রেডি হয়ে যায়. এর থেকে ভালো আমার জন্য আর কি হতে পারে? সাকিব কেন নিজেকে একমাত্র পাণ্ডব বলে দাবি করেছেন সাকিবের বক্তব্যে অন্যান্য সিনিয়র প্লেয়ারদের অসম্মান করা হয়েছে কিনা এসবের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু কিন্তু এই কয়েকটা লাইনে লুকিয়ে আছে । স্কুল জায়গাটা কেন পাঁচ থেকে ছয় বছর বয়সের একটা বাচ্চা মেয়ের কাছে বিভীষিকার নাম হয়ে উঠবে.
এই গল্পটা শুধু এলাইনার নয়. এই দেশের লক্ষ্য কোটি শিশুর । সাকিবের সামর্থ্য আছে. তিনি তার পরিবারকে বিদেশে পাঠিয়ে দিয়েছেন. এলাইনা এখন হাসিমুখে স্কুলে যাচ্ছে. কিন্তু আমাদের মুখে সেই হাসি নেই. হাসিটা কেড়ে নিয়েছে এদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার অসুস্থ সিস্টেম. বিশ্ব ব্যাঙ্কের একটা রিপোর্টে দেখা গেছে আমাদের দেশে এগারো বছর বয়সে একটি শিশু যা শেখে তা বিশ্বমানের সাড়ে চার বছর বয়সে শেখার সমান. আমাদের শিক্ষকদেরও কিন্তু শেখানোর জায়গায় প্রচুর ঘাটতি আছে. গণশিক্ষার জন্য প্রচার অভিযান নামক একটি সংস্থার প্রতিবেদনে জানা গেছে বাংলাদেশের শতকরা সাঁইত্রিশ জন শিক্ষকই শিক্ষাদানের জন্য গাইড বইয়ের উপর নির্ভরশীল। একইভাবে তারা সৃজনশীল প্রশ্ন করতেও অক্ষম, বাংলাদেশের শিক্ষার ধরণ নিয়ে যদি একটু ঘাটাঘাটি করতে যায় কেউ আঁতকে ওঠা ছাড়া তার কোনো উপায় নেই।
এখানে বাংলা মিডিয়াম আছে. ইংরেজি মিডিয়াম আছে. আলাদাভাবে আছে. ক্যাডেট কারিকুলাম. এর বাইরেও vocational বা কারিগরি শিক্ষা ব্যবস্থাও রয়েছে. আছে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়. পৃথিবীর আর কোনো দেশের এডুকেশনাল সিস্টেম এমন জগাখিচুড়ি মার্কা নয়, শিক্ষা এখানে আনন্দের উপকরণ নয় বরং একটা রেট রেসের নাম আর তার চেয়ে বড় কথা এই শিক্ষা ব্যবস্থা কতটা রিয়েল লাইফে কার্যকর।
বিশ বছর পর এই প্রজন্ম কি করবে? স্কুল কলেজের সার্টিফিকেট কতটা কার্যকর থাকবে?
ভালো করে ভেবে দেখুন আমাদের বাস্তবিক জীবনে কাজে লাগে এমন স্কিলফুল অ্যাক্টিভিটি গুলোও কিন্তু ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত বারো বছরের শিক্ষা জীবনে আমাদের স্কুল বা কলেজগুলো শেখাতে পারে না । এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ব্যর্থ এই জায়গায়. উদাহরণ চান. ধরুন ভালো একটা সিভি বানানো. এই বিদ্যেটা আমাদের একাডেমিক শিক্ষার অন্তর্ভুক্ত নয়. চাকরির বাজারে বাংলা বা ইংরেজিতে দ্রুত টাইপ করতে পারাটাকে একটা বিশেষ যোগ্যতা হিসেবে ধরা হয়. সেটাও কিন্তু কলেজ বা ভার্সিটিতে শেখানো হয় না. অথচ জব লাইফে গেলে আগে এই দুটো লাগবেই. একইভাবে ভালো প্রেজেন্টেশন বানানো মাইক্রোসফ্ট ওয়ার্ল্ড এক্সেলের কাজ গুছিয়ে ইমেইল লিখতে পারা এগুলো আমাদের পাঠ্য সূচির অন্তর্ভুক্ত নয়. নিজেকেই আলাদাভাবে শিখতে হয় এগুলো. কুইক লার্নিং এবিলিটি নিয়ে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় কোন কাজ হয় না. টিম ওয়ার্ক সম্পর্কে ভালোভাবে ধারণা দেওয়া হয় না. বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সনদ বিক্রির কারখানা হয়ে উঠেছে দিনে দিনে. ছাত্র ছাত্রীদের স্কিল ফুল করে তোলার ব্যাপারে তাদের বিন্দুমাত্র মাথাব্যথা