ডিপ্রেশনের পালে বাড়তি একটা হাওয়া বা অসুখ ইংরেজিতে যেটাকে বলা হয় অপসেসিভ কম্পালসিভ ডিসঅর্ডার বা ওসিডি আর বাংলায় বলা হয় সূচিবাই। শুনতে খুব সাধারণ একটা অসুখ মনে হচ্ছে তাই না । হুম সাধারণ ভেবে হেলাফেলা করা হয় বলেই এই রোগ টাকে আমরা গুরুত্ব দিই না । আর সেই সুযোগে ডালপালা মেলে বড় হয়ে ওঠে এই আগাছা। বাড়ায় যন্ত্রণা আর সেই যন্ত্রণা ডিপ্রেশনের চেয়েও অনেক অনেক বেশি তিব্র ।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রতি বছর পৃথিবীতে প্রায় সাত লক্ষ মানুষ আত্মহত্যা করে। এর মধ্যে শতকরা নব্বই শতাংশ ক্ষেত্রেই আত্মহত্যার কারণ হয় মানসিক অবসাদ। অপসেসিভ কম্পালসিভ ডিসঅর্ডার বা ওসিডিতে আক্রান্তরা সুইসাইডের স্টেজে হয়তো খুব কমই যায় । কিন্তু যে জীবনটা তারা পার করে সেটা মৃত্যুর চেয়েও কম যন্ত্রণার নয়। এটা এমনই এক রোগ, যে রোগের কারণ জানা নেই. জানা নেই কোন প্রতিকার শতভাগ উপায়ও. ক্যান্সারের চেয়েও বেশি দুরারোগ্য এক অসুখ হিসেবে সূচিবাইকে যদি চিহ্নিত করা হয় তাহলে কিন্তু এতটুকুও ভুল হবে না. এই রোগ কিভাবে ডিপ্রেশনের চাইতেও বাজে প্রভাব ফেলে মানুষের জীবনে.
ওসিডি বা সূচিবাই একটি উদ্বেগজনিত রোগ. বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তালিকায় এই মেডিক্যাল ডিজেবিলিটি প্রধান দশটি রোগের মধ্যে একটি. সূচিবাই কিন্তু মোটেও বিরল কোন রোগ নয়. সারা বিশ্বে প্রতি পঞ্চাশ জনের মধ্যে একজন জীবনের কোন না কোন পর্যায়ে এই রোগে ভোগেন.
সাধারণত শৈশব ও কৈশোরে এই রোগটি শুরু হয়. নারী, পুরুষ, উভয় এই রোগে ভুগতে পারেন. নিকট আত্মীয়দের মধ্যে এই রোগ হওয়ার আশঙ্কা পাঁচগুণ বেশি. গুরুত্বের দিক থেকে বিষন্নতা, ফোবিক ডিসঅর্ডার , মাদক শক্তির পর পরই আসে ওসিডির নাম. এই রোগের ব্যাপকতা অনেক বেশি. আর তাই এই অসুখকে চিকিৎসা বিজ্ঞানেও যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে বিচার করা হয়. কোন কিছু একবারের জায়গায় দুইবার চেক করা একটা নরমাল ব্যাপার. ধরা যায় রাতে শোবার আগে গেটের তালা লক করেছেন কিনা সেটা চেক করা. কিংবা বাইরের রুমের লাইট নিভিয়েছেন কিনা সেটা যাচাই করা. এই কাজগুলো একবারের জায়গায় দুইবার আপনি করতেই পারেন. ভুলভ্রান্তি আছে কিনা? সিওর হন. কিন্তু আপনি দরজা লক করেছেন কিনা কিংবা লাইট নিভিয়েছেন কিনা এমন ঘটনা যদি অল্প কিছুক্ষণের মধ্যেই পাঁচ থেকে সাতবার করে ফেলেন তখন বুঝতে হবে ব্যাপারটা স্বাভাবিক নয়। এখানে সমস্যা আছে বড়োসড়ো সমস্যা।
