সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

মার্ফির সূত্র কি ? এটি কিভাবে কাজ করে ?

  অফিসে যেতে আপনার যেদিন বেশি দেরি হয়ে যাবে দেখা যাবে সেদিনই দেখবেন আপনি দরজা লক করবার সময় চাবি খুঁজে পাচ্ছেন না । তারপর অনেকটা পথ চলে আসার পরে খেয়াল হবে যে তাড়াহুড়োয় মোবাইল ফোন বা প্রয়োজনীয় ফাইল বাসাতেই ভুলে এসেছেন এবং সচারাচল ফাঁকা থাকে এমন রাস্তাতেও সেদিন রাজ্যের জ্যাম লেগে আছে। অর্থাৎ যেভাবে যেটা হওয়ার কথা কিছুতেই সেভাবে সেটা হচ্ছে না. 

কিন্তু এমন ঘটনা তো আমাদের জীবনে হর হামেশাই ঘটে. তবে এরও যে কোন ব্যাখ্যা থাকতে পারে তা কি আপনার কখনো মনে হয়েছে? না হয়ে থাকলে মার্ফির সূত্রে আপনাকে স্বাগত. চলুন কথা বলি মার্ফি সাহেবের সূত্র নিয়ে. মারফি সূত্রে বলে যে ইফ এনিথিং ক্যান গো রং ইট উইল. অর্থাৎ কোন কিছু ভুল হওয়ার থাকলে তা অবশ্যই ভুল হবে। ধরুন আপনি কোন একটি কাজ করতে যাচ্ছেন এবং এতে কোন রকম ভুল হবার সমূহ সম্ভাবনা খুবই কম. কিন্তু কাজটি করার পর দেখা গেল যে আপনি ভুল করে ফেলেছেন. অথবা লেখালেখির খুব ভালো অভ্যাস থাকা সত্ত্বেও দেখা যাবে যে কেবল দরখাস্ত বা চিঠি লিখবার সময় আপনার ঘন ঘন বানান ভুল হচ্ছে. তখন আপনি আপন মনেই বলে উঠলেন শুধু কি আমার সাথেই এমনটা হতে হয়?  অথচ অন্যান্য সময় যে কত সুন্দর এবং নির্ভুত উপায়ে লিখেছেন সেই ইতিবাচক দিকটিকে উপেক্ষা করে গেলেন।  এটাই হচ্ছে মার্ফির  সূত্র.

 মারফির সূত্র আমাদের ইতিবাচক দিক থেকে সরিয়ে নিয়ে গিয়ে নেতিবাচক দিকে বেশি বেশি মনোযোগ স্থাপন করার বিষয়টিতে আলোকপাত করে এবং গণিতের সম্ভাবনার সাহায্য নিয়ে বের করে. যে যা হবার তা হবেই. 

প্রশ্ন হচ্ছে মারফির সূত্রটা কি? আসলেই সূত্র? মার্ফির সূত্রটি আসলে সূত্র না ডেকে বরং দার্শনিক মতবাদ বা হেপথ অ্যাসিস্ট ডাকাটা বেশি যুক্তিযুক্ত. আবার এই সূত্রের উপসূত্র অসংখ্য. এমন নয় যে এই সূত্র খুব বেশি নতুন. ক্যাপ্টেন এন্ড্রয়েড মার্ফি থেকে এর নামকরণ হলেও এর পূর্বেও অনেক জায়গায় এর উল্লেখ ছিল. জাদুঘর এডামহল ঊনিশশো-আঠাশ সালে তার এক প্রবন্ধে মার্ফির মত করেই লেখেন কোন জাদুতে যেগুলো ভুল হবার সেগুলো ভুল হবে. এমনকি ব্রিটেনে এটি সফটস ল নামেও পরিচিত. মারফির সূত্রটি আলোচিত করে তোলেন স্বয়ং ক্যাপ্টেন এডওয়ার্ড মার্ফি নিজে. ইনিও রয়েছে নানা ধরনের গল্প.

 তবে যে গল্প সবচেয়ে বেশি বিশ্বাসযোগ্য. চলুন সেটা নিয় কথা বলি. উনিশশো ঊনপঞ্চাশ খ্রিস্টাব্দে আমেরিকার নিউরোকফিল্ড এয়ার বেইজে উড়োজাহাজ নিয়ে পরীক্ষা চালানোর সময় একটি প্রকল্প গঠন করা হয়. পরীক্ষাটি ছিল গ্রাভিটি নিয়ে যে একজন পাইলটের পক্ষে একেবারে কত অভিকর্ষণ সামলানো সম্ভব. সহজ করে বলতে গেলে তীব্র গতিতে ছুটতে থাকা উড়োজাহাজে হুট করে ব্রেক করলে সেই প্রক্রিয়ার সঞ্জত বল মানুষের পক্ষে কতদূর সহনীয় হতে পারে । সেই প্রকল্পের সঙ্গে জড়িত ছিলেন একজন ডাক্তার ক্যাপ্টেন জন ফলস স্টাফ আরেকজন ইঞ্জিনিয়ার ক্যাপ্টেন এডওয়ার্ড মারফি । বলের ঠিক মতো পরিমাপের জন্য এডওয়ার্ড একজন সহকারীকে নির্দেশ দিলে ব্রেকের ক্লান  বা বন্ধনের গায়ে একটি স্ট্রিম কেস লাগাতে । এক শিম্পাঞ্জিকে সোয়ারী করে দ্রুত থামানোর একটি পরীক্ষাও করা হলো কিন্তু দেখা গেলো পরীক্ষার যন্ত্র কোনো রিডিং এ দেখাচ্ছে না। সবকিছু চেক করে বোঝা গেল সহকারীটি রকেটস লেজের সবগুলো সেন্সর ভুল ভাবে বসিয়ে রেখেছে. রাগ আর ক্ষোভে এডুয়ার্ড মার্ফির  মন্তব্য করেছিলেন যে যদি একটি কাজ করার দুটি উপায় থাকে এবং এক উপায় করলে সেটি ভুল হবে এই সহকারীটি অবশ্যই সেই উপায়ই করবে. 

এর কিছু সময় পরেই ক্যাপ্টেন মার্ফি  রাইটিয়ার ফিল্ডে চলে যান. কিন্তু ডক্টর জন পল স্টপ মারফির কথাটিতে একটি ভিন্ন সূত্র খুঁজে পান. পরবর্তীতে এক প্রেস কনফারেন্সে তিনি বলেন মার্ফির সূত্র সম্পর্কে সজাগ থাকার কারণে প্রকল্প চলাকালীন তাদের দলটিকে কোন বিপদের সম্মুখীন হতে হয়নি. এরপরেই এটি সাধারণ মানুষের কাছে তুমুল জনপ্রিয় হয়ে ওঠে এবং উনিশশো-সত্তর সালে এর ওপরে একটি বইও লেখা হয়. এরপর মারফেস সূত্রে আরো বিভিন্ন ধারণা যোগ করে একে বর্ধিত করা হয়. এখন আপনাদের মনে হতে পারে যে এটি তো খুব সামান্য একটা উক্তি বা মতবাদ. এমনটা তো হর হামেশাই আমরা বলে থাকি.

 তাহলে মারফির সূত্রটি জনপ্রিয়তা লাভ করবার বা নথিভুক্ত হয়ে থাকার পেছনে কারণটা কি? রকেটস লেজের সেন্সরগুলোর দুটো কানেক্টেড ছিল. অর্থাৎ পঞ্চাশ শতাংশ সম্ভাবনা ছিল ঠিক লাগানোর. কিন্তু ভুলকে বড় করে কেন দেখা হল? সবচেয়ে ভালো ব্যাখ্যা হচ্ছে আমরা যাকে বলি অদৃষ্টের পরিণতি. ভাগ্যে যে লেখা আছে তাই হবে। ভাগ্যের কাছে আমাদের সব কিছুই ক্ষমতাহীন। এই চিন্তাধারা আমাদেরকে নিয়ন্ত্রণ করে। কিন্তু ভাগ্যের লিখনের সাথে সাংঘর্ষিক একটি ব্যাপার হচ্ছে আমাদের স্বাধীন ইচ্ছা। অর্থাৎ আমরা যাই করি না কেন আমাদের প্রতিটি কাজ এবং তার ফলাফল আমরা নিজেরাই বয়ে আনি। এই দুটি ব্যাপারকে যদি আমরা একসাথে জুড়ে দিই তাহলে মাররফির সূত্রের একটা ব্যাখ্যা দাঁড়ায়. এই সূত্র বলে যা ভুল করবার তা আমরা বারবার করবো. কিন্তু এই ভুল করার ইচ্ছাটা কিন্তু নিজেদের থেকেই আসে. অপরপক্ষে মারফির সূত্র বলে দেয়. যে আমরা নিজেদের ওপর কতটা নিয়ন্ত্রণহীন. অফিসে যেদিন যেতে দেরি হয়ে যায় সেদিন জ্যামে পড়লে আমরা নিজের ভাগ্যকে দোষারোপ করি. মাফির সূত্রটি নেহাইয়ের মতবাদ বা হাইপোথিসিস হলেও তাপ গতিবিদ্যার সাথে এর একটা সম্পর্ক রয়েছে. থার্মোডেনামিক্সের দ্বিতীয় সূত্র জগতের এন্ট্রি বৃদ্ধির কথা বলে.     


এটা শর্তসিদ্ধ যে তাপ শক্তিকে সহজে কাজে রূপান্তর করা যায় না. তাপ শক্তিকে কাজে রূপান্তরের জন্য প্রয়োজন যন্ত্রের. এরকম যন্ত্র তাপ ইঞ্জিন নামে পরিচিত. বিজ্ঞানীরা কার্ণ তাপ ইঞ্জিন নিয়ে ব্যাপক গবেষণা করেন এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন যে তাপকে সম্পূর্ণ কাজে রূপান্তর করা সম্ভব না. অর্থাৎ জগতে বিশৃঙ্খলা বাড়তে থাকবে. সেই দিক বিবেচনায় এই সূত্র সঠিক। সূত্রের মতে বাইরের শক্তির সাহায্য ছাড়া কোন স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রের পক্ষে নিম্ন তাপমাত্রার কোন বস্তু থেকে উচ্চ তাপমাত্রায় কোন বস্তুতে তাপের স্থানান্তর সম্ভব নয়. এই সূত্র ধারণা দেয়, 

কিভাবে শক্তি এক রূপ থেকে অন্য রূপে রূপান্তরিত হয়. আর এখানেই সৃষ্টি হয় জটিলতা. আমরা কখনো এমন কিছু তৈরি করতে পারবো না যেখানে শতভাগ ইনপুট দিলে শতভাগ আউটপুট পাওয়া যাবে. অর্থাৎ কিছু শক্তি আমরা সব সময়ই হারাবো. এদিকে থেকে একটি ধারণা তৈরি হয় যে পৃথিবীর সব ব্যবস্থাতেই শক্তির বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়. যা প্রতিনিয়ত হচ্ছে. এটি এড়ানোর কোন উপায় নেই. মার্ফির সূত্রের গানিতিক বিশ্লেষণও করেছেন ব্রিটিশ কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োলজিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার জুয়েল বেল. তার ফর্মুলা মারফির সূত্র জড়িত ঘটনা ঘটার সম্ভাব্যতা অনুমান করে কোনো সিস্টেম বা ব্যাবস্থায় স্ত্রুটি মুক্ত নয় তা ব্যর্থ হতে পারে এর অর্থ সেটি পুনরায় করতে হবে বার বার ভুল হলেও এগিয়ে যেতে হবে । সাধারণ কিছু কথাতে মার্ফিস law কিছু অসাধারণ কথা বলে যেমন কোনো কোন কাজ অতি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হতে দেখলে নিশ্চিত থাকুন. কোথাও না কোথাও গরমিল অবশ্যই ঘটছে. যা এখনো আপনি খেয়াল করেননি. অর্থাৎ সব কিছুই পরিপাটি মনে হয়. তাহলে ইতিমধ্যেই ভুল যা হওয়ার তা হয়ে বসে আছে.


খুব দুঃখেও ভেঙে পড়বেন না. চরম শোচনীয় অবস্থা এখনো আসেনি. প্রতিটি সমাধান থেকে নতুন সমস্যার উদ্ভব হয়. যে কোন কাজ শেষ করতে অনুমানের চেয়ে বেশি সময় লাগে. একটি পতনশীল বস্তু সর্বদাই এমন জায়গায় পতিত হবে যেখান থেকে সবচাইতে বেশি ক্ষতিসাধন সম্ভব. সবই আপনাকে মেনে নিতে হয়. হবেই. আপনি জানুন আর  নাই জানুন । মারফির সূত্র তার  কাজ করে চলেছে। যেই মার্ফির নামে এই সূত্র তার মৃত্যুর গল্পটাও তারই সূত্রের অনুসরণ করেই রচিত হয়েছে । কথিত আছে গাড়ির পেট্রোল ফুরিয়ে যাওয়ায় তিনি সাদা পোশাক পরে সন্ধ্যার অন্ধকারে রাস্তার ডান ধারে দাঁড়িয়ে যখন হিচাইকিং এর চেষ্টা করছিলেন তখন এক ব্রিটিশ টুরিস্ট উল্টো দিক থেকে গাড়ি চালিয়ে এসে তাকে ধাক্কা মারে । বলাই বাহুল্য যে ব্রিটেনে বাঁদিক ঘেঁষে গাড়ি চালানোর আইনটি আমেরিকার আইনে ভুল । আমেরিকায় ডানদিক ঘেঁষে গাড়ি চলে। আর সেদিনের চালকের সেই ভুল সংগঠিত হওয়ার ফলেই ভুলের সূত্রের জনক মার্ফর মৃত্যু হয়।    

 

  

মন্তব্যসমূহ

Blog Posts

পেগাসাস স্পাইওয়ার কি ?

গত কিছুদিন ধরেই বিশ্ব রাজনীতি এবং প্রযুক্তি জগৎ এই দুই জায়গাতেই আলোচনার বিষয়বস্তু একটাই। সেটা হচ্ছে পেগাসাস স্পাইওয়ার. বিশ্বজুড়ে নানান দেশের মানবাধিকার কর্মী সাংবাদিক আইনজীবী ও রাজনীতিকদের ফোনের নজরদারি চালানোর ঘটনা ফাঁস হওয়ার পর ইজরায়েলের বেসরকারি কোম্পানি nso গ্রুপের তৈরি করা এই সফটওয়্যার নিয়ে এখন তুমুল তরজা চলছে দুনিয়া জুড়ে । চলুন কথা বলি দুনিয়া ওলট পালট করে দেওয়া স্পাইওয়ার সম্পর্কে । পেগাসাস মূলত একটি নজরদারি বিষয়ক সফটওয়্যার । ইজরাইলের সংস্থা এনএসও ই সফটওয়্যার তৈরি করেছে। যা দিয়ে যে কারো মোবাইলে আড়ি পাতা যায়. এটা কিন্তু সাধারণ কোন নজরদারি নয়. আগে ফোনে আড়ি পেতে শুধু দুই প্রান্তের কথাবার্তা শোনা যেত. আর সফটওয়্যারের মাধ্যমে গোটা ফোনটারই নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় হ্যাকাররা. ফোনের কথাবার্তা WhatsApp এর চ্যাট, ছবি, ফোনে কি কি তথ্য আছে সবই জানা যায়. আরো ভয়ানক ব্যবহার হচ্ছে মোবাইল যিনি ব্যবহার করছেন তিনি জানতেই পারেন না যে তার ফোন হ্যাক করা হয়েছে. সমস্ত তথ্য পাচার হয়ে যাচ্ছে নির্দিষ্ট একটি গোষ্ঠীর কাছে. কিন্তু কারো ফোনে পেগাসাস software install করতে হলে তো সেই ফোনটাকে...

প্রযুক্তি দুনিয়াতে পর্দার আড়ালে থেকে যাওয়া এক প্রতিভাবান এর গল্প ।

পর্দার আড়ালে একা খেলে যাচ্ছেন একজন. কামাচ্ছেন বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার. অথচ তাকে চেনে খুব কম সংখ্যক মানুষ. আইটি জগতে ইলন মাস্ক, জেফ বোজোস বা বিট গ্রেটসের সাথে তার নামও সমান তালে চলার কথা ছিল. কিন্তু বিহাইন্ড দা সিনে একা গোল করে যাচ্ছেন তিনি. নাম ড্রোন ইয়াং পিং ড্রোন ইয়াং পিং নামটি মোবাইল ফোনের জগতে খুবই কম মানুষের শোনা. তবে তার নাম অজানা থাকলেও তার কোম্পানি বিবিকে ফোন গিগদের মধ্যে বেশ পরিচিত. ওয়ান প্লাস, রিয়েলমি, অপো, ভিভো এবং আইকিউ. এই পাঁচটি জনপ্রিয় মোবাইল ব্র্যান্ডের একক মালিক ডোন ইয়াং পিন.  এই ব্র্যান্ড গুলো তার কোম্পানিতে পরিণত করেছে বর্তমানের সবচেয়ে বড় মোবাইল ফোন উৎপাদনকারী কোম্পানিতে. অ্যাপেল , শাওমি বা স্যামসাং যারা মোবাইল ফোনের জগতে বর্তমানে সবচেয়ে বড় ব্র্যান্ড তাদেরকেও পেছনে ফেলে এগিয়ে গিয়েছে বিবিকে কোম্পানি। কিন্তু এত সফলতার সত্ত্বেও বেশিরভাগ মোবাইল ফোন ব্যবহারকারী এমনকি ফোন গিগরাও তার সম্পর্কে বলতে গেলে তেমন কিছুই জানে না. এলেন মাস্ক, স্টিভ জবস বা জ্যাকমা, যারা কিনা টেকনোলজির জগতে খুবই পরিচিত তাদের সম্পর্কে অনলাইনে  অগণিত তথ্য রয়েছে। কিন্তু ডন ইয়ং পিং এর...

ডিপ্রেশন কি ? এটা কত প্রকার ? বাইপোলার ডিসঅর্ডার কি ?

আজকাল খুব কমন একটা শব্দ ডিপ্রেশন. যার বাংলা অবসাদ । ডিপ্রেশনের সাথে সাথে পরিচিত হয়ে উঠছি আমরা মুড সুইং শব্দটার সাথেও । এই জেনারেশনের কারো সোশ্যাল মিডিয়ায় ডিপ্রেশনে না ভোগাটাই যেন বিরাট অপমানজনক। সবাই কেন যেন অস্থির হয়ে আছে বোঝাতে যে সে ডিপ্রেশনে ভুগছে । কখনো গানের লিরিক্স আবার কখনো বিখ্যাত লেখকের কোটেশন সবকিছুতেই ডিপ্রেশন । সাইকিয়াট্রিতে এই ডিপ্রেশন হল এক ধরনের মুড ডিসঅর্ডার । যেটা একমুখী অবসর বা ইউনিফুলার ডিপ্রেশন । কিন্তু সম্প্রতি আর এক ধরণের অবসাদ বিজ্ঞানীদের মাথা খারাপ করে দিচ্ছে। যেটাকে বলা হচ্ছে বাই পোলার ডিপ্রেশন । বাই পোলার অর্থাৎ দ্বিমুখী । একে ম্যানিক ডিপ্রেশনে বলা হয়। এখনো পর্যন্ত মনোবিজ্ঞানীরা বাই পোলার ডিসঅর্ডারের কারণ সম্পর্কে সঠিকভাবে জানতে পারেন নি। এর ওপর প্রচুর গবেষণা চলছে। জানলে অবাক হবেন যে শুধুমাত্র আমেরিকাতেই সাত মিলিয়নেরও বেশি মানুষ বাইপোলার ডিসঅর্ডারে ভুগছে । কিন্তু আসলে কি ঘটে? বাইপোলার ডিসঅর্ডারে? চলুন কথা বলি বাই পোলার ডিসঅর্ডার নিয়ে আজ কথা বলা যাক।   বাইপোলার ডিসঅর্ডার কাকে বলে? খুব সংক্ষেপে বলা যায় বাইপোলার ডিসঅর্ডার একটি মানসিক অবস্থা। যে...

কিভাবে লিমিটলেস হওয়া যায় ? লিমিটলেস আসলে কিভাবে কাজ করে ?

এনজিটিপিল,  এটা এমন এক পিল যা আপনাকে করবে আল্ট্রা ফোকাসড. দেবে দুর্দান্ত মোটিভেশন. বের করে আনবে আপনার সর্বোচ্চ সম্ভাবনা. আপনি হয়ে উঠবেন আনস্টপল. বাস্তবতা পাবে প্রতিটি স্বপ্ন. কিন্তু সমস্যা হচ্ছে এমন কোন পিলের অস্তিত্ব নেই. ফলাফল আপনি আটকে আছেন একটি খাদে. সারাক্ষণ ক্লান্তি নিয়ে হয়ে উঠছেন আনপ্রোডাক্টিভ. নষ্ট হচ্ছে ক্রিয়েটিভিটি. সময় গড়িয়ে যায়. ঋতুর পরিবর্তন ঘটে. কিন্তু আপনি ডুবে থাকেন এক হতাশায় যাতে আপনি দিন দিন পিছিয়ে পরছেন. আপনি যা যা এতদিন অর্জন করবেন ভেবেছিলেন তা কিছুই আপনি অর্জন করতে পারেননি । নিজেকে সান্তনা দিচ্ছেন আগামীকাল হবে ভিন্ন। কিন্তু তা কখনোই হয়ে ওঠে না এখন যদি আপনাকে বলি কোনো জাদুকরী পিলের সাহায্যে নয় বাস্তবিক লিমিটলেস হয়ে ওঠা সম্ভব।  একদম প্রমাণিত পদ্ধতিতে যা একেবারে ফ্রিতে ব্যবহার করা সম্ভব.  তো আছেন তো শেষ পর্যন্ত ?  Limit less হওয়ার যাত্রায় ।  স্টেপ ওয়ান : এনার্জি--  মাত্র কয়েক মাস আগে আমি নিজেও আপনার মতো কর্মশক্তিহীন অনুভব করতাম. সামান্য কাজেই আসতো অবসন্নতা, গেয়ে ধরতো ক্লান্তি একদিন হঠাৎ টের পেলাম আমি নিজেই নিজের energy নি...

