সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

মুদ্রাস্ফীতি কি ?

   মানুষের আয় না বাড়লেও জিনিসপত্রের দাম ক্রমাগত বেড়েই চলেছে. দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির সাথে মানিয়ে নিতে না পারার অন্যতম কারণ হলো মুদ্রাস্ফীতি। মুদ্রাস্ফীতিএবং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির সাথে অর্থনীতির যে কয়েকটি বিষয়ে ওতপ্রোতভাবে জড়িত. তার মধ্যে অন্যতম হলো খেলাপিঋণ.কোনো নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবধানে পণ্য বা সেবার দাম টাকার অংকে বেড়ে গেলে অর্থনীতির ভাষায় তাকে  মুদ্রাস্ফীতি বলা হয়.

সাধারণত মুদ্রাস্ফীতির ফলে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যায়. ফলে কোনো একটি পণ্যের দাম আগে যদি হতো একশো টাকা. তাহলে মুদ্রাস্ফীতির পর তার দাম হবে একশো দশ টাকা. অথবা একশো টাকায় সেই পণ্য আগের চেয়ে অনেক কম পরিমাণে পাওয়া যাবে. এর ফলে অর্থনীতিতে পণ্যের আসল বিনিময় মূল্যও কমে যায়। আরো সহজ করে বলতে গেলে দেশের সর্বমোট যত সম্পদ আছে তার মূল্য ওই দেশের বর্তমান মোট মুদ্রামান বা মোট টাকার সমান.

 মনে করুন বাংলাদেশে সর্বমোট একশো টাকা আছে. এবং দেশের মোট সম্পদ হলো দশটি আম. যেহেতু দেশের মোট সম্পদের মূল্য মোট মূল্যবানের সমান. সেহেতু এই দশটি আমের মূল্য একশো টাকা. তার মানে প্রতিটি আমের মূল্য দশ টাকা. এখন যদি আরো পঞ্চাশ টাকা ছাপানো হয়. মোট মুদ্রামান হয়ে যাবে একশো যোগ পঞ্চাশ বা দেড়শো টাকা. আম কিন্তু আগের সেই দশটাই আছে. কিন্তু টাকা বেড়েছে. এখন নতুন করে পঞ্চাশ টাকা ছাপানোর পর দশটি আমের মোট মূল্য হয়ে গেল দেড়শো টাকা. প্রতিটি আমের বর্তমান মূল্য পনেরো টাকা. যা আগে ছিল দশ টাকা. সম্পদ না বাড়িয়ে অতিরিক্ত টাকা ছাপানোর ফলে আমের দাম দশ টাকা থেকে পনেরো টাকা হয়ে গেল. এটাই সহজ ভাষায় মুদ্রাস্ফীতি । একই একই পণ্য আগের থেকে বেশি দামে ক্রয় করা মানেই মুদ্রাস্ফীতি হয়েছে. মুদ্রাস্ফীতির পেছনে বহু কারণ থাকলেও সহজ ভাষায় বলা যায়, দেশের সম্পদের পরিমাণ না বাড়িয়ে টাকা ছাপালে মুদ্রাস্ফীতি হয়. মুদ্রাস্ফীতির পেছনে বহু অর্থনৈতিক বিষয় জড়িত থাকে. তার মধ্যে অন্যতম হলো  খেলাপিঋণ.

 অন্তত বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে খেলাপিঋণ একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ. ব্যাঙ্ক থেকে ঋণ নিয়ে পরিশোধ না করলে সেই ঋণকে খেলাপিঋণ বলা হয়. মনে করুন বাংলাদেশের একশো টাকা থেকে এক ব্যাক্তি বিশ টাকা ঋণ নিয়েছে. যতক্ষণ পর্যন্ত ঋণের বিশ টাকা দেশের মধ্যে থাকবে ততক্ষণ দেশের মোট মুদ্রামান একশো টাকায় থাকবে. তার মানে প্রতিটি আমের মূল্য দশ টাকায় থাকবে. কিন্তু ওই ব্যক্তি যদি ঋণের বিশ টাকা ডলারে কনভার্ট করে বিদেশে গিয়ে খরচ করে ফেলে এবং সে ঋণ পরিশোধ করতে না পারে. তাহলে বেশ কিছু সমস্যা তৈরি হয়. প্রথমত ডলারে কনভার্ট করার কারণে ওই বিশ টাকা এখন আর বাংলাদেশের মধ্যে নেই. অথচ কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের হিসেবে বাংলাদেশের মোট টাকা এখনো একশোই আছে. কিন্তু প্রকৃত পক্ষে টাকা আছে আশি টাকা. ওই খেলাপি বিশ টাকার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সরকার আবার বিশ টাকা অতিরিক্ত ছাপায়. অর্থাৎ ব্যাঙ্কের হিসেবে মোট মুদ্রামান হয়ে যায় একশো বিশ টাকা. কিন্তু প্রকৃত পক্ষে টাকা আছে মাত্র আশি টাকা. খেলাপিঋণ এবং দেশের টাকা বিদেশে পাচার করার কারণে কিভাবে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি হয় এবার সে সম্পর্কে আলোচনা করা যাক. 


যেহেতু খেলাপিঋনের কারণে নতুন করে টাকা ছাপানো হয়েছে সেহেতু মুদ্রাস্ফীতি  হবে. অর্থাৎ একই আমের দাম আগে ছিল দশ টাকা. এখন হয়ে যাবে বারো টাকা. এই বিষয়টিও খুব বেশি প্রভাব ফেলতো না যদি সত্যি সত্যি দেশে একশো বিশ টাকা থাকতো. তাহলে পণ্যের দাম বাড়ার সাথে সাথে মানুষের ক্রয় ক্ষমতাও বাড়তো. দেশে যেহেতু একশো বিশ টাকা নেই আছে আশি টাকা. তার মানে চল্লিশ টাকা দেশের অর্থনীতি থেকে হারিয়ে গেছে. এর ফলে আমাদের কাছে আছে আশি টাকা. কিন্তু পণ্য কিনতে হচ্ছে এমন দামে যেন আমাদের কাছে একশো বিশ টাকাই আছে. বাংলাদেশের bank খাতে খেলাপিঋণের পরিমান বেড়েই যাচ্ছে. বাংলাদেশ ব্যাঙ্কের বিবরণী থেকে জানা যায় দুই হাজার বিশ সালের শেষের দিকে খেলাপিঋণের পরিমান ছিল চুরানব্বই হাজার চারশো চল্লিশ কোটি টাকা. দুই হাজার একুশ সালের শেষে খেলাপিঋণের পরিমান বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক লাখ একশো আটষট্টি কোটি টাকা. এক বছরের ব্যাঙ্ক গুলোতে খেলাপিঋণের ঋণ বেড়েছে পাঁচ হাজার সাতশো আঠাশ কোটি টাকা.


 লক্ষ কোটি টাকারও বেশি খেলাপি দিন আমাদের অর্থনীতিকে ভেতর থেকে দুর্বল করে দিয়েছে. অথচ আমরা পণ্য ক্রয়ের সময় এমন ভাবে মূল্য পরিশোধ করছি যেন ওই এক লক্ষ একশো আটষট্টি কোটি টাকা আমাদের মুদ্রা মানে যুক্ত আছে. সে কারণেই তিনশো টাকার গরুর মাংস সাতশো টাকায় উঠে এসেছে. কিন্তু মানুষের ক্রয় ক্ষমতা এখনো সেই তিনশো টাকায় আছে. এ ছাড়া দুই হাজার নয় সাল থেকে দুই হাজার পনেরো সালের মধ্যে চার লাখ ছিয়ানব্বই হাজার কোটি টাকা পাচার হয়েছে. সাম্প্রতিক সময়ের অর্থ পাচারের সঠিক হিসাব জানা নেই. তবে অতীতের সমীক্ষা থেকে ধারণা করা যায় প্রতি বছর গড়ে প্রায় লক্ষ কোটি টাকা দেশ থেকে পাচার হচ্ছে. বাংলাদেশের ব্যাংকাররা বলছেন দেশের নথিপত্রের খেলাপিঋণের যত দেখানো হয় প্রকৃত চিত্র তার চেয়ে তিন গুণ বেশি. ঋণ আদায় না হলেও বছরের পর বছর খেলাপি করা হয় না. আবার একই ঋণ বার বার পুর্নরতফসিল করে ঋণ নিয়মিত রাখা হয়. এর ফলে খেলাপিঋণের পরিমান কম দেখায়.  


আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল বা IMF দুই হাজার উনিশ সালের মাঝামাঝি বাংলাদেশের ব্যাঙ্ক খাত নিয়ে একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেছিল. সেখানে বলা হয়েছে বাংলাদেশে খেলাপি ঋণ আড়াল করে রাখা আছে. এখানে খেলাপিঋণের যে তথ্য প্রকাশ করা হয় প্রকৃত খেলাপিঋণ তার তুলনায় অনেক বেশি. আইএমএফ এর মতে বাংলাদেশে খেলাপিঋণের পরিমান হবে প্রায় আড়াই লক্ষ কোটি টাকা. বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসেব মতে দুই হাজার সতেরো থেকে দুই হাজার একুশ. এই চার বছরে মুদ্রাস্ফীতির হার আঠাশ দশমিক সাত শতাংশ. অর্থাৎ দুই হাজার সতেরো সালে একশো টাকা দিয়ে যে পণ্য কেনা যেত দুই হাজার একুশ সালে এসে সেই পণ্য কিনতে খরচ করতে হচ্ছে প্রায় একশো একত্রিশ টাকা.




বাস্তবে মুদ্রাস্ফীতি সরকারি হিসেবের চেয়েও অনেক বেশি. কনজিউমার অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশের তথ্য মতে গত পাঁচ বছরে বাংলাদেশের নিত্যপ্রয়োজনীয় সকল পণ্যের দাম পঞ্চাশ শতাংশের বেশি বেড়েছে. মুদ্রাস্ফীতি, খেলাপিঋণ এবং দ্রব্যমূল্যের দাম ক্রমাগত বেড়েই চলেছে. কিন্তু মানুষের আয় সেইভাবে বাড়ছে না. বরং অনেক ক্ষেত্রেই আয় কমেছে. করোনা মহামারীর কারণে গত দুই বছরে অনেক মধ্যবিত্ত চাকরি হারিয়েছে. যাদের চাকরি আছে তাদেরও দুই বছর ধরে বেতন বাড়ে নি. বরং মহামারীর অজুহাতে কারো কারো বেতনের তিরিশ থেকে চল্লিশ শতাংশ কমেছে. অথবা বেতন বকেয়া রেখে দিয়েছে মালিকপক্ষ. অনেক মধ্যবিত্তই এখন নিম্ন মধ্যবিত্তের কাতারে চলে এসেছে.  বাংলাদেশ নিম্ন আয়ের দেশ থেকে মধ্য আয়ের দেশে পরিণত হলেও সাধারণ মানুষের জীবনে তার প্রভাব খুব কমই পড়েছে. একটি দেশের মুদ্রাস্ফীতি এবং বৈদেশিক মুদ্রার সংকট যে কতটা ভয়াবহ হতে পারে অন্যতম উদাহরণ শ্রীলংকা. শ্রীলংকার পরিস্থিতি এতটা ভয়াবহ যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য এবং জ্বালানি তেল কেনার মতো টাকাও নেই সরকারের কাছে. তার উপর হাজার হাজার কোটি টাকার বৈদেশিক ঋণ তো আছেই. অপরিকল্পিত উন্নয়ন আর বেপরোয়া ঋণ গ্রহণের কারণে দেশটি আজ দেউলিয়া হবার পথে.       

মন্তব্যসমূহ

Blog Posts

লুসিড ড্রিম কাকে বলে ? লুসিড ড্রিম কিভাবে দেখতে হয় ?

 স্বপ্ন নিয়ন্ত্রণ করার কথা ভেবেছেন কখনো? নিশ্চয়ই ভাবছেন জেগে জেগে দিবাস্বপ্ন দেখার কথা বলছি না তো? কিন্তু না, রীতিমতো ঘুমিয়ে দেখা স্বপ্নও নিয়ন্ত্রণের কথাই বলছি, আপনার ইচ্ছামত স্বপ্ন দেখবেন। ইচ্ছা মতো নিয়ন্ত্রণ করবেন। আর পছন্দ না হলে অর্থাৎ দুঃস্বপ্ন দেখা শুরু করলে সেটার গতিপথ পাল্টে দেবেন একেবারে নিমেষে। আধুনিক বিজ্ঞানের ভাষায় এটা খুবই সম্ভব একে বলা হয় লুসিভ ড্রিম। লুসিড ড্রিমিং এর সাথে আপনারা অনেকেই হয়তো পরিচিত আছেন। অনেকে পরিচিত থাকলেও হয়তো এটা কেন হচ্ছে বা কিভাবে হচ্ছে তা নিয়ে বেশ দ্বিধা দ্বন্দ্বে আছে এসবেরই উত্তর মিলবে আজকের এই লিখাতে।   লুসিড ড্রিম অর্থ কি? সহজ বাংলায় অনুবাদ করতে গেলে বলা যায় লুসিড অর্থ পরিষ্কার. অর্থাৎ স্পষ্ট আর dream মানে তো আমরা সবাই জানি যে স্বপ্ন। লুসিড ডিম হলো সেই স্বপ্ন যে আমাদের স্পষ্ট ভাবে মনে থাকে এবং স্বপ্ন চলাকালীন সময়েও আমরা এ উপলব্ধি করতে পারি যে এটি বাস্তব নয় বরং এটি স্বপ্ন কিন্তু শুধুমাত্র আক্ষরিক অর্থ দিয়ে লুসিড ড্রিম ব্যাখ্যা করলে ভুল হবে একটু অন্যভাবে বলা যাক ।  মনে করুন স্বপ্নে আপনি কি পাহাড়ের উপর থেকে দ্রুত গ...

সারোগেসি কি ?

সারোগেসির মাধ্যমে সন্তান ধারণ করা নিয়ে এখনো বহু বিতর্ক আছে. শুধু আমাদের দেশে নয়, সারা বিশ্বেই এই পদ্ধতি নিয়ে তর্ক বিতর্কের শেষ নেই.  এটার আইনি প্রক্রিয়াও জটিল। কারণ এটি একেক রাষ্ট্রে. শারোগেসি আইন একেক রকম. নারী মা হবেন প্রাকৃতিক নিয়ম সমাজ এমনটাই দেখতে অভ্যস্ত. কিন্তু কোন কারণে মা হবার ক্ষমতা না থাকলে তাকে পরিবার ও আশপাশ থেকে যে পরিমাণ কটু কথা শুনতে হয় তা সাধারণ মানুষের ধারণারও বাইরে.   সরোগেসি বিষয়টি কি? চিকিৎসা শাস্ত্রের অগ্রগতি এমন মায়েদের সামনে এনেছে যারা গর্ভ ভাড়া দিয়ে নিজে বাঁচেন অন্যদের মাতৃ সুখ দেন । একজন নারীর গর্ভে অন্য দম্পতির সন্তান ধারণের পদ্ধতিকে সারোগেসি বলা হয়.সারোগেসির এই  পদ্ধতি বেশ দীর্ঘকালীন. আইভিএফ পদ্ধতিতে স্ত্রী ও পুরুষের ডিম্বাণু শুক্রাণু দেহের বাইরে নিষিক্ত করে তা নারীর গর্ভাশয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়. কিন্তু এখানেও জটিলতা. কেন? সে বিষয়ে পরে আসছি. বাংলাদেশ সহ বহু দেশই এই সারোগেসি একরকম ভাবে নিষিদ্ধ. সুতরাং বিষয় টি  সংবেদনশীল. এমনকি বেশিরভাগ ধর্মেও রয়েছে নিষেধাজ্ঞা. চলুন কথা বলি সারোগেসি মাদার সম্পর্কে। আইভিএফ বা টেস্ট টি...

ন্যানো টেকনোলজি কিভাবে কাজ করে ?

