পকেট থেকে সো হোয়াট দ্য হেল ইজ দ্যা ডার্ক সাইড অফ সোশ্যাল মিডিয়া। প্রশ্নটা শুরু হয়েছে খুব সহজ ভাবে। কিন্তু উত্তর আপনাকে টেনে নিয়ে যাবে এমন এক অন্ধকার জগতে যা আপনি কল্পনাও করতে পারবেন না। এমন কিছু যা আপনাকে আমাকে প্রতিদিন প্রভাবিত করছে এবং সবকিছু বোঝার জন্য আমাদের প্রয়োজন কিছু ঘটনায় আলোকপাত করা.
গত দেড় বছর প্যানডেমিকের সময় যখন মানুষ খেয়ে পড়ে বাঁচতে হিমশিম খেয়ে যাচ্ছিল তখনও একজন মানুষের অর্থের পরিমাণ দু-হাজার-দুশো কোটি তে গিয়ে ঠেকেছে. বিশ্বে কেবল তিনজনই দশ হাজার কোটি মার্কিন ডলারের বেশি সম্পদের মালিক. তার মাঝে তিনিও একজন. নাম মার্ক জাকারবার্গ। সিইও অফ ফেসবুক. আর আপনি হয়তো দশটা পাঁচটা office করছেন, বাসে ঝুলে ঝুলে বাড়ি ফিরছেন অথবা কলেজের ডিগ্রি নিতে ব্যস্ত. আপনার ব্যাঙ্ক ব্যালেন্স প্রায় শূন্যের কোঠায়, আপনার খরচ অস্বাভাবিক বেশি. আপনার মনে হচ্ছে অফিস থেকে আপনাকে সঠিক পারিশ্রমিক দেয় না. আপনার ক্রেডিট কার্ডের বিশাল অঙ্কের বিল ডিউ হয়ে আছে. মাথায় দুনিয়ার চিন্তা, ঘর, সংসার, ভবিষ্যৎ, সন্তান. কিন্তু আপনার দুই আঙুল ব্যস্ত মোবাইল স্ক্রিন স্ক্রলিং এ.
ফেসবুক, ফেসবুক থেকে টিকটক সেখান থেকে ইনস্টাগ্রাম বা হোয়াটসঅ্যাপ মাঝে মাঝে স্ন্যাপচ্যাট . কেউ না কেউ আপনাকে ব্যস্ত রাখছে. আর এখানেই আসে ডার্ক সাইড অফ সোশ্যাল মিডিয়া নামের ডারকেস্টের মতো ওয়ার্ল্ড. আপনার পার্সোনাল ইনফরমেশন বিক্রি করে যে ইন্ডাস্ট্রিটা গড়ে উঠেছে তার মূল্যবান দুইশো বিলিয়ন মার্কিন ডলার. অঙ্কটা ঠিকঠাকই শুনেছেন আপনি. এদের বলা হয় ডেটা ব্রোকার। সহজ বাংলায় তথ্য নিয়ে ব্যবসা করছে যারা. কোন তথ্য নিয়ে ব্যবসা করে এরা? এদের ব্যবসার মূলধন কি? আপনার যাবতীয় ইনফরমেশন.
ধরুন আপনার ইচ্ছে হল একটা ঘড়ি কেনা. হয়তো ফেসবুকে মেনস রিস্ট ওয়াচ লিখে সার্চও দিলেন. অথবা ম্যাসেঞ্জারের এক বন্ধুকে এই সম্পর্কে জানতে জিজ্ঞেস করলেন. বন্ধু হয়তো ম্যাসেজ তখনও সিনও করেনি অথচ কয়েক মিনিট পরেই আপনার নিউজ ফিড জুড়ে আসতে লাগলো বাহারি সব ঘড়ির বিজ্ঞাপন । হ্যাঁ ফেসবুকের আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের রোবট জেনে ফেলেছে একটা ঘড়ি কেনার কথা ভাবছেন আপনি এখন আপনাকে ঘড়ি না কিনে সে আর থাকবে না। আপনি জানতেও পারলেন না আপনাকে ফ্রি সার্ভিস দেওয়া ফেসবুক মেসেঞ্জার বা অন্য কোন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম কিভাবে আপনাকে তাদের পণ্য বানিয়ে ফেলল। ইউ আর নট দ্য কাস্টমার ইউ আর দ্য প্রোডাক্ট বিংসোড । সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর কাছে আপনি একটা পণ্য ছাড়া আর কিছুই নন আর সেই পণ্যের সর্বোৎকৃষ্ট ব্যবহারই তাঁরা করছে. আপনার নাম? বয়স উচ্চতা ওজন. মেইল এড্রেস. ফোন নাম্বার, হোম টাউন. আপনার রিলেশনশিপ স্ট্যাটাস. আপনি কোথায় কাজ করেন? পরিবারের সদস্য কয়জন? তাদের কার বয়স কত? আপনি কি পছন্দ করেন? কি অপছন্দ করেন? আপনার কেনাকাটার স্বভাব কতটা তীব্র, আপনার রাজনৈতিক মতাদর্শ, ধর্মীয় বিশ্বাস, আপনি কি খান ? আপনি কি পড়েন ? এমনকি আপনার আপলোড করা ফেইসবুক স্টেটাস কিংবা ছবি থেকে ফেইসবুক আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স দেখতেছে আপনি আসলে কি খাবার কিংবা কি পোশাক পছন্দ করেন . সব এসব তথ্যই তাদের ব্যবসায় থাকে.
আপনি ভাবতে পারেন এসব তো আরো পঞ্চাশ, ষাট জন জানে. কিন্তু সেই পঞ্চাশ, ষাট জনের জানা আর ডেটা ব্রকারদের কাছে এইসব তথ্য থাকা. দুটোর মধ্যে দিন আর রাতের দূরত্ব। ডেটা ব্রোকাররা টিকেই আছে এসব তথ্য বিক্রি করে এসব তথ্য পাওয়ার জন্য আপনার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট হ্যাক করতে হয় না তাদের । মোবাইলে ঢোকাতে হয় না গোপন কোনো স্পাইওয়্যার। এসব তথ্য আপনিই তাদের নিচ্ছেন সেজে সেজে. আপনার নামে আলাদা একটা প্রোফাইল খোলা হচ্ছে কোথাও. এখানে আপনি ভাবতে পারেন কিভাবে এসব তথ্য অন্য কাউকে দিয়েছেন. আপনার একটা ছবি পছন্দ হচ্ছে. ডবল ট্যাব. ভালো লাগছে কিছু. লাইক. নতুন রিলেশান. আপডেট স্ট্যাটাস. বিয়ে করেছেন ইভেন ক্রিয়েট. সবকিছু. আপনার পছন্দ অপছন্দ এক্টিভিটিজ সব মিলিয়ে আপনার একটা অনলাইন ভার্সন জেনারেট করছে সোশ্যাল মিডিয়ায় । আপনাকে পণ্য বানানোর ছক কষা হচ্ছে আপনার ভজান্তি একটা ওয়েবসাইট বা অ্যাপস ভিজিট করার সময় আপনি তাদের আপনি তাদের টার্মস এন্ড কন্ডিশনে থাকা আই এগ্রি বাটনে ক্লিক করছেন নিজে থেকেই. পড়ে দেখার দরকার মনে করছেন না কিভাবে? সেখানে ওয়েবসাইটে থাকা কুকিজ ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছেন. কুকিজের কাজ না জেনে. তারপর সেসব তথ্য একবার দুইবার. শত শত মার. আলাদা আলাদা ক্রেতার কাছে বিক্রি করা হচ্ছে. আপনার চোখে আপাতদৃষ্টিতে অপ্রয়োজনীয় কিছু তথ্য বিক্রি করে বিলিয়ন ডলার কামিয়ে নিচ্ছে কোন একটা এজেন্সি. যাদের নাম আপনি জীবনে হয়তো কোনদিন শোনেননি. জামাত বালি হাপিটিয়া, যিনি একসময় ফেসবুকের ব্যবহারকারীর বৃদ্ধির দায়িত্বে ছিলেন. এখন তিনি বলছেন যে তিনি যে সামাজিক নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে সহায়তা করেছেন সে সম্পর্কে তার প্রচন্ড অপরাধবোধ রয়েছে. আর তিনি একমাত্র সোশ্যাল মিডিয়ায় এক্টিভিস্ট নন, যিনি হুইসেল বাজাচ্ছেন. দু হাজার উনিশ সালে বিশিষ্ট উনি গার্ডিয়ানে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে.
আমরা প্রতিদিন গড়ে একশো-পঁয়তাল্লিশ মিনিট করে সোশ্যাল মিডিয়াতে অ্যাক্টিভ থাকি. অর্থাৎ প্রতিদিন আড়াইটা ঘণ্টা শুধুমাত্র ফেসবুকের নিউজ ফিডস কল করেই কাটিয়ে দিই আমরা. বছরে তিনশো পঁয়ষট্টি দিনের মধ্যে ছত্রিশ দশমিক পাঁচ দিনে সমপরিমাণ সময় আমরা শুধু ফেসবুক ব্যবহার করি. সময়ের কি নিদারুন অপচয়। দ্যা ইকোনমিস্ট কিছুদিন আগে একটা আর্টিকেল চেপেছে যার হেডলাইন ছিল দা সান নেভার সেটস. আপনি যখন এই ব্লগ পড়ছেন ঠিক তখন সমগ্র পৃথিবীর ঊনত্রিশ শতাংশ মানুষ ফেসবুকে স্ক্রল করছে।
এবং প্রতি পাঁচজনের দুইজন মাঝরাতে নোটিফিকেশন চেক করায় ব্যস্ত থাকে. বাংলাদেশে প্রতি বারো সেকেন্ডে ফেসবুকে একজন নতুন ব্যবহারকারী যুক্ত হচ্ছেন. যা দেশের জন্ম হারের চেয়েও বেশি. কিন্তু মনে রাখবেন এটা কেবল শুধুমাত্র.
কিছুদিন আগে ঢাকার এক অভিজাত এলাকায় সশস্ত্র বাহিনীর এক সদস্য উঁচু একটি ভবনের ছাদ থেকে লাফিয়ে আরেক ছাদে যাওয়ার সময় পাপ ফসকে দুই ভবনের মধ্যবর্তী অংশে পড়ে যান. সাথে সাথেই তার মৃত্যু হয়. পরে জানা যায় টিকটকে আপলোড দেওয়ার জন্য পার্ক অভার ভিডিও বানাচ্ছিলেন তিনি ।এর কিছুদিন পর একশো ষাট ফুট উঁচু একটি ট্রেনে উঠে তেইশ বছর বয়সী চিনের জনপ্রিয় টিকটক তারকা সিওয়াও কিউমে ভিডিও লাইভ করছিলেন হঠাৎ পা পিছলে যায় তার তার মৃত্যুও হয় সাথে সাথেই । এখানেই বিশ্বব্যাপী বিপদজনক এই ট্রেন্ডগুলো থামিয়ে দেওয়ার কথা ছিল কিন্তু না। কিন্তু না. Blackout চ্যালেঞ্জ নামে আর এক trend ও TikTok এ. অজ্ঞান হওয়ার আগ পর্যন্ত দম বন্ধ করে রাখতে হয় চ্যালেঞ্জ গ্রহণকারীদের. যুক্তরাষ্ট্রের ব্যথা নিতে সোমবার আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা একটি এপার্টমেন্ট থেকে বারো বছর বয়সী বালকের নিথর দেহ উদ্ধার করেন.
ব্ল্যাক আউট চ্যালেঞ্জে মৃত্যু ঘটেছে তার. গোটা আমেরিকায় এই নিয়ে তিনজন বালকের মৃত্যু ঘটে একই ট্রেন্ডে. এই মৃত্যুগুলোর মাঝে একটাই যোগসুত্র. টিকটক.
দু হাজার আঠেরো সালের আগস্ট মাসে চাইনিজ সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম টিকটক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আসে. তিন বছর পর দুহাজার একুশ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি দশজন টিনেজারের মাঝে ছয় জন এটি ব্যবহার করছে. সংক্ষিপ্ত ভিডিও অ্যাপ্লিকেশনের এই বিস্ফোরণ. বিস্ময়কর মনে হলেও যখন জানা যায় টিকটকের মূল সংস্থা বাইক ডান্স শুধুমাত্র দু হাজার আঠেরো সালে তাদের ব্র্যান্ডের বিজ্ঞাপনে এক বিলিয়ন ডলারেরও বেশি ব্যয় করেছে. তখন তাঁর অস্বাভাবিক লাগে না. টিকটক একশো পঞ্চাশটি দেশে পঁচাত্তরটি ভাষায় এক বিলিয়নেরও বেশি বার ডাউনলোড করা হয়েছে. গত বছর একে বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান স্টার্টআপ হিসেবে বিবেচনা করা হয়. যার মূল্য আটান্ন বিলিয়ন মার্কিন ডলার.
এ বছরের শুরুতেই ফেসবুক, স্ন্যাপচ্যাট এবং ইনস্টাগ্রামকে পরাজিত করে বিশ্বের সর্বাধিক ডাউনলোড করা অ্যাপ হয়ে ওঠে টিকটক। অথচ এই সময়টাতেই তারা আমেরিকায় নিষেধাজ্ঞা পেয়েছে ভারতের লম্বা সময় ধরে নিষিদ্ধ থেকেছে। কিন্তু কোনো কিছুই তাদের ইউজারের সংখ্যা বাড়ানো থেকে থামাতে পারে নি । এমনই এক নেশার নাম টিকটক ।হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালার পেছনে শহরের সব ইঁদুর সম্মোহিত হয়ে দৌড়ে পানিতে গিয়ে পড়েছিল।
ঠিক তেমনই এই প্রজন্মের কাছে টিকটক যেন হ্যাবিলনের বাঁশিওয়ালাই। এক বিলিয়ান ডাউনলোড মানে আরো অসংখ্য অসুস্থ প্রতিযোগী. টিকটকাররা অনেকেই নিজেদের জাহির করার একটা মিথ্যা প্রতিযোগিতায় নাম লিখিয়েছেন । সেই ছাদ থেকে লাফ দেওয়ার ভিডিও করতে গিয়ে মারা যাচ্ছেন কেউ ক্যামেরা ওপেন রেখে দেড়শো কিলোমিটার স্পিডে বাইক চালিয়ে অ্যাক্সিডেন্ট করে পঙ্গু হচ্ছেন ।ভারতের মুম্বাইতে কিছুদিন আগেই এক ছেলে বন্ধুদের সাথে বাজি ধরেছিল চলন্ত অবস্থায় এক ট্রেন থেকে আরেক ট্রেনে লাফিয়ে পার হবার ভিডিও ধারণ করে সে টিকটকে আপলোড করবে । পরিণতি মৃত্যু. তারা ভাবছে এগুলো অ্যাডভেঞ্চার. না. এগুলো বোকামি. এর নামের স্রোতে গা ভাসিয়ে, বিবেক বুদ্ধি বিসর্জন দিয়ে নিজেকে বিলিয়ে দেওয়া. ভাইরাল হবার নেশায় মেতে শেষমেশ মূল্য দিতে হচ্ছে প্রাণ কুইয়ে. আর সবচেয়ে আর সবচেয়ে কঠিন বাস্তবতা হলো এই প্ল্যাটফর্ম সব দেখেও না দেখার ভান করছে.
টিকটক মানুষকে অনেক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ আচরণে জড়িত হওয়ার অনুপ্রেরণা দিয়েছে. শুধুমাত্র রেভিনিউ কামানোর জন্য. বাস্তবতা বিবর্জিত, উদ্ভট কর্মকাণ্ড করে প্রচারের আলোয় আসার সহজ রাস্তাটা অনুসরণ করার বাসনা চাপিয়ে দিয়েছে তারা মানুষের মাঝে। অল্প বয়সেই নিজেদের আবেদনময়ী হিসেবে উপস্থাপনের মিশনে নামছে কিশোরীরা। দু-হাজার-নয় সালে প্রায়ান এবং জেন একটি বিকল্প নিরাপদ ইনস্ট্যান্ট মেশিনিং অ্যাপ তৈরী করেন নাম হোয়াটসঅ্যাপ।
হোয়াটসঅ্যাপ কিভাবে ইনকাম করে ?
দুহাজার চোদ্দ সালে ফেসবুক উনিশ বিলিয়ন মার্কিন ডলার দিয়ে তাদের কাছ থেকে হোয়াটসঅ্যাপ কিনে নেন। দু হাজার চোদ্দ সালে নাসার অ্যানুয়াল বাজেটে উনিশ বিলিয়ন ডলার ছিল না. ভাবতে পারছেন টাকার অঙ্কটা কিরকম অবিশ্বাস্য. একবার চিন্তা করুন হোয়াটস্যাপ কিভাবে আর্ন করছে. যে অ্যাপে কোন বিজ্ঞাপন নেই যে অ্যাপ কিনতে টাকা খরচ করতে হয় না. যে অ্যাপে ইন টু এনক্রিপশন সিস্টেম বলে তথ্য পাচার হবার সম্ভাবনাই নেই.
তাহলে তাদের আয়ের উৎস কি? ইস মাই এফেক্ট. আপনি সেই প্রোডাক্ট. ফেসবুকের সহযোগী অ্যাপ হিসেবে হোয়াটসঅ্যাপে আপনার কাছ থেকে অটোমেটিক বেশ কিছু তথ্য পাচ্ছে । আপনার ফোন নাম্বার , কন্টাক্ট লিস্ট WhatsApp এর মাধ্যমে এসবের access চলে যাচ্ছে Facebook এর কাছে. সেখান থেকে Facebook Algorithm এবং Facebook এর artificial intelligence মিলে target audience এবং potential customer এর তালিকা তৈরি করে ফেলছে. হিসাবটা খুব সহজ. ফোনের কন্টাক্ট লিস্টে নতুন কোন নাম্বার অ্যাড করলেই দেখবেন সেই লোকটার ফেসবুক অ্যাকাউন্টও আপনার নিউজ ফিডে শো করছে কিংবা ইনস্টাগ্রামের ফিডে ভেসে আসছে তার আইডি। কাকতালীয় কোন ব্যাপারই নয় এটা পুরোটাই ডেটা পাইরিসির খেলা । আজকের যুগে যার কাছে যত ডেটার সে ততো বেশি ক্ষমতাবান আর ডিজিটাল দুনিয়ায় এই ডেটা মনোপলির বিজনেসের নেতৃত্ব দিচ্ছে ফেসবুক। যে পরিমান তথ্য তাদের কাছে আছে সেটা দুনিয়ার আর কোনো কোম্পানির কাছে নেই. এজন্যই বলা হয় ফেসবুক আর গুগল আপনার সম্পর্কে যা জানে এতটা আপনি নিজের সম্পর্কেও জানেন না. শুধু তাই না মিলিয়ন মিলিয়ন ডলারের খেলা চলছে পর্দার পেছনে. Snapchat গত নভেম্বরে টিকটককে টেক্কা দিতে স্পটলাইট নামে সেবা চালু করে. একই সময় সংস্থাটি জানিয়েছে এটি প্রতিদিন তার শীর্ষ ভিডিওর পেছনে নির্মাতাকে এক মিলিয়ন ডলার অর্থ প্রদান করবে. এখন তাদের পলিসি, অল অর নাথিং. শর্ট ভিডিও টিকটক তৈরি করছে ইউটিউব তৈরি করছে স্টোরিতে আছে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী. ফেসবুক, ম্যাসেঞ্জার, ইনস্টাগ্রাম, তাদের মার্কেটে টিকে থাকতে হলে আলাদা কিছু দরকার ছিল. যেটা তারা করেছে ওই ওয়ান মিলিয়ন ডলার গিভ আওয়েতে. জাস্ট ইমাজিন প্রতিদিন এক মিলিয়ন ডলারের খেলার নেশা.
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করতে খুব একটা টাকা লাগে না। লাগে শুধু অল্প দামে কেনা মোবাইল ডেটা কিংবা ব্রডব্যান্ডের ইন্টারনেট কানেকশন সোশ্যাল নেটওয়ার্কের অ্যাপ গুলো আনলিমিটেড স্ক্রলিং ডিজাইনে তৈরী । ফলে চট করে বের হতেই দেয় না সেগুলো । তারা আপনাকে চুষে টাকার পাহাড় গড়ছে. এই মিডিয়ার হাতে আপনার যত আসক্তি ততই তাদের লাভ. রাতের পর রাত জেগে ছেলে মেয়ে থেকে পৌঢ় বয়স্করা পর্যন্ত এখন সোশ্যাল নেটওয়ার্কে ব্যস্ত. সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের আসক্তিটা অনেকের জীবনে ড্রাগের আসক্তির চেয়েও মারাত্মক ফল বয়ে আনছে । একটা জম্মি জেনারেশন গড়ে উঠেছে পরিবারের সঙ্গে তাদের কোনো সুসম্পর্ক নেই । তারা মানুষের সঙ্গে মিশতে জানে না । কারোর সঙ্গে মেশাটাকে দরকার বলেও মনে করে না । ছোট্ট একটা রুমের ভেতর মোবাইল বা ল্যাপটপ নিয়ে বসে থাকা টাকে তারা জীবন ভাবছে । এর বাইরে যে আস্ত একটা দুনিয়া পড়ে আছে সে সম্পর্কে এদের বিন্দুমাত্র ধারণা নেই।
সামাজিক যোগাযোগের এইসব মাধ্যম আপনাকে আসল ইস্যু থেকে দূরে সরিয়ে ফোকাসটা ধরে রাখছে ট্রেন্ডি টপিকের ওপর। আপনার পকেটে টাকা নিয়ে সমাজ জুড়ে দুর্নীতি আর অব্যবস্থাপনা অনিয়ম আর অনাচারে ভরে গেছে সব। অর্থনৈতিক একটা সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে গোটা দেশ বাজারে প্রতিটা জিনিসের দাম বেশি, আপনি বেকার বসে আছেন চাকরি বাজারে মন্দা , অল্প কিছু লোক সমস্ত সম্পদ কুক্ষিগত করে রেখেছে , বাকিরা বসে আছে একটু স্বাচ্ছন্দ্যময় জীবনের আশায় অথচ সেসবটি না ভেবে আপনি ভাবছেন কোনো নায়িকা বা মডেলের পোশাক নিয়ে। অথচ এই বেদরকারী নেশায় বুধ হওয়ার কথা কিন্তু আপনার ছিল না. আপনার নিউজ ফিড জুড়ে আছে একটা মিথ্যা পৃথিবী. যে ইউটোপিয়া আপনাকে বাস্তবতা থেকে যোজন যোজন দূরে সরিয়ে রাখছে. প্রিয় দর্শক আপনাকে যা জানানোর আমরা জানিয়েছি. ফ্রি সেবার মাধ্যমে ব্যক্তিগত তথ্য কতটা তুলে দেবেন তাদের হাতে? তা আপনার উপরেই থাকবে. Prevention 8s better than cure . ধন্যবাদ। আজ এই পর্যন্তই.
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন