সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

ডেভিল স্প্রেড বা শয়তানের নিঃশ্বাস কি ? এটা কতটা ভয়ানক ড্রাগ ?

হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালার গল্পের কথা কেনা না জানে। ইঁদুর নিয়ে কি সংকটেই না ছিল হ্যামিলানবাসী। পরের কাহিনী নিশ্চয়ই মনে আছে? না আমরা আজকে বাঁশিয়ালার গল্প বলবো না। কিন্তু সেই গল্প অনায়াসেই সত্য হয়ে যেতে পারে আমার ভাবনার সাথে । আসলে ঘটছে ও তাই আজকাল অহরহ। আর এজন্য প্রয়োজন কেবলমাত্র এক চিমটি স্কোপোলামিন। 

 কি এই স্কোপোলামিন? বিশ্বের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ড্রাগস কি ? অনেকেই হয়তো বলবেন কোকেন বা ক্রিস্টাল ম্যাথের কথা । কিন্তু না বিশ্বের সবচাইতে ভয়ঙ্কর ড্রাগস ও স্কোপোলামিন যা পরিচিত ডেভিল স্প্রেড বা শয়তানের নিঃশ্বাস নামে। 

এর শুধুমাত্র এক চিমটি পরিমাণ পাউডার পারে আপনাকে নিজের ওপরে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণহীন করে দিতে। ধরুন আপনি রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন। এমন সময় একজন লোক এসে আপনাকে এক টুকরো কাগজ দেখিয়ে কোন একটা ঠিকানার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলেন। এবং আপনি সাথে সাথেই আপনার চিন্তা শক্তি হারিয়ে ফেললেন। হারিয়ে ফেলেন স্ব-ইচ্ছায় নড়াচড়া করার শক্তি টুকু। কিভাবে সম্ভব? বুড়া চেরো নামে এক গাছের ফুলের বীজ থেকে স্কোপিং ড্রাগ বা ডেভিল স্প্রেড তৈরি হয়। এই গাছকেও বলা হয় ডেভিলস প্লান্ট বা শয়তানের গাছ। এর বৈজ্ঞানিক নাম হলো দাঁতুরা।

গাছের বীজ গুলোকে গুঁড়ো করে কেমিক্যাল প্রসেসের মাধ্যমে তৈরি করা হয় বরুণ দাঙ্গা বা স্কোপাডিক। কোথায় তৈরি হয় এই ড্রাগ তা সহজেই হয়তো আন্দাজ করতে পারছেন আপনি। দক্ষিণ আমেরিকার কলম্বিয়াতে । কলম্বিয়া দেশটি চুরি, ছিনতাই সহ সকল ধরনের অনৈতিক কাজের দিক থেকে পৃথিবীতে সবচেয়ে এগিয়ে আছে। ওয়েলকাম টু কলম্বিয়া। পরিসংখ্যানও বলে বিশ্বের প্রতি তিনটি অপহরণের মাঝে একটি ঘটে কলাম্বিয়াতে। কলম্বিয়াকে ডাকা হয় মাদকের রাজধানী।

স্কোপোলামিন ড্রাগটির ওজন এবং ঘনত্ব একেবারেই কোকেনের মতো। একগ্রামস কোপানোমিন এবং এক গ্রাম কোকেন দেখতে ঠিক একই রকম। কিন্তু পার্থক্য হল মাত্র এই এক গ্রাম স্কোপমিনি পনেরো জন মানুষকে হত্যা করতে সক্ষম। সারা বিশ্বে প্রায় পঞ্চাশ হাজার মানুষ এই ড্রাগের ভিক্টিম যা দিন দিন বাড়ছে ভয়ানকভাবে। স্বাভাবিকভাবেই অন্যান্য ড্রাগের মতো এর ব্যবহারও চিকিৎসার ক্ষেত্রে খুবই অল্প। আর এক মিলিগ্রাম ডুস ব্যবহৃত হয় সি সিগনেসের মেডিসিন হিসেবে। স্কোপোলামিন চামড়ার মাধ্যমে দেহে প্রবেশ করে। ফলে অপরাধ করাও সহজ এই ড্রাগের মাধ্যমে। সাধারণত মহাকাশে ভ্রমণকারী অ্যাস্ট্রোনটদের মরশুম সিগনেস কাটানোর জন্য নাসা তাদের ওপর শূন্য দশমিক তিন তিন মিলিগ্রাম স্কোপোলামিন প্রয়োগ করে। তবে এটির ছয় থেকে সাত মিলিগ্রাম ডোজ যদি কোনো সাধারণ মানুষের ওপরে ব্যবহার করা হয় তবে সে রাতারাতি পরিণত হয়ে যাবে একটা জুম্বিতে। তাকে দিয়ে যা খুশি করানো যাবে । আর যদি দশ মিলিগ্রাম বা তার বেশি ডোজ ব্যবহার করা হয় তাহলে ব্যক্তিটির রেসপিরিটি ফেলিওর হয়ে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।


 এটি অনৈতিক কাজেই ব্যবহৃত হয় সবচেয়ে বেশি। অপরাধীরা সাধারণত চুরি, ধর্ষণ বা কাউকে হত্যা করার উদ্দেশ্যে এই ড্রাগ ব্যবহার করে। পাতলা এই পাউডারটি ভিকটিমের শরীরে প্রবেশ করানো হয়। কোন কাগজ বা ভিসিটিং কার্ডের মাধ্যমে। খাবারের মাধ্যমে মুখের ওপর ফু দিয়ে অথবা অনেক সময় হ্যান্ডশেক করার সময় ড্রাগ মেশানো সূক্ষ্ম পিন ভিক্টিমের হাতে ফুটিয়ে। ভিক্টিম কিছু বুঝে ওঠার আগেই এই ড্রাগ দ্রুত মিশে যায় রক্তের সাথে ভিক্টিম তার নিজস্ব চিন্তাশক্তি হারিয়ে ফেলে সে শুধুই অন্যের আদেশে কাজ করতে পারে। অর্থাৎ ভিকটিমকে যদি বলা হয় নিজেকে খুন করে ফেলতে ভিক্টিম ট্রাই করবে। এই ড্রাগটি ব্যবহারের ফলে কিছু সময়ের জন্য ভিক্টিমের মেমোরি সম্পূর্ণ ব্লক হয়ে যায়। 

সে নতুন করে কিছু ভাবতে পারে না এমনকি ড্রাগড অবস্থায় তার সাথে কি ঘটেছে তার কিছুই সে আর মনে করতে পারে না । এমনকি ভিক্টিমদের হিতাহিত জ্ঞান ফিরে আসবার পর তারা মামলাও করতে পারে না কারণ অপরাধী ব্যক্তির চেহারা বা নাম কিছুই তারা মনে করতে পারে না । স্কোপ আলোমিক ড্রাগের শিকার এক কলম্বিয়ান তরুণ সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখলেন তার সম্পূর্ণ এপার্টমেন্ট খালি। দারোয়ানকে জিজ্ঞেস করে জানতে পারলেন আগের রাতে সেই তরুণ আরো দুইজন যুবক সহ নিজেই তার এপার্টমেন্টের সকল ফার্নিচার বের করে ভ্যানে তুলে দিয়েছেন। কিন্তু তার এসবে কিছুই মরেনি অর্থাৎ এই ড্রাগ ব্যবহার করে যে কেউ দিন দুপুরে আপনার সবকিছু লুটপাট করে নিয়ে চলে যাবে এবং কেউ সন্দেহ করতে পারবে না। 

ড্রাগ রক্তে মিশে যাওয়ার পর আপনাকে যে যা বলবে আপনি বিনা বাক্য ব্যয় করে আপনি তাই করতে বাধ্য। স্কোপোলামিন এতটাই হিপনটাইজ করে ধরা সই করে যে কোন ব্যক্তিকে। স্কোপোলামিন কিন্তু আজকের আবিষ্কার নয়। সেই উনিশশো দশ সালে ডক্টর রবার্ট হোস সর্বপ্রথম লক্ষ্য করেন যে অবচেতনকারী ঔষধ কোপালুমিন রোগীর দেহে প্রবেশ করালে রোগী এমন এক মানসিক অবস্থার মধ্যে প্রবেশ করে। রোগী এক ধরনের ঘরের মধ্যে নিচ থেকে সকল সত্য গল্পের মতো বলতে শুরু করে। অর্থাৎ কোন মানুষের ওপরে স্কোপোলামিন প্রয়োগ করলে মানুষটি আপনা আপনি আপনি সকল সত্য প্রশ্নের উত্তরের প্রেক্ষিতে বলে দেয়। ডক্টর রবার্ট হোস নিরাপরাধ মানুষ ষড়যন্ত্রের শিকার হলে তাকে যন্ত্রণাদায়ক জিজ্ঞাসাবাদের হাত থেকে বাঁচানোর জন্য এই পদ্ধতি ব্যবহার করতে চেয়েছিলেন।

কিন্তু দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধে গোপন তথ্য আদায় করার জন্য সেনাবাহিনীর ডাক্তারগণ শত্রুপক্ষের স্পাইদের ওপর ব্যাপক হারে প্রয়োগ করতে থাকেন এই ওষুধগুলো। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধেই এই ড্রাগ গ্রুপ সিরাম নামে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। বর্তমানে অনেক দেশে এই ট্রাক আইন সঙ্গতভাবে প্রয়োগ করা হয়। ফ্রুট সিরাম মানবদেহে ইনজেকশনের মাধ্যমে সরাসরি প্রবেশ করানো হয়। অথবা ট্যাবলেট হিসেবে মুখে বা বায়ু পথে ব্যবহার করা হয়। পরে এটি রক্তে প্রবেশ করে স্নায়ুতন্ত্রের মাধ্যমে স্পাইনাল ক্রর্ড এ প্রবেশ করে। স্পাইনাল করর্ড থেকে ওষুধ, মস্তিষ্কের ফ্রন্টাল কোয়ার্টিক্স এ প্রবেশ করে। মস্তিষ্কের সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী অংশগুলো ট্রুপ সিরামের প্রভাবে প্রভাবিত হয়। এর ফলে একই সাথে একাধিক সংকেত মস্তিষ্কে প্রেরিত হলে ড্রাগের প্রভাবে শুধু একটি সংকেত বিশ্লেষিত হয়। বাকি সংকেতগুলো থাকে উপেক্ষিত। ট্রুথ সিরামের প্রভাবে হেলোসিনেশান তৈরি হয়। এ সময় মানুষ কোন কথা বলতে থাকলে স্মৃতি থেকে শুধু সত্য কথাই বলতে থাকে। চিন্তা করে মিথ্যা বলতে পারে না। 

আমরা সবাই জানি, মিথ্যা কথা বলার সময় চিন্তা করে সাজিয়ে গুছিয়ে বলতে হয়। ট্রুথ সিরাম প্রয়োগ করলে মস্তিষ্কের একসাথে একাধিক চিন্তা করার ক্ষমতা লোভ পায়। তাই মানুষ মিথ্যা না বলে শুধুই বলে সত্য কথা। ট্রুথ সিরাম কি সত্যিই কাজ করে? বিভিন্ন গবেষণায় দেখা যায় গ্রুপ সিরাম পঁয়তাল্লিশ শতাংশ ক্ষেত্রে বেশ ভালো কেরামতি দেখায়। কিন্তু বাকি ক্ষেত্রে এটি ভালো কাজ করে না। কুৎসি নামের প্রভাবে অপরাধী যে জবানবন্দি দেয় তার সত্যতা. অনেক দেশের আদালত কর্তৃক গৃহীত নয়। আবার তথ্য অনুসন্ধানকারী যখন অপরাধীর কাছ থেকে তথ্য গ্রহণ করে তখন সে বুঝতেই পারে না যে সেই তথ্যটা সত্য না মিথ্যা? অনেকের মনে প্রশ্ন আসতে পারে যে সত্যি সত্যি যদি কাজ করে তাহলে কেন সবসময় এই ট্রুপসিরাম ব্যবহার করা হয় না? বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে যে ট্রুথ সিরামের প্রভাবে যে হ্যালুসিনেশান তৈরি হয় তা অপরাধীর মস্তিষ্ককে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অনেকে তার মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে। কেউ বা চিরদিনের মতো পাগল হয়ে যায়। অনেকে কথা বলার শক্তি হারিয়ে ফেলে। একজন অপরাধীকে জিজ্ঞাসাবাদের নামে এ ধরনের শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার আইনসংগত নয়। এটি মানবাধিকার লঙ্ঘনের পর্যায়ে পরে। আজি আজ এই পর্যন্তই. কেমন লাগলো ডেভিল স্প্রেড বা শয়তানের নিঃশ্বাস তা কমেন্ট বক্সে জানাতে ভুলবেন না।

  


মন্তব্যসমূহ

Blog Posts

ন্যানো টেকনোলজি কিভাবে কাজ করে ?

  যদি বলি আপনার চোখ দেখতে পারে না এমন গভীর ও প্রায় অনাবিষ্কৃত একটা পৃথিবী আছে. হয়তো বলতে পারেন যে মহাবিশ্বে কত গ্রহই তো আছে? সব খোঁজ কি আমরা পেয়েছি? কিন্তু যদি বলি আমাদের এই পৃথিবীর ভেতরে আরো একটি জগত আছে এবং যে জগৎ ছড়িয়ে আছে আমাদের গোটা বিশ্ব জুড়ে. এইবার হয়তো নড়েচড়ে বসবেন. হ্যাঁ আমাদের চোখের সামনেই রয়েছে এমন এক রাজ্য যে আমরা খালি চোখে দেখতে পাই না. এটাকে বলা হয় অণুবীক্ষণিক বিশ্ব. এই অণুবীক্ষণই বিশ্ব প্রচন্ড আকর্ষণীয় ও চমকে দেওয়ার মতো. কি কি ঘটছে এখানে তা আমার আপনার কল্পনারও বাইরে. এটা যেন কোনো ভিন গ্রহ বাসীদের রাজ্য. সম্ভাবনার দুয়ার খুলে রাখা আছে এই অণুবীক্ষণিক বা nano বিশ্বে.  ন্যানো কি ন্যানো হলো পরিমাপের একক। এক মিটারের একশো কোটি ভাগের এক ভাগ হচ্ছে এক ন্যানো। আর ন্যানো টেকনোলজি হলো বিজ্ঞানের এই অতি ক্ষুদ্র স্তরে একটা কিছু তৈরী করা আসলে শুধু তৈরি করা না. ন্যানোমিটার স্কেলে পরিবর্তন, পরিবর্তন, ধ্বংস বা সৃষ্টি সম্পর্কিত টেকনোলজিকেই ন্যানো টেকনোলজি বলে. অর্থাৎ ন্যানোমিটার স্কেলে পরিমিত যেকোনো বিষয়ে বহুমাত্রিক টেকনোলজিকে ন্যানো প্রযুক্তি বা ন্যানো টেকনোলজি বলা যে...

লুসিড ড্রিম কাকে বলে ? লুসিড ড্রিম কিভাবে দেখতে হয় ?

 স্বপ্ন নিয়ন্ত্রণ করার কথা ভেবেছেন কখনো? নিশ্চয়ই ভাবছেন জেগে জেগে দিবাস্বপ্ন দেখার কথা বলছি না তো? কিন্তু না, রীতিমতো ঘুমিয়ে দেখা স্বপ্নও নিয়ন্ত্রণের কথাই বলছি, আপনার ইচ্ছামত স্বপ্ন দেখবেন। ইচ্ছা মতো নিয়ন্ত্রণ করবেন। আর পছন্দ না হলে অর্থাৎ দুঃস্বপ্ন দেখা শুরু করলে সেটার গতিপথ পাল্টে দেবেন একেবারে নিমেষে। আধুনিক বিজ্ঞানের ভাষায় এটা খুবই সম্ভব একে বলা হয় লুসিভ ড্রিম। লুসিড ড্রিমিং এর সাথে আপনারা অনেকেই হয়তো পরিচিত আছেন। অনেকে পরিচিত থাকলেও হয়তো এটা কেন হচ্ছে বা কিভাবে হচ্ছে তা নিয়ে বেশ দ্বিধা দ্বন্দ্বে আছে এসবেরই উত্তর মিলবে আজকের এই লিখাতে।   লুসিড ড্রিম অর্থ কি? সহজ বাংলায় অনুবাদ করতে গেলে বলা যায় লুসিড অর্থ পরিষ্কার. অর্থাৎ স্পষ্ট আর dream মানে তো আমরা সবাই জানি যে স্বপ্ন। লুসিড ডিম হলো সেই স্বপ্ন যে আমাদের স্পষ্ট ভাবে মনে থাকে এবং স্বপ্ন চলাকালীন সময়েও আমরা এ উপলব্ধি করতে পারি যে এটি বাস্তব নয় বরং এটি স্বপ্ন কিন্তু শুধুমাত্র আক্ষরিক অর্থ দিয়ে লুসিড ড্রিম ব্যাখ্যা করলে ভুল হবে একটু অন্যভাবে বলা যাক ।  মনে করুন স্বপ্নে আপনি কি পাহাড়ের উপর থেকে দ্রুত গ...

প্রযুক্তি দুনিয়াতে পর্দার আড়ালে থেকে যাওয়া এক প্রতিভাবান এর গল্প ।

পর্দার আড়ালে একা খেলে যাচ্ছেন একজন. কামাচ্ছেন বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার. অথচ তাকে চেনে খুব কম সংখ্যক মানুষ. আইটি জগতে ইলন মাস্ক, জেফ বোজোস বা বিট গ্রেটসের সাথে তার নামও সমান তালে চলার কথা ছিল. কিন্তু বিহাইন্ড দা সিনে একা গোল করে যাচ্ছেন তিনি. নাম ড্রোন ইয়াং পিং ড্রোন ইয়াং পিং নামটি মোবাইল ফোনের জগতে খুবই কম মানুষের শোনা. তবে তার নাম অজানা থাকলেও তার কোম্পানি বিবিকে ফোন গিগদের মধ্যে বেশ পরিচিত. ওয়ান প্লাস, রিয়েলমি, অপো, ভিভো এবং আইকিউ. এই পাঁচটি জনপ্রিয় মোবাইল ব্র্যান্ডের একক মালিক ডোন ইয়াং পিন.  এই ব্র্যান্ড গুলো তার কোম্পানিতে পরিণত করেছে বর্তমানের সবচেয়ে বড় মোবাইল ফোন উৎপাদনকারী কোম্পানিতে. অ্যাপেল , শাওমি বা স্যামসাং যারা মোবাইল ফোনের জগতে বর্তমানে সবচেয়ে বড় ব্র্যান্ড তাদেরকেও পেছনে ফেলে এগিয়ে গিয়েছে বিবিকে কোম্পানি। কিন্তু এত সফলতার সত্ত্বেও বেশিরভাগ মোবাইল ফোন ব্যবহারকারী এমনকি ফোন গিগরাও তার সম্পর্কে বলতে গেলে তেমন কিছুই জানে না. এলেন মাস্ক, স্টিভ জবস বা জ্যাকমা, যারা কিনা টেকনোলজির জগতে খুবই পরিচিত তাদের সম্পর্কে অনলাইনে  অগণিত তথ্য রয়েছে। কিন্তু ডন ইয়ং পিং এর...

সারোগেসি কি ?

সারোগেসির মাধ্যমে সন্তান ধারণ করা নিয়ে এখনো বহু বিতর্ক আছে. শুধু আমাদের দেশে নয়, সারা বিশ্বেই এই পদ্ধতি নিয়ে তর্ক বিতর্কের শেষ নেই.  এটার আইনি প্রক্রিয়াও জটিল। কারণ এটি একেক রাষ্ট্রে. শারোগেসি আইন একেক রকম. নারী মা হবেন প্রাকৃতিক নিয়ম সমাজ এমনটাই দেখতে অভ্যস্ত. কিন্তু কোন কারণে মা হবার ক্ষমতা না থাকলে তাকে পরিবার ও আশপাশ থেকে যে পরিমাণ কটু কথা শুনতে হয় তা সাধারণ মানুষের ধারণারও বাইরে.   সরোগেসি বিষয়টি কি? চিকিৎসা শাস্ত্রের অগ্রগতি এমন মায়েদের সামনে এনেছে যারা গর্ভ ভাড়া দিয়ে নিজে বাঁচেন অন্যদের মাতৃ সুখ দেন । একজন নারীর গর্ভে অন্য দম্পতির সন্তান ধারণের পদ্ধতিকে সারোগেসি বলা হয়.সারোগেসির এই  পদ্ধতি বেশ দীর্ঘকালীন. আইভিএফ পদ্ধতিতে স্ত্রী ও পুরুষের ডিম্বাণু শুক্রাণু দেহের বাইরে নিষিক্ত করে তা নারীর গর্ভাশয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়. কিন্তু এখানেও জটিলতা. কেন? সে বিষয়ে পরে আসছি. বাংলাদেশ সহ বহু দেশই এই সারোগেসি একরকম ভাবে নিষিদ্ধ. সুতরাং বিষয় টি  সংবেদনশীল. এমনকি বেশিরভাগ ধর্মেও রয়েছে নিষেধাজ্ঞা. চলুন কথা বলি সারোগেসি মাদার সম্পর্কে। আইভিএফ বা টেস্ট টি...

পেগাসাস স্পাইওয়ার কি ?

গত কিছুদিন ধরেই বিশ্ব রাজনীতি এবং প্রযুক্তি জগৎ এই দুই জায়গাতেই আলোচনার বিষয়বস্তু একটাই। সেটা হচ্ছে পেগাসাস স্পাইওয়ার. বিশ্বজুড়ে নানান দেশের মানবাধিকার কর্মী সাংবাদিক আইনজীবী ও রাজনীতিকদের ফোনের নজরদারি চালানোর ঘটনা ফাঁস হওয়ার পর ইজরায়েলের বেসরকারি কোম্পানি nso গ্রুপের তৈরি করা এই সফটওয়্যার নিয়ে এখন তুমুল তরজা চলছে দুনিয়া জুড়ে । চলুন কথা বলি দুনিয়া ওলট পালট করে দেওয়া স্পাইওয়ার সম্পর্কে । পেগাসাস মূলত একটি নজরদারি বিষয়ক সফটওয়্যার । ইজরাইলের সংস্থা এনএসও ই সফটওয়্যার তৈরি করেছে। যা দিয়ে যে কারো মোবাইলে আড়ি পাতা যায়. এটা কিন্তু সাধারণ কোন নজরদারি নয়. আগে ফোনে আড়ি পেতে শুধু দুই প্রান্তের কথাবার্তা শোনা যেত. আর সফটওয়্যারের মাধ্যমে গোটা ফোনটারই নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় হ্যাকাররা. ফোনের কথাবার্তা WhatsApp এর চ্যাট, ছবি, ফোনে কি কি তথ্য আছে সবই জানা যায়. আরো ভয়ানক ব্যবহার হচ্ছে মোবাইল যিনি ব্যবহার করছেন তিনি জানতেই পারেন না যে তার ফোন হ্যাক করা হয়েছে. সমস্ত তথ্য পাচার হয়ে যাচ্ছে নির্দিষ্ট একটি গোষ্ঠীর কাছে. কিন্তু কারো ফোনে পেগাসাস software install করতে হলে তো সেই ফোনটাকে...

রেট রেস কি ?

      আপনি ঠিক কখন ইঁদুর দৌড়ে যোগ দিয়েছেন এটা হিসাব করা কঠিন. কিন্তু নিশ্চিত থাকুন আপনি এই দৌড়ে আছেন. ক্লাস eight এ পড়ার সময়ের কথা মনে আছে? সামনে বৃত্তি পরীক্ষা পাটিগণিত বীজগণিতের অংক প্যাঁচ লাগাচ্ছে বিজ্ঞানের জটিল সব সূত্র ভোরে ওঠে প্রাইভেট টিউটরের বাসায় ছোটা রাত জেগে পড়াশোনা. বয়সের তুলনায় অনেক বেশি কর্ম ব্যস্ত একটা সময় নিশ্চয়ই কাটিয়েছেন তখন? আমরা সবাই কাটিয়েছি. সেই সময় নিশ্চয়ই অভিভাবক বলেছে এই তো আর কটা দিন. বৃত্তি পরীক্ষা শেষ হলেই জীবন শান্তি আর শান্তি. জীবনের নানা এপিসোডে আপনি এই কথাগুলো শুনেছেন অনেকবার অনেকের মুখে. এসএসসি পরীক্ষাটা দাও, কলেজে উঠলেই তো স্বাধীনতা. একবার ভার্সেটিতে উঠতে পারলেই জীবন হবে আনন্দে ভরপুর. একবার জব লাইফে ঢোকো. নিজের টাকায় আয়েশ করার মজাই অন্যরকম. শুনেছেন না এসব?  বয়স ঘড়ির ত্রিশের প্রান্তে দাঁড়িয়ে হিসেবগুলো মেলাতে পারেন কি? কি মনে হয়? এই এপিসোডগুলোর কোনোটা পার হবার সময় জীবন খানিকটা হলেও সহজ হয়েছে? সুন্দর হয়েছে? হয়নি, হবেও না, মিথ্যা একটা মরীচিকার আশায় আমরা ছুটেছি ঠিকই আমাদের ছোটানো হয়েছে, কিন্তু হিসাব মেলেনি ছুটত...

ম্যান্ডেলা ইফেক্ট কেনো হয়?

   আচ্ছা নিজের স্মৃতি শক্তির উপর কতটা বিশ্বাস আছে আপনার? আচ্ছা বাদ দিয়ে আপনার কথা. গণমানুষের স্মৃতিশক্তির উপর নিশ্চয়ই বিশ্বাস আছে অনেকটা. না না. ধর্মীয় কোন বিশ্বাস না. এই গ্রহে ঘটে যাওয়া এমন সব ঘটনা. যা সবাই জানে. তা কি রকম মিথ্যা? এক দশক আগেও পৃথিবীর প্রায় এক তৃতীয়াংশ মানুষ জানতো যে অস্ট্রেলিয়ার রাজধানীর নাম সিডনি. আসলে কি তাই? গত এক দশকে এই ধারণা মোটামুটি পরিবর্তন হয়ে মানুষ জেনেছে অস্ট্রেলিয়ার রাজধানীর নাম ক্যানভেরা. এখনো এই ভুল হরমামেশাই করে যাচ্ছে মানুষ. বিশ্বাস না হলে আশেপাশের কিছু মানুষকে জিজ্ঞেস করে দেখতে পারে. প্রশ্ন করতে পারেন ম্যান্ডেলার নাম কেন? এই ফ্ললস মেমোরি সিন্ড্রোমকে ম্যান্ডেল এফেক্ট নামকরণ করেছেন প্যারানরমাল কনসালটেন্ট ফীয়না ব্রুম তার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে । দু হাজার দশ সালের এক আলোচনা সভায় উঠে আসে দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদ বিরোধী আন্দোলনের নেতা উনিশশো আশি সালে কারা জানে মারা যাওয়ার প্রসঙ্গ । অনেকেই সেদিন বলেছিল, টিভিতে এই নেতার শেষকৃত্যের আনুষ্ঠানিকতা দেখার অভিজ্ঞতার কথা. ম্যান্ডেলার স্ত্রীর হৃদয় নিন্দারও ভাষণের কথা উল্লেখ করেছিলেন কেউ কেউ. এমনক...

কিভাবে লিমিটলেস হওয়া যায় ? লিমিটলেস আসলে কিভাবে কাজ করে ?

এনজিটিপিল,  এটা এমন এক পিল যা আপনাকে করবে আল্ট্রা ফোকাসড. দেবে দুর্দান্ত মোটিভেশন. বের করে আনবে আপনার সর্বোচ্চ সম্ভাবনা. আপনি হয়ে উঠবেন আনস্টপল. বাস্তবতা পাবে প্রতিটি স্বপ্ন. কিন্তু সমস্যা হচ্ছে এমন কোন পিলের অস্তিত্ব নেই. ফলাফল আপনি আটকে আছেন একটি খাদে. সারাক্ষণ ক্লান্তি নিয়ে হয়ে উঠছেন আনপ্রোডাক্টিভ. নষ্ট হচ্ছে ক্রিয়েটিভিটি. সময় গড়িয়ে যায়. ঋতুর পরিবর্তন ঘটে. কিন্তু আপনি ডুবে থাকেন এক হতাশায় যাতে আপনি দিন দিন পিছিয়ে পরছেন. আপনি যা যা এতদিন অর্জন করবেন ভেবেছিলেন তা কিছুই আপনি অর্জন করতে পারেননি । নিজেকে সান্তনা দিচ্ছেন আগামীকাল হবে ভিন্ন। কিন্তু তা কখনোই হয়ে ওঠে না এখন যদি আপনাকে বলি কোনো জাদুকরী পিলের সাহায্যে নয় বাস্তবিক লিমিটলেস হয়ে ওঠা সম্ভব।  একদম প্রমাণিত পদ্ধতিতে যা একেবারে ফ্রিতে ব্যবহার করা সম্ভব.  তো আছেন তো শেষ পর্যন্ত ?  Limit less হওয়ার যাত্রায় ।  স্টেপ ওয়ান : এনার্জি--  মাত্র কয়েক মাস আগে আমি নিজেও আপনার মতো কর্মশক্তিহীন অনুভব করতাম. সামান্য কাজেই আসতো অবসন্নতা, গেয়ে ধরতো ক্লান্তি একদিন হঠাৎ টের পেলাম আমি নিজেই নিজের energy নি...

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কি ? আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কতটা ভযঙ্কর হতে পারে আগামী দিনের জন্য ?

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বহুল চর্চিত এবং ব্যবহৃত একটি শব্দ. মানুষের বুদ্ধিমত্তা ও চিন্তা শক্তিকে কম্পিউটার প্রোগ্রামিং এর মাধ্যমে মেশিন ল্যাঙ্গুয়েজে স্থাপন করা টেকনোলজিটাই হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স । এর মাধ্যমে কোন যন্ত্র নির্দিষ্ট প্রোগ্রামের আওতাধীন কিছু কাজ নিজে থেকেই করতে পারে নিজে নিজে সিদ্ধান্ত নিতে পারে।  টার্মিনেচার টাইপের কোনো সাইফাই সিনেমার গুরু বন্ধুর সংলাপ নয়।  A.I নিয়ে ভবিষ্যৎবাণী করেছিলেন পৃথিবীর সেরা বিজ্ঞানীদের একজন স্টিফেন হকিং আমার ভয় হয় তারা সত্যিই হয়তো একদিন মানুষকে হটিয়ে নিয়ন্ত্রকের আসনে বসে যাবে। বেঁচে থাকতেই BBC কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স তথা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে এভাবেই সবাইকে সতর্ক করেছিলেন তিনি। হকিংসের এই ভয় এখনো ভবিষ্যতের বিষয় হলেও অমূলক নয় মোটেও যন্ত্রকে বুদ্ধিমান করে তার আশীর্বাদ অনেক আছে। কিন্তু দীর্ঘ মেয়াদে সেই যন্ত্রই পৃথিবীর দখল নিতে চলেছে কিনা স্বয়ং সম্পূর্ণ হয়ে মানুষকেই বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে একদিন অপদার্থ তে পরিণত করবে কিনা সেই প্রশ্নটা উঠছে বারবার।  যুক্তরাষ্ট্রে...

মিনিমালিজম কি ? কিভাবে মিনিমালিস্ট হওয়া যায় ?

মিনিমামলিজম এই ধারণাটি বিগত কয়েক বছরে বেশ জনপ্রিয়তা লাভ করেছে এবং এর যথেষ্ট কারণও আছে. এই পুরো ব্যাপারটা কি? সেটাকে সঙ্গায়িত করা যায় এভাবে যে,  মিনিমালিজম হচ্ছে যা আমাদের জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সেগুলোকে ধারণ করা এবং বাকি সব কিছু যা আমাদের দৃষ্টিকে অন্যদিকে সরিয়ে নেয় সেগুলোকে ইচ্ছাকৃতভাবে ত্যাগ করা।   অর্থাৎ কোন কোন বিষয়ে জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং কোন জিনিসগুলোকে আমাদের কাছে সবচেয়ে মূল্যবান সেই সম্পর্কে একটা পরিষ্কার ধারণা থাকা এবং বাকি সব ত্যাগ  করে দেয়. সেগুলো নিয়েই জীবন ধারণ করা. কিন্তু এমন সংজ্ঞায়ন সত্ত্বেও minimalism কোন ধরাবাধা জীবন ব্যবস্থা নয় বা মিনিমালিস্ট হতে হলে কোন নির্দিষ্ট মানদণ্ড মেনে চলতে হবে এরকমটিও কিন্তু নয়. মিনিমালিস্ট লাইফ স্টাইল এমন একটি বিষয় যা প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য স্বতন্ত্র। এক্ষেত্রে মূল বিষয়টি হচ্ছে সত্যিকার অর্থে কোন কোন বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও প্রয়োজনীয় সেই সম্পর্কে একটা পরিষ্কার ধারণা নিয়ে সেই অনুযায়ী জীবন ধারণ করা. প্রিয় দর্শক চলুন দেখি মিনিমালিজম কিভাবে আপনার জীবনধারা বদলে দিতে পারে।  মিনিমালিস্ট জীবন অবশ...