অপসেসিভ কম্পালসিভ ডিসঅর্ডার মূলত মানসিক রোগ. মানসিক অস্থিরতা এবং উদ্বেগ থেকেই এর জন্ম. এটি এমন একটি রোগ যাতে অপসেসন অথবা কম্পালশান বা দুটোই থাকতে পারে. অপসেশান শব্দের অর্থ হল একই চিন্তা, কোন ছবি বা ইচ্ছা মনের মধ্যে বারবার ঘুরপাক খাওয়া। এক্ষেত্রে আক্রান্ত ব্যক্তি বুঝতে পারেন যে তার এই ভাবনা অমূলক অর্থহীন. প্রয়োজনের অতিরিক্ত. তবুও তিনি সেই চিন্তা বা ইচ্ছাকে কোনভাবেই আটকাতে পারেন না বা নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন না. স্বাভাবিকভাবেই দেখা দেয় অস্বস্তি. যেমন দরজায় তালা দিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে অফিসে পৌঁছানোর পর হঠাৎ খেয়াল হলো দরজায় তালা দিয়েছিলেন কিনা তা মনে করতে পারছেন না। এই চিন্তাটা বারবার মনে আসতে থাকায় একটা অস্বস্তি তৈরী হয়।
অন্যদিকে compulsion হলো ওই অপসিসিভ চিন্তা বা ইচ্ছে গুলোকে কমানোর জন্য ব্যক্তি যে কাজগুলো করেন সেগুলো । অহেতুক চিন্তা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য আবার অফিস থেকে বাড়ি গিয়ে দরজায় ঠিক মতো তালা দেওয়া হয়েছে কিনা তা পরীক্ষা করে দেখলেন. অপসেসিভ কম্পালসিভ ডিসঅর্ডারে আক্রান্ত রোগীদের অপসেসন বা কম্পালসান দুটোই কিন্তু একসঙ্গে হতে পারে. ধরা যাক ধর্ম বা যৌনতা নিয়ে অস্বাভাবিক কোন একটি চিন্তা বারবার কারো মনে আসছে. সেটিকে তিনি সত্য নয় বলেই জানে. যেটিকে তিনি বারবার মন থেকে সরাতে যাচ্ছেন. কিন্তু চিন্তাটা সরছে না. তখন তাঁর মনের অবস্থা কি হতে পারে? অনেকে নামাজে দাঁড়িয়ে বার বার নামাজ ছেড়ে দেয়. উল্টাপাল্টা চিন্তা মনে আসার কারণে. অনেকে জানেন তার কোনো শারীরিক অসুখ নেই. তবুও বিভিন্ন পরীক্ষা করাতে থাকেন ডাক্তারের কাছে যেতে থাকেন.
এসএসসিতে খুব ভালো ফলাফল করা একজন ছাত্র এইচএসসিতে এসে একটি বইয়ের একটি পৃষ্ঠাই বারবার পড়ছে. কারণ পরের পৃষ্ঠায় যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তার মনে হতে থাকে আমি তো আগের পৃষ্ঠা পড়িনি. এভাবে দেখা যায় যে সে একটা লুপের মধ্যে আটকা পড়ছে. পড়শোনা ও খেলাধুলা সহ অনেক ক্ষেত্রেই অপশেশানের প্রয়োজন আছে. কিন্তু সেটা যখন মাত্রাতিরিক্ত হয়ে যায় এবং স্বাভাবিক জীবনযাত্রা এক ব্যাঘাত ঘটায় তখনই তাকে রোগ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে.
কেন মানুষ এই অফসেসিভ কম্পালসিভ ডিসঅর্ডার বা সূচিবাই রোগে আক্রান্ত হয়? এই প্রশ্নের নিখুঁত কোন উত্তর আমাদের কাছে এখনও নেই. অন্য অনেক মানসিক রোগের মতোই ওসিডির সঠিক কোন কারণ এখনো আবিষ্কার হয়নি. কেউ বলেন মস্তিষ্কের নির্দিষ্ট কিছু জায়গায় ফাংশান কম হওয়ার কারণে. কেউ বলেন কিছু কিছু নিউরো কেমিক্যালের তারতম্যের কারণে। কেউ আবার জেনেটিক বিষয়গুলোকে কারণ হিসেবে দাঁড় করাচ্ছেন। এসবের মধ্যে মস্তিষ্কের নির্দিষ্ট কিছু স্থানে সামান্য তারতম্যের বিষয়টি সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে ।গবেষকদের মতে ওসিডির জন্য বংশগত কারণ যদি পঞ্চান্ন ভাগ দায়ী হয়ে থাকে তবে পারিপার্শ্বিক কারণ দায়ী পঁয়তাল্লিশ ভাগ। বংশগত কারণ ছাড়াও এটা হতে পারে. পারিপার্শ্বিকতা অনেকসময় সূচিবাই তৈরিতে ভূমিকা রাখে. বাল্যকালে শারীরিক বা যৌন লাঞ্ছনার শিকার হলে অনেক সময় পরবর্তীতে মানুষ এই সমস্যায় পতিত হয়. ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণও অনেকের বাল্যকালে সূচিবাইয়ের বীজ বনে দেয়. সন্তান জন্মদানের পরবর্তী সময়ে অনেক ক্ষেত্রে মায়ের ওসিডিতে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা কিন্তু অনেক বেশিই থাকে.
তবে একটা জিনিস নিয়ে সবাই নিশ্চিত. এই রোগের জন্য মানসিক চাপ অনেকাংশে দায়ী. শিশুরা মানসিক চাপের ব্যাপারটা প্রকাশ করতে পারে না. তাই তাদের প্রকাশ ভঙ্গি বড়দের থেকে কিছুটা ভিন্ন হয়. স্কুলে ভর্তি বা পরীক্ষার চাপ সহপাঠীদের সঙ্গে তুলনামূলক আলোচনা. শিশুদের মনে অভিভাবকদের অজ্ঞাতই একটি কালো ছায়া ফেলে. বয়: সন্ধীর সময় মেয়েদের পিরিয়ড শুরু হওয়া ছেলেদের স্বপ্নদোষ অনেক ক্ষেত্রে ওসিডির সূত্রপাতের ক্ষেত্রে একটা বড় ভূমিকা রাখে. কিশোর বয়সে বিয়ে গর্ভধারণ বা বাচ্চা প্রসবও প্রভাব ফেলে এতে. জীবনের যেকোনো ঘটনা দিয়ে রোগটি শুরু হতে পারে. ব্যক্তি জীবনের মানসিক চাপ, রাস্তার পাশে পড়ে থাকা পরিত্যক্ত ব্যান্ডেজ বা বর্জ্য দেখেও কিন্তু সেটা হতে পারে. তবে খুব কম ক্ষেত্রে শারীরিক রোগের কারণে এটি হয়ে থাকে.
মস্তিষ্কের স্নায়ু রাসায়নিক সেরোটোনিন বা গ্লুটামিটের বিপাক্রিয়ার গোলযোগ থেকেও কিন্তু ওসিডি হবার সম্ভাবনা অনেক বেশি. হইতো আপনি নিজের অজান্তেই অনেকদিন থেকেই রোগে ভুগছেন । এই ওসিডি আপনাকে একটা ভুল অযৌক্তিক চিন্তার গোলকধাতায় ফেলে রেখেছে বছরের পর বছর যেটা আপনিও জানেন না। যেই চিন্তাটাকে আপনি চাইলেও মাথা থেকে সরাতে পারেন না আর তারই কারণে আপনি ধোঁয়া ধুয়ে গোসল করা বাথরুমে ঘন্টার পর ঘন্টা কাটিয়ে দিচ্ছেন. আপনি ব্যক্তিগতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন. হাসির পাত্র হচ্ছেন সবার কাছে. আপনার পরিবার, আপনার পেশা জীবন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে মারাত্মকভাবে. আপনার এই আচরণ আপনার পরিবার বা সমাজের আর কেউ করছে না. আপনাকে বাধা দিলে আপনি রাগ করছেন । ঝগড়া করছেন, খাওয়া দাওয়া, ঘুম সব কিছুরই ব্যাঘাত ঘটাচ্ছেন। নিজস্ব একটা বলয় তৈরি করে নিচ্ছেন আপনি, পরিবার থেকে সমাজ থেকে একমাত্র আপনারই সামাজিক দূরত্ব, শারীরিক দূরত্ব বাড়ছে ক্রমশ, নিজের অজান্তেই আপনি ঘরবন্দী হয়ে পড়ছেন। এখান থেকে আপনি ধীরে ধীরে অন্যান্য মানসিক রোগ যেমন বিষন্নতা, ফোবিয়া বা প্যানিক ডিসঅর্ডারে ভুগতে পারেন. নিজেকে আঘাত করা বা আত্মহত্যার প্রবণতাও দেখা দিতে পারে.