নেই. এই কারণে অনার্স বা মাস্টার শেষে একজন ছাত্র যখন চাকরি খোঁজার মহাসাগরে নামে তখন সে নিজেকে আবিষ্কার করে নিঃস্ব রিক্ত অবস্থায়. স্কুলের দশ বছর কলেজের দুই বছর চার থেকে ছয় বছর. মোট ষোলো থেকে আঠেরো বছরের ক্লান্তিকর একটা জার্নি শেষেও সে দেখে তার মেধার ঝুলি আসলে ফাঁকা. সার্টিফিকেট ধুয়ে পানি খেতে হচ্ছে তখন. আমাদের দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা খুব বাজে একটা কালচার হচ্ছে. স্কুল কলেজের বাইরে আলাদাভাবে টিউশন বা প্রাইভেট পড়ানোর ব্যবস্থা.
এটা অনেক প্রাচীন কথা. এটা নিয়ে কথা না বলি. কিন্তু এই tuition বাণিজ্যের জন্য শিক্ষকদের একচেটিয়া ভাবে দোষারোপ করে কিন্তু কোন লাভ নেই. আমাদের দেশে পেশা জীবিদের মধ্যে শিক্ষকের বেতন বোধহয় সবচেয়ে কম. প্রাইমারি higher secondary থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদেরও এত অল্প বেতন দুনিয়ার আর কোনো দেশে পাওয়া যাবে কিনা যথেষ্ট সন্দেহ আছে। মাধ্যমিকে শিক্ষকদের বেতন ভাতা যেমন অনারকর্ষিও তেমনি পদোন্নতির সুযোগও নেই বললেই চলে । দশম রেডের একজন সহকারী শিক্ষক চোদ্দ থেকে পনেরো বছরেও পদোন্নতি পাননা. একদিকে বলা হয় শিক্ষায় জাতির মেরুদন্ড এবং শিক্ষকরাই মানুষ গড়ার কারিগর. অন্যদিকে সেই শিক্ষকরা তাদের অধিকার আদায়ে রাজপথে নামলে পুলিশের জলকামানের সামনে পড়ে. শিক্ষকরা তাহলে উপরি আয়ের চিন্তা করবেন না কেন? বেশিরভাগ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ইংরেজি এবং অংকে ডিগ্রীধারী শিক্ষক নেই. বিশেষ করে গ্রামের স্কুলগুলোতে একেবারে নেই বললেই চলে। ফলে এই দুটো বিষয় অত্যন্ত অপ্রতুল জ্ঞান নিয়ে কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছাত্রীরা ভর্তি হচ্ছে অথচ মানব বিদ্যা, সামাজিক বিজ্ঞান, ব্যবসায়ী, প্রশাসন, বিজ্ঞানের, বিভিন্ন শাখার সব বইও জার্নাল পড়তে এবং জানতে হলে ইংরেজি এবং অঙ্ক জানাটা আবশ্যক। এই দুর্বলতা নিয়ে প্রতি বছর আমাদের লাখ লাখ ছাত্রছাত্রী উচ্চশিক্ষার পথে যাত্রা করছে যার কারণে এমএ, এমএসসি ও এমবিএ নামক ডিগ্রীগুলো যথাযথ গুরুত্ব বা সম্মানজনক না হয়ে অনেক ক্ষেত্রে হালকা বা হাস্যকর হয়ে দাঁড়িয়েছে । ভালো ছাত্রদের আমরা দেশে ধরে রাখতে পারি না উচ্চ শিক্ষার্থী তারা পাড়ি জমাচ্ছে বিদেশে পাচার হচ্ছে মেধা. না এ দেশে গুণীর কদর আছে না আছে গবেষণার রাস্তা. তাহলে তারা কেন দেশে পড়ে থাকবে? সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হচ্ছে শিক্ষার পেছনে বড় অঙ্কের বাজেট রাখতে হয়. উন্নয়নের যথাযথ পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং বাস্তবায়ন করতে হয় ।
বিশ্বে যেসব দেশ উন্নতি করেছে এবং করছে যাদের দেখে আমরা অবাক হই এবং কিছুটা ঈর্ষা অনুভব করি তারা সবাই শিক্ষায় সর্বোচ্চ বিনিয়োগ করেছে । অনেক সময় সাধ্যের বাইরে গিয়েও করেছে। যেমন কিউবা ও কোরিয়া দীর্ঘদিন থেকেই কিউবার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে পশ্চিমা দেশগুলো অবরোধ আরোপ করেছে. তাতে তার অর্থনীতি খুবই নাজুক অবস্থায় পড়েছে. কিন্তু দেশটি শিক্ষাক্ষেত্রে বিনিয়োগ থেকে পিছপা হয়নি এক পাও. এর সুফল তারা এখন পাচ্ছে. এখন যুক্তরাষ্ট্র কিউবাকে কাছে পেতে চায়. কয়েক বছর ধরে দেশটি তার জিডিপির নয় শতাংশ বরাদ্দ দিচ্ছে শিক্ষায়. অন্যদিকে আমাদের মোট বাজেটের মাত্র দুই দশমিক এক শতাংশ বরাদ্দ থাকে শিক্ষার পেছনে. শতাংশের অঙ্কে যেটি কিনা নেপালের চেয়েও কম. উচ্চ শিক্ষার শ্রুতিকাগার বলা হয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে. এখানে গবেষণা হবে নতুন নতুন আবিষ্কার হবে, হবে মেধাবীদের মিলন মেলা. আমাদের দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গবেষণার জন্য যে বাজেট বরাদ্দ থাকে এর চেয়ে বেশি টাকা এক একটা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতি বছর অতিথি আপ্যায়নে খরচ করে। রাজনীতিতে কলুষিত হয়ে আছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গন । হলের সিট পেতে হলেও ছাত্রনেতাদের সঙ্গে দহরম মহরমের সম্পর্ক তৈরি করতে হয়. ছাত্রদের কথা বাদই থাকুক ।
শিক্ষকরা পর্যন্ত দলাদলিতে জড়িয়ে আছে সেই নব্বইয়ের দশক থেকে. দেশের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি যখন তার ক্যান্টিনের চা-চপ আর সিঙ্গারা নিয়ে গর্ব করেন. তখন বোঝা যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মান কতটা তলানিতে নেমেছে. | ইউনেসেফের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে নেদারল্যান্ডসের প্রাথমিক স্কুলে শিশুদের কোনো বাড়ির কাজ দেওয়া হয় না হলেও খুব কম । লেখাপড়া করতে শিশুদের ওপর চাপ প্রয়োগ করা হয় না । বারো বছর বয়স পর্যন্ত তাদের গুরুগম্ভীর কোনো পরীক্ষায় বসতে হয় না দেশটির শিশুরা সবচেয়ে বেশি সুখী জীবন কাটায়. রোজকার হোমওয়ার্ক নিয়ে মাথা ব্যথা নেই ফিনল্যান্ডের শিক্ষার্থীদেরও. ষোল বছর বয়সে গিয়ে তাদের মাত্র একটি বাধ্যতামূলক পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়. আর আমরা প্রাথমিক শিক্ষা নিয়ে কি করছি. আমরা দু বছর পর পর পাবলিক পরীক্ষার আয়োজন করছি. জিপিএ ফাইভ বিলিয়ে বেড়াচ্ছি. একটা অসুস্থ মানসিকতার আইএমজিপিএ ফাইভ জেনারেশন তৈরি হয়ে গেছে. যারা পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট করাটা কি দুনিয়ার সব কিছু বলে মনে করে. ফ্রান্স, স্কুলের শিক্ষা ব্যবস্থার পাশাপাশি যোগ্য শিক্ষকদের বাছাই শিক্ষকদের প্রশিক্ষিত করতে মনোযোগী. জাপানে কিন্ডার গার্ডেনের শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ ও বাছাই করার ক্ষেত্রে দেওয়া হয় বিশেষ গুরুত্ব। ভুটান থেকে শুরু করে ভিয়েতনাম, ফিলিপাইন, থাইল্যান্ডের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রয়েছে শতভাগ প্রশিক্ষিত শিক্ষক. এই দেশগুলো দায়িত্ব নিয়ে তাদের শিক্ষকদের প্রশিক্ষিত করেছে. অথচ এক্ষেত্রে আমাদের অবস্থান কিন্তু অনেক দূরে. ইউনেস্কের গ্লোবাল এডুকেশন মনিটরিং প্রতিবেদনে দেখা গেছে পাকিস্তান, শ্রীলংকা ,নেপাল ,মিয়ানমারে যেখানে আশি থেকে নব্বই শতাংশেরও বেশি প্রশিক্ষিত শিক্ষক রয়েছে. সেখানে বাংলাদেশে এই হার মাত্র পঞ্চাশ পার্সেন্ট. অর্থাৎ আমাদের দেশের স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা বা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্ধেক শিক্ষকই প্রশিক্ষিত নন.
আপনি যদি ভালোভাবে চারপাশে একটু খেয়াল করেন দেখবেন প্রচুর শিক্ষিত মানুষ কর্মহীন হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে. তাদের প্রত্যেকের অনার্স বা মাস্টার্স ডিগ্রি আছে। গ্রেড পয়েন্টও যথেষ্ট ভালো। চাকরি পাচ্ছে না. কারণ চাকরির বাজারে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার মতো স্কিল তাদের ভান্ডারে নেই. স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্ঞান তারা আহরণ করেছে ঠিকই কিন্তু সেই জ্ঞান সে কোনো কাজে লাগাতে পারছে না. শিক্ষা ব্যবস্থার আরেকটা বাজে ব্যাপার হচ্ছে শুধুমাত্র চাকরি পাওয়াটা কি শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য বানিয়ে ফেলা. বিসিএস এর নেশায় পড়ে জীবন থেকে অনেকগুলো বছর হারিয়ে ফেলছে অজস্র তরুণ তরুণী. এই সময় শ্রম তারা অন্য কোথাও দিলে এর চেয়ে অনেক ভালো কিছুই করতে পারত. এতক্ষণ তো শুধু হতাশার গল্প শোনালাম। অবশ্য আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে কথা বলতে গেলে চারপাশে অন্ধকারটাই চোখে পড়বে বেশি. এই অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে হবে. শিক্ষকদের বেতন বাড়াতে হবে তাদেরকে প্রশিক্ষিত করতে হবে. জিপিএ অর্জনের অসুস্থ প্রতিযোগিতা বন্ধ করতে হবে. পাশাপাশি কর্মজীবনে গুরুত্বপূর্ণ এমন স্কিলফুল কোর্স অন্তর্ভুক্ত করতে হবে পাঠ্যসূচিতে. প্রাথমিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছ ও জটিলতা মুক্ত করে তুলতে হবে. বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের প্রমোশন বেতন বৃদ্ধি ও অন্যান্য সব সুযোগ সুবিধা তাদের গবেষণার উপর ভিত্তি করে হওয়া উচিত.
ফিনল্যান্ডের স্কুলগুলোতে প্রাথমিক শ্রেণী থেকেই উঁচু বেতনে খুব ভালো মানের শিক্ষক নিয়োগ হয়. অন্যদিকে পড়ার পাশাপাশি খেলাধুলার জন্য প্রচুর সময় দেওয়া হয়. তা ছাড়া ফিনল্যান্ডে homework তো দেওয়াই হয় না. আর খুব দরকার না থাকলে বেশিরভাগ ক্লাসে পরীক্ষাও নেওয়া হয় না. আমাদেরও শুধু ক্লাস পরীক্ষা, টিউশনের এই দুষ্টু চক্র থেকে বেরিয়ে এসে আউট অফ দা বক্স কাজ করতে হবে. এই পরিবর্তনের সুফল হয়তো সাথে সাথে পাওয়া যাবে না. কিন্তু আজ থেকেও যদি কাজ শুরু হয় তাহলে বিশ পঁচিশ বছর পরে এদেশের চেহারাটাই বদলে যাবে। কারণ আজ যারা ছাত্র তখন তারা জাতির নেতৃত্বে থাকবে। তারাই এগিয়ে দেবে দেশকে প্রশ্ন শুধু একটাই বেড়ালের গলায় ঘন্টা বাঁধার এই কঠিন কাজটা কে করবে?
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন