সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পঞ্জি স্কিম কি ? কিভাবে মাল্টি লেভেল মার্কেটিং কোম্পানি এত বেশি মুনাফা দিতে পারে ?

Destiny two thousand limited. আমরা কম বেশি সবাই পরিচিত এই নামের সাথে. দু হাজার সালে যাত্রা শুরু হয় ডেসটিনি বাংলাদেশে. মাল্টি লেভেল মার্কেটিং এবং পিরামিড স্কিম এই দুটো ব্যাপারকে প্রায় শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে যায় এই প্রতিষ্ঠান. সাধারণ মানুষকে লোভের ফাঁদে ফেলে বিনিয়োগের তুমুল আগ্রহী করে তোলে ডেসটিনি।  নতুন গ্রাহক আনার উপর দিতে থাকে কমিশন. ব্যাংক বা যে কোন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের চেয়ে অনেক বেশি লাভের সম্ভাবনা দেখে লক্ষ লক্ষ মানুষ জড়িত হয় এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে. নিজেরা বিনিয়োগ  করেই থেমে থাকেনি মানুষ. কমিশনের লোভে পরিচিত বন্ধু, আত্মীয়-স্বজন এক কথায় ঘাড়ে ধরে নিয়ে আসে ডেসটিনি লগিন করার জন্য. সিলভার, গোল্ড প্লাটিনাম সহ নানা রকমের বাহারি নামে ভূষিত করা হয় এইসব ইউজারকে.  পরের গল্প সবার জানা টানা বারো বছর এই দেশে ব্যবসা করে প্রতিষ্ঠানটি । 

শুরুর দিকে অনেকে ভালো অঙ্কের মুনাফাও পেয়েছিলেন ডেস্টিনি থেকে । ওয়ার্ড অফ মাউসের মাধ্যমে সেসব ছড়াতে থাকে।  দেশজুড়ে ডেসটিনি তখন সবচেয়ে জনপ্রিয় ব্র্যান্ড প্রতিষ্ঠানের এমডি রফিকুল আমিনের জনপ্রিয়তা ও সুপারস্টারের চেয়েও একদম কম ছিল না সেই সময়. কিন্তু হাতে হাড়ি ভাঙলে একদিন. দু হাজার বারো সালে প্রকাশিত হলো ডেসটিনি ব্যবসার আড়ালে অন্ধকার দিকগুলো. পঞ্জি স্কিম মডেলে এমএলএম ব্যবসার সাথে পরিচিত হয় মানুষ ডেসটিনি মাধ্যমে. যতদিনে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানে নজর ডেস্টিনের উপর পড়েছে ততদিনে তারা বাজার থেকে হাতিয়ে নিয়েছে চার হাজার কোটি টাকারও বেশি ।সো হোয়াট দা হেল ইজ পঞ্জি স্কীমস। ডেসটিনির গল্পের বাকিটা অনেকে জানেন আর যারা জানেন না তাদের একটু পরে বলছি. 



আমরা বরং আপনাদের এখন এক লোকের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেই। তাকে ঠিক ভদ্রলোক বলা যাবে না । আর্থিক কেলেঙ্কারির জগতে চার্লস পঞ্জী নামের এই লোকটাকে হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালাও বলা যেতে পারে। বাঁশির সুরের জায়গায় পঞ্জি দিতেন বিনিয়োগের বিনিময়ে চড়া মুনাফার প্রস্তাব। এমন মুনাফা আর কারো পক্ষে দেওয়া সম্ভব ছিলই না । তাহলে মিস্টার পনজি কিভাবে এত বেশি মুনাফা দিতেন? তিনি নিজে বা লাভ করতেন কিভাবে? গল্পটা কিন্তু খুব ইন্টারেস্টিং. একশো বছর পেছনে ফিরিয়ে নিয়ে যাবো আপনাদের. ইটালিয়ার নাগরিক পঞ্জি তখন আমেরিকার বস্টম শহরে হইচই ফেলে দিয়েছেন। সিকিউরিটি এক্সচেঞ্জ কোম্পানি নামে এক প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার তিনি । তাকে নিয়ে ওই চুইয়ের প্রধান কারণ বিনিয়োগকারীরা হামলে পড়েছেন তার প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করতে।  চার্লস পঞ্জি যেন জাদুকর পিসি সরকার তার ইন্দ্রজালে বিমোহিত হয়ে পঙ্গপালের মতো ছুটে এসেছেন সহস্র বিনিয়োগকারীরা । সেই সময় বিভিন্ন দেশের ডাক বিভাগ নির্দিষ্ট কিছু আন্তর্জাতিক কুপন ব্যবহার করত চিঠিপত্র বিনিময়ের জন্য।  এই কুপনগুলোর স্থানীয় মুদ্রামান থাকতো এক তবে মুদ্রার বিনিময় মূল্যের ওঠানামার কারণে অনেক সময়  অন্য দেশে আন্তর্জাতিক গোপনের মান বেড়ে বা কমে যেত. অর্থাৎ আমেরিকায় যে কুপনটার দাম পাঁচ ডলার সেটা হয়তো ইউরোপের কোন দেশে দুই ডলারের সমমূল্যে পাওয়া যাচ্ছে. শুরুতে চার্লস পঞ্জি ঠিক এই সুযোগটাকেই নিলেন. তিনি ইউরোপের বিভিন্ন দেশে কিছু এজেন্ট নিয়োগ করলেন। যাদের দিয়ে আন্তর্জাতিক ভাবে এসব কুপন কম মূল্যের মুদ্রায় কিনে নিতেন ।


 ধরা যাক জেনমার্ক বা নেদারল্যান্ডে কুপনের দাম হঠাৎ কমে গেছে আর সেখান থেকে সস্তায় প্রচুর কুপন কিনে জার্মানি ইটালি বা আমেরিকায় চড়া দামে বিক্রি করতেন পনজি অথবা এসব কুপন ব্যয় বহুল ডাকটিকেটের সঙ্গে করতেন বিনিময়. এই দুই মূল্যের ব্যাবধানের কারণে বেশ মোটা একটা লাভ নিজের পকেটে ভরতেন তিনি.  পঞ্জির বিজনেস মডেলে বিনিয়োগকারীরা আগ্রহী হতেন মুনাফার জন্য. সেসময় ব্যাঙ্কে টাকা রাখলে বার্ষিক মুনাফা মিলতো মাত্র পাঁচ শতাংশ. সেই জায়গায় পনজির কোম্পানিতে আন্তর্জাতিক কুপন কিনলে পঞ্চাশ শতাংশ মুনাফা দেওয়ারও প্রস্তাব দেওয়া হতো. তাও আবার মাত্র পঁয়তাল্লিশ দিনে. আর নব্বই দিন লগ্নি করলে হান্ড্রেড পার্সেন্ট প্রফিট. ব্যাঙ্কের চেয়ে বিশ গুণ বেশি লাভ পাওয়া যাবে মাত্র নব্বই দিনে । লোকে ব্যবসায় টাকা বিনিয়োগ করবে না কেন বলুন?  তবে এই পর্যন্ত আইনত কোনো সমস্যা ছিল না. একসময় লোভ বাড়তে থাকলো পনজির।  লোভের সঙ্গে ক্ষুর ধার বুদ্ধিমানও ছিলেন তিনি. পাঁচ ফুট দু ইঞ্চির ছোটখাটো এই মানুষটি নিজের বুদ্ধি দিয়ে মানুষের বিশ্বাস নিয়ে খেলতে শুরু করলেন. নিজের কোম্পানিতে বিনিয়োগ ছিল খুবই কম. বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে জমা নেওয়ার অর্থই তিনি নানাভাবে পুনবন্টন করে দিতেন যাতে তারা বিশ্বাস করেন স্কিমটি সত্যিই ভালো মুনাফা করতে সক্ষম ।

 ফর্মুলাটা কিন্তু খুব সহজ আজকের বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে নেওয়া অর্থ গতকালের বিনিয়োগকারীদের ঋণ পরিশোধে ব্যবহার করা। এদিকে মানুষজন লাভের কারণে বাড়ি ঘর বন্ধক দিয়ে পর্যন্ত টাকা ঢালে পঞ্জির ব্যবসায়. সেই টাকায় পঞ্জি বাড়ি গাড়ি কিনতে থাকেন, কাটাতে শুরু করেন. বিলাসবহুল জীবন. আর তার কাছ থেকে সুবিধা হওয়ার টাকা পেয়ে সাফাই গাইবার লোকেরও কিন্তু অভাব হয়নি. এভাবে তিনি আট মাস নিজের পকেটে ঢোকান প্রায় দেড় কোটি ডলার. পত্রিকায় লেখালেখি শুরু হয় পঞ্জি স্কিমের বিবরণ নিয়ে. এরপর বিষয়টির দিকে চোখ পড়ে যায় কর্তৃপক্ষের. তারা এই অফারটি নিয়ে তদন্ত শুরু করেন. বের হয়ে আসেbপঞ্জির উদ্ভাবিত স্কিমটি হল অনেকটা ফাঁপা  বেলুনের মতো. এতে আসলে কোনো বিনিয়োগ নেই. আছে শুধু পরের ধনে পোদ্দারই আর অন্যের টাকা মেরে খাওয়ার ধান্দা. পঞ্জির জীবনের শেষটা কেটেছে জেলে. উনিশশো বিশ সালের বারোই আগস্ট গ্রেফতার হন তিনি. তবে পঞ্জির গল্প কিন্তু এখানেই শেষ নয়. উনিশশো পঁচিশ সালে জামিনে বেরিয়ে আবার প্রতারণার কাজ শুরু করেন তিনি. আবারো জেলে যেতে হয় তাকে. উনিশশো চৌত্রিশ সালে জেল থেকে বের হওয়ার পরে আমেরিকা থেকে বহিষ্কার করা হয় তাকে. নিজ দেশ ইতালিতেও একই প্রতারণার ব্যবসা করতে গিয়ে ধরা পড়েন পঞ্জির.


 তারপর তিনি চলে যান ব্রাজিলে. কিন্তু ওই যে ঢেকে যেমন স্বর্গে গেলেও ধান ভাঙ্গে, ঠিক তেমনি সেখানেও এই দুই নম্বরি ব্যবসা শুরু করেন পঞ্জির. শেষ জীবনটা. চরম দারিদ্র্যে কেটেছে এই প্রতারকের. নিঃস্ব অবস্থায় মারা যান তিনি. আর রেখে যান প্রতারণার এক যুগান্তকারী কৌশল আজও দেশে দেশে প্রতারকেরা এই কৌশল খাঁটিয়ে  মানুষের লোভকে কাজে লাগিয়ে সর্বনাশ করছে আরো হাজার হাজার মানুষের. তখন থেকে এই ধরনের আর্থিক প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডকে ডাকা হয় পঞ্জি স্কিম বলে । পঞ্জি স্কিম গুলোতে আসলে কিন্তু প্রকৃত পণ্য সেবা বা ব্যবসায় কোন কাঠামোই থাকে না. থাকে ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে উপস্থাপন করা কিছু মিথ্যা প্রতিশ্রুতি আর প্রস্তাবনা. সহজ অর্থ আয় করা লোভ থেকে বিনিয়োগকারীরা এর ফাঁদে পড় পুঁজি হারান. সাধারণ মানুষের লোভকে কাজে লাগিয়ে ব্যক্তিবিশেষে লাভবান হওয়ার এমন পনজি স্কিমের ইতিহাস কিন্তু বেশ পুরনো। আধুনিক যুগের ব্যবসায় মাল্টি লেভেল মার্কেটিং হিসেবে অভিহিত করা হয়. দশ জনের কাছ থেকে টাকা নিয়ে দুইজনকে সামান্য কিছু লভ্যাংশ দিয়ে তারপর সেটাকে ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে প্রচার করা. যেটা ওয়ার্ল্ড স্ট্রেটের পুরখাওয়া স্টক ব্রোকার বার্নি মেড আপ করেছিলেন , ভারতে সাহারা গ্রুপ করেছে , বাংলাদেশে টেস্ট তিনি করেছে. যুবক  করেছে , ইউনিপে করেছে , ফার্স্ট ইউরো করেছে, জি এস মাইনিং করেছে আর হালামুলে রিং আইডি, এসএন গ্রুপ করেছে এমনকি ইভ্যালি ধামাকা বা ই অরেঞ্জের মতো তথাকথিত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান গুলোও করেছে। আমেরিকা থেকে বাংলাদেশ দুনিয়ার নানা প্রান্তে একটু খোঁজ নিলেই হাজারো ঘটনার খোঁজ আপনি খুব সহজেই পেয়ে যাবেন. পঞ্জি স্কিমের বিপত্তা কোথায় জানেন? এটা কিন্তু কোনো sustainable business model নয়. 


আদতে এটা ব্যবসার ধরন হতেই পারে না. পারে শুধু প্রতারণার মডেল হতে. পঞ্জি স্কিম  গুলো মূলত পিরামিড আকৃতির কাঠামোর হয়ে থাকে. যার একেবারে চূড়ায় থাকে মূল পরিকল্পনাকারীরা. যারা স্কিমটি শুরু করেন. এরপর থাকে প্রাথমিক সদস্যরা. প্রাথমিক সদস্যরা নতুন সদস্য সংগ্রহ করেন. যারা তাদের নিচের ধাপে থাকে এবং এভাবে সদস্য দ্বারা সদস্য সংগ্রহের প্রক্রিয় অব্যাহত থাকার মাধ্যমে উপর থেকে নিচের দিকে ছড়ানো একটি পিরামিড আকৃতির  গ্রাহক অবস্থান তৈরি হয়. এজন্য অনেকে পিরামিড স্কিমও বলে থাকেন. তবে পঞ্জি স্কিমের সঙ্গে পিরামিড স্কিমের ছোটখাটো কিছু পার্থক্য কিন্তু আছে. পঞ্জি স্কিম গুলো থেকে গ্রাহকরা কিন্তু শেষ পর্যন্ত ক্ষতির শিকারই হয়ে থাকে. যেটা ডেসটিনির পঁয়তাল্লিশ লক্ষ গ্রাহক হয়েছেন. যুবক এবং ইউনিফের কয়েক লক্ষ গ্রাহক টাকা খুইয়েছেন. ইভ্যালি অরেঞ্জে বিনিয়োগ করে মাথা চাপড়াচ্ছেন হাজারো মানুষ । ঝামেলার ব্যাপার হচ্ছে পঞ্জি স্কিমে দুর্নীতি গুলো টের পাবে তো বেশ কঠিন। বেশিরভাগ সময় ভেতরের কোনো মানুষ ঘটনাটা জানালে তবেই তা প্রকাশ পায় । যখন নতুন বিনিয়োগকারীরা এতে আর অর্থ বিনিয়োগ করেন না এটি থামতে কিন্তু বাধ্য। অর্থের উৎস বা তারল্য কমে যাওয়ায় এটি আর চালানো সম্ভব হয় না. এই ব্যবসায় উদ্যোক্তা নিজের বিনিয়োগ এতো কম থাকে যে তার নিজের আখের গুছিয়েই পালিয়ে যায়. আবার অনেক সময় অনেকে মূল টাকা ফেরত পেতে তাগাদা দিতে শুরু করে আর তখনই শুরু হয় বিশৃঙ্খলা. 


সব পঞ্জি স্কিমের কিন্তু কিছু মৌলিক বৈশিষ্ট্য আছে. অল্প বিনিয়োগে বিশাল মুনাফার আশ্বাস আয়ের প্রবৃদ্ধি ও ব্যবসা বাড়ানোর পরিকল্পনা স্পষ্ট না করা. অতিরিক্ত ধারাবাহিক রিটার্ন, অনিবন্ধিত বিনিয়োগ , মাঝে মাঝে গোপন বিনিয়োগের মাধ্যমে অর্থ আয় করে প্রচার করা. স্কিম সম্পর্কে যে কোন ধরনের তথ্য প্রদান এড়িয়ে চলা. প্রাথমিক বিনিয়োগকারীদের টাকা বিশাল মুনাফা সহ ফেরত দিয়ে তাদের আরও বিনিয়োগের প্রলুব্ধ করা. এই সবই হচ্ছে পঞ্জি স্কিমের বৈশিষ্ট্য. এখন প্রশ্ন আসবে পঞ্জি স্কিম থেকে বাঁচার উপায়টা কি? চারপাশে এত প্রতারক লোভনীয় সব অফারের জাল পেতে রেখেছে এখান থেকে সাধারণ মানুষ সতর্ক থাকবে কিভাবে? পঞ্জি স্ক্রিমের খপ্পর থেকে বাঁচতে হলে অর্থনীতিবিদ হতে হবে না. একটু কমন সেন্স থাকাটাই কিন্তু যথেষ্ট. কোথাও বিনিয়োগ করতে গেলে ঝুঁকি আর মুনাফার তুলনাটা স্পষ্টভাবে করতে হবে. কেউ আপনাকে আকাশ চুম্বি মুনাফার প্রলোভন দেখালো আর আপনি গোলে গেলেন মাখনের মতো এমনটা যেন না হয়. লোভ মানুষের ছয়টা রিপুর একটি. প্রত্যেকের ভেতরেই ধনী হওয়ার লোভ আছে. তাদের দোষের কিছু নেই. কিন্তু সেই লোভ যেন আপনার স্বাভাবিক চিন্তা চেতনা কেড়ে না নেয়। যেকোনো দেশের আইন অনুযায়ী পেশাদারি বিনিয়োগ নিয়ন্ত্রক সংস্থার লাইসেন্স থাকা বা নিবন্ধিত হওয়াটা কিন্তু প্রয়োজন. বেশিরভাগ পঞ্জি স্কিমে লাইসেন্সবিহীন ব্যক্তি বা অনিবন্ধিত সংস্থাগুলো জড়িত থাকে. কাজেই খেয়াল রাখতে হবে যার ওপর টাকা লগ্নি করছেন সে বৈধভাবে ব্যবসা করছে কিনা. যে বিনিয়োগ আপনি বুঝতে পারছেন না তা এড়িয়ে চলাই ভালো. কোথাও বিনিয়োগের আগে বিনিয়োগের ক্ষেত্রটা সম্পর্কে পুরোপুরি ধারণা থাকা উচিত. আপনি যদি অটোমোবাইল ইন্ডাস্ট্রিতে বিনিয়োগ করতে চান এই ইন্ডাস্ট্রি সম্পর্কে আপনার একটা স্বচ্ছ ধারণা থাকা খুবই জরুরী। নইলে আম, চালা দুটোই যাওয়ার সম্ভাবনা কিন্তু খুব বেশি ।পঞ্জি স্কিমের  আরেকটা   মজার দিক আছে যখনই মডেলের ব্যবসা গুলো আইনের নজরে আসে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা গ্রেফতার হন নানা ষড়যন্ত্র তত্ত্বের জন্ম হয়. এই লোকগুলোর প্রচুর ফ্যান ফলোয়ার থাকে. এবং সেই ফ্যান ফলোয়ারদের কাছে তাদের ইমেজটা থাকে প্রায় ঈশ্বরের কাছাকাছি. এই জন্য তাঁরা এই অপরাধীদের মুক্তিরও দাবী করেন. কারণ তাঁরা ভাবেন এই লোকগুলো জেলের বাইরে থাকলে হয়তো তাঁরা তাদের লোক লগ্নি কৃত টাকা কোন না কোনদিন ফেরত পেতেও পারেন। 


উনিশশো বিশ সালে চার্লস পঞ্জিকে গ্রেফতারের পরেও কিছু মানুষ অসন্তোষ জানিয়েছিল। হালামুলে এমএলএ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত কিছু মানুষের গ্রেপ্তারের পরেও কিন্তু কেউ কেউ বিরোধিতা করেছেন চাইলে মিলিয়ে দেখতে পারেন গোটা ব্যাপারটা।  ডেসটিনি 2000 এর পরিণতিটা জানেন অনেকেই. দুর্নীতি দমন কমিশনের মামলা হবার পর কোম্পানিটির শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিরা ধরা পড়েছেন. জেলেই আছেন তাদের বেশিরভাগ. কিন্তু নয় বছর পেরিয়ে গেলেও একটি টাকাও এখনো ফেরত পায়নি গ্রাহকেরা. ডেসটিনি কখনো ভুয়া গাছের মোলা দেখিয়েছে. কখনো বা বলেছে সেই গাছ ছাগলে খেয়ে ফেলেছে. মাঝখান থেকে কোটি কোটি ডলার বিদেশে পাচার হয়েছে. সেগুলো ফিরিয়ে আনার কোন ব্যবস্থাও নেই. আজও লক্ষ লক্ষ গ্রাহক আশায় আছেন. একদিন হয়তো তাঁরা টাকা ফেরত পাবেন. যদিও এই আশা অলীক কল্পনা ছাড়া কিছুই না. 


এবার আসা যাক জনপ্রিয় এবং বিতর্কিত একটা বিষয়. বাংলাদেশের আলোচিত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালে কি পঞ্জিস কিংবা মাল্টি লেভেল মার্কেটিং মেথরে ব্যবসা করছিল. অনেকে এটি মানতে চাইবেন না. কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে ইভালির বিজনেস মডেলটা  পুরোপুরি পঞ্চাশ স্কিমের কাঠামোর সঙ্গে মিল রেখেই গড়ে উঠেছিল. ইভালির প্রায় অর্ধেক দামে পণ্য সরবরাহ করতো. সেই চালের টাকাটা সাধারণ ভোক্তাদের পকেট থেকেই কিন্তু গেছে প্রতিবার। কোন অ্যাঞ্জেল ইনভেস্টারের ফান্ড থেকে নয়. দশ জনের কাছ থেকে পণ্যের জন্য অগ্রিম পেমেন্ট নিয়ে দুজনকে পণ্য ডেলিভারি দিতে ইভ্যালি.  বাকি আটজন হন্যে হয়ে মাসের পর মাস ধরে ঘুরতেন চাতক পাখির মতো । একই সাথে ক্রেতা এবং মার্চেন্ট উভয় শ্রেণীর কাছে ইভ্যালির দেনা বেড়েছে শত শত কোটি টাকা । কারণ তাদের বিজনেস মডেলটাই ছিল পঞ্জি স্কিম বা মাল্টি লেভেল মার্কেটিংয়ের মতো ফাঁপা এবং অবশ্যই অথর্বহীন। এমনই আরেকটি প্রতিষ্ঠান হচ্ছে রিং আইডি. দা বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড পত্রিকার দাবি অনুযায়ী শুধু চলতি বছরের মাত্র তিন মাসে অর্থাৎ এপ্রিল মে ও জুন. এই তিন মাসে মোট তিনশো দুই কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে তারা. নিজেদের এরা কমিউনিটি ব্যবসা বলে দাবি করলেও আদতে এটি পঞ্জি স্কিমে চালিত এমএলএ ব্যবসা. প্ল্যাটফর্মটিতে নতুন সদস্য আনতে পারলে পুরনো সদস্যদের পনেরোশো থেকে সতেরোশো টাকা দিয়ে অফার দেওয়া হয়. এভাবেই তাঁরা সদস্য বাড়ায়. ব্রোঞ্জ, গোল্ড এবং প্লাটিনাম মেম্বারশিপও কিনতে হয় তাদের কাছ থেকে. পর বিজ্ঞাপন দেখার বিনিময়ে মেলে টাকা। 

সে টাকাও আবার কিন্তু ক্যাশ পাওয়া যায় না। রিং আইডি এজেন্টের কাছ থেকে ক্যাশ আউট করতে হয়। মেম্বারশিপ কেনার কিছুদিন পর থেকেই একাউন্টেও শুরু হয় ঝামেলা। একাউন্ট ব্লক করে দেওয়া হয়। এখন মরিয়া হয়ে নিজেদের মেম্বারশিপ বিক্রির চেষ্টায় আছেন হাজার হাজার রিআইডি ইউজার। চার্লস পঞ্জি মারা গেছেন ধুঁকে ধুঁকে । কিন্তু আমেরিকা সহ বিভিন্ন দেশে নিষিদ্ধ থাকার পরেও পঞ্জি স্কিমের মৃত্যু কিন্তু হয়নি বরং গত একশো বছরে এমএলএ মার্কেটিং, পিরামিড স্কিম, হাই হাই স্কিম সহ নানা নামে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ফুলে ফেঁপে উঠেছে এই ব্যবসায়িক মডেল. শুরুটা চটকদার শেষটা. হতাশার. এক লাইনে এটাই এসব ব্যবসার এক লাইন. আমাদের কাজ এসব ধান্দাবাজি থেকে সাবধান থাকা অন্যদের সাবধান করা. লাভ আর লোভের মাঝখানের দেয়ালটা খুব সরু. সেই দেয়াল বেয়ে উপরে উঠতে গিয়ে আমরা যেন অতল গহ্বরে তলিয়ে না যাই কখনো.     

মন্তব্যসমূহ

Blog Posts

ন্যানো টেকনোলজি কিভাবে কাজ করে ?

  যদি বলি আপনার চোখ দেখতে পারে না এমন গভীর ও প্রায় অনাবিষ্কৃত একটা পৃথিবী আছে. হয়তো বলতে পারেন যে মহাবিশ্বে কত গ্রহই তো আছে? সব খোঁজ কি আমরা পেয়েছি? কিন্তু যদি বলি আমাদের এই পৃথিবীর ভেতরে আরো একটি জগত আছে এবং যে জগৎ ছড়িয়ে আছে আমাদের গোটা বিশ্ব জুড়ে. এইবার হয়তো নড়েচড়ে বসবেন. হ্যাঁ আমাদের চোখের সামনেই রয়েছে এমন এক রাজ্য যে আমরা খালি চোখে দেখতে পাই না. এটাকে বলা হয় অণুবীক্ষণিক বিশ্ব. এই অণুবীক্ষণই বিশ্ব প্রচন্ড আকর্ষণীয় ও চমকে দেওয়ার মতো. কি কি ঘটছে এখানে তা আমার আপনার কল্পনারও বাইরে. এটা যেন কোনো ভিন গ্রহ বাসীদের রাজ্য. সম্ভাবনার দুয়ার খুলে রাখা আছে এই অণুবীক্ষণিক বা nano বিশ্বে.  ন্যানো কি ন্যানো হলো পরিমাপের একক। এক মিটারের একশো কোটি ভাগের এক ভাগ হচ্ছে এক ন্যানো। আর ন্যানো টেকনোলজি হলো বিজ্ঞানের এই অতি ক্ষুদ্র স্তরে একটা কিছু তৈরী করা আসলে শুধু তৈরি করা না. ন্যানোমিটার স্কেলে পরিবর্তন, পরিবর্তন, ধ্বংস বা সৃষ্টি সম্পর্কিত টেকনোলজিকেই ন্যানো টেকনোলজি বলে. অর্থাৎ ন্যানোমিটার স্কেলে পরিমিত যেকোনো বিষয়ে বহুমাত্রিক টেকনোলজিকে ন্যানো প্রযুক্তি বা ন্যানো টেকনোলজি বলা যে...

লুসিড ড্রিম কাকে বলে ? লুসিড ড্রিম কিভাবে দেখতে হয় ?

 স্বপ্ন নিয়ন্ত্রণ করার কথা ভেবেছেন কখনো? নিশ্চয়ই ভাবছেন জেগে জেগে দিবাস্বপ্ন দেখার কথা বলছি না তো? কিন্তু না, রীতিমতো ঘুমিয়ে দেখা স্বপ্নও নিয়ন্ত্রণের কথাই বলছি, আপনার ইচ্ছামত স্বপ্ন দেখবেন। ইচ্ছা মতো নিয়ন্ত্রণ করবেন। আর পছন্দ না হলে অর্থাৎ দুঃস্বপ্ন দেখা শুরু করলে সেটার গতিপথ পাল্টে দেবেন একেবারে নিমেষে। আধুনিক বিজ্ঞানের ভাষায় এটা খুবই সম্ভব একে বলা হয় লুসিভ ড্রিম। লুসিড ড্রিমিং এর সাথে আপনারা অনেকেই হয়তো পরিচিত আছেন। অনেকে পরিচিত থাকলেও হয়তো এটা কেন হচ্ছে বা কিভাবে হচ্ছে তা নিয়ে বেশ দ্বিধা দ্বন্দ্বে আছে এসবেরই উত্তর মিলবে আজকের এই লিখাতে।   লুসিড ড্রিম অর্থ কি? সহজ বাংলায় অনুবাদ করতে গেলে বলা যায় লুসিড অর্থ পরিষ্কার. অর্থাৎ স্পষ্ট আর dream মানে তো আমরা সবাই জানি যে স্বপ্ন। লুসিড ডিম হলো সেই স্বপ্ন যে আমাদের স্পষ্ট ভাবে মনে থাকে এবং স্বপ্ন চলাকালীন সময়েও আমরা এ উপলব্ধি করতে পারি যে এটি বাস্তব নয় বরং এটি স্বপ্ন কিন্তু শুধুমাত্র আক্ষরিক অর্থ দিয়ে লুসিড ড্রিম ব্যাখ্যা করলে ভুল হবে একটু অন্যভাবে বলা যাক ।  মনে করুন স্বপ্নে আপনি কি পাহাড়ের উপর থেকে দ্রুত গ...

প্রযুক্তি দুনিয়াতে পর্দার আড়ালে থেকে যাওয়া এক প্রতিভাবান এর গল্প ।

পর্দার আড়ালে একা খেলে যাচ্ছেন একজন. কামাচ্ছেন বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার. অথচ তাকে চেনে খুব কম সংখ্যক মানুষ. আইটি জগতে ইলন মাস্ক, জেফ বোজোস বা বিট গ্রেটসের সাথে তার নামও সমান তালে চলার কথা ছিল. কিন্তু বিহাইন্ড দা সিনে একা গোল করে যাচ্ছেন তিনি. নাম ড্রোন ইয়াং পিং ড্রোন ইয়াং পিং নামটি মোবাইল ফোনের জগতে খুবই কম মানুষের শোনা. তবে তার নাম অজানা থাকলেও তার কোম্পানি বিবিকে ফোন গিগদের মধ্যে বেশ পরিচিত. ওয়ান প্লাস, রিয়েলমি, অপো, ভিভো এবং আইকিউ. এই পাঁচটি জনপ্রিয় মোবাইল ব্র্যান্ডের একক মালিক ডোন ইয়াং পিন.  এই ব্র্যান্ড গুলো তার কোম্পানিতে পরিণত করেছে বর্তমানের সবচেয়ে বড় মোবাইল ফোন উৎপাদনকারী কোম্পানিতে. অ্যাপেল , শাওমি বা স্যামসাং যারা মোবাইল ফোনের জগতে বর্তমানে সবচেয়ে বড় ব্র্যান্ড তাদেরকেও পেছনে ফেলে এগিয়ে গিয়েছে বিবিকে কোম্পানি। কিন্তু এত সফলতার সত্ত্বেও বেশিরভাগ মোবাইল ফোন ব্যবহারকারী এমনকি ফোন গিগরাও তার সম্পর্কে বলতে গেলে তেমন কিছুই জানে না. এলেন মাস্ক, স্টিভ জবস বা জ্যাকমা, যারা কিনা টেকনোলজির জগতে খুবই পরিচিত তাদের সম্পর্কে অনলাইনে  অগণিত তথ্য রয়েছে। কিন্তু ডন ইয়ং পিং এর...

সারোগেসি কি ?

সারোগেসির মাধ্যমে সন্তান ধারণ করা নিয়ে এখনো বহু বিতর্ক আছে. শুধু আমাদের দেশে নয়, সারা বিশ্বেই এই পদ্ধতি নিয়ে তর্ক বিতর্কের শেষ নেই.  এটার আইনি প্রক্রিয়াও জটিল। কারণ এটি একেক রাষ্ট্রে. শারোগেসি আইন একেক রকম. নারী মা হবেন প্রাকৃতিক নিয়ম সমাজ এমনটাই দেখতে অভ্যস্ত. কিন্তু কোন কারণে মা হবার ক্ষমতা না থাকলে তাকে পরিবার ও আশপাশ থেকে যে পরিমাণ কটু কথা শুনতে হয় তা সাধারণ মানুষের ধারণারও বাইরে.   সরোগেসি বিষয়টি কি? চিকিৎসা শাস্ত্রের অগ্রগতি এমন মায়েদের সামনে এনেছে যারা গর্ভ ভাড়া দিয়ে নিজে বাঁচেন অন্যদের মাতৃ সুখ দেন । একজন নারীর গর্ভে অন্য দম্পতির সন্তান ধারণের পদ্ধতিকে সারোগেসি বলা হয়.সারোগেসির এই  পদ্ধতি বেশ দীর্ঘকালীন. আইভিএফ পদ্ধতিতে স্ত্রী ও পুরুষের ডিম্বাণু শুক্রাণু দেহের বাইরে নিষিক্ত করে তা নারীর গর্ভাশয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়. কিন্তু এখানেও জটিলতা. কেন? সে বিষয়ে পরে আসছি. বাংলাদেশ সহ বহু দেশই এই সারোগেসি একরকম ভাবে নিষিদ্ধ. সুতরাং বিষয় টি  সংবেদনশীল. এমনকি বেশিরভাগ ধর্মেও রয়েছে নিষেধাজ্ঞা. চলুন কথা বলি সারোগেসি মাদার সম্পর্কে। আইভিএফ বা টেস্ট টি...

পেগাসাস স্পাইওয়ার কি ?

গত কিছুদিন ধরেই বিশ্ব রাজনীতি এবং প্রযুক্তি জগৎ এই দুই জায়গাতেই আলোচনার বিষয়বস্তু একটাই। সেটা হচ্ছে পেগাসাস স্পাইওয়ার. বিশ্বজুড়ে নানান দেশের মানবাধিকার কর্মী সাংবাদিক আইনজীবী ও রাজনীতিকদের ফোনের নজরদারি চালানোর ঘটনা ফাঁস হওয়ার পর ইজরায়েলের বেসরকারি কোম্পানি nso গ্রুপের তৈরি করা এই সফটওয়্যার নিয়ে এখন তুমুল তরজা চলছে দুনিয়া জুড়ে । চলুন কথা বলি দুনিয়া ওলট পালট করে দেওয়া স্পাইওয়ার সম্পর্কে । পেগাসাস মূলত একটি নজরদারি বিষয়ক সফটওয়্যার । ইজরাইলের সংস্থা এনএসও ই সফটওয়্যার তৈরি করেছে। যা দিয়ে যে কারো মোবাইলে আড়ি পাতা যায়. এটা কিন্তু সাধারণ কোন নজরদারি নয়. আগে ফোনে আড়ি পেতে শুধু দুই প্রান্তের কথাবার্তা শোনা যেত. আর সফটওয়্যারের মাধ্যমে গোটা ফোনটারই নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় হ্যাকাররা. ফোনের কথাবার্তা WhatsApp এর চ্যাট, ছবি, ফোনে কি কি তথ্য আছে সবই জানা যায়. আরো ভয়ানক ব্যবহার হচ্ছে মোবাইল যিনি ব্যবহার করছেন তিনি জানতেই পারেন না যে তার ফোন হ্যাক করা হয়েছে. সমস্ত তথ্য পাচার হয়ে যাচ্ছে নির্দিষ্ট একটি গোষ্ঠীর কাছে. কিন্তু কারো ফোনে পেগাসাস software install করতে হলে তো সেই ফোনটাকে...

রেট রেস কি ?

      আপনি ঠিক কখন ইঁদুর দৌড়ে যোগ দিয়েছেন এটা হিসাব করা কঠিন. কিন্তু নিশ্চিত থাকুন আপনি এই দৌড়ে আছেন. ক্লাস eight এ পড়ার সময়ের কথা মনে আছে? সামনে বৃত্তি পরীক্ষা পাটিগণিত বীজগণিতের অংক প্যাঁচ লাগাচ্ছে বিজ্ঞানের জটিল সব সূত্র ভোরে ওঠে প্রাইভেট টিউটরের বাসায় ছোটা রাত জেগে পড়াশোনা. বয়সের তুলনায় অনেক বেশি কর্ম ব্যস্ত একটা সময় নিশ্চয়ই কাটিয়েছেন তখন? আমরা সবাই কাটিয়েছি. সেই সময় নিশ্চয়ই অভিভাবক বলেছে এই তো আর কটা দিন. বৃত্তি পরীক্ষা শেষ হলেই জীবন শান্তি আর শান্তি. জীবনের নানা এপিসোডে আপনি এই কথাগুলো শুনেছেন অনেকবার অনেকের মুখে. এসএসসি পরীক্ষাটা দাও, কলেজে উঠলেই তো স্বাধীনতা. একবার ভার্সেটিতে উঠতে পারলেই জীবন হবে আনন্দে ভরপুর. একবার জব লাইফে ঢোকো. নিজের টাকায় আয়েশ করার মজাই অন্যরকম. শুনেছেন না এসব?  বয়স ঘড়ির ত্রিশের প্রান্তে দাঁড়িয়ে হিসেবগুলো মেলাতে পারেন কি? কি মনে হয়? এই এপিসোডগুলোর কোনোটা পার হবার সময় জীবন খানিকটা হলেও সহজ হয়েছে? সুন্দর হয়েছে? হয়নি, হবেও না, মিথ্যা একটা মরীচিকার আশায় আমরা ছুটেছি ঠিকই আমাদের ছোটানো হয়েছে, কিন্তু হিসাব মেলেনি ছুটত...

ম্যান্ডেলা ইফেক্ট কেনো হয়?

   আচ্ছা নিজের স্মৃতি শক্তির উপর কতটা বিশ্বাস আছে আপনার? আচ্ছা বাদ দিয়ে আপনার কথা. গণমানুষের স্মৃতিশক্তির উপর নিশ্চয়ই বিশ্বাস আছে অনেকটা. না না. ধর্মীয় কোন বিশ্বাস না. এই গ্রহে ঘটে যাওয়া এমন সব ঘটনা. যা সবাই জানে. তা কি রকম মিথ্যা? এক দশক আগেও পৃথিবীর প্রায় এক তৃতীয়াংশ মানুষ জানতো যে অস্ট্রেলিয়ার রাজধানীর নাম সিডনি. আসলে কি তাই? গত এক দশকে এই ধারণা মোটামুটি পরিবর্তন হয়ে মানুষ জেনেছে অস্ট্রেলিয়ার রাজধানীর নাম ক্যানভেরা. এখনো এই ভুল হরমামেশাই করে যাচ্ছে মানুষ. বিশ্বাস না হলে আশেপাশের কিছু মানুষকে জিজ্ঞেস করে দেখতে পারে. প্রশ্ন করতে পারেন ম্যান্ডেলার নাম কেন? এই ফ্ললস মেমোরি সিন্ড্রোমকে ম্যান্ডেল এফেক্ট নামকরণ করেছেন প্যারানরমাল কনসালটেন্ট ফীয়না ব্রুম তার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে । দু হাজার দশ সালের এক আলোচনা সভায় উঠে আসে দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদ বিরোধী আন্দোলনের নেতা উনিশশো আশি সালে কারা জানে মারা যাওয়ার প্রসঙ্গ । অনেকেই সেদিন বলেছিল, টিভিতে এই নেতার শেষকৃত্যের আনুষ্ঠানিকতা দেখার অভিজ্ঞতার কথা. ম্যান্ডেলার স্ত্রীর হৃদয় নিন্দারও ভাষণের কথা উল্লেখ করেছিলেন কেউ কেউ. এমনক...

কিভাবে লিমিটলেস হওয়া যায় ? লিমিটলেস আসলে কিভাবে কাজ করে ?

এনজিটিপিল,  এটা এমন এক পিল যা আপনাকে করবে আল্ট্রা ফোকাসড. দেবে দুর্দান্ত মোটিভেশন. বের করে আনবে আপনার সর্বোচ্চ সম্ভাবনা. আপনি হয়ে উঠবেন আনস্টপল. বাস্তবতা পাবে প্রতিটি স্বপ্ন. কিন্তু সমস্যা হচ্ছে এমন কোন পিলের অস্তিত্ব নেই. ফলাফল আপনি আটকে আছেন একটি খাদে. সারাক্ষণ ক্লান্তি নিয়ে হয়ে উঠছেন আনপ্রোডাক্টিভ. নষ্ট হচ্ছে ক্রিয়েটিভিটি. সময় গড়িয়ে যায়. ঋতুর পরিবর্তন ঘটে. কিন্তু আপনি ডুবে থাকেন এক হতাশায় যাতে আপনি দিন দিন পিছিয়ে পরছেন. আপনি যা যা এতদিন অর্জন করবেন ভেবেছিলেন তা কিছুই আপনি অর্জন করতে পারেননি । নিজেকে সান্তনা দিচ্ছেন আগামীকাল হবে ভিন্ন। কিন্তু তা কখনোই হয়ে ওঠে না এখন যদি আপনাকে বলি কোনো জাদুকরী পিলের সাহায্যে নয় বাস্তবিক লিমিটলেস হয়ে ওঠা সম্ভব।  একদম প্রমাণিত পদ্ধতিতে যা একেবারে ফ্রিতে ব্যবহার করা সম্ভব.  তো আছেন তো শেষ পর্যন্ত ?  Limit less হওয়ার যাত্রায় ।  স্টেপ ওয়ান : এনার্জি--  মাত্র কয়েক মাস আগে আমি নিজেও আপনার মতো কর্মশক্তিহীন অনুভব করতাম. সামান্য কাজেই আসতো অবসন্নতা, গেয়ে ধরতো ক্লান্তি একদিন হঠাৎ টের পেলাম আমি নিজেই নিজের energy নি...

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কি ? আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কতটা ভযঙ্কর হতে পারে আগামী দিনের জন্য ?

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বহুল চর্চিত এবং ব্যবহৃত একটি শব্দ. মানুষের বুদ্ধিমত্তা ও চিন্তা শক্তিকে কম্পিউটার প্রোগ্রামিং এর মাধ্যমে মেশিন ল্যাঙ্গুয়েজে স্থাপন করা টেকনোলজিটাই হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স । এর মাধ্যমে কোন যন্ত্র নির্দিষ্ট প্রোগ্রামের আওতাধীন কিছু কাজ নিজে থেকেই করতে পারে নিজে নিজে সিদ্ধান্ত নিতে পারে।  টার্মিনেচার টাইপের কোনো সাইফাই সিনেমার গুরু বন্ধুর সংলাপ নয়।  A.I নিয়ে ভবিষ্যৎবাণী করেছিলেন পৃথিবীর সেরা বিজ্ঞানীদের একজন স্টিফেন হকিং আমার ভয় হয় তারা সত্যিই হয়তো একদিন মানুষকে হটিয়ে নিয়ন্ত্রকের আসনে বসে যাবে। বেঁচে থাকতেই BBC কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স তথা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে এভাবেই সবাইকে সতর্ক করেছিলেন তিনি। হকিংসের এই ভয় এখনো ভবিষ্যতের বিষয় হলেও অমূলক নয় মোটেও যন্ত্রকে বুদ্ধিমান করে তার আশীর্বাদ অনেক আছে। কিন্তু দীর্ঘ মেয়াদে সেই যন্ত্রই পৃথিবীর দখল নিতে চলেছে কিনা স্বয়ং সম্পূর্ণ হয়ে মানুষকেই বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে একদিন অপদার্থ তে পরিণত করবে কিনা সেই প্রশ্নটা উঠছে বারবার।  যুক্তরাষ্ট্রে...

মিনিমালিজম কি ? কিভাবে মিনিমালিস্ট হওয়া যায় ?

মিনিমামলিজম এই ধারণাটি বিগত কয়েক বছরে বেশ জনপ্রিয়তা লাভ করেছে এবং এর যথেষ্ট কারণও আছে. এই পুরো ব্যাপারটা কি? সেটাকে সঙ্গায়িত করা যায় এভাবে যে,  মিনিমালিজম হচ্ছে যা আমাদের জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সেগুলোকে ধারণ করা এবং বাকি সব কিছু যা আমাদের দৃষ্টিকে অন্যদিকে সরিয়ে নেয় সেগুলোকে ইচ্ছাকৃতভাবে ত্যাগ করা।   অর্থাৎ কোন কোন বিষয়ে জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং কোন জিনিসগুলোকে আমাদের কাছে সবচেয়ে মূল্যবান সেই সম্পর্কে একটা পরিষ্কার ধারণা থাকা এবং বাকি সব ত্যাগ  করে দেয়. সেগুলো নিয়েই জীবন ধারণ করা. কিন্তু এমন সংজ্ঞায়ন সত্ত্বেও minimalism কোন ধরাবাধা জীবন ব্যবস্থা নয় বা মিনিমালিস্ট হতে হলে কোন নির্দিষ্ট মানদণ্ড মেনে চলতে হবে এরকমটিও কিন্তু নয়. মিনিমালিস্ট লাইফ স্টাইল এমন একটি বিষয় যা প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য স্বতন্ত্র। এক্ষেত্রে মূল বিষয়টি হচ্ছে সত্যিকার অর্থে কোন কোন বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও প্রয়োজনীয় সেই সম্পর্কে একটা পরিষ্কার ধারণা নিয়ে সেই অনুযায়ী জীবন ধারণ করা. প্রিয় দর্শক চলুন দেখি মিনিমালিজম কিভাবে আপনার জীবনধারা বদলে দিতে পারে।  মিনিমালিস্ট জীবন অবশ...