সঙ্গে যদি অন্যান্য শারীরিক রোগ যেমন ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ থাকে তা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে অবশ্যই. তখন ওষুধের মাত্রা বাড়িয়ে দিলেও কিন্তু এসব রোগ নিয়ন্ত্রণে আনা খুব কঠিন । একটা খুব গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন,
আপনি যে ওসিডি বা সূচিবাই রোগে আক্রান্ত সেটা বুঝবেন কিভাবে? নিজেকে কয়েকটা প্রশ্ন করুন. আপনি কি অতিরিক্ত ধোয়া মোছা করেন অথবা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকেন? কোন কিছু অতিরিক্ত যাচাই বাছাই করেন. আপনার মাথায় অযাচিতভাবে কি কোন চিন্তা আসে? যা কিনা আপনি চাইলেও মাথা থেকে সহজে বের করতে পারেন না. দৈনন্দিন কাজ শেষ করতে কি অতিরিক্ত বেশি সময় ব্যয় হয়? আপনার মধ্যে ফার্নিচার, বই, খাতা, কাপড় চোপড় অথবা যে কোন জিনিস নির্দিষ্ট প্যাটার্নে বসিয়ে রাখার কি প্রবণতা আছে? এসব প্রশ্নের উত্তর যদি হ্যাঁ হয় তার মানে আপনি ওসিটির ঝুঁকিতে আছেন.
সারা বিশ্বে ওসিডি রোগীর সংখ্যা প্রচুর. শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই প্রাপ্ত বয়স্কদের প্রতি চল্লিশ জন একজন এবং শিশুদের প্রতি একশ জনে এক জন এই রোগে ভোগে. বাংলাদেশে একে রোগ হিসেবে ধরা হয় না. এ কারণে পরিসংখ্যানও পাওয়া যাবে না যে এদেশে কত লোক আসলে ওসিডিতে আক্রান্ত. কিন্তু এমন মানুষ চারপাশে খুঁজলে আপনি অজস্র পেয়ে যাবেন. সূচিবাই নিয়ে অনেকেরই অনেক ভুল ধারণা আছে ।বেশিরভাগ মানুষ মনে করেন যে এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি আসলে পরিচ্ছন্নতার প্রতি অতিরিক্ত অনুরাগী। ব্যাপারটা এতটুকুতেই সীমাবদ্ধ নয় আসলে । বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায় ওসিডিতে আক্রান্ত রোগীর মধ্যে জটিল কিছু রোগ সম্পর্কে ভয় মিশ্রিত চিন্তা বারবার দেখা দেয় ।তিনি ভয় পেতে থাকেন তার হয়তো ক্যান্সার এইডস বা HIV হবে যদিও এসব তার অমূলক ভয়। চিঠি দাগ বাক্সে ফেলে কিছুক্ষণ পরে মনে হয় চিঠি বোধহয় ফেলা ঠিক হয়নি ।
আগেই বলেছি বিভিন্ন ধরনের আতঙ্ক এই রোগীদের গ্রাস করে। এক একটি বিশেষ বস্তু বা অবস্থাকে কেন্দ্র করে তার মনে মারাত্মক ভয় ও আতঙ্কগ্রস্ত ভাব দেখা দেয় । অনেকের মধ্যেই অস্ত্রফোবিয়া বা বদ্ধ জায়গায় প্রচন্ড পরিমানে ভয় থাকে। যার ফলে রোগী ভিড় ট্রেনে বাসে উঠতে ভয় পায়. এছাড়াও ফাঁকা জায়গায় একা যেতে ভয়, অন্ধকারের ভয়, কঠিন রোগ ব্যাধির ভয়, একাকিত্বের ভয়ে, রক্ত দেখলে ভয় উচ্চ স্থানের ভয়. এমন নানা ধরনের আতঙ্ক ওসিডি পেশেন্টদের মধ্যে দেখা যায়. এধরণের আতঙ্ক জনিত উৎকণ্ঠার শারীরিক লক্ষণ হিসেবে দেখা দেয় দমবন্ধ ভাব, বুক ধরফরানি, গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে যাওয়া এইসব। সবচেয়ে খারাপ ব্যাপারটা কি জানেন? খালি চোখে সূচিবাই আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে পরিচ্ছন্ন থাকার বাতিক ছাড়া অন্য কোনো অসুবিধা দেখা যায় না। তাই সহজে এটাকে কেউ রোগ হিসাবে মানতেই চান না ।
ভুক্তভোগীর ভেতরের কষ্টকে অনেক সময় অবহেলা করা হয় এই ভেবে যে অমুক চিন্তাটা না করলেই তো হয় । অনেক সময় সমস্যার ধরন ও এর ভেতরের বিষয়ের কারণে রোগী নিজেও তার সমস্যাটা প্রকাশ করতে চান না। সমস্যাটা কাউকে বলার মতো না. এমনটা ভেবে নিজেই সমস্যা নিয়ন্ত্রণ করতে চান. অথচ বাস্তবতা হচ্ছে এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য চিকিৎসা খুব জরুরি. যত আগে চিকিৎসা শুরু করা যায় ততই ভালো.
ওষুধ এবং সাইকোথেরাপি দুটোই প্রয়োজন. তবে সিবিআই এর ক্ষেত্রে সাইকোথেরাপিও কম কাজ করতে চায়. ওসিডির চিকিৎসার ক্ষেত্রে সাইকোথেরাপি এবং ফার্মাকোরাপি বা এই দুইয়ের কম্বিনেশনের কথা বলা হয়. তবে গবেষণা বলছে দুই পদ্ধতির সমন্বিত চিকিৎসা পদ্ধতি যাদের ওপর প্রয়োগ করা হয়েছে তাদের ক্ষেত্রে ফল ভালো এসেছে. সাইকোলজিকাল চিকিৎসার মধ্যে কগনেটিভ বিহেবিয়ার থেরাপি খুব উপকারী. এখানে রোগীর ভুল চিন্তাগুলোর উপর কাজ করা হয়. বিশেষ করে নেগেটিভ শট, কোর বিলিভ এগুলোর পুনর্গঠন করার চেষ্টা করা হয়.
আরেকটা পদ্ধতি হচ্ছে ফার্মাকো থেরাপি বা মেডিসিন দিয়ে চিকিৎসা. প্রবাদ আছে কথায় চিরে ভেজে না. তাই রোগীরা কিছু মেডিসিন প্রত্যাশা করে. বাস্তবিক ভাবে কিছু অ্যান্টি ডিপ্রেশন সূচিবাই রোগীদের খুব কাজে আসে. ওসিডি রোগীদের একই সাথে এক্সাইটি ডিসঅর্ডার এবং ডিপ্রেসিভ ডিসঅর্ডার থাকতে পারে. সেগুলোর মধ্যে চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে ওষুধ খাওয়াটাই হবে বাধ্যতামূলক. যদি কমপক্ষে ছয় মাস, সঠিক নিয়মে চিকিৎসা করা যায়. তবে অনেকে একেবারেই ভালো হয়. কারো কারো ক্ষেত্রে বহুদিন পর রোগটি ফিরে আসতে পারে. কেউ কেউ বারবার আক্রান্ত হয় এবং তাদের চিকিৎসা নিয়ে স্বাভাবিকই থাকতে হবে. ওসিডি বা সূচিবাই রোগে যারা আক্রান্ত তাদের বেশ কিছু নিয়ম কড়াকড়ি ভাবে মেনে চলতে হবে. নিয়মিত রিলাক্সেশন অভ্যাস করা উচিত. যোগব্যায়াম, মাইন্ডফোল মেডিটেশন, ডিপ ব্রিদিং এক্সারসাইজ. এই রোগীদের স্ট্রেস ও টেনশন কমানোর জন্য কার্যকরী। পর্যাপ্ত ঘুম ও ব্যায়াম চর্চা করতে হবে. অবশ্যই বর্জন করতে হবে অ্যালকোহল আর নিকোটিন. মিষ্টি খাবার ওসিডি রোগীদের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর. বেশি করে খেতে হবে ফলমূল. অপসেসিভ কম্পালসিভ ডিসঅর্ডার যেহেতু সবচেয়ে কঠিন ধরনের অ্যাংজাইটি নিউরোসিস. এই রোগীদের খাদ্যতালিকায় প্রসেসড মিট ও ফিস আর মিষ্টিযুক্ত ডিজার্ভ রাখা একেবারেই উচিত হবে না.
অন্যান্য শারীরিক রোগ যেমন ডায়বেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, যেমন নিয়মিত চিকিৎসা এবং হেলদি লাইফ স্টাইল মেইনটেইনের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা যায়. ঠিক তেমনি এই ওসিডি রোগটিও চিকিৎসার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব. এইসব আচরণগুলোকে স্বাভাবিক না ভেবে কমিয়ে আনতে চেষ্টা করুন. সচেতন হন. প্রয়োজনে মনোরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন. একটা জিনিস মনে রাখবেন ওসিডির বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় লড়াই হল নিজের লড়াই। যেকোনো মানসিক সমস্যা মোকাবিলার সবচেয়ে কার্যকরী উপায় হল নিজের মনের সাথে বোঝাপড়া করে ফেলা. যে কাজগুলো না করে শরীর থাকতে পারে না সেই কাজগুলো যদি ক্ষতিকর হয় তাহলে সেগুলো করার ব্যাপারে নিজেকেই বাধা দিতে হবে. কিন্তু এখানেই সবচেয়ে বড় সমস্যাটা হয়. ওসিডিতে আক্রান্ত ব্যক্তি শতকরা নিরানব্বই ভাগ ক্ষেত্রেই পরিবার বা বন্ধু বান্ধবের সাহায্যটা পান না বরং তার এই কর্মকাণ্ডগুলো নিয়ে হাসি ঠাট্টা করা হয় । কাজেই কারো মধ্যে সূচিবায়ের লক্ষণ গুলো দেখলে তার পাশে দাঁড়ান।
কাঁধে ভরসার হাত রাখুন তাকে সাহায্য করুন একটু অবহেলাও মারাত্মক কোনো পরিণতি ডেকে আনতে পারে। মনে রাখবেন লাইফ is beautiful । না না সিনেমার কথা বলছি না । জীবন আসলেই সুন্দর আমরা যদি একটু কৌশলী হই ছোটোখাটো মানসিক সমস্যা গুলো এড়িয়ে না গিয়ে সেগুলোর মোকাবিলার ব্যবস্থা করি । ওসিডিও সেরকম একটা সমস্যা যার প্রতিকার আছে। যে সমস্যা থেকে মুক্তি পাবার উপায় আছে। কেন তাহলে এই চোরাবালিতে ডুবে জীবনটাকে যন্ত্রণাময় করে তুলবেন? আপনি যদি ওসিডিতে আক্রান্ত হয়েও থাকেন কোন অপরাধ তো আর করে ফেলেন নি । ব্যবস্থা নেন রোগের বিরুদ্ধে. ডাক্তারের কাছে যান. জীবনকে একটা নিয়মের মধ্যে নিয়ে আসুন. মানসিক শক্তি বাড়ান। জীবনটা যেহেতু আপনার একে সুন্দর করে সাজানোর দায়ভারও কিন্তু আপনার. এই কথাটা মাথায় রাখবেন.
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন