সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

বুদ্ধিমত্তা কি ? এটি কিভাবে কাজ করে ?

মানুষ তার অনেক  কিছু নিয়েই গর্ব করে । বিজ্ঞান থেকে শুরু করে নাম , বর্ণ, জাতি, শ্রেণী , সিনেমা , গল্প , কবিতা ইত্যাদি নিয়ে তার গর্বের শেষ নেই । এই সবকিছুই সম্ভব হয়েছে মাত্র একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে. সেই বিষয়টিকে মানুষ সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়. আর তা হল বুদ্ধিমত্তা. সাধারণত বুদ্ধিমত্তাকে আমরা শক্তির মতো কোনো একটি বৈশিষ্ট্য বলে মনে করি. কিন্তু যখনই আমরা একে সঙ্গায়িত করার চেষ্টা করি, যে বুদ্ধিমত্তা কি? তখন সেটা বেশ ঘোলাটে হয়ে আসে. এক কথায় বলতে গেলে বুদ্ধিমত্তা হচ্ছে সমস্যা সমাধানের জন্য এক ধরনের পদ্ধতি বা মেকানিজম যা টিকে থাকার জন্য প্রতিনিয়ত মানুষকে যে সমস্যাগুলো মোকাবিলা করতে হতো।  যেমন খাবার সংগ্রহ ও আশ্রয় খোঁজা প্রজননের জন্য সঙ্গী খোঁজার প্রতিযোগিতা কিংবা শিকারি প্রাণী থেকে পালিয়ে বাঁচার কৌশল আবিষ্কার করা প্রভৃতিকে বোঝায়.


 বুদ্ধিমত্তা কোনো  একক বিষয়. এর মধ্যে রয়েছে জ্ঞান আহরণের সক্ষমতা. বিভিন্ন বিষয়ে শেখার দক্ষতা, সৃজনশীলতার, কৌশল উদ্ভাবনের ক্ষমতা এবং জটিল বিষয়গুলি নিয়ে চিন্তা করার সামর্থ্য । এটা নিজেকে প্রকাশ করে বিভিন্ন রকমের আচরণ ও ব্যবহারের মাধ্যমে । যেমন বিভিন্ন মাত্রার চেতনা এবং বিভিন্ন ধরণের শিক্ষার প্রতি প্রবৃত্তিগত বা প্রকৃতিগত প্রতিক্রিয়া। কিন্তু বুদ্ধিমত্তা কিভাবে শুরু হয়েছে বা এর সংজ্ঞা কি তা নিয়ে সকল বিজ্ঞানী কিন্তু একমত্ নয় । ব্যাপারটা আসলে আরো জটিল কারণ বুদ্ধিমত্তা চেতনার সাথে সম্পর্কযুক্ত। যেহেতু চেতনা সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে খুবই উপকারী ।সুতরাং বুদ্ধিমত্তা বলতে আসলে কি বোঝায় সেটা ঠিক পরিষ্কার নয় । একে অনেক ধরনের দক্ষতা ও কৌশলের সমষ্টি ভাবতে পারি. বা একে একটা টুল বক্স বা যন্ত্রপাতির বাক্স ভাবতে পারি। যার মধ্যে একেবারে মৌলিক যন্ত্রপাতিগুলো রয়েছে. এই মৌলিক যন্ত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে তথ্য সংগ্রহ ও তার স্মৃতিতে ধারণ করার ক্ষমতা এবং এবং তা ব্যবহার করে বিভিন্ন বিষয় গুলি শিখতে পারার ক্ষমতা। 

পৃথিবী সম্পর্কিত নানান তথ্য বিভিন্ন এনজিএর সাহায্যে যেমন চোখ, কান, নাক, স্বাদ বা স্পর্শর মধ্য দিয়ে পুনধাবন করা হয়. একই সাথে এই ইন্দ্রিয়গুলো বাহ্যিক পরিবেশের সাথে আমাদের যথাযথ প্রতিক্রিয়া প্রকাশে সাহায্য করে. জীবিত প্রাণীকে নিজের দেহের অবস্থা সম্পর্কে সার্বক্ষণিক অবগত থাকতে হয়. ক্ষুধা, ক্লান্তি, নানান চাহিদার বিষয়ে সচেতন থাকতে হয়. তথ্য হচ্ছে সকল জীবিত প্রাণীর জন্য সকল কর্মের ভিত্তি। তথ্য ছাড়া তার টিকে থাকা নির্ভর করে পরিবেশের দয়ার ওপরে। যেহেতু সঠিক তথ্য ব্যতীত সে যথাযথ প্রয়োজনীয় প্রতিক্রিয়া দেখাতে অক্ষম। তথ্য অনেক বেশি শক্তিশালী হয়ে ওঠে যদি তার সংগ্রহ ও ধারণ করে রাখা যায়। সুতরাং দ্বিতীয় মৌলিক যন্ত্রটি হচ্ছে আমাদের স্মৃতি. স্মৃতি হচ্ছে তথ্য সংগ্রহ ও তার ধারণ ও স্মরণ করতে পারার ক্ষমতা. যাতে করে একই তথ্য তাকে বারবার সংগ্রহ করতে না হয় এবং একই জিনিস বারবার শিখতে না হয়. এই স্মৃতি হতে পারে কোন ঘটনা সম্বলিত কোন স্থানকে ঘিরে বা কোন সঙ্গী বা সমাজ সম্পর্কিত আবার এমনও হতে পারে।

 কোন ব্যবহার বা আচরণগত স্মৃতি যেমন শিকার কৌশল বা কোন কিছু নির্মাণ করতে পারার পন্থা আবিষ্কার যা কোন প্রাণী বেঁচে থাকার জন্য রপ্ত করে। কিছু আচরণ বা দক্ষতা অর্জনের জন্য বারবার অনুশীলন করতে হয় যাতে করে তা সম্পূর্ণভাবে আয়ত্ত করা যায়. যেমন উড়তে পারা বা সাঁতরানো. এই অনুশীলনের মাধ্যমেই কোনো দক্ষতা অর্জন করা যায়. অর্থাৎ অনেক গুলো  গুলো চিন্তা বা কাজ একটি নির্দিষ্ট ধারায় করতে পারার সক্ষমতা তৈরি হয়. এই তিনটি মৌলিক যন্ত্র বা ক্ষমতা সবচেয়ে নির্ভর প্রাণীটিকেও অবাক করার মতো বুদ্ধিদীপ্ত কাজ করতে সাহায্য করে. যেমন এককোষী স্লাইন মন, যা মূলত একটা বৃহৎ স্লাইম কোষ. এমন সব ব্যবহার প্রদর্শন করে যার সাথে সরল  মস্তিষ্কের প্রাণীদের আচরণের মিল আছে। যদিও এই এককোষি স্লাইমের কোন মস্তিস্ক নেই। যখন কোন গোলক ধাঁধার মতো স্থানের এক কোনে খাবার আর আরেক কোনে এই এককোষি স্লাইমকে রাখা হয়। এটি এর চারপাশের পরিবেশে নিজের শরীরের অংশ ছড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যমে পথ খুঁজতে থাকে এবং খাবারের কাছে পৌঁছায় যে বাধা সমূহ সেগুলো প্রথমবার চিহ্নিত করে দ্বিতীয়বার এড়িয়ে যাওয়ার মাধ্যমে একসময় খাবারের কাছে পৌঁছতে সফল হয়. অন্ধভাবে চলাচল করে এক জায়গায় আটকে না গিয়ে এটি পরিবেশের সাথে নিজের আচরণ খাপ খাওয়ানোর  মাধ্যমে সময় এবং পরিশ্রম বাঁচায়. তবে এই আচরণ তাকে প্রকৃতিগত অর্থাৎ এটা এমন কিছু না যা তারা পরে শিখে বরং জন্ম থেকেই তাদের মধ্যে থাকে. তাই বিজ্ঞানীরা একে বুদ্ধিমত্তা বলবে কি বলবে না সে ব্যাপারে একমত নয় । যদিও এরা স্লাইম মোল কে কিছু সুবিধা প্রদান করে. মৌমাছিরা বরং এই ক্ষেত্রে আরো উপযুক্ত উদাহরণ. বিজ্ঞানীরা মৌমাছিকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে একটা রঙিন বলকে একটা নির্দিষ্ট গর্তে ফেলার জন্য. যা করলে সে পুরস্কার হিসেবে চিনির টুকরো পায়.  অর্থাৎ যদিও এই আচরণ তার প্রকৃতিগত নয় তারা এই ধরনের আচরণ শিখতে পারে এবং সময়ের সাথে তাতে পারদর্শীও হয়ে উঠতে পারে । 

আরো কঠিন সমস্যা সমাধানের জন্য দরকার হয় আরো বেশি দক্ষতার এবং আরো সূক্ষ্ম যন্ত্রের।  জটিল গঠন সম্পন্ন প্রাণীরা মৌলিক যন্ত্র বা ক্ষমতাগুলোর উপর ভিত্তি করে আরো অনেক ধরনের সমস্যার সমাধান করতে পারে. তারা সব ধরনের যোগাযোগ, সংযোগ এবং কৌশল বা যান্ত্রিক দক্ষতা মনে রাখতে পারে. আমরা এটাকে বলতে পারি জ্ঞানের লাইব্রেরি।  এইসব কৌশল এবং দক্ষতা ছাড়াও আরও একটা আকর্ষণীয় ক্ষমতা আমাদের আছে সেটা হচ্ছে সৃজনশীলতা. সৃজনশীল হওয়ার মানে হচ্ছে আপাত সম্পর্কহীন বিষয়াবলী থেকে সম্পূর্ণ নতুন কিছু এবং মূল্যবান কিছু তৈরি করা. বুদ্ধিমত্তার প্রেক্ষিতে এর মানে হচ্ছে নতুন এবং ব্যতিক্রমী সংযোগ তৈরি করা। দক্ষতার সাথে স্মৃতিতে ধারণকৃত তথ্য একত্রিত কোনো সমস্যার সমাধান খুঁজে বের করা ।সৃজনশীলতার আর একটি দিক হচ্ছে কোনো কাজে নতুন পদ্ধতি বা সরঞ্জাম ব্যবহার করতে পারার ক্ষমতা। যেমন কোনো প্রাইমেট কাঠি ব্যবহার করে গাছের ভেতর থেকে পিঁপড়া ধরে আনে বা অক্টোপাস নারিকেলের খোল জোগাড় করে এর ভেতর লুকিয়ে থাকে । \

ভবিষ্যতে কোনো সমস্যার জন্য সরঞ্জাম সংগ্রহ করে রাখা সমস্যা সমাধানের পথে আরো একটা জটিল এবং উন্নত ধরনের কৌশলের সাথে যুক্ত । যা হচ্ছে পরিকল্পনা বা প্ল্যানিং। প্ল্যানিং মানে হচ্ছে একটা নির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় কাজগুলো কি হবে তা নির্ধারণ করা এবং সেগুলো নিয়ে একটা পরিকল্পনা তৈরি করা এবং যখন অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতি বা নতুন সম্ভাবনা দেখা দেয় সেগুলো পরিকল্পনার সাথে খাপ খায় কিনা তা খতিয়ে দেখা। এই ধরনের বুদ্ধিভিত্তিক আচরণের একটা উদাহরণ হচ্ছে ভবিষ্যতের জন্য খাবার সংগ্রহ করে রাখা. এটা কাঠবিড়ালিদের ক্ষেত্রে একটা প্রবৃত্তিগত আচরণ. কিন্তু যদিও খাবার লুকোনোটা তাদের প্রবৃত্তিগত. এই লুকোনোর কাজটির জন্য তাদের বুদ্ধির ব্যবহার করতে হয়. কাঠবিড়ালিরা প্রতিটি কাঠবাদামের ওজন এবং আকৃতি পরীক্ষা করে হিসাব করে কি পরিমান সময় এবং পরিশ্রম প্রয়োজন হয় সেগুলো লুকানোর জন্য এবং এতে তার কতটুকু লাভ হবে প্রতিটি কাঠবাদাম  থেকে যেমন একটু নষ্ট এবং কমপুষ্টির বাদামগুলো আগে খেয়ে ফেলা এবং যেগুলো এখনও পরিপক্ক হয়নি সেগুলো লুকিয়ে রাখা. এমনকি কার্ঠবিরালি বাদাম লুকোনোর অভিনয় করে যখন সে বুঝতে পারে অন্যরা তাকে দেখছে. 


এই খালি বাদামের খোল গুলো দিয়ে সে শত্রুকে বিভ্রান্ত করে আসল বাদামগুলো অন্য জায়গায় লুকায়. এটা বেশ অগ্রসর ধরনের পরিকল্পনা. কারণ কাউকে বিভ্রান্ত করার জন্য প্রথমে এটা অনুধাবন করতে হয় যে তার মত আরও কেউ আছে যে সে একই জিনিস চাই. সমস্যা যত জটিল তত বেশি সরঞ্জামের সমন্বয় প্রয়োজন হয় তা সমাধানের জন্য. তাই যত বেশি সরঞ্জাম থাকবে তত সহজে জীবনের সমস্যাগুলোর সমাধান করা যাবে. আবার মানুষ ভিন্ন দিক থেকে বিবর্তিত হয়েছে এবং বিপুল রকমের বুদ্ধি বৃত্তিক সরঞ্জাম অর্জন করেছে. সেই সাথে আমরা আরো একটা বিষয় অর্জন করেছি তা হলো কালচার বা সংস্কৃতি । কোনো মানুষ একক ভাবে রকেট বা পার্টিকুলার এক্সেলারেটর তৈরী করতে পারতো না ।


 কিন্তু একত্রে কাজ করতে পারার ক্ষমতার জন্য এবং যুগের পর যুগ ধরে মানুষের অর্জিত জ্ঞান বিতরণ করতে পারার জন্য আমরা এমন সব সমস্যার মোকাবিলা করতে পারি যেগুলো একার পক্ষে সম্ভব হতো না. এর ফলে আমরা পৃথিবীকে নিজেদের মতো করে গড়ে তুলতে পেরেছি. একই সাথে অবশ্য আমরা নতুন সমস্যাও সৃষ্টি করেছি. যেমন দ্রুত জলবায়ু পরিবর্তন এবং এন্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স. এইসব সমস্যা সমাধানের জন্য আমাদের বর্তমানে বেঁচে থাকার চিন্তা পার করে দুমুর ভবিষ্যতের কথা ভাবতে হবে. আমাদের সরঞ্জামের বাক্সটা আছে. শুধুমাত্র একে সঠিকভাবে ব্যবহার করতে হবে.  


 

মন্তব্যসমূহ

Blog Posts

পেগাসাস স্পাইওয়ার কি ?

গত কিছুদিন ধরেই বিশ্ব রাজনীতি এবং প্রযুক্তি জগৎ এই দুই জায়গাতেই আলোচনার বিষয়বস্তু একটাই। সেটা হচ্ছে পেগাসাস স্পাইওয়ার. বিশ্বজুড়ে নানান দেশের মানবাধিকার কর্মী সাংবাদিক আইনজীবী ও রাজনীতিকদের ফোনের নজরদারি চালানোর ঘটনা ফাঁস হওয়ার পর ইজরায়েলের বেসরকারি কোম্পানি nso গ্রুপের তৈরি করা এই সফটওয়্যার নিয়ে এখন তুমুল তরজা চলছে দুনিয়া জুড়ে । চলুন কথা বলি দুনিয়া ওলট পালট করে দেওয়া স্পাইওয়ার সম্পর্কে । পেগাসাস মূলত একটি নজরদারি বিষয়ক সফটওয়্যার । ইজরাইলের সংস্থা এনএসও ই সফটওয়্যার তৈরি করেছে। যা দিয়ে যে কারো মোবাইলে আড়ি পাতা যায়. এটা কিন্তু সাধারণ কোন নজরদারি নয়. আগে ফোনে আড়ি পেতে শুধু দুই প্রান্তের কথাবার্তা শোনা যেত. আর সফটওয়্যারের মাধ্যমে গোটা ফোনটারই নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় হ্যাকাররা. ফোনের কথাবার্তা WhatsApp এর চ্যাট, ছবি, ফোনে কি কি তথ্য আছে সবই জানা যায়. আরো ভয়ানক ব্যবহার হচ্ছে মোবাইল যিনি ব্যবহার করছেন তিনি জানতেই পারেন না যে তার ফোন হ্যাক করা হয়েছে. সমস্ত তথ্য পাচার হয়ে যাচ্ছে নির্দিষ্ট একটি গোষ্ঠীর কাছে. কিন্তু কারো ফোনে পেগাসাস software install করতে হলে তো সেই ফোনটাকে...

প্রযুক্তি দুনিয়াতে পর্দার আড়ালে থেকে যাওয়া এক প্রতিভাবান এর গল্প ।

পর্দার আড়ালে একা খেলে যাচ্ছেন একজন. কামাচ্ছেন বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার. অথচ তাকে চেনে খুব কম সংখ্যক মানুষ. আইটি জগতে ইলন মাস্ক, জেফ বোজোস বা বিট গ্রেটসের সাথে তার নামও সমান তালে চলার কথা ছিল. কিন্তু বিহাইন্ড দা সিনে একা গোল করে যাচ্ছেন তিনি. নাম ড্রোন ইয়াং পিং ড্রোন ইয়াং পিং নামটি মোবাইল ফোনের জগতে খুবই কম মানুষের শোনা. তবে তার নাম অজানা থাকলেও তার কোম্পানি বিবিকে ফোন গিগদের মধ্যে বেশ পরিচিত. ওয়ান প্লাস, রিয়েলমি, অপো, ভিভো এবং আইকিউ. এই পাঁচটি জনপ্রিয় মোবাইল ব্র্যান্ডের একক মালিক ডোন ইয়াং পিন.  এই ব্র্যান্ড গুলো তার কোম্পানিতে পরিণত করেছে বর্তমানের সবচেয়ে বড় মোবাইল ফোন উৎপাদনকারী কোম্পানিতে. অ্যাপেল , শাওমি বা স্যামসাং যারা মোবাইল ফোনের জগতে বর্তমানে সবচেয়ে বড় ব্র্যান্ড তাদেরকেও পেছনে ফেলে এগিয়ে গিয়েছে বিবিকে কোম্পানি। কিন্তু এত সফলতার সত্ত্বেও বেশিরভাগ মোবাইল ফোন ব্যবহারকারী এমনকি ফোন গিগরাও তার সম্পর্কে বলতে গেলে তেমন কিছুই জানে না. এলেন মাস্ক, স্টিভ জবস বা জ্যাকমা, যারা কিনা টেকনোলজির জগতে খুবই পরিচিত তাদের সম্পর্কে অনলাইনে  অগণিত তথ্য রয়েছে। কিন্তু ডন ইয়ং পিং এর...

ডিপ্রেশন কি ? এটা কত প্রকার ? বাইপোলার ডিসঅর্ডার কি ?

আজকাল খুব কমন একটা শব্দ ডিপ্রেশন. যার বাংলা অবসাদ । ডিপ্রেশনের সাথে সাথে পরিচিত হয়ে উঠছি আমরা মুড সুইং শব্দটার সাথেও । এই জেনারেশনের কারো সোশ্যাল মিডিয়ায় ডিপ্রেশনে না ভোগাটাই যেন বিরাট অপমানজনক। সবাই কেন যেন অস্থির হয়ে আছে বোঝাতে যে সে ডিপ্রেশনে ভুগছে । কখনো গানের লিরিক্স আবার কখনো বিখ্যাত লেখকের কোটেশন সবকিছুতেই ডিপ্রেশন । সাইকিয়াট্রিতে এই ডিপ্রেশন হল এক ধরনের মুড ডিসঅর্ডার । যেটা একমুখী অবসর বা ইউনিফুলার ডিপ্রেশন । কিন্তু সম্প্রতি আর এক ধরণের অবসাদ বিজ্ঞানীদের মাথা খারাপ করে দিচ্ছে। যেটাকে বলা হচ্ছে বাই পোলার ডিপ্রেশন । বাই পোলার অর্থাৎ দ্বিমুখী । একে ম্যানিক ডিপ্রেশনে বলা হয়। এখনো পর্যন্ত মনোবিজ্ঞানীরা বাই পোলার ডিসঅর্ডারের কারণ সম্পর্কে সঠিকভাবে জানতে পারেন নি। এর ওপর প্রচুর গবেষণা চলছে। জানলে অবাক হবেন যে শুধুমাত্র আমেরিকাতেই সাত মিলিয়নেরও বেশি মানুষ বাইপোলার ডিসঅর্ডারে ভুগছে । কিন্তু আসলে কি ঘটে? বাইপোলার ডিসঅর্ডারে? চলুন কথা বলি বাই পোলার ডিসঅর্ডার নিয়ে আজ কথা বলা যাক।   বাইপোলার ডিসঅর্ডার কাকে বলে? খুব সংক্ষেপে বলা যায় বাইপোলার ডিসঅর্ডার একটি মানসিক অবস্থা। যে...

কিভাবে লিমিটলেস হওয়া যায় ? লিমিটলেস আসলে কিভাবে কাজ করে ?

এনজিটিপিল,  এটা এমন এক পিল যা আপনাকে করবে আল্ট্রা ফোকাসড. দেবে দুর্দান্ত মোটিভেশন. বের করে আনবে আপনার সর্বোচ্চ সম্ভাবনা. আপনি হয়ে উঠবেন আনস্টপল. বাস্তবতা পাবে প্রতিটি স্বপ্ন. কিন্তু সমস্যা হচ্ছে এমন কোন পিলের অস্তিত্ব নেই. ফলাফল আপনি আটকে আছেন একটি খাদে. সারাক্ষণ ক্লান্তি নিয়ে হয়ে উঠছেন আনপ্রোডাক্টিভ. নষ্ট হচ্ছে ক্রিয়েটিভিটি. সময় গড়িয়ে যায়. ঋতুর পরিবর্তন ঘটে. কিন্তু আপনি ডুবে থাকেন এক হতাশায় যাতে আপনি দিন দিন পিছিয়ে পরছেন. আপনি যা যা এতদিন অর্জন করবেন ভেবেছিলেন তা কিছুই আপনি অর্জন করতে পারেননি । নিজেকে সান্তনা দিচ্ছেন আগামীকাল হবে ভিন্ন। কিন্তু তা কখনোই হয়ে ওঠে না এখন যদি আপনাকে বলি কোনো জাদুকরী পিলের সাহায্যে নয় বাস্তবিক লিমিটলেস হয়ে ওঠা সম্ভব।  একদম প্রমাণিত পদ্ধতিতে যা একেবারে ফ্রিতে ব্যবহার করা সম্ভব.  তো আছেন তো শেষ পর্যন্ত ?  Limit less হওয়ার যাত্রায় ।  স্টেপ ওয়ান : এনার্জি--  মাত্র কয়েক মাস আগে আমি নিজেও আপনার মতো কর্মশক্তিহীন অনুভব করতাম. সামান্য কাজেই আসতো অবসন্নতা, গেয়ে ধরতো ক্লান্তি একদিন হঠাৎ টের পেলাম আমি নিজেই নিজের energy নি...

ম্যান্ডেলা ইফেক্ট কেনো হয়?

   আচ্ছা নিজের স্মৃতি শক্তির উপর কতটা বিশ্বাস আছে আপনার? আচ্ছা বাদ দিয়ে আপনার কথা. গণমানুষের স্মৃতিশক্তির উপর নিশ্চয়ই বিশ্বাস আছে অনেকটা. না না. ধর্মীয় কোন বিশ্বাস না. এই গ্রহে ঘটে যাওয়া এমন সব ঘটনা. যা সবাই জানে. তা কি রকম মিথ্যা? এক দশক আগেও পৃথিবীর প্রায় এক তৃতীয়াংশ মানুষ জানতো যে অস্ট্রেলিয়ার রাজধানীর নাম সিডনি. আসলে কি তাই? গত এক দশকে এই ধারণা মোটামুটি পরিবর্তন হয়ে মানুষ জেনেছে অস্ট্রেলিয়ার রাজধানীর নাম ক্যানভেরা. এখনো এই ভুল হরমামেশাই করে যাচ্ছে মানুষ. বিশ্বাস না হলে আশেপাশের কিছু মানুষকে জিজ্ঞেস করে দেখতে পারে. প্রশ্ন করতে পারেন ম্যান্ডেলার নাম কেন? এই ফ্ললস মেমোরি সিন্ড্রোমকে ম্যান্ডেল এফেক্ট নামকরণ করেছেন প্যারানরমাল কনসালটেন্ট ফীয়না ব্রুম তার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে । দু হাজার দশ সালের এক আলোচনা সভায় উঠে আসে দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদ বিরোধী আন্দোলনের নেতা উনিশশো আশি সালে কারা জানে মারা যাওয়ার প্রসঙ্গ । অনেকেই সেদিন বলেছিল, টিভিতে এই নেতার শেষকৃত্যের আনুষ্ঠানিকতা দেখার অভিজ্ঞতার কথা. ম্যান্ডেলার স্ত্রীর হৃদয় নিন্দারও ভাষণের কথা উল্লেখ করেছিলেন কেউ কেউ. এমনক...

সারোগেসি কি ?

সারোগেসির মাধ্যমে সন্তান ধারণ করা নিয়ে এখনো বহু বিতর্ক আছে. শুধু আমাদের দেশে নয়, সারা বিশ্বেই এই পদ্ধতি নিয়ে তর্ক বিতর্কের শেষ নেই.  এটার আইনি প্রক্রিয়াও জটিল। কারণ এটি একেক রাষ্ট্রে. শারোগেসি আইন একেক রকম. নারী মা হবেন প্রাকৃতিক নিয়ম সমাজ এমনটাই দেখতে অভ্যস্ত. কিন্তু কোন কারণে মা হবার ক্ষমতা না থাকলে তাকে পরিবার ও আশপাশ থেকে যে পরিমাণ কটু কথা শুনতে হয় তা সাধারণ মানুষের ধারণারও বাইরে.   সরোগেসি বিষয়টি কি? চিকিৎসা শাস্ত্রের অগ্রগতি এমন মায়েদের সামনে এনেছে যারা গর্ভ ভাড়া দিয়ে নিজে বাঁচেন অন্যদের মাতৃ সুখ দেন । একজন নারীর গর্ভে অন্য দম্পতির সন্তান ধারণের পদ্ধতিকে সারোগেসি বলা হয়.সারোগেসির এই  পদ্ধতি বেশ দীর্ঘকালীন. আইভিএফ পদ্ধতিতে স্ত্রী ও পুরুষের ডিম্বাণু শুক্রাণু দেহের বাইরে নিষিক্ত করে তা নারীর গর্ভাশয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়. কিন্তু এখানেও জটিলতা. কেন? সে বিষয়ে পরে আসছি. বাংলাদেশ সহ বহু দেশই এই সারোগেসি একরকম ভাবে নিষিদ্ধ. সুতরাং বিষয় টি  সংবেদনশীল. এমনকি বেশিরভাগ ধর্মেও রয়েছে নিষেধাজ্ঞা. চলুন কথা বলি সারোগেসি মাদার সম্পর্কে। আইভিএফ বা টেস্ট টি...

রেট রেস কি ?

      আপনি ঠিক কখন ইঁদুর দৌড়ে যোগ দিয়েছেন এটা হিসাব করা কঠিন. কিন্তু নিশ্চিত থাকুন আপনি এই দৌড়ে আছেন. ক্লাস eight এ পড়ার সময়ের কথা মনে আছে? সামনে বৃত্তি পরীক্ষা পাটিগণিত বীজগণিতের অংক প্যাঁচ লাগাচ্ছে বিজ্ঞানের জটিল সব সূত্র ভোরে ওঠে প্রাইভেট টিউটরের বাসায় ছোটা রাত জেগে পড়াশোনা. বয়সের তুলনায় অনেক বেশি কর্ম ব্যস্ত একটা সময় নিশ্চয়ই কাটিয়েছেন তখন? আমরা সবাই কাটিয়েছি. সেই সময় নিশ্চয়ই অভিভাবক বলেছে এই তো আর কটা দিন. বৃত্তি পরীক্ষা শেষ হলেই জীবন শান্তি আর শান্তি. জীবনের নানা এপিসোডে আপনি এই কথাগুলো শুনেছেন অনেকবার অনেকের মুখে. এসএসসি পরীক্ষাটা দাও, কলেজে উঠলেই তো স্বাধীনতা. একবার ভার্সেটিতে উঠতে পারলেই জীবন হবে আনন্দে ভরপুর. একবার জব লাইফে ঢোকো. নিজের টাকায় আয়েশ করার মজাই অন্যরকম. শুনেছেন না এসব?  বয়স ঘড়ির ত্রিশের প্রান্তে দাঁড়িয়ে হিসেবগুলো মেলাতে পারেন কি? কি মনে হয়? এই এপিসোডগুলোর কোনোটা পার হবার সময় জীবন খানিকটা হলেও সহজ হয়েছে? সুন্দর হয়েছে? হয়নি, হবেও না, মিথ্যা একটা মরীচিকার আশায় আমরা ছুটেছি ঠিকই আমাদের ছোটানো হয়েছে, কিন্তু হিসাব মেলেনি ছুটত...

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কি ? আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কতটা ভযঙ্কর হতে পারে আগামী দিনের জন্য ?

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বহুল চর্চিত এবং ব্যবহৃত একটি শব্দ. মানুষের বুদ্ধিমত্তা ও চিন্তা শক্তিকে কম্পিউটার প্রোগ্রামিং এর মাধ্যমে মেশিন ল্যাঙ্গুয়েজে স্থাপন করা টেকনোলজিটাই হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স । এর মাধ্যমে কোন যন্ত্র নির্দিষ্ট প্রোগ্রামের আওতাধীন কিছু কাজ নিজে থেকেই করতে পারে নিজে নিজে সিদ্ধান্ত নিতে পারে।  টার্মিনেচার টাইপের কোনো সাইফাই সিনেমার গুরু বন্ধুর সংলাপ নয়।  A.I নিয়ে ভবিষ্যৎবাণী করেছিলেন পৃথিবীর সেরা বিজ্ঞানীদের একজন স্টিফেন হকিং আমার ভয় হয় তারা সত্যিই হয়তো একদিন মানুষকে হটিয়ে নিয়ন্ত্রকের আসনে বসে যাবে। বেঁচে থাকতেই BBC কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স তথা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে এভাবেই সবাইকে সতর্ক করেছিলেন তিনি। হকিংসের এই ভয় এখনো ভবিষ্যতের বিষয় হলেও অমূলক নয় মোটেও যন্ত্রকে বুদ্ধিমান করে তার আশীর্বাদ অনেক আছে। কিন্তু দীর্ঘ মেয়াদে সেই যন্ত্রই পৃথিবীর দখল নিতে চলেছে কিনা স্বয়ং সম্পূর্ণ হয়ে মানুষকেই বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে একদিন অপদার্থ তে পরিণত করবে কিনা সেই প্রশ্নটা উঠছে বারবার।  যুক্তরাষ্ট্রে...

রাশিয়ান হ্যাকাররা এত ভয়ঙ্কর কেন ?

  হ্যাকিং !  খুব ছোট্ট একটা শব্দ কিন্তু এই তাৎপর্য এবং গুরুত্ব দুটোই অপরিসীম. একজন মানুষের জীবন ধ্বংস করার ক্ষমতা তো হ্যাকারদের আছেই. গোটা একটা জাতির অপরিসীম ক্ষতি সাধনা করা সম্ভব. শুধুমাত্র এই হ্যাকিংএর মাধ্যমে. বাংলাদেশ ব্যাংকের টাকা চুরির ঘটনাটা কি উদাহরণ ধরতে পারেন. স্প্যাম মেল পাঠিয়ে সার্ভারের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সরকারি ছুটির সময়টাকে কাজে লাগানোর মাধ্যমে হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশের কিছু ব্যাংক একাউন্টে ট্রান্সফার করে নিয়েছিল এই হ্যাকাররা. এর মধ্যে কিছু টাকা ফিরিয়ে আনা গেছে সত্যি কিন্তু বেশিরভাগেরই কোন হদিস পাওয়া যায় নি.  সাউথ ইন্ডিয়ান সিনেমায় হ্যাকিং এর দৃশ্য দেখে আপনি যদি ভেবে থাকেন যে ভার্সিটি থেকে ড্রপ আউট হওয়া ক্র্যাক হেডেট কিছুর দরুন দিনরাত কম্পিউটারের সামনে বসে এসব করে ফেলছে তাহলে আপনি বোকার স্বর্গে বাস করছেন । হ্যাঁ এরকম হ্যাকার যে নেই তা নয় । ইন্ডিপেন্ডেন্ট হ্যাকার সংখ্যাও পৃথিবীতে কম নয় । কিন্তু দুনিয়া জুড়ে হ্যাকিংকে যারা শিল্পে পরিণত করেছে যারা হ্যাকার হিসেবে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে হয়ে উঠেছে মূর্তিমান আতঙ্কের নাম ...

কেনো বাংলাদেশীরা ইন্ডিয়াকে ঘৃনা করে?

একাত্তর সালের ডিসেম্বর মাস মুক্তিযুদ্ধ চলছে। ভারত তখনও সরাসরি অংশগ্রহণ করেনি মুক্তিযুদ্ধে। বাংলাদেশের পক্ষে কূটনৈতিক তৎপরতা চালাচ্ছে তাঁরা। প্রায় এক কোটি শরণার্থী আশ্রয় নিয়েছে ভারতে। মুজিবনগর সরকারের অস্থায়ী সদর দপ্তর স্থাপিত হয়েছে কোলকাতায়। মুক্তি যোদ্ধারা ভারতের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে ক্যাম্প করে সেখান থেকে আক্রমণ হানছে পাকিস্তানি সেনাদের উপর.  তেসরা ডিসেম্বর বিকেলে ভারতের তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল শ্যাম টেলিফোন করলেন ভারতের ইস্টার্ন আর্মির চিফ অফ স্টাফ, লেফটেন্যান্ট জেনারেল জ্যাক জ্যাকবের এর কাছে. মানিক সো জ্যাকব কে বললেন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীকে বলুন, পাকিস্তানি বিমান থেকে ভারতের পশ্চিমাঞ্চলের এয়ার ফিল্ড গুলোতে বোমা বর্ষণ করা হয়েছে. ইন্দিরা গান্ধী তড়িৎ সিদ্ধান্ত নিলেন. পাকিস্তানের বিপক্ষে যুদ্ধ ঘোষণা করল ভারত। ছয় ডিসেম্বর প্রথম রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশকে স্বাধীন দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দিল ইন্দিরা গান্ধীর সরকার। বাংলাদেশের বয়স পঞ্চাশ বছর পূর্ণ হয়েছে. ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের বয়সও হয়ে গেছে পঞ্চাশ বছর. কিন্তু গত পঞ্চাশ বছরে এদেশের অনেক মানুষের মধ্যে ভারত বির...