সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

শেয়ার মার্কেট কি ?

   শেয়রবাজার হলো এমন একটি বাজার ব্যবস্থা যেখানে বিভিন্ন পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি তাদের প্রতিষ্ঠানের মালিকানা বিক্রি করে বিনিয়োগ বা পুঁজি সংগ্রহ করে. তাই একে পুঁজি বাজারও বলা হয়. কোনো দেশের শেয়ার বাজার বা স্টক মার্কেট যখন চাঙ্গা থাকে তখন মনে করা হয় সেই দেশের অর্থনীতিও খুব ভালো অবস্থানে আছে. বর্তমান বিশ্বের বহু বিখ্যাত কোম্পানি তাদের শেয়ার জনসম্মুখে বেচাকেনা করে. কিন্তু অতীতে বিষয়গুলো এমন ছিল না. আগে সাধারণত একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান একজন ব্যক্তির মালিকানায় থাকতো. কিন্তু এককভাবে কোনো ব্যবসা দাঁড় করাতে প্রচুর সময় ও শ্রমের প্রয়োজন হয়. সে কারণে বিংশ শতাব্দীর শুরুতে পুরোনো ধারা পাল্টাতে থাকে. কোম্পানির মালিকেরা লক্ষ্য করেন যে তারা যদি জনসাধারণকে তাদের ব্যবসায় অংশীদার করতে পারেন. তাহলে বেশ অল্প সময়ে ব্যবসায় উন্নতি করা যাবে. 


আর সেখান থেকেই শেয়রবাজার ধারণা জনপ্রিয়তা পেতে শুরু করে. শেয়ার বাজারের তালিকাভুক্ত কোম্পানি বিনিয়োগ সংগ্রহের জন্য তাদের প্রাথমিক মূলধনকে ছোট ছোট অংশে ভাগ করে. এবং এসব এক একটি ভাগ জনগণের কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়. এই প্রত্যেকটি অংশকে বলা হয় একটি শেয়ার. বহু কোম্পানির শেয়ার একটি জায়গায় বেচা কেনার মাধ্যমেই সৃষ্টি হয়. বাজার বা স্টক মার্কেট. মনে করুন আপনি একটি ব্যবসা শুরু করতে চান. আপনি সাধারণ মানুষের কাছে একটি প্রাথমিক অফার বা প্রস্তাব রাখবেন. একে বলা হয় আইপিও. 

প্রস্তাবটি হল যে কেউ নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা বিনিয়োগের মাধ্যমে আপনার ব্যবসার মালিকানার একটি ক্ষুদ্র অংশ কিনতে পারবে. এই টাকা দিয়ে আপনি আপনার ব্যবসা বড় করবেন. ব্যবসা যখন লাভ আসা শুরু করবে তখন আপনি চাইলে ব্যবসার পরিসর আরো বাড়াতে পারেন. কিংবা নতুন কোনো পণ্য ব্যবসায় যুক্ত করতে পারেন. অথবা আপনি চাইলে আপনার ব্যবসার share holder দের তাদের বিনিয়োগের কিছু অংশ ফেরত দিতে পারেন. একে বলা হয় dividend.


 বিনিয়োগ যে ফেরত দিতেই হবে বিষয়টি এমন নই. কিন্তু বিনিয়োগ ফেরত দেওয়ার মাধ্যমে অন্যান্য বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আপনার কোম্পানি সম্পর্কে আগ্রহ সৃষ্টি হবে. এই আগ্রহ থেকে নতুন বিনিয়োগকারীরা আপনার কোম্পানির প্রথম বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে প্রায় দ্বিগুণ দামে তাদের শেয়ার কিনে নেবে. এই নতুন বিনিয়োগকারীরা ভাবছে সময় সুযোগ মতো তারাও আবার এই শেয়ার আরও বেশি দামে বিক্রি করবে. এভাবে কোনো কোম্পানির শেয়ার বারবার কেনাবেচা করাই হলো শেয়ার বাজারের কাজ. সারা পৃথিবীতে প্রতি সেকেন্ডে হাজার হাজার শেয়ার বেচাকেনা হচ্ছে. পৃথিবীর প্রায় সব দেশেই শেয়ার বাজার রয়েছে. বাংলাদেশে আছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ এবং চিটাগাং স্টক এক্সচেঞ্জ. বিশ্বের সবচেয়ে বড় শেয়ার বাজার হচ্ছে নিউ ইয়র্ক ওয়াল স্ট্রিটের নিউ ইয়র্ক New York stock exchange.

 সতেরোশো বিরানব্বই সালে এই শেয়ার বাজার প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল. পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহৎ শেয়ার বাজার হলো Nasdaq . উনিশশো একাত্তর সালে প্রতিষ্ঠিত এই শেয়ার বাজারের ভৌগোলিক ভাবে কোন অবস্থান নেই. এটি অনলাইনে সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিচালিত হয়. Apple Facebook এর মতো টেক joint কোম্পানির share, ন্যাসডাকে লেনদেন করা হয়. শেয়ার holder বা অংশীদারদের মূল উদ্দেশ্য, টাকা উপার্জন করা. একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের পরিচালক বা CEO র একটি ভুল সিদ্ধান্ত সেই প্রতিষ্ঠানের অংশীদারদের শেয়ার বিক্রি করতে বাধ্য করে. এবং সাথে সাথে শেয়ারের দামও কমে যায়. আবার উল্টো দিকে ধারাবাহিক সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী পরিচালকের নতুন বা ভিন্নধর্মী সিদ্ধান্তে বিনিয়োগকারীরা আরো বেশি লাভের আশায় বিনিয়োগ করতে উৎসাহিত হয়. এভাবে কোম্পানিগুলোর উপর সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার একটি চাপ সৃষ্টি হয়. যাতে তারা তাদের অংশীদারদের আরো বেশি টাকা বা ডিভিডেন্ট ফেরত দিতে পারে. এই চাপ থেকেই তারা ব্যবসায় উন্নতি লাভ করে. সাথে সাথে জনগণেরও উন্নয়ন হয়. বর্তমান সময়ের একজন অন্যতম বিখ্যাত বিনিয়োগকারী হচ্ছেন আমেরিকার ওয়ারেন বাফেট. বর্তমানে তার বিনিয়োগের পরিমান চুরাশি বিলিয়ন ডলারেরও বেশি. বিনিয়োগ করে বিখ্যাত হওয়ার পেছনে বাফেটের একটি নিজস্ব ধরন রয়েছে. 

নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ রবার্ট শিলারের মতে একজন সফল বিনিয়োগকারী হওয়ার জন্য দুই ধরনের পথ রয়েছে. প্রথমত আপনাকে কোন কোম্পানিতে বিনিয়োগ করার আগে সেই কোম্পানির পূর্ববর্তী বিনিয়োগের ইতিহাস ভালোভাবে জানতে হবে. এবং কোম্পানির ব্যবসা সম্পর্কে পুঙ্খানুপুঙ্খ ধারণা রাখতে হবে. এই কাজটি বেশ কষ্টসাধ্য. আর দ্বিতীয় পন্থাটি হলো ওয়ারেন বাফেটের পদ্ধতি. ওয়ারেন বাফেট ইনডেক্স ফান্ডে বিনিয়োগ করার মাধ্যমে মাল্টি বিলিওনিয়ারে পরিণত হয়েছেন. ইনডেক্স ফান্ড হলো নির্দিষ্ট তালিকাভুক্ত বহু কোম্পানিতে একটু একটু করে বিনিয়োগ করা. এই পদ্ধতিতে লাভবান হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি. ওয়ারেন বাফেটকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল আপনি যে এতো সহজ পদ্ধতি ব্যবহার করে শীর্ষধনী হয়েছেন. তাহলে অন্যরা আপনাকে অনুকরণ করছে না কেন? উত্তরে বাফেট বলেন কারণ কেউ ধীরে ধীরে বড়লোক হতে চায় না. তার মানে ইনডেক্স ফান্ডে বিনিয়োগ করলে আপনি লাভবান হবেন নিশ্চিত. তবে সেজন্য বেশ সময় লাগবে. একজন নতুন বিনিয়োগকারীর জন্য কোনো কোম্পানির শেয়ার কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া আপাত দৃষ্টিতে বেশ কঠিন ব্যাপার. কোন কোম্পানি মানুষের মধ্যে কতটা জনপ্রিয় তার সাথে সেই কোম্পানির প্রকৃত শেয়ার মূল্যের মিল নাও থাকতে পারে. অনেক সময় মুখে মুখে ছড়িয়ে যাওয়া গল্পের উপর ভিত্তি করে কোন কোম্পানির বিনিয়োগ বহুগুণ বৃদ্ধি পায়. এসব ক্ষেত্রে পরবর্তীতে কোম্পানি হঠাৎ করে বিপুল পরিমাণ অংশীদার হারিয়ে বিরাট লোকসানের শিকার হয়. সেই সাথে তাদের বিনিয়োগকারীরাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়. বিনিয়োগকারীদের সাথে সে দেশের অর্থনীতিও হুমকির মুখে পড়ে. একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বা সিইওর সিদ্ধান্তের উপর সেই প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম ওঠানামা করে. অনেক সময় শেয়ারের দামের সাথে সিইওর বেতনও কম বেশি করা হয়. সেজন্য CEO রা বাধ্য হয়েই এমন ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত নিতে চান যেন শেয়ারের দাম বেশি থাকে. উনিশশো সত্তরের দশকে একজন সিইওর বেতন ছিল একজন সাধারণ কর্মচারীর তুলনায় বাইশ গুণ বেশি. 

 

 দুই হাজার ষোলো সালের পর থেকে একজন CEO একজন সাধারণ কর্মচারীর বেতনের চেয়ে দুশো একাত্তর গুণ বেশি বেতন পান. এ থেকেই বোঝা যায় CEO রা শেয়ার বাজারে নিজের প্রতিষ্ঠানকে চাঙ্গা রাখতে কিরকম মরিয়া থাকে. একজন CEO র সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ফলে কোম্পানি ও বিনিয়োগকারী উভয়ই লাভবান হন. আবার অনেক সময় কোম্পানির কর্মচারীদের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও শুধুমাত্র শেয়ারের দাম বৃদ্ধি করার জন্য বিতর্কিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়. সকল ক্ষেত্রেই কোম্পানির সর্বোচ্চ চেষ্টা করে শেয়ারের দাম বাড়াতে. তার জন্য কর্মী ছাঁটাই কারখানা বন্ধ করা বা বেতন কম দেওয়ার মতো সিদ্ধান্ত নিতেও ওরা পিছপা হন না. অনেক সময় কোম্পানির লোকেরা নিজেরাই বেশি বেশি শেয়ার কিনে শেয়ারের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে. এর ফলে ওই কোম্পানির শেয়ারের দাম হুট করে বৃদ্ধি পায়. বাংলাদেশের শেয়ার বাজারে এধরণের কৃত্রিম সংকট বেশ কয়েকবার ঘটেছে. হঠাৎ করেই দেখা গেছে শেয়ার বাজারের সূচক ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে. কিন্তু তার কিছুদিন পরেই শেয়ার বাজারে বিপুল ধস নামে. দুই হাজার নয় থেকে দুই হাজার এগারো সালের মধ্যে বাংলাদেশের শেয়ার বাজারে এক ধরনের নৈরাজ্য বিরাজ করেছে. এই সময়ের দরপতন ইতিহাসের সকল রেকর্ড ছাড়িয়ে যায়. তখন দেশের অর্থনীতির প্রায় দুই লক্ষ কোটি টাকার লোকসান হয়. শেয়ার বাজারের এমন দুঃস্বপ্ন কেউ কখনো দেখতে চায় না.       




মন্তব্যসমূহ

Blog Posts

ন্যানো টেকনোলজি কিভাবে কাজ করে ?

  যদি বলি আপনার চোখ দেখতে পারে না এমন গভীর ও প্রায় অনাবিষ্কৃত একটা পৃথিবী আছে. হয়তো বলতে পারেন যে মহাবিশ্বে কত গ্রহই তো আছে? সব খোঁজ কি আমরা পেয়েছি? কিন্তু যদি বলি আমাদের এই পৃথিবীর ভেতরে আরো একটি জগত আছে এবং যে জগৎ ছড়িয়ে আছে আমাদের গোটা বিশ্ব জুড়ে. এইবার হয়তো নড়েচড়ে বসবেন. হ্যাঁ আমাদের চোখের সামনেই রয়েছে এমন এক রাজ্য যে আমরা খালি চোখে দেখতে পাই না. এটাকে বলা হয় অণুবীক্ষণিক বিশ্ব. এই অণুবীক্ষণই বিশ্ব প্রচন্ড আকর্ষণীয় ও চমকে দেওয়ার মতো. কি কি ঘটছে এখানে তা আমার আপনার কল্পনারও বাইরে. এটা যেন কোনো ভিন গ্রহ বাসীদের রাজ্য. সম্ভাবনার দুয়ার খুলে রাখা আছে এই অণুবীক্ষণিক বা nano বিশ্বে.  ন্যানো কি ন্যানো হলো পরিমাপের একক। এক মিটারের একশো কোটি ভাগের এক ভাগ হচ্ছে এক ন্যানো। আর ন্যানো টেকনোলজি হলো বিজ্ঞানের এই অতি ক্ষুদ্র স্তরে একটা কিছু তৈরী করা আসলে শুধু তৈরি করা না. ন্যানোমিটার স্কেলে পরিবর্তন, পরিবর্তন, ধ্বংস বা সৃষ্টি সম্পর্কিত টেকনোলজিকেই ন্যানো টেকনোলজি বলে. অর্থাৎ ন্যানোমিটার স্কেলে পরিমিত যেকোনো বিষয়ে বহুমাত্রিক টেকনোলজিকে ন্যানো প্রযুক্তি বা ন্যানো টেকনোলজি বলা যে...

লুসিড ড্রিম কাকে বলে ? লুসিড ড্রিম কিভাবে দেখতে হয় ?

 স্বপ্ন নিয়ন্ত্রণ করার কথা ভেবেছেন কখনো? নিশ্চয়ই ভাবছেন জেগে জেগে দিবাস্বপ্ন দেখার কথা বলছি না তো? কিন্তু না, রীতিমতো ঘুমিয়ে দেখা স্বপ্নও নিয়ন্ত্রণের কথাই বলছি, আপনার ইচ্ছামত স্বপ্ন দেখবেন। ইচ্ছা মতো নিয়ন্ত্রণ করবেন। আর পছন্দ না হলে অর্থাৎ দুঃস্বপ্ন দেখা শুরু করলে সেটার গতিপথ পাল্টে দেবেন একেবারে নিমেষে। আধুনিক বিজ্ঞানের ভাষায় এটা খুবই সম্ভব একে বলা হয় লুসিভ ড্রিম। লুসিড ড্রিমিং এর সাথে আপনারা অনেকেই হয়তো পরিচিত আছেন। অনেকে পরিচিত থাকলেও হয়তো এটা কেন হচ্ছে বা কিভাবে হচ্ছে তা নিয়ে বেশ দ্বিধা দ্বন্দ্বে আছে এসবেরই উত্তর মিলবে আজকের এই লিখাতে।   লুসিড ড্রিম অর্থ কি? সহজ বাংলায় অনুবাদ করতে গেলে বলা যায় লুসিড অর্থ পরিষ্কার. অর্থাৎ স্পষ্ট আর dream মানে তো আমরা সবাই জানি যে স্বপ্ন। লুসিড ডিম হলো সেই স্বপ্ন যে আমাদের স্পষ্ট ভাবে মনে থাকে এবং স্বপ্ন চলাকালীন সময়েও আমরা এ উপলব্ধি করতে পারি যে এটি বাস্তব নয় বরং এটি স্বপ্ন কিন্তু শুধুমাত্র আক্ষরিক অর্থ দিয়ে লুসিড ড্রিম ব্যাখ্যা করলে ভুল হবে একটু অন্যভাবে বলা যাক ।  মনে করুন স্বপ্নে আপনি কি পাহাড়ের উপর থেকে দ্রুত গ...

প্রযুক্তি দুনিয়াতে পর্দার আড়ালে থেকে যাওয়া এক প্রতিভাবান এর গল্প ।

পর্দার আড়ালে একা খেলে যাচ্ছেন একজন. কামাচ্ছেন বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার. অথচ তাকে চেনে খুব কম সংখ্যক মানুষ. আইটি জগতে ইলন মাস্ক, জেফ বোজোস বা বিট গ্রেটসের সাথে তার নামও সমান তালে চলার কথা ছিল. কিন্তু বিহাইন্ড দা সিনে একা গোল করে যাচ্ছেন তিনি. নাম ড্রোন ইয়াং পিং ড্রোন ইয়াং পিং নামটি মোবাইল ফোনের জগতে খুবই কম মানুষের শোনা. তবে তার নাম অজানা থাকলেও তার কোম্পানি বিবিকে ফোন গিগদের মধ্যে বেশ পরিচিত. ওয়ান প্লাস, রিয়েলমি, অপো, ভিভো এবং আইকিউ. এই পাঁচটি জনপ্রিয় মোবাইল ব্র্যান্ডের একক মালিক ডোন ইয়াং পিন.  এই ব্র্যান্ড গুলো তার কোম্পানিতে পরিণত করেছে বর্তমানের সবচেয়ে বড় মোবাইল ফোন উৎপাদনকারী কোম্পানিতে. অ্যাপেল , শাওমি বা স্যামসাং যারা মোবাইল ফোনের জগতে বর্তমানে সবচেয়ে বড় ব্র্যান্ড তাদেরকেও পেছনে ফেলে এগিয়ে গিয়েছে বিবিকে কোম্পানি। কিন্তু এত সফলতার সত্ত্বেও বেশিরভাগ মোবাইল ফোন ব্যবহারকারী এমনকি ফোন গিগরাও তার সম্পর্কে বলতে গেলে তেমন কিছুই জানে না. এলেন মাস্ক, স্টিভ জবস বা জ্যাকমা, যারা কিনা টেকনোলজির জগতে খুবই পরিচিত তাদের সম্পর্কে অনলাইনে  অগণিত তথ্য রয়েছে। কিন্তু ডন ইয়ং পিং এর...

সারোগেসি কি ?

সারোগেসির মাধ্যমে সন্তান ধারণ করা নিয়ে এখনো বহু বিতর্ক আছে. শুধু আমাদের দেশে নয়, সারা বিশ্বেই এই পদ্ধতি নিয়ে তর্ক বিতর্কের শেষ নেই.  এটার আইনি প্রক্রিয়াও জটিল। কারণ এটি একেক রাষ্ট্রে. শারোগেসি আইন একেক রকম. নারী মা হবেন প্রাকৃতিক নিয়ম সমাজ এমনটাই দেখতে অভ্যস্ত. কিন্তু কোন কারণে মা হবার ক্ষমতা না থাকলে তাকে পরিবার ও আশপাশ থেকে যে পরিমাণ কটু কথা শুনতে হয় তা সাধারণ মানুষের ধারণারও বাইরে.   সরোগেসি বিষয়টি কি? চিকিৎসা শাস্ত্রের অগ্রগতি এমন মায়েদের সামনে এনেছে যারা গর্ভ ভাড়া দিয়ে নিজে বাঁচেন অন্যদের মাতৃ সুখ দেন । একজন নারীর গর্ভে অন্য দম্পতির সন্তান ধারণের পদ্ধতিকে সারোগেসি বলা হয়.সারোগেসির এই  পদ্ধতি বেশ দীর্ঘকালীন. আইভিএফ পদ্ধতিতে স্ত্রী ও পুরুষের ডিম্বাণু শুক্রাণু দেহের বাইরে নিষিক্ত করে তা নারীর গর্ভাশয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়. কিন্তু এখানেও জটিলতা. কেন? সে বিষয়ে পরে আসছি. বাংলাদেশ সহ বহু দেশই এই সারোগেসি একরকম ভাবে নিষিদ্ধ. সুতরাং বিষয় টি  সংবেদনশীল. এমনকি বেশিরভাগ ধর্মেও রয়েছে নিষেধাজ্ঞা. চলুন কথা বলি সারোগেসি মাদার সম্পর্কে। আইভিএফ বা টেস্ট টি...

পেগাসাস স্পাইওয়ার কি ?

গত কিছুদিন ধরেই বিশ্ব রাজনীতি এবং প্রযুক্তি জগৎ এই দুই জায়গাতেই আলোচনার বিষয়বস্তু একটাই। সেটা হচ্ছে পেগাসাস স্পাইওয়ার. বিশ্বজুড়ে নানান দেশের মানবাধিকার কর্মী সাংবাদিক আইনজীবী ও রাজনীতিকদের ফোনের নজরদারি চালানোর ঘটনা ফাঁস হওয়ার পর ইজরায়েলের বেসরকারি কোম্পানি nso গ্রুপের তৈরি করা এই সফটওয়্যার নিয়ে এখন তুমুল তরজা চলছে দুনিয়া জুড়ে । চলুন কথা বলি দুনিয়া ওলট পালট করে দেওয়া স্পাইওয়ার সম্পর্কে । পেগাসাস মূলত একটি নজরদারি বিষয়ক সফটওয়্যার । ইজরাইলের সংস্থা এনএসও ই সফটওয়্যার তৈরি করেছে। যা দিয়ে যে কারো মোবাইলে আড়ি পাতা যায়. এটা কিন্তু সাধারণ কোন নজরদারি নয়. আগে ফোনে আড়ি পেতে শুধু দুই প্রান্তের কথাবার্তা শোনা যেত. আর সফটওয়্যারের মাধ্যমে গোটা ফোনটারই নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় হ্যাকাররা. ফোনের কথাবার্তা WhatsApp এর চ্যাট, ছবি, ফোনে কি কি তথ্য আছে সবই জানা যায়. আরো ভয়ানক ব্যবহার হচ্ছে মোবাইল যিনি ব্যবহার করছেন তিনি জানতেই পারেন না যে তার ফোন হ্যাক করা হয়েছে. সমস্ত তথ্য পাচার হয়ে যাচ্ছে নির্দিষ্ট একটি গোষ্ঠীর কাছে. কিন্তু কারো ফোনে পেগাসাস software install করতে হলে তো সেই ফোনটাকে...

রেট রেস কি ?

      আপনি ঠিক কখন ইঁদুর দৌড়ে যোগ দিয়েছেন এটা হিসাব করা কঠিন. কিন্তু নিশ্চিত থাকুন আপনি এই দৌড়ে আছেন. ক্লাস eight এ পড়ার সময়ের কথা মনে আছে? সামনে বৃত্তি পরীক্ষা পাটিগণিত বীজগণিতের অংক প্যাঁচ লাগাচ্ছে বিজ্ঞানের জটিল সব সূত্র ভোরে ওঠে প্রাইভেট টিউটরের বাসায় ছোটা রাত জেগে পড়াশোনা. বয়সের তুলনায় অনেক বেশি কর্ম ব্যস্ত একটা সময় নিশ্চয়ই কাটিয়েছেন তখন? আমরা সবাই কাটিয়েছি. সেই সময় নিশ্চয়ই অভিভাবক বলেছে এই তো আর কটা দিন. বৃত্তি পরীক্ষা শেষ হলেই জীবন শান্তি আর শান্তি. জীবনের নানা এপিসোডে আপনি এই কথাগুলো শুনেছেন অনেকবার অনেকের মুখে. এসএসসি পরীক্ষাটা দাও, কলেজে উঠলেই তো স্বাধীনতা. একবার ভার্সেটিতে উঠতে পারলেই জীবন হবে আনন্দে ভরপুর. একবার জব লাইফে ঢোকো. নিজের টাকায় আয়েশ করার মজাই অন্যরকম. শুনেছেন না এসব?  বয়স ঘড়ির ত্রিশের প্রান্তে দাঁড়িয়ে হিসেবগুলো মেলাতে পারেন কি? কি মনে হয়? এই এপিসোডগুলোর কোনোটা পার হবার সময় জীবন খানিকটা হলেও সহজ হয়েছে? সুন্দর হয়েছে? হয়নি, হবেও না, মিথ্যা একটা মরীচিকার আশায় আমরা ছুটেছি ঠিকই আমাদের ছোটানো হয়েছে, কিন্তু হিসাব মেলেনি ছুটত...

ম্যান্ডেলা ইফেক্ট কেনো হয়?

   আচ্ছা নিজের স্মৃতি শক্তির উপর কতটা বিশ্বাস আছে আপনার? আচ্ছা বাদ দিয়ে আপনার কথা. গণমানুষের স্মৃতিশক্তির উপর নিশ্চয়ই বিশ্বাস আছে অনেকটা. না না. ধর্মীয় কোন বিশ্বাস না. এই গ্রহে ঘটে যাওয়া এমন সব ঘটনা. যা সবাই জানে. তা কি রকম মিথ্যা? এক দশক আগেও পৃথিবীর প্রায় এক তৃতীয়াংশ মানুষ জানতো যে অস্ট্রেলিয়ার রাজধানীর নাম সিডনি. আসলে কি তাই? গত এক দশকে এই ধারণা মোটামুটি পরিবর্তন হয়ে মানুষ জেনেছে অস্ট্রেলিয়ার রাজধানীর নাম ক্যানভেরা. এখনো এই ভুল হরমামেশাই করে যাচ্ছে মানুষ. বিশ্বাস না হলে আশেপাশের কিছু মানুষকে জিজ্ঞেস করে দেখতে পারে. প্রশ্ন করতে পারেন ম্যান্ডেলার নাম কেন? এই ফ্ললস মেমোরি সিন্ড্রোমকে ম্যান্ডেল এফেক্ট নামকরণ করেছেন প্যারানরমাল কনসালটেন্ট ফীয়না ব্রুম তার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে । দু হাজার দশ সালের এক আলোচনা সভায় উঠে আসে দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদ বিরোধী আন্দোলনের নেতা উনিশশো আশি সালে কারা জানে মারা যাওয়ার প্রসঙ্গ । অনেকেই সেদিন বলেছিল, টিভিতে এই নেতার শেষকৃত্যের আনুষ্ঠানিকতা দেখার অভিজ্ঞতার কথা. ম্যান্ডেলার স্ত্রীর হৃদয় নিন্দারও ভাষণের কথা উল্লেখ করেছিলেন কেউ কেউ. এমনক...

কিভাবে লিমিটলেস হওয়া যায় ? লিমিটলেস আসলে কিভাবে কাজ করে ?

এনজিটিপিল,  এটা এমন এক পিল যা আপনাকে করবে আল্ট্রা ফোকাসড. দেবে দুর্দান্ত মোটিভেশন. বের করে আনবে আপনার সর্বোচ্চ সম্ভাবনা. আপনি হয়ে উঠবেন আনস্টপল. বাস্তবতা পাবে প্রতিটি স্বপ্ন. কিন্তু সমস্যা হচ্ছে এমন কোন পিলের অস্তিত্ব নেই. ফলাফল আপনি আটকে আছেন একটি খাদে. সারাক্ষণ ক্লান্তি নিয়ে হয়ে উঠছেন আনপ্রোডাক্টিভ. নষ্ট হচ্ছে ক্রিয়েটিভিটি. সময় গড়িয়ে যায়. ঋতুর পরিবর্তন ঘটে. কিন্তু আপনি ডুবে থাকেন এক হতাশায় যাতে আপনি দিন দিন পিছিয়ে পরছেন. আপনি যা যা এতদিন অর্জন করবেন ভেবেছিলেন তা কিছুই আপনি অর্জন করতে পারেননি । নিজেকে সান্তনা দিচ্ছেন আগামীকাল হবে ভিন্ন। কিন্তু তা কখনোই হয়ে ওঠে না এখন যদি আপনাকে বলি কোনো জাদুকরী পিলের সাহায্যে নয় বাস্তবিক লিমিটলেস হয়ে ওঠা সম্ভব।  একদম প্রমাণিত পদ্ধতিতে যা একেবারে ফ্রিতে ব্যবহার করা সম্ভব.  তো আছেন তো শেষ পর্যন্ত ?  Limit less হওয়ার যাত্রায় ।  স্টেপ ওয়ান : এনার্জি--  মাত্র কয়েক মাস আগে আমি নিজেও আপনার মতো কর্মশক্তিহীন অনুভব করতাম. সামান্য কাজেই আসতো অবসন্নতা, গেয়ে ধরতো ক্লান্তি একদিন হঠাৎ টের পেলাম আমি নিজেই নিজের energy নি...

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কি ? আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কতটা ভযঙ্কর হতে পারে আগামী দিনের জন্য ?

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বহুল চর্চিত এবং ব্যবহৃত একটি শব্দ. মানুষের বুদ্ধিমত্তা ও চিন্তা শক্তিকে কম্পিউটার প্রোগ্রামিং এর মাধ্যমে মেশিন ল্যাঙ্গুয়েজে স্থাপন করা টেকনোলজিটাই হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স । এর মাধ্যমে কোন যন্ত্র নির্দিষ্ট প্রোগ্রামের আওতাধীন কিছু কাজ নিজে থেকেই করতে পারে নিজে নিজে সিদ্ধান্ত নিতে পারে।  টার্মিনেচার টাইপের কোনো সাইফাই সিনেমার গুরু বন্ধুর সংলাপ নয়।  A.I নিয়ে ভবিষ্যৎবাণী করেছিলেন পৃথিবীর সেরা বিজ্ঞানীদের একজন স্টিফেন হকিং আমার ভয় হয় তারা সত্যিই হয়তো একদিন মানুষকে হটিয়ে নিয়ন্ত্রকের আসনে বসে যাবে। বেঁচে থাকতেই BBC কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স তথা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে এভাবেই সবাইকে সতর্ক করেছিলেন তিনি। হকিংসের এই ভয় এখনো ভবিষ্যতের বিষয় হলেও অমূলক নয় মোটেও যন্ত্রকে বুদ্ধিমান করে তার আশীর্বাদ অনেক আছে। কিন্তু দীর্ঘ মেয়াদে সেই যন্ত্রই পৃথিবীর দখল নিতে চলেছে কিনা স্বয়ং সম্পূর্ণ হয়ে মানুষকেই বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে একদিন অপদার্থ তে পরিণত করবে কিনা সেই প্রশ্নটা উঠছে বারবার।  যুক্তরাষ্ট্রে...

মিনিমালিজম কি ? কিভাবে মিনিমালিস্ট হওয়া যায় ?

মিনিমামলিজম এই ধারণাটি বিগত কয়েক বছরে বেশ জনপ্রিয়তা লাভ করেছে এবং এর যথেষ্ট কারণও আছে. এই পুরো ব্যাপারটা কি? সেটাকে সঙ্গায়িত করা যায় এভাবে যে,  মিনিমালিজম হচ্ছে যা আমাদের জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সেগুলোকে ধারণ করা এবং বাকি সব কিছু যা আমাদের দৃষ্টিকে অন্যদিকে সরিয়ে নেয় সেগুলোকে ইচ্ছাকৃতভাবে ত্যাগ করা।   অর্থাৎ কোন কোন বিষয়ে জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং কোন জিনিসগুলোকে আমাদের কাছে সবচেয়ে মূল্যবান সেই সম্পর্কে একটা পরিষ্কার ধারণা থাকা এবং বাকি সব ত্যাগ  করে দেয়. সেগুলো নিয়েই জীবন ধারণ করা. কিন্তু এমন সংজ্ঞায়ন সত্ত্বেও minimalism কোন ধরাবাধা জীবন ব্যবস্থা নয় বা মিনিমালিস্ট হতে হলে কোন নির্দিষ্ট মানদণ্ড মেনে চলতে হবে এরকমটিও কিন্তু নয়. মিনিমালিস্ট লাইফ স্টাইল এমন একটি বিষয় যা প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য স্বতন্ত্র। এক্ষেত্রে মূল বিষয়টি হচ্ছে সত্যিকার অর্থে কোন কোন বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও প্রয়োজনীয় সেই সম্পর্কে একটা পরিষ্কার ধারণা নিয়ে সেই অনুযায়ী জীবন ধারণ করা. প্রিয় দর্শক চলুন দেখি মিনিমালিজম কিভাবে আপনার জীবনধারা বদলে দিতে পারে।  মিনিমালিস্ট জীবন অবশ...