সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

অপসেসিভ কম্পালসিভ ডিসঅর্ডার বা সূচিবাই কি ?

ডিপ্রেশনের পালে বাড়তি একটা হাওয়া বা  অসুখ ইংরেজিতে যেটাকে বলা হয় অপসেসিভ কম্পালসিভ ডিসঅর্ডার বা ওসিডি আর বাংলায় বলা হয় সূচিবাই। শুনতে খুব সাধারণ একটা অসুখ মনে হচ্ছে তাই না । হুম সাধারণ ভেবে হেলাফেলা করা হয় বলেই এই রোগ টাকে  আমরা গুরুত্ব দিই না । আর সেই সুযোগে ডালপালা মেলে বড় হয়ে ওঠে এই আগাছা।  বাড়ায় যন্ত্রণা আর সেই যন্ত্রণা ডিপ্রেশনের চেয়েও অনেক অনেক বেশি তিব্র । 



বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রতি বছর পৃথিবীতে প্রায় সাত লক্ষ মানুষ আত্মহত্যা করে।  এর মধ্যে শতকরা নব্বই শতাংশ ক্ষেত্রেই আত্মহত্যার কারণ হয় মানসিক অবসাদ।  অপসেসিভ কম্পালসিভ ডিসঅর্ডার বা ওসিডিতে আক্রান্তরা সুইসাইডের স্টেজে হয়তো খুব কমই যায় । কিন্তু যে জীবনটা তারা পার করে সেটা মৃত্যুর চেয়েও কম যন্ত্রণার নয়। এটা এমনই এক রোগ, যে রোগের কারণ জানা নেই. জানা নেই কোন প্রতিকার শতভাগ উপায়ও. ক্যান্সারের চেয়েও বেশি দুরারোগ্য এক অসুখ হিসেবে সূচিবাইকে যদি চিহ্নিত করা হয় তাহলে কিন্তু এতটুকুও ভুল হবে না. এই রোগ কিভাবে ডিপ্রেশনের চাইতেও বাজে প্রভাব ফেলে মানুষের জীবনে. 


 ওসিডি বা সূচিবাই একটি উদ্বেগজনিত রোগ. বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তালিকায় এই মেডিক্যাল ডিজেবিলিটি প্রধান দশটি রোগের মধ্যে একটি. সূচিবাই কিন্তু মোটেও বিরল কোন রোগ নয়. সারা বিশ্বে প্রতি পঞ্চাশ জনের মধ্যে একজন জীবনের কোন না কোন পর্যায়ে এই রোগে ভোগেন. 

সাধারণত শৈশব ও কৈশোরে এই রোগটি শুরু হয়. নারী, পুরুষ, উভয় এই রোগে ভুগতে পারেন. নিকট আত্মীয়দের মধ্যে এই রোগ হওয়ার আশঙ্কা পাঁচগুণ বেশি. গুরুত্বের দিক থেকে বিষন্নতা, ফোবিক ডিসঅর্ডার , মাদক শক্তির পর পরই আসে ওসিডির নাম. এই রোগের ব্যাপকতা অনেক বেশি. আর তাই এই অসুখকে চিকিৎসা বিজ্ঞানেও যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে বিচার করা হয়. কোন কিছু একবারের জায়গায় দুইবার চেক করা একটা নরমাল ব্যাপার. ধরা যায় রাতে শোবার আগে গেটের তালা লক করেছেন কিনা সেটা চেক করা. কিংবা বাইরের রুমের লাইট নিভিয়েছেন কিনা সেটা যাচাই করা. এই কাজগুলো একবারের জায়গায় দুইবার আপনি করতেই পারেন. ভুলভ্রান্তি আছে কিনা? সিওর হন. কিন্তু আপনি দরজা লক করেছেন কিনা কিংবা লাইট নিভিয়েছেন কিনা এমন ঘটনা যদি অল্প কিছুক্ষণের মধ্যেই পাঁচ থেকে সাতবার করে ফেলেন তখন বুঝতে হবে ব্যাপারটা স্বাভাবিক নয়। এখানে সমস্যা আছে বড়োসড়ো সমস্যা। 


অপসেসিভ কম্পালসিভ ডিসঅর্ডার মূলত মানসিক রোগ. মানসিক অস্থিরতা এবং উদ্বেগ থেকেই এর জন্ম. এটি এমন একটি রোগ যাতে অপসেসন অথবা কম্পালশান বা দুটোই থাকতে পারে. অপসেশান শব্দের অর্থ হল একই চিন্তা, কোন ছবি বা ইচ্ছা মনের মধ্যে বারবার ঘুরপাক খাওয়া। এক্ষেত্রে  আক্রান্ত ব্যক্তি বুঝতে পারেন যে তার এই ভাবনা অমূলক অর্থহীন. প্রয়োজনের অতিরিক্ত. তবুও তিনি সেই চিন্তা বা ইচ্ছাকে কোনভাবেই আটকাতে পারেন না বা নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন না. স্বাভাবিকভাবেই দেখা দেয় অস্বস্তি.  যেমন দরজায় তালা দিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে অফিসে পৌঁছানোর পর হঠাৎ খেয়াল হলো দরজায় তালা দিয়েছিলেন কিনা তা মনে করতে পারছেন না। এই চিন্তাটা বারবার মনে আসতে থাকায় একটা অস্বস্তি তৈরী হয়।


