সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

বিশ্ব জুড়ে পারমাণবিক পাওয়ার প্ল্যান্ট কেন বন্ধ হয়ে যাচ্ছে ?

  Manhattan এর প্রায় তিরিশ মাইল উত্তরে অবস্থিত কুখ্যাত Indian point পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি গত বছরের শুরুতে প্রবল বিক্ষোভের মুখে বন্ধ হয়ে যায়। নিরাপত্তা এবং পরিবেশ নিয়ে চিন্তিত অনেকের কাছেই কয়েক দশকের বিক্ষোভের পর এই শাটডাউন ছিল একটা বিরাট বিজয় কিন্তু শুধু আমেরিকা নই গোটা পৃথিবী জুড়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ তাদের পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র গুলো আস্তে আস্তে বন্ধ করে দিচ্ছে বিশেষ করে জার্মানি, ইংল্যান্ড সহ ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত কয়েকটি দেশ ইতিমধ্যেই তাদের বেশিরভাগ পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ করে দিয়েছে। এমনকি তারা ঘোষণাও দিয়ে রেখেছে আর কোনো নতুন কেন্দ্র স্থাপন করবে না কেন? উৎপাদন খরচ কম হওয়া সত্ত্বেও কেন তাদের এই পদক্ষেপ? 



প্রথম দেশ হিসেবে ইতালি তাদের পূর্বে চালু থাকা সমস্ত পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র গুলো স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেয়. দু হাজার এগারো সালের মার্চে ফুকসিমা  পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র বিপর্যয়ের পর জার্মানি তার সতেরোটি চুল্লির মধ্যে আটটি স্থায়ীভাবে বন্ধ করেছে । গত বছরের শেষ নাগাদ আরো তিনটি প্ল্যান পর্যায়ক্রমে বন্ধ হয়ে গেছে দেশটিতে । বেলজিয়াম, তাইওয়ান, জাপান, স্প্রিন এবং সুইডেন ক্রমেই সরে আসছে পরমাণু বিদ্যুৎ উৎপাদন থেকে । এমনকি যেই ফ্রান্সের মোট বিদ্যুৎ চাহিদা সাতাত্তর ভাগের যোগান আসে পারমানবিক কেন্দ্র থেকে. সেই ফ্রান্সের জনগণও সরকারকে ব্যাপকভাবে চাপ দিয়েছে পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো বন্ধ করে দেওয়ার জন্য. যেখানে ফ্রান্স ভেবেছিল দুহাজার সালের মধ্যে অন্তত দুইশো পরমাণু  চুল্লি স্থাপন করার কথা সেখানে বর্তমানে তাদের অ্যাক্টিভ চুল্লির সংখ্যা নেমে এসেছে মাত্র ঊনষাটটিতে. যুক্তরাষ্ট্র গত তেত্রিশ বছরে নতুন কোন পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করেনি. উনিশশো-আটাত্তর সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অ্যাক্টিভ পরমাণু চুল্লির সংখ্যা ছিল সাতষট্টি. আরো একশো ছাপান্নটি তৈরীর বেশ তোড়জোড় চলছিল. পরবর্তীতে আরো প্রায় দুইশোটি চুল্লি নির্মাণের পরিকল্পনাও করা হয়েছিল. যাতে করে দুহাজার সালের মধ্যে চারশোটি চুল্লি স্থাপন করা যায়. উপরন্তু আগামী দশ পনেরো বছরের মধ্যে কমপক্ষে একশোটি পুরনো এবং ছোট চুল্লি বন্ধ হয়ে যাবে. 



কেন?           লিথুনিয়া এবং কাজাকিস্তানও তাদের একমাত্র পারমাণবিক কেন্দ্র বন্ধ করে দিয়েছে. সম্পূর্ণ নির্মাণ কাজ শেষ হওয়া সত্ত্বেও অস্ট্রিয়া কখনোই তাদের প্রথম এবং একমাত্র পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি ব্যবহার করেনি. ব্যবহার করেনি বললে ভুল হবে. অস্ট্রিয়ার তাদের একমাত্র পারমাণবিক কেন্দ্রটিকে ব্যবহার করেছে জাদুঘর এবং সিনেমার শুটিংয়ের কাজে.



 আর্থিক রাজনৈতিক ও প্রযুক্তিগত কারণে কিউবা, লিবিয়া, উত্তর কোরিয়া এবং পোল্যান্ডের মতো দেশগুলো তাদের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নির্মাণ কাজ শুরু করেছে. কিন্তু শেষ করতে পারেনি. এছাড়াও কিছু দেশ আছে যারা নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে কোনো অবস্থাতেই তারা পারমাণবিক স্থাপনা নির্মাণ করবে না. তেমনই একটি দেশ অস্ট্রেলিয়া. যদিও অস্ট্রেলিয়াতেই পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান কাঁচামাল ইউরোনিয়ামের মজুদ আছে অটল. একে একে বিভিন্ন দেশ যেভাবে পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ এবং পরিচালনা থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন আক্ষরিক শব্দে একে বলা হতে পারে পারমাণবিক শক্তির ফ্রিজ আউট ।মূলত তিনটি পারমাণবিক দুর্ঘটনা বিশ্বব্যাপী এই শক্তি বন্ধ করাকে প্রভাবিত করেছে । এগুলো হলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের থ্রী মাইল্ড দ্বীপের আংশিক বিপর্যয় চেরনোবিল বিপর্যয় এবং সর্বশেষ জাপানের   ফুকুশিমা পারমাণবিক বিপর্যয়.


 বিদ্যুৎ ব্যবহারের দরুন বিংশ শতাব্দী থেকেই বদলে যেতে শুরু করে পৃথিবীর গতিপথ. ক্রমেই মানুষ বিদ্যুতের ওপর চরম মাত্রায় নির্ভরশীল হতে শুরু করে. আর বিদ্যুতের অত্যাধিক চাহিদা বাড়তেই থাকে. দীর্ঘদিন পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রধান কাঁচামাল ছিল কয়লা এবং গ্যাস এবং পেট্রোলিয়াম । এরপরেই আসে পারমাণবিক বিদ্যুৎ এই পদ্ধতিতে তেজস্বীয় ইউরোনিয়মের নিয়ন্ত্রিত ফিসন বিক্রয় শীর্ষ তাপ শক্তিকে বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তরিত করা হয় । বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে পারমাণবিক প্রযুক্তির শুরুটা হয় আজ থেকে চুয়াত্তর বছর আগে. যুক্তরাষ্ট্র প্রথমবারের মতো পারমাণবিক শক্তি ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে. কিন্তু গণ মানুষের কাছে পারমানবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের সুবিধা পৌঁছায় তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের হাত ধরে. উৎপাদন  খরচ কম এবং বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করে বিধায় বিশ্বের অগ্রসর দেশগুলো তাদের অত্যাধিক বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে একের পর এক নির্মাণ করতে লাগলো পারমাণবিক চুল্লি. যদিও প্রথম পারমাণবিক চুল্লি নির্মাণের পর থেকেই পারমানবিক দুর্ঘটনার প্রভাব কার্যত বিতর্কের একটা বিষয় হয়ে উঠেছিল. তবুও  পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রই ছিল উন্নত বিশ্বের বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রধান ক্ষেত্র. কিন্তু কি এমন হলো যে মানুষ এখন পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বিকল্প ভাবতে শুরু করেছে. বন্ধ করে দিতে চাইছে কোটি কোটি ডলার ব্যায় নির্মিত সেই সব নিউক্লিয়ার প্ল্যান্ট.




 উনিশশো ঊনআশি সালে হলিউডে মুক্তি পায় ডিজাস্টার থ্রিলার ধর্মী চলচ্চিত্র দ্যা চায়না সিনরুম. পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো আসলেই যে কতটা নিরাপদ সে প্রশ্নগুলো উঠে আসে এই চলচ্চিত্রের মাধ্যমে. দ্য চায়না সিন্ড্রোম মুক্তি পাওয়ার ঠিক বারো দিনের মাথায় পেনসিলভেনিয়ার ডাউফিন কাউন্টটিতে থ্রি মাইল আইল্যান্ড পারমাণবিক দুর্ঘটনাটি ঘটে. এই সিনেমায় দেখানো হয়েছিল কিভাবে পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের অভ্যন্তরীণ ত্রুটি-বিচ্যুতি এবং আশঙ্কার কথা সুকৌশলে গোপন রাখার চেষ্টা করা হয় । এমন ঘটনা যে বাস্তবে ঘটেনি তা কিন্তু নয়. ব্রাজিলের অ্যাংরো ওয়ান পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির বিকল যন্ত্রপাতি মেরামত করতে গিয়ে দু হাজার সালের মে মাসে হাজার হাজার গ্যালন তেজস্ক্রিয় পদার্থ প্ল্যান্ট থেকে বাইরে ছড়িয়ে পড়ে এবং খোদ ব্রাজিলেই এই খবর চার মাস গোপন ছিল.



 পরিচালনার দায়িত্বপ্রাপ্ত কোম্পানিটি এই খবর সরকারকে জানায়নি এর ফলে ব্যাপক স্বাস্থ্য ঝুঁকির সম্মুখীন হয় বিপুল সংখ্যক মানুষ। রেকর্ড অনুযায়ী সারা বিশ্বে এখনো পর্যন্ত ছোট বড় মিলিয়ে দুর্ঘটনা ঘটেছে প্রায় একশোটি । তবে অন্য দুর্ঘটনায় বিপদ যেখানে অনেকাংশে কেবল দুর্ঘটনাকালীন সময়ই বিরাজ থাকে. সেখানে নিউক্লিয়ার ডিজাস্টারের ভয়াবহতা চলতে পারে যুগ যুগ ধরে. কারণ তেজস্ক্রিয় মৌলের তেজস্ক্রিয়তার অর্ধায়ুর বয়স অনেক. অনেক বছর ধরে এর থেকে ক্ষতিকারক রশ্মি নির্গত থাকবে এবং কোন উপায় তা বন্ধ করা সম্ভব নয়. অর্থাৎ নিউক্লিয়ার বিপর্যয়ের প্রভাব অনেক বেশি এবং দীর্ঘস্থায়ী.  উদাহরণস্বরূপ চেরনোবিল শহরের কথা বলা যায়. সেখানে উনিশশো ছিয়াশি সালে পারমাণবিক কেন্দ্রের বিস্ফোরণের পর থেকে এখনো পর্যন্ত কোন মানুষ বসবাস করে না. এমন তিনটি ঘটনার কথা আমরা আগেই উল্লেখ করেছি. তিনটি বড় ঘটনা ছাড়াও বিভিন্ন সময় সংগঠিত পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রের দুর্ঘটনা সাধারণ জনগণ ও বিশেষজ্ঞদের মধ্যে চরম ভয় ও উৎকণ্ঠার জন্ম দিয়েছে । যার ফলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ ও নির্মাণ কাজ বন্ধ করার জন্য সে সব দেশের সাধারণ জনগণ রীতিমতো আন্দোলন করছে । পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের আরো একটি ভয়াবহ কুফলও কিন্তু আছে. পরমাণু reactor এর মাধ্যমে প্রতিবছর বায়ুমণ্ডলে ও পানিতে প্রচুর পরিমানে তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ ছড়িয়ে পরে. এসব আইসোটোপের তালিকায় আছে ক্রিপ্টন , জেনন , আর্গুনের মতো নিষ্ক্রিয় গ্যাস যেগুলো চর্বিতে দ্রবণীয় এবং রিয়েক্টরের আশেপাশে বসবাসকারী কোনো লোক তার নিঃশ্বাসের সঙ্গে গ্রহণ করলে তা তার ফুসফুসের মাধ্যমে প্রজনন অঙ্গ সহ দেহের চর্বিযুক্ত টিস্যুতে সহজেই স্থানান্তরিত হতে পারে ।


 তারপরেও তেজস্বীয় মৌলগুলো থেকে নিঃশরিত গামা রশ্মি ডিম্বাণু ও শুক্রাণুতে আকর্ষিক পরিবর্তন ঘটিয়ে সূচনা করতে পারে বংশানুক্রমিক বিভিন্ন রোগের. দু হাজার আট সালে জার্মান সরকার তার বাণিজ্যিক ষোলোটি পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রের আশেপাশে বসবাসকারী শিশুদের উপর একটা গবেষণা চালায়. এর ফলে দেখা যায় পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রের দিকে যতই যাওয়া যায় শিশুদের দেহে ক্যান্সার বিশেষ করে নিউকোমিয়ান আক্রান্তের ঝুঁকি ততই বাড়তে থাকে. আরো একটি সমস্যা আছে পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের. যেটি নিয়ে খুব বেশি আলোচনা কখনোই হয় না।


 আমরা জানি পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মূল কাঁচামাল হলো ইউরোনিয়াম. কিন্তু পৃথিবীতে ইউরোনিয়ামের পরিমাণ কিন্তু খুব সামান্য. সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী পৃথিবীতে হাইব্রিড ইউরেনিয়ামের মজুদ আছে প্রায় পঁয়ত্রিশ লাখ টন. বর্তমানে প্রতিবছর ইউরেনিয়াম ব্যবহৃত হচ্ছে প্রায় সাতষট্টি হাজার টন।


 এই হারে ব্যবহার হলে বর্তমান মজুদ পঞ্চাশ বছরের মধ্যেই কিন্তু শেষ হয়ে যাবে. আর যদি পৃথিবীর বর্তমান বিদ্যুৎ চাহিদার প্রায় সবটাই জোগাতে হতো পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রকে. তবে তা দিয়ে চালানো যেত মাত্র নয় বছর. বোঝাই যাচ্ছে ভবিষ্যতে ইউরেনিয়ামের দাম ক্রমেই বাড়তে থাকবে পাশাপাশি হু হু করে বাড়তে থাকবে বিদ্যুতের উৎপাদন ব্যয়. 




আচ্ছা এবার ধরা যাক উপরের উল্লেখিত নানাবিধ সমস্যা এবং ঝুঁকি বিবেচনা করে আপনি সিদ্ধান্ত নিলেন পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি বন্ধ করে দেন।  কিন্তু সেই কাজটাও কি খুব সহজ? চেরনোবিল দুর্ঘটনার দিকে আবার নজর দেওয়া যাক. এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি বন্ধ করতেই লেগেছিল প্রায় চারশো কোটি ডলার. তাছাড়া নির্মিত একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের আয়ুষ্কালও কিন্তু অনন্তকাল নয়. মাত্র তিরিশ বছরের মতো. এটি নির্মাণ করার প্রক্রিয়া যেমন জটিল, আয়ুষ্কাল শেষ হওয়ার পর সেটাকে পরিত্যাগ করা বা নতুন করে নির্মাণ করার প্রক্রিয়াটাও ঠিক একই রকমের জটিল এবং সেই সাথে ব্যয়বহুল. এত সমস্যা এবং জটিলতা সত্ত্বেও বিশ্বব্যাপী পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ কিন্তু থেমে নেই. এর প্রধান কারণ হলো পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালাতে খুবই অল্প পরিমাণে জ্বালানির প্রয়োজন হয়. তার ফলে পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে উৎপাদিত বর্জ্য পদার্থের পরিমাণও হয় অনেক কম. ওয়ার্ল্ড নিউক্লিয়ার অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য মতে বর্তমানে একত্রিশ দেশে চারশো পঞ্চাশটিরও বেশি পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র আছে. সেই তালিকায় আছে দক্ষিণ এশিয়ার ভারত ও পাকিস্তানের নামও. অতি সম্প্রতি সেই তালিকায় যুক্ত হয়েছে বাংলাদেশের. বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাত মূলত দাঁড়িয়ে আছে প্রাকৃতিক গ্যাসের উপর. এই প্রাকৃতিক গ্যাসের উপর নির্ভর করে আছে দেশের জ্বালানি খাত। অথচ দেশের অভ্যন্তরে প্রাকৃতিক গ্যাস এবং কয়লার মজুত অত্যন্ত সীমিত আর যা কিছু আছে তা ঠিক মতো উত্তোলনের সক্ষমতাও কিন্তু বাংলাদেশে এখনো অর্জন করতে পারেনি। যার ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদনে বাংলাদেশকে আমদানি নির্ভর তরল পেট্রোলিয়ামের উপর বহুল অংশে নির্ভর করতে হয় । জনবহুল বাংলাদেশের বিশাল বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে উনিশশো একষট্টি সালের দিকে প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়. সেই লক্ষ্যে পাবনা জেলার রূপপুরে পদ্মা নদীর কাছাকাছি প্রায় দুশো ষাট একর এবং আবাসিক এলাকার জন্য বত্রিশ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়. এরই ধারাবাহিকতায় দক্ষিণ এশিয়ার তৃতীয় দেশ হিসেবে দু হাজার সতেরো সালের নভেম্বরে রুপপুরে রুপ পুর ওয়ান নামে প্রথম ইউনিট নিউক্লিয়ার পাওয়ার রিঅ্যাক্ট স্থাপনের কাজ শুরু হয়. লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী দুই হাজার তেইশ সাল থেকে এই ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদন হওয়ার কথা রয়েছে. এখন প্রশ্ন হচ্ছে রুকপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র কি কোনোভাবে আমাদের দুর্দশার কারণ হয়ে উঠতে পারে? 


      

মন্তব্যসমূহ

Blog Posts

ন্যানো টেকনোলজি কিভাবে কাজ করে ?

  যদি বলি আপনার চোখ দেখতে পারে না এমন গভীর ও প্রায় অনাবিষ্কৃত একটা পৃথিবী আছে. হয়তো বলতে পারেন যে মহাবিশ্বে কত গ্রহই তো আছে? সব খোঁজ কি আমরা পেয়েছি? কিন্তু যদি বলি আমাদের এই পৃথিবীর ভেতরে আরো একটি জগত আছে এবং যে জগৎ ছড়িয়ে আছে আমাদের গোটা বিশ্ব জুড়ে. এইবার হয়তো নড়েচড়ে বসবেন. হ্যাঁ আমাদের চোখের সামনেই রয়েছে এমন এক রাজ্য যে আমরা খালি চোখে দেখতে পাই না. এটাকে বলা হয় অণুবীক্ষণিক বিশ্ব. এই অণুবীক্ষণই বিশ্ব প্রচন্ড আকর্ষণীয় ও চমকে দেওয়ার মতো. কি কি ঘটছে এখানে তা আমার আপনার কল্পনারও বাইরে. এটা যেন কোনো ভিন গ্রহ বাসীদের রাজ্য. সম্ভাবনার দুয়ার খুলে রাখা আছে এই অণুবীক্ষণিক বা nano বিশ্বে.  ন্যানো কি ন্যানো হলো পরিমাপের একক। এক মিটারের একশো কোটি ভাগের এক ভাগ হচ্ছে এক ন্যানো। আর ন্যানো টেকনোলজি হলো বিজ্ঞানের এই অতি ক্ষুদ্র স্তরে একটা কিছু তৈরী করা আসলে শুধু তৈরি করা না. ন্যানোমিটার স্কেলে পরিবর্তন, পরিবর্তন, ধ্বংস বা সৃষ্টি সম্পর্কিত টেকনোলজিকেই ন্যানো টেকনোলজি বলে. অর্থাৎ ন্যানোমিটার স্কেলে পরিমিত যেকোনো বিষয়ে বহুমাত্রিক টেকনোলজিকে ন্যানো প্রযুক্তি বা ন্যানো টেকনোলজি বলা যে...

লুসিড ড্রিম কাকে বলে ? লুসিড ড্রিম কিভাবে দেখতে হয় ?

 স্বপ্ন নিয়ন্ত্রণ করার কথা ভেবেছেন কখনো? নিশ্চয়ই ভাবছেন জেগে জেগে দিবাস্বপ্ন দেখার কথা বলছি না তো? কিন্তু না, রীতিমতো ঘুমিয়ে দেখা স্বপ্নও নিয়ন্ত্রণের কথাই বলছি, আপনার ইচ্ছামত স্বপ্ন দেখবেন। ইচ্ছা মতো নিয়ন্ত্রণ করবেন। আর পছন্দ না হলে অর্থাৎ দুঃস্বপ্ন দেখা শুরু করলে সেটার গতিপথ পাল্টে দেবেন একেবারে নিমেষে। আধুনিক বিজ্ঞানের ভাষায় এটা খুবই সম্ভব একে বলা হয় লুসিভ ড্রিম। লুসিড ড্রিমিং এর সাথে আপনারা অনেকেই হয়তো পরিচিত আছেন। অনেকে পরিচিত থাকলেও হয়তো এটা কেন হচ্ছে বা কিভাবে হচ্ছে তা নিয়ে বেশ দ্বিধা দ্বন্দ্বে আছে এসবেরই উত্তর মিলবে আজকের এই লিখাতে।   লুসিড ড্রিম অর্থ কি? সহজ বাংলায় অনুবাদ করতে গেলে বলা যায় লুসিড অর্থ পরিষ্কার. অর্থাৎ স্পষ্ট আর dream মানে তো আমরা সবাই জানি যে স্বপ্ন। লুসিড ডিম হলো সেই স্বপ্ন যে আমাদের স্পষ্ট ভাবে মনে থাকে এবং স্বপ্ন চলাকালীন সময়েও আমরা এ উপলব্ধি করতে পারি যে এটি বাস্তব নয় বরং এটি স্বপ্ন কিন্তু শুধুমাত্র আক্ষরিক অর্থ দিয়ে লুসিড ড্রিম ব্যাখ্যা করলে ভুল হবে একটু অন্যভাবে বলা যাক ।  মনে করুন স্বপ্নে আপনি কি পাহাড়ের উপর থেকে দ্রুত গ...

প্রযুক্তি দুনিয়াতে পর্দার আড়ালে থেকে যাওয়া এক প্রতিভাবান এর গল্প ।

পর্দার আড়ালে একা খেলে যাচ্ছেন একজন. কামাচ্ছেন বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার. অথচ তাকে চেনে খুব কম সংখ্যক মানুষ. আইটি জগতে ইলন মাস্ক, জেফ বোজোস বা বিট গ্রেটসের সাথে তার নামও সমান তালে চলার কথা ছিল. কিন্তু বিহাইন্ড দা সিনে একা গোল করে যাচ্ছেন তিনি. নাম ড্রোন ইয়াং পিং ড্রোন ইয়াং পিং নামটি মোবাইল ফোনের জগতে খুবই কম মানুষের শোনা. তবে তার নাম অজানা থাকলেও তার কোম্পানি বিবিকে ফোন গিগদের মধ্যে বেশ পরিচিত. ওয়ান প্লাস, রিয়েলমি, অপো, ভিভো এবং আইকিউ. এই পাঁচটি জনপ্রিয় মোবাইল ব্র্যান্ডের একক মালিক ডোন ইয়াং পিন.  এই ব্র্যান্ড গুলো তার কোম্পানিতে পরিণত করেছে বর্তমানের সবচেয়ে বড় মোবাইল ফোন উৎপাদনকারী কোম্পানিতে. অ্যাপেল , শাওমি বা স্যামসাং যারা মোবাইল ফোনের জগতে বর্তমানে সবচেয়ে বড় ব্র্যান্ড তাদেরকেও পেছনে ফেলে এগিয়ে গিয়েছে বিবিকে কোম্পানি। কিন্তু এত সফলতার সত্ত্বেও বেশিরভাগ মোবাইল ফোন ব্যবহারকারী এমনকি ফোন গিগরাও তার সম্পর্কে বলতে গেলে তেমন কিছুই জানে না. এলেন মাস্ক, স্টিভ জবস বা জ্যাকমা, যারা কিনা টেকনোলজির জগতে খুবই পরিচিত তাদের সম্পর্কে অনলাইনে  অগণিত তথ্য রয়েছে। কিন্তু ডন ইয়ং পিং এর...

সারোগেসি কি ?

সারোগেসির মাধ্যমে সন্তান ধারণ করা নিয়ে এখনো বহু বিতর্ক আছে. শুধু আমাদের দেশে নয়, সারা বিশ্বেই এই পদ্ধতি নিয়ে তর্ক বিতর্কের শেষ নেই.  এটার আইনি প্রক্রিয়াও জটিল। কারণ এটি একেক রাষ্ট্রে. শারোগেসি আইন একেক রকম. নারী মা হবেন প্রাকৃতিক নিয়ম সমাজ এমনটাই দেখতে অভ্যস্ত. কিন্তু কোন কারণে মা হবার ক্ষমতা না থাকলে তাকে পরিবার ও আশপাশ থেকে যে পরিমাণ কটু কথা শুনতে হয় তা সাধারণ মানুষের ধারণারও বাইরে.   সরোগেসি বিষয়টি কি? চিকিৎসা শাস্ত্রের অগ্রগতি এমন মায়েদের সামনে এনেছে যারা গর্ভ ভাড়া দিয়ে নিজে বাঁচেন অন্যদের মাতৃ সুখ দেন । একজন নারীর গর্ভে অন্য দম্পতির সন্তান ধারণের পদ্ধতিকে সারোগেসি বলা হয়.সারোগেসির এই  পদ্ধতি বেশ দীর্ঘকালীন. আইভিএফ পদ্ধতিতে স্ত্রী ও পুরুষের ডিম্বাণু শুক্রাণু দেহের বাইরে নিষিক্ত করে তা নারীর গর্ভাশয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়. কিন্তু এখানেও জটিলতা. কেন? সে বিষয়ে পরে আসছি. বাংলাদেশ সহ বহু দেশই এই সারোগেসি একরকম ভাবে নিষিদ্ধ. সুতরাং বিষয় টি  সংবেদনশীল. এমনকি বেশিরভাগ ধর্মেও রয়েছে নিষেধাজ্ঞা. চলুন কথা বলি সারোগেসি মাদার সম্পর্কে। আইভিএফ বা টেস্ট টি...

পেগাসাস স্পাইওয়ার কি ?

গত কিছুদিন ধরেই বিশ্ব রাজনীতি এবং প্রযুক্তি জগৎ এই দুই জায়গাতেই আলোচনার বিষয়বস্তু একটাই। সেটা হচ্ছে পেগাসাস স্পাইওয়ার. বিশ্বজুড়ে নানান দেশের মানবাধিকার কর্মী সাংবাদিক আইনজীবী ও রাজনীতিকদের ফোনের নজরদারি চালানোর ঘটনা ফাঁস হওয়ার পর ইজরায়েলের বেসরকারি কোম্পানি nso গ্রুপের তৈরি করা এই সফটওয়্যার নিয়ে এখন তুমুল তরজা চলছে দুনিয়া জুড়ে । চলুন কথা বলি দুনিয়া ওলট পালট করে দেওয়া স্পাইওয়ার সম্পর্কে । পেগাসাস মূলত একটি নজরদারি বিষয়ক সফটওয়্যার । ইজরাইলের সংস্থা এনএসও ই সফটওয়্যার তৈরি করেছে। যা দিয়ে যে কারো মোবাইলে আড়ি পাতা যায়. এটা কিন্তু সাধারণ কোন নজরদারি নয়. আগে ফোনে আড়ি পেতে শুধু দুই প্রান্তের কথাবার্তা শোনা যেত. আর সফটওয়্যারের মাধ্যমে গোটা ফোনটারই নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় হ্যাকাররা. ফোনের কথাবার্তা WhatsApp এর চ্যাট, ছবি, ফোনে কি কি তথ্য আছে সবই জানা যায়. আরো ভয়ানক ব্যবহার হচ্ছে মোবাইল যিনি ব্যবহার করছেন তিনি জানতেই পারেন না যে তার ফোন হ্যাক করা হয়েছে. সমস্ত তথ্য পাচার হয়ে যাচ্ছে নির্দিষ্ট একটি গোষ্ঠীর কাছে. কিন্তু কারো ফোনে পেগাসাস software install করতে হলে তো সেই ফোনটাকে...

রেট রেস কি ?

      আপনি ঠিক কখন ইঁদুর দৌড়ে যোগ দিয়েছেন এটা হিসাব করা কঠিন. কিন্তু নিশ্চিত থাকুন আপনি এই দৌড়ে আছেন. ক্লাস eight এ পড়ার সময়ের কথা মনে আছে? সামনে বৃত্তি পরীক্ষা পাটিগণিত বীজগণিতের অংক প্যাঁচ লাগাচ্ছে বিজ্ঞানের জটিল সব সূত্র ভোরে ওঠে প্রাইভেট টিউটরের বাসায় ছোটা রাত জেগে পড়াশোনা. বয়সের তুলনায় অনেক বেশি কর্ম ব্যস্ত একটা সময় নিশ্চয়ই কাটিয়েছেন তখন? আমরা সবাই কাটিয়েছি. সেই সময় নিশ্চয়ই অভিভাবক বলেছে এই তো আর কটা দিন. বৃত্তি পরীক্ষা শেষ হলেই জীবন শান্তি আর শান্তি. জীবনের নানা এপিসোডে আপনি এই কথাগুলো শুনেছেন অনেকবার অনেকের মুখে. এসএসসি পরীক্ষাটা দাও, কলেজে উঠলেই তো স্বাধীনতা. একবার ভার্সেটিতে উঠতে পারলেই জীবন হবে আনন্দে ভরপুর. একবার জব লাইফে ঢোকো. নিজের টাকায় আয়েশ করার মজাই অন্যরকম. শুনেছেন না এসব?  বয়স ঘড়ির ত্রিশের প্রান্তে দাঁড়িয়ে হিসেবগুলো মেলাতে পারেন কি? কি মনে হয়? এই এপিসোডগুলোর কোনোটা পার হবার সময় জীবন খানিকটা হলেও সহজ হয়েছে? সুন্দর হয়েছে? হয়নি, হবেও না, মিথ্যা একটা মরীচিকার আশায় আমরা ছুটেছি ঠিকই আমাদের ছোটানো হয়েছে, কিন্তু হিসাব মেলেনি ছুটত...

ম্যান্ডেলা ইফেক্ট কেনো হয়?

   আচ্ছা নিজের স্মৃতি শক্তির উপর কতটা বিশ্বাস আছে আপনার? আচ্ছা বাদ দিয়ে আপনার কথা. গণমানুষের স্মৃতিশক্তির উপর নিশ্চয়ই বিশ্বাস আছে অনেকটা. না না. ধর্মীয় কোন বিশ্বাস না. এই গ্রহে ঘটে যাওয়া এমন সব ঘটনা. যা সবাই জানে. তা কি রকম মিথ্যা? এক দশক আগেও পৃথিবীর প্রায় এক তৃতীয়াংশ মানুষ জানতো যে অস্ট্রেলিয়ার রাজধানীর নাম সিডনি. আসলে কি তাই? গত এক দশকে এই ধারণা মোটামুটি পরিবর্তন হয়ে মানুষ জেনেছে অস্ট্রেলিয়ার রাজধানীর নাম ক্যানভেরা. এখনো এই ভুল হরমামেশাই করে যাচ্ছে মানুষ. বিশ্বাস না হলে আশেপাশের কিছু মানুষকে জিজ্ঞেস করে দেখতে পারে. প্রশ্ন করতে পারেন ম্যান্ডেলার নাম কেন? এই ফ্ললস মেমোরি সিন্ড্রোমকে ম্যান্ডেল এফেক্ট নামকরণ করেছেন প্যারানরমাল কনসালটেন্ট ফীয়না ব্রুম তার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে । দু হাজার দশ সালের এক আলোচনা সভায় উঠে আসে দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদ বিরোধী আন্দোলনের নেতা উনিশশো আশি সালে কারা জানে মারা যাওয়ার প্রসঙ্গ । অনেকেই সেদিন বলেছিল, টিভিতে এই নেতার শেষকৃত্যের আনুষ্ঠানিকতা দেখার অভিজ্ঞতার কথা. ম্যান্ডেলার স্ত্রীর হৃদয় নিন্দারও ভাষণের কথা উল্লেখ করেছিলেন কেউ কেউ. এমনক...

কিভাবে লিমিটলেস হওয়া যায় ? লিমিটলেস আসলে কিভাবে কাজ করে ?

এনজিটিপিল,  এটা এমন এক পিল যা আপনাকে করবে আল্ট্রা ফোকাসড. দেবে দুর্দান্ত মোটিভেশন. বের করে আনবে আপনার সর্বোচ্চ সম্ভাবনা. আপনি হয়ে উঠবেন আনস্টপল. বাস্তবতা পাবে প্রতিটি স্বপ্ন. কিন্তু সমস্যা হচ্ছে এমন কোন পিলের অস্তিত্ব নেই. ফলাফল আপনি আটকে আছেন একটি খাদে. সারাক্ষণ ক্লান্তি নিয়ে হয়ে উঠছেন আনপ্রোডাক্টিভ. নষ্ট হচ্ছে ক্রিয়েটিভিটি. সময় গড়িয়ে যায়. ঋতুর পরিবর্তন ঘটে. কিন্তু আপনি ডুবে থাকেন এক হতাশায় যাতে আপনি দিন দিন পিছিয়ে পরছেন. আপনি যা যা এতদিন অর্জন করবেন ভেবেছিলেন তা কিছুই আপনি অর্জন করতে পারেননি । নিজেকে সান্তনা দিচ্ছেন আগামীকাল হবে ভিন্ন। কিন্তু তা কখনোই হয়ে ওঠে না এখন যদি আপনাকে বলি কোনো জাদুকরী পিলের সাহায্যে নয় বাস্তবিক লিমিটলেস হয়ে ওঠা সম্ভব।  একদম প্রমাণিত পদ্ধতিতে যা একেবারে ফ্রিতে ব্যবহার করা সম্ভব.  তো আছেন তো শেষ পর্যন্ত ?  Limit less হওয়ার যাত্রায় ।  স্টেপ ওয়ান : এনার্জি--  মাত্র কয়েক মাস আগে আমি নিজেও আপনার মতো কর্মশক্তিহীন অনুভব করতাম. সামান্য কাজেই আসতো অবসন্নতা, গেয়ে ধরতো ক্লান্তি একদিন হঠাৎ টের পেলাম আমি নিজেই নিজের energy নি...

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কি ? আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কতটা ভযঙ্কর হতে পারে আগামী দিনের জন্য ?

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বহুল চর্চিত এবং ব্যবহৃত একটি শব্দ. মানুষের বুদ্ধিমত্তা ও চিন্তা শক্তিকে কম্পিউটার প্রোগ্রামিং এর মাধ্যমে মেশিন ল্যাঙ্গুয়েজে স্থাপন করা টেকনোলজিটাই হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স । এর মাধ্যমে কোন যন্ত্র নির্দিষ্ট প্রোগ্রামের আওতাধীন কিছু কাজ নিজে থেকেই করতে পারে নিজে নিজে সিদ্ধান্ত নিতে পারে।  টার্মিনেচার টাইপের কোনো সাইফাই সিনেমার গুরু বন্ধুর সংলাপ নয়।  A.I নিয়ে ভবিষ্যৎবাণী করেছিলেন পৃথিবীর সেরা বিজ্ঞানীদের একজন স্টিফেন হকিং আমার ভয় হয় তারা সত্যিই হয়তো একদিন মানুষকে হটিয়ে নিয়ন্ত্রকের আসনে বসে যাবে। বেঁচে থাকতেই BBC কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স তথা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে এভাবেই সবাইকে সতর্ক করেছিলেন তিনি। হকিংসের এই ভয় এখনো ভবিষ্যতের বিষয় হলেও অমূলক নয় মোটেও যন্ত্রকে বুদ্ধিমান করে তার আশীর্বাদ অনেক আছে। কিন্তু দীর্ঘ মেয়াদে সেই যন্ত্রই পৃথিবীর দখল নিতে চলেছে কিনা স্বয়ং সম্পূর্ণ হয়ে মানুষকেই বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে একদিন অপদার্থ তে পরিণত করবে কিনা সেই প্রশ্নটা উঠছে বারবার।  যুক্তরাষ্ট্রে...

মিনিমালিজম কি ? কিভাবে মিনিমালিস্ট হওয়া যায় ?

মিনিমামলিজম এই ধারণাটি বিগত কয়েক বছরে বেশ জনপ্রিয়তা লাভ করেছে এবং এর যথেষ্ট কারণও আছে. এই পুরো ব্যাপারটা কি? সেটাকে সঙ্গায়িত করা যায় এভাবে যে,  মিনিমালিজম হচ্ছে যা আমাদের জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সেগুলোকে ধারণ করা এবং বাকি সব কিছু যা আমাদের দৃষ্টিকে অন্যদিকে সরিয়ে নেয় সেগুলোকে ইচ্ছাকৃতভাবে ত্যাগ করা।   অর্থাৎ কোন কোন বিষয়ে জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং কোন জিনিসগুলোকে আমাদের কাছে সবচেয়ে মূল্যবান সেই সম্পর্কে একটা পরিষ্কার ধারণা থাকা এবং বাকি সব ত্যাগ  করে দেয়. সেগুলো নিয়েই জীবন ধারণ করা. কিন্তু এমন সংজ্ঞায়ন সত্ত্বেও minimalism কোন ধরাবাধা জীবন ব্যবস্থা নয় বা মিনিমালিস্ট হতে হলে কোন নির্দিষ্ট মানদণ্ড মেনে চলতে হবে এরকমটিও কিন্তু নয়. মিনিমালিস্ট লাইফ স্টাইল এমন একটি বিষয় যা প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য স্বতন্ত্র। এক্ষেত্রে মূল বিষয়টি হচ্ছে সত্যিকার অর্থে কোন কোন বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও প্রয়োজনীয় সেই সম্পর্কে একটা পরিষ্কার ধারণা নিয়ে সেই অনুযায়ী জীবন ধারণ করা. প্রিয় দর্শক চলুন দেখি মিনিমালিজম কিভাবে আপনার জীবনধারা বদলে দিতে পারে।  মিনিমালিস্ট জীবন অবশ...