সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

বায়ো ওপেন্স কি ? বায়ো ওপেন্স কতটা বিপদ্জনক?

এ বছরের ফেব্রুয়ারি মাস. অর্থাৎ রাশিয়া এবং ইউক্রেন যখন থেকে সংঘাতে জড়িয়েছে সেই সময় থেকেই একটা শব্দ ঘুরে ফিরে বারবার উচ্চারিত হচ্ছে মিডিয়াতে. কেউ বলছেন রাসায়নিক অস্ত্র. কেউ বলছেন জৈব অস্ত্র. বলা হচ্ছে অবস্থা বেগতিক দেখলেই নাকি রাশিয়া এই অস্ত্র প্রয়োগ করতে পারে. ঘটতে পারে হিরোশিমা নাগাসাকির চেয়েও কয়েকগুণ বিধ্বংসী প্রলয়. ধ্বংস হয়ে যেতে পারে পৃথিবীর একটা অংশের মানব সভ্যতাও. কিন্তু এই জৈব অস্ত্র বা বায়ু ওপেনের কেন এত ভয়. কেন এটিকে মানব সভ্যতার সবচেয়ে বিধ্বংসী আবিষ্কার বলা হয় ?  

হিরোশিমা নাগাসাকিতে আমেরিকার পারমানবিক বোমার হামলার ধ্বংস যজ্ঞ দেখেছে পৃথিবী. এর চেয়েও কয়েকগুন বেশি ক্ষয়ক্ষতি যে অস্ত্রের মাধ্যমে করা সম্ভব সেটাকে হেলাফেলা করার কোন উপায় নেই. একে অন্যের সাথে লড়াই করতো ঢাল তলোয়ার দিয়ে সেখান থেকে গোলা বারুদ, কামান থেকে বর্তমানের উন্নত যত অস্ত্রশস্ত্র, পারমাণবিক অস্ত্র থেকে শুরু করে সুপারসনিক, আলট্রাসুপারসনিক. মিসাইলের মত তুখড় সব অস্ত্র এখন মানুষের কব্জায়। কিন্তু আজ যে অস্ত্রটি নিয়ে কথা হবে সেটিকে জীবন্ত অস্ত্র বললেও বেশি বলা হবে না. বায়ো ওপেনস যাকে দুনিয়ার সমস্ত সমরাস্ত্রের চেয়ে মারাত্মক শক্তিশালী হিসেবে ধরা হয়। নীরবে হাজার হাজার জনগোষ্ঠী শেষ করে দিতে পারে. আর যার প্রভাব থাকতে পারে কয়েক দশক পর্যন্ত । এক কথায় বললে এটি একপ্রকার ভাইরাসবাহী এজেন্ট অথবা বিষক্রিয়া ছড়ানোর মাধ্যম খুব দ্রুত গতিতে বিস্তারে সক্ষম । এসবে সব এজেন্টের মধ্যে পড়ে ব্যাকটেরিয়া ভাইরাস ছত্রাক এবং কীটপতঙ্গ. শত্রুদের বিরুদ্ধে এই অস্ত্র ব্যবহারের চল সেই অতীত থেকেই এবং এই জৈব অস্ত্রের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি মানুষ মারা গেছে সাধারণ যেকোনো যুদ্ধের তুলনায়. ধ্বংসাত্মক সমগ্র রাষ্ট্রের তালিকায় বায়ু ওপেনকে রাখা হয় না কারণ এটির মধ্যে সাধারণত কোনো স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেবার সক্ষমতা থাকে না।  

কলকারখানা, বাড়িঘর কিংবা জিনিসপত্রেরও তেমন একটা ক্ষতি করে না এই অস্ত্র কিন্তু মানব জীবনের ধ্বংস করে অহরহ । এবং এর নিয়ন্ত্রণ করা প্রায় অসম্ভব. আর যার প্রভাবে এপিডেমিক প্যানডেমিক পর্যন্ত গড়াতে বেশি সময় নেয় না. আর যে কারণে দু হাজার তেরো সাল পর্যন্ত প্রায় একশো আশিটি দেশ এটি নিষিদ্ধ ঘোষণা করে. তবুও কিছু দেশ গোপনে বায়োপেন্স নিয়ে গবেষণা করছে. একবার ভাবুন. যদি কখনো এটি কোন সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর হাতে পড়ে তার পরিণতি কি হতে পারে. ভাবলে গা শিউরে উঠবে. দু হাজার বারো সালে প্রকাশিত এক ফিল্মে দেখানো হয়:  কলকাতা শহরে চলন্ত মেট্রোর ভেতরে ঘটে যাওয়া একটা দুর্ঘটনা দেখানো হয়েছিল আস্ত একটা ট্রেনের ভেতর যার যার সিটে বসে ছিলেন শত শত মানুষ কেউ বা মাটিতে লুটিয়ে পড়েছিলেন কারোর কারো দেহে প্রাণ ছিল না. এর ঠিক আগেই দেখানো হয় এক মহিলার হাত থেকে একটা দুধের বোতল পরে ফেটে যায়. আর ভেতরে থাকা তরল পদার্থগুলো ছড়িয়ে পড়ে চারপাশে. আদতে সেটি ছিল বায়ু ওয়েপেন বা কেমিক্যাল ওয়েপেন ব্যবহারের একটা নমুনা. জেনে অবাক হবেন. ফিল্মে  দেখানো এই দৃশ্যটি কিন্তু পরিচালকের কল্পনা নই. পঁচানব্বই সালে জাপানের আওম শিম  সম্প্রদায়ের একটি উগ্র গোষ্ঠী টোকিও শহরের পাতার রেলে সারিন গ্যাস ব্যবহার করেছিল. এতে ট্রেনের বারো জন যাত্রী নিহত এবং পাঁচ হাজারেরও বেশি মানুষ আহত হয়ে ছিল. biological weapon বা জৈব অস্ত্রকে কয়েক ভাগে ভাগ করা যায়. বিশেষ করে organism type কতটা প্রাণনাশক ইনক্রিভিশন পিরিয়ড কতটা সময় স্থায়ী থাকবে. বর্তমানে উপস্থিত ভ্যাকসিন দিয়ে প্রতিরোধ করা যাবে কিনা ইত্যাদির উপর নির্ভর করে এর প্রকারভেদগুলো. 


