সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পৃথিবীর দুর্দ্র্ষ গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ ।

  অক্টোবর দু হাজার উনিশ স্থানীয় এক পত্রিকায় সাক্ষাৎকার দেওয়ার সময় ইরানের ইসলামিক রেভোলুয়েশনারি গার্ডের প্রধান কাসেম সোলেমানী বলেন মোসাদের পক্ষে তাকে হত্যা করা অসম্ভব । তার এমন কথার জবাবে অক্টোবরের এগারো তারিখে the times of ইসরায়েলকে দিয়ে এক সাক্ষাৎকারে মোসাদ প্রধান কোহেন তাচ্ছিল্য করে বলেছিলেন, কাশেম সোলায়মনের প্রতি সম্মান রেখে বলছি সে এখনো এমন কিছু করে বসেনি যার জন্য মসাদ তাকে গুপ্ত হত্যার চিন্তা করবে । বিষয়টা এমন ছিল যে মূসাদের নজরে আসতে হলে কাসিম সোলার মানে কে আরো তাৎপর্যপূর্ণ কিছু একটা করতে হবে. 




এ ঠিক দুই মাস পরেই যুক্তরাষ্ট্রের এক ড্রোন হামলায় বাগদাদের কাশেম সোলায়মানে নিহত হন. তার এক সপ্তাহ পর এমবিসি নিউজ তাদের অনুসন্ধান মূলক এক প্রতিবেদনের মাধ্যমে প্রকাশ করে কাসেম সোলাইমানির দামেস্ক থেকে বাগদাদ ফ্লাইটের বিস্তারিত তথ্য মোসাদের মাধ্যমে CI এর কাছে পাঠানো হয়েছিল. কিছুদিন পর কাশেম সোলামনির ব্যক্তিগত ফোনে মোসাদ আরি পেতেছিল. এমনটাই দাবি করে ইয়াহু নিউজ। এই প্রতিবেদন চাইলে যে কেউ গুজব বলে উড়িয়ে দিতে পারতেন, যদি না ইজরাইলের একজন অবসরপ্রাপ্ত আর্মি জেনারেল বোমাটা না ফাটাতেন।  মেজর জেনারেল তামির হায়ম্যান 2020 সালের শেষের দিকে এক  সাক্ষাৎকারে কাশেম সোলায়মান হত্যায় মোসাদের সম্পৃক্ত তা স্বীকার করেন ।তিনি নিজেই বলেন , যদি কাশেম সোলায়মানের উপরে হামলা আমেরিকা করেছে পরিচালনা করেছে কিন্তু মোসাদ ই ছিল মূল হোতা। সোলায়মানীকে  হত্যা করা ছিল তার জন্য একটা অন্যতম বড় অর্জন. যেহেতু ইরানি. ইজরায়েলের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি. অর্থাৎ কাশেম সোলায়মানের হত্যাকাণ্ডের সামগ্রিকভাবে মোসাদের উপস্থিতি কিন্তু ছিল. তার মৃত্যু

 ইরানের জন্য যে কতটা ট্রেজেডি ছিল তা আমরা কিন্তু সবাই দেখেছি.


 মহসিন ফখরিজাদ । তেহেরানে অবস্থিত ইমাম হোসেন ইউনিভার্সিটির পদার্থ বিজ্ঞানের এক জাগরেল অধ্যাপক। ছিলেন ইসলামিক রেভলিশন এই গার্ডের একজন উর্দ্ধতন কর্মকর্তাও ।  ইজরায়েল এবং অনেক পশ্চিমা পরাশক্তির কাছে তিনি ফাদার অফ ইরানস নিউক্লিয়ার ওয়েপার্স প্রোগ্রাম নামেও পরিচিত।


 নভেম্বর দুহাজার বিশ. কাসেম সোলামনির রক্তের দাগ তখনও শুকায়নি. শোনা গেল মহসিন ফকিজাদেরকে হত্যা করা হয়েছে. এবার ইরানের বাইরের কোন দেশ নয়, বরং খোদ তেহেরানে। মুসাদেরই অপারেশনে কোন ব্যক্তি অংশ নেয়নি বরং অপারেশনটি পরিচালনা করা হয়. স্বয়ংক্রিয় কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত মেশিন গানের মাধ্যমে। এই হত্যাকাণ্ডের পর ইরানের নিরাপত্তা গোয়েন্দা মন্ত্রী মাহমুদ আলভি দাবি করেন যে ব্যক্তি এই হত্যার পরিকল্পনা করেছিল সে ছিল ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর একজন সদস্য মানে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীতে স্বয়ং মোসদের  উপস্থিতি । ইরান সামরিক এবং গোয়েন্দা তৎপরতার দিক দিয়ে বেশ শক্তিশালী রাষ্ট্র. শত্রু রাষ্ট্র হিসেবে ইজরায়েলকে তাঁরা সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রাখে সেটা বলাই বাহুল্য. এমন একটি অবস্থায় তেহরানে মশাদ এই ঘটনা ঘটাবে এটা অনেকেই ভাবতে পারেনি. অনেকের কাছে বিষয়টি আশ্চর্য লাগলেও মোসাদের কাছে এসব গুপ্ত হত্যা অনেকটা পান্তা ভাতের মতো. কারণ কি? কারণ একটাই তারা মোসাদ । ইজরায়েলের অনুসন্ধান মূলক সাংবাদিক রণেন বার্গ ম্যান তার বই দা রাইজ অ্যান্ড কিল ফার্স্ট সিক্রেট হিস্ট্রি অফ ইজরায়েল টার্গেটেড অ্যাসাসিনেশান বইতে বলেন, মূসাদ সৃষ্টির পর থেকে দু হাজার পাঁচ পর্যন্ত প্রায় পাঁচশোটি অপারেশন চালানো হয়. যেখানে এক হাজারের মতো মানুষ মারা গেছে. মোসাদের চোখ সারা বিশ্বে বিস্তৃত.


 মধ্যপ্রাচ্যে ইরাক, জর্ডান, লেবানন, সিরিয়া আরব আমিরা থেকে শুরু করে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ভারত দক্ষিণ কোরিয়ার শ্রীলঙ্কায় তাদের পদচারণা বিস্তৃত. ইউরোপও বাদ নেই তাদের চোখ থেকে. এটা খুব নিশ্চিতভাবেই বলা যায় ইজরায়েল রাষ্ট্রের নৈতিক ভিত্তি মূলত ইহুদীদের ঘরে ফেরার প্রেরণা থেকে. বিভিন্ন সময় বিভিন্ন জায়গা থেকে বিতাড়িত ইহুদীরা আঠেরোশো সত্তর ও আঠারোশো আশির দশকে একটি স্বতন্ত্র ইহুদি রাষ্ট্রের কথা বলতে থাকে. সেই প্রকল্পকে সামনে রেখে আঠারোশো সাতানব্বই সালে জাওনিস্ট সংগঠন গড়ে তোলা হয় যাদের প্রধান উদ্দেশ্যই ছিল ইজরাইল রাষ্ট্রের ভিত্তি স্থাপন করা এবং ইজরাইলকে একটি শক্তিশালী রাষ্ট্রে পরিণত করা. যাইহোক হিটলারের নাৎসি বাহিনীর হাতে প্রায় ষাট লক্ষ ইহুদির মৃত্যুর পর ইহুদি রাষ্ট্রের দাবি আরো জোরালো হতে থাকে. জাওনিস্ট আন্দোলনের ফলশ্রুতিতেই ইজরায়েল প্রথমে ব্রিটিশ ও উপনিবেশিক শক্তি এরপর সম্মিলিত আরব শক্তির বিরুদ্ধে সংগ্রাম চালিয়ে এক নতুন ইসরাইল রাষ্ট্রের ভিত্তিকে মজবুত করে । রাষ্ট্র হিসেবে ইজরাইলের প্রতিষ্ঠার উনিশ মাসের মাথায় উনিশশো ঊনপঞ্চাশ সালে দেশের প্রধানমন্ত্রী ডেভিড বেঙ্গুরিয়ান মোসাদ প্রতিষ্ঠা করেন. তবে ইজরাইলের প্রতিষ্ঠার আগেই যেসব ইহুদী নিষিদ্ধ সংগঠন সংগ্রাম চালাচ্ছিল তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করতে যে কাঠামো গড়ে উঠেছিল তাদের মোসাদের পূর্বসূরি হিসেবে বলাই যায়.




 হিবরু ভাষায় মূসাদ শব্দের অর্থ ইনস্টিটিউট. আনুষ্ঠানিকভাবে এই গোয়েন্দা সংস্থাটির নাম দ্য ইন্সটিটিউট অফ ইন্টেলিজেন্স এন্ড স্পেশাল অপারেশনস. উল্লেখ্য ইজরাইলে আরো দুটি গোয়েন্দা সংস্থা রয়েছে. আভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থার নাম সিংবেদ এবং সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার নাম আগাফ আমুদী বা সংক্ষেপে আমন.


 ইজরাইলের এই তিন ধরনের গোয়েন্দা সংস্থার মধ্যে মোসাদের কাজ বৈদেশিক অপারেশনগুলো পরিচালনা করা. চরম গোপনীয়তার বেড়াজালে মোড়া মোসাদ সম্পর্কে খুব কমই জানা যায়. কর্মী সংখ্যাও কারোর ঠিক জানা নেই. এখন যাওবা ইজরায়েলের আইন অনুযায়ী শুধুমাত্র সংস্থার প্রধানের নাম প্রকাশ করা হয়. উনিশশো ছিয়ানব্বই সালের আগে সেটাও হতো না. মোসাদের প্রতিষ্ঠাতা তৎকালীন ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রী ডেভিড বেঙ্গুরিয়ান মনে করতেন. গোয়েন্দা বৃদ্ধি ইজরাইলের প্রথম লাইন অফ ডিফেন্স.


 এর নীতিমালা ও কার্যক্রম অনেকটা যুক্তরাষ্ট্রের সিআইএ যুক্তরাজ্যের এমআই সিক্স ও কানাডার সিএসআইএস এর মতোই । অন্যান্য বৈদেশিক গোয়েন্দা সংস্থার তুলনায় মোসাদের দায়িত্ব বা কাজের পরিধির বেশ পার্থক্য লক্ষ্য করা যায় । সংস্থাটির স্বঘোষিত উদ্দেশ্যের মধ্যে রয়েছে ইজরাইলের সীমানার বাইরে গোপনে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করা, শত্রূভাবাপন্ন দেশগুলোর পারমাণবিক কার্যক্রমকে ব্যাহত করা, দেশে-বিদেশে ইসরাইলের লক্ষ্যবস্তুর ওপর হামলার ষড়যন্ত্র আগাম প্রতিরোধ করা।

 যেসব দেশে বিশেষ করে ইজরায়েলের অধিবেশন সংস্থা আইনত সক্রিয় হতে পারে না সেইসব দেশ থেকে ইহুদীদের ইজরায়েলে নিয়ে আসার দায়িত্ব পালন করে মোসাদ. মনে রাখতে হবে বিশ্বের যে কোন ইহুদীর জন্য ইজরাইলের দ্বার কিন্তু খোলা রয়েছে. যাতে সে সেখানেই পাকাপাকি ভাবে বসবাস করতে পারে ।


 ইজরাইলের সীমানার বাইরে বিশেষ অভিযানের পরিকল্পনা ও কার্যকর করার বিশেষ দায়িত্বও পালন করে মোসাদ. তাছাড়া কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স পরিচালনা, গুপ্তহত্যা, বৈদেশিক নীতি নির্ধারণের সহায়তা, কাউন্টার টেরোরিজম, নিজস্ব লোক সংগ্রহ নেটওয়ার্ক তৈরি, বিদেশি কূটনীতিকদের উপর নজরদারি, শত্রু এজেন্টদের সন্ধান সাইবার ওয়লফেযার পরিচালনা, নতুন প্রযুক্তি সংগ্রহ, গোপন  অপারেশন পরিচালনা, ড্রোন আক্রমণ , গুপ্ত কারাগার পরিচালনা, বিশ্বের বড় বড় কর্পোরেশনের নীতি নির্ধারণের চেষ্টা ইত্যাদি বিষয় মোসাদের প্রধান এজেন্ডা। 



  ইজরায়েলের সামরিক ও বেসামরিক গোয়েন্দা বিভাগের বাছাই করা কর্মকর্তাদের নিয়ে পরিচালিত মোসাদের মোট আটটি বিভাগ রয়েছে. এর মধ্যে পাঁচটি সম্পর্কে কিছু তথ্য জানা যায়. কালেকশন ডিপার্টমেন্ট মোসদের সবচেয়ে বড় বিভাগ. এই ডিপার্টমেন্টের প্রধান কাজ হচ্ছে বিভিন্ন দেশে গুপ্তচর বৃত্তি করা. বিভিন্ন দেশে কাজ করার জন্য তাঁরা দক্ষ গুপ্তচর নিয়োগ দিয়ে থাকে. বহির্বিশ্বে ডিপ্লোম্যাট ব্যবসায়ী, সাংবাদিক সহ অন্যান্য ছদ্মবেশে কাজ করেন এই বিভাগের এজেন্টরা. পলিটিক্যাল অ্যাকশন এবং লিয়াজো ডিপার্টমেন্ট গ্রুপের কাজ প্রতিটি বন্ধুভাব পণ্য দেশের গোয়েন্দা ও গুপ্তচর সংস্থার সাথে সমন্বয় রক্ষা করা. স্পেশাল অপারেশন ডিপার্টমেন্ট গ্রুপকে গুপ্তহত্যার কাজে ব্যবহার করা হয়. ল্যাব ডিপার্টমেন্ট প্রতিপক্ষের উপর চাপ সৃষ্টি করতে নানান মিথ্যা প্রোপাগান্ডা চালায় ও শত্রু শিবিরে ভুল খবর ছড়িয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করে. research department এর কাজ যাবতীয় গোয়েন্দা গবেষণা ও counter intelligence এর ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত উন্নতি বৃদ্ধির জন্য নিরন্তর কাজ করে চলা. মোসাদ কিভাবে তাদের অপারেশন গুলো সম্পন্ন করে. একটি গুপ্তহত্যা বা অ্যাসাসিনেশন সম্পন্ন করতে হলে কয়েকটি ধাপে তারা এগোয়. প্রথমে কালেকশন টিমের তথ্য অনুসারে যাকে হত্যা করা হবে তাকে প্রাথমিকভাবে টার্গেট করা হয়. টার্গেট করার পর ওই বিষয়টি নিয়ে একটি cost benefit analysis করা হয়. তাকে হত্যা করা হলে ইজরাইল কিভাবে লাভবান হবে? যদি দেখা যায় এই হত্যাকাণ্ড ঘটালে আসলে ইসরায়েলের লাভ তাহলে এই হত্যার নীল নকশা সাজানