সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

দুনিয়ার সবচেয়ে ভয়ানক হ্যাকিং গ্রুপের পরিচিতি।

    দুহাজার চোদ্দ দুহাজার ষোলো সালের দুই বছরের দুটি hacking এর ঘটনা সারা বিশ্বকে নাড়িয়ে দিয়েছিল. এর একটি ছিল হলিউডের সনি পিকচারে এবং অন্যটি খোদ বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকে আপাত দৃষ্টিতে এই ঘটনা দুটিকে বিচ্ছিন্ন দুটি ঘটনা বলে মনে হলেও এই দুটি ঘটনায় কিন্তু একটা জায়গায় মিল ছিল । ঘটনা দুটোর পেছনের হোতা একই । লাজরাস নামের উত্তর কোরিয়ার একটি সাইবার ক্রাইম স্ল্যাশ হ্যাকিং গ্রুপ. আগে দেখে আসি চলুন বাংলাদেশ ব্যাংকে সেদিন কি ঘটেছিল.


 দু হাজার ষোলো সালের পাঁচ ফেব্রুয়ারি, বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল একটা দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক লুট করতে কনকনে ঠান্ডা সেই শীতের সকালকেই বেছে নিয়েছিল সাইবার অপরাধের একটি চক্র. দিনটি ছিল সাপ্তাহিক ছুটির দিন. বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের রিজার্ভ থেকে গায়েব হয়ে যায় আট কোটি দশ লাখ ডলার. কি ভাবছেন? দা ডার্ক নাইট সিনেমার মতো টাকা চুরির জন্য বন্দুক নিয়ে ব্যাঙ্কে প্রবেশ করেছিল তারা? বা হিট সিনেমার মতো রবারডি নিরস সাঙ্গোপাঙ্গ নিয়ে ব্যাংকে ঢুকে যাওয়া ব্যাপারটা মোটেও একদম এরকম ছিল না।



 সর্বকালের অন্যতম এই সাইবার চুরি কিভাবে হয়েছিল তা জানলে আপনার মাথা ঘুরে যাবে। এই ঘটনার মূল হোতা বলা যায় একটি ত্রুটিযুক্ত প্রিন্টার। প্রিন্টারটি বাংলাদেশ ব্যাঙ্কের প্রধান কার্যালয়ে অত্যন্ত সুরক্ষিত ঘরের অভ্যন্তরে বসানো ছিল খুব কম মানুষ এই অ্যাক্সেস ছিল এই ফিল্টারে ।

 কারণ গুরুত্বপূর্ণ সকল কম্পিউটারের সাথে এটি সংযোগ ছিল. ঘটনার দিন সকাল আটটা পঁয়তাল্লিশ মিনিট থেকে প্রিন্টারটি স্বভাবশূল ভাবেই ঝামেলা করছিল. স্বভাব সুলভ বলছি এই কারণে প্রিন্টারটি মাঝে মাঝেই এমন ঝামেলা করতো. ডিউটি ম্যানেজার হুদা সাহেব সহ সকলে ব্যাপারটাকে তেমন একটা পাত্তাও দেননি. কিন্তু পাত্তা দিয়া দরকার ছিল. আস্তে আস্তে শুক্রবারের আজান হয় হুদা সাহেব ও তার অর্ধস্তন কর্মচারীরা প্রিন্টার নিয়ে আগামীকাল মাথা ঘামাবেন বলে চিন্তা করেন.


 বাংলাদেশ ব্যাঙ্কের কর্তা ব্যক্তিদের আগ্রহ না থাকলেও হ্যাকাররা কিন্তু মোটেও বসে ছিল না. আসলে এই প্রিন্টারের মাধ্যমে হ্যাকাররা বাংলাদেশ ব্যাংকের কম্পিউটার নেটওয়ার্কিং ব্যবস্থায় ঢুকে পড়েছিল. যার ফলে সংঘটিত হয়েছিল এযাবৎকালের সবচেয়ে সাহসী সাইবার হামলা। যদিও লাজেরাস গ্রুপ তাদের টার্গেট অনুযায়ী টাকা সরাতে পারেনি তাদের লক্ষ্য ছিল অন্তত এক বিলিয়ন ডলার বা একশো কোটি ডলার চুরি করা অনেক আগে থেকেই এই রিজার্ভ চুরির প্লট তৈরি করেছিল উত্তর কুরিয়ার হ্যাকার গ্রুপ লাজারাস।


 এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাঙ্কের নেটওয়ার্কে ঢুকতে দু হাজার পনেরো সালের দিকেই ভুয়া email পাঠিয়েছিল তারা. যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা FBI এর তদন্তে বলা হয়েছে. বাংলাদেশ ব্যাংকের কয়েকজন কর্মকর্তার কাছে রাসেল আহলাম নামের একটি অ্যাকাউন্ট থেকে চাকরি চেয়ে মেইল আসে. তার বিনীত আহ্বানের সেই মেইলে সিবি এবং কভার লেটার ডাউনলোডের অনুরোধ জানানো হয়. ব্যাংকের কর্মকর্তাদের মধ্যে অন্তত একজন এই ফাঁদে পা দেন. অনুরোধে সাড়া দিয়ে ডাউনলোড করে ফেলেন.


 ইমেইলের ভাইরাস ঢুকে পড়ে তার কম্পিউটারে. ব্যাংকের সিস্টেমে একবার ঢুকে লাজারাস গ্রুপ গোপনে একটি কম্পিউটার থেকে আরেকটি কম্পিউটারে ছড়িয়ে পড়ে. ডিজিটাল ফল্ট থেকে শুরু করে যাবতীয় রিজার্ভের তথ্য নিয়ে নির্বিঘ্নে কাজ শুরু করে তারা। আসলে রাসেল নামে কারো অস্তিত্বই ছিল না। লাজারাস গ্রুপের সদস্যরাই এই নামটি ব্যবহার করেছিল যাতে সহজেই ব্যাঙ্ক কর্মকর্তাদের বোকা বানানো যায়। শুধু বাংলাদেশ ব্যাংকেই যে তাঁরা বিপদে ফেলতে পেরেছিল তা কিন্তু নয়।


 দু হাজার চোদ্দ সাল। থাঙ্কস গিভিং ডের আগের দিন ঘটে ঘটনাটি। সনি পিকচারের কর্মীরা তাদের কম্পিউটারে লগইন করার চেষ্টা করছিল। ঠিক এমন সময় তাদের কম্পিউটার স্ক্রিনে একটা লাল কঙ্কালের ছবি সহ ভেসে ওঠে একটি লেখা your computer has hacked by jiop.  মানে লাজারাস গ্রুপ এখানে JOP বা guardian of peace নামে হামলা চালিয়ে ছিল. Hacker রা sony নেটওয়ার্ক থেকে এই সময় বিপুল পরিমান তথ্য চুরি করে তথ্যের মধ্যে ছিল sony পিকচারের এর কর্মচারী এবং তাদের পরিবারের ব্যক্তিগত তথ্য, কর্মচারীদের ইমেইল, কোম্পানির বেতন সংক্রান্ত তথ্য , অপ্রকাশিত সনি ফিল্মের কপি, সনি ফিল্মের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, ফিল্মের স্ক্রিপ্ট সহ আরো অনেক কিছু. প্রশ্ন জাগতে পারে ব্যাংক থেকে হলিউডের সনি পিকচারে কেন সাইবার হামলা করতে গেল লাজারাস গ্রুপ ? এই প্রশ্নের গভীরে লুকিয়ে আছে লাজারাস গ্রুপের আসল রূপ.



 উত্তর কোরিয়ার সর্বেসর্বা কিম জন উনকে নির্বোধ ভাবে চিত্রিত করা সিনেমা দ্যা ইন্টারভিউ বানানোর প্রতিশোধ হিসেবেই এই হামলা চালানো হয়েছিল. কত বড় দুঃসাহস, সনি পিকচারের. তারা কিম জন উনকে নিয়ে রসিকতা করে. লাজারাস গ্রুপ টি শুধুমাত্র একটি সাধারণ হ্যাকার গ্রূপই নয়. এর পেছনে আছে স্বয়ং উত্তর কোরিয়ার প্রচ্ছন্ন মদত. বাকি অংশে ব্যাপারটা আরো স্পষ্ট হবে.


       সাইবার ওয়ার্ল্ডের নিরাপত্তা সাম্প্রতিক বছরগুলিতে সবচেয়ে বিতর্কিত ক্ষেত্রগুলোর মধ্যে একটি হয়ে উঠেছে. ক্রমবর্ধমান প্রযুক্তি ও নিত্যনতুন ডিভাইস সঙ্গী হয়ে উঠেছে মানুষের।  সেগুলো নিরাপত্তা রক্ষা করার জন্য কোম্পানিগুলো উঠে পড়ে লেগেছে । কিন্তু পারছে কই শতভাগ নিরাপত্তার গ্যারান্টি এখনো কেউ দিতে পারেনি । না গুগল না অ্যাপেল মাইক্রোসফ্ট বা অন্য টেক কোম্পানি গুলো।ফলে সাইবার অ্যাটাক আরো বেশি ঘনঘন এবং আরো শক্তিশালী হয়ে উঠছে. আর এই ফিল্ডে তুফানের মতো এগিয়ে যাচ্ছে উত্তর কোরিয়া.    


 দুর্ভিক্ষ নিষেধাজ্ঞা এবং ব্যর্থ অর্থনৈতিক নীতির কারণে গত কয়েক দশক ধরে উত্তর কোরিয়ার মুদ্রার মান ধারাবাহিক ভাবে কমেছে।  বলা হয় এখন উত্তর কোরিয়ার অর্থনীতি বেঁচেই আছে এই লাজারাস গ্রুপের জন্য । সাম্প্রতিক বছরগুলোতে হওয়া সবচেয়ে সফল এবং ধ্বংসাত্মক কম্পিউটার আক্রমণগুলির মূল হোতা রহস্যময় লাজারাস গ্রুপ কখনো ডার্ক সিওল , গার্ডেন্স অফ পিস এবং হিডেন কোবরা নামেও পরিচিত। বাইবেলে লাজারাস নামে এক ব্যক্তির নাম উল্লেখ আছে যিনি মৃত ব্যক্তিদের মধ্য থেকে ফিরে এসেছিলেন. নিজেদের জন্য এমনই একটা নাম বেছে নিয়েছে হ্যাকাররা. নামে কি এসে যায়. কাজের ঝাঁঝই বুঝিয়েছে লাজারাস গ্রুপ আসল কি জিনিস.


 যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল সাইবার সিকিউরিটি সেন্টার, এনএসএ এবং এফবিআই এই গ্রুপটিকে তাদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বিপদজনক তালিকায় শীর্ষে রেখেছে. বুঝতে পারছেন লাজারাসের ধার ঠিক কতটা. লাজারাস গ্রুপ  যে সরাসরি উত্তর কোরিয়ার আর্থিক সহায়তা এবং অনুরোধে কাজ করে ব্যাপারটি এখনো মোটা দাগে প্রমাণিত হয়নি কিন্তু বিশেষজ্ঞরা এ ব্যাপারে খুব আত্মবিশ্বাসী যে গ্রুপটি উত্তর কোরিয়া সরকারের সমর্থনে এসব কাজ করছে। মার্কিন সরকার বরাবরই বলে আসছে যে তাদের কাছে শক্তিশালী প্রমাণ রয়েছে যে লাজারাস গ্রুপের পেছনে উত্তর কোরিয়ার ভূমিকা সুস্পষ্ট. তবে এফবিআই এখনো পর্যন্ত লাজারাস সম্পর্কে যে প্রমাণ প্রকাশ করেছে তা খুব দুর্বল. এতটাই দুর্বল যে সেসবের সমালোচনা করেছেন স্বয়ং আমেরিকার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা ।


 এর জবাবে মার্কিন ন্যাশনাল সিকিউরিটি এজেন্সি জানিয়েছে যে লাজারাস গ্রুপ সম্পর্কে যথেষ্ট প্রমান থাকা সত্ত্বেও তার নিরাপত্তার কারণেই প্রকাশ করা যায়নি। কারণ লাজেস গ্রুপের আক্রমণ কেবল আমেরিকার চলচিত্র শিল্পের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ নয় বরং আমেরিকার পররাষ্ট্র নীতি যুদ্ধ এমনকি ভবিষ্যতের জন্য সুদূর প্রসারী পরিণতি বয়ে আনতে পারে । কথাগুলো শুনে চোখের সর্ষে ফুল ভাসছে হয়তো কিভাবে সম্ভব সমগ্র বিশ্ব থেকে একপ্রকার বিচ্ছিন্ন একটা দেশ। যেখানে  ব্যক্তিগত কম্পিউটার ব্যবহার করাও একপ্রকার নিষিদ্ধ এবং ইন্টারনেটও আনুষ্ঠানিকভাবে বিদ্যমান নেই । এমন একটা দেশকে হ্যাকিং এ এত ভালো হতে পারে ? উত্তর হলো হ্যাঁ উত্তর কোরিয়া সত্যিই হ্যাকিং এ ভয়াবহ রকমের এক্সপার্ট ।


 কখনো কখনো বলা হয় এই বিষয়ে তারা রাশিয়া থেকেও এগিয়ে. বিশ্বের বাকি অংশ থেকে বিচ্ছিন্ন রাজনৈতিকভাবে সংকীর্ণ এবং নানামুখী নিষেধাজ্ঞার সম্মুখীন উত্তর কোরিয়ার অর্থনীতি দীর্ঘদিন ধরেই মারাত্মক স্পেসে রয়েছে.


 এমন অবস্থায় সাইবার ক্রাইমকেই তাঁরা তাদের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার অন্যতম উপায় হিসেবে ব্যবহার করছে. এছাড়াও উত্তর কোরিয়া সরকারের জাতীয় উচ্চাকাঙ্ক্ষা যেমন ক্ষেপণাস্ত্র এবং পারমাণবিক অস্ত্রের বিকাশের জন্য প্রয়োজন প্রচুর অর্থে. সেই বিপুল অর্থের জোগানো আসছে কিন্তু এই খাত থেকে.


 বিশ্ব যতই ইন্টারনেটের জালে আবদ্ধ হচ্ছে তাদের জন্য সাইবার ক্রাইমের দরজা প্রতিদিন ততই উন্মুক্ত হচ্ছে ।



যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই জানিয়েছে বহু বছর ধরে পরিকল্পিতভাবে এগিয়েছে উত্তর কোলিয়ার হ্যাকাররা। দলবদ্ধভাবে প্রস্তুতি নিয়ে সারা বিশ্বে নেটওয়ার্ক সিস্টেম ভেঙে অর্থ আত্মসাতের পরিকল্পনা আছে তাদের. লাজারাস গ্রুপের প্রথম আক্রমণ অপারেশন ফ্লিম নামে পরিচিত ছিল. এটি দু হাজার সাত সালে পরিচালিত হয়. এই হামলায় দক্ষিণ কোরিয়া সরকারের বিরুদ্ধে প্রথম প্রজন্মের ম্যালওয়্যার ব্যবহার করা হয়েছিল. এরপরে অপারেশন ক্রয় নামে একটি হামলা পরিচালিত হয় যা দু হাজার নয় এবং দু হাজার বারো সালের মধ্যেই হয়েছিল. তবে দু হাজার চোদ্দ সালে সনি পিকচারসের ওপর আক্রমণটি এই গ্রুপটিকে আন্তর্জাতিক আলোচনার কেন্দ্র বিন্দুতে নিয়ে আসে.


 এরপর থেকে লাজারাস গ্রুপের কাজের পরিষেবা আরো বাড়তে থাকে. দু হাজার পনেরো সালে লাজহারের স্ক্রুপ ইকুয়েডর এবং ভিয়েতনাম সহ বিশ্বব্যাপী ব্যাংকগুলোতে আক্রমণ করতে শুরু করে. এছাড়াও গ্রুপটি পোল্যান্ড, চিলি এবং মেক্সিকোর ব্যাংকগুলোতেও আক্রমণ করার চেষ্টা করে. দুহাজার-ষোলো সালে লাজারাস গ্রুপের ব্যাংক কেন্দ্রিক আক্রমণ আরো দক্ষ হয়ে ওঠে যার ফলাফল বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের রিজার্ভ চুরিতে সফলতা । এখন লাজরাস গ্রুপের একটাই লক্ষ্য ক্ষিপ্ত কারেন্সি আক্রমণ ।  

 দু হাজার সতেরো সালের মে মাসে ওয়ান এ ক্রাই নামের একটি ভাইরাসের মাধ্যমে কয়েক লক্ষ কম্পিউটার রীতিমতো হাইজ্যাক করেছিল গ্রুপটি. ওয়ান এ ক্রাই  হলো ক্রিপ্টন ওয়ারের একটা দারুণ উদাহরণ ওয়ান ক্রাই ভাইরাসটি কম্পিউটারে ঢুকে কম্পিউটারের গুরুত্বপূর্ণ ফাইল গুলিকে ইনক্রিপ করে দেয় যার ফলে সেই ফাইলগুলো আর ব্যবহার করা যায় না. ওয়ান এ ক্রাই   ডেটা জিম্মি করে রাখে. যদি আপনি তাদেরকে মুক্তিপণ প্রদান করেন তবেই তাঁরা ফাইলগুলো ফেরত দেবে. বিটকয়েন বা ডিজিটাল মুদ্রা দিয়ে অর্থ প্রদান করতে হয় নতুবা ফাইলগুলো চিরতরে হারিয়ে যাবে আক্রমণের কয়েক মাসের মধ্যেই । আনুমানিক দেড়শোটি দেশের দুই লক্ষেরও বেশি কম্পিউটার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। যার আনুমানিক ক্ষতির পরিমান ছিল চার বিলিয়ন ডলারেরও বেশি. যদিও রহস্যময় লাজারাস গ্রুপটির আভ্যন্তরীণ তথ্য খুব বেশি জানা যায়নি. তবে এফবিআই এক সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে খুঁজে বের করেছিল যার নাম ছিল পার্জিন ইয়ক. পার্জিন ইয়ক নিজেকে একজন কম্পিউটার প্রোগ্রামার হিসেবে পরিচয় দেন. চীনা বন্দর শহর দালিয়ানে উত্তর ফুলিয়ার একটি সংস্থা শোষণ এক্সপোতে কাজ করতেন তিনি. এই সংস্থাটি সারা বিশ্বে তাদের ক্লাইন্টের জন্য অনলাইন গেমিং ও জুয়ার প্রোগ্রাম তৈরি করে. ডালিয়ানে থাকার সময় একটি ইমেইল এড্রেস তৈরি করে জীবন বৃত্তান্ত তৈরি করেছিলেন তিনি. তবে পার্ক কিন্তু রাতারাতি একজন হ্যাকার হয়ে ওঠেননি. তিনি উত্তর কোরিয়ায় হাজার হাজার তরুণদের মধ্যে একজন. যাকে শৈশব থেকেই সাইবার যোদ্ধা বানানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল. প্রতিভা ধর গণিত বিদরা বারো বছর বয়সে স্কুল থেকে তাকে নিয়ে আসেন শিওলে সেখানে তাকে সকাল থেকে রাত অব্দি নিবিড় প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় যেভাবে এখনো প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় উত্তর কোরিয়ার ভবিষ্যৎ সাইবার যোদ্ধাদের ।    

 

 

মন্তব্যসমূহ

Blog Posts

পেগাসাস স্পাইওয়ার কি ?

গত কিছুদিন ধরেই বিশ্ব রাজনীতি এবং প্রযুক্তি জগৎ এই দুই জায়গাতেই আলোচনার বিষয়বস্তু একটাই। সেটা হচ্ছে পেগাসাস স্পাইওয়ার. বিশ্বজুড়ে নানান দেশের মানবাধিকার কর্মী সাংবাদিক আইনজীবী ও রাজনীতিকদের ফোনের নজরদারি চালানোর ঘটনা ফাঁস হওয়ার পর ইজরায়েলের বেসরকারি কোম্পানি nso গ্রুপের তৈরি করা এই সফটওয়্যার নিয়ে এখন তুমুল তরজা চলছে দুনিয়া জুড়ে । চলুন কথা বলি দুনিয়া ওলট পালট করে দেওয়া স্পাইওয়ার সম্পর্কে । পেগাসাস মূলত একটি নজরদারি বিষয়ক সফটওয়্যার । ইজরাইলের সংস্থা এনএসও ই সফটওয়্যার তৈরি করেছে। যা দিয়ে যে কারো মোবাইলে আড়ি পাতা যায়. এটা কিন্তু সাধারণ কোন নজরদারি নয়. আগে ফোনে আড়ি পেতে শুধু দুই প্রান্তের কথাবার্তা শোনা যেত. আর সফটওয়্যারের মাধ্যমে গোটা ফোনটারই নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় হ্যাকাররা. ফোনের কথাবার্তা WhatsApp এর চ্যাট, ছবি, ফোনে কি কি তথ্য আছে সবই জানা যায়. আরো ভয়ানক ব্যবহার হচ্ছে মোবাইল যিনি ব্যবহার করছেন তিনি জানতেই পারেন না যে তার ফোন হ্যাক করা হয়েছে. সমস্ত তথ্য পাচার হয়ে যাচ্ছে নির্দিষ্ট একটি গোষ্ঠীর কাছে. কিন্তু কারো ফোনে পেগাসাস software install করতে হলে তো সেই ফোনটাকে...

প্রযুক্তি দুনিয়াতে পর্দার আড়ালে থেকে যাওয়া এক প্রতিভাবান এর গল্প ।

পর্দার আড়ালে একা খেলে যাচ্ছেন একজন. কামাচ্ছেন বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার. অথচ তাকে চেনে খুব কম সংখ্যক মানুষ. আইটি জগতে ইলন মাস্ক, জেফ বোজোস বা বিট গ্রেটসের সাথে তার নামও সমান তালে চলার কথা ছিল. কিন্তু বিহাইন্ড দা সিনে একা গোল করে যাচ্ছেন তিনি. নাম ড্রোন ইয়াং পিং ড্রোন ইয়াং পিং নামটি মোবাইল ফোনের জগতে খুবই কম মানুষের শোনা. তবে তার নাম অজানা থাকলেও তার কোম্পানি বিবিকে ফোন গিগদের মধ্যে বেশ পরিচিত. ওয়ান প্লাস, রিয়েলমি, অপো, ভিভো এবং আইকিউ. এই পাঁচটি জনপ্রিয় মোবাইল ব্র্যান্ডের একক মালিক ডোন ইয়াং পিন.  এই ব্র্যান্ড গুলো তার কোম্পানিতে পরিণত করেছে বর্তমানের সবচেয়ে বড় মোবাইল ফোন উৎপাদনকারী কোম্পানিতে. অ্যাপেল , শাওমি বা স্যামসাং যারা মোবাইল ফোনের জগতে বর্তমানে সবচেয়ে বড় ব্র্যান্ড তাদেরকেও পেছনে ফেলে এগিয়ে গিয়েছে বিবিকে কোম্পানি। কিন্তু এত সফলতার সত্ত্বেও বেশিরভাগ মোবাইল ফোন ব্যবহারকারী এমনকি ফোন গিগরাও তার সম্পর্কে বলতে গেলে তেমন কিছুই জানে না. এলেন মাস্ক, স্টিভ জবস বা জ্যাকমা, যারা কিনা টেকনোলজির জগতে খুবই পরিচিত তাদের সম্পর্কে অনলাইনে  অগণিত তথ্য রয়েছে। কিন্তু ডন ইয়ং পিং এর...

ডিপ্রেশন কি ? এটা কত প্রকার ? বাইপোলার ডিসঅর্ডার কি ?

আজকাল খুব কমন একটা শব্দ ডিপ্রেশন. যার বাংলা অবসাদ । ডিপ্রেশনের সাথে সাথে পরিচিত হয়ে উঠছি আমরা মুড সুইং শব্দটার সাথেও । এই জেনারেশনের কারো সোশ্যাল মিডিয়ায় ডিপ্রেশনে না ভোগাটাই যেন বিরাট অপমানজনক। সবাই কেন যেন অস্থির হয়ে আছে বোঝাতে যে সে ডিপ্রেশনে ভুগছে । কখনো গানের লিরিক্স আবার কখনো বিখ্যাত লেখকের কোটেশন সবকিছুতেই ডিপ্রেশন । সাইকিয়াট্রিতে এই ডিপ্রেশন হল এক ধরনের মুড ডিসঅর্ডার । যেটা একমুখী অবসর বা ইউনিফুলার ডিপ্রেশন । কিন্তু সম্প্রতি আর এক ধরণের অবসাদ বিজ্ঞানীদের মাথা খারাপ করে দিচ্ছে। যেটাকে বলা হচ্ছে বাই পোলার ডিপ্রেশন । বাই পোলার অর্থাৎ দ্বিমুখী । একে ম্যানিক ডিপ্রেশনে বলা হয়। এখনো পর্যন্ত মনোবিজ্ঞানীরা বাই পোলার ডিসঅর্ডারের কারণ সম্পর্কে সঠিকভাবে জানতে পারেন নি। এর ওপর প্রচুর গবেষণা চলছে। জানলে অবাক হবেন যে শুধুমাত্র আমেরিকাতেই সাত মিলিয়নেরও বেশি মানুষ বাইপোলার ডিসঅর্ডারে ভুগছে । কিন্তু আসলে কি ঘটে? বাইপোলার ডিসঅর্ডারে? চলুন কথা বলি বাই পোলার ডিসঅর্ডার নিয়ে আজ কথা বলা যাক।   বাইপোলার ডিসঅর্ডার কাকে বলে? খুব সংক্ষেপে বলা যায় বাইপোলার ডিসঅর্ডার একটি মানসিক অবস্থা। যে...

কিভাবে লিমিটলেস হওয়া যায় ? লিমিটলেস আসলে কিভাবে কাজ করে ?

এনজিটিপিল,  এটা এমন এক পিল যা আপনাকে করবে আল্ট্রা ফোকাসড. দেবে দুর্দান্ত মোটিভেশন. বের করে আনবে আপনার সর্বোচ্চ সম্ভাবনা. আপনি হয়ে উঠবেন আনস্টপল. বাস্তবতা পাবে প্রতিটি স্বপ্ন. কিন্তু সমস্যা হচ্ছে এমন কোন পিলের অস্তিত্ব নেই. ফলাফল আপনি আটকে আছেন একটি খাদে. সারাক্ষণ ক্লান্তি নিয়ে হয়ে উঠছেন আনপ্রোডাক্টিভ. নষ্ট হচ্ছে ক্রিয়েটিভিটি. সময় গড়িয়ে যায়. ঋতুর পরিবর্তন ঘটে. কিন্তু আপনি ডুবে থাকেন এক হতাশায় যাতে আপনি দিন দিন পিছিয়ে পরছেন. আপনি যা যা এতদিন অর্জন করবেন ভেবেছিলেন তা কিছুই আপনি অর্জন করতে পারেননি । নিজেকে সান্তনা দিচ্ছেন আগামীকাল হবে ভিন্ন। কিন্তু তা কখনোই হয়ে ওঠে না এখন যদি আপনাকে বলি কোনো জাদুকরী পিলের সাহায্যে নয় বাস্তবিক লিমিটলেস হয়ে ওঠা সম্ভব।  একদম প্রমাণিত পদ্ধতিতে যা একেবারে ফ্রিতে ব্যবহার করা সম্ভব.  তো আছেন তো শেষ পর্যন্ত ?  Limit less হওয়ার যাত্রায় ।  স্টেপ ওয়ান : এনার্জি--  মাত্র কয়েক মাস আগে আমি নিজেও আপনার মতো কর্মশক্তিহীন অনুভব করতাম. সামান্য কাজেই আসতো অবসন্নতা, গেয়ে ধরতো ক্লান্তি একদিন হঠাৎ টের পেলাম আমি নিজেই নিজের energy নি...

ম্যান্ডেলা ইফেক্ট কেনো হয়?

   আচ্ছা নিজের স্মৃতি শক্তির উপর কতটা বিশ্বাস আছে আপনার? আচ্ছা বাদ দিয়ে আপনার কথা. গণমানুষের স্মৃতিশক্তির উপর নিশ্চয়ই বিশ্বাস আছে অনেকটা. না না. ধর্মীয় কোন বিশ্বাস না. এই গ্রহে ঘটে যাওয়া এমন সব ঘটনা. যা সবাই জানে. তা কি রকম মিথ্যা? এক দশক আগেও পৃথিবীর প্রায় এক তৃতীয়াংশ মানুষ জানতো যে অস্ট্রেলিয়ার রাজধানীর নাম সিডনি. আসলে কি তাই? গত এক দশকে এই ধারণা মোটামুটি পরিবর্তন হয়ে মানুষ জেনেছে অস্ট্রেলিয়ার রাজধানীর নাম ক্যানভেরা. এখনো এই ভুল হরমামেশাই করে যাচ্ছে মানুষ. বিশ্বাস না হলে আশেপাশের কিছু মানুষকে জিজ্ঞেস করে দেখতে পারে. প্রশ্ন করতে পারেন ম্যান্ডেলার নাম কেন? এই ফ্ললস মেমোরি সিন্ড্রোমকে ম্যান্ডেল এফেক্ট নামকরণ করেছেন প্যারানরমাল কনসালটেন্ট ফীয়না ব্রুম তার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে । দু হাজার দশ সালের এক আলোচনা সভায় উঠে আসে দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদ বিরোধী আন্দোলনের নেতা উনিশশো আশি সালে কারা জানে মারা যাওয়ার প্রসঙ্গ । অনেকেই সেদিন বলেছিল, টিভিতে এই নেতার শেষকৃত্যের আনুষ্ঠানিকতা দেখার অভিজ্ঞতার কথা. ম্যান্ডেলার স্ত্রীর হৃদয় নিন্দারও ভাষণের কথা উল্লেখ করেছিলেন কেউ কেউ. এমনক...

সারোগেসি কি ?

সারোগেসির মাধ্যমে সন্তান ধারণ করা নিয়ে এখনো বহু বিতর্ক আছে. শুধু আমাদের দেশে নয়, সারা বিশ্বেই এই পদ্ধতি নিয়ে তর্ক বিতর্কের শেষ নেই.  এটার আইনি প্রক্রিয়াও জটিল। কারণ এটি একেক রাষ্ট্রে. শারোগেসি আইন একেক রকম. নারী মা হবেন প্রাকৃতিক নিয়ম সমাজ এমনটাই দেখতে অভ্যস্ত. কিন্তু কোন কারণে মা হবার ক্ষমতা না থাকলে তাকে পরিবার ও আশপাশ থেকে যে পরিমাণ কটু কথা শুনতে হয় তা সাধারণ মানুষের ধারণারও বাইরে.   সরোগেসি বিষয়টি কি? চিকিৎসা শাস্ত্রের অগ্রগতি এমন মায়েদের সামনে এনেছে যারা গর্ভ ভাড়া দিয়ে নিজে বাঁচেন অন্যদের মাতৃ সুখ দেন । একজন নারীর গর্ভে অন্য দম্পতির সন্তান ধারণের পদ্ধতিকে সারোগেসি বলা হয়.সারোগেসির এই  পদ্ধতি বেশ দীর্ঘকালীন. আইভিএফ পদ্ধতিতে স্ত্রী ও পুরুষের ডিম্বাণু শুক্রাণু দেহের বাইরে নিষিক্ত করে তা নারীর গর্ভাশয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়. কিন্তু এখানেও জটিলতা. কেন? সে বিষয়ে পরে আসছি. বাংলাদেশ সহ বহু দেশই এই সারোগেসি একরকম ভাবে নিষিদ্ধ. সুতরাং বিষয় টি  সংবেদনশীল. এমনকি বেশিরভাগ ধর্মেও রয়েছে নিষেধাজ্ঞা. চলুন কথা বলি সারোগেসি মাদার সম্পর্কে। আইভিএফ বা টেস্ট টি...

রেট রেস কি ?

      আপনি ঠিক কখন ইঁদুর দৌড়ে যোগ দিয়েছেন এটা হিসাব করা কঠিন. কিন্তু নিশ্চিত থাকুন আপনি এই দৌড়ে আছেন. ক্লাস eight এ পড়ার সময়ের কথা মনে আছে? সামনে বৃত্তি পরীক্ষা পাটিগণিত বীজগণিতের অংক প্যাঁচ লাগাচ্ছে বিজ্ঞানের জটিল সব সূত্র ভোরে ওঠে প্রাইভেট টিউটরের বাসায় ছোটা রাত জেগে পড়াশোনা. বয়সের তুলনায় অনেক বেশি কর্ম ব্যস্ত একটা সময় নিশ্চয়ই কাটিয়েছেন তখন? আমরা সবাই কাটিয়েছি. সেই সময় নিশ্চয়ই অভিভাবক বলেছে এই তো আর কটা দিন. বৃত্তি পরীক্ষা শেষ হলেই জীবন শান্তি আর শান্তি. জীবনের নানা এপিসোডে আপনি এই কথাগুলো শুনেছেন অনেকবার অনেকের মুখে. এসএসসি পরীক্ষাটা দাও, কলেজে উঠলেই তো স্বাধীনতা. একবার ভার্সেটিতে উঠতে পারলেই জীবন হবে আনন্দে ভরপুর. একবার জব লাইফে ঢোকো. নিজের টাকায় আয়েশ করার মজাই অন্যরকম. শুনেছেন না এসব?  বয়স ঘড়ির ত্রিশের প্রান্তে দাঁড়িয়ে হিসেবগুলো মেলাতে পারেন কি? কি মনে হয়? এই এপিসোডগুলোর কোনোটা পার হবার সময় জীবন খানিকটা হলেও সহজ হয়েছে? সুন্দর হয়েছে? হয়নি, হবেও না, মিথ্যা একটা মরীচিকার আশায় আমরা ছুটেছি ঠিকই আমাদের ছোটানো হয়েছে, কিন্তু হিসাব মেলেনি ছুটত...

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কি ? আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কতটা ভযঙ্কর হতে পারে আগামী দিনের জন্য ?

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বহুল চর্চিত এবং ব্যবহৃত একটি শব্দ. মানুষের বুদ্ধিমত্তা ও চিন্তা শক্তিকে কম্পিউটার প্রোগ্রামিং এর মাধ্যমে মেশিন ল্যাঙ্গুয়েজে স্থাপন করা টেকনোলজিটাই হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স । এর মাধ্যমে কোন যন্ত্র নির্দিষ্ট প্রোগ্রামের আওতাধীন কিছু কাজ নিজে থেকেই করতে পারে নিজে নিজে সিদ্ধান্ত নিতে পারে।  টার্মিনেচার টাইপের কোনো সাইফাই সিনেমার গুরু বন্ধুর সংলাপ নয়।  A.I নিয়ে ভবিষ্যৎবাণী করেছিলেন পৃথিবীর সেরা বিজ্ঞানীদের একজন স্টিফেন হকিং আমার ভয় হয় তারা সত্যিই হয়তো একদিন মানুষকে হটিয়ে নিয়ন্ত্রকের আসনে বসে যাবে। বেঁচে থাকতেই BBC কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স তথা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে এভাবেই সবাইকে সতর্ক করেছিলেন তিনি। হকিংসের এই ভয় এখনো ভবিষ্যতের বিষয় হলেও অমূলক নয় মোটেও যন্ত্রকে বুদ্ধিমান করে তার আশীর্বাদ অনেক আছে। কিন্তু দীর্ঘ মেয়াদে সেই যন্ত্রই পৃথিবীর দখল নিতে চলেছে কিনা স্বয়ং সম্পূর্ণ হয়ে মানুষকেই বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে একদিন অপদার্থ তে পরিণত করবে কিনা সেই প্রশ্নটা উঠছে বারবার।  যুক্তরাষ্ট্রে...

রাশিয়ান হ্যাকাররা এত ভয়ঙ্কর কেন ?

  হ্যাকিং !  খুব ছোট্ট একটা শব্দ কিন্তু এই তাৎপর্য এবং গুরুত্ব দুটোই অপরিসীম. একজন মানুষের জীবন ধ্বংস করার ক্ষমতা তো হ্যাকারদের আছেই. গোটা একটা জাতির অপরিসীম ক্ষতি সাধনা করা সম্ভব. শুধুমাত্র এই হ্যাকিংএর মাধ্যমে. বাংলাদেশ ব্যাংকের টাকা চুরির ঘটনাটা কি উদাহরণ ধরতে পারেন. স্প্যাম মেল পাঠিয়ে সার্ভারের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সরকারি ছুটির সময়টাকে কাজে লাগানোর মাধ্যমে হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশের কিছু ব্যাংক একাউন্টে ট্রান্সফার করে নিয়েছিল এই হ্যাকাররা. এর মধ্যে কিছু টাকা ফিরিয়ে আনা গেছে সত্যি কিন্তু বেশিরভাগেরই কোন হদিস পাওয়া যায় নি.  সাউথ ইন্ডিয়ান সিনেমায় হ্যাকিং এর দৃশ্য দেখে আপনি যদি ভেবে থাকেন যে ভার্সিটি থেকে ড্রপ আউট হওয়া ক্র্যাক হেডেট কিছুর দরুন দিনরাত কম্পিউটারের সামনে বসে এসব করে ফেলছে তাহলে আপনি বোকার স্বর্গে বাস করছেন । হ্যাঁ এরকম হ্যাকার যে নেই তা নয় । ইন্ডিপেন্ডেন্ট হ্যাকার সংখ্যাও পৃথিবীতে কম নয় । কিন্তু দুনিয়া জুড়ে হ্যাকিংকে যারা শিল্পে পরিণত করেছে যারা হ্যাকার হিসেবে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে হয়ে উঠেছে মূর্তিমান আতঙ্কের নাম ...

কেনো বাংলাদেশীরা ইন্ডিয়াকে ঘৃনা করে?

একাত্তর সালের ডিসেম্বর মাস মুক্তিযুদ্ধ চলছে। ভারত তখনও সরাসরি অংশগ্রহণ করেনি মুক্তিযুদ্ধে। বাংলাদেশের পক্ষে কূটনৈতিক তৎপরতা চালাচ্ছে তাঁরা। প্রায় এক কোটি শরণার্থী আশ্রয় নিয়েছে ভারতে। মুজিবনগর সরকারের অস্থায়ী সদর দপ্তর স্থাপিত হয়েছে কোলকাতায়। মুক্তি যোদ্ধারা ভারতের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে ক্যাম্প করে সেখান থেকে আক্রমণ হানছে পাকিস্তানি সেনাদের উপর.  তেসরা ডিসেম্বর বিকেলে ভারতের তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল শ্যাম টেলিফোন করলেন ভারতের ইস্টার্ন আর্মির চিফ অফ স্টাফ, লেফটেন্যান্ট জেনারেল জ্যাক জ্যাকবের এর কাছে. মানিক সো জ্যাকব কে বললেন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীকে বলুন, পাকিস্তানি বিমান থেকে ভারতের পশ্চিমাঞ্চলের এয়ার ফিল্ড গুলোতে বোমা বর্ষণ করা হয়েছে. ইন্দিরা গান্ধী তড়িৎ সিদ্ধান্ত নিলেন. পাকিস্তানের বিপক্ষে যুদ্ধ ঘোষণা করল ভারত। ছয় ডিসেম্বর প্রথম রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশকে স্বাধীন দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দিল ইন্দিরা গান্ধীর সরকার। বাংলাদেশের বয়স পঞ্চাশ বছর পূর্ণ হয়েছে. ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের বয়সও হয়ে গেছে পঞ্চাশ বছর. কিন্তু গত পঞ্চাশ বছরে এদেশের অনেক মানুষের মধ্যে ভারত বির...