সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোষ্ট ট্রমাটিক ডিসঅর্ডার কি ?

 কোন এক শহরের এক কর্মজীবী তরুণী ক্যাথরিন. চাকরিস্থল থেকে বাসা বেশ কিছুটা দূরে হয়. পাবলিক ট্রান্সপোর্টে যাতায়াত করতে হয় তাকে. একদিন কাজের চাপে অফিস থেকে বেরোতে বেশ দেরি হয়ে গেল. তিনি বাসায় যাওয়ার জন্য একটা বাসে চড়েন. আর তার বাসায় শেষ স্টপেজের ঠিক আগে. বেশ অনেকটা পথ. তাই সিটে গায়ে এলিয়ে দিলেন তিনি. চোখটাও হয়তো লেগে এসেছিল ক্লান্তিতে. যখন চোখ খুললেন দেখলেন বাসে তিনি একাই যাত্রী আর একটা ছেলে ড্রাইভারের পাশে দাঁড়ানো । তিনি ড্রাইভারকে জিজ্ঞেস করলেন বাস কি আর সামনে যাবে না?  ড্রাইভার জানালেন যাবে । তাকে নিশ্চিন্তে বসতে বললেন সেই অল্পবয়স্ক ড্রাইভার কিন্তু সেই তরুণীর মনে হচ্ছিল কিছু একটা অস্বাভাবিক ঘটনা ঘটতে যাচ্ছে. অনেকটা ষষ্ঠ ইন্দ্রের মতো তাকে কেউ জানান দিল সামথিং ইজ ভেরি রড. তাই তিনি বাস থেকে নেমে যেতে চাইলেন. তখনই ড্রাইভার বাসের গতি বাড়িয়ে দিলেন. তরুণীর. আর বুঝতে বাকি রইল না কিছু. তার অল্প সময়ের মধ্যেই হয়তো নরক নেমে আসবে বাসের ভেতরে। তার সঙ্গে এমন কিছু ঘটবে যেটা তেমনি ভয়ঙ্করতম দুঃস্বপ্নেও ভাবতে পারেন না। খবরের কাগজে পড়া চলন্ত বাসে অঘটনের ঘটনাগুলোর কথা তার মাথায় ঘুরছে। নিজেকে বাঁচানোর জন্য তিনি শেষ চেষ্টাটা করলেন। ছুটে গেলেন বাসের দরজার দিকে। সে ছেলেটা তাকে বাধা দিয়ে সর্বাত্মক চেষ্টা করলো কিন্তু প্রাণ বাঁচাতে মরিয়া সেই তরুণীর ওপর তখন হয়তো অন্যরকম কোনো শক্তি ভর করেছিল. সর্বশক্তি দিয়ে অন্ধের মতো হাত চালালেন তিনি. তাকে কতটুকু আঘাত করলেন, নিজে কতটা ব্যথা পেলেন? তিনি জানেন না শুধু জানেন তার রণ মূর্তি দেখে ড্রাইভার বাসটা স্লো করে দিয়েছিল আর চলন্ত অবস্থায় দরজা খুলে লাফ দিয়েছিলেন তিনি রাস্তায় পড়ে পা মুচকে গিয়েছিল তার । হাতে পায়ের বেশ কিছু জায়গা গিয়েছিল চোটে। পুলিশি রিপোর্ট করার পর সেই বাস চালক এবং ছেলেটাকে গ্রেফতার করে পুলিশ. কি ভাবছেন? এটা কিছুদিন আগে বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া কোন ঘটনা? হতে পারে. তবে বাংলাদেশ সহ ইন্ডিয়া বা উপমহাদেশে এমনকি পশ্চিমা বিশ্বেও এমন ঘটনার নজির খুঁজে পাবেন আপনি অনেক.



 সে যাত্রায় ভয়াবহ এক পরিণতি থেকে নিজের সাহসে রক্ষা পেয়েছিলেন সেই নারী. কিন্তু এর চেয়েও বড় ঝামেলা শুরু হলো কয়েকদিন পর থেকে. রাতে ঘুমের মধ্যে দুঃস্বপ্ন দেখতে শুরু করলেন তিনি. বেশিরভাগ দুঃস্বপ্নেই নিজেকে একটা বাসের ভেতর একা অবস্থায় আবিষ্কার করতে তিনি। বাসের ড্রাইভার এবং কিছু মানুষ মিলে তার ওপর ভয়ঙ্কর নির্যাতন চালাচ্ছে. একটা সময় এই দুঃস্বপ্নের মুখোমুখি হওয়ার ভয়ে তিনি ঘুমানো বন্ধ করে দিলেন. চাকরিটাও করতে পারলেন না. কারণ সারাক্ষণ একটা ভয়ের মধ্যে থাকতেন সেই তরুণী.  কাজে মন বসাতে পারতেন না কোনভাবেই. শেষমেষ এই মানসিক সংকট কাটিয়ে ওঠার জন্য মনোবিদের সাহায্য নিতে হয়েছিল তাকে. ভেবে দেখুন সেই তরুণী কিন্তু অঘটনের শিকার হননি. বরং রক্ষা পেয়েছিলেন উপস্থিত বুদ্ধি ব্যবহার করে। 


 তবুও তাকে একটা ট্রমার মধ্যে দিয়ে দীর্ঘদিন যেতে হয়েছে. তার কাছে মনে হতো পৃথিবীটা তার জন্য ভীষণ অনিরাপদ একটা জায়গা. সবাই তার ক্ষতি করতে চাইছে. দীর্ঘদিন তিনি গণপরিবহনে চলতে পারতেন না. বাসে ওঠার কথা ভাবলেও তাঁর ভীষণ ভয় লাগতো। নাটক বা সিনেমায় যৌন নিপীড়নের কোনো দৃশ্য দেখলেই আঁতকে উঠতেন তিনি. তাছাড়া আত্মীয় স্বজন বা বন্ধুদের সঙ্গে সেই রাতের স্মৃতিচারণেও আগ্রহী হতেন না. বরং এড়িয়ে যেতে চাইতেন. সবমিলিয়ে প্রচন্ডভাবে মানসিক বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন তিনি. সাইকিয়াট্রিস্ট সেই তরুণীকে জানিয়েছিলেন যে সমস্যায় তিনি ভুগছেন তাকে মনোবিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় পোস্ট টোম্যাটিক স্ট্রেস্ ডিসঅর্ডার।


 সেই সমস্ত ব্যক্তিদের মধ্যে এই ডিসঅর্ডার দেখা যায় যারা নিজের জীবনে কোনো অনাকাঙ্খিত দুর্ঘটনার সাক্ষী থেকেছেন। সেটা হতে পারে কোন খুন হতে পারে বাস অ্যাক্সিডেন্ট হতে পারে কারো মৃত্যু বা কোন ধরনের অত্যাচার অথবা নিপীড়নের দৃশ্য। এই ঘটনাগুলো কিছু মানুষের মনে গভীর প্রভাব ফেলে এবং তাদের রোজকার জীবনে ব্যাঘাত সৃষ্টি করতে পারে । রোগী মানসিক অবসাদ অথবা প্যানিক অ্যাটাক এর মত অন্যান্য মানসিক বিকারের সঙ্গে এই অবস্থা উপলব্ধি করতে পারেন. সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় এই ডিসঅর্ডার আত্মহত্যার প্রবৃত্তিকেও জাগিয়ে তুলতে পারে. শুধুমাত্র এই স্ট্রেস বা চাপ নিতে না পেরে মানুষ নিজেকে শেষ করে ফেলার মত অবস্থায় চলে যেতে পারে. ট্রমার সময় ব্যক্তি এক ধরনের অসহায়ত্ত অনুভব করতে থাকেন. পোস্ট ট্রমাটিক ডিসঅর্ডার মূলত এক ধরনের এনজাইটি বা দুশ্চিন্তা জনিত ডিসঅর্ডার. যেখানে ভুক্তভোগী ব্যক্তিটি তার সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনাটিকে কোনভাবেই ভুলতে পারেন না. বরং সময়ের সাথে সাথে সেটি আরো গাঢ় হয়ে তার মনের মধ্যে চেপে বসে. বাংলাদেশে এই সমস্যার প্রকট. কারণ সে শুধু মেয়েরাই না. ছেলেরাও শৈশবে নানান হ্যারাসমেন্টের মাঝ দিয়ে যায়. যার বেশিরভাগই পারিবারিক আত্মীয়র মাধ্যমে ঘটে. 

শিক্ষকদের দ্বারা বিভিন্ন নিপীড়নের কথাও আসে পত্রিকায়. খারাপ বিষয় হলো এমনকি সিনেমার কোন দৃশ্য দেখেও ছোট বাচ্চাদের মাঝে এমন ট্রমা ঘটতে পারে. এই জন্য সিনেমার রেটিং থাকে যে কত বছর বয়সের উপযোগী. কিন্তু আমাদের দেশে সিনেপ্লেক্স গুলোয় তার সীগিটাও মানা হয় না. বাবা মা কিছু না বুঝেই বাচ্চাকে নিয়ে যায় সিনেমা দেখতে. ফলাফল হতে পারে ভয়াবহ. এই মানসিক সমস্যাটির কথা প্রথমবার ভালোভাবে জনসম্মুখে আসে ভিয়েতনাম যুদ্ধের পর. রক্তক্ষয়ী সেই যুদ্ধের শেষে মার্কিন সেনারা যখন দেশে ফিরে আসে তখন তাদের একটা বড় অংশ নানা ধরনের মানসিক সমস্যায় ভুগতে শুরু করে. এই লোকগুলো ভিয়েতনামি জনগণের ওপর প্রচন্ড নির্যাতন করেছিল. ভিয়েতনামের মুক্তিবাহিনীও একটা সময় সেসবের পাল্টা জবাব দিয়েছে. রক্ত, মৃত্যু, ধ্বংস যজ্ঞের বিভীষিকাকে খুব কাছ থেকে দেখেছে এই সেনারা। নিজেদের অজস্র সহকর্মী আর বন্ধুকে হারিয়েছে যুদ্ধে. আর সেখান থেকেই এসব সমস্যার উদ্ভব. এই সেনারা আনমনেই যুদ্ধের দিনগুলোতে ফিরে যেত. নিউ ইয়র্কের শান্ত পরিবেশে বসেও তাদের মনে হতো. তারা বুঝি ভিয়েতনামের কোন খালে বা জঙ্গলে লুকিয়ে আছে। এই বুঝি তাদের ওপর অ্যাম্বুস করা হবে এই বুঝি পেতে রাখা মাইন বিস্ফোরণে হারাতে হবে কোনো সঙ্গীকে ।আশির দশকের ন্যাশনাল ভিয়েতনাম ভেটেরাল রি এডজাস্টমেন্ট নামের এক জরিপে দেখা যায় প্রায় পঁচিশ শতাংশ মার্কিন সৈন্য পোস্টম্যাটিক প্রেস ডিসঅর্ডারে আক্রান্ত হয়ে ছিলেন। যুদ্ধের ভুক্তভোগী হওয়া ভিয়েতনামের নারীদের মধ্যেও এই জরিপ চালানো হয়েছিল. সেই নানীদের মধ্যে এই সমস্যায় আক্রান্তের অনুপাত ছিল পুরুষদের দ্বিগুণ. অর্থাৎ শতকরা পঞ্চাশ জন নারী পোস্টম্যাটিক ডিসঅর্ডারের শিকার ছিলেন. 


 এই মানসিক সমস্যাটিকে তখন সেলসপ বা ব্যাটেল ফ্যাটিক নামেও ডাকা হতো. পোস্ট টোমাটিক ডিসঅর্ডার নামটি পরে দেওয়া হয়েছে. ইরাক যুদ্ধ বা আফগানিস্তানে নিয়োজিত মার্কিন সেনাদের মধ্যেও এই মানসিক সমস্যাটি দেখা যায় অনেক প্রবলভাবে. আমেরিকায় সুইসাইড রেড মাত্রাতিরিক্ত বৃদ্ধি পেয়েছে এই যুদ্ধগুলোর পরে. ব্রিটেনের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসেসের মনোবিদদের মতে এই ট্রমায় আক্রান্ত ব্যক্তির অন্তত এক থেকে দেড় মাস যাবত তার মধ্যে বিভিন্ন লক্ষণ দেখা যায়. সেই  ঘটনাটি তার মনোজগতে বারবার হানা দেয় একই অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে সে বারবার যেতে থাকে. যখন flashback এর মতো স্মৃতিগুলো ফিরে ফিরে আসে তখন তার অতিরিক্ত ঘাম হয়, বুক থরফর করে , গা গলানো ভাব হয়. তীব্র আতঙ্কে তার দুনিয়া হয়ে পড়ে স্থবির, সৃষ্টি হয় প্যানিক অ্যাটাক।  


অনিদ্রায় ভোগা ইনসমনিয়াতে আক্রান্ত হওয়া এগুলো পোস্ট ট্রম্যাটিক ডিসঅর্ডারের স্বাভাবিক লক্ষণ । পোষ্টমেটিক ডিসঅর্ডারের আর একটি বিশেষ লক্ষণ হচ্ছে আক্রান্ত ব্যক্তিটি তার সঙ্গে ঘটে যাওয়া বিশেষ সেই ঘটনাটি নিয়ে কারো সঙ্গে আলোচনা করতে চায় না । তিনি ভয় পান । যদি সেসব মনে করার চেষ্টা করেন তাহলে স্মৃতিগুলো আবার ফিরে আসবে তার মাথায়। জোর করে নিজেকে তিনি বিশ্বাস করানোর চেষ্টা করেন যে তার সাথে আসলে কিছু ঘটেই নি. যে স্থানে দুর্ঘটনা ঘটেছে যে মানুষগুলোর সামনে ঘটেছে তাদেরকে তিনি এড়িয়ে চলেন. এতে হিতে বিপরীত হয়. তাছাড়া   সেই ট্রমা এক্সপিরিয়েন্স করার পর ভুক্তভুগিদেরকে এক ধরনের অনুভূতি শুন্যতা গ্রাস করে. তারা অনেক বেশি নির্লিপ্ত হয়ে পড়েন. একটা শঙ্কার মধ্যে তাঁরা জীবন যাপন করেন. সবকিছুতে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের চেষ্টা থাকে তাদের মধ্যে. এছাড়া কিছু কিছু ক্ষেত্রে তাঁরা সেই দুর্ঘটনার জন্য নিজেদেরকে দায়ী করে।  ভাবেন তাদের ভুলে এই ঘটনাটি ঘটেছে। আর যদি সেই ঘটনায় তিনি ভিক্টিম না হয় সাক্ষী হন তাহলে তিনি এই ভেবে নিজেকে ক্ষমা করতে পারেন না যে চাইলে হয়তো তিনি ভিক্টিমকে সাহায্য করতে পারতেন কিন্তু করেননি। এই অপরাধবোধ তাকে কুরে কুরে খায়. তাছাড়া এটিতে আক্রান্ত হওয়ার পর ভিকটিমের কর্মদক্ষতা মারাত্মক হারে কমে যায়. কাজের সমস্ত উদ্দীপনা হারিয়ে যায়. খাওয়া দাওয়া হয়ে পড়ে অনিয়মিত. মনোবিদরা জানিয়েছেন বোলিং বা উত্যক্ত করা থেকেও এই পোষ্ট ট্রম্যাটিক স্টেসের উদ্ভব ঘটতে পারে।  ধরা যাক. শারীরিকভাবে স্বাস্থ্য মানে একটা ছেলে বা মেয়েকে তার সহকর্মীরা ক্রমাগত মোটু, মোটকা এরকম বিভিন্ন নাম ধরে উত্তপ্ত করে. তারা হয়তো শুধু মজার উদ্দেশ্যেই এমন নামে ডাকে তাকে. ভিক্টিমের মনে কিন্তু সেটাকে এক ধরনের মানসিক নির্যাতন হিসেবেই গ্রহণ করে. দিনের পর দিন এই নির্যাতনের শিকার হতে হতে এটি তার কাছে একটা ট্রমায় পরিণত হয়. 


কিভাবে  পোষ্ট ট্রমাটিক ডিসঅর্ডার মুক্তি পাওয়া যেতে পারে ?

পৃথিবীতে প্রতি তিন জন মানুষের মধ্যে একজনের লাইফ হিস্ট্রি ঘাটলেই দেখা যাবে. তিনি কোন না কোন ধরনের বড় রকম ট্রমার মধ্যে দিয়ে গেছেন বা কোন দুর্ঘটনার সাক্ষী ছিলেন. এদের সবাই যে post traumatic stress disorder এ ভোগেন এমনটা নয়. যারা ভোগেন তাদের একটা বড় অংশই নিজে থেকে survive করে ফেলেন. কিন্তু অনেকেই সেটা পারেন না. এই জন্য দরকার ভালো কোনো সাইকিয়ারিস্টের শরণাপন্ন হওয়া. Professional counselling এর মাধ্যমে post traumatic stress disorder থেকে মুক্তি পাওয়া খুবই সহজ.  মনোবিদরা এই সমস্যা থেকে উত্তরণের জন্য কগনেটিভ থেরাপি এবং এক্সপোজার থেরাপি সাজেস্ট করে থাকেন। কগনেটিভ থেরাপি মূলত ভিকটিমের মন থেকে দুর্ঘটনা জনিত নেগেটিভ চিন্তা ভাবনা গুলোকে পরিবর্তন করে।  

এক্সপোজার থেরাপির কাজ হচ্ছে ভিকটিমকে দুঃস্বপ্ন ও অতি কল্পনা থেকে মুক্তি পেতে সাহায্য করা. এর বাইরে গিয়ে ভুক্তভুগীর মানসিক অবস্থা পর্যালোচনা করে আই মুভমেন্ট টি সেন্টিজেশন এন্ড রিপ্রসেসিং থেরাপিও সাজেস্ট করে থাকেন কিছু মনোবিদ। এই থেরাপি গুলো একাকি বা দলবদ্ধ দুই ভাবেই নেয়া যায় । এছাড়া অ্যান্টি ডিপ্রেশন মেডিসিন ও পোষ্ট ট্রমাটিক ডিসঅর্ডারের চিকিৎসায় ভালো কাজ দেয়।  ভিকটিমকে ভালোমতো ঘুমোতে সাহায্য করে ওই ঔষধ গুলো। মনোবিদরা যে শুধু ভিক্টিমের সাথেই কথা বলেন এমনটা নয় । এক পা একাধিক সেশন তারা করেন ভিক্টিমের পরিবারের সদস্যদের সাথেও । কারণ রয়েল কলেজ অফ সাইকিয়ারিস্টের মনোবিদদের মতে পোষ্টমেটিক ডিসঅর্ডারের একজন ভুক্তভোগীকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে মনোবিদের ভূমিকা যতখানি তার প্রায় সমান ভূমিকা পরিবারের সদস্যদের। পরিবারের সদস্যদের আচরণে ভিক্টিম যেন নিজেকে মানসিক রোগী ভেবে না বসেন. খেয়াল রাখতে হবে এই ব্যাপারটিতেও. মানুষরা যেন ধাক্কা সামলে আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়ে স্বাভাবিক জীবনে আবার ফিরতে পারে. সেই পরিবেশ তৈরি করে দেওয়ার সবচেয়ে বড় দায়িত্বটা পরিবার আর সমাজেরই আজকের ।     

মন্তব্যসমূহ

Blog Posts

ন্যানো টেকনোলজি কিভাবে কাজ করে ?

  যদি বলি আপনার চোখ দেখতে পারে না এমন গভীর ও প্রায় অনাবিষ্কৃত একটা পৃথিবী আছে. হয়তো বলতে পারেন যে মহাবিশ্বে কত গ্রহই তো আছে? সব খোঁজ কি আমরা পেয়েছি? কিন্তু যদি বলি আমাদের এই পৃথিবীর ভেতরে আরো একটি জগত আছে এবং যে জগৎ ছড়িয়ে আছে আমাদের গোটা বিশ্ব জুড়ে. এইবার হয়তো নড়েচড়ে বসবেন. হ্যাঁ আমাদের চোখের সামনেই রয়েছে এমন এক রাজ্য যে আমরা খালি চোখে দেখতে পাই না. এটাকে বলা হয় অণুবীক্ষণিক বিশ্ব. এই অণুবীক্ষণই বিশ্ব প্রচন্ড আকর্ষণীয় ও চমকে দেওয়ার মতো. কি কি ঘটছে এখানে তা আমার আপনার কল্পনারও বাইরে. এটা যেন কোনো ভিন গ্রহ বাসীদের রাজ্য. সম্ভাবনার দুয়ার খুলে রাখা আছে এই অণুবীক্ষণিক বা nano বিশ্বে.  ন্যানো কি ন্যানো হলো পরিমাপের একক। এক মিটারের একশো কোটি ভাগের এক ভাগ হচ্ছে এক ন্যানো। আর ন্যানো টেকনোলজি হলো বিজ্ঞানের এই অতি ক্ষুদ্র স্তরে একটা কিছু তৈরী করা আসলে শুধু তৈরি করা না. ন্যানোমিটার স্কেলে পরিবর্তন, পরিবর্তন, ধ্বংস বা সৃষ্টি সম্পর্কিত টেকনোলজিকেই ন্যানো টেকনোলজি বলে. অর্থাৎ ন্যানোমিটার স্কেলে পরিমিত যেকোনো বিষয়ে বহুমাত্রিক টেকনোলজিকে ন্যানো প্রযুক্তি বা ন্যানো টেকনোলজি বলা যে...

লুসিড ড্রিম কাকে বলে ? লুসিড ড্রিম কিভাবে দেখতে হয় ?

 স্বপ্ন নিয়ন্ত্রণ করার কথা ভেবেছেন কখনো? নিশ্চয়ই ভাবছেন জেগে জেগে দিবাস্বপ্ন দেখার কথা বলছি না তো? কিন্তু না, রীতিমতো ঘুমিয়ে দেখা স্বপ্নও নিয়ন্ত্রণের কথাই বলছি, আপনার ইচ্ছামত স্বপ্ন দেখবেন। ইচ্ছা মতো নিয়ন্ত্রণ করবেন। আর পছন্দ না হলে অর্থাৎ দুঃস্বপ্ন দেখা শুরু করলে সেটার গতিপথ পাল্টে দেবেন একেবারে নিমেষে। আধুনিক বিজ্ঞানের ভাষায় এটা খুবই সম্ভব একে বলা হয় লুসিভ ড্রিম। লুসিড ড্রিমিং এর সাথে আপনারা অনেকেই হয়তো পরিচিত আছেন। অনেকে পরিচিত থাকলেও হয়তো এটা কেন হচ্ছে বা কিভাবে হচ্ছে তা নিয়ে বেশ দ্বিধা দ্বন্দ্বে আছে এসবেরই উত্তর মিলবে আজকের এই লিখাতে।   লুসিড ড্রিম অর্থ কি? সহজ বাংলায় অনুবাদ করতে গেলে বলা যায় লুসিড অর্থ পরিষ্কার. অর্থাৎ স্পষ্ট আর dream মানে তো আমরা সবাই জানি যে স্বপ্ন। লুসিড ডিম হলো সেই স্বপ্ন যে আমাদের স্পষ্ট ভাবে মনে থাকে এবং স্বপ্ন চলাকালীন সময়েও আমরা এ উপলব্ধি করতে পারি যে এটি বাস্তব নয় বরং এটি স্বপ্ন কিন্তু শুধুমাত্র আক্ষরিক অর্থ দিয়ে লুসিড ড্রিম ব্যাখ্যা করলে ভুল হবে একটু অন্যভাবে বলা যাক ।  মনে করুন স্বপ্নে আপনি কি পাহাড়ের উপর থেকে দ্রুত গ...

প্রযুক্তি দুনিয়াতে পর্দার আড়ালে থেকে যাওয়া এক প্রতিভাবান এর গল্প ।

পর্দার আড়ালে একা খেলে যাচ্ছেন একজন. কামাচ্ছেন বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার. অথচ তাকে চেনে খুব কম সংখ্যক মানুষ. আইটি জগতে ইলন মাস্ক, জেফ বোজোস বা বিট গ্রেটসের সাথে তার নামও সমান তালে চলার কথা ছিল. কিন্তু বিহাইন্ড দা সিনে একা গোল করে যাচ্ছেন তিনি. নাম ড্রোন ইয়াং পিং ড্রোন ইয়াং পিং নামটি মোবাইল ফোনের জগতে খুবই কম মানুষের শোনা. তবে তার নাম অজানা থাকলেও তার কোম্পানি বিবিকে ফোন গিগদের মধ্যে বেশ পরিচিত. ওয়ান প্লাস, রিয়েলমি, অপো, ভিভো এবং আইকিউ. এই পাঁচটি জনপ্রিয় মোবাইল ব্র্যান্ডের একক মালিক ডোন ইয়াং পিন.  এই ব্র্যান্ড গুলো তার কোম্পানিতে পরিণত করেছে বর্তমানের সবচেয়ে বড় মোবাইল ফোন উৎপাদনকারী কোম্পানিতে. অ্যাপেল , শাওমি বা স্যামসাং যারা মোবাইল ফোনের জগতে বর্তমানে সবচেয়ে বড় ব্র্যান্ড তাদেরকেও পেছনে ফেলে এগিয়ে গিয়েছে বিবিকে কোম্পানি। কিন্তু এত সফলতার সত্ত্বেও বেশিরভাগ মোবাইল ফোন ব্যবহারকারী এমনকি ফোন গিগরাও তার সম্পর্কে বলতে গেলে তেমন কিছুই জানে না. এলেন মাস্ক, স্টিভ জবস বা জ্যাকমা, যারা কিনা টেকনোলজির জগতে খুবই পরিচিত তাদের সম্পর্কে অনলাইনে  অগণিত তথ্য রয়েছে। কিন্তু ডন ইয়ং পিং এর...

সারোগেসি কি ?

সারোগেসির মাধ্যমে সন্তান ধারণ করা নিয়ে এখনো বহু বিতর্ক আছে. শুধু আমাদের দেশে নয়, সারা বিশ্বেই এই পদ্ধতি নিয়ে তর্ক বিতর্কের শেষ নেই.  এটার আইনি প্রক্রিয়াও জটিল। কারণ এটি একেক রাষ্ট্রে. শারোগেসি আইন একেক রকম. নারী মা হবেন প্রাকৃতিক নিয়ম সমাজ এমনটাই দেখতে অভ্যস্ত. কিন্তু কোন কারণে মা হবার ক্ষমতা না থাকলে তাকে পরিবার ও আশপাশ থেকে যে পরিমাণ কটু কথা শুনতে হয় তা সাধারণ মানুষের ধারণারও বাইরে.   সরোগেসি বিষয়টি কি? চিকিৎসা শাস্ত্রের অগ্রগতি এমন মায়েদের সামনে এনেছে যারা গর্ভ ভাড়া দিয়ে নিজে বাঁচেন অন্যদের মাতৃ সুখ দেন । একজন নারীর গর্ভে অন্য দম্পতির সন্তান ধারণের পদ্ধতিকে সারোগেসি বলা হয়.সারোগেসির এই  পদ্ধতি বেশ দীর্ঘকালীন. আইভিএফ পদ্ধতিতে স্ত্রী ও পুরুষের ডিম্বাণু শুক্রাণু দেহের বাইরে নিষিক্ত করে তা নারীর গর্ভাশয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়. কিন্তু এখানেও জটিলতা. কেন? সে বিষয়ে পরে আসছি. বাংলাদেশ সহ বহু দেশই এই সারোগেসি একরকম ভাবে নিষিদ্ধ. সুতরাং বিষয় টি  সংবেদনশীল. এমনকি বেশিরভাগ ধর্মেও রয়েছে নিষেধাজ্ঞা. চলুন কথা বলি সারোগেসি মাদার সম্পর্কে। আইভিএফ বা টেস্ট টি...

পেগাসাস স্পাইওয়ার কি ?

গত কিছুদিন ধরেই বিশ্ব রাজনীতি এবং প্রযুক্তি জগৎ এই দুই জায়গাতেই আলোচনার বিষয়বস্তু একটাই। সেটা হচ্ছে পেগাসাস স্পাইওয়ার. বিশ্বজুড়ে নানান দেশের মানবাধিকার কর্মী সাংবাদিক আইনজীবী ও রাজনীতিকদের ফোনের নজরদারি চালানোর ঘটনা ফাঁস হওয়ার পর ইজরায়েলের বেসরকারি কোম্পানি nso গ্রুপের তৈরি করা এই সফটওয়্যার নিয়ে এখন তুমুল তরজা চলছে দুনিয়া জুড়ে । চলুন কথা বলি দুনিয়া ওলট পালট করে দেওয়া স্পাইওয়ার সম্পর্কে । পেগাসাস মূলত একটি নজরদারি বিষয়ক সফটওয়্যার । ইজরাইলের সংস্থা এনএসও ই সফটওয়্যার তৈরি করেছে। যা দিয়ে যে কারো মোবাইলে আড়ি পাতা যায়. এটা কিন্তু সাধারণ কোন নজরদারি নয়. আগে ফোনে আড়ি পেতে শুধু দুই প্রান্তের কথাবার্তা শোনা যেত. আর সফটওয়্যারের মাধ্যমে গোটা ফোনটারই নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় হ্যাকাররা. ফোনের কথাবার্তা WhatsApp এর চ্যাট, ছবি, ফোনে কি কি তথ্য আছে সবই জানা যায়. আরো ভয়ানক ব্যবহার হচ্ছে মোবাইল যিনি ব্যবহার করছেন তিনি জানতেই পারেন না যে তার ফোন হ্যাক করা হয়েছে. সমস্ত তথ্য পাচার হয়ে যাচ্ছে নির্দিষ্ট একটি গোষ্ঠীর কাছে. কিন্তু কারো ফোনে পেগাসাস software install করতে হলে তো সেই ফোনটাকে...

রেট রেস কি ?

      আপনি ঠিক কখন ইঁদুর দৌড়ে যোগ দিয়েছেন এটা হিসাব করা কঠিন. কিন্তু নিশ্চিত থাকুন আপনি এই দৌড়ে আছেন. ক্লাস eight এ পড়ার সময়ের কথা মনে আছে? সামনে বৃত্তি পরীক্ষা পাটিগণিত বীজগণিতের অংক প্যাঁচ লাগাচ্ছে বিজ্ঞানের জটিল সব সূত্র ভোরে ওঠে প্রাইভেট টিউটরের বাসায় ছোটা রাত জেগে পড়াশোনা. বয়সের তুলনায় অনেক বেশি কর্ম ব্যস্ত একটা সময় নিশ্চয়ই কাটিয়েছেন তখন? আমরা সবাই কাটিয়েছি. সেই সময় নিশ্চয়ই অভিভাবক বলেছে এই তো আর কটা দিন. বৃত্তি পরীক্ষা শেষ হলেই জীবন শান্তি আর শান্তি. জীবনের নানা এপিসোডে আপনি এই কথাগুলো শুনেছেন অনেকবার অনেকের মুখে. এসএসসি পরীক্ষাটা দাও, কলেজে উঠলেই তো স্বাধীনতা. একবার ভার্সেটিতে উঠতে পারলেই জীবন হবে আনন্দে ভরপুর. একবার জব লাইফে ঢোকো. নিজের টাকায় আয়েশ করার মজাই অন্যরকম. শুনেছেন না এসব?  বয়স ঘড়ির ত্রিশের প্রান্তে দাঁড়িয়ে হিসেবগুলো মেলাতে পারেন কি? কি মনে হয়? এই এপিসোডগুলোর কোনোটা পার হবার সময় জীবন খানিকটা হলেও সহজ হয়েছে? সুন্দর হয়েছে? হয়নি, হবেও না, মিথ্যা একটা মরীচিকার আশায় আমরা ছুটেছি ঠিকই আমাদের ছোটানো হয়েছে, কিন্তু হিসাব মেলেনি ছুটত...

ম্যান্ডেলা ইফেক্ট কেনো হয়?

   আচ্ছা নিজের স্মৃতি শক্তির উপর কতটা বিশ্বাস আছে আপনার? আচ্ছা বাদ দিয়ে আপনার কথা. গণমানুষের স্মৃতিশক্তির উপর নিশ্চয়ই বিশ্বাস আছে অনেকটা. না না. ধর্মীয় কোন বিশ্বাস না. এই গ্রহে ঘটে যাওয়া এমন সব ঘটনা. যা সবাই জানে. তা কি রকম মিথ্যা? এক দশক আগেও পৃথিবীর প্রায় এক তৃতীয়াংশ মানুষ জানতো যে অস্ট্রেলিয়ার রাজধানীর নাম সিডনি. আসলে কি তাই? গত এক দশকে এই ধারণা মোটামুটি পরিবর্তন হয়ে মানুষ জেনেছে অস্ট্রেলিয়ার রাজধানীর নাম ক্যানভেরা. এখনো এই ভুল হরমামেশাই করে যাচ্ছে মানুষ. বিশ্বাস না হলে আশেপাশের কিছু মানুষকে জিজ্ঞেস করে দেখতে পারে. প্রশ্ন করতে পারেন ম্যান্ডেলার নাম কেন? এই ফ্ললস মেমোরি সিন্ড্রোমকে ম্যান্ডেল এফেক্ট নামকরণ করেছেন প্যারানরমাল কনসালটেন্ট ফীয়না ব্রুম তার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে । দু হাজার দশ সালের এক আলোচনা সভায় উঠে আসে দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদ বিরোধী আন্দোলনের নেতা উনিশশো আশি সালে কারা জানে মারা যাওয়ার প্রসঙ্গ । অনেকেই সেদিন বলেছিল, টিভিতে এই নেতার শেষকৃত্যের আনুষ্ঠানিকতা দেখার অভিজ্ঞতার কথা. ম্যান্ডেলার স্ত্রীর হৃদয় নিন্দারও ভাষণের কথা উল্লেখ করেছিলেন কেউ কেউ. এমনক...

কিভাবে লিমিটলেস হওয়া যায় ? লিমিটলেস আসলে কিভাবে কাজ করে ?

এনজিটিপিল,  এটা এমন এক পিল যা আপনাকে করবে আল্ট্রা ফোকাসড. দেবে দুর্দান্ত মোটিভেশন. বের করে আনবে আপনার সর্বোচ্চ সম্ভাবনা. আপনি হয়ে উঠবেন আনস্টপল. বাস্তবতা পাবে প্রতিটি স্বপ্ন. কিন্তু সমস্যা হচ্ছে এমন কোন পিলের অস্তিত্ব নেই. ফলাফল আপনি আটকে আছেন একটি খাদে. সারাক্ষণ ক্লান্তি নিয়ে হয়ে উঠছেন আনপ্রোডাক্টিভ. নষ্ট হচ্ছে ক্রিয়েটিভিটি. সময় গড়িয়ে যায়. ঋতুর পরিবর্তন ঘটে. কিন্তু আপনি ডুবে থাকেন এক হতাশায় যাতে আপনি দিন দিন পিছিয়ে পরছেন. আপনি যা যা এতদিন অর্জন করবেন ভেবেছিলেন তা কিছুই আপনি অর্জন করতে পারেননি । নিজেকে সান্তনা দিচ্ছেন আগামীকাল হবে ভিন্ন। কিন্তু তা কখনোই হয়ে ওঠে না এখন যদি আপনাকে বলি কোনো জাদুকরী পিলের সাহায্যে নয় বাস্তবিক লিমিটলেস হয়ে ওঠা সম্ভব।  একদম প্রমাণিত পদ্ধতিতে যা একেবারে ফ্রিতে ব্যবহার করা সম্ভব.  তো আছেন তো শেষ পর্যন্ত ?  Limit less হওয়ার যাত্রায় ।  স্টেপ ওয়ান : এনার্জি--  মাত্র কয়েক মাস আগে আমি নিজেও আপনার মতো কর্মশক্তিহীন অনুভব করতাম. সামান্য কাজেই আসতো অবসন্নতা, গেয়ে ধরতো ক্লান্তি একদিন হঠাৎ টের পেলাম আমি নিজেই নিজের energy নি...

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কি ? আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কতটা ভযঙ্কর হতে পারে আগামী দিনের জন্য ?

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বহুল চর্চিত এবং ব্যবহৃত একটি শব্দ. মানুষের বুদ্ধিমত্তা ও চিন্তা শক্তিকে কম্পিউটার প্রোগ্রামিং এর মাধ্যমে মেশিন ল্যাঙ্গুয়েজে স্থাপন করা টেকনোলজিটাই হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স । এর মাধ্যমে কোন যন্ত্র নির্দিষ্ট প্রোগ্রামের আওতাধীন কিছু কাজ নিজে থেকেই করতে পারে নিজে নিজে সিদ্ধান্ত নিতে পারে।  টার্মিনেচার টাইপের কোনো সাইফাই সিনেমার গুরু বন্ধুর সংলাপ নয়।  A.I নিয়ে ভবিষ্যৎবাণী করেছিলেন পৃথিবীর সেরা বিজ্ঞানীদের একজন স্টিফেন হকিং আমার ভয় হয় তারা সত্যিই হয়তো একদিন মানুষকে হটিয়ে নিয়ন্ত্রকের আসনে বসে যাবে। বেঁচে থাকতেই BBC কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স তথা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে এভাবেই সবাইকে সতর্ক করেছিলেন তিনি। হকিংসের এই ভয় এখনো ভবিষ্যতের বিষয় হলেও অমূলক নয় মোটেও যন্ত্রকে বুদ্ধিমান করে তার আশীর্বাদ অনেক আছে। কিন্তু দীর্ঘ মেয়াদে সেই যন্ত্রই পৃথিবীর দখল নিতে চলেছে কিনা স্বয়ং সম্পূর্ণ হয়ে মানুষকেই বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে একদিন অপদার্থ তে পরিণত করবে কিনা সেই প্রশ্নটা উঠছে বারবার।  যুক্তরাষ্ট্রে...

মিনিমালিজম কি ? কিভাবে মিনিমালিস্ট হওয়া যায় ?

মিনিমামলিজম এই ধারণাটি বিগত কয়েক বছরে বেশ জনপ্রিয়তা লাভ করেছে এবং এর যথেষ্ট কারণও আছে. এই পুরো ব্যাপারটা কি? সেটাকে সঙ্গায়িত করা যায় এভাবে যে,  মিনিমালিজম হচ্ছে যা আমাদের জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সেগুলোকে ধারণ করা এবং বাকি সব কিছু যা আমাদের দৃষ্টিকে অন্যদিকে সরিয়ে নেয় সেগুলোকে ইচ্ছাকৃতভাবে ত্যাগ করা।   অর্থাৎ কোন কোন বিষয়ে জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং কোন জিনিসগুলোকে আমাদের কাছে সবচেয়ে মূল্যবান সেই সম্পর্কে একটা পরিষ্কার ধারণা থাকা এবং বাকি সব ত্যাগ  করে দেয়. সেগুলো নিয়েই জীবন ধারণ করা. কিন্তু এমন সংজ্ঞায়ন সত্ত্বেও minimalism কোন ধরাবাধা জীবন ব্যবস্থা নয় বা মিনিমালিস্ট হতে হলে কোন নির্দিষ্ট মানদণ্ড মেনে চলতে হবে এরকমটিও কিন্তু নয়. মিনিমালিস্ট লাইফ স্টাইল এমন একটি বিষয় যা প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য স্বতন্ত্র। এক্ষেত্রে মূল বিষয়টি হচ্ছে সত্যিকার অর্থে কোন কোন বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও প্রয়োজনীয় সেই সম্পর্কে একটা পরিষ্কার ধারণা নিয়ে সেই অনুযায়ী জীবন ধারণ করা. প্রিয় দর্শক চলুন দেখি মিনিমালিজম কিভাবে আপনার জীবনধারা বদলে দিতে পারে।  মিনিমালিস্ট জীবন অবশ...