বিশ্ব জুড়ে করোনা মহামারী ছড়িয়ে পড়ার পর একটা মতবাদ খুব প্রচার পেয়েছিল পশ্চিমা মিডিয়ায় যে করোনা আসলে চীনের তৈরী একটা  বায়ু ওপেন। ইউরোপ এবং আমেরিকাকে পেছনে ফেলার জন্য এই  বায়ু ওপেন  ব্যবহার করেছে চীন এমন অভিযোগ করেছিলেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প. পশ্চিমাদের যুক্তি ছিল করোনার উৎপাদন চীনে হলেও সেখানে খুব বেশি ক্ষয়ক্ষতি করতে পারেনি এই ভাইরাস. বরং ইউরোপ আমেরিকায় চালিয়েছে ধ্বংস যজ্ঞ । অন্যদিকে চীন ঠিকই এই দুই বছরে নিজেদেরকে পৃথিবীর সবচেয় ধনী রাষ্ট্রে পরিণত করেছে. এসব কারণে অনেকে এই মতবাদে বিশ্বাসও করেছিলেন. দুশো-পঁয়ষট্টি সাল নাগাদ রোমানু পারজিয়নদের মধ্যকার যুদ্ধে সর্বপ্রথম রাসায়নিক অস্ত্রের ব্যবহার দেখা যায়. ওই সময় পারজিয়ান সৈন্যরা একপ্রকার প্রাণঘাতী গ্যাসের ব্যবহার করে যুদ্ধের মাঠে পৌঁছানোর আগেই অনেক রুমান সৈন্যকে হত্যা করেছিল. প্রথম বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন জার্মানি, ল্যান্ডেস্টাইন প্রোগ্রাম নামে একটা পদক্ষেপ নেয় যার লক্ষ্য ছিল মিত্র পক্ষের ঘোড়া ও গবাদি পশুদের সংক্রামিত করা. শুধু তাই নয় বলা হয় উনিশশো পনেরো সালে জার্মানরা রাশিয়ার সেন পিচার্স বার্গে প্লেগ ছড়াতে চেষ্টা করেছিল ।রাশিয়ার শক্তিকে পর্যদুস্ত করার লক্ষ্যে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহ রূপ চাক্ষুষ করে সব পক্ষই ছিল ভীতসন্ত্রস্ত। 


সে কারণে বেশিরভাগ দেশ উনিশশো-পঁচিশ সালের জেনেভা প্রটোকলে যুদ্ধে সর্বপ্রকার জৈব ও রাসায়নিক অস্ত্রের ব্যবহারে ইতি টানে. কিন্তু জাপান সর্বপ্রথম জেনেভা প্রটোকলের নিয়ম ভঙ্গ করে এবং পূর্ণ মাত্রায় বায়ো ওপেন্স ডেভেলপমেন্ট প্রোডাকশন এবং টেস্টিংয়ে মনোনিবেশ করে. শুধু তাই নয় উনিশশো সাঁইত্রিশ সাল থেকে উনিশশো পঁয়তাল্লিশের মধ্যে চীনের বিরুদ্ধে বায়ো ওপেন্স প্রয়োগ করে আবার যুদ্ধবন্দী তিন হাজারেরও বেশি মানুষের উপর বায়ুপেন্সের পরীক্ষা চালায় এবং এই মানুষগুলোর হয় বীভৎস মৃত্যু. জাপানীরা যেসব ইনফেকশনস এজেন্ট নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা চালিয়েছিল তাদের মধ্যে বি বর্নি প্লেগ, অ্যানট্রাক্স, ইয়েলো ফিভার ছিল অন্যতম। বায়ো ওপেন্স এর  কথা বলতে গেলে বায়োটেরিজম শব্দটা আসবে বারবার। সহজ ভাবে বললে বায়ো ওপেন্স নির্ভর যেকোনো জঙ্গিবাদী বা হিংসাত্মক কর্মকাণ্ডকেই বায়োটেরোরিজম বলা যায়। কোন স্বৈরাচারী সরকারের মদতে বায়ো ওপেন্স যদি কোনো বিশেষ গোষ্ঠীর হাতে পড়ে সেখান থেকে বায়োটেরিজমের আশঙ্কা সবসময়ই থাকবে । সাম্প্রতিককালের কিছু বিক্ষিপ্ত ঘটনা যার প্রমাণ বহন করে. গোপনে কোনো রাষ্ট্রের ইন্টেলিজেন্ট বিভাগ অন্য রাষ্ট্রে জৈব অস্ত্র প্রয়োগ করতে চাইলে তা খুব সহজেই করতে পারবে. ব্যাগে ভাইরাস ভর্তি টিউব থাকলে তাই এয়ারপোর্ট সিকিউরিটি ডিটেক্টরে সহজে ধরা পড়বে না. স্ক্যানিং মেশিনের পর্দায় ভাইরাস দেখাও যাবে না. এ কারণে এটি বহন করা খুবই সহজ. হামলা করা তার চেয়েও সহজ. ভারতীয় বংশোদ্ভূত বিতর্কিত ধর্মগুরু রাজমিস প্রচুর বিদেশী ভক্ত জুটিয়ে ছিলেন এক কালে. যুক্তরাষ্ট্রের হরিগনের ওয়াস্কো কাউন্টি এলাকায় রজনীশের ভক্তবৃন্দরা টাইফয়েডের জীবাণু দিয়ে সাতশো পঞ্চাশ জন লোককে অসুস্থ করে তোলে। 

এসব কিছুই বায়োটেরোরিজমের ভয়ঙ্কর রূপ আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়। উনিশশো সাতানব্বই সালে রাসায়নিক অস্ত্র কনভেনশন আইন দ্বারা রাসায়নিক অস্ত্র এবং জৈব অস্ত্র ব্যবহার কঠোরভাবে নিষিদ্ধ । এই নিষেধাজ্ঞা রাশিয়া সহ বিশ্বের অধিকাংশ দেশ দ্বারা স্বাক্ষরিত। রাসায়নিক অস্ত্রের গ্লোবাল ওয়াচ টপ রয়েছে নেদারল্যান্ডসের হেগে  । যা ওপিসিডব্লিউ নামে পরিচিত । এই অস্ত্র নিষিদ্ধকারী সংস্থা রাসায়নিক  অস্ত্রগুলোর বেআইনি ব্যবহার পর্যবেক্ষণ করে এবং অস্ত্রের ব্যবহার যেন না হয় সেদিকেও নজর রাখে. রাশিয়া বলেছে তারা দু হাজার সতেরো সালে তাদের রাসায়নিক অস্ত্রের শেষ মজুত ধ্বংস করেছে । 


কিন্তু তারপরেও মস্কোর ওপর অন্তত দুটি রাসায়নিক হামলার অভিযোগ রয়েছে। প্রথম অভিযোগ ছিল দুহাজার-আঠারো সালের মার্চে যুক্তরাজ্যের সেলিজ valley আক্রমণ। সেখানে একজন সাবেক কে কেজিবি অফিসার এবং ডিফেক্টর সেইগেইজ ক্রিপাল ও তার মেয়ের ওপর নার্ভ এজেন্ট নবীচাপ বিষ প্রয়োগ করা হয় । যদিও রাশিয়া এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে । তবে তদন্তকারীদের প্রতিবেদন অনুযায়ী রাশিয়ার জিআরইউ সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার দুই কর্মকর্তা এতে ছিলেন সরাসরি জড়িত। ফলে একশো-আঠাশ জন রুশ গুপ্তচর এবং কূটনীতিককে বিভিন্ন দেশ থেকে বহিষ্কার করা হয়. আরেকটি অভিযোগ হচ্ছে দু হাজার বিশ সালের আগস্টে রাশিয়া বিরোধী বিশিষ্ট কর্মী অ্যালেক্সি নাবালনি কেও  নিবিচক বিষ প্রয়োগ করা হয়েছিল. তবে অল্পের জন্য তিনি মৃত্যুর দ্বার থেকে ফিরে আসেন.         এটি একেবারে দিনের আলোর মতো পরিষ্কার যে মানব নিধনের যত অস্ত্র আমাদের কবলে রয়েছে তার মধ্যে জৈবিক অস্ত্র সবচেয়ে বেশি ধ্বংস করতে পারে। 

শুধুই যে এপিডেমিকের জন্ম দেয় এমন নয়। তার সাথে পরিবেশের যাবতীয় উপাদান পানি, বাতাস, মাটির ক্ষয়ক্ষতিতেও রাখে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা। যার আচর গিয়ে পড়ে খাদ্যশস্য এ ও।  বায়ো ওপেন্সের নানা বহুমুখী অপকারিতার কারণ এটি তুলনামূলকভাবে কম খরচে উৎপাদন করা সম্ভব. দ্রুত গতিতে ছড়িয়ে পড়ে প্রকৃতিতে. আর এটা বহন করা খুবই সহজ. বায়ো ওপেন্স সরাসরি প্রাকৃতিক সম্পদের বিপুল ক্ষতি করে. কখনো বাতাসের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে খুব সহজে।উদ্ভিদের  উপর আক্রমণ করে. খাবারের মাধ্যমে অতি সহজে প্রবেশ করতে পারে মানবদেহে. আর পানির মাধ্যমে বেশ কিছু ভাইরাসবাহী কোনো ঘটক চলাচল করতে পারে. এরা আরো ভয়ানক. বলা হয় দশ গ্রাম পরিমান বায়ো ওপেন্স পানিতে ছুরি দিয়ে মাত্র ছয় ঘণ্টার মধ্যে আশি মিলিয়ন মানুষকে মেরে ফেলা সম্ভব। ক্যানাইন ডিস্ট্যাম্পার একটি সাধারণ সংক্রামক রোগ। যা মূলত বন্য কুকুর এবং ওই শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত অন্য বন্য প্রাণীদের আক্রমণ করে। এই ক্যানাইন ডিস্ট্যাম্পার গবেষণাগারেও তৈরি করা যায়। গত কয়েক দশক ধরে লক্ষ্য করা যাচ্ছে এই রোগে উত্তর আমেরিকার বহু সংখ্যক বন্যপ্রাণী লুপ্তপ্রায় হতে চলেছে তানজানিয়ার এক তৃতীয়াংশ সিংহের সংখ্যা হ্রাস পাওয়ার পেছনেও এই রোগের রয়ছে সরাসরি হাত। আঠেরোশো সাতাশি সাল নাগাদ ইউরোপিয়ান সৈন্যরা গোটা আফ্রিকা জুড়ে রাইন্ডার পেস্ট ভাইরাস ছড়িয়ে দেয় ।যা আফ্রিকার সিংহভাগ গবাদি পশুর হত্যার কারণ।

ছোট ছোট অথবা অপেক্ষাকৃত কম ক্ষমতাশীল দেশগুলোর ওপর চাপ প্রয়োগ করে অর্থনৈতিক অবরোধ দিয়ে বায়ো ওপেন্স নিয়ে গবেষণা হয়তো রুখে দেওয়া সম্ভব । কিন্তু যারা বিশ্বে পাওয়ার হাউস হিসেবে পরিচিত তাদের বেলায় কি এই একই চিত্র আমরা দেখতে পাবো? মনে হয় না রাশিয়া, ইউক্রেন সংকটের সময় তো সামনে এসেছে যে ইউক্রেনে অত্যাধুনিক জৈব ও রাসায়নিক অস্ত্র তৈরির প্রকল্পে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি সহায়তা করছিল । যুক্তরাষ্ট্র ও জার্মানী যৌথভাবে জৈব অস্ত্র নিয়ে গবেষণার জন্য ইউক্রেনে কমপক্ষে তিরিশটি জৈব গবেষণাগারের নেটওয়ার্ক স্থাপন করেছিল. একথা স্বীকার করেছে খোদ হোয়াইট হাউস. পারমানবিক বোমা এখন backdated. সেই জায়গা দখল করেছে জৈব অস্ত্র. কারণ পারমানবিক বোমার সারা শব্দ অনেক বেশি. অন্যদিকে এমন নিঃশব্দে শত্রুপক্ষকে নিঃশেষ করে দেওয়া যায় বায়ো ওপেন্স ব্যবহার করে. পরাশক্তি গুলো তাদের ক্ষমতার মনোপুলি রক্ষা করতে বায়ুপেন্সে কোটি কোটি ডলার বিনিয়োগ করে চলেছে. আর তা বরাবরই থাকে সব কিছুর অন্তরালে. বায়ো ওপেন্সের না আছে কোনো গন্ধ, না আছে কোনো বিশেষ রঙ যার ফলে এটি সনাক্ত করা দুঃসাধ্য একটা ব্যাপার. এরা যেসব রোগের জন্ম দেয় তাদের সিমটমসের সাথে সাধারণ রোগের সিমটমসের তফাৎ করা খুবই মুশকিল। যা বায়ো ওপেন্স কে কয়েকশো গুণ বেশি ভয়ঙ্কর করে তোলে । মানুষ যেমন মানুষের ক্ষতির কারণ তেমনি মানুষই পারে মানুষকে নিরাপত্তা দিতে. তাই সমস্ত শুভবুদ্ধি সম্পন্ন মানুষ একজোট না হলে জৈব অস্ত্রের হুমকি থেকে পৃথিবীকে কখনোই বাঁচানো সম্ভব নয়.   



মন্তব্যসমূহ

Blog Posts

পেগাসাস স্পাইওয়ার কি ?

গত কিছুদিন ধরেই বিশ্ব রাজনীতি এবং প্রযুক্তি জগৎ এই দুই জায়গাতেই আলোচনার বিষয়বস্তু একটাই। সেটা হচ্ছে পেগাসাস স্পাইওয়ার. বিশ্বজুড়ে নানান দেশের মানবাধিকার কর্মী সাংবাদিক আইনজীবী ও রাজনীতিকদের ফোনের নজরদারি চালানোর ঘটনা ফাঁস হওয়ার পর ইজরায়েলের বেসরকারি কোম্পানি nso গ্রুপের তৈরি করা এই সফটওয়্যার নিয়ে এখন তুমুল তরজা চলছে দুনিয়া জুড়ে । চলুন কথা বলি দুনিয়া ওলট পালট করে দেওয়া স্পাইওয়ার সম্পর্কে । পেগাসাস মূলত একটি নজরদারি বিষয়ক সফটওয়্যার । ইজরাইলের সংস্থা এনএসও ই সফটওয়্যার তৈরি করেছে। যা দিয়ে যে কারো মোবাইলে আড়ি পাতা যায়. এটা কিন্তু সাধারণ কোন নজরদারি নয়. আগে ফোনে আড়ি পেতে শুধু দুই প্রান্তের কথাবার্তা শোনা যেত. আর সফটওয়্যারের মাধ্যমে গোটা ফোনটারই নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় হ্যাকাররা. ফোনের কথাবার্তা WhatsApp এর চ্যাট, ছবি, ফোনে কি কি তথ্য আছে সবই জানা যায়. আরো ভয়ানক ব্যবহার হচ্ছে মোবাইল যিনি ব্যবহার করছেন তিনি জানতেই পারেন না যে তার ফোন হ্যাক করা হয়েছে. সমস্ত তথ্য পাচার হয়ে যাচ্ছে নির্দিষ্ট একটি গোষ্ঠীর কাছে. কিন্তু কারো ফোনে পেগাসাস software install করতে হলে তো সেই ফোনটাকে...

প্রযুক্তি দুনিয়াতে পর্দার আড়ালে থেকে যাওয়া এক প্রতিভাবান এর গল্প ।

পর্দার আড়ালে একা খেলে যাচ্ছেন একজন. কামাচ্ছেন বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার. অথচ তাকে চেনে খুব কম সংখ্যক মানুষ. আইটি জগতে ইলন মাস্ক, জেফ বোজোস বা বিট গ্রেটসের সাথে তার নামও সমান তালে চলার কথা ছিল. কিন্তু বিহাইন্ড দা সিনে একা গোল করে যাচ্ছেন তিনি. নাম ড্রোন ইয়াং পিং ড্রোন ইয়াং পিং নামটি মোবাইল ফোনের জগতে খুবই কম মানুষের শোনা. তবে তার নাম অজানা থাকলেও তার কোম্পানি বিবিকে ফোন গিগদের মধ্যে বেশ পরিচিত. ওয়ান প্লাস, রিয়েলমি, অপো, ভিভো এবং আইকিউ. এই পাঁচটি জনপ্রিয় মোবাইল ব্র্যান্ডের একক মালিক ডোন ইয়াং পিন.  এই ব্র্যান্ড গুলো তার কোম্পানিতে পরিণত করেছে বর্তমানের সবচেয়ে বড় মোবাইল ফোন উৎপাদনকারী কোম্পানিতে. অ্যাপেল , শাওমি বা স্যামসাং যারা মোবাইল ফোনের জগতে বর্তমানে সবচেয়ে বড় ব্র্যান্ড তাদেরকেও পেছনে ফেলে এগিয়ে গিয়েছে বিবিকে কোম্পানি। কিন্তু এত সফলতার সত্ত্বেও বেশিরভাগ মোবাইল ফোন ব্যবহারকারী এমনকি ফোন গিগরাও তার সম্পর্কে বলতে গেলে তেমন কিছুই জানে না. এলেন মাস্ক, স্টিভ জবস বা জ্যাকমা, যারা কিনা টেকনোলজির জগতে খুবই পরিচিত তাদের সম্পর্কে অনলাইনে  অগণিত তথ্য রয়েছে। কিন্তু ডন ইয়ং পিং এর...

ডিপ্রেশন কি ? এটা কত প্রকার ? বাইপোলার ডিসঅর্ডার কি ?

আজকাল খুব কমন একটা শব্দ ডিপ্রেশন. যার বাংলা অবসাদ । ডিপ্রেশনের সাথে সাথে পরিচিত হয়ে উঠছি আমরা মুড সুইং শব্দটার সাথেও । এই জেনারেশনের কারো সোশ্যাল মিডিয়ায় ডিপ্রেশনে না ভোগাটাই যেন বিরাট অপমানজনক। সবাই কেন যেন অস্থির হয়ে আছে বোঝাতে যে সে ডিপ্রেশনে ভুগছে । কখনো গানের লিরিক্স আবার কখনো বিখ্যাত লেখকের কোটেশন সবকিছুতেই ডিপ্রেশন । সাইকিয়াট্রিতে এই ডিপ্রেশন হল এক ধরনের মুড ডিসঅর্ডার । যেটা একমুখী অবসর বা ইউনিফুলার ডিপ্রেশন । কিন্তু সম্প্রতি আর এক ধরণের অবসাদ বিজ্ঞানীদের মাথা খারাপ করে দিচ্ছে। যেটাকে বলা হচ্ছে বাই পোলার ডিপ্রেশন । বাই পোলার অর্থাৎ দ্বিমুখী । একে ম্যানিক ডিপ্রেশনে বলা হয়। এখনো পর্যন্ত মনোবিজ্ঞানীরা বাই পোলার ডিসঅর্ডারের কারণ সম্পর্কে সঠিকভাবে জানতে পারেন নি। এর ওপর প্রচুর গবেষণা চলছে। জানলে অবাক হবেন যে শুধুমাত্র আমেরিকাতেই সাত মিলিয়নেরও বেশি মানুষ বাইপোলার ডিসঅর্ডারে ভুগছে । কিন্তু আসলে কি ঘটে? বাইপোলার ডিসঅর্ডারে? চলুন কথা বলি বাই পোলার ডিসঅর্ডার নিয়ে আজ কথা বলা যাক।   বাইপোলার ডিসঅর্ডার কাকে বলে? খুব সংক্ষেপে বলা যায় বাইপোলার ডিসঅর্ডার একটি মানসিক অবস্থা। যে...

কিভাবে লিমিটলেস হওয়া যায় ? লিমিটলেস আসলে কিভাবে কাজ করে ?

এনজিটিপিল,  এটা এমন এক পিল যা আপনাকে করবে আল্ট্রা ফোকাসড. দেবে দুর্দান্ত মোটিভেশন. বের করে আনবে আপনার সর্বোচ্চ সম্ভাবনা. আপনি হয়ে উঠবেন আনস্টপল. বাস্তবতা পাবে প্রতিটি স্বপ্ন. কিন্তু সমস্যা হচ্ছে এমন কোন পিলের অস্তিত্ব নেই. ফলাফল আপনি আটকে আছেন একটি খাদে. সারাক্ষণ ক্লান্তি নিয়ে হয়ে উঠছেন আনপ্রোডাক্টিভ. নষ্ট হচ্ছে ক্রিয়েটিভিটি. সময় গড়িয়ে যায়. ঋতুর পরিবর্তন ঘটে. কিন্তু আপনি ডুবে থাকেন এক হতাশায় যাতে আপনি দিন দিন পিছিয়ে পরছেন. আপনি যা যা এতদিন অর্জন করবেন ভেবেছিলেন তা কিছুই আপনি অর্জন করতে পারেননি । নিজেকে সান্তনা দিচ্ছেন আগামীকাল হবে ভিন্ন। কিন্তু তা কখনোই হয়ে ওঠে না এখন যদি আপনাকে বলি কোনো জাদুকরী পিলের সাহায্যে নয় বাস্তবিক লিমিটলেস হয়ে ওঠা সম্ভব।  একদম প্রমাণিত পদ্ধতিতে যা একেবারে ফ্রিতে ব্যবহার করা সম্ভব.  তো আছেন তো শেষ পর্যন্ত ?  Limit less হওয়ার যাত্রায় ।  স্টেপ ওয়ান : এনার্জি--  মাত্র কয়েক মাস আগে আমি নিজেও আপনার মতো কর্মশক্তিহীন অনুভব করতাম. সামান্য কাজেই আসতো অবসন্নতা, গেয়ে ধরতো ক্লান্তি একদিন হঠাৎ টের পেলাম আমি নিজেই নিজের energy নি...

ম্যান্ডেলা ইফেক্ট কেনো হয়?

   আচ্ছা নিজের স্মৃতি শক্তির উপর কতটা বিশ্বাস আছে আপনার? আচ্ছা বাদ দিয়ে আপনার কথা. গণমানুষের স্মৃতিশক্তির উপর নিশ্চয়ই বিশ্বাস আছে অনেকটা. না না. ধর্মীয় কোন বিশ্বাস না. এই গ্রহে ঘটে যাওয়া এমন সব ঘটনা. যা সবাই জানে. তা কি রকম মিথ্যা? এক দশক আগেও পৃথিবীর প্রায় এক তৃতীয়াংশ মানুষ জানতো যে অস্ট্রেলিয়ার রাজধানীর নাম সিডনি. আসলে কি তাই? গত এক দশকে এই ধারণা মোটামুটি পরিবর্তন হয়ে মানুষ জেনেছে অস্ট্রেলিয়ার রাজধানীর নাম ক্যানভেরা. এখনো এই ভুল হরমামেশাই করে যাচ্ছে মানুষ. বিশ্বাস না হলে আশেপাশের কিছু মানুষকে জিজ্ঞেস করে দেখতে পারে. প্রশ্ন করতে পারেন ম্যান্ডেলার নাম কেন? এই ফ্ললস মেমোরি সিন্ড্রোমকে ম্যান্ডেল এফেক্ট নামকরণ করেছেন প্যারানরমাল কনসালটেন্ট ফীয়না ব্রুম তার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে । দু হাজার দশ সালের এক আলোচনা সভায় উঠে আসে দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদ বিরোধী আন্দোলনের নেতা উনিশশো আশি সালে কারা জানে মারা যাওয়ার প্রসঙ্গ । অনেকেই সেদিন বলেছিল, টিভিতে এই নেতার শেষকৃত্যের আনুষ্ঠানিকতা দেখার অভিজ্ঞতার কথা. ম্যান্ডেলার স্ত্রীর হৃদয় নিন্দারও ভাষণের কথা উল্লেখ করেছিলেন কেউ কেউ. এমনক...

সারোগেসি কি ?

সারোগেসির মাধ্যমে সন্তান ধারণ করা নিয়ে এখনো বহু বিতর্ক আছে. শুধু আমাদের দেশে নয়, সারা বিশ্বেই এই পদ্ধতি নিয়ে তর্ক বিতর্কের শেষ নেই.  এটার আইনি প্রক্রিয়াও জটিল। কারণ এটি একেক রাষ্ট্রে. শারোগেসি আইন একেক রকম. নারী মা হবেন প্রাকৃতিক নিয়ম সমাজ এমনটাই দেখতে অভ্যস্ত. কিন্তু কোন কারণে মা হবার ক্ষমতা না থাকলে তাকে পরিবার ও আশপাশ থেকে যে পরিমাণ কটু কথা শুনতে হয় তা সাধারণ মানুষের ধারণারও বাইরে.   সরোগেসি বিষয়টি কি? চিকিৎসা শাস্ত্রের অগ্রগতি এমন মায়েদের সামনে এনেছে যারা গর্ভ ভাড়া দিয়ে নিজে বাঁচেন অন্যদের মাতৃ সুখ দেন । একজন নারীর গর্ভে অন্য দম্পতির সন্তান ধারণের পদ্ধতিকে সারোগেসি বলা হয়.সারোগেসির এই  পদ্ধতি বেশ দীর্ঘকালীন. আইভিএফ পদ্ধতিতে স্ত্রী ও পুরুষের ডিম্বাণু শুক্রাণু দেহের বাইরে নিষিক্ত করে তা নারীর গর্ভাশয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়. কিন্তু এখানেও জটিলতা. কেন? সে বিষয়ে পরে আসছি. বাংলাদেশ সহ বহু দেশই এই সারোগেসি একরকম ভাবে নিষিদ্ধ. সুতরাং বিষয় টি  সংবেদনশীল. এমনকি বেশিরভাগ ধর্মেও রয়েছে নিষেধাজ্ঞা. চলুন কথা বলি সারোগেসি মাদার সম্পর্কে। আইভিএফ বা টেস্ট টি...

রেট রেস কি ?

      আপনি ঠিক কখন ইঁদুর দৌড়ে যোগ দিয়েছেন এটা হিসাব করা কঠিন. কিন্তু নিশ্চিত থাকুন আপনি এই দৌড়ে আছেন. ক্লাস eight এ পড়ার সময়ের কথা মনে আছে? সামনে বৃত্তি পরীক্ষা পাটিগণিত বীজগণিতের অংক প্যাঁচ লাগাচ্ছে বিজ্ঞানের জটিল সব সূত্র ভোরে ওঠে প্রাইভেট টিউটরের বাসায় ছোটা রাত জেগে পড়াশোনা. বয়সের তুলনায় অনেক বেশি কর্ম ব্যস্ত একটা সময় নিশ্চয়ই কাটিয়েছেন তখন? আমরা সবাই কাটিয়েছি. সেই সময় নিশ্চয়ই অভিভাবক বলেছে এই তো আর কটা দিন. বৃত্তি পরীক্ষা শেষ হলেই জীবন শান্তি আর শান্তি. জীবনের নানা এপিসোডে আপনি এই কথাগুলো শুনেছেন অনেকবার অনেকের মুখে. এসএসসি পরীক্ষাটা দাও, কলেজে উঠলেই তো স্বাধীনতা. একবার ভার্সেটিতে উঠতে পারলেই জীবন হবে আনন্দে ভরপুর. একবার জব লাইফে ঢোকো. নিজের টাকায় আয়েশ করার মজাই অন্যরকম. শুনেছেন না এসব?  বয়স ঘড়ির ত্রিশের প্রান্তে দাঁড়িয়ে হিসেবগুলো মেলাতে পারেন কি? কি মনে হয়? এই এপিসোডগুলোর কোনোটা পার হবার সময় জীবন খানিকটা হলেও সহজ হয়েছে? সুন্দর হয়েছে? হয়নি, হবেও না, মিথ্যা একটা মরীচিকার আশায় আমরা ছুটেছি ঠিকই আমাদের ছোটানো হয়েছে, কিন্তু হিসাব মেলেনি ছুটত...

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কি ? আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কতটা ভযঙ্কর হতে পারে আগামী দিনের জন্য ?

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বহুল চর্চিত এবং ব্যবহৃত একটি শব্দ. মানুষের বুদ্ধিমত্তা ও চিন্তা শক্তিকে কম্পিউটার প্রোগ্রামিং এর মাধ্যমে মেশিন ল্যাঙ্গুয়েজে স্থাপন করা টেকনোলজিটাই হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স । এর মাধ্যমে কোন যন্ত্র নির্দিষ্ট প্রোগ্রামের আওতাধীন কিছু কাজ নিজে থেকেই করতে পারে নিজে নিজে সিদ্ধান্ত নিতে পারে।  টার্মিনেচার টাইপের কোনো সাইফাই সিনেমার গুরু বন্ধুর সংলাপ নয়।  A.I নিয়ে ভবিষ্যৎবাণী করেছিলেন পৃথিবীর সেরা বিজ্ঞানীদের একজন স্টিফেন হকিং আমার ভয় হয় তারা সত্যিই হয়তো একদিন মানুষকে হটিয়ে নিয়ন্ত্রকের আসনে বসে যাবে। বেঁচে থাকতেই BBC কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স তথা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে এভাবেই সবাইকে সতর্ক করেছিলেন তিনি। হকিংসের এই ভয় এখনো ভবিষ্যতের বিষয় হলেও অমূলক নয় মোটেও যন্ত্রকে বুদ্ধিমান করে তার আশীর্বাদ অনেক আছে। কিন্তু দীর্ঘ মেয়াদে সেই যন্ত্রই পৃথিবীর দখল নিতে চলেছে কিনা স্বয়ং সম্পূর্ণ হয়ে মানুষকেই বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে একদিন অপদার্থ তে পরিণত করবে কিনা সেই প্রশ্নটা উঠছে বারবার।  যুক্তরাষ্ট্রে...

রাশিয়ান হ্যাকাররা এত ভয়ঙ্কর কেন ?

  হ্যাকিং !  খুব ছোট্ট একটা শব্দ কিন্তু এই তাৎপর্য এবং গুরুত্ব দুটোই অপরিসীম. একজন মানুষের জীবন ধ্বংস করার ক্ষমতা তো হ্যাকারদের আছেই. গোটা একটা জাতির অপরিসীম ক্ষতি সাধনা করা সম্ভব. শুধুমাত্র এই হ্যাকিংএর মাধ্যমে. বাংলাদেশ ব্যাংকের টাকা চুরির ঘটনাটা কি উদাহরণ ধরতে পারেন. স্প্যাম মেল পাঠিয়ে সার্ভারের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সরকারি ছুটির সময়টাকে কাজে লাগানোর মাধ্যমে হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশের কিছু ব্যাংক একাউন্টে ট্রান্সফার করে নিয়েছিল এই হ্যাকাররা. এর মধ্যে কিছু টাকা ফিরিয়ে আনা গেছে সত্যি কিন্তু বেশিরভাগেরই কোন হদিস পাওয়া যায় নি.  সাউথ ইন্ডিয়ান সিনেমায় হ্যাকিং এর দৃশ্য দেখে আপনি যদি ভেবে থাকেন যে ভার্সিটি থেকে ড্রপ আউট হওয়া ক্র্যাক হেডেট কিছুর দরুন দিনরাত কম্পিউটারের সামনে বসে এসব করে ফেলছে তাহলে আপনি বোকার স্বর্গে বাস করছেন । হ্যাঁ এরকম হ্যাকার যে নেই তা নয় । ইন্ডিপেন্ডেন্ট হ্যাকার সংখ্যাও পৃথিবীতে কম নয় । কিন্তু দুনিয়া জুড়ে হ্যাকিংকে যারা শিল্পে পরিণত করেছে যারা হ্যাকার হিসেবে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে হয়ে উঠেছে মূর্তিমান আতঙ্কের নাম ...

কেনো বাংলাদেশীরা ইন্ডিয়াকে ঘৃনা করে?

একাত্তর সালের ডিসেম্বর মাস মুক্তিযুদ্ধ চলছে। ভারত তখনও সরাসরি অংশগ্রহণ করেনি মুক্তিযুদ্ধে। বাংলাদেশের পক্ষে কূটনৈতিক তৎপরতা চালাচ্ছে তাঁরা। প্রায় এক কোটি শরণার্থী আশ্রয় নিয়েছে ভারতে। মুজিবনগর সরকারের অস্থায়ী সদর দপ্তর স্থাপিত হয়েছে কোলকাতায়। মুক্তি যোদ্ধারা ভারতের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে ক্যাম্প করে সেখান থেকে আক্রমণ হানছে পাকিস্তানি সেনাদের উপর.  তেসরা ডিসেম্বর বিকেলে ভারতের তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল শ্যাম টেলিফোন করলেন ভারতের ইস্টার্ন আর্মির চিফ অফ স্টাফ, লেফটেন্যান্ট জেনারেল জ্যাক জ্যাকবের এর কাছে. মানিক সো জ্যাকব কে বললেন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীকে বলুন, পাকিস্তানি বিমান থেকে ভারতের পশ্চিমাঞ্চলের এয়ার ফিল্ড গুলোতে বোমা বর্ষণ করা হয়েছে. ইন্দিরা গান্ধী তড়িৎ সিদ্ধান্ত নিলেন. পাকিস্তানের বিপক্ষে যুদ্ধ ঘোষণা করল ভারত। ছয় ডিসেম্বর প্রথম রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশকে স্বাধীন দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দিল ইন্দিরা গান্ধীর সরকার। বাংলাদেশের বয়স পঞ্চাশ বছর পূর্ণ হয়েছে. ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের বয়সও হয়ে গেছে পঞ্চাশ বছর. কিন্তু গত পঞ্চাশ বছরে এদেশের অনেক মানুষের মধ্যে ভারত বির...