সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

বিটকয়েন কি ? বিটকয়েন কিভাবে কাজ করে ?

   বেশ কিছুদিন হলো বাংলাদেশ সরকার থেকে ধরপাকড় চলছে বিটকয়েন মাইনারদের ওপর । আসলে সেখানে কি চলছে?  যত গভীরে পড়ালেখা করলাম বিটকয়েন নিয়ে তত বেশি আগ্রহ জন্মাতে থাকলো. যেমন ধরুন বিটকয়েনের সৃষ্টি এক ছদ্মবেশী ব্যক্তি বা গোষ্ঠীদ্বারা যাদের মূল পরিচয় এখনো অজ্ঞাতই রয়ে গেছে. নিজেদের পরিচয় দেয় তাঁরা সাতোশি ন্যাকামোতো নামে. সাতোশি ন্যাকামোতো কে আড়ালে রেখেই পৃথিবীর সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে বিটকয়ন. কিন্তু সাতোশি ন্যাকামোতো মাত্র একটা অংশ এই অবিশ্বাস্য খেলার মাঠে. সত্যি বলতে এটা একটা হোয়াইট ওয়ার্ল্ড. কি চলছে সেখানে? তা আমাদের মাথায় ঢোকানো বেশ কষ্ট. আর এই জন্যই মনে হলো এটাই সঠিক সময়ে  দর্শকদের কাছে কিছুটা সহজ ভাষায় ক্রিপ্টোকারেন্সি ও বিটকয়েন কি কিভাবে কাজ করে বা ভবিষ্যতে কি হবে তা তুলে ধরার।   

বিটকয়েন একটা গল্প. আমাদের প্রভাবিত করার গল্প. ইতিহাস ঘাতলে দেখা যায় আমরা মুদ্রা এবং অর্থ ব্যবস্থার যে রূপ আজকে দেখি. তা কিন্তু এমনটা ছিল না. একটা সময় ছিল. যখন মুদ্রার বদলে চালু ছিল বিনিময় প্রথা। অর্থাৎ কোন বস্তুর বদলে অন্য বস্তু বিনিময় করা. যেমন মাছের বিনিময়ে কিছু রুটি বা কিছু ডিমের বদলে খানিকটা ফল ইত্যাদি. কিন্তু এই ব্যবস্থার সমস্যা হলো আমার কাছে যা আছে তা অন্যের প্রয়োজন নাও হতে পারে. এবং সেক্ষেত্রে বিনিময়ে কিছু নিতে আমি পারবো না. আমাদের পূর্বসূরিরা বুঝতে পারে যে বিনিময়ের জন্য তাদের মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কিছু একটা প্রয়োজন যা বিভিন্ন বস্তু বা পণ্যের মূল্য নির্ধারণ করবে. অনেক কিছুই যেমন গবাদি পশু, ঝিনুক এবং একসময় দামি ধাতব মুদ্রা এই কাজে ব্যবহৃত হতে শুরু হয়. শত শত বছর পরে একসময় রাষ্ট্রগুলো কাগজের টাকা ব্যবহার করা শুরু করে. যার মান নির্ধারিত হয় সোনার মূল্য দ্বারা. যেটাকে বলা হয় গোল্ড স্টার্ন্ডার্ড। কিন্তু উনিশশো একাত্তর সালে আমেরিকা সহ আরো অনেক রাষ্ট্র গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড ত্যাগ করে. এর মানে দাঁড়া এই যে ডলারের মান সোনা দিয়ে আর নির্ধারিত হবে না. 

বরং তা নির্ধারিত হবে সরকারের নির্দেশ মোতাবেক এবং সকলের সম্মতিতে. এর মাধ্যমে টাকার সরবরাহ নিয়ন্ত্রণের উপর সরকার এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো আরো বেশি ক্ষমতা পায় এবং আর্থিক সংকটের সময় মুদ্রানীতি পরিবর্তন হয়ে ওঠে আরো সহজ. এই ধরনের টাকাকে বলা হয় ফিয়েট মানি. যার মান স্বর্ণ দ্বারা নির্ধারিত হয় না. বরং যা নির্ভর করে সরকার এবং আমরা যে সরকারকে বিশ্বাস করি সেই বিশ্বাসের ওপর। অর্থাৎ এই ব্যবস্থার ভিত্তি হচ্ছে সরকারের ওপর জনগণের ভরসা. কিন্তু কি হবে? যদি আমরা সরকারকে বিশ্বাস না করি? উনিশশো আশির দশকের শেষের দিকে সাইফার্ড মাঙ্কের আবির্ভাব হয় যারা সরকারের মতো কেন্দ্রীয় প্রশাসনগুলোর বিরুদ্ধে ছিল কারণ সরকার জনগণের তথ্য ব্যবহার করে তাদের ওপর নজরদারি চালাতে পারতো ।সাইফার পাম্প মানুষকে ক্রিপ্টোগ্রাফি ব্যবহারের উপদেশ দেয়। যার মাধ্যমে এধরণের নজরদারি ছাড়ই যোগাযোগ এবং তথ্য আদান প্রদান সম্ভব হবে. পরবর্তীতে বিটকয়েন প্রযুক্তিতে সাইফার পাঙ্কের এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়. দু হাজার সাত এবং দু হাজার আট সালে একটা বৈশিক অর্থনৈতিক সংকট দেখা যায়. যার মূল কারণ ছিল ব্যাঙ্ক থেকে ঝুঁকিপূর্ণ ঋণ উত্তোলন.



 এটা এমন প্রকট আকার ধারণ করে যে এর কারণে আমেরিকার সবচেয়ে বড় ব্যাংকগুলোর একটি পতন ঘটে. যার নাম লিম্যান ব্রাদার্স. 


দু হাজার আট সালের এই অর্থনৈতিক সংকটের সময় ওয়াইফ পেপার নামে একটি থ্রিসিস পেপারের আবির্ভাব হয় যার হেডলাইন ছিল বিট কয়েন আ পিয়ার টু পিয়ার ইলেকট্রনিক ক্যাশ সিস্টেম. এই পেপারের ছদ্ম লেখকের ছদ্মনামই হচ্ছে সাতোশী ন্যাকামোতো. নয় পৃষ্ঠার এই পেপারে নাকামতো তার পিয়ার টু পিয়ার ইলেকট্রনিক ক্যাশ সিস্টেমটি ব্যাখ্যা করেন। যার মাধ্যমে কোন প্রকার অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানের সাহায্য ছাড়াই ডিজিটাল মুদ্রা একজন আরেকজনের সাথে সরাসরি আদান প্রদান করতে পারবে. নাকামতো সাইফার পাঙ্কের প্রযুক্তি ব্যবহার করেন। যা বর্তমানে আমরা ব্লক চীন প্রযুক্তি নামে চিনি. ম্যাথামেটিক্স, কম্পিউটার সাইন্স এবং ক্রিপ্টোগ্রাফি ব্যবহার করে নাকামতো এমন  এক মুদ্রা প্রবর্তন করেন যা কোনো কেন্দ্রীয় প্রশাসনকে বিশ্বাস করা ছাড়াই আদান প্রদান করা সম্ভব হবে। বিশ্বাসের সমস্যাটি সমাধান করাই ছিল বিটকয়েনের মূল লক্ষ্য । 

এখানে একটু থামি চলুন ইতিহাস তো বুঝলাম. কিন্তু বিটকয়েন জিনিসটা কি? কিভাবে কাজ করে? মানিব্যাগে নিয়ে কি ঘোরা যায়? কি যায় না? না না. বিট কয়েনের কোন বস্তুগত বা শারীরিক অস্তিত্ব একেবারেই নেই. এটা সম্পূর্ণই ডিজিটাল একটা মুদ্রা. বিটকয়েন কিভাবে কাজ করে তা বোঝার জন্য ব্লকচেইন  পদ্ধতি কি? সেটা বোঝাটা জরুরী. বিটকয়েন  সহজভাবে বোঝার জন্য এটাকে হিসাব খাতায় লিখে রাখা লেনদেনের হিসাবের সাথে তুলনা করা যেতে পারে. ব্যাংকও মোটামুটি একই পদ্ধতিতে কাজ করে. একটি অ্যাকাউন্ট থেকে সারাদিনে কি লেনদেন হয়েছে?  তা ব্যাঙ্ক তার নিজস্ব সিস্টেমে রেকর্ড করে রাখে এবং তার মাধ্যমে তারা বুঝতে পারে যে লেনদেনগুলো বৈধ ছিল ।এইভাবে তারা নিশ্চিত হয় যে যার ব্যাংকে এক লাখ টাকা আছে সে এক লাখ টাকার বেশি খরচ করতে পারবে না কিন্তু বিটকয়েনের উদ্দেশ্য হচ্ছে মুদ্রার বিকেন্দ্রীকরণ। 

এ কারণে বিটকয়েন ব্যবহার করে পিয়ার টু পিয়ার লেজার বা ডিস্ট্রিবিউটেড লেজার সিস্টেম যা  নাকামতো তার ফেসিস পেপারে ব্যাখ্যা করেছিলেন অর্থাৎ লেজার বা হিসাব খাতাটি একটি কেন্দ্রীয় প্রশাসনের অধীনে থাকার বদলে দা বিটকয়েন নেটওয়ার্কের সকল কম্পিউটার বা নোডের মধ্যে বিতরণ করে দেওয়া হয় । এই নেটওয়ার্কে যে কেউ ঢুকতে পারে শুধুমাত্র বিট পয়েন্ট সফটওয়্যারটি ডাউনলোড করে নেওয়ার মাধ্যমে. যখনই কোনো লেনদেন সংগঠিত হবে প্রতিটি কম্পিউটার জটিল অ্যালগরিদমের মাধ্যমে নির্ধারণ করবে লেনদেনটি বৈধ কিনা. যখন সারা নেটওয়ার্কের সকল কম্পিউটার সম্মত হবে যে লেনদেনটি বৈধ ছিল তখন লেনদেনটি লেজার বা হিসাব খাতায় স্থায়ীভাবে লিখে নেওয়া হবে. যদি একটা নির্দিষ্ট কম্পিউটার বা নোট একটি অবৈধ লেনদেনকে বৈধ দেখানোর চেষ্টা করেও অন্য সকল নোট তা বাতিল করে দেবে. এই প্রতিটি লেজার বা ব্লক একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ লেনদেনের হিসাব ধারণ করে. যা চেইনের আগের লেজারটির সাথে যুক্ত থাকে এবং এই লেনদেনের সময় কোন পাবলিক পরিচয় ব্যবহার করা হয় না. বরং প্রতিটি ব্যক্তির একটি পাবলিক এবং প্রাইভেট কি বা চাবি থাকে. যা অনেকগুলো নাম্বার এবং অক্ষরের সমন্বয় গঠিত. প্রাইভেট কি ব্যবহার করা হয় একটা ডিজিটাল সিগনেচারের জন্য এবং পাবলিক কি টি ব্যবহৃত হয় প্রাইভেট বৈধতা নিশ্চিত করার জন্য. ব্লকচেইন লেনদেনের এই বৈধতা নিশ্চিত করণ পদ্ধতিটিকে বলা হয় মাইনিং ।

. প্রতিটি ব্লককে সফলভাবে মাইন করার জন্য প্রতিটি মাইনার পুরস্কার হিসেবে কিছুটা বিটকয়েন পায়. যাতে করে তাঁরা মাইনিংয়ের কাজ পরবর্তীতেও করতে পারে. কেউ যদি কোন একটি ব্লককে হ্যাক করে সেখানে অবৈধ কিছু করার চেষ্টা করে তাহলে পরবর্তী সকল ব্লগ অবৈধ হয়ে যাবে. যে কারণে কোন ব্লকটি হ্যাক করা হয়েছে তা বের করা বিটকয়েনে খুবই সহজ. কোন ব্যক্তি চাইলেই শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সকল ব্লকের লেনদেন দেখতে পারবে. কিন্তু তা পরিবর্তন করতে পারবে না. অর্থাৎ এটি এমন একটি মুদ্রা ব্যবস্থা যা কোন কেন্দ্রীয় প্রশাসনের উপর বিশ্বাস স্থাপন করা ছাড়াই লেনদেন করতে সক্ষম.



 এমনই আজকের দিনেও বিটকয়েনের প্রথম ব্লকটির হিসাব খুঁজে পাওয়া যায় যা সাতোসী ন্যাকামতো দু হাজার নয় সালে মাইন্ড করেছিলেন । এই রেকর্ডে দেখা যায় যে সাতাশী ন্যাকামমতোকে পুরস্কার হিসেবে পঞ্চাশ bitcoin দেওয়া হয়েছিল প্রথম ব্লকটি মাইন করার জন্য. এই প্রথম ব্লকটিকে সাধারণত জেনেসিস ব্লক বলা হয়.।



 নাকামোতো সফটওয়্যার কোড এ সাপ্লাই লিমিট নির্ধারণ করেছিল একুশ মিলিয়ন. বর্তমানে মাত্র দুই মিলিয়ন বিট কয়েন বাকি আছে মাইন করার জন্য। কিন্তু আরও একটা জরুরী প্রশ্ন কিন্তু রয়ে গেছে কি ? করে বিট কয়েন আজকের এই দামে পৌঁছলো?  এই ডিজিটাল মুদ্রা যে নিঃসন্দেহে প্রথম শ্রেণীর প্রযুক্তি দিয়েই উদ্ভাবন করা হয়েছে তার দাম কি সত্যিই ছত্রিশ হাজার একশো বিশ ডলার হতে পারে কিনা? এটা অবশ্যই চাহিদার প্রশ্ন কিন্তু এই চাহিদার সৃষ্টি হলো কি করে?  দু হাজার নয় সালে নাকামোতো তার থিসিস পেপার প্রকাশ করার পর সর্বপ্রথম জেনেসিস ব্লকটি মাইন করেন এবং এর ফলে পরবর্তীতে এমন কিছু ঘটনা ঘটে যায় যা বিট কয়েনের ভবিষ্যৎ বদলে দেবে। প্রথম দিকে বিটকয়েন শুধুমাত্র শখের বসে মাইন করা হতো দুহাজার দশ সালে বিটকয়েনের কোনো ব্যবহারিক দামই ছিল না। তবে তা বদলে যায়. 



দু হাজার দশেরই মে মাসে ল্যাজলহানি এক ব্যক্তি বিট কয়েনের ওপর একটি আলোচনা ফোরাম তৈরি করে যেখানে সে দশ হাজার বিটকয়েনের জন্য দুটি বড় সাইজের পিৎজা অফার করে. দুই দিন পর ল্যাজলু জানায় যে সে পঁচিশ ডলারের সমতুল্য পিৎজার বিনিময় তার কাঙ্খিত বিটকয়েন কিনতে সমর্থ হয়েছে. ফলে এই প্রথমবার বিটকয়েন ব্যবহার করে কেউ কোন বস্তু কিনতে সমর্থ হয়. বাইশ মে কে তাই অফিশিয়ালি ভাবে বিট কয়েন পিৎজা দিবস বলা হয়. সেই বছরের শেষের দিকে বিটকয়েনের দাম শূন্য থেকে উনচল্লিশ সেন্ট বা শূন্য দশমিক তিন নয় ডলার এ  বৃদ্ধি পায় এবং প্রথমবারের মতো বিটকয়েনের সাথে সাধারণ টাকার সহজে লেনদেনের জন্য মাউন্ট গক্স বা এমটি ডট কক্স প্রতিষ্ঠিত হয়। দু হাজার এগারো সালে বিটকয়েনের দাম এক ডলারে বৃদ্ধি পায় ।

 হঠাৎ করেই আরো কয়েক ধরনের ফিফটি কারেন্সি আসতে শুরু করে বাজারে। যেগুলো এই একই ব্লক চীন প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরী. কিন্তু যেখানে বিটকয়েনের উদ্দেশ্য ছিল ডিজিটাল মুদ্রা তৈরি সেখানে উদ্দেশ্য ছিল একেবারে আলাদা. যদিও তা একই ব্লকচেন সিস্টেম ব্যবহার করে তৈরি হয়েছিল. প্রথম দিকের বেশ কিছু স্ক্যান্ডাল এবং কুখ্যাতির কারণে বিটকয়েন প্রযুক্তিকে বেশ ভুগতে হয়. প্রাইভেট এবং পাবলিক কি  ব্যবহারের কারণে বিটকয়েন ব্যবহারকারীর পরিচয় একেবারে গোপন থাকে এবং এর ফলে অপরাধী এবং সন্ত্রাসীরা এটাকে বিভিন্ন অবৈধ লেনদেনে ব্যবহার করে. সিল্ক ক্রড  নামে একটি কুখ্যাত ডার্কুয়েভ ওয়েবসাইট. যেখানে বিটকয়েন ব্যবহার করে অবৈধ মাদক বেচাকেনা করা যেত. এর ফলে অপরাধ জগতের সাথে বিটকয়েনের নাম সংযুক্ত হয়ে যায় এবং এর প্রভাব আজকের দিনেও টের পাওয়া যাচ্ছে. বিট কয়েনের আরেকটি স্ক্যান্ডাল ছিল মাউন্ট গক্সের পতন।


 যার মাধ্যমে সত্তর পার্সেন্ট বিটকয়েন লেনদেন করা হতো এবং বলা হয়ে থাকে যে মাউন্ট গক্স বিশাল অঙ্কের বিটকয়েন চুরি করার পর এর ওয়েবসাইটটি বন্ধ করে দেয় । যার ফলে এর আজও কোনো খোঁজ পাওয়া সম্ভব হয়নি । কিন্তু বিট কয়েন এর এই দুর্দিনেও এর চাহিদা বজায় থাকে। বিটকয়েনের লেনদেনের জন্য বিভিন্ন কোম্পানি এবং ওয়েবসাইট চালু হয়. যেমন বিট পে, কয়েন গেট ইত্যাদি. দু হাজার তেরো সালে বিট কয়েনের দাম এক হাজার ডলারে পৌঁছায়. তবে তা পরে আবার একশো ডলারে নেমে আসে. দু হাজার সতেরো সাল ছিল বিটকয়েনের জন্য সবচেয়ে অবিশ্বাস্য বছর। জাপানে সেই বছর একটি আইন পাশ হয় যার মাধ্যমে বিটকয়েন সেখানে একটি বৈধ মুদ্রায় পরিণত হয়. এ সময় বিটকয়েন সম্পর্কিত উত্তেজনা তুঙ্গে পৌঁছায় এবং সকলের মুখে মুখে বিটকয়েনের নাম ঘুরতে থাকে. মার্কেটে বিটকয়েনের ওপর লোভ বাড়তে থাকে এবং তা একটি অযৌক্তিক অবস্থার দিকে যেতে থাকে. শেয়ার মার্কেটে বিভিন্ন কোম্পানি তাদের নামের সাথে ব্লক চেন যুক্ত করেই নিজেদের শেয়ারের দাম বাড়াতে সমর্থ হয়. দু হাজার সতেরোর ডিসেম্বরে একটি বিটকয়েনের দাম বৃদ্ধি পায় বিশ হাজার ডলারে. কিন্তু যেভাবে বিটকয়েনের উত্তেজনা এবং দাম বৃদ্ধি পায় সেই একই দ্রুততায় এর পতনও ঘটে. সর্বোচ্চ দামে পৌঁছানোর কিছুদিনের মধ্যেই এর দাম আবার কমতে শুরু করে. এর একটি কারণ হলো সরকার এই বিষয়ে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিতে শুরু করে এবং চায়নায় ক্রিপ্টোকারেন্সি নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়. বিটকয়েন কিনে লোকসান হওয়ার ভয় দ্রুত ছড়িয়ে পরে এবং ক্রিপ্টো কারেন্সির দাম আশি শতাংশে নেমে আসে. দু হাজার আঠারো ছিল বিটকয়েনের জন্য একটি বিধ্বংসী বছর.


 এবছর বিটকয়নের দাম নেমে আসে তিন হাজার দুশো ডলারে. কিন্তু এর পরেও বিটকয়েনের দাম এখন পর্যন্ত হাজারের নিচে নামেনি. এবং এই ধসের মাত্র তিন বছর পর বিটকয়েনের  দাম উঠে এসেছে তেষ্টি হাজার একশো বিশ ডলারে. কিন্তু কেন বিটকয়েনের এই দাম বৃদ্ধি. এর কারণ বিভিন্ন অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান বিটকয়েনের ওপর আগ্রহ দেখাতে শুরু করেছে. এই যেমন এল মাস্ক. এক দশমিক পাঁচ বিলিয়ন ডলারের বিটকয়েন কিনেছেন এবং পেমেন্ট হিসেবে বিটকয়েন গ্রহণ করবেন বলে জানিয়েছেন। আমেরিকান ফেডারেল রিজার্ভ অর্থনীতি চাঙ্গা করার জন্য ক্রমাগত টাকা ছাপিয়ে যাচ্ছে এবং এর ফলে মুদ্রাস্ফীতির ভয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে এর ফলে বিটকয়েন সম্পর্কিত ধারণা মানুষের মাঝে বদলে যাচ্ছে দিনে দিনে।

 আগে যেখানে বিটকয়েনের ব্যবহার ছিল মুদ্রা হিসেবে সেখানে বর্তমানে এটি ব্যবহৃত হচ্ছে স্বর্ণ বা জমির মতো স্থায়ী সম্পদ হিসেবে. যার দাম মুদ্রাস্ফীতি দেখা দিলেও কমবে না এবং পরবর্তীতে বিক্রির জন্য জমিয়ে রাখা যাবে। ফলে আগে যেখানে বিটকয়েনের ওপর অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কোনো আগ্রহ ছিল না সেখানে বর্তমানে তা ক্রমাগতই বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে বিশ্বাসের সমস্যাটি কাটিয়ে উঠতে চাইলেও শেষ পর্যন্ত বিটকয়েন কে মানুষের আস্থার ওপর বিশ্বাস করতেই হয়। কারণ বিটকয়েন ব্যবহৃত হওয়ার জন্য প্রথম প্রয়োজন মানুষের এটাকে মুদ্রা হিসেবে বিশ্বাস করা।  তারপরেও অনেকেই মনে করেন বিটকয়েনের কোন ব্যবহারিক মূল্য নেই এবং এর বর্তমান দাম বিভিন্নভাবে ষড়যন্ত্র করে বাড়ানো হয়েছে. দু হাজার সতেরো সালে বাংলাদেশ ব্যাঙ্ক বিট কয়েনের লেনদেনের ব্যাপারে সতর্কতা জানিয়ে একটি বিজ্ঞপ্তিও প্রকাশ করে। সেখানে বলা হয় ভার্চুয়াল মুদ্রা কোন দেশের বৈধ কর্তৃপক্ষ ইস্যু করে না বিধায় এর বিপরীতে আর্থিক দাবীর কোন স্বীকৃতি নেই.      



মন্তব্যসমূহ

Blog Posts

লুসিড ড্রিম কাকে বলে ? লুসিড ড্রিম কিভাবে দেখতে হয় ?

 স্বপ্ন নিয়ন্ত্রণ করার কথা ভেবেছেন কখনো? নিশ্চয়ই ভাবছেন জেগে জেগে দিবাস্বপ্ন দেখার কথা বলছি না তো? কিন্তু না, রীতিমতো ঘুমিয়ে দেখা স্বপ্নও নিয়ন্ত্রণের কথাই বলছি, আপনার ইচ্ছামত স্বপ্ন দেখবেন। ইচ্ছা মতো নিয়ন্ত্রণ করবেন। আর পছন্দ না হলে অর্থাৎ দুঃস্বপ্ন দেখা শুরু করলে সেটার গতিপথ পাল্টে দেবেন একেবারে নিমেষে। আধুনিক বিজ্ঞানের ভাষায় এটা খুবই সম্ভব একে বলা হয় লুসিভ ড্রিম। লুসিড ড্রিমিং এর সাথে আপনারা অনেকেই হয়তো পরিচিত আছেন। অনেকে পরিচিত থাকলেও হয়তো এটা কেন হচ্ছে বা কিভাবে হচ্ছে তা নিয়ে বেশ দ্বিধা দ্বন্দ্বে আছে এসবেরই উত্তর মিলবে আজকের এই লিখাতে।   লুসিড ড্রিম অর্থ কি? সহজ বাংলায় অনুবাদ করতে গেলে বলা যায় লুসিড অর্থ পরিষ্কার. অর্থাৎ স্পষ্ট আর dream মানে তো আমরা সবাই জানি যে স্বপ্ন। লুসিড ডিম হলো সেই স্বপ্ন যে আমাদের স্পষ্ট ভাবে মনে থাকে এবং স্বপ্ন চলাকালীন সময়েও আমরা এ উপলব্ধি করতে পারি যে এটি বাস্তব নয় বরং এটি স্বপ্ন কিন্তু শুধুমাত্র আক্ষরিক অর্থ দিয়ে লুসিড ড্রিম ব্যাখ্যা করলে ভুল হবে একটু অন্যভাবে বলা যাক ।  মনে করুন স্বপ্নে আপনি কি পাহাড়ের উপর থেকে দ্রুত গ...

সারোগেসি কি ?

সারোগেসির মাধ্যমে সন্তান ধারণ করা নিয়ে এখনো বহু বিতর্ক আছে. শুধু আমাদের দেশে নয়, সারা বিশ্বেই এই পদ্ধতি নিয়ে তর্ক বিতর্কের শেষ নেই.  এটার আইনি প্রক্রিয়াও জটিল। কারণ এটি একেক রাষ্ট্রে. শারোগেসি আইন একেক রকম. নারী মা হবেন প্রাকৃতিক নিয়ম সমাজ এমনটাই দেখতে অভ্যস্ত. কিন্তু কোন কারণে মা হবার ক্ষমতা না থাকলে তাকে পরিবার ও আশপাশ থেকে যে পরিমাণ কটু কথা শুনতে হয় তা সাধারণ মানুষের ধারণারও বাইরে.   সরোগেসি বিষয়টি কি? চিকিৎসা শাস্ত্রের অগ্রগতি এমন মায়েদের সামনে এনেছে যারা গর্ভ ভাড়া দিয়ে নিজে বাঁচেন অন্যদের মাতৃ সুখ দেন । একজন নারীর গর্ভে অন্য দম্পতির সন্তান ধারণের পদ্ধতিকে সারোগেসি বলা হয়.সারোগেসির এই  পদ্ধতি বেশ দীর্ঘকালীন. আইভিএফ পদ্ধতিতে স্ত্রী ও পুরুষের ডিম্বাণু শুক্রাণু দেহের বাইরে নিষিক্ত করে তা নারীর গর্ভাশয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়. কিন্তু এখানেও জটিলতা. কেন? সে বিষয়ে পরে আসছি. বাংলাদেশ সহ বহু দেশই এই সারোগেসি একরকম ভাবে নিষিদ্ধ. সুতরাং বিষয় টি  সংবেদনশীল. এমনকি বেশিরভাগ ধর্মেও রয়েছে নিষেধাজ্ঞা. চলুন কথা বলি সারোগেসি মাদার সম্পর্কে। আইভিএফ বা টেস্ট টি...

ন্যানো টেকনোলজি কিভাবে কাজ করে ?

