সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

বাংলাদেশের শিক্ষা মূল্যায়ন পদ্ধতি কত টা সঠিক ? দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় কি ধরনের পরিবর্তন আসছে?

  জীবনে এ প্লাস পাওয়াই কি সব? এবার এসএসসি পরীক্ষায় যারা এ প্লাস পাননি তাদের জীবন কি শেষ হয়ে গেলো?



 পরীক্ষাহীন একটা শিক্ষা ব্যবস্থার কথা ভাবুন তো ?  এখন পাশের বাড়ির বন্ধু SSC তে golden A plus পেয়েছে বলে খোটা শুনতে হয়(গোল্ডেন a+ বলে কিছু নেই) ।  অপেক্ষাকৃত কম গ্রেড পাওয়া ছাত্রটিকে. কিন্তু একটা সময় এমন কোন ব্যাপারই ছিল না. আসলে তখন কোন আনুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যবস্থাই ছিল না. ভারতীয় উপমহাদেশের কথাই ধরা যাক না কেন এই অঞ্চলের শিক্ষা ব্যবস্থা ছিল অনেকটা গুরু বা শিক্ষক নির্ভর. প্রাথমিক অবস্থায় শিক্ষা ছিল মূলত পেশার সাথে সম্পর্কিত. কিন্তু আধুনিক সময়ে এসে শিক্ষার মূল্যায়ন পদ্ধতিতে এসেছে আমূল পরিবর্তন. শিক্ষার গতি, প্রকৃতি এবং উদ্দেশ্য নির্ণয়ের ক্ষেত্রে খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয়. আর আজকের আলোচনা শিক্ষাক্ষেত্রে মূল্যায়নের গুরুত্ব নিয়ে. বিশেষ করে আমরা বোঝার চেষ্টা করবো বাংলাদেশের ভ্যালুয়েশন সিস্টেম কতটা কার্যকর.



 আমাদের দেশের ক্ষেত্রে evaluation এর কথা মাথায় আসলেই পরীক্ষার ফলাফলের কথা চলে আসে. অথচ মূল্যায়ন এবং পরীক্ষার মধ্যে আছে বেশ কিছু পার্থক্য. মূল্যায়নের ক্ষেত্রে একটা সংকীর্ণ অর্থে পরীক্ষাকে ব্যবহার করা হয়. অন্যদিকে শিখন ফল ভিত্তিক জ্ঞান অর্জনের বিষয়বস্তু শিক্ষার্থীরা ঠিক কতটুকু অর্জন করতে পেরেছে তা নির্ধারণের প্রক্রিয়াই হচ্ছে মূল্যায়ন. আভিধানিক অর্থে শিক্ষাগত মূল্যায়ণ হলো শিক্ষাক্ষেত্রে শিক্ষার্থীর অতীত আচরণের প্রেক্ষাপটে বর্তমানে সম্পাদিত  আচরণের সাপেক্ষে ভবিষ্যৎ সম্পর্কে মূল্য আরোপ করা. অর্থাৎ বোঝাই যাচ্ছে মূল্যায়ণ কেবলমাত্র একটি পরীক্ষার ফলাফলের উপর নির্ভর করেন না. মূল্যায়ন আরো বিস্তৃত একটা ধারণা. ঐতিহাসিক তথ্য অনুসারে পরীক্ষা একটা ধারণা হিসেবে প্রাচীন চীনের প্রথম উদ্ভাবিত হয়েছিল। উদ্দেশ্য ছিল রাজ্য পরিচালনার জন্য যোগ্যতার ভিত্তিতে লোক নির্বাচন করা। পৈতৃক সূত্রে বা জন্ম সূত্রে কেউ যেন আর বিবেচিত হতে না পারে। ব্রিটিশদের হাত ধরে সেই পরীক্ষাই এখন হয়ে উঠেছে শিক্ষায় মূল্যায়নের গুরুত্বপূর্ণ আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া।



 বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যাবস্থায় বিভিন্ন স্তরে নানা ধরনের পরীক্ষা হয়. এর মধ্যে কয়েকটি পাবলিক পরীক্ষাও আছে. সেগুলোর ফলাফল একাডেমিক্যালি গুরুত্বপূর্ণ তো বটেই. সামাজিকভাবেও খুব তাৎপর্যপূর্ণ. বাবা মা এমনকি শিক্ষকেরাও তাকিয়ে থাকেন দিন শেষে ওই পরীক্ষার ফলাফলের উপর. এখন প্রশ্ন হচ্ছে পরীক্ষা মূল্যায়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক হলেও আসলেই কি কোন একটি পরীক্ষার ফলাফল সঠিকভাবে শিক্ষার্থীর সামগ্রিক শিক্ষা জীবনকে মূল্যায়ন করতে পারে? শিক্ষার্থী হিসেবে আপনি সারা বছর ধরে যা শিখলেন শিক্ষক হিসেবে যা শেখালেন, পরিবার হিসেবে আপনার সন্তানের সুশিক্ষার জন্য শারীরিক, মানসিক, আর্থিক যে ত্যাগ, দিনের পর দিন আপনি করলেন. এক্সামিনেশন নামক মাত্র একটি মানদণ্ডে তাকে মূল্যায়িত হতে পারে?




 দুঃখজনক হলেও সত্য আমাদের দেশের ক্ষেত্রে জিপিএ ফাইভ হয়ে গেছে শিক্ষার আল্টিমেট উদ্দেশ্য এবং লক্ষ্য ।আরো নির্দিষ্ট করে বললে জিপিএ ফাইভ প্রাপ্তের সংখ্যা কি আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় উন্নতির সূচক হিসেবে বিবেচনা করা হয়. শিক্ষাক্ষেত্রে এটি কি কোনো বার্তা বহন করে? 

আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা কি দিনে দিনে আরো সমৃদ্ধ হচ্ছে?


 ব্যাপারটা এমন পর্যায়ে পৌঁছে ছিল যে প্রাথমিক পর্যায়েও পাবলিক পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হচ্ছিলো. ছোট শিশুদেরকে মুখোমুখি করা হয়েছিল জিপিএ ফাইভ নামের এক মানদণ্ডে। অথচ আধুনিক বিশ্বের শিক্ষা ক্ষেত্রে অগ্রসর অনেক বেশি শিশুদের জন্য কোন পরীক্ষাই নেই। উন্নত বিশ্বে আর্লি চাইল্ডহুড ডেভেলপমেন্টের অংশ হিসেবে ফরমেটিভ অ্যাসেসমেন্টকে ব্যবহার করা হয়. কোন মার্কিং নেই, নেই কোন রাঙ্কিং. হাই স্কুলের ছাত্রদের জন্য. বছর শেষে একটি পরীক্ষা ছাড়া বেশিরভাগ উন্নত দেশে. কোন বাধ্যতামূলক পরীক্ষা নেই. সম্প্রতি শিক্ষা ক্ষেত্রে আর এক অগ্রগণ্য দেশ সিঙ্গাপুরেও প্রাথমিক স্তরে শিক্ষা ব্যবস্থাকে পরীক্ষা মুক্ত করা হয়েছে. দু হাজার উনিশ সাল থেকে প্রাথমিক স্তরের প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের জন্য মার্কিং ও গ্রেডিং এর বদলে আলোচনা, হোমওয়ার্ক ও কুইজ নিয়ে আসা হয়েছে. অর্থাৎ এই দুই বছর শিক্ষার্থীরা কোনরকম পরীক্ষার চাপ ছাড়াই হাসি আনন্দে শিক্ষা লাভ করতে পারবে ।  সামগ্রিকভাবেও প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের অন্যান্য শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের জন্য পরীক্ষাকে অপেক্ষাকৃত কম প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক করা হয়েছে. 




আবার ফিরে আসা যাক শিক্ষাক্ষেত্রে বাংলাদেশের মূল্যায়ন ব্যবস্থার দিকে.  বাংলাদেশের মূল্যায়ন ব্যবস্থা নিয়ে বরাবরই বিতর্ক রয়েছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই বিতর্কের মাত্রা কেবলই বৃদ্ধি পেয়েছে। এই বিতর্ক আরো তীব্রতর হয়েছে গত তিন দশকে। বিশেষ করে বহু নির্বাচনী প্রশ্ন এবং সৃজনশীল প্রশ্ন প্রবর্তনের  পর. এই দেশে সৃজনশীল প্রশ্ন প্রবর্তন করা হয়েছে কোনো রকম প্রস্তুতি ছাড়াই. অনেক শিক্ষকই যা ঠিক মতো এখনো বুঝেই উঠতে পারেননি. যার ফলে মূল্যায়ন ব্যবস্থায় নেমেছে একটা গুণগত ধস.          



আমেরিকার শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক বেঞ্জামিন ব্লুম উনিশশো ছাপান্ন সালে শিখন উদ্দেশ্যকে জ্ঞানমূলক ক্ষেত্র, বিশ্বাস বা অনুভূতিমূলক ক্ষেত্র এবং মনোপ্রেসিজ ক্ষেত্রে ভাগ করেন. জ্ঞানমূলক দক্ষতা মূলত শিক্ষার্থীর জ্ঞান সম্পর্কিত যাবতীয় দক্ষতাকে কেন্দ্র করে আবর্তিত । যেগুলো লিখিত পরীক্ষার মাধ্যমে মূল্যায়ণ করা যায়। শিখন কার্যক্রম শিক্ষার্থীর নিজের বিশ্বাস ও অনুভূতিতে কি ধরনের পরিবর্তন আনছে তা বিশ্বাস এবং অনুভূতি দক্ষতার প্রধান বিবেচ্চ্য বিষয় এবং কিছুটা লিখিত পরীক্ষার মাধ্যমে পরিমাপ করা গেলেও মূলত পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে মূল্যায়ন সবচেয়ে কার্যকর. এর অভাব বাংলাদেশ হারে হারে বুঝতে পারছে.  


 কোন কিছু শেখার পর হাতে কলমে সেটি করতে পারা মনোঃপেশীজ দক্ষতার অন্তর্ভুক্ত. আমাদের দেশের মূল্যায়ন পদ্ধতিতে নানা সীমাবদ্ধতার কারণে বিশ্বাস অনুভূতি মূলক দক্ষতা, মনোপেশী যে দক্ষতা ভিত্তিক মূল্যায়ন এমন একটা গুরুত্ব কোনদিনই পাইনি. যদিও আচরণের কাঙ্খিত পরিবর্তনের ক্ষেত্রে এই দুটি দক্ষতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ. আমরা কেবল জ্ঞানমূলক দক্ষতা ভিত্তিক মূল্যায়নের ভিত্তিতেই একজন শিক্ষার্থীর মেধা যাচাই করছি. ব্লু মস টেক্সেনমি অনুযায়ী জ্ঞানমূলক দক্ষতার ছয়টি ধাপ হচ্ছে স্মরণ,  উপলদ্ধি, প্রয়োগ, বিশ্লেষণ, সংশ্লেষণ এবং মূল্যায়ন.  



 আমাদের দেশের নীতিনির্ধারকেরা ব্লুমস জ্ঞানমূলক ক্ষেত্রের বারোটা বাজিয়ে ছয় স্তরের শিখন ফলককে চার স্তরে নামেয়ে এনেছেন ।


 প্রথম তিন ভাগ ঠিক রেখে শেষের তিন ধাপকে একসঙ্গে উচ্চতর দক্ষতা হিসেবে বিবেচনা করেছেন । ব্লুমস সাহেব যদি জানতেন তার কগনেটিক ডোমেনের এমন বারোটা বাজিয়ে দেবে বাঙালি বুদ্ধিজীবীরা তাহলে হয়তো তিনি এই তত্ত্ব দিতে দ্বিতীয়বার চিন্তা করতেন ।


 সৃজনশীলতার যে উদ্দেশ্য নিয়ে এই পরীক্ষা পদ্ধতি চালু হয়েছিল সেটা ঠিক এই কারণেই প্রশ্নবিদ্ধ. তবে আশার কথা হচ্ছে একটু দেরিতে হলেও দু হাজার পঁচিশ সাল থেকে নতুন এক শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রবেশ করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ.  একেবারে রূপান্তর ঘটাতে হবে. এই পরিবর্তন আসছে মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা, পাঠ্যক্রম ও বিষয়ভিত্তিক বিভাগ সবখানে এই পরিবর্তন আসবে. মূল্যায়নের ওপর বিশেষভাবে জোর দেওয়া হচ্ছে এবার. নতুন শিক্ষাক্রমে এখনকার সিস্টেমে আর এসএসসি ওএইচএসসি পরীক্ষা হবে না শুধু দশম শ্রেণীর পাঠ্য সূচী অনুসারে এসএসসি পরীক্ষা হবে । একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণীতে বোর্ডের অধীনে দুটি পাবলিক পরীক্ষা হবে দুইটি পরীক্ষার ফলাফল সমন্বয় করে চূড়ান্তভাবে এইচএসসি ফলাফল ঘোষণা করা  হবে.




 সবচেয়ে বড় কথা. শিক্ষার্থীরা দশম শ্রেণী পর্যন্ত অভিন্ন সিলেবাসে পড়বে. তাদের শেখার দশটি ক্ষেত্র নির্ধারণ করা হয়েছে. তবে প্রাক প্রাথমিকে কোন বই থাকবে না. তারা শ্রেণীকক্ষে সরাসরি শিক্ষকের কাছ থেকে শিখবে. একাদশ শ্রেণীতে গিয়ে মানবিক বিজ্ঞান ও বাণিজ্য এই তিন ভাগে ভাগ হবে.


 গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে প্রাক প্রাথমিক থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত প্রচলিত পরীক্ষা পদ্ধতির চেয়ে এই সময় ধারাবাহিক মূল্যায়ন পদ্ধতির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে । তৃতীয় শ্রেণী পর্যন্ত প্রচলিত কোনো পরীক্ষা হবে না । আগামী বছর প্রথম, দ্বিতীয়, ষষ্ঠ, সপ্তম শ্রেণীতে এই পদ্ধতি চালু হবে. দুহাজার চব্বিশ সালে তৃতীয় ও চতুর্থ, অষ্টম ও নবম শ্রেণী, দুহাজার পঁচিশ সালে পঞ্চম ও দশম শ্রেণী, দুহাজার ছাব্বিশ সালে একাদশ এবং দুহাজার সাতাশ সালে দ্বাদশ শ্রেণীতে নতুন এই পদ্ধতি চালু হবে. আসতে থেকে হলেও এটা বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় বিশাল পরিবর্তন আনবে বলে আশা করা যায়. 



এই পুরো প্রক্রিয়াকে শিক্ষা গবেষকরা দেখছেন আমূল পরিবর্তন হিসেবে. তারা বলছেন উন্নত বিশ্ব সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে সব সময়ই পরিবর্তন আনছে. তারা যেটা অনেক আগে করেছে সেটা আমরা এখন করতে যাচ্ছি. কিন্তু মাথা চুলকানোর মতো বিষয় হলো এই পরিবর্তনের সুফল পেতে হলে যা করতে হবে তা কতটা সঠিকভাবে করা হবে কিনা সেটা নিয়ে সংশয় কিন্তু রয়েই গেল. যেহেতু প্রতিষ্ঠানের মূল্যায়নের উপর জোর দেওয়া হচ্ছে. তাই শিক্ষকদের এক্ষেত্রে হতে হবে অনেক বেশি যোগ্য এবং স্বাধীন. তবে তাদের যা বেতন কাঠামো তাতে ওই পর্যায়ের যোগ্য শিক্ষক পর্যাপ্ত পাওয়া যাবে কিনা সেই আশঙ্কাও কিন্তু থেকে যাচ্ছে. কারণ যোগ্য শিক্ষক ছাড়া এই পর্যায়ের মূল্যায়ন সম্ভব না। যেহেতু একজন শিক্ষককে আলাদা আলাদাভাবে প্রতিটি ক্লাসে শিক্ষার্থীকে মূল্যায়ণ করতে হবে. তাই শিক্ষকদের পর্যাপ্ত ট্রেনিং এর সুব্যবস্থা করাটা কিন্তু বাধ্যতামূলক. এই নিবিড় পদ্ধতির জন্য শিক্ষকের সংখ্যা এবং যোগ্যতা দুটোই বাড়াতে হবে.   


 

মন্তব্যসমূহ

Blog Posts

লুসিড ড্রিম কাকে বলে ? লুসিড ড্রিম কিভাবে দেখতে হয় ?

 স্বপ্ন নিয়ন্ত্রণ করার কথা ভেবেছেন কখনো? নিশ্চয়ই ভাবছেন জেগে জেগে দিবাস্বপ্ন দেখার কথা বলছি না তো? কিন্তু না, রীতিমতো ঘুমিয়ে দেখা স্বপ্নও নিয়ন্ত্রণের কথাই বলছি, আপনার ইচ্ছামত স্বপ্ন দেখবেন। ইচ্ছা মতো নিয়ন্ত্রণ করবেন। আর পছন্দ না হলে অর্থাৎ দুঃস্বপ্ন দেখা শুরু করলে সেটার গতিপথ পাল্টে দেবেন একেবারে নিমেষে। আধুনিক বিজ্ঞানের ভাষায় এটা খুবই সম্ভব একে বলা হয় লুসিভ ড্রিম। লুসিড ড্রিমিং এর সাথে আপনারা অনেকেই হয়তো পরিচিত আছেন। অনেকে পরিচিত থাকলেও হয়তো এটা কেন হচ্ছে বা কিভাবে হচ্ছে তা নিয়ে বেশ দ্বিধা দ্বন্দ্বে আছে এসবেরই উত্তর মিলবে আজকের এই লিখাতে।   লুসিড ড্রিম অর্থ কি? সহজ বাংলায় অনুবাদ করতে গেলে বলা যায় লুসিড অর্থ পরিষ্কার. অর্থাৎ স্পষ্ট আর dream মানে তো আমরা সবাই জানি যে স্বপ্ন। লুসিড ডিম হলো সেই স্বপ্ন যে আমাদের স্পষ্ট ভাবে মনে থাকে এবং স্বপ্ন চলাকালীন সময়েও আমরা এ উপলব্ধি করতে পারি যে এটি বাস্তব নয় বরং এটি স্বপ্ন কিন্তু শুধুমাত্র আক্ষরিক অর্থ দিয়ে লুসিড ড্রিম ব্যাখ্যা করলে ভুল হবে একটু অন্যভাবে বলা যাক ।  মনে করুন স্বপ্নে আপনি কি পাহাড়ের উপর থেকে দ্রুত গ...

সারোগেসি কি ?

সারোগেসির মাধ্যমে সন্তান ধারণ করা নিয়ে এখনো বহু বিতর্ক আছে. শুধু আমাদের দেশে নয়, সারা বিশ্বেই এই পদ্ধতি নিয়ে তর্ক বিতর্কের শেষ নেই.  এটার আইনি প্রক্রিয়াও জটিল। কারণ এটি একেক রাষ্ট্রে. শারোগেসি আইন একেক রকম. নারী মা হবেন প্রাকৃতিক নিয়ম সমাজ এমনটাই দেখতে অভ্যস্ত. কিন্তু কোন কারণে মা হবার ক্ষমতা না থাকলে তাকে পরিবার ও আশপাশ থেকে যে পরিমাণ কটু কথা শুনতে হয় তা সাধারণ মানুষের ধারণারও বাইরে.   সরোগেসি বিষয়টি কি? চিকিৎসা শাস্ত্রের অগ্রগতি এমন মায়েদের সামনে এনেছে যারা গর্ভ ভাড়া দিয়ে নিজে বাঁচেন অন্যদের মাতৃ সুখ দেন । একজন নারীর গর্ভে অন্য দম্পতির সন্তান ধারণের পদ্ধতিকে সারোগেসি বলা হয়.সারোগেসির এই  পদ্ধতি বেশ দীর্ঘকালীন. আইভিএফ পদ্ধতিতে স্ত্রী ও পুরুষের ডিম্বাণু শুক্রাণু দেহের বাইরে নিষিক্ত করে তা নারীর গর্ভাশয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়. কিন্তু এখানেও জটিলতা. কেন? সে বিষয়ে পরে আসছি. বাংলাদেশ সহ বহু দেশই এই সারোগেসি একরকম ভাবে নিষিদ্ধ. সুতরাং বিষয় টি  সংবেদনশীল. এমনকি বেশিরভাগ ধর্মেও রয়েছে নিষেধাজ্ঞা. চলুন কথা বলি সারোগেসি মাদার সম্পর্কে। আইভিএফ বা টেস্ট টি...

ন্যানো টেকনোলজি কিভাবে কাজ করে ?

  যদি বলি আপনার চোখ দেখতে পারে না এমন গভীর ও প্রায় অনাবিষ্কৃত একটা পৃথিবী আছে. হয়তো বলতে পারেন যে মহাবিশ্বে কত গ্রহই তো আছে? সব খোঁজ কি আমরা পেয়েছি? কিন্তু যদি বলি আমাদের এই পৃথিবীর ভেতরে আরো একটি জগত আছে এবং যে জগৎ ছড়িয়ে আছে আমাদের গোটা বিশ্ব জুড়ে. এইবার হয়তো নড়েচড়ে বসবেন. হ্যাঁ আমাদের চোখের সামনেই রয়েছে এমন এক রাজ্য যে আমরা খালি চোখে দেখতে পাই না. এটাকে বলা হয় অণুবীক্ষণিক বিশ্ব. এই অণুবীক্ষণই বিশ্ব প্রচন্ড আকর্ষণীয় ও চমকে দেওয়ার মতো. কি কি ঘটছে এখানে তা আমার আপনার কল্পনারও বাইরে. এটা যেন কোনো ভিন গ্রহ বাসীদের রাজ্য. সম্ভাবনার দুয়ার খুলে রাখা আছে এই অণুবীক্ষণিক বা nano বিশ্বে.  ন্যানো কি ন্যানো হলো পরিমাপের একক। এক মিটারের একশো কোটি ভাগের এক ভাগ হচ্ছে এক ন্যানো। আর ন্যানো টেকনোলজি হলো বিজ্ঞানের এই অতি ক্ষুদ্র স্তরে একটা কিছু তৈরী করা আসলে শুধু তৈরি করা না. ন্যানোমিটার স্কেলে পরিবর্তন, পরিবর্তন, ধ্বংস বা সৃষ্টি সম্পর্কিত টেকনোলজিকেই ন্যানো টেকনোলজি বলে. অর্থাৎ ন্যানোমিটার স্কেলে পরিমিত যেকোনো বিষয়ে বহুমাত্রিক টেকনোলজিকে ন্যানো প্রযুক্তি বা ন্যানো টেকনোলজি বলা যে...

পেগাসাস স্পাইওয়ার কি ?

গত কিছুদিন ধরেই বিশ্ব রাজনীতি এবং প্রযুক্তি জগৎ এই দুই জায়গাতেই আলোচনার বিষয়বস্তু একটাই। সেটা হচ্ছে পেগাসাস স্পাইওয়ার. বিশ্বজুড়ে নানান দেশের মানবাধিকার কর্মী সাংবাদিক আইনজীবী ও রাজনীতিকদের ফোনের নজরদারি চালানোর ঘটনা ফাঁস হওয়ার পর ইজরায়েলের বেসরকারি কোম্পানি nso গ্রুপের তৈরি করা এই সফটওয়্যার নিয়ে এখন তুমুল তরজা চলছে দুনিয়া জুড়ে । চলুন কথা বলি দুনিয়া ওলট পালট করে দেওয়া স্পাইওয়ার সম্পর্কে । পেগাসাস মূলত একটি নজরদারি বিষয়ক সফটওয়্যার । ইজরাইলের সংস্থা এনএসও ই সফটওয়্যার তৈরি করেছে। যা দিয়ে যে কারো মোবাইলে আড়ি পাতা যায়. এটা কিন্তু সাধারণ কোন নজরদারি নয়. আগে ফোনে আড়ি পেতে শুধু দুই প্রান্তের কথাবার্তা শোনা যেত. আর সফটওয়্যারের মাধ্যমে গোটা ফোনটারই নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় হ্যাকাররা. ফোনের কথাবার্তা WhatsApp এর চ্যাট, ছবি, ফোনে কি কি তথ্য আছে সবই জানা যায়. আরো ভয়ানক ব্যবহার হচ্ছে মোবাইল যিনি ব্যবহার করছেন তিনি জানতেই পারেন না যে তার ফোন হ্যাক করা হয়েছে. সমস্ত তথ্য পাচার হয়ে যাচ্ছে নির্দিষ্ট একটি গোষ্ঠীর কাছে. কিন্তু কারো ফোনে পেগাসাস software install করতে হলে তো সেই ফোনটাকে...

রেট রেস কি ?

      আপনি ঠিক কখন ইঁদুর দৌড়ে যোগ দিয়েছেন এটা হিসাব করা কঠিন. কিন্তু নিশ্চিত থাকুন আপনি এই দৌড়ে আছেন. ক্লাস eight এ পড়ার সময়ের কথা মনে আছে? সামনে বৃত্তি পরীক্ষা পাটিগণিত বীজগণিতের অংক প্যাঁচ লাগাচ্ছে বিজ্ঞানের জটিল সব সূত্র ভোরে ওঠে প্রাইভেট টিউটরের বাসায় ছোটা রাত জেগে পড়াশোনা. বয়সের তুলনায় অনেক বেশি কর্ম ব্যস্ত একটা সময় নিশ্চয়ই কাটিয়েছেন তখন? আমরা সবাই কাটিয়েছি. সেই সময় নিশ্চয়ই অভিভাবক বলেছে এই তো আর কটা দিন. বৃত্তি পরীক্ষা শেষ হলেই জীবন শান্তি আর শান্তি. জীবনের নানা এপিসোডে আপনি এই কথাগুলো শুনেছেন অনেকবার অনেকের মুখে. এসএসসি পরীক্ষাটা দাও, কলেজে উঠলেই তো স্বাধীনতা. একবার ভার্সেটিতে উঠতে পারলেই জীবন হবে আনন্দে ভরপুর. একবার জব লাইফে ঢোকো. নিজের টাকায় আয়েশ করার মজাই অন্যরকম. শুনেছেন না এসব?  বয়স ঘড়ির ত্রিশের প্রান্তে দাঁড়িয়ে হিসেবগুলো মেলাতে পারেন কি? কি মনে হয়? এই এপিসোডগুলোর কোনোটা পার হবার সময় জীবন খানিকটা হলেও সহজ হয়েছে? সুন্দর হয়েছে? হয়নি, হবেও না, মিথ্যা একটা মরীচিকার আশায় আমরা ছুটেছি ঠিকই আমাদের ছোটানো হয়েছে, কিন্তু হিসাব মেলেনি ছুটত...

ম্যান্ডেলা ইফেক্ট কেনো হয়?

   আচ্ছা নিজের স্মৃতি শক্তির উপর কতটা বিশ্বাস আছে আপনার? আচ্ছা বাদ দিয়ে আপনার কথা. গণমানুষের স্মৃতিশক্তির উপর নিশ্চয়ই বিশ্বাস আছে অনেকটা. না না. ধর্মীয় কোন বিশ্বাস না. এই গ্রহে ঘটে যাওয়া এমন সব ঘটনা. যা সবাই জানে. তা কি রকম মিথ্যা? এক দশক আগেও পৃথিবীর প্রায় এক তৃতীয়াংশ মানুষ জানতো যে অস্ট্রেলিয়ার রাজধানীর নাম সিডনি. আসলে কি তাই? গত এক দশকে এই ধারণা মোটামুটি পরিবর্তন হয়ে মানুষ জেনেছে অস্ট্রেলিয়ার রাজধানীর নাম ক্যানভেরা. এখনো এই ভুল হরমামেশাই করে যাচ্ছে মানুষ. বিশ্বাস না হলে আশেপাশের কিছু মানুষকে জিজ্ঞেস করে দেখতে পারে. প্রশ্ন করতে পারেন ম্যান্ডেলার নাম কেন? এই ফ্ললস মেমোরি সিন্ড্রোমকে ম্যান্ডেল এফেক্ট নামকরণ করেছেন প্যারানরমাল কনসালটেন্ট ফীয়না ব্রুম তার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে । দু হাজার দশ সালের এক আলোচনা সভায় উঠে আসে দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদ বিরোধী আন্দোলনের নেতা উনিশশো আশি সালে কারা জানে মারা যাওয়ার প্রসঙ্গ । অনেকেই সেদিন বলেছিল, টিভিতে এই নেতার শেষকৃত্যের আনুষ্ঠানিকতা দেখার অভিজ্ঞতার কথা. ম্যান্ডেলার স্ত্রীর হৃদয় নিন্দারও ভাষণের কথা উল্লেখ করেছিলেন কেউ কেউ. এমনক...

কিভাবে লিমিটলেস হওয়া যায় ? লিমিটলেস আসলে কিভাবে কাজ করে ?

এনজিটিপিল,  এটা এমন এক পিল যা আপনাকে করবে আল্ট্রা ফোকাসড. দেবে দুর্দান্ত মোটিভেশন. বের করে আনবে আপনার সর্বোচ্চ সম্ভাবনা. আপনি হয়ে উঠবেন আনস্টপল. বাস্তবতা পাবে প্রতিটি স্বপ্ন. কিন্তু সমস্যা হচ্ছে এমন কোন পিলের অস্তিত্ব নেই. ফলাফল আপনি আটকে আছেন একটি খাদে. সারাক্ষণ ক্লান্তি নিয়ে হয়ে উঠছেন আনপ্রোডাক্টিভ. নষ্ট হচ্ছে ক্রিয়েটিভিটি. সময় গড়িয়ে যায়. ঋতুর পরিবর্তন ঘটে. কিন্তু আপনি ডুবে থাকেন এক হতাশায় যাতে আপনি দিন দিন পিছিয়ে পরছেন. আপনি যা যা এতদিন অর্জন করবেন ভেবেছিলেন তা কিছুই আপনি অর্জন করতে পারেননি । নিজেকে সান্তনা দিচ্ছেন আগামীকাল হবে ভিন্ন। কিন্তু তা কখনোই হয়ে ওঠে না এখন যদি আপনাকে বলি কোনো জাদুকরী পিলের সাহায্যে নয় বাস্তবিক লিমিটলেস হয়ে ওঠা সম্ভব।  একদম প্রমাণিত পদ্ধতিতে যা একেবারে ফ্রিতে ব্যবহার করা সম্ভব.  তো আছেন তো শেষ পর্যন্ত ?  Limit less হওয়ার যাত্রায় ।  স্টেপ ওয়ান : এনার্জি--  মাত্র কয়েক মাস আগে আমি নিজেও আপনার মতো কর্মশক্তিহীন অনুভব করতাম. সামান্য কাজেই আসতো অবসন্নতা, গেয়ে ধরতো ক্লান্তি একদিন হঠাৎ টের পেলাম আমি নিজেই নিজের energy নি...

প্রযুক্তি দুনিয়াতে পর্দার আড়ালে থেকে যাওয়া এক প্রতিভাবান এর গল্প ।

পর্দার আড়ালে একা খেলে যাচ্ছেন একজন. কামাচ্ছেন বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার. অথচ তাকে চেনে খুব কম সংখ্যক মানুষ. আইটি জগতে ইলন মাস্ক, জেফ বোজোস বা বিট গ্রেটসের সাথে তার নামও সমান তালে চলার কথা ছিল. কিন্তু বিহাইন্ড দা সিনে একা গোল করে যাচ্ছেন তিনি. নাম ড্রোন ইয়াং পিং ড্রোন ইয়াং পিং নামটি মোবাইল ফোনের জগতে খুবই কম মানুষের শোনা. তবে তার নাম অজানা থাকলেও তার কোম্পানি বিবিকে ফোন গিগদের মধ্যে বেশ পরিচিত. ওয়ান প্লাস, রিয়েলমি, অপো, ভিভো এবং আইকিউ. এই পাঁচটি জনপ্রিয় মোবাইল ব্র্যান্ডের একক মালিক ডোন ইয়াং পিন.  এই ব্র্যান্ড গুলো তার কোম্পানিতে পরিণত করেছে বর্তমানের সবচেয়ে বড় মোবাইল ফোন উৎপাদনকারী কোম্পানিতে. অ্যাপেল , শাওমি বা স্যামসাং যারা মোবাইল ফোনের জগতে বর্তমানে সবচেয়ে বড় ব্র্যান্ড তাদেরকেও পেছনে ফেলে এগিয়ে গিয়েছে বিবিকে কোম্পানি। কিন্তু এত সফলতার সত্ত্বেও বেশিরভাগ মোবাইল ফোন ব্যবহারকারী এমনকি ফোন গিগরাও তার সম্পর্কে বলতে গেলে তেমন কিছুই জানে না. এলেন মাস্ক, স্টিভ জবস বা জ্যাকমা, যারা কিনা টেকনোলজির জগতে খুবই পরিচিত তাদের সম্পর্কে অনলাইনে  অগণিত তথ্য রয়েছে। কিন্তু ডন ইয়ং পিং এর...

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কি ? আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কতটা ভযঙ্কর হতে পারে আগামী দিনের জন্য ?

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বহুল চর্চিত এবং ব্যবহৃত একটি শব্দ. মানুষের বুদ্ধিমত্তা ও চিন্তা শক্তিকে কম্পিউটার প্রোগ্রামিং এর মাধ্যমে মেশিন ল্যাঙ্গুয়েজে স্থাপন করা টেকনোলজিটাই হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স । এর মাধ্যমে কোন যন্ত্র নির্দিষ্ট প্রোগ্রামের আওতাধীন কিছু কাজ নিজে থেকেই করতে পারে নিজে নিজে সিদ্ধান্ত নিতে পারে।  টার্মিনেচার টাইপের কোনো সাইফাই সিনেমার গুরু বন্ধুর সংলাপ নয়।  A.I নিয়ে ভবিষ্যৎবাণী করেছিলেন পৃথিবীর সেরা বিজ্ঞানীদের একজন স্টিফেন হকিং আমার ভয় হয় তারা সত্যিই হয়তো একদিন মানুষকে হটিয়ে নিয়ন্ত্রকের আসনে বসে যাবে। বেঁচে থাকতেই BBC কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স তথা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে এভাবেই সবাইকে সতর্ক করেছিলেন তিনি। হকিংসের এই ভয় এখনো ভবিষ্যতের বিষয় হলেও অমূলক নয় মোটেও যন্ত্রকে বুদ্ধিমান করে তার আশীর্বাদ অনেক আছে। কিন্তু দীর্ঘ মেয়াদে সেই যন্ত্রই পৃথিবীর দখল নিতে চলেছে কিনা স্বয়ং সম্পূর্ণ হয়ে মানুষকেই বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে একদিন অপদার্থ তে পরিণত করবে কিনা সেই প্রশ্নটা উঠছে বারবার।  যুক্তরাষ্ট্রে...

মিনিমালিজম কি ? কিভাবে মিনিমালিস্ট হওয়া যায় ?

মিনিমামলিজম এই ধারণাটি বিগত কয়েক বছরে বেশ জনপ্রিয়তা লাভ করেছে এবং এর যথেষ্ট কারণও আছে. এই পুরো ব্যাপারটা কি? সেটাকে সঙ্গায়িত করা যায় এভাবে যে,  মিনিমালিজম হচ্ছে যা আমাদের জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সেগুলোকে ধারণ করা এবং বাকি সব কিছু যা আমাদের দৃষ্টিকে অন্যদিকে সরিয়ে নেয় সেগুলোকে ইচ্ছাকৃতভাবে ত্যাগ করা।   অর্থাৎ কোন কোন বিষয়ে জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং কোন জিনিসগুলোকে আমাদের কাছে সবচেয়ে মূল্যবান সেই সম্পর্কে একটা পরিষ্কার ধারণা থাকা এবং বাকি সব ত্যাগ  করে দেয়. সেগুলো নিয়েই জীবন ধারণ করা. কিন্তু এমন সংজ্ঞায়ন সত্ত্বেও minimalism কোন ধরাবাধা জীবন ব্যবস্থা নয় বা মিনিমালিস্ট হতে হলে কোন নির্দিষ্ট মানদণ্ড মেনে চলতে হবে এরকমটিও কিন্তু নয়. মিনিমালিস্ট লাইফ স্টাইল এমন একটি বিষয় যা প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য স্বতন্ত্র। এক্ষেত্রে মূল বিষয়টি হচ্ছে সত্যিকার অর্থে কোন কোন বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও প্রয়োজনীয় সেই সম্পর্কে একটা পরিষ্কার ধারণা নিয়ে সেই অনুযায়ী জীবন ধারণ করা. প্রিয় দর্শক চলুন দেখি মিনিমালিজম কিভাবে আপনার জীবনধারা বদলে দিতে পারে।  মিনিমালিস্ট জীবন অবশ...