ম্যান্ডেলা ইফেক্ট কেনো হয়?

   আচ্ছা নিজের স্মৃতি শক্তির উপর কতটা বিশ্বাস আছে আপনার? আচ্ছা বাদ দিয়ে আপনার কথা. গণমানুষের স্মৃতিশক্তির উপর নিশ্চয়ই বিশ্বাস আছে অনেকটা. না না. ধর্মীয় কোন বিশ্বাস না. এই গ্রহে ঘটে যাওয়া এমন সব ঘটনা. যা সবাই জানে. তা কি রকম মিথ্যা? এক দশক আগেও পৃথিবীর প্রায় এক তৃতীয়াংশ মানুষ জানতো যে অস্ট্রেলিয়ার রাজধানীর নাম সিডনি. আসলে কি তাই? গত এক দশকে এই ধারণা মোটামুটি পরিবর্তন হয়ে মানুষ জেনেছে অস্ট্রেলিয়ার রাজধানীর নাম ক্যানভেরা. এখনো এই ভুল হরমামেশাই করে যাচ্ছে মানুষ. বিশ্বাস না হলে আশেপাশের কিছু মানুষকে জিজ্ঞেস করে দেখতে পারে. প্রশ্ন করতে পারেন ম্যান্ডেলার নাম কেন? এই ফ্ললস মেমোরি সিন্ড্রোমকে ম্যান্ডেল এফেক্ট নামকরণ করেছেন প্যারানরমাল কনসালটেন্ট ফীয়না ব্রুম তার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে । দু হাজার দশ সালের এক আলোচনা সভায় উঠে আসে দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদ বিরোধী আন্দোলনের নেতা উনিশশো আশি সালে কারা জানে মারা যাওয়ার প্রসঙ্গ । অনেকেই সেদিন বলেছিল, টিভিতে এই নেতার শেষকৃত্যের আনুষ্ঠানিকতা দেখার অভিজ্ঞতার কথা. ম্যান্ডেলার স্ত্রীর হৃদয় নিন্দারও ভাষণের কথা উল্লেখ করেছিলেন কেউ কেউ. এমনক...

সারোগেসি কি ?

সারোগেসির মাধ্যমে সন্তান ধারণ করা নিয়ে এখনো বহু বিতর্ক আছে. শুধু আমাদের দেশে নয়, সারা বিশ্বেই এই পদ্ধতি নিয়ে তর্ক বিতর্কের শেষ নেই.  এটার আইনি প্রক্রিয়াও জটিল। কারণ এটি একেক রাষ্ট্রে. শারোগেসি আইন একেক রকম. নারী মা হবেন প্রাকৃতিক নিয়ম সমাজ এমনটাই দেখতে অভ্যস্ত. কিন্তু কোন কারণে মা হবার ক্ষমতা না থাকলে তাকে পরিবার ও আশপাশ থেকে যে পরিমাণ কটু কথা শুনতে হয় তা সাধারণ মানুষের ধারণারও বাইরে.   সরোগেসি বিষয়টি কি? চিকিৎসা শাস্ত্রের অগ্রগতি এমন মায়েদের সামনে এনেছে যারা গর্ভ ভাড়া দিয়ে নিজে বাঁচেন অন্যদের মাতৃ সুখ দেন । একজন নারীর গর্ভে অন্য দম্পতির সন্তান ধারণের পদ্ধতিকে সারোগেসি বলা হয়.সারোগেসির এই  পদ্ধতি বেশ দীর্ঘকালীন. আইভিএফ পদ্ধতিতে স্ত্রী ও পুরুষের ডিম্বাণু শুক্রাণু দেহের বাইরে নিষিক্ত করে তা নারীর গর্ভাশয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়. কিন্তু এখানেও জটিলতা. কেন? সে বিষয়ে পরে আসছি. বাংলাদেশ সহ বহু দেশই এই সারোগেসি একরকম ভাবে নিষিদ্ধ. সুতরাং বিষয় টি  সংবেদনশীল. এমনকি বেশিরভাগ ধর্মেও রয়েছে নিষেধাজ্ঞা. চলুন কথা বলি সারোগেসি মাদার সম্পর্কে। আইভিএফ বা টেস্ট টি...

রেট রেস কি ?

      আপনি ঠিক কখন ইঁদুর দৌড়ে যোগ দিয়েছেন এটা হিসাব করা কঠিন. কিন্তু নিশ্চিত থাকুন আপনি এই দৌড়ে আছেন. ক্লাস eight এ পড়ার সময়ের কথা মনে আছে? সামনে বৃত্তি পরীক্ষা পাটিগণিত বীজগণিতের অংক প্যাঁচ লাগাচ্ছে বিজ্ঞানের জটিল সব সূত্র ভোরে ওঠে প্রাইভেট টিউটরের বাসায় ছোটা রাত জেগে পড়াশোনা. বয়সের তুলনায় অনেক বেশি কর্ম ব্যস্ত একটা সময় নিশ্চয়ই কাটিয়েছেন তখন? আমরা সবাই কাটিয়েছি. সেই সময় নিশ্চয়ই অভিভাবক বলেছে এই তো আর কটা দিন. বৃত্তি পরীক্ষা শেষ হলেই জীবন শান্তি আর শান্তি. জীবনের নানা এপিসোডে আপনি এই কথাগুলো শুনেছেন অনেকবার অনেকের মুখে. এসএসসি পরীক্ষাটা দাও, কলেজে উঠলেই তো স্বাধীনতা. একবার ভার্সেটিতে উঠতে পারলেই জীবন হবে আনন্দে ভরপুর. একবার জব লাইফে ঢোকো. নিজের টাকায় আয়েশ করার মজাই অন্যরকম. শুনেছেন না এসব?  বয়স ঘড়ির ত্রিশের প্রান্তে দাঁড়িয়ে হিসেবগুলো মেলাতে পারেন কি? কি মনে হয়? এই এপিসোডগুলোর কোনোটা পার হবার সময় জীবন খানিকটা হলেও সহজ হয়েছে? সুন্দর হয়েছে? হয়নি, হবেও না, মিথ্যা একটা মরীচিকার আশায় আমরা ছুটেছি ঠিকই আমাদের ছোটানো হয়েছে, কিন্তু হিসাব মেলেনি ছুটত...

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কি ? আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কতটা ভযঙ্কর হতে পারে আগামী দিনের জন্য ?

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বহুল চর্চিত এবং ব্যবহৃত একটি শব্দ. মানুষের বুদ্ধিমত্তা ও চিন্তা শক্তিকে কম্পিউটার প্রোগ্রামিং এর মাধ্যমে মেশিন ল্যাঙ্গুয়েজে স্থাপন করা টেকনোলজিটাই হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স । এর মাধ্যমে কোন যন্ত্র নির্দিষ্ট প্রোগ্রামের আওতাধীন কিছু কাজ নিজে থেকেই করতে পারে নিজে নিজে সিদ্ধান্ত নিতে পারে।  টার্মিনেচার টাইপের কোনো সাইফাই সিনেমার গুরু বন্ধুর সংলাপ নয়।  A.I নিয়ে ভবিষ্যৎবাণী করেছিলেন পৃথিবীর সেরা বিজ্ঞানীদের একজন স্টিফেন হকিং আমার ভয় হয় তারা সত্যিই হয়তো একদিন মানুষকে হটিয়ে নিয়ন্ত্রকের আসনে বসে যাবে। বেঁচে থাকতেই BBC কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স তথা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে এভাবেই সবাইকে সতর্ক করেছিলেন তিনি। হকিংসের এই ভয় এখনো ভবিষ্যতের বিষয় হলেও অমূলক নয় মোটেও যন্ত্রকে বুদ্ধিমান করে তার আশীর্বাদ অনেক আছে। কিন্তু দীর্ঘ মেয়াদে সেই যন্ত্রই পৃথিবীর দখল নিতে চলেছে কিনা স্বয়ং সম্পূর্ণ হয়ে মানুষকেই বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে একদিন অপদার্থ তে পরিণত করবে কিনা সেই প্রশ্নটা উঠছে বারবার।  যুক্তরাষ্ট্রে...

রাশিয়ান হ্যাকাররা এত ভয়ঙ্কর কেন ?

  হ্যাকিং !  খুব ছোট্ট একটা শব্দ কিন্তু এই তাৎপর্য এবং গুরুত্ব দুটোই অপরিসীম. একজন মানুষের জীবন ধ্বংস করার ক্ষমতা তো হ্যাকারদের আছেই. গোটা একটা জাতির অপরিসীম ক্ষতি সাধনা করা সম্ভব. শুধুমাত্র এই হ্যাকিংএর মাধ্যমে. বাংলাদেশ ব্যাংকের টাকা চুরির ঘটনাটা কি উদাহরণ ধরতে পারেন. স্প্যাম মেল পাঠিয়ে সার্ভারের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সরকারি ছুটির সময়টাকে কাজে লাগানোর মাধ্যমে হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশের কিছু ব্যাংক একাউন্টে ট্রান্সফার করে নিয়েছিল এই হ্যাকাররা. এর মধ্যে কিছু টাকা ফিরিয়ে আনা গেছে সত্যি কিন্তু বেশিরভাগেরই কোন হদিস পাওয়া যায় নি.  সাউথ ইন্ডিয়ান সিনেমায় হ্যাকিং এর দৃশ্য দেখে আপনি যদি ভেবে থাকেন যে ভার্সিটি থেকে ড্রপ আউট হওয়া ক্র্যাক হেডেট কিছুর দরুন দিনরাত কম্পিউটারের সামনে বসে এসব করে ফেলছে তাহলে আপনি বোকার স্বর্গে বাস করছেন । হ্যাঁ এরকম হ্যাকার যে নেই তা নয় । ইন্ডিপেন্ডেন্ট হ্যাকার সংখ্যাও পৃথিবীতে কম নয় । কিন্তু দুনিয়া জুড়ে হ্যাকিংকে যারা শিল্পে পরিণত করেছে যারা হ্যাকার হিসেবে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে হয়ে উঠেছে মূর্তিমান আতঙ্কের নাম ...

কেনো বাংলাদেশীরা ইন্ডিয়াকে ঘৃনা করে?

একাত্তর সালের ডিসেম্বর মাস মুক্তিযুদ্ধ চলছে। ভারত তখনও সরাসরি অংশগ্রহণ করেনি মুক্তিযুদ্ধে। বাংলাদেশের পক্ষে কূটনৈতিক তৎপরতা চালাচ্ছে তাঁরা। প্রায় এক কোটি শরণার্থী আশ্রয় নিয়েছে ভারতে। মুজিবনগর সরকারের অস্থায়ী সদর দপ্তর স্থাপিত হয়েছে কোলকাতায়। মুক্তি যোদ্ধারা ভারতের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে ক্যাম্প করে সেখান থেকে আক্রমণ হানছে পাকিস্তানি সেনাদের উপর.  তেসরা ডিসেম্বর বিকেলে ভারতের তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল শ্যাম টেলিফোন করলেন ভারতের ইস্টার্ন আর্মির চিফ অফ স্টাফ, লেফটেন্যান্ট জেনারেল জ্যাক জ্যাকবের এর কাছে. মানিক সো জ্যাকব কে বললেন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীকে বলুন, পাকিস্তানি বিমান থেকে ভারতের পশ্চিমাঞ্চলের এয়ার ফিল্ড গুলোতে বোমা বর্ষণ করা হয়েছে. ইন্দিরা গান্ধী তড়িৎ সিদ্ধান্ত নিলেন. পাকিস্তানের বিপক্ষে যুদ্ধ ঘোষণা করল ভারত। ছয় ডিসেম্বর প্রথম রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশকে স্বাধীন দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দিল ইন্দিরা গান্ধীর সরকার। বাংলাদেশের বয়স পঞ্চাশ বছর পূর্ণ হয়েছে. ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের বয়সও হয়ে গেছে পঞ্চাশ বছর. কিন্তু গত পঞ্চাশ বছরে এদেশের অনেক মানুষের মধ্যে ভারত বির...