  যদি বলি আপনার চোখ দেখতে পারে না এমন গভীর ও প্রায় অনাবিষ্কৃত একটা পৃথিবী আছে. হয়তো বলতে পারেন যে মহাবিশ্বে কত গ্রহই তো আছে? সব খোঁজ কি আমরা পেয়েছি? কিন্তু যদি বলি আমাদের এই পৃথিবীর ভেতরে আরো একটি জগত আছে এবং যে জগৎ ছড়িয়ে আছে আমাদের গোটা বিশ্ব জুড়ে. এইবার হয়তো নড়েচড়ে বসবেন. হ্যাঁ আমাদের চোখের সামনেই রয়েছে এমন এক রাজ্য যে আমরা খালি চোখে দেখতে পাই না. এটাকে বলা হয় অণুবীক্ষণিক বিশ্ব. এই অণুবীক্ষণই বিশ্ব প্রচন্ড আকর্ষণীয় ও চমকে দেওয়ার মতো. কি কি ঘটছে এখানে তা আমার আপনার কল্পনারও বাইরে. এটা যেন কোনো ভিন গ্রহ বাসীদের রাজ্য. সম্ভাবনার দুয়ার খুলে রাখা আছে এই অণুবীক্ষণিক বা nano বিশ্বে.  ন্যানো কি ন্যানো হলো পরিমাপের একক। এক মিটারের একশো কোটি ভাগের এক ভাগ হচ্ছে এক ন্যানো। আর ন্যানো টেকনোলজি হলো বিজ্ঞানের এই অতি ক্ষুদ্র স্তরে একটা কিছু তৈরী করা আসলে শুধু তৈরি করা না. ন্যানোমিটার স্কেলে পরিবর্তন, পরিবর্তন, ধ্বংস বা সৃষ্টি সম্পর্কিত টেকনোলজিকেই ন্যানো টেকনোলজি বলে. অর্থাৎ ন্যানোমিটার স্কেলে পরিমিত যেকোনো বিষয়ে বহুমাত্রিক টেকনোলজিকে ন্যানো প্রযুক্তি বা ন্যানো টেকনোলজি বলা যে...

পেগাসাস স্পাইওয়ার কি ?

গত কিছুদিন ধরেই বিশ্ব রাজনীতি এবং প্রযুক্তি জগৎ এই দুই জায়গাতেই আলোচনার বিষয়বস্তু একটাই। সেটা হচ্ছে পেগাসাস স্পাইওয়ার. বিশ্বজুড়ে নানান দেশের মানবাধিকার কর্মী সাংবাদিক আইনজীবী ও রাজনীতিকদের ফোনের নজরদারি চালানোর ঘটনা ফাঁস হওয়ার পর ইজরায়েলের বেসরকারি কোম্পানি nso গ্রুপের তৈরি করা এই সফটওয়্যার নিয়ে এখন তুমুল তরজা চলছে দুনিয়া জুড়ে । চলুন কথা বলি দুনিয়া ওলট পালট করে দেওয়া স্পাইওয়ার সম্পর্কে । পেগাসাস মূলত একটি নজরদারি বিষয়ক সফটওয়্যার । ইজরাইলের সংস্থা এনএসও ই সফটওয়্যার তৈরি করেছে। যা দিয়ে যে কারো মোবাইলে আড়ি পাতা যায়. এটা কিন্তু সাধারণ কোন নজরদারি নয়. আগে ফোনে আড়ি পেতে শুধু দুই প্রান্তের কথাবার্তা শোনা যেত. আর সফটওয়্যারের মাধ্যমে গোটা ফোনটারই নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় হ্যাকাররা. ফোনের কথাবার্তা WhatsApp এর চ্যাট, ছবি, ফোনে কি কি তথ্য আছে সবই জানা যায়. আরো ভয়ানক ব্যবহার হচ্ছে মোবাইল যিনি ব্যবহার করছেন তিনি জানতেই পারেন না যে তার ফোন হ্যাক করা হয়েছে. সমস্ত তথ্য পাচার হয়ে যাচ্ছে নির্দিষ্ট একটি গোষ্ঠীর কাছে. কিন্তু কারো ফোনে পেগাসাস software install করতে হলে তো সেই ফোনটাকে...

রেট রেস কি ?

      আপনি ঠিক কখন ইঁদুর দৌড়ে যোগ দিয়েছেন এটা হিসাব করা কঠিন. কিন্তু নিশ্চিত থাকুন আপনি এই দৌড়ে আছেন. ক্লাস eight এ পড়ার সময়ের কথা মনে আছে? সামনে বৃত্তি পরীক্ষা পাটিগণিত বীজগণিতের অংক প্যাঁচ লাগাচ্ছে বিজ্ঞানের জটিল সব সূত্র ভোরে ওঠে প্রাইভেট টিউটরের বাসায় ছোটা রাত জেগে পড়াশোনা. বয়সের তুলনায় অনেক বেশি কর্ম ব্যস্ত একটা সময় নিশ্চয়ই কাটিয়েছেন তখন? আমরা সবাই কাটিয়েছি. সেই সময় নিশ্চয়ই অভিভাবক বলেছে এই তো আর কটা দিন. বৃত্তি পরীক্ষা শেষ হলেই জীবন শান্তি আর শান্তি. জীবনের নানা এপিসোডে আপনি এই কথাগুলো শুনেছেন অনেকবার অনেকের মুখে. এসএসসি পরীক্ষাটা দাও, কলেজে উঠলেই তো স্বাধীনতা. একবার ভার্সেটিতে উঠতে পারলেই জীবন হবে আনন্দে ভরপুর. একবার জব লাইফে ঢোকো. নিজের টাকায় আয়েশ করার মজাই অন্যরকম. শুনেছেন না এসব?  বয়স ঘড়ির ত্রিশের প্রান্তে দাঁড়িয়ে হিসেবগুলো মেলাতে পারেন কি? কি মনে হয়? এই এপিসোডগুলোর কোনোটা পার হবার সময় জীবন খানিকটা হলেও সহজ হয়েছে? সুন্দর হয়েছে? হয়নি, হবেও না, মিথ্যা একটা মরীচিকার আশায় আমরা ছুটেছি ঠিকই আমাদের ছোটানো হয়েছে, কিন্তু হিসাব মেলেনি ছুটত...

ম্যান্ডেলা ইফেক্ট কেনো হয়?

   আচ্ছা নিজের স্মৃতি শক্তির উপর কতটা বিশ্বাস আছে আপনার? আচ্ছা বাদ দিয়ে আপনার কথা. গণমানুষের স্মৃতিশক্তির উপর নিশ্চয়ই বিশ্বাস আছে অনেকটা. না না. ধর্মীয় কোন বিশ্বাস না. এই গ্রহে ঘটে যাওয়া এমন সব ঘটনা. যা সবাই জানে. তা কি রকম মিথ্যা? এক দশক আগেও পৃথিবীর প্রায় এক তৃতীয়াংশ মানুষ জানতো যে অস্ট্রেলিয়ার রাজধানীর নাম সিডনি. আসলে কি তাই? গত এক দশকে এই ধারণা মোটামুটি পরিবর্তন হয়ে মানুষ জেনেছে অস্ট্রেলিয়ার রাজধানীর নাম ক্যানভেরা. এখনো এই ভুল হরমামেশাই করে যাচ্ছে মানুষ. বিশ্বাস না হলে আশেপাশের কিছু মানুষকে জিজ্ঞেস করে দেখতে পারে. প্রশ্ন করতে পারেন ম্যান্ডেলার নাম কেন? এই ফ্ললস মেমোরি সিন্ড্রোমকে ম্যান্ডেল এফেক্ট নামকরণ করেছেন প্যারানরমাল কনসালটেন্ট ফীয়না ব্রুম তার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে । দু হাজার দশ সালের এক আলোচনা সভায় উঠে আসে দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদ বিরোধী আন্দোলনের নেতা উনিশশো আশি সালে কারা জানে মারা যাওয়ার প্রসঙ্গ । অনেকেই সেদিন বলেছিল, টিভিতে এই নেতার শেষকৃত্যের আনুষ্ঠানিকতা দেখার অভিজ্ঞতার কথা. ম্যান্ডেলার স্ত্রীর হৃদয় নিন্দারও ভাষণের কথা উল্লেখ করেছিলেন কেউ কেউ. এমনক...

কিভাবে লিমিটলেস হওয়া যায় ? লিমিটলেস আসলে কিভাবে কাজ করে ?

এনজিটিপিল,  এটা এমন এক পিল যা আপনাকে করবে আল্ট্রা ফোকাসড. দেবে দুর্দান্ত মোটিভেশন. বের করে আনবে আপনার সর্বোচ্চ সম্ভাবনা. আপনি হয়ে উঠবেন আনস্টপল. বাস্তবতা পাবে প্রতিটি স্বপ্ন. কিন্তু সমস্যা হচ্ছে এমন কোন পিলের অস্তিত্ব নেই. ফলাফল আপনি আটকে আছেন একটি খাদে. সারাক্ষণ ক্লান্তি নিয়ে হয়ে উঠছেন আনপ্রোডাক্টিভ. নষ্ট হচ্ছে ক্রিয়েটিভিটি. সময় গড়িয়ে যায়. ঋতুর পরিবর্তন ঘটে. কিন্তু আপনি ডুবে থাকেন এক হতাশায় যাতে আপনি দিন দিন পিছিয়ে পরছেন. আপনি যা যা এতদিন অর্জন করবেন ভেবেছিলেন তা কিছুই আপনি অর্জন করতে পারেননি । নিজেকে সান্তনা দিচ্ছেন আগামীকাল হবে ভিন্ন। কিন্তু তা কখনোই হয়ে ওঠে না এখন যদি আপনাকে বলি কোনো জাদুকরী পিলের সাহায্যে নয় বাস্তবিক লিমিটলেস হয়ে ওঠা সম্ভব।  একদম প্রমাণিত পদ্ধতিতে যা একেবারে ফ্রিতে ব্যবহার করা সম্ভব.  তো আছেন তো শেষ পর্যন্ত ?  Limit less হওয়ার যাত্রায় ।  স্টেপ ওয়ান : এনার্জি--  মাত্র কয়েক মাস আগে আমি নিজেও আপনার মতো কর্মশক্তিহীন অনুভব করতাম. সামান্য কাজেই আসতো অবসন্নতা, গেয়ে ধরতো ক্লান্তি একদিন হঠাৎ টের পেলাম আমি নিজেই নিজের energy নি...

প্রযুক্তি দুনিয়াতে পর্দার আড়ালে থেকে যাওয়া এক প্রতিভাবান এর গল্প ।

পর্দার আড়ালে একা খেলে যাচ্ছেন একজন. কামাচ্ছেন বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার. অথচ তাকে চেনে খুব কম সংখ্যক মানুষ. আইটি জগতে ইলন মাস্ক, জেফ বোজোস বা বিট গ্রেটসের সাথে তার নামও সমান তালে চলার কথা ছিল. কিন্তু বিহাইন্ড দা সিনে একা গোল করে যাচ্ছেন তিনি. নাম ড্রোন ইয়াং পিং ড্রোন ইয়াং পিং নামটি মোবাইল ফোনের জগতে খুবই কম মানুষের শোনা. তবে তার নাম অজানা থাকলেও তার কোম্পানি বিবিকে ফোন গিগদের মধ্যে বেশ পরিচিত. ওয়ান প্লাস, রিয়েলমি, অপো, ভিভো এবং আইকিউ. এই পাঁচটি জনপ্রিয় মোবাইল ব্র্যান্ডের একক মালিক ডোন ইয়াং পিন.  এই ব্র্যান্ড গুলো তার কোম্পানিতে পরিণত করেছে বর্তমানের সবচেয়ে বড় মোবাইল ফোন উৎপাদনকারী কোম্পানিতে. অ্যাপেল , শাওমি বা স্যামসাং যারা মোবাইল ফোনের জগতে বর্তমানে সবচেয়ে বড় ব্র্যান্ড তাদেরকেও পেছনে ফেলে এগিয়ে গিয়েছে বিবিকে কোম্পানি। কিন্তু এত সফলতার সত্ত্বেও বেশিরভাগ মোবাইল ফোন ব্যবহারকারী এমনকি ফোন গিগরাও তার সম্পর্কে বলতে গেলে তেমন কিছুই জানে না. এলেন মাস্ক, স্টিভ জবস বা জ্যাকমা, যারা কিনা টেকনোলজির জগতে খুবই পরিচিত তাদের সম্পর্কে অনলাইনে  অগণিত তথ্য রয়েছে। কিন্তু ডন ইয়ং পিং এর...

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কি ? আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কতটা ভযঙ্কর হতে পারে আগামী দিনের জন্য ?

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বহুল চর্চিত এবং ব্যবহৃত একটি শব্দ. মানুষের বুদ্ধিমত্তা ও চিন্তা শক্তিকে কম্পিউটার প্রোগ্রামিং এর মাধ্যমে মেশিন ল্যাঙ্গুয়েজে স্থাপন করা টেকনোলজিটাই হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স । এর মাধ্যমে কোন যন্ত্র নির্দিষ্ট প্রোগ্রামের আওতাধীন কিছু কাজ নিজে থেকেই করতে পারে নিজে নিজে সিদ্ধান্ত নিতে পারে।  টার্মিনেচার টাইপের কোনো সাইফাই সিনেমার গুরু বন্ধুর সংলাপ নয়।  A.I নিয়ে ভবিষ্যৎবাণী করেছিলেন পৃথিবীর সেরা বিজ্ঞানীদের একজন স্টিফেন হকিং আমার ভয় হয় তারা সত্যিই হয়তো একদিন মানুষকে হটিয়ে নিয়ন্ত্রকের আসনে বসে যাবে। বেঁচে থাকতেই BBC কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স তথা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে এভাবেই সবাইকে সতর্ক করেছিলেন তিনি। হকিংসের এই ভয় এখনো ভবিষ্যতের বিষয় হলেও অমূলক নয় মোটেও যন্ত্রকে বুদ্ধিমান করে তার আশীর্বাদ অনেক আছে। কিন্তু দীর্ঘ মেয়াদে সেই যন্ত্রই পৃথিবীর দখল নিতে চলেছে কিনা স্বয়ং সম্পূর্ণ হয়ে মানুষকেই বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে একদিন অপদার্থ তে পরিণত করবে কিনা সেই প্রশ্নটা উঠছে বারবার।  যুক্তরাষ্ট্রে...

মিনিমালিজম কি ? কিভাবে মিনিমালিস্ট হওয়া যায় ?

মিনিমামলিজম এই ধারণাটি বিগত কয়েক বছরে বেশ জনপ্রিয়তা লাভ করেছে এবং এর যথেষ্ট কারণও আছে. এই পুরো ব্যাপারটা কি? সেটাকে সঙ্গায়িত করা যায় এভাবে যে,  মিনিমালিজম হচ্ছে যা আমাদের জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সেগুলোকে ধারণ করা এবং বাকি সব কিছু যা আমাদের দৃষ্টিকে অন্যদিকে সরিয়ে নেয় সেগুলোকে ইচ্ছাকৃতভাবে ত্যাগ করা।   অর্থাৎ কোন কোন বিষয়ে জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং কোন জিনিসগুলোকে আমাদের কাছে সবচেয়ে মূল্যবান সেই সম্পর্কে একটা পরিষ্কার ধারণা থাকা এবং বাকি সব ত্যাগ  করে দেয়. সেগুলো নিয়েই জীবন ধারণ করা. কিন্তু এমন সংজ্ঞায়ন সত্ত্বেও minimalism কোন ধরাবাধা জীবন ব্যবস্থা নয় বা মিনিমালিস্ট হতে হলে কোন নির্দিষ্ট মানদণ্ড মেনে চলতে হবে এরকমটিও কিন্তু নয়. মিনিমালিস্ট লাইফ স্টাইল এমন একটি বিষয় যা প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য স্বতন্ত্র। এক্ষেত্রে মূল বিষয়টি হচ্ছে সত্যিকার অর্থে কোন কোন বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও প্রয়োজনীয় সেই সম্পর্কে একটা পরিষ্কার ধারণা নিয়ে সেই অনুযায়ী জীবন ধারণ করা. প্রিয় দর্শক চলুন দেখি মিনিমালিজম কিভাবে আপনার জীবনধারা বদলে দিতে পারে।  মিনিমালিস্ট জীবন অবশ...