 অন্যদিকে compulsion হলো ওই অপসিসিভ চিন্তা বা ইচ্ছে গুলোকে কমানোর জন্য ব্যক্তি যে কাজগুলো করেন সেগুলো ।  অহেতুক চিন্তা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য আবার অফিস থেকে বাড়ি গিয়ে দরজায় ঠিক মতো তালা দেওয়া হয়েছে কিনা তা পরীক্ষা করে দেখলেন. অপসেসিভ কম্পালসিভ  ডিসঅর্ডারে আক্রান্ত রোগীদের অপসেসন বা কম্পালসান দুটোই কিন্তু একসঙ্গে হতে পারে. ধরা যাক ধর্ম বা যৌনতা নিয়ে অস্বাভাবিক কোন একটি চিন্তা বারবার কারো মনে আসছে. সেটিকে তিনি সত্য নয় বলেই জানে. যেটিকে তিনি বারবার মন থেকে সরাতে যাচ্ছেন. কিন্তু চিন্তাটা সরছে না. তখন তাঁর মনের অবস্থা কি হতে পারে? অনেকে নামাজে দাঁড়িয়ে বার বার নামাজ ছেড়ে দেয়. উল্টাপাল্টা চিন্তা মনে আসার কারণে. অনেকে জানেন তার কোনো শারীরিক অসুখ নেই. তবুও বিভিন্ন পরীক্ষা করাতে থাকেন ডাক্তারের কাছে যেতে থাকেন.

 এসএসসিতে খুব ভালো ফলাফল করা একজন ছাত্র এইচএসসিতে এসে একটি বইয়ের একটি পৃষ্ঠাই বারবার পড়ছে. কারণ পরের পৃষ্ঠায় যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তার মনে হতে থাকে আমি তো আগের পৃষ্ঠা পড়িনি. এভাবে দেখা যায় যে সে একটা লুপের মধ্যে আটকা পড়ছে. পড়শোনা ও খেলাধুলা সহ অনেক ক্ষেত্রেই অপশেশানের প্রয়োজন আছে. কিন্তু সেটা যখন মাত্রাতিরিক্ত হয়ে যায় এবং স্বাভাবিক জীবনযাত্রা এক ব্যাঘাত ঘটায় তখনই তাকে রোগ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে. 


কেন মানুষ এই অফসেসিভ কম্পালসিভ ডিসঅর্ডার বা সূচিবাই রোগে আক্রান্ত হয়? এই প্রশ্নের নিখুঁত কোন উত্তর আমাদের কাছে এখনও নেই.  অন্য অনেক মানসিক রোগের মতোই ওসিডির সঠিক কোন কারণ এখনো আবিষ্কার হয়নি. কেউ বলেন মস্তিষ্কের নির্দিষ্ট কিছু জায়গায় ফাংশান কম হওয়ার কারণে. কেউ বলেন কিছু কিছু নিউরো কেমিক্যালের তারতম্যের কারণে। কেউ আবার জেনেটিক বিষয়গুলোকে কারণ হিসেবে দাঁড় করাচ্ছেন। এসবের মধ্যে মস্তিষ্কের নির্দিষ্ট কিছু স্থানে সামান্য তারতম্যের বিষয়টি সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে ।গবেষকদের মতে ওসিডির জন্য বংশগত কারণ যদি পঞ্চান্ন ভাগ দায়ী হয়ে থাকে তবে পারিপার্শ্বিক কারণ দায়ী পঁয়তাল্লিশ ভাগ।  বংশগত কারণ ছাড়াও এটা হতে পারে. পারিপার্শ্বিকতা অনেকসময় সূচিবাই তৈরিতে ভূমিকা রাখে. বাল্যকালে শারীরিক বা যৌন লাঞ্ছনার শিকার হলে অনেক সময় পরবর্তীতে মানুষ এই সমস্যায় পতিত হয়. ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণও অনেকের বাল্যকালে সূচিবাইয়ের বীজ বনে দেয়. সন্তান জন্মদানের পরবর্তী সময়ে অনেক ক্ষেত্রে মায়ের ওসিডিতে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা কিন্তু অনেক বেশিই থাকে.



 তবে একটা জিনিস নিয়ে সবাই নিশ্চিত. এই রোগের জন্য মানসিক চাপ অনেকাংশে দায়ী. শিশুরা মানসিক চাপের ব্যাপারটা প্রকাশ করতে পারে না. তাই তাদের প্রকাশ ভঙ্গি বড়দের থেকে কিছুটা ভিন্ন হয়. স্কুলে ভর্তি বা পরীক্ষার চাপ সহপাঠীদের সঙ্গে তুলনামূলক আলোচনা. শিশুদের মনে অভিভাবকদের অজ্ঞাতই একটি কালো ছায়া ফেলে.  বয়: সন্ধীর সময় মেয়েদের পিরিয়ড শুরু হওয়া ছেলেদের স্বপ্নদোষ অনেক ক্ষেত্রে ওসিডির সূত্রপাতের ক্ষেত্রে একটা বড় ভূমিকা রাখে. কিশোর বয়সে বিয়ে গর্ভধারণ বা বাচ্চা প্রসবও প্রভাব ফেলে এতে. জীবনের যেকোনো ঘটনা দিয়ে রোগটি শুরু হতে পারে. ব্যক্তি জীবনের মানসিক চাপ, রাস্তার পাশে পড়ে থাকা পরিত্যক্ত ব্যান্ডেজ বা বর্জ্য দেখেও কিন্তু সেটা হতে পারে. তবে খুব কম ক্ষেত্রে শারীরিক রোগের কারণে এটি হয়ে থাকে. 

মস্তিষ্কের স্নায়ু রাসায়নিক সেরোটোনিন বা গ্লুটামিটের বিপাক্রিয়ার গোলযোগ থেকেও কিন্তু ওসিডি হবার সম্ভাবনা অনেক বেশি. হইতো আপনি নিজের অজান্তেই অনেকদিন থেকেই রোগে ভুগছেন । এই ওসিডি আপনাকে একটা ভুল অযৌক্তিক চিন্তার গোলকধাতায় ফেলে রেখেছে বছরের পর বছর যেটা আপনিও জানেন না।  যেই চিন্তাটাকে আপনি চাইলেও মাথা থেকে সরাতে পারেন না আর তারই কারণে আপনি ধোঁয়া ধুয়ে গোসল করা বাথরুমে ঘন্টার পর ঘন্টা কাটিয়ে দিচ্ছেন. আপনি ব্যক্তিগতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন. হাসির পাত্র হচ্ছেন সবার কাছে. আপনার পরিবার, আপনার পেশা জীবন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে মারাত্মকভাবে. আপনার এই আচরণ আপনার পরিবার বা সমাজের আর কেউ করছে না. আপনাকে বাধা দিলে আপনি রাগ করছেন । ঝগড়া করছেন, খাওয়া দাওয়া, ঘুম সব কিছুরই ব্যাঘাত ঘটাচ্ছেন। নিজস্ব একটা বলয় তৈরি করে নিচ্ছেন আপনি, পরিবার থেকে সমাজ থেকে একমাত্র আপনারই সামাজিক দূরত্ব, শারীরিক দূরত্ব বাড়ছে ক্রমশ, নিজের অজান্তেই আপনি ঘরবন্দী হয়ে পড়ছেন। এখান থেকে আপনি ধীরে ধীরে অন্যান্য মানসিক রোগ যেমন বিষন্নতা, ফোবিয়া বা প্যানিক ডিসঅর্ডারে ভুগতে পারেন. নিজেকে আঘাত করা বা আত্মহত্যার প্রবণতাও দেখা দিতে পারে. 


সঙ্গে যদি অন্যান্য শারীরিক রোগ যেমন ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ থাকে তা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে অবশ্যই. তখন ওষুধের মাত্রা বাড়িয়ে দিলেও কিন্তু এসব রোগ নিয়ন্ত্রণে আনা খুব কঠিন । একটা খুব গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন,


 আপনি যে ওসিডি বা সূচিবাই রোগে আক্রান্ত সেটা বুঝবেন   কিভাবে? নিজেকে কয়েকটা প্রশ্ন করুন. আপনি কি অতিরিক্ত ধোয়া মোছা করেন অথবা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকেন? কোন কিছু অতিরিক্ত যাচাই বাছাই করেন. আপনার মাথায় অযাচিতভাবে কি কোন চিন্তা আসে? যা কিনা আপনি চাইলেও মাথা থেকে সহজে বের করতে পারেন না. দৈনন্দিন কাজ শেষ করতে কি অতিরিক্ত বেশি সময় ব্যয় হয়? আপনার মধ্যে ফার্নিচার, বই, খাতা, কাপড় চোপড় অথবা যে কোন জিনিস নির্দিষ্ট প্যাটার্নে বসিয়ে রাখার কি প্রবণতা আছে? এসব প্রশ্নের উত্তর যদি হ্যাঁ হয় তার মানে আপনি ওসিটির ঝুঁকিতে আছেন. 

সারা বিশ্বে ওসিডি রোগীর সংখ্যা প্রচুর. শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই প্রাপ্ত বয়স্কদের প্রতি চল্লিশ জন একজন এবং শিশুদের প্রতি একশ জনে এক জন এই রোগে ভোগে. বাংলাদেশে একে রোগ হিসেবে ধরা হয় না. এ কারণে পরিসংখ্যানও পাওয়া যাবে না যে এদেশে কত লোক আসলে ওসিডিতে আক্রান্ত. কিন্তু এমন মানুষ চারপাশে খুঁজলে আপনি অজস্র পেয়ে যাবেন. সূচিবাই নিয়ে অনেকেরই অনেক ভুল ধারণা আছে ।বেশিরভাগ মানুষ মনে করেন যে এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি আসলে পরিচ্ছন্নতার প্রতি অতিরিক্ত অনুরাগী। ব্যাপারটা এতটুকুতেই সীমাবদ্ধ নয় আসলে । বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায় ওসিডিতে আক্রান্ত রোগীর মধ্যে জটিল কিছু রোগ সম্পর্কে ভয় মিশ্রিত চিন্তা বারবার দেখা দেয় ।তিনি ভয় পেতে থাকেন তার হয়তো ক্যান্সার এইডস বা HIV হবে যদিও এসব তার অমূলক ভয়। চিঠি দাগ বাক্সে ফেলে কিছুক্ষণ পরে মনে হয় চিঠি বোধহয় ফেলা ঠিক হয়নি ।


 আগেই বলেছি বিভিন্ন ধরনের আতঙ্ক এই রোগীদের গ্রাস করে।  এক একটি বিশেষ বস্তু বা অবস্থাকে কেন্দ্র করে তার মনে মারাত্মক ভয় ও আতঙ্কগ্রস্ত ভাব দেখা দেয় । অনেকের মধ্যেই অস্ত্রফোবিয়া বা বদ্ধ জায়গায় প্রচন্ড পরিমানে ভয় থাকে। যার ফলে রোগী ভিড় ট্রেনে বাসে উঠতে ভয় পায়. এছাড়াও ফাঁকা জায়গায় একা যেতে ভয়, অন্ধকারের ভয়, কঠিন রোগ ব্যাধির ভয়, একাকিত্বের ভয়ে, রক্ত দেখলে ভয় উচ্চ স্থানের ভয়. এমন নানা ধরনের আতঙ্ক ওসিডি পেশেন্টদের মধ্যে দেখা যায়. এধরণের আতঙ্ক জনিত উৎকণ্ঠার শারীরিক লক্ষণ হিসেবে দেখা দেয় দমবন্ধ ভাব, বুক ধরফরানি, গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে যাওয়া এইসব। সবচেয়ে খারাপ ব্যাপারটা কি জানেন? খালি চোখে সূচিবাই আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে পরিচ্ছন্ন থাকার বাতিক ছাড়া অন্য কোনো অসুবিধা দেখা যায় না। তাই সহজে এটাকে কেউ রোগ হিসাবে মানতেই চান না ।


ভুক্তভোগীর ভেতরের কষ্টকে অনেক সময় অবহেলা করা হয় এই ভেবে যে অমুক চিন্তাটা না করলেই তো হয় । অনেক সময় সমস্যার ধরন ও এর ভেতরের বিষয়ের কারণে রোগী নিজেও তার সমস্যাটা প্রকাশ করতে চান না। সমস্যাটা কাউকে বলার মতো না. এমনটা ভেবে নিজেই সমস্যা নিয়ন্ত্রণ করতে চান. অথচ বাস্তবতা হচ্ছে এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য চিকিৎসা খুব জরুরি. যত আগে চিকিৎসা শুরু করা যায় ততই ভালো. 


ওষুধ এবং সাইকোথেরাপি দুটোই প্রয়োজন. তবে সিবিআই এর ক্ষেত্রে সাইকোথেরাপিও কম কাজ করতে চায়. ওসিডির চিকিৎসার ক্ষেত্রে সাইকোথেরাপি এবং ফার্মাকোরাপি বা এই দুইয়ের কম্বিনেশনের কথা বলা হয়. তবে গবেষণা বলছে দুই পদ্ধতির সমন্বিত চিকিৎসা পদ্ধতি যাদের ওপর প্রয়োগ করা হয়েছে তাদের ক্ষেত্রে ফল ভালো এসেছে. সাইকোলজিকাল চিকিৎসার মধ্যে কগনেটিভ বিহেবিয়ার থেরাপি খুব উপকারী. এখানে রোগীর ভুল চিন্তাগুলোর উপর কাজ করা হয়. বিশেষ করে নেগেটিভ শট, কোর বিলিভ এগুলোর পুনর্গঠন করার চেষ্টা করা হয়. 

আরেকটা পদ্ধতি হচ্ছে ফার্মাকো থেরাপি বা মেডিসিন দিয়ে চিকিৎসা. প্রবাদ আছে কথায় চিরে ভেজে না. তাই রোগীরা কিছু মেডিসিন প্রত্যাশা করে. বাস্তবিক ভাবে কিছু অ্যান্টি ডিপ্রেশন সূচিবাই রোগীদের খুব কাজে আসে. ওসিডি রোগীদের একই সাথে এক্সাইটি ডিসঅর্ডার এবং ডিপ্রেসিভ ডিসঅর্ডার থাকতে পারে.  সেগুলোর মধ্যে চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে ওষুধ খাওয়াটাই হবে বাধ্যতামূলক. যদি কমপক্ষে ছয় মাস, সঠিক নিয়মে চিকিৎসা করা যায়. তবে অনেকে একেবারেই ভালো হয়. কারো কারো ক্ষেত্রে বহুদিন পর রোগটি ফিরে আসতে পারে. কেউ কেউ বারবার আক্রান্ত হয় এবং তাদের চিকিৎসা নিয়ে স্বাভাবিকই থাকতে হবে. ওসিডি বা সূচিবাই রোগে যারা আক্রান্ত তাদের বেশ কিছু নিয়ম কড়াকড়ি ভাবে মেনে চলতে হবে. নিয়মিত রিলাক্সেশন অভ্যাস করা উচিত. যোগব্যায়াম, মাইন্ডফোল মেডিটেশন, ডিপ ব্রিদিং এক্সারসাইজ. এই রোগীদের স্ট্রেস ও টেনশন কমানোর জন্য কার্যকরী।  পর্যাপ্ত ঘুম ও ব্যায়াম চর্চা করতে হবে. অবশ্যই বর্জন করতে হবে অ্যালকোহল আর নিকোটিন. মিষ্টি খাবার ওসিডি রোগীদের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর. বেশি করে খেতে হবে ফলমূল. অপসেসিভ কম্পালসিভ  ডিসঅর্ডার যেহেতু সবচেয়ে কঠিন ধরনের অ্যাংজাইটি নিউরোসিস. এই রোগীদের খাদ্যতালিকায় প্রসেসড মিট ও ফিস আর মিষ্টিযুক্ত ডিজার্ভ রাখা একেবারেই উচিত হবে না.


 অন্যান্য শারীরিক রোগ যেমন ডায়বেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, যেমন নিয়মিত চিকিৎসা এবং হেলদি লাইফ স্টাইল মেইনটেইনের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা যায়. ঠিক তেমনি এই ওসিডি রোগটিও চিকিৎসার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব. এইসব আচরণগুলোকে স্বাভাবিক না ভেবে কমিয়ে আনতে চেষ্টা করুন. সচেতন হন. প্রয়োজনে মনোরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন. একটা জিনিস মনে রাখবেন ওসিডির বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় লড়াই হল নিজের লড়াই। যেকোনো মানসিক সমস্যা মোকাবিলার সবচেয়ে কার্যকরী উপায় হল নিজের মনের সাথে বোঝাপড়া করে ফেলা. যে কাজগুলো না করে শরীর থাকতে পারে না সেই কাজগুলো যদি ক্ষতিকর হয় তাহলে সেগুলো করার ব্যাপারে নিজেকেই বাধা দিতে হবে. কিন্তু এখানেই সবচেয়ে বড় সমস্যাটা হয়. ওসিডিতে আক্রান্ত ব্যক্তি শতকরা নিরানব্বই ভাগ ক্ষেত্রেই পরিবার বা বন্ধু বান্ধবের সাহায্যটা পান না বরং তার এই কর্মকাণ্ডগুলো নিয়ে হাসি ঠাট্টা করা হয় । কাজেই কারো মধ্যে সূচিবায়ের লক্ষণ গুলো দেখলে তার পাশে দাঁড়ান।   

   


কাঁধে ভরসার হাত রাখুন তাকে সাহায্য করুন একটু অবহেলাও মারাত্মক কোনো পরিণতি ডেকে আনতে পারে। মনে রাখবেন লাইফ is beautiful । না না সিনেমার কথা বলছি না । জীবন আসলেই সুন্দর আমরা যদি একটু কৌশলী হই ছোটোখাটো মানসিক সমস্যা গুলো এড়িয়ে না গিয়ে সেগুলোর মোকাবিলার ব্যবস্থা করি । ওসিডিও সেরকম একটা সমস্যা যার প্রতিকার আছে। যে সমস্যা থেকে মুক্তি পাবার উপায় আছে। কেন তাহলে এই চোরাবালিতে ডুবে জীবনটাকে যন্ত্রণাময় করে তুলবেন? আপনি যদি ওসিডিতে আক্রান্ত হয়েও থাকেন কোন অপরাধ তো আর করে ফেলেন নি । ব্যবস্থা নেন রোগের বিরুদ্ধে. ডাক্তারের কাছে যান. জীবনকে একটা নিয়মের মধ্যে নিয়ে আসুন. মানসিক শক্তি বাড়ান।  জীবনটা যেহেতু আপনার একে সুন্দর করে সাজানোর দায়ভারও কিন্তু আপনার. এই কথাটা মাথায় রাখবেন.   



মন্তব্যসমূহ

Blog Posts

ন্যানো টেকনোলজি কিভাবে কাজ করে ?

  যদি বলি আপনার চোখ দেখতে পারে না এমন গভীর ও প্রায় অনাবিষ্কৃত একটা পৃথিবী আছে. হয়তো বলতে পারেন যে মহাবিশ্বে কত গ্রহই তো আছে? সব খোঁজ কি আমরা পেয়েছি? কিন্তু যদি বলি আমাদের এই পৃথিবীর ভেতরে আরো একটি জগত আছে এবং যে জগৎ ছড়িয়ে আছে আমাদের গোটা বিশ্ব জুড়ে. এইবার হয়তো নড়েচড়ে বসবেন. হ্যাঁ আমাদের চোখের সামনেই রয়েছে এমন এক রাজ্য যে আমরা খালি চোখে দেখতে পাই না. এটাকে বলা হয় অণুবীক্ষণিক বিশ্ব. এই অণুবীক্ষণই বিশ্ব প্রচন্ড আকর্ষণীয় ও চমকে দেওয়ার মতো. কি কি ঘটছে এখানে তা আমার আপনার কল্পনারও বাইরে. এটা যেন কোনো ভিন গ্রহ বাসীদের রাজ্য. সম্ভাবনার দুয়ার খুলে রাখা আছে এই অণুবীক্ষণিক বা nano বিশ্বে.  ন্যানো কি ন্যানো হলো পরিমাপের একক। এক মিটারের একশো কোটি ভাগের এক ভাগ হচ্ছে এক ন্যানো। আর ন্যানো টেকনোলজি হলো বিজ্ঞানের এই অতি ক্ষুদ্র স্তরে একটা কিছু তৈরী করা আসলে শুধু তৈরি করা না. ন্যানোমিটার স্কেলে পরিবর্তন, পরিবর্তন, ধ্বংস বা সৃষ্টি সম্পর্কিত টেকনোলজিকেই ন্যানো টেকনোলজি বলে. অর্থাৎ ন্যানোমিটার স্কেলে পরিমিত যেকোনো বিষয়ে বহুমাত্রিক টেকনোলজিকে ন্যানো প্রযুক্তি বা ন্যানো টেকনোলজি বলা যে...

লুসিড ড্রিম কাকে বলে ? লুসিড ড্রিম কিভাবে দেখতে হয় ?

 স্বপ্ন নিয়ন্ত্রণ করার কথা ভেবেছেন কখনো? নিশ্চয়ই ভাবছেন জেগে জেগে দিবাস্বপ্ন দেখার কথা বলছি না তো? কিন্তু না, রীতিমতো ঘুমিয়ে দেখা স্বপ্নও নিয়ন্ত্রণের কথাই বলছি, আপনার ইচ্ছামত স্বপ্ন দেখবেন। ইচ্ছা মতো নিয়ন্ত্রণ করবেন। আর পছন্দ না হলে অর্থাৎ দুঃস্বপ্ন দেখা শুরু করলে সেটার গতিপথ পাল্টে দেবেন একেবারে নিমেষে। আধুনিক বিজ্ঞানের ভাষায় এটা খুবই সম্ভব একে বলা হয় লুসিভ ড্রিম। লুসিড ড্রিমিং এর সাথে আপনারা অনেকেই হয়তো পরিচিত আছেন। অনেকে পরিচিত থাকলেও হয়তো এটা কেন হচ্ছে বা কিভাবে হচ্ছে তা নিয়ে বেশ দ্বিধা দ্বন্দ্বে আছে এসবেরই উত্তর মিলবে আজকের এই লিখাতে।   লুসিড ড্রিম অর্থ কি? সহজ বাংলায় অনুবাদ করতে গেলে বলা যায় লুসিড অর্থ পরিষ্কার. অর্থাৎ স্পষ্ট আর dream মানে তো আমরা সবাই জানি যে স্বপ্ন। লুসিড ডিম হলো সেই স্বপ্ন যে আমাদের স্পষ্ট ভাবে মনে থাকে এবং স্বপ্ন চলাকালীন সময়েও আমরা এ উপলব্ধি করতে পারি যে এটি বাস্তব নয় বরং এটি স্বপ্ন কিন্তু শুধুমাত্র আক্ষরিক অর্থ দিয়ে লুসিড ড্রিম ব্যাখ্যা করলে ভুল হবে একটু অন্যভাবে বলা যাক ।  মনে করুন স্বপ্নে আপনি কি পাহাড়ের উপর থেকে দ্রুত গ...

প্রযুক্তি দুনিয়াতে পর্দার আড়ালে থেকে যাওয়া এক প্রতিভাবান এর গল্প ।

পর্দার আড়ালে একা খেলে যাচ্ছেন একজন. কামাচ্ছেন বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার. অথচ তাকে চেনে খুব কম সংখ্যক মানুষ. আইটি জগতে ইলন মাস্ক, জেফ বোজোস বা বিট গ্রেটসের সাথে তার নামও সমান তালে চলার কথা ছিল. কিন্তু বিহাইন্ড দা সিনে একা গোল করে যাচ্ছেন তিনি. নাম ড্রোন ইয়াং পিং ড্রোন ইয়াং পিং নামটি মোবাইল ফোনের জগতে খুবই কম মানুষের শোনা. তবে তার নাম অজানা থাকলেও তার কোম্পানি বিবিকে ফোন গিগদের মধ্যে বেশ পরিচিত. ওয়ান প্লাস, রিয়েলমি, অপো, ভিভো এবং আইকিউ. এই পাঁচটি জনপ্রিয় মোবাইল ব্র্যান্ডের একক মালিক ডোন ইয়াং পিন.  এই ব্র্যান্ড গুলো তার কোম্পানিতে পরিণত করেছে বর্তমানের সবচেয়ে বড় মোবাইল ফোন উৎপাদনকারী কোম্পানিতে. অ্যাপেল , শাওমি বা স্যামসাং যারা মোবাইল ফোনের জগতে বর্তমানে সবচেয়ে বড় ব্র্যান্ড তাদেরকেও পেছনে ফেলে এগিয়ে গিয়েছে বিবিকে কোম্পানি। কিন্তু এত সফলতার সত্ত্বেও বেশিরভাগ মোবাইল ফোন ব্যবহারকারী এমনকি ফোন গিগরাও তার সম্পর্কে বলতে গেলে তেমন কিছুই জানে না. এলেন মাস্ক, স্টিভ জবস বা জ্যাকমা, যারা কিনা টেকনোলজির জগতে খুবই পরিচিত তাদের সম্পর্কে অনলাইনে  অগণিত তথ্য রয়েছে। কিন্তু ডন ইয়ং পিং এর...

সারোগেসি কি ?

সারোগেসির মাধ্যমে সন্তান ধারণ করা নিয়ে এখনো বহু বিতর্ক আছে. শুধু আমাদের দেশে নয়, সারা বিশ্বেই এই পদ্ধতি নিয়ে তর্ক বিতর্কের শেষ নেই.  এটার আইনি প্রক্রিয়াও জটিল। কারণ এটি একেক রাষ্ট্রে. শারোগেসি আইন একেক রকম. নারী মা হবেন প্রাকৃতিক নিয়ম সমাজ এমনটাই দেখতে অভ্যস্ত. কিন্তু কোন কারণে মা হবার ক্ষমতা না থাকলে তাকে পরিবার ও আশপাশ থেকে যে পরিমাণ কটু কথা শুনতে হয় তা সাধারণ মানুষের ধারণারও বাইরে.   সরোগেসি বিষয়টি কি? চিকিৎসা শাস্ত্রের অগ্রগতি এমন মায়েদের সামনে এনেছে যারা গর্ভ ভাড়া দিয়ে নিজে বাঁচেন অন্যদের মাতৃ সুখ দেন । একজন নারীর গর্ভে অন্য দম্পতির সন্তান ধারণের পদ্ধতিকে সারোগেসি বলা হয়.সারোগেসির এই  পদ্ধতি বেশ দীর্ঘকালীন. আইভিএফ পদ্ধতিতে স্ত্রী ও পুরুষের ডিম্বাণু শুক্রাণু দেহের বাইরে নিষিক্ত করে তা নারীর গর্ভাশয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়. কিন্তু এখানেও জটিলতা. কেন? সে বিষয়ে পরে আসছি. বাংলাদেশ সহ বহু দেশই এই সারোগেসি একরকম ভাবে নিষিদ্ধ. সুতরাং বিষয় টি  সংবেদনশীল. এমনকি বেশিরভাগ ধর্মেও রয়েছে নিষেধাজ্ঞা. চলুন কথা বলি সারোগেসি মাদার সম্পর্কে। আইভিএফ বা টেস্ট টি...

পেগাসাস স্পাইওয়ার কি ?

গত কিছুদিন ধরেই বিশ্ব রাজনীতি এবং প্রযুক্তি জগৎ এই দুই জায়গাতেই আলোচনার বিষয়বস্তু একটাই। সেটা হচ্ছে পেগাসাস স্পাইওয়ার. বিশ্বজুড়ে নানান দেশের মানবাধিকার কর্মী সাংবাদিক আইনজীবী ও রাজনীতিকদের ফোনের নজরদারি চালানোর ঘটনা ফাঁস হওয়ার পর ইজরায়েলের বেসরকারি কোম্পানি nso গ্রুপের তৈরি করা এই সফটওয়্যার নিয়ে এখন তুমুল তরজা চলছে দুনিয়া জুড়ে । চলুন কথা বলি দুনিয়া ওলট পালট করে দেওয়া স্পাইওয়ার সম্পর্কে । পেগাসাস মূলত একটি নজরদারি বিষয়ক সফটওয়্যার । ইজরাইলের সংস্থা এনএসও ই সফটওয়্যার তৈরি করেছে। যা দিয়ে যে কারো মোবাইলে আড়ি পাতা যায়. এটা কিন্তু সাধারণ কোন নজরদারি নয়. আগে ফোনে আড়ি পেতে শুধু দুই প্রান্তের কথাবার্তা শোনা যেত. আর সফটওয়্যারের মাধ্যমে গোটা ফোনটারই নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় হ্যাকাররা. ফোনের কথাবার্তা WhatsApp এর চ্যাট, ছবি, ফোনে কি কি তথ্য আছে সবই জানা যায়. আরো ভয়ানক ব্যবহার হচ্ছে মোবাইল যিনি ব্যবহার করছেন তিনি জানতেই পারেন না যে তার ফোন হ্যাক করা হয়েছে. সমস্ত তথ্য পাচার হয়ে যাচ্ছে নির্দিষ্ট একটি গোষ্ঠীর কাছে. কিন্তু কারো ফোনে পেগাসাস software install করতে হলে তো সেই ফোনটাকে...

রেট রেস কি ?

      আপনি ঠিক কখন ইঁদুর দৌড়ে যোগ দিয়েছেন এটা হিসাব করা কঠিন. কিন্তু নিশ্চিত থাকুন আপনি এই দৌড়ে আছেন. ক্লাস eight এ পড়ার সময়ের কথা মনে আছে? সামনে বৃত্তি পরীক্ষা পাটিগণিত বীজগণিতের অংক প্যাঁচ লাগাচ্ছে বিজ্ঞানের জটিল সব সূত্র ভোরে ওঠে প্রাইভেট টিউটরের বাসায় ছোটা রাত জেগে পড়াশোনা. বয়সের তুলনায় অনেক বেশি কর্ম ব্যস্ত একটা সময় নিশ্চয়ই কাটিয়েছেন তখন? আমরা সবাই কাটিয়েছি. সেই সময় নিশ্চয়ই অভিভাবক বলেছে এই তো আর কটা দিন. বৃত্তি পরীক্ষা শেষ হলেই জীবন শান্তি আর শান্তি. জীবনের নানা এপিসোডে আপনি এই কথাগুলো শুনেছেন অনেকবার অনেকের মুখে. এসএসসি পরীক্ষাটা দাও, কলেজে উঠলেই তো স্বাধীনতা. একবার ভার্সেটিতে উঠতে পারলেই জীবন হবে আনন্দে ভরপুর. একবার জব লাইফে ঢোকো. নিজের টাকায় আয়েশ করার মজাই অন্যরকম. শুনেছেন না এসব?  বয়স ঘড়ির ত্রিশের প্রান্তে দাঁড়িয়ে হিসেবগুলো মেলাতে পারেন কি? কি মনে হয়? এই এপিসোডগুলোর কোনোটা পার হবার সময় জীবন খানিকটা হলেও সহজ হয়েছে? সুন্দর হয়েছে? হয়নি, হবেও না, মিথ্যা একটা মরীচিকার আশায় আমরা ছুটেছি ঠিকই আমাদের ছোটানো হয়েছে, কিন্তু হিসাব মেলেনি ছুটত...

ম্যান্ডেলা ইফেক্ট কেনো হয়?

   আচ্ছা নিজের স্মৃতি শক্তির উপর কতটা বিশ্বাস আছে আপনার? আচ্ছা বাদ দিয়ে আপনার কথা. গণমানুষের স্মৃতিশক্তির উপর নিশ্চয়ই বিশ্বাস আছে অনেকটা. না না. ধর্মীয় কোন বিশ্বাস না. এই গ্রহে ঘটে যাওয়া এমন সব ঘটনা. যা সবাই জানে. তা কি রকম মিথ্যা? এক দশক আগেও পৃথিবীর প্রায় এক তৃতীয়াংশ মানুষ জানতো যে অস্ট্রেলিয়ার রাজধানীর নাম সিডনি. আসলে কি তাই? গত এক দশকে এই ধারণা মোটামুটি পরিবর্তন হয়ে মানুষ জেনেছে অস্ট্রেলিয়ার রাজধানীর নাম ক্যানভেরা. এখনো এই ভুল হরমামেশাই করে যাচ্ছে মানুষ. বিশ্বাস না হলে আশেপাশের কিছু মানুষকে জিজ্ঞেস করে দেখতে পারে. প্রশ্ন করতে পারেন ম্যান্ডেলার নাম কেন? এই ফ্ললস মেমোরি সিন্ড্রোমকে ম্যান্ডেল এফেক্ট নামকরণ করেছেন প্যারানরমাল কনসালটেন্ট ফীয়না ব্রুম তার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে । দু হাজার দশ সালের এক আলোচনা সভায় উঠে আসে দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদ বিরোধী আন্দোলনের নেতা উনিশশো আশি সালে কারা জানে মারা যাওয়ার প্রসঙ্গ । অনেকেই সেদিন বলেছিল, টিভিতে এই নেতার শেষকৃত্যের আনুষ্ঠানিকতা দেখার অভিজ্ঞতার কথা. ম্যান্ডেলার স্ত্রীর হৃদয় নিন্দারও ভাষণের কথা উল্লেখ করেছিলেন কেউ কেউ. এমনক...

কিভাবে লিমিটলেস হওয়া যায় ? লিমিটলেস আসলে কিভাবে কাজ করে ?

এনজিটিপিল,  এটা এমন এক পিল যা আপনাকে করবে আল্ট্রা ফোকাসড. দেবে দুর্দান্ত মোটিভেশন. বের করে আনবে আপনার সর্বোচ্চ সম্ভাবনা. আপনি হয়ে উঠবেন আনস্টপল. বাস্তবতা পাবে প্রতিটি স্বপ্ন. কিন্তু সমস্যা হচ্ছে এমন কোন পিলের অস্তিত্ব নেই. ফলাফল আপনি আটকে আছেন একটি খাদে. সারাক্ষণ ক্লান্তি নিয়ে হয়ে উঠছেন আনপ্রোডাক্টিভ. নষ্ট হচ্ছে ক্রিয়েটিভিটি. সময় গড়িয়ে যায়. ঋতুর পরিবর্তন ঘটে. কিন্তু আপনি ডুবে থাকেন এক হতাশায় যাতে আপনি দিন দিন পিছিয়ে পরছেন. আপনি যা যা এতদিন অর্জন করবেন ভেবেছিলেন তা কিছুই আপনি অর্জন করতে পারেননি । নিজেকে সান্তনা দিচ্ছেন আগামীকাল হবে ভিন্ন। কিন্তু তা কখনোই হয়ে ওঠে না এখন যদি আপনাকে বলি কোনো জাদুকরী পিলের সাহায্যে নয় বাস্তবিক লিমিটলেস হয়ে ওঠা সম্ভব।  একদম প্রমাণিত পদ্ধতিতে যা একেবারে ফ্রিতে ব্যবহার করা সম্ভব.  তো আছেন তো শেষ পর্যন্ত ?  Limit less হওয়ার যাত্রায় ।  স্টেপ ওয়ান : এনার্জি--  মাত্র কয়েক মাস আগে আমি নিজেও আপনার মতো কর্মশক্তিহীন অনুভব করতাম. সামান্য কাজেই আসতো অবসন্নতা, গেয়ে ধরতো ক্লান্তি একদিন হঠাৎ টের পেলাম আমি নিজেই নিজের energy নি...

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কি ? আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কতটা ভযঙ্কর হতে পারে আগামী দিনের জন্য ?

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বহুল চর্চিত এবং ব্যবহৃত একটি শব্দ. মানুষের বুদ্ধিমত্তা ও চিন্তা শক্তিকে কম্পিউটার প্রোগ্রামিং এর মাধ্যমে মেশিন ল্যাঙ্গুয়েজে স্থাপন করা টেকনোলজিটাই হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স । এর মাধ্যমে কোন যন্ত্র নির্দিষ্ট প্রোগ্রামের আওতাধীন কিছু কাজ নিজে থেকেই করতে পারে নিজে নিজে সিদ্ধান্ত নিতে পারে।  টার্মিনেচার টাইপের কোনো সাইফাই সিনেমার গুরু বন্ধুর সংলাপ নয়।  A.I নিয়ে ভবিষ্যৎবাণী করেছিলেন পৃথিবীর সেরা বিজ্ঞানীদের একজন স্টিফেন হকিং আমার ভয় হয় তারা সত্যিই হয়তো একদিন মানুষকে হটিয়ে নিয়ন্ত্রকের আসনে বসে যাবে। বেঁচে থাকতেই BBC কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স তথা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে এভাবেই সবাইকে সতর্ক করেছিলেন তিনি। হকিংসের এই ভয় এখনো ভবিষ্যতের বিষয় হলেও অমূলক নয় মোটেও যন্ত্রকে বুদ্ধিমান করে তার আশীর্বাদ অনেক আছে। কিন্তু দীর্ঘ মেয়াদে সেই যন্ত্রই পৃথিবীর দখল নিতে চলেছে কিনা স্বয়ং সম্পূর্ণ হয়ে মানুষকেই বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে একদিন অপদার্থ তে পরিণত করবে কিনা সেই প্রশ্নটা উঠছে বারবার।  যুক্তরাষ্ট্রে...

মিনিমালিজম কি ? কিভাবে মিনিমালিস্ট হওয়া যায় ?

মিনিমামলিজম এই ধারণাটি বিগত কয়েক বছরে বেশ জনপ্রিয়তা লাভ করেছে এবং এর যথেষ্ট কারণও আছে. এই পুরো ব্যাপারটা কি? সেটাকে সঙ্গায়িত করা যায় এভাবে যে,  মিনিমালিজম হচ্ছে যা আমাদের জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সেগুলোকে ধারণ করা এবং বাকি সব কিছু যা আমাদের দৃষ্টিকে অন্যদিকে সরিয়ে নেয় সেগুলোকে ইচ্ছাকৃতভাবে ত্যাগ করা।   অর্থাৎ কোন কোন বিষয়ে জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং কোন জিনিসগুলোকে আমাদের কাছে সবচেয়ে মূল্যবান সেই সম্পর্কে একটা পরিষ্কার ধারণা থাকা এবং বাকি সব ত্যাগ  করে দেয়. সেগুলো নিয়েই জীবন ধারণ করা. কিন্তু এমন সংজ্ঞায়ন সত্ত্বেও minimalism কোন ধরাবাধা জীবন ব্যবস্থা নয় বা মিনিমালিস্ট হতে হলে কোন নির্দিষ্ট মানদণ্ড মেনে চলতে হবে এরকমটিও কিন্তু নয়. মিনিমালিস্ট লাইফ স্টাইল এমন একটি বিষয় যা প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য স্বতন্ত্র। এক্ষেত্রে মূল বিষয়টি হচ্ছে সত্যিকার অর্থে কোন কোন বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও প্রয়োজনীয় সেই সম্পর্কে একটা পরিষ্কার ধারণা নিয়ে সেই অনুযায়ী জীবন ধারণ করা. প্রিয় দর্শক চলুন দেখি মিনিমালিজম কিভাবে আপনার জীবনধারা বদলে দিতে পারে।  মিনিমালিস্ট জীবন অবশ...