সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

শ্রীলংকা কিভাবে অর্থনৈতিক ভাবে দেউলিয়া হল ?

   দক্ষিণ এশিয়ার দ্বীপ রাষ্ট্র শ্রীলঙ্কা চরম এক অর্থনৈতিক সংকটের ভেতর দিয়ে যাচ্ছে. উনিশশো আটচল্লিশ সালে স্বাধীনতা লাভের পর থেকে শ্রীলঙ্কা কখনো এত দূরবস্থায় পড়েনি. এর অন্যতম প্রধান কারণ হলো দেশটি বৈদেশিক ঋণের ভারে জর্জরিত. 

পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য আমদানি করার মতো বৈদেশিক মুদ্রাও নেই শ্রীলঙ্কার কাছে. সেকারণে দেশটিতে জিনিসপত্রের দাম আকাশ ছোঁয়া.  জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটের কারণে হাজার হাজার মানুষ তেল সংগ্রহের জন্য লাইনে ভিড় করছে. পরিস্থিতি সামাল দিতে শ্রীলংকার পেট্রোল পাম্প গুলোতে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে. কাগজ আমদানি করার মতো টাকাও নেই. তাই স্কুলের পরীক্ষাও বাতিল করা হয়েছে.   শ্রীলংকা গত পনেরো বছরে বেশ কিছু মেগা প্রকল্প হাতে নিয়েছে. এর মধ্যে সমুদ্র বন্দর, বিমানবন্দর, রাস্তা নির্মাণ এবং আরও নানা ধরনের প্রকল্প রয়েছে. দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞরা বলছেন এইসব প্রকল্পের বেশিরভাগই অপ্রয়োজনীয়. এইসব প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য বিভিন্ন উৎস থেকে শ্রীলংকা বিপুল অর্থ ঋণ নিয়েছে. ঋণ নিয়ে দেদারসে অর্থ খরচ করা হলেও অনেক প্রকল্প অর্থনৈতিক ভাবে লাভজনক হয় নি. যে সমস্ত প্রকল্প শ্রীলঙ্কার জন্য সব চেয়ে বড় বিপদ ডেকে এনেছে. তার মধ্যে রয়েছে হাম্বান্ডোটা সমুদ্র বন্দর ও বিমানবন্দর. 


হাম্বান্ডোটায় নতুন একটি এয়ারপোর্ট তৈরি করা হলেও সেটি কার্যত অব্যবহৃত রয়েছে. কারণ এয়ারলাইনস গুলো সেখানে যেতে চায় না. আরেকটি উচ্চাভিলাসী প্রকল্প হলো কলম্বো port city. সমুদ্রের মাঝে কৃত্রিম ভূমি তৈরি করে অত্যাধুনিক শহর গড়ে তোলার প্রকল্প কলম্ব port city. এই শহর দিয়ে দুবাই সিঙ্গাপুর এবং হংকংকে টেক্কা দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল তাদের. চিনের সাথে যৌথ উদ্যোগে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে শ্রীলঙ্কা. এর বাজেট ধরা হয়েছে প্রায় দেড় বিলিয়ন ডলার. এবং কাজ শেষ হতে সময় লাগবে পঁচিশ বছর. কিন্তু ততদিনে শ্রীলঙ্কার অর্থনৈতিক কোথায় গিয়ে দাঁড়ায় সেটাই দেখার বিষয়. ইতিমধ্যে শ্রীলঙ্কা জুড়ে চলছে শুধুই হাহাকার. শ্রীলংকার অর্থনৈতিক সমস্যা রাতারাতি তৈরি হয়নি. গত পনেরো বছর ধরে এই সমস্যা পুঞ্জীভূত হয়েছে. দেশি বিদেশি বিভিন্ন উৎস থেকে ক্রমাগত ঋণ নিয়েছে শ্রীলঙ্কার বিভিন্ন সরকার. গত পনেরো বছর ধরে শ্রীলংকায় সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ খুব একটা হয় নি. বিদেশি বিনিয়োগের পরিবর্তে বিভিন্ন মেয়াদে থাকা সরকার ঋণ করার প্রতি মনোযোগী হয়েছে. গত এক দশকে চিনের কাছ থেকে শ্রীলঙ্কার ঋণ নিয়েছে পাঁচ বিলিয়ন ডলার. এই ঋণ দিয়ে শ্রীলঙ্কা বিভিন্ন অবকাঠামো তৈরি করেছে. এক্ষেত্রে শুধু চিনের ঋণকে দোষারোপ করা যাবে না. চীনের কাছ থেকে ঋণ নেওয়া সহজ. তাই শ্রীলঙ্কা চীন থেকে বিপুল অর্থ ঋণ নিয়েছে. শ্রীলংকার মোট ঋণের মাত্র দশ শতাংশ নেওয়া হয়েছে চীন থেকে. 


এ ছাড়া এশীয় উন্নয়ন ব্যাঙ্ক, জাপান এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মুদ্রা বাজার থেকেও শ্রীলংকা বহু ঋণ নিয়েছে. এর মধ্যে অন্যতম উৎস হচ্ছে সার্বভৌম বন্ড. দুই হাজার সাত সাল থেকে দেশটির সরকার অর্থ জোগাড়ের জন্য সার্বভৌম বন্ড ইস্যু করেছে. অর্থনীতিবিদরা বলছেন একটি দেশের আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি হলে এই ধরনের সার্বভৌম বন্ড বিক্রি করা হয়. আন্তর্জাতিক পুঁজিবাজারে এ ধরনের বন্ড বিক্রি করে অর্থের জোগান দেওয়া হয়. শ্রীলংকা ঠিক সেই কাজটিই করেছে. শ্রীলংকার মোট ঋণের সাতচল্লিশ শতাংশ বাণিজ্যিকভাবে বিভিন্ন বন্ড ইস্যু করে নেওয়া হয়েছে. কিন্তু এই অর্থ কিভাবে পরিশোধ করা হবে সে ব্যাপারে খুব একটা চিন্তা ভাবনা করা হয় নি. আন্তর্জাতিক সার্বভৌম bond বাবদ শ্রীলংকার ঋণ রয়েছে সাড়ে বারো billion মার্কিন ডলার. এছাড়া শ্রীলংকার কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক এবং দেশীয় আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো থেকেও সরকার বহু ঋণ করেছে. সব মিলিয়ে চলতি বছর শ্রীলংকাকে প্রায় সাত বিলিয়ন ডলার ঋণ পরিশোধ করতে হবে. এই সাত বিলিয়ন ডলার ঋণের মধ্যে বৈদেশিক ঋণ দেড় বিলিয়ন ডলার. কিন্তু চলতি বছরের শ্রীলংকা এইসব ঋণ কিছুতেই পরিশোধ করতে পারবে না. তবে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক জানিয়েছে গত দুই বছরে আন্তর্জাতিক সার্বভৌম বন্ড বাবদ যে ঋণ নেওয়া হয়েছে সেখান থেকে আড়াই বিলিয়ন ডলার পরিশোধ করা হয়েছে. সর্বশেষ জানুয়ারি মাসে পাঁচশো মিলিয়ন ডলার পরিশোধ করেছে শ্রীলঙ্কা. ফলে শ্রীলঙ্কার বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে টান পড়েছে. সে কারণে দেশটি জ্বালানি তেল এবং অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য আমদানি করতে পারছে না. 

 শ্রীলংকা একদিকে ঋণের বোঝায় জর্জরিত. অন্যদিকে দুই হাজার উনিশ সালে শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট vat এবং tax কমানোর সিদ্ধান্ত নেয়. এই পদক্ষেপে অনেকেই বিস্ময় প্রকাশ করেছিল. ভ্যাট প্রদানের হার পনেরো শতাংশ থেকে কমিয়ে আট শতাংশে নামিয়ে আনা হয়. Vat tax কমানোর মূল কারণ ছিল অর্থনীতিতে গতি সঞ্চার করা. কিন্তু এর কয়েক মাসের মধ্যেই বিশ্বজুড়ে করোনা ভাইরাস মহামারী শুরু হয়. আয়কর এবং ভ্যাট কমানোর ফলে সরকারের রাজস্ব আয় পঁচিশ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়. ফলে সরকার আরো বেশি ঋণ নিতে বাধ্য হয়. শ্রীলঙ্কায় বৈদেশিক মুদ্রার বড় যোগান আসে দেশটির পর্যটন খাপ থেকে. ।


 করোনা ভাইরাস মহামারীর কারণে প্রায় দুই বছর পর্যটন শিল্প বন্ধ ছিল. শ্রীলঙ্কায় সবচেয়ে বেশি পর্যটক আসতো চীন থেকে. কিন্তু চীনে করোনা ভাইরাস সংক্রান্ত বিধি নিষেধ কঠোর থাকার কারণে চীন থেকে পর্যটক আসতে পারেনি. এর ফলে দেশটির পর্যটন খাতে বিপর্যয় নেমে আসে. এছাড়া মহামারীর কারণে ব্যবসা বাণিজ্য ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়. দেশটিতে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের আর একটি বড় জায়গা হচ্ছে বিভিন্ন দেশে কর্মরত শ্রীলংকার নাগরিকদের পাঠানোর রেমিটেন্স. কিন্তু করোনা ভাইরাস মহামারীর সময় রেমিটেন্স প্রবাহ বন্ধ থাকার কারণে শ্রীলঙ্কা আরো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়. মহামারীর আগে পর্যটন এবং রেমিটেন্স থেকে শ্রীলঙ্কা বারো বিলিয়ন ডলার আয় করত. অর্থ উপার্জন বন্ধ হয়ে থাকলেও এই সময়ের মধ্যে শ্রীলঙ্কা সরকার বিদেশি ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে বাধ্য হয়. ফলে সব দিক থেকে শ্রীলঙ্কার অর্থনীতির উপর প্রচন্ড চাপ তৈরি হয়.





  



দুই হাজার উনিশ সালে কৃষি ক্ষেত্রে রাসায়নিক সার এবং কীটনাশক ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয় এবং organic কৃষি বাধ্যতামূলক করা হয়. সেজন্য শ্রীলঙ্কায় সার আমদানিও নিষিদ্ধ করা হয়. এর ফলে কৃষি ক্ষেত্রে সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। তখন শ্রীলঙ্কায় চালের উৎপাদন বিশ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়. একসময় চাল উৎপাদনের স্বয়ংসম্পূর্ণ শ্রীলঙ্কা বাধ্য হয়ে চারশো পঞ্চাশ মিলিয়ন ডলারের চাল আমদানি করে. সেজন্য দেশটির প্রধান খাবার চালের দামও হু হু করে বাড়তে থাকে. দেশ জুড়ে একই সাথে খাদ্য ঘাটতিও প্রকট আকার ধারণ করে. তখন কৃষকদের ক্ষতি পুষিয়ে আনার জন্য সরকার দুইশো মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দেয়. অর্গানিক কৃষির নেতিবাচক প্রভাব পড়ে শ্রীলঙ্কার চা উৎপাদনের ক্ষেত্রেও. চার রপ্তানি করে শ্রীলঙ্কা অনেক বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতো. সেখানেও আসে বড় ধরনের ধাক্কা. ইরানের কাছ থেকে জ্বালানি তেল আমদানি বাবদ আড়াইশো মিলিয়ন ডলার পরিশোধ করতে পারেনি শ্রীলঙ্কা. এর বিনিময়ে তারা প্রতি মাসে পাঁচ মিলিয়ন ডলারের চা ইরানে রপ্তানি করবে. এভাবে ধীরে ধীরে চা দিয়ে ঋণ পরিশোধ করা হবে. বিশ্লেষকেরা বলছেন অর্গানিক কৃষি চালু করার আগে বিষয়টি নিয়ে যথেষ্ট পরিমাণ গবেষণা করা হয় নি. সে কারণে এতে লাভের বদলে উল্টো ক্ষতি হয়েছে. বর্তমান সংকট সামাল দিতে শ্রীলংকার প্রয়োজন বৈদেশিক মুদ্রা. সেই জন্য অনেকের দ্বারস্থ হয়েছে দেশটি. চীন, ভারত ও বাংলাদেশের কাছে আরো ঋণের আবেদন করেছে শ্রীলঙ্কা. আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল বা IMF এর সাথেও শ্রীলঙ্কা আলোচনা করছে. IMF এর কাছ থেকে ঋণ পেতে পনেরো শতাংশ পর্যন্ত মুদ্রার অবমূল্যায়ন করেছে দেশটি. বর্তমানে মার্কিন এক ডলারের বিপরীতে শ্রীলংকার অর্থের মূল্য দুইশো পঁচানব্বই রুপি. আর বাংলাদেশী এক টাকায় শ্রীলঙ্কার মুদ্রামান সাড়ে তিন রুপি. তাদের মুদ্রার মান ক্রমাগত নিচে নেমেই চলেছে. অর্থনীতিবিদরা বলছেন মধ্যম এবং দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপের মাধ্যমে বর্তমান সংকট থেকে শ্রীলংকা বেরিয়ে আসতে পারে. সেই জন্য দেশটির রপ্তানি আয় বাড়াতে হবে. তার জন্য প্রয়োজন বৈদেশিক বিনিয়োগ. এ ছাড়া দেশটির রাজস্ব ও বাজেট ব্যবস্থাপনা আরো ভালো করতে হবে এবং অপ্রয়োজনীয় খাতে ব্যয় কমানোর কোন বিকল্প নেই. তবে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন যেভাবে শ্রীলঙ্কার উপর ঋণের বোঝা চেপে বসেছে টা  থেকে দেশটি খুব সহজে বেরিয়ে আসতে পারবে না.  



মন্তব্যসমূহ

Blog Posts

লুসিড ড্রিম কাকে বলে ? লুসিড ড্রিম কিভাবে দেখতে হয় ?

 স্বপ্ন নিয়ন্ত্রণ করার কথা ভেবেছেন কখনো? নিশ্চয়ই ভাবছেন জেগে জেগে দিবাস্বপ্ন দেখার কথা বলছি না তো? কিন্তু না, রীতিমতো ঘুমিয়ে দেখা স্বপ্নও নিয়ন্ত্রণের কথাই বলছি, আপনার ইচ্ছামত স্বপ্ন দেখবেন। ইচ্ছা মতো নিয়ন্ত্রণ করবেন। আর পছন্দ না হলে অর্থাৎ দুঃস্বপ্ন দেখা শুরু করলে সেটার গতিপথ পাল্টে দেবেন একেবারে নিমেষে। আধুনিক বিজ্ঞানের ভাষায় এটা খুবই সম্ভব একে বলা হয় লুসিভ ড্রিম। লুসিড ড্রিমিং এর সাথে আপনারা অনেকেই হয়তো পরিচিত আছেন। অনেকে পরিচিত থাকলেও হয়তো এটা কেন হচ্ছে বা কিভাবে হচ্ছে তা নিয়ে বেশ দ্বিধা দ্বন্দ্বে আছে এসবেরই উত্তর মিলবে আজকের এই লিখাতে।   লুসিড ড্রিম অর্থ কি? সহজ বাংলায় অনুবাদ করতে গেলে বলা যায় লুসিড অর্থ পরিষ্কার. অর্থাৎ স্পষ্ট আর dream মানে তো আমরা সবাই জানি যে স্বপ্ন। লুসিড ডিম হলো সেই স্বপ্ন যে আমাদের স্পষ্ট ভাবে মনে থাকে এবং স্বপ্ন চলাকালীন সময়েও আমরা এ উপলব্ধি করতে পারি যে এটি বাস্তব নয় বরং এটি স্বপ্ন কিন্তু শুধুমাত্র আক্ষরিক অর্থ দিয়ে লুসিড ড্রিম ব্যাখ্যা করলে ভুল হবে একটু অন্যভাবে বলা যাক ।  মনে করুন স্বপ্নে আপনি কি পাহাড়ের উপর থেকে দ্রুত গ...

সারোগেসি কি ?

সারোগেসির মাধ্যমে সন্তান ধারণ করা নিয়ে এখনো বহু বিতর্ক আছে. শুধু আমাদের দেশে নয়, সারা বিশ্বেই এই পদ্ধতি নিয়ে তর্ক বিতর্কের শেষ নেই.  এটার আইনি প্রক্রিয়াও জটিল। কারণ এটি একেক রাষ্ট্রে. শারোগেসি আইন একেক রকম. নারী মা হবেন প্রাকৃতিক নিয়ম সমাজ এমনটাই দেখতে অভ্যস্ত. কিন্তু কোন কারণে মা হবার ক্ষমতা না থাকলে তাকে পরিবার ও আশপাশ থেকে যে পরিমাণ কটু কথা শুনতে হয় তা সাধারণ মানুষের ধারণারও বাইরে.   সরোগেসি বিষয়টি কি? চিকিৎসা শাস্ত্রের অগ্রগতি এমন মায়েদের সামনে এনেছে যারা গর্ভ ভাড়া দিয়ে নিজে বাঁচেন অন্যদের মাতৃ সুখ দেন । একজন নারীর গর্ভে অন্য দম্পতির সন্তান ধারণের পদ্ধতিকে সারোগেসি বলা হয়.সারোগেসির এই  পদ্ধতি বেশ দীর্ঘকালীন. আইভিএফ পদ্ধতিতে স্ত্রী ও পুরুষের ডিম্বাণু শুক্রাণু দেহের বাইরে নিষিক্ত করে তা নারীর গর্ভাশয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়. কিন্তু এখানেও জটিলতা. কেন? সে বিষয়ে পরে আসছি. বাংলাদেশ সহ বহু দেশই এই সারোগেসি একরকম ভাবে নিষিদ্ধ. সুতরাং বিষয় টি  সংবেদনশীল. এমনকি বেশিরভাগ ধর্মেও রয়েছে নিষেধাজ্ঞা. চলুন কথা বলি সারোগেসি মাদার সম্পর্কে। আইভিএফ বা টেস্ট টি...

ন্যানো টেকনোলজি কিভাবে কাজ করে ?

  যদি বলি আপনার চোখ দেখতে পারে না এমন গভীর ও প্রায় অনাবিষ্কৃত একটা পৃথিবী আছে. হয়তো বলতে পারেন যে মহাবিশ্বে কত গ্রহই তো আছে? সব খোঁজ কি আমরা পেয়েছি? কিন্তু যদি বলি আমাদের এই পৃথিবীর ভেতরে আরো একটি জগত আছে এবং যে জগৎ ছড়িয়ে আছে আমাদের গোটা বিশ্ব জুড়ে. এইবার হয়তো নড়েচড়ে বসবেন. হ্যাঁ আমাদের চোখের সামনেই রয়েছে এমন এক রাজ্য যে আমরা খালি চোখে দেখতে পাই না. এটাকে বলা হয় অণুবীক্ষণিক বিশ্ব. এই অণুবীক্ষণই বিশ্ব প্রচন্ড আকর্ষণীয় ও চমকে দেওয়ার মতো. কি কি ঘটছে এখানে তা আমার আপনার কল্পনারও বাইরে. এটা যেন কোনো ভিন গ্রহ বাসীদের রাজ্য. সম্ভাবনার দুয়ার খুলে রাখা আছে এই অণুবীক্ষণিক বা nano বিশ্বে.  ন্যানো কি ন্যানো হলো পরিমাপের একক। এক মিটারের একশো কোটি ভাগের এক ভাগ হচ্ছে এক ন্যানো। আর ন্যানো টেকনোলজি হলো বিজ্ঞানের এই অতি ক্ষুদ্র স্তরে একটা কিছু তৈরী করা আসলে শুধু তৈরি করা না. ন্যানোমিটার স্কেলে পরিবর্তন, পরিবর্তন, ধ্বংস বা সৃষ্টি সম্পর্কিত টেকনোলজিকেই ন্যানো টেকনোলজি বলে. অর্থাৎ ন্যানোমিটার স্কেলে পরিমিত যেকোনো বিষয়ে বহুমাত্রিক টেকনোলজিকে ন্যানো প্রযুক্তি বা ন্যানো টেকনোলজি বলা যে...

পেগাসাস স্পাইওয়ার কি ?

গত কিছুদিন ধরেই বিশ্ব রাজনীতি এবং প্রযুক্তি জগৎ এই দুই জায়গাতেই আলোচনার বিষয়বস্তু একটাই। সেটা হচ্ছে পেগাসাস স্পাইওয়ার. বিশ্বজুড়ে নানান দেশের মানবাধিকার কর্মী সাংবাদিক আইনজীবী ও রাজনীতিকদের ফোনের নজরদারি চালানোর ঘটনা ফাঁস হওয়ার পর ইজরায়েলের বেসরকারি কোম্পানি nso গ্রুপের তৈরি করা এই সফটওয়্যার নিয়ে এখন তুমুল তরজা চলছে দুনিয়া জুড়ে । চলুন কথা বলি দুনিয়া ওলট পালট করে দেওয়া স্পাইওয়ার সম্পর্কে । পেগাসাস মূলত একটি নজরদারি বিষয়ক সফটওয়্যার । ইজরাইলের সংস্থা এনএসও ই সফটওয়্যার তৈরি করেছে। যা দিয়ে যে কারো মোবাইলে আড়ি পাতা যায়. এটা কিন্তু সাধারণ কোন নজরদারি নয়. আগে ফোনে আড়ি পেতে শুধু দুই প্রান্তের কথাবার্তা শোনা যেত. আর সফটওয়্যারের মাধ্যমে গোটা ফোনটারই নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় হ্যাকাররা. ফোনের কথাবার্তা WhatsApp এর চ্যাট, ছবি, ফোনে কি কি তথ্য আছে সবই জানা যায়. আরো ভয়ানক ব্যবহার হচ্ছে মোবাইল যিনি ব্যবহার করছেন তিনি জানতেই পারেন না যে তার ফোন হ্যাক করা হয়েছে. সমস্ত তথ্য পাচার হয়ে যাচ্ছে নির্দিষ্ট একটি গোষ্ঠীর কাছে. কিন্তু কারো ফোনে পেগাসাস software install করতে হলে তো সেই ফোনটাকে...

রেট রেস কি ?

      আপনি ঠিক কখন ইঁদুর দৌড়ে যোগ দিয়েছেন এটা হিসাব করা কঠিন. কিন্তু নিশ্চিত থাকুন আপনি এই দৌড়ে আছেন. ক্লাস eight এ পড়ার সময়ের কথা মনে আছে? সামনে বৃত্তি পরীক্ষা পাটিগণিত বীজগণিতের অংক প্যাঁচ লাগাচ্ছে বিজ্ঞানের জটিল সব সূত্র ভোরে ওঠে প্রাইভেট টিউটরের বাসায় ছোটা রাত জেগে পড়াশোনা. বয়সের তুলনায় অনেক বেশি কর্ম ব্যস্ত একটা সময় নিশ্চয়ই কাটিয়েছেন তখন? আমরা সবাই কাটিয়েছি. সেই সময় নিশ্চয়ই অভিভাবক বলেছে এই তো আর কটা দিন. বৃত্তি পরীক্ষা শেষ হলেই জীবন শান্তি আর শান্তি. জীবনের নানা এপিসোডে আপনি এই কথাগুলো শুনেছেন অনেকবার অনেকের মুখে. এসএসসি পরীক্ষাটা দাও, কলেজে উঠলেই তো স্বাধীনতা. একবার ভার্সেটিতে উঠতে পারলেই জীবন হবে আনন্দে ভরপুর. একবার জব লাইফে ঢোকো. নিজের টাকায় আয়েশ করার মজাই অন্যরকম. শুনেছেন না এসব?  বয়স ঘড়ির ত্রিশের প্রান্তে দাঁড়িয়ে হিসেবগুলো মেলাতে পারেন কি? কি মনে হয়? এই এপিসোডগুলোর কোনোটা পার হবার সময় জীবন খানিকটা হলেও সহজ হয়েছে? সুন্দর হয়েছে? হয়নি, হবেও না, মিথ্যা একটা মরীচিকার আশায় আমরা ছুটেছি ঠিকই আমাদের ছোটানো হয়েছে, কিন্তু হিসাব মেলেনি ছুটত...

ম্যান্ডেলা ইফেক্ট কেনো হয়?

   আচ্ছা নিজের স্মৃতি শক্তির উপর কতটা বিশ্বাস আছে আপনার? আচ্ছা বাদ দিয়ে আপনার কথা. গণমানুষের স্মৃতিশক্তির উপর নিশ্চয়ই বিশ্বাস আছে অনেকটা. না না. ধর্মীয় কোন বিশ্বাস না. এই গ্রহে ঘটে যাওয়া এমন সব ঘটনা. যা সবাই জানে. তা কি রকম মিথ্যা? এক দশক আগেও পৃথিবীর প্রায় এক তৃতীয়াংশ মানুষ জানতো যে অস্ট্রেলিয়ার রাজধানীর নাম সিডনি. আসলে কি তাই? গত এক দশকে এই ধারণা মোটামুটি পরিবর্তন হয়ে মানুষ জেনেছে অস্ট্রেলিয়ার রাজধানীর নাম ক্যানভেরা. এখনো এই ভুল হরমামেশাই করে যাচ্ছে মানুষ. বিশ্বাস না হলে আশেপাশের কিছু মানুষকে জিজ্ঞেস করে দেখতে পারে. প্রশ্ন করতে পারেন ম্যান্ডেলার নাম কেন? এই ফ্ললস মেমোরি সিন্ড্রোমকে ম্যান্ডেল এফেক্ট নামকরণ করেছেন প্যারানরমাল কনসালটেন্ট ফীয়না ব্রুম তার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে । দু হাজার দশ সালের এক আলোচনা সভায় উঠে আসে দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদ বিরোধী আন্দোলনের নেতা উনিশশো আশি সালে কারা জানে মারা যাওয়ার প্রসঙ্গ । অনেকেই সেদিন বলেছিল, টিভিতে এই নেতার শেষকৃত্যের আনুষ্ঠানিকতা দেখার অভিজ্ঞতার কথা. ম্যান্ডেলার স্ত্রীর হৃদয় নিন্দারও ভাষণের কথা উল্লেখ করেছিলেন কেউ কেউ. এমনক...

কিভাবে লিমিটলেস হওয়া যায় ? লিমিটলেস আসলে কিভাবে কাজ করে ?

এনজিটিপিল,  এটা এমন এক পিল যা আপনাকে করবে আল্ট্রা ফোকাসড. দেবে দুর্দান্ত মোটিভেশন. বের করে আনবে আপনার সর্বোচ্চ সম্ভাবনা. আপনি হয়ে উঠবেন আনস্টপল. বাস্তবতা পাবে প্রতিটি স্বপ্ন. কিন্তু সমস্যা হচ্ছে এমন কোন পিলের অস্তিত্ব নেই. ফলাফল আপনি আটকে আছেন একটি খাদে. সারাক্ষণ ক্লান্তি নিয়ে হয়ে উঠছেন আনপ্রোডাক্টিভ. নষ্ট হচ্ছে ক্রিয়েটিভিটি. সময় গড়িয়ে যায়. ঋতুর পরিবর্তন ঘটে. কিন্তু আপনি ডুবে থাকেন এক হতাশায় যাতে আপনি দিন দিন পিছিয়ে পরছেন. আপনি যা যা এতদিন অর্জন করবেন ভেবেছিলেন তা কিছুই আপনি অর্জন করতে পারেননি । নিজেকে সান্তনা দিচ্ছেন আগামীকাল হবে ভিন্ন। কিন্তু তা কখনোই হয়ে ওঠে না এখন যদি আপনাকে বলি কোনো জাদুকরী পিলের সাহায্যে নয় বাস্তবিক লিমিটলেস হয়ে ওঠা সম্ভব।  একদম প্রমাণিত পদ্ধতিতে যা একেবারে ফ্রিতে ব্যবহার করা সম্ভব.  তো আছেন তো শেষ পর্যন্ত ?  Limit less হওয়ার যাত্রায় ।  স্টেপ ওয়ান : এনার্জি--  মাত্র কয়েক মাস আগে আমি নিজেও আপনার মতো কর্মশক্তিহীন অনুভব করতাম. সামান্য কাজেই আসতো অবসন্নতা, গেয়ে ধরতো ক্লান্তি একদিন হঠাৎ টের পেলাম আমি নিজেই নিজের energy নি...

প্রযুক্তি দুনিয়াতে পর্দার আড়ালে থেকে যাওয়া এক প্রতিভাবান এর গল্প ।

পর্দার আড়ালে একা খেলে যাচ্ছেন একজন. কামাচ্ছেন বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার. অথচ তাকে চেনে খুব কম সংখ্যক মানুষ. আইটি জগতে ইলন মাস্ক, জেফ বোজোস বা বিট গ্রেটসের সাথে তার নামও সমান তালে চলার কথা ছিল. কিন্তু বিহাইন্ড দা সিনে একা গোল করে যাচ্ছেন তিনি. নাম ড্রোন ইয়াং পিং ড্রোন ইয়াং পিং নামটি মোবাইল ফোনের জগতে খুবই কম মানুষের শোনা. তবে তার নাম অজানা থাকলেও তার কোম্পানি বিবিকে ফোন গিগদের মধ্যে বেশ পরিচিত. ওয়ান প্লাস, রিয়েলমি, অপো, ভিভো এবং আইকিউ. এই পাঁচটি জনপ্রিয় মোবাইল ব্র্যান্ডের একক মালিক ডোন ইয়াং পিন.  এই ব্র্যান্ড গুলো তার কোম্পানিতে পরিণত করেছে বর্তমানের সবচেয়ে বড় মোবাইল ফোন উৎপাদনকারী কোম্পানিতে. অ্যাপেল , শাওমি বা স্যামসাং যারা মোবাইল ফোনের জগতে বর্তমানে সবচেয়ে বড় ব্র্যান্ড তাদেরকেও পেছনে ফেলে এগিয়ে গিয়েছে বিবিকে কোম্পানি। কিন্তু এত সফলতার সত্ত্বেও বেশিরভাগ মোবাইল ফোন ব্যবহারকারী এমনকি ফোন গিগরাও তার সম্পর্কে বলতে গেলে তেমন কিছুই জানে না. এলেন মাস্ক, স্টিভ জবস বা জ্যাকমা, যারা কিনা টেকনোলজির জগতে খুবই পরিচিত তাদের সম্পর্কে অনলাইনে  অগণিত তথ্য রয়েছে। কিন্তু ডন ইয়ং পিং এর...

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কি ? আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কতটা ভযঙ্কর হতে পারে আগামী দিনের জন্য ?

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বহুল চর্চিত এবং ব্যবহৃত একটি শব্দ. মানুষের বুদ্ধিমত্তা ও চিন্তা শক্তিকে কম্পিউটার প্রোগ্রামিং এর মাধ্যমে মেশিন ল্যাঙ্গুয়েজে স্থাপন করা টেকনোলজিটাই হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স । এর মাধ্যমে কোন যন্ত্র নির্দিষ্ট প্রোগ্রামের আওতাধীন কিছু কাজ নিজে থেকেই করতে পারে নিজে নিজে সিদ্ধান্ত নিতে পারে।  টার্মিনেচার টাইপের কোনো সাইফাই সিনেমার গুরু বন্ধুর সংলাপ নয়।  A.I নিয়ে ভবিষ্যৎবাণী করেছিলেন পৃথিবীর সেরা বিজ্ঞানীদের একজন স্টিফেন হকিং আমার ভয় হয় তারা সত্যিই হয়তো একদিন মানুষকে হটিয়ে নিয়ন্ত্রকের আসনে বসে যাবে। বেঁচে থাকতেই BBC কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স তথা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে এভাবেই সবাইকে সতর্ক করেছিলেন তিনি। হকিংসের এই ভয় এখনো ভবিষ্যতের বিষয় হলেও অমূলক নয় মোটেও যন্ত্রকে বুদ্ধিমান করে তার আশীর্বাদ অনেক আছে। কিন্তু দীর্ঘ মেয়াদে সেই যন্ত্রই পৃথিবীর দখল নিতে চলেছে কিনা স্বয়ং সম্পূর্ণ হয়ে মানুষকেই বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে একদিন অপদার্থ তে পরিণত করবে কিনা সেই প্রশ্নটা উঠছে বারবার।  যুক্তরাষ্ট্রে...

মিনিমালিজম কি ? কিভাবে মিনিমালিস্ট হওয়া যায় ?

মিনিমামলিজম এই ধারণাটি বিগত কয়েক বছরে বেশ জনপ্রিয়তা লাভ করেছে এবং এর যথেষ্ট কারণও আছে. এই পুরো ব্যাপারটা কি? সেটাকে সঙ্গায়িত করা যায় এভাবে যে,  মিনিমালিজম হচ্ছে যা আমাদের জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সেগুলোকে ধারণ করা এবং বাকি সব কিছু যা আমাদের দৃষ্টিকে অন্যদিকে সরিয়ে নেয় সেগুলোকে ইচ্ছাকৃতভাবে ত্যাগ করা।   অর্থাৎ কোন কোন বিষয়ে জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং কোন জিনিসগুলোকে আমাদের কাছে সবচেয়ে মূল্যবান সেই সম্পর্কে একটা পরিষ্কার ধারণা থাকা এবং বাকি সব ত্যাগ  করে দেয়. সেগুলো নিয়েই জীবন ধারণ করা. কিন্তু এমন সংজ্ঞায়ন সত্ত্বেও minimalism কোন ধরাবাধা জীবন ব্যবস্থা নয় বা মিনিমালিস্ট হতে হলে কোন নির্দিষ্ট মানদণ্ড মেনে চলতে হবে এরকমটিও কিন্তু নয়. মিনিমালিস্ট লাইফ স্টাইল এমন একটি বিষয় যা প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য স্বতন্ত্র। এক্ষেত্রে মূল বিষয়টি হচ্ছে সত্যিকার অর্থে কোন কোন বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও প্রয়োজনীয় সেই সম্পর্কে একটা পরিষ্কার ধারণা নিয়ে সেই অনুযায়ী জীবন ধারণ করা. প্রিয় দর্শক চলুন দেখি মিনিমালিজম কিভাবে আপনার জীবনধারা বদলে দিতে পারে।  মিনিমালিস্ট জীবন অবশ...