  যদি বলি আপনার চোখ দেখতে পারে না এমন গভীর ও প্রায় অনাবিষ্কৃত একটা পৃথিবী আছে. হয়তো বলতে পারেন যে মহাবিশ্বে কত গ্রহই তো আছে? সব খোঁজ কি আমরা পেয়েছি? কিন্তু যদি বলি আমাদের এই পৃথিবীর ভেতরে আরো একটি জগত আছে এবং যে জগৎ ছড়িয়ে আছে আমাদের গোটা বিশ্ব জুড়ে. এইবার হয়তো নড়েচড়ে বসবেন. হ্যাঁ আমাদের চোখের সামনেই রয়েছে এমন এক রাজ্য যে আমরা খালি চোখে দেখতে পাই না. এটাকে বলা হয় অণুবীক্ষণিক বিশ্ব. এই অণুবীক্ষণই বিশ্ব প্রচন্ড আকর্ষণীয় ও চমকে দেওয়ার মতো. কি কি ঘটছে এখানে তা আমার আপনার কল্পনারও বাইরে. এটা যেন কোনো ভিন গ্রহ বাসীদের রাজ্য. সম্ভাবনার দুয়ার খুলে রাখা আছে এই অণুবীক্ষণিক বা nano বিশ্বে.  ন্যানো কি ন্যানো হলো পরিমাপের একক। এক মিটারের একশো কোটি ভাগের এক ভাগ হচ্ছে এক ন্যানো। আর ন্যানো টেকনোলজি হলো বিজ্ঞানের এই অতি ক্ষুদ্র স্তরে একটা কিছু তৈরী করা আসলে শুধু তৈরি করা না. ন্যানোমিটার স্কেলে পরিবর্তন, পরিবর্তন, ধ্বংস বা সৃষ্টি সম্পর্কিত টেকনোলজিকেই ন্যানো টেকনোলজি বলে. অর্থাৎ ন্যানোমিটার স্কেলে পরিমিত যেকোনো বিষয়ে বহুমাত্রিক টেকনোলজিকে ন্যানো প্রযুক্তি বা ন্যানো টেকনোলজি বলা যে...

পেগাসাস স্পাইওয়ার কি ?

গত কিছুদিন ধরেই বিশ্ব রাজনীতি এবং প্রযুক্তি জগৎ এই দুই জায়গাতেই আলোচনার বিষয়বস্তু একটাই। সেটা হচ্ছে পেগাসাস স্পাইওয়ার. বিশ্বজুড়ে নানান দেশের মানবাধিকার কর্মী সাংবাদিক আইনজীবী ও রাজনীতিকদের ফোনের নজরদারি চালানোর ঘটনা ফাঁস হওয়ার পর ইজরায়েলের বেসরকারি কোম্পানি nso গ্রুপের তৈরি করা এই সফটওয়্যার নিয়ে এখন তুমুল তরজা চলছে দুনিয়া জুড়ে । চলুন কথা বলি দুনিয়া ওলট পালট করে দেওয়া স্পাইওয়ার সম্পর্কে । পেগাসাস মূলত একটি নজরদারি বিষয়ক সফটওয়্যার । ইজরাইলের সংস্থা এনএসও ই সফটওয়্যার তৈরি করেছে। যা দিয়ে যে কারো মোবাইলে আড়ি পাতা যায়. এটা কিন্তু সাধারণ কোন নজরদারি নয়. আগে ফোনে আড়ি পেতে শুধু দুই প্রান্তের কথাবার্তা শোনা যেত. আর সফটওয়্যারের মাধ্যমে গোটা ফোনটারই নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় হ্যাকাররা. ফোনের কথাবার্তা WhatsApp এর চ্যাট, ছবি, ফোনে কি কি তথ্য আছে সবই জানা যায়. আরো ভয়ানক ব্যবহার হচ্ছে মোবাইল যিনি ব্যবহার করছেন তিনি জানতেই পারেন না যে তার ফোন হ্যাক করা হয়েছে. সমস্ত তথ্য পাচার হয়ে যাচ্ছে নির্দিষ্ট একটি গোষ্ঠীর কাছে. কিন্তু কারো ফোনে পেগাসাস software install করতে হলে তো সেই ফোনটাকে...

রেট রেস কি ?

      আপনি ঠিক কখন ইঁদুর দৌড়ে যোগ দিয়েছেন এটা হিসাব করা কঠিন. কিন্তু নিশ্চিত থাকুন আপনি এই দৌড়ে আছেন. ক্লাস eight এ পড়ার সময়ের কথা মনে আছে? সামনে বৃত্তি পরীক্ষা পাটিগণিত বীজগণিতের অংক প্যাঁচ লাগাচ্ছে বিজ্ঞানের জটিল সব সূত্র ভোরে ওঠে প্রাইভেট টিউটরের বাসায় ছোটা রাত জেগে পড়াশোনা. বয়সের তুলনায় অনেক বেশি কর্ম ব্যস্ত একটা সময় নিশ্চয়ই কাটিয়েছেন তখন? আমরা সবাই কাটিয়েছি. সেই সময় নিশ্চয়ই অভিভাবক বলেছে এই তো আর কটা দিন. বৃত্তি পরীক্ষা শেষ হলেই জীবন শান্তি আর শান্তি. জীবনের নানা এপিসোডে আপনি এই কথাগুলো শুনেছেন অনেকবার অনেকের মুখে. এসএসসি পরীক্ষাটা দাও, কলেজে উঠলেই তো স্বাধীনতা. একবার ভার্সেটিতে উঠতে পারলেই জীবন হবে আনন্দে ভরপুর. একবার জব লাইফে ঢোকো. নিজের টাকায় আয়েশ করার মজাই অন্যরকম. শুনেছেন না এসব?  বয়স ঘড়ির ত্রিশের প্রান্তে দাঁড়িয়ে হিসেবগুলো মেলাতে পারেন কি? কি মনে হয়? এই এপিসোডগুলোর কোনোটা পার হবার সময় জীবন খানিকটা হলেও সহজ হয়েছে? সুন্দর হয়েছে? হয়নি, হবেও না, মিথ্যা একটা মরীচিকার আশায় আমরা ছুটেছি ঠিকই আমাদের ছোটানো হয়েছে, কিন্তু হিসাব মেলেনি ছুটত...

ম্যান্ডেলা ইফেক্ট কেনো হয়?

   আচ্ছা নিজের স্মৃতি শক্তির উপর কতটা বিশ্বাস আছে আপনার? আচ্ছা বাদ দিয়ে আপনার কথা. গণমানুষের স্মৃতিশক্তির উপর নিশ্চয়ই বিশ্বাস আছে অনেকটা. না না. ধর্মীয় কোন বিশ্বাস না. এই গ্রহে ঘটে যাওয়া এমন সব ঘটনা. যা সবাই জানে. তা কি রকম মিথ্যা? এক দশক আগেও পৃথিবীর প্রায় এক তৃতীয়াংশ মানুষ জানতো যে অস্ট্রেলিয়ার রাজধানীর নাম সিডনি. আসলে কি তাই? গত এক দশকে এই ধারণা মোটামুটি পরিবর্তন হয়ে মানুষ জেনেছে অস্ট্রেলিয়ার রাজধানীর নাম ক্যানভেরা. এখনো এই ভুল হরমামেশাই করে যাচ্ছে মানুষ. বিশ্বাস না হলে আশেপাশের কিছু মানুষকে জিজ্ঞেস করে দেখতে পারে. প্রশ্ন করতে পারেন ম্যান্ডেলার নাম কেন? এই ফ্ললস মেমোরি সিন্ড্রোমকে ম্যান্ডেল এফেক্ট নামকরণ করেছেন প্যারানরমাল কনসালটেন্ট ফীয়না ব্রুম তার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে । দু হাজার দশ সালের এক আলোচনা সভায় উঠে আসে দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদ বিরোধী আন্দোলনের নেতা উনিশশো আশি সালে কারা জানে মারা যাওয়ার প্রসঙ্গ । অনেকেই সেদিন বলেছিল, টিভিতে এই নেতার শেষকৃত্যের আনুষ্ঠানিকতা দেখার অভিজ্ঞতার কথা. ম্যান্ডেলার স্ত্রীর হৃদয় নিন্দারও ভাষণের কথা উল্লেখ করেছিলেন কেউ কেউ. এমনক...

কিভাবে লিমিটলেস হওয়া যায় ? লিমিটলেস আসলে কিভাবে কাজ করে ?

এনজিটিপিল,  এটা এমন এক পিল যা আপনাকে করবে আল্ট্রা ফোকাসড. দেবে দুর্দান্ত মোটিভেশন. বের করে আনবে আপনার সর্বোচ্চ সম্ভাবনা. আপনি হয়ে উঠবেন আনস্টপল. বাস্তবতা পাবে প্রতিটি স্বপ্ন. কিন্তু সমস্যা হচ্ছে এমন কোন পিলের অস্তিত্ব নেই. ফলাফল আপনি আটকে আছেন একটি খাদে. সারাক্ষণ ক্লান্তি নিয়ে হয়ে উঠছেন আনপ্রোডাক্টিভ. নষ্ট হচ্ছে ক্রিয়েটিভিটি. সময় গড়িয়ে যায়. ঋতুর পরিবর্তন ঘটে. কিন্তু আপনি ডুবে থাকেন এক হতাশায় যাতে আপনি দিন দিন পিছিয়ে পরছেন. আপনি যা যা এতদিন অর্জন করবেন ভেবেছিলেন তা কিছুই আপনি অর্জন করতে পারেননি । নিজেকে সান্তনা দিচ্ছেন আগামীকাল হবে ভিন্ন। কিন্তু তা কখনোই হয়ে ওঠে না এখন যদি আপনাকে বলি কোনো জাদুকরী পিলের সাহায্যে নয় বাস্তবিক লিমিটলেস হয়ে ওঠা সম্ভব।  একদম প্রমাণিত পদ্ধতিতে যা একেবারে ফ্রিতে ব্যবহার করা সম্ভব.  তো আছেন তো শেষ পর্যন্ত ?  Limit less হওয়ার যাত্রায় ।  স্টেপ ওয়ান : এনার্জি--  মাত্র কয়েক মাস আগে আমি নিজেও আপনার মতো কর্মশক্তিহীন অনুভব করতাম. সামান্য কাজেই আসতো অবসন্নতা, গেয়ে ধরতো ক্লান্তি একদিন হঠাৎ টের পেলাম আমি নিজেই নিজের energy নি...

প্রযুক্তি দুনিয়াতে পর্দার আড়ালে থেকে যাওয়া এক প্রতিভাবান এর গল্প ।

পর্দার আড়ালে একা খেলে যাচ্ছেন একজন. কামাচ্ছেন বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার. অথচ তাকে চেনে খুব কম সংখ্যক মানুষ. আইটি জগতে ইলন মাস্ক, জেফ বোজোস বা বিট গ্রেটসের সাথে তার নামও সমান তালে চলার কথা ছিল. কিন্তু বিহাইন্ড দা সিনে একা গোল করে যাচ্ছেন তিনি. নাম ড্রোন ইয়াং পিং ড্রোন ইয়াং পিং নামটি মোবাইল ফোনের জগতে খুবই কম মানুষের শোনা. তবে তার নাম অজানা থাকলেও তার কোম্পানি বিবিকে ফোন গিগদের মধ্যে বেশ পরিচিত. ওয়ান প্লাস, রিয়েলমি, অপো, ভিভো এবং আইকিউ. এই পাঁচটি জনপ্রিয় মোবাইল ব্র্যান্ডের একক মালিক ডোন ইয়াং পিন.  এই ব্র্যান্ড গুলো তার কোম্পানিতে পরিণত করেছে বর্তমানের সবচেয়ে বড় মোবাইল ফোন উৎপাদনকারী কোম্পানিতে. অ্যাপেল , শাওমি বা স্যামসাং যারা মোবাইল ফোনের জগতে বর্তমানে সবচেয়ে বড় ব্র্যান্ড তাদেরকেও পেছনে ফেলে এগিয়ে গিয়েছে বিবিকে কোম্পানি। কিন্তু এত সফলতার সত্ত্বেও বেশিরভাগ মোবাইল ফোন ব্যবহারকারী এমনকি ফোন গিগরাও তার সম্পর্কে বলতে গেলে তেমন কিছুই জানে না. এলেন মাস্ক, স্টিভ জবস বা জ্যাকমা, যারা কিনা টেকনোলজির জগতে খুবই পরিচিত তাদের সম্পর্কে অনলাইনে  অগণিত তথ্য রয়েছে। কিন্তু ডন ইয়ং পিং এর...

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কি ? আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কতটা ভযঙ্কর হতে পারে আগামী দিনের জন্য ?

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বহুল চর্চিত এবং ব্যবহৃত একটি শব্দ. মানুষের বুদ্ধিমত্তা ও চিন্তা শক্তিকে কম্পিউটার প্রোগ্রামিং এর মাধ্যমে মেশিন ল্যাঙ্গুয়েজে স্থাপন করা টেকনোলজিটাই হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স । এর মাধ্যমে কোন যন্ত্র নির্দিষ্ট প্রোগ্রামের আওতাধীন কিছু কাজ নিজে থেকেই করতে পারে নিজে নিজে সিদ্ধান্ত নিতে পারে।  টার্মিনেচার টাইপের কোনো সাইফাই সিনেমার গুরু বন্ধুর সংলাপ নয়।  A.I নিয়ে ভবিষ্যৎবাণী করেছিলেন পৃথিবীর সেরা বিজ্ঞানীদের একজন স্টিফেন হকিং আমার ভয় হয় তারা সত্যিই হয়তো একদিন মানুষকে হটিয়ে নিয়ন্ত্রকের আসনে বসে যাবে। বেঁচে থাকতেই BBC কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স তথা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে এভাবেই সবাইকে সতর্ক করেছিলেন তিনি। হকিংসের এই ভয় এখনো ভবিষ্যতের বিষয় হলেও অমূলক নয় মোটেও যন্ত্রকে বুদ্ধিমান করে তার আশীর্বাদ অনেক আছে। কিন্তু দীর্ঘ মেয়াদে সেই যন্ত্রই পৃথিবীর দখল নিতে চলেছে কিনা স্বয়ং সম্পূর্ণ হয়ে মানুষকেই বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে একদিন অপদার্থ তে পরিণত করবে কিনা সেই প্রশ্নটা উঠছে বারবার।  যুক্তরাষ্ট্রে...

মিনিমালিজম কি ? কিভাবে মিনিমালিস্ট হওয়া যায় ?

মিনিমামলিজম এই ধারণাটি বিগত কয়েক বছরে বেশ জনপ্রিয়তা লাভ করেছে এবং এর যথেষ্ট কারণও আছে. এই পুরো ব্যাপারটা কি? সেটাকে সঙ্গায়িত করা যায় এভাবে যে,  মিনিমালিজম হচ্ছে যা আমাদের জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সেগুলোকে ধারণ করা এবং বাকি সব কিছু যা আমাদের দৃষ্টিকে অন্যদিকে সরিয়ে নেয় সেগুলোকে ইচ্ছাকৃতভাবে ত্যাগ করা।   অর্থাৎ কোন কোন বিষয়ে জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং কোন জিনিসগুলোকে আমাদের কাছে সবচেয়ে মূল্যবান সেই সম্পর্কে একটা পরিষ্কার ধারণা থাকা এবং বাকি সব ত্যাগ  করে দেয়. সেগুলো নিয়েই জীবন ধারণ করা. কিন্তু এমন সংজ্ঞায়ন সত্ত্বেও minimalism কোন ধরাবাধা জীবন ব্যবস্থা নয় বা মিনিমালিস্ট হতে হলে কোন নির্দিষ্ট মানদণ্ড মেনে চলতে হবে এরকমটিও কিন্তু নয়. মিনিমালিস্ট লাইফ স্টাইল এমন একটি বিষয় যা প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য স্বতন্ত্র। এক্ষেত্রে মূল বিষয়টি হচ্ছে সত্যিকার অর্থে কোন কোন বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও প্রয়োজনীয় সেই সম্পর্কে একটা পরিষ্কার ধারণা নিয়ে সেই অনুযায়ী জীবন ধারণ করা. প্রিয় দর্শক চলুন দেখি মিনিমালিজম কিভাবে আপনার জীবনধারা বদলে দিতে পারে।  মিনিমালিস্ট জীবন অবশ...