সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

আমরা কি মহাবিশ্বে একা ?

একটা কুকুর ! তারা দেখছে আকাশের নক্ষত্র. যেমন দেখছি আমরা. হয়তো শ্বাস নিচ্ছে অথবা নিচ্ছে না. সৃষ্টি করছে অথবা করছে না. কিন্তু এক টা প্রশ্ন ঠিকই আছে তাদের মাঝে. ঠিক আমাদেরই মতো. আমরা কি মহাবিশ্বে একা? যখন আমস্ট্রংরা চাঁদ থেকে ফিরে এসেছিল তখন তাদের কোয়ারান্টিনে রাখা হয়েছিল বেশ কিছুদিন । কেন ? কারণ যদি কোন ভাইরাস বা অন্য কোন জীবাণু চলে আসে তাদের মাধ্যমে চাঁদ থেকে অর্থাৎ খুব কাছের আমাদের এই উপগ্রহেও প্রাণের সম্ভাবনার কথা ভেবেছিলেন বিজ্ঞানীরা অদ্ভুত তাই না। চলুন যাই প্রাণের খোঁজে মহাবিশ্বে। পৃথিবী কি প্রাণের একমাত্র উৎস? বহু প্রাচীন এই প্রশ্ন. আমাদের এই গ্রহে যত বালুকোনা আছে তার চেয়েও দশ হাজার গুণ বেশি নক্ষত্র আছে শুধুমাত্র আমাদের মিল্কিওয়েতে. আরো স্পষ্ট করে বলা যায় এই সংখ্যা টেন টু দি পাওয়ার টোয়েন্টি টু থেকে টেন টু দি পাওয়ার twenty four বা আরো বেশি. যদি এর পাঁচ শতাংশ নক্ষত্র আমাদের সূর্যের মতো হয় তাহলে সংখ্যা দাঁড়ায় পাঁচশো billion billion নক্ষত্র. খুবই ভালো কথা. প্রতি পাঁচটি সূর্য সাদৃশ্য নক্ষত্রের একটিতেও যদি ধরি যে পানি ও প্রাণ সৃষ্টির রাসায়নিক উপাদান আছে. তাহলে সংখ্যা দাঁড়ায় একশো billion billion গ্রহ. দারুণ ।

এক কাজ করি. এই একশো billion billion থেকে নিরানব্বই শতাংশ ছাঁটাই করে দিই. ধরে নিই মাত্র এক শতাংশে প্রাণ থাকার সম্ভাবনা আছে. তাহলে কত দাঁড়ালো? একশো এক কোটি গ্রহ. তাহলে তারা সবাই কোথায়? নোবেল পুরস্কার প্রাপ্ত ইতালিয়ান, আমেরিকান বিজ্ঞানী, এম রিকো ফার্মিও একদিন জিজ্ঞেস করেছিলেন, এই যে এত এত পৃথিবীর সাদৃশ্য গ্রহ যাতে প্রাণের সম্ভাবনা আছে. তারা কোথায়? আমরা যদি তাদের চেয়ে কম বুদ্ধিমানী হই এত এত গ্রহের কোন সভ্যতাই কি নেই? আমাদের সেই উন্নত বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন. তারা কেন যোগাযোগ করছে না তাহলে? এর উত্তর লুকিয়ে আছে মহাবিশ্ব ও সময়ের কোন স্থানে যা আজও অচেনা. এসসিটিএল বহু বছর যাবৎ চেষ্টা করছে মহাবিশ্ব থেকে কোনো একটা সংকেত পাওয়ার আশায় । গবেষণা চলছে কয়েক দশক ধরে কিন্তু প্রাপ্ত সিগন্যাল জিরো । এই বিষয়টা যাক । প্রাণের সন্ধানে আমাদের অবশ্যই প্রথমে মৌলিক বিষয়ের দিকে তাকাতে হবে. আমাদের চোখে যাই দেখি না কেন তা অত্যন্ত জটিল. দেখে অভ্যস্ত বলেই প্রশ্ন আসে না মনে যে কিভাবে সম্ভব? প্রাণের সৃষ্টিতে প্রয়োজন রসায়ন। আমরা এক একজন রাসায়নিক বিক্রিয়ার এক এক বিশাল ভান্ডার. এখন এই বিক্রিয়ার জন্য কি কি প্রয়োজন? প্রথমেই দরকার শক্তির. যেমন আলো, তাপ ইত্যাদি. একদম সঠিক পরিমানে. এই কারণে ভেনাস বা জুপিটারে প্রাণ নেই কারণ তারা হয় সূর্যের খুব কাছে নয়তো অনেক দূরে. এরপর দরকার বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদান. রাসায়নিক উপাদান তো সব গ্রহই আছে. কিন্তু প্রয়োজন প্রাণীর অস্তিত্ব তৈরির উপাদান. যেমন অক্সিজেন বা কার্বন. আর প্রয়োজন সবচেয়ে দরকারি তরল, পানি কেন? কারণ বাষ্পীয় তরলে পরমাণুগুলো জোট বাঁধতে পারে না. আবার কঠিন বরফে তারা নড়তে পারে না. এই কারণে বহু গ্রহে বরফের অস্তিত্ব থাকলেও প্রাণের অস্তিত্ব নেই. তাই evolution এর অবশ্যই অবশ্যই প্রয়োজন পারেন. পৃথিবীর দিকে তাকালে আমরা দেখতে পাই প্রথম কোষ সম্ভবত উত্তপ্ত আগ্নেয়গিরির জলে জন্মগ্রহণ করেছিল. যে জীব বিজ্ঞানের ভাষায় এটা একসময় ছিল অসম্ভব. যা আমাদের শেখায় প্রস্তুত হতে পারে মৌলিক এবং সাধারণ উপাদানগুলো থেকেই. আবার একদম unnatural উপাদানে তৈরি এলিয়ান থিওরি হুট করেই ফেলে দেওয়া সম্ভব নয়. কারণ এখনো বিজ্ঞান অনেক কিছুই জানে না. এখন মহাবিশ্বে তাকানো যাক. একদম পৃথিবীর সদস্য গ্রহ গুলোকে বলা হয় এক্সওপ্লানেড. এখন পর্যন্ত বিজ্ঞানীরা তিন হাজার আটশো এক্সওপ্লানেটের খোঁজ পেয়েছেন. আমাদের পৃথিবীর চেয়ে দেড় গুণ বড় ক্যাপলার সিক্স টু এফ. বারোশো আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত. সাত billion বছর বয়সী এই গ্রহে পানির অস্তিত্ব থাকার প্রবল সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে. ট্র্যাপিস্ট ওয়ান ডি একচল্লিশ আলোকবর্ষ. টি গার্ডেন বি বারো আলোক বর্ষ. কে টু এইট্টিন বি একশো এগারো আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত. এগুলোর প্রত্যেকটাতেই পানিটা থাকার সম্ভাবনা আছে. এমনকি কে two eighteen B তে নিশ্চিত বায়ুমণ্ডলীয় জলীয় বাষ্পতার প্রমাণ পাওয়া গেছে. আমরা মহাবিশ্বের মহাবিস্ময়ের উপরিভাগে একটা আঁচড় কাড়তে পেরেছি মাত্র. আচ্ছা ড্রেকের সমীকরণ জানেন তো? না না. ভয় পাবার কিছু নেই. বুঝে যাবেন আপনিও. যারা কসমোস টিভি সিরিজ দেখেছেন তাঁরা জানেন কল, সেকেন্ড এবং তাঁর বন্ধু এবং কর্নেল ইউনিভার্সিটির সহযোগী গবেষক এই সমীকরণটি বুঝিয়ে দিয়েছেন খুব সহজে. না দেখলে দেখে ফেলতে পারেন. এখানে সংক্ষেপে এন হচ্ছে মহাবিশ্বের যোগাযোগ সক্ষম সভ্যতার সংখ্যা. r নক্ষত্রের জন্মহার. SP হলো সেই সব নক্ষত্রের সংখ্যা যাদের ঘিরে গ্রহ আবর্তিত হচ্ছে. NE যে সব নক্ষত্রকে ঘিরে গ্রহ রয়েছে সেগুলোতে উপস্থিত সম্ভাব্য প্রাণ ধারণে সক্ষম গ্রহের গড় সংখ্যা. FN হল সকল গ্রহের সংখ্যা যেখানে প্রাণের সম্ভাবনা আছে. FI হলো যত গ্রহে মোট প্রাণের বিকাশ ঘটেছে। এফসি সনাক্তকরণ উপযোগী বেতার তরঙ্গ মহাকাশে প্রেরণ করতে সক্ষম প্রযুক্তি ধারণকারী সভ্যতা আছে এমন গ্রহের সংখ্যা । এল যে সময় ধরে বুদ্ধিমান প্রাণীরা যোগাযোগের জন্য নিজেদের অস্তিত্ব সম্প্রচার করছে মহাবিশ্বে। এই সূত্র নিয়ে বিতর্ক চলছে বহু বছর. ড্রেক এই সমীকরণের আনুমানিক মানও দিয়েছিলেন. সমীকরণের সমাধান এসেছিল তখন দশ. অর্থাৎ শুধু আমাদের গ্যালাক্সিতেই অন্তত দশটি যোগাযোগ সক্ষম, সভ্যতা থাকা সম্ভব. পরে নাসা এই সমীকরণের মান বের করেছিল দুই দশমিক তিন এক. নাসার ধারণা করছে তারা কিছু একটা আবিষ্কারের দারপ্রান্তেই দাঁড়িয়ে আছে. কি সেটা কে জানে? ব্রেকের এই সূত্র হলো সহজ ও সাবলীল উপস্থাপনা যাতে সহজেই ভ্যারিয়েবল এর মানগুলো বসিয়ে উন্নত সভ্যতার সংখ্যা নিরূপণ করা সম্ভব. কিন্তু এখন পর্যন্ত সেই সংখ্যা নিরূপণ করা আমাদের পক্ষে সম্ভবপর হয়নি. কারণ আমরা একটি মানও জানি না. অদূর ভবিষ্যতে যে জানবো তাও সঠিক বলা সম্ভব নয়. তবে আশার বিষয় হলো একটি মান জানতে পারলে অপর মানগুলিও বের করার পথ হবে উন্মোচিত. যদি ড্রেক সমীকরণের আশা ব্যঞ্জক গণনা সত্যিই হয়. আর মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সিতে বুদ্ধিমান সভ্যতা বেতার প্রযুক্তি আয়ত্ত করতে পারে. তাহলে অন্তত তাদের সঙ্গে বেতার যোগাযোগ সম্ভব. এইসব সভ্যতা এক লাখ আলোকবর্ষ ব্যস বিশিষ্ট গ্যালাক্সির সর্বত্র এলোমেলো ভাবে বিন্যস্ত থাকলে কাছের সভ্যতার দূরত্ব হবে প্রায় দুইশো আলোকবর্ষ । তার মানে এমনকি আলোর গতিতে গেলেও সেখান থেকে কোনো বার্তা ফেরত আসতে দুই শতাব্দী লেগে যাবে । মহাবিশ্বের সাথে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম আপাতত রেডিও ওয়েব। একসময় হয় তো এর চেয়েও উন্নত মাধ্যম আবিষ্কৃত হবে। হয়তো তখন সম্ভব হবে যোগাযোগ করা অথবা হয়তো হবেই না বিজ্ঞানে সম্ভাবনা সবসময় উন্নত চিন্তায় নিয়ে যায় । কিন্তু আসলে কি তাই ? যদি এলিয়েন লাইফের খোঁজ পাই আমরাও তাঁরা আমাদের চেয়ে কম বুদ্ধিমান হয় তাহলে হয়তো চিন্তার কিছু নেই. কিন্তু যদি উন্নত বুদ্ধির হয়. তাহলে কিন্তু একটা সমস্যা আছে. যেভাবে নিয়ন্ডারতাল হারিয়ে গেছে তাদের চেয়ে উন্নত মানুষ জাতির জন্যে আমাদের ক্ষেত্রেও কি সেই সম্ভাবনা একেবারেই উড়িয়ে দেওয়া যায়? আমরা খুব বেশি ব্যস্ত. আসলে আমরা একা নাকি এটা দেখার জন্য. এটা কি ভালো না খারাপ তা সময়ই বলে দেবে. হয়তো সেখানেই বিজ্ঞানের শুরু. অথবা কে জানে? সেখানেই হয়তো শেষ.

মন্তব্যসমূহ

Blog Posts

পেগাসাস স্পাইওয়ার কি ?

গত কিছুদিন ধরেই বিশ্ব রাজনীতি এবং প্রযুক্তি জগৎ এই দুই জায়গাতেই আলোচনার বিষয়বস্তু একটাই। সেটা হচ্ছে পেগাসাস স্পাইওয়ার. বিশ্বজুড়ে নানান দেশের মানবাধিকার কর্মী সাংবাদিক আইনজীবী ও রাজনীতিকদের ফোনের নজরদারি চালানোর ঘটনা ফাঁস হওয়ার পর ইজরায়েলের বেসরকারি কোম্পানি nso গ্রুপের তৈরি করা এই সফটওয়্যার নিয়ে এখন তুমুল তরজা চলছে দুনিয়া জুড়ে । চলুন কথা বলি দুনিয়া ওলট পালট করে দেওয়া স্পাইওয়ার সম্পর্কে । পেগাসাস মূলত একটি নজরদারি বিষয়ক সফটওয়্যার । ইজরাইলের সংস্থা এনএসও ই সফটওয়্যার তৈরি করেছে। যা দিয়ে যে কারো মোবাইলে আড়ি পাতা যায়. এটা কিন্তু সাধারণ কোন নজরদারি নয়. আগে ফোনে আড়ি পেতে শুধু দুই প্রান্তের কথাবার্তা শোনা যেত. আর সফটওয়্যারের মাধ্যমে গোটা ফোনটারই নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় হ্যাকাররা. ফোনের কথাবার্তা WhatsApp এর চ্যাট, ছবি, ফোনে কি কি তথ্য আছে সবই জানা যায়. আরো ভয়ানক ব্যবহার হচ্ছে মোবাইল যিনি ব্যবহার করছেন তিনি জানতেই পারেন না যে তার ফোন হ্যাক করা হয়েছে. সমস্ত তথ্য পাচার হয়ে যাচ্ছে নির্দিষ্ট একটি গোষ্ঠীর কাছে. কিন্তু কারো ফোনে পেগাসাস software install করতে হলে তো সেই ফোনটাকে...

প্রযুক্তি দুনিয়াতে পর্দার আড়ালে থেকে যাওয়া এক প্রতিভাবান এর গল্প ।

পর্দার আড়ালে একা খেলে যাচ্ছেন একজন. কামাচ্ছেন বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার. অথচ তাকে চেনে খুব কম সংখ্যক মানুষ. আইটি জগতে ইলন মাস্ক, জেফ বোজোস বা বিট গ্রেটসের সাথে তার নামও সমান তালে চলার কথা ছিল. কিন্তু বিহাইন্ড দা সিনে একা গোল করে যাচ্ছেন তিনি. নাম ড্রোন ইয়াং পিং ড্রোন ইয়াং পিং নামটি মোবাইল ফোনের জগতে খুবই কম মানুষের শোনা. তবে তার নাম অজানা থাকলেও তার কোম্পানি বিবিকে ফোন গিগদের মধ্যে বেশ পরিচিত. ওয়ান প্লাস, রিয়েলমি, অপো, ভিভো এবং আইকিউ. এই পাঁচটি জনপ্রিয় মোবাইল ব্র্যান্ডের একক মালিক ডোন ইয়াং পিন.  এই ব্র্যান্ড গুলো তার কোম্পানিতে পরিণত করেছে বর্তমানের সবচেয়ে বড় মোবাইল ফোন উৎপাদনকারী কোম্পানিতে. অ্যাপেল , শাওমি বা স্যামসাং যারা মোবাইল ফোনের জগতে বর্তমানে সবচেয়ে বড় ব্র্যান্ড তাদেরকেও পেছনে ফেলে এগিয়ে গিয়েছে বিবিকে কোম্পানি। কিন্তু এত সফলতার সত্ত্বেও বেশিরভাগ মোবাইল ফোন ব্যবহারকারী এমনকি ফোন গিগরাও তার সম্পর্কে বলতে গেলে তেমন কিছুই জানে না. এলেন মাস্ক, স্টিভ জবস বা জ্যাকমা, যারা কিনা টেকনোলজির জগতে খুবই পরিচিত তাদের সম্পর্কে অনলাইনে  অগণিত তথ্য রয়েছে। কিন্তু ডন ইয়ং পিং এর...

ডিপ্রেশন কি ? এটা কত প্রকার ? বাইপোলার ডিসঅর্ডার কি ?

আজকাল খুব কমন একটা শব্দ ডিপ্রেশন. যার বাংলা অবসাদ । ডিপ্রেশনের সাথে সাথে পরিচিত হয়ে উঠছি আমরা মুড সুইং শব্দটার সাথেও । এই জেনারেশনের কারো সোশ্যাল মিডিয়ায় ডিপ্রেশনে না ভোগাটাই যেন বিরাট অপমানজনক। সবাই কেন যেন অস্থির হয়ে আছে বোঝাতে যে সে ডিপ্রেশনে ভুগছে । কখনো গানের লিরিক্স আবার কখনো বিখ্যাত লেখকের কোটেশন সবকিছুতেই ডিপ্রেশন । সাইকিয়াট্রিতে এই ডিপ্রেশন হল এক ধরনের মুড ডিসঅর্ডার । যেটা একমুখী অবসর বা ইউনিফুলার ডিপ্রেশন । কিন্তু সম্প্রতি আর এক ধরণের অবসাদ বিজ্ঞানীদের মাথা খারাপ করে দিচ্ছে। যেটাকে বলা হচ্ছে বাই পোলার ডিপ্রেশন । বাই পোলার অর্থাৎ দ্বিমুখী । একে ম্যানিক ডিপ্রেশনে বলা হয়। এখনো পর্যন্ত মনোবিজ্ঞানীরা বাই পোলার ডিসঅর্ডারের কারণ সম্পর্কে সঠিকভাবে জানতে পারেন নি। এর ওপর প্রচুর গবেষণা চলছে। জানলে অবাক হবেন যে শুধুমাত্র আমেরিকাতেই সাত মিলিয়নেরও বেশি মানুষ বাইপোলার ডিসঅর্ডারে ভুগছে । কিন্তু আসলে কি ঘটে? বাইপোলার ডিসঅর্ডারে? চলুন কথা বলি বাই পোলার ডিসঅর্ডার নিয়ে আজ কথা বলা যাক।   বাইপোলার ডিসঅর্ডার কাকে বলে? খুব সংক্ষেপে বলা যায় বাইপোলার ডিসঅর্ডার একটি মানসিক অবস্থা। যে...

কিভাবে লিমিটলেস হওয়া যায় ? লিমিটলেস আসলে কিভাবে কাজ করে ?

এনজিটিপিল,  এটা এমন এক পিল যা আপনাকে করবে আল্ট্রা ফোকাসড. দেবে দুর্দান্ত মোটিভেশন. বের করে আনবে আপনার সর্বোচ্চ সম্ভাবনা. আপনি হয়ে উঠবেন আনস্টপল. বাস্তবতা পাবে প্রতিটি স্বপ্ন. কিন্তু সমস্যা হচ্ছে এমন কোন পিলের অস্তিত্ব নেই. ফলাফল আপনি আটকে আছেন একটি খাদে. সারাক্ষণ ক্লান্তি নিয়ে হয়ে উঠছেন আনপ্রোডাক্টিভ. নষ্ট হচ্ছে ক্রিয়েটিভিটি. সময় গড়িয়ে যায়. ঋতুর পরিবর্তন ঘটে. কিন্তু আপনি ডুবে থাকেন এক হতাশায় যাতে আপনি দিন দিন পিছিয়ে পরছেন. আপনি যা যা এতদিন অর্জন করবেন ভেবেছিলেন তা কিছুই আপনি অর্জন করতে পারেননি । নিজেকে সান্তনা দিচ্ছেন আগামীকাল হবে ভিন্ন। কিন্তু তা কখনোই হয়ে ওঠে না এখন যদি আপনাকে বলি কোনো জাদুকরী পিলের সাহায্যে নয় বাস্তবিক লিমিটলেস হয়ে ওঠা সম্ভব।  একদম প্রমাণিত পদ্ধতিতে যা একেবারে ফ্রিতে ব্যবহার করা সম্ভব.  তো আছেন তো শেষ পর্যন্ত ?  Limit less হওয়ার যাত্রায় ।  স্টেপ ওয়ান : এনার্জি--  মাত্র কয়েক মাস আগে আমি নিজেও আপনার মতো কর্মশক্তিহীন অনুভব করতাম. সামান্য কাজেই আসতো অবসন্নতা, গেয়ে ধরতো ক্লান্তি একদিন হঠাৎ টের পেলাম আমি নিজেই নিজের energy নি...

ম্যান্ডেলা ইফেক্ট কেনো হয়?

   আচ্ছা নিজের স্মৃতি শক্তির উপর কতটা বিশ্বাস আছে আপনার? আচ্ছা বাদ দিয়ে আপনার কথা. গণমানুষের স্মৃতিশক্তির উপর নিশ্চয়ই বিশ্বাস আছে অনেকটা. না না. ধর্মীয় কোন বিশ্বাস না. এই গ্রহে ঘটে যাওয়া এমন সব ঘটনা. যা সবাই জানে. তা কি রকম মিথ্যা? এক দশক আগেও পৃথিবীর প্রায় এক তৃতীয়াংশ মানুষ জানতো যে অস্ট্রেলিয়ার রাজধানীর নাম সিডনি. আসলে কি তাই? গত এক দশকে এই ধারণা মোটামুটি পরিবর্তন হয়ে মানুষ জেনেছে অস্ট্রেলিয়ার রাজধানীর নাম ক্যানভেরা. এখনো এই ভুল হরমামেশাই করে যাচ্ছে মানুষ. বিশ্বাস না হলে আশেপাশের কিছু মানুষকে জিজ্ঞেস করে দেখতে পারে. প্রশ্ন করতে পারেন ম্যান্ডেলার নাম কেন? এই ফ্ললস মেমোরি সিন্ড্রোমকে ম্যান্ডেল এফেক্ট নামকরণ করেছেন প্যারানরমাল কনসালটেন্ট ফীয়না ব্রুম তার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে । দু হাজার দশ সালের এক আলোচনা সভায় উঠে আসে দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদ বিরোধী আন্দোলনের নেতা উনিশশো আশি সালে কারা জানে মারা যাওয়ার প্রসঙ্গ । অনেকেই সেদিন বলেছিল, টিভিতে এই নেতার শেষকৃত্যের আনুষ্ঠানিকতা দেখার অভিজ্ঞতার কথা. ম্যান্ডেলার স্ত্রীর হৃদয় নিন্দারও ভাষণের কথা উল্লেখ করেছিলেন কেউ কেউ. এমনক...

সারোগেসি কি ?

সারোগেসির মাধ্যমে সন্তান ধারণ করা নিয়ে এখনো বহু বিতর্ক আছে. শুধু আমাদের দেশে নয়, সারা বিশ্বেই এই পদ্ধতি নিয়ে তর্ক বিতর্কের শেষ নেই.  এটার আইনি প্রক্রিয়াও জটিল। কারণ এটি একেক রাষ্ট্রে. শারোগেসি আইন একেক রকম. নারী মা হবেন প্রাকৃতিক নিয়ম সমাজ এমনটাই দেখতে অভ্যস্ত. কিন্তু কোন কারণে মা হবার ক্ষমতা না থাকলে তাকে পরিবার ও আশপাশ থেকে যে পরিমাণ কটু কথা শুনতে হয় তা সাধারণ মানুষের ধারণারও বাইরে.   সরোগেসি বিষয়টি কি? চিকিৎসা শাস্ত্রের অগ্রগতি এমন মায়েদের সামনে এনেছে যারা গর্ভ ভাড়া দিয়ে নিজে বাঁচেন অন্যদের মাতৃ সুখ দেন । একজন নারীর গর্ভে অন্য দম্পতির সন্তান ধারণের পদ্ধতিকে সারোগেসি বলা হয়.সারোগেসির এই  পদ্ধতি বেশ দীর্ঘকালীন. আইভিএফ পদ্ধতিতে স্ত্রী ও পুরুষের ডিম্বাণু শুক্রাণু দেহের বাইরে নিষিক্ত করে তা নারীর গর্ভাশয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়. কিন্তু এখানেও জটিলতা. কেন? সে বিষয়ে পরে আসছি. বাংলাদেশ সহ বহু দেশই এই সারোগেসি একরকম ভাবে নিষিদ্ধ. সুতরাং বিষয় টি  সংবেদনশীল. এমনকি বেশিরভাগ ধর্মেও রয়েছে নিষেধাজ্ঞা. চলুন কথা বলি সারোগেসি মাদার সম্পর্কে। আইভিএফ বা টেস্ট টি...

রেট রেস কি ?

      আপনি ঠিক কখন ইঁদুর দৌড়ে যোগ দিয়েছেন এটা হিসাব করা কঠিন. কিন্তু নিশ্চিত থাকুন আপনি এই দৌড়ে আছেন. ক্লাস eight এ পড়ার সময়ের কথা মনে আছে? সামনে বৃত্তি পরীক্ষা পাটিগণিত বীজগণিতের অংক প্যাঁচ লাগাচ্ছে বিজ্ঞানের জটিল সব সূত্র ভোরে ওঠে প্রাইভেট টিউটরের বাসায় ছোটা রাত জেগে পড়াশোনা. বয়সের তুলনায় অনেক বেশি কর্ম ব্যস্ত একটা সময় নিশ্চয়ই কাটিয়েছেন তখন? আমরা সবাই কাটিয়েছি. সেই সময় নিশ্চয়ই অভিভাবক বলেছে এই তো আর কটা দিন. বৃত্তি পরীক্ষা শেষ হলেই জীবন শান্তি আর শান্তি. জীবনের নানা এপিসোডে আপনি এই কথাগুলো শুনেছেন অনেকবার অনেকের মুখে. এসএসসি পরীক্ষাটা দাও, কলেজে উঠলেই তো স্বাধীনতা. একবার ভার্সেটিতে উঠতে পারলেই জীবন হবে আনন্দে ভরপুর. একবার জব লাইফে ঢোকো. নিজের টাকায় আয়েশ করার মজাই অন্যরকম. শুনেছেন না এসব?  বয়স ঘড়ির ত্রিশের প্রান্তে দাঁড়িয়ে হিসেবগুলো মেলাতে পারেন কি? কি মনে হয়? এই এপিসোডগুলোর কোনোটা পার হবার সময় জীবন খানিকটা হলেও সহজ হয়েছে? সুন্দর হয়েছে? হয়নি, হবেও না, মিথ্যা একটা মরীচিকার আশায় আমরা ছুটেছি ঠিকই আমাদের ছোটানো হয়েছে, কিন্তু হিসাব মেলেনি ছুটত...

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কি ? আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কতটা ভযঙ্কর হতে পারে আগামী দিনের জন্য ?

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বহুল চর্চিত এবং ব্যবহৃত একটি শব্দ. মানুষের বুদ্ধিমত্তা ও চিন্তা শক্তিকে কম্পিউটার প্রোগ্রামিং এর মাধ্যমে মেশিন ল্যাঙ্গুয়েজে স্থাপন করা টেকনোলজিটাই হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স । এর মাধ্যমে কোন যন্ত্র নির্দিষ্ট প্রোগ্রামের আওতাধীন কিছু কাজ নিজে থেকেই করতে পারে নিজে নিজে সিদ্ধান্ত নিতে পারে।  টার্মিনেচার টাইপের কোনো সাইফাই সিনেমার গুরু বন্ধুর সংলাপ নয়।  A.I নিয়ে ভবিষ্যৎবাণী করেছিলেন পৃথিবীর সেরা বিজ্ঞানীদের একজন স্টিফেন হকিং আমার ভয় হয় তারা সত্যিই হয়তো একদিন মানুষকে হটিয়ে নিয়ন্ত্রকের আসনে বসে যাবে। বেঁচে থাকতেই BBC কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স তথা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে এভাবেই সবাইকে সতর্ক করেছিলেন তিনি। হকিংসের এই ভয় এখনো ভবিষ্যতের বিষয় হলেও অমূলক নয় মোটেও যন্ত্রকে বুদ্ধিমান করে তার আশীর্বাদ অনেক আছে। কিন্তু দীর্ঘ মেয়াদে সেই যন্ত্রই পৃথিবীর দখল নিতে চলেছে কিনা স্বয়ং সম্পূর্ণ হয়ে মানুষকেই বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে একদিন অপদার্থ তে পরিণত করবে কিনা সেই প্রশ্নটা উঠছে বারবার।  যুক্তরাষ্ট্রে...

রাশিয়ান হ্যাকাররা এত ভয়ঙ্কর কেন ?

  হ্যাকিং !  খুব ছোট্ট একটা শব্দ কিন্তু এই তাৎপর্য এবং গুরুত্ব দুটোই অপরিসীম. একজন মানুষের জীবন ধ্বংস করার ক্ষমতা তো হ্যাকারদের আছেই. গোটা একটা জাতির অপরিসীম ক্ষতি সাধনা করা সম্ভব. শুধুমাত্র এই হ্যাকিংএর মাধ্যমে. বাংলাদেশ ব্যাংকের টাকা চুরির ঘটনাটা কি উদাহরণ ধরতে পারেন. স্প্যাম মেল পাঠিয়ে সার্ভারের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সরকারি ছুটির সময়টাকে কাজে লাগানোর মাধ্যমে হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশের কিছু ব্যাংক একাউন্টে ট্রান্সফার করে নিয়েছিল এই হ্যাকাররা. এর মধ্যে কিছু টাকা ফিরিয়ে আনা গেছে সত্যি কিন্তু বেশিরভাগেরই কোন হদিস পাওয়া যায় নি.  সাউথ ইন্ডিয়ান সিনেমায় হ্যাকিং এর দৃশ্য দেখে আপনি যদি ভেবে থাকেন যে ভার্সিটি থেকে ড্রপ আউট হওয়া ক্র্যাক হেডেট কিছুর দরুন দিনরাত কম্পিউটারের সামনে বসে এসব করে ফেলছে তাহলে আপনি বোকার স্বর্গে বাস করছেন । হ্যাঁ এরকম হ্যাকার যে নেই তা নয় । ইন্ডিপেন্ডেন্ট হ্যাকার সংখ্যাও পৃথিবীতে কম নয় । কিন্তু দুনিয়া জুড়ে হ্যাকিংকে যারা শিল্পে পরিণত করেছে যারা হ্যাকার হিসেবে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে হয়ে উঠেছে মূর্তিমান আতঙ্কের নাম ...

কেনো বাংলাদেশীরা ইন্ডিয়াকে ঘৃনা করে?

একাত্তর সালের ডিসেম্বর মাস মুক্তিযুদ্ধ চলছে। ভারত তখনও সরাসরি অংশগ্রহণ করেনি মুক্তিযুদ্ধে। বাংলাদেশের পক্ষে কূটনৈতিক তৎপরতা চালাচ্ছে তাঁরা। প্রায় এক কোটি শরণার্থী আশ্রয় নিয়েছে ভারতে। মুজিবনগর সরকারের অস্থায়ী সদর দপ্তর স্থাপিত হয়েছে কোলকাতায়। মুক্তি যোদ্ধারা ভারতের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে ক্যাম্প করে সেখান থেকে আক্রমণ হানছে পাকিস্তানি সেনাদের উপর.  তেসরা ডিসেম্বর বিকেলে ভারতের তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল শ্যাম টেলিফোন করলেন ভারতের ইস্টার্ন আর্মির চিফ অফ স্টাফ, লেফটেন্যান্ট জেনারেল জ্যাক জ্যাকবের এর কাছে. মানিক সো জ্যাকব কে বললেন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীকে বলুন, পাকিস্তানি বিমান থেকে ভারতের পশ্চিমাঞ্চলের এয়ার ফিল্ড গুলোতে বোমা বর্ষণ করা হয়েছে. ইন্দিরা গান্ধী তড়িৎ সিদ্ধান্ত নিলেন. পাকিস্তানের বিপক্ষে যুদ্ধ ঘোষণা করল ভারত। ছয় ডিসেম্বর প্রথম রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশকে স্বাধীন দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দিল ইন্দিরা গান্ধীর সরকার। বাংলাদেশের বয়স পঞ্চাশ বছর পূর্ণ হয়েছে. ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের বয়সও হয়ে গেছে পঞ্চাশ বছর. কিন্তু গত পঞ্চাশ বছরে এদেশের অনেক মানুষের মধ্যে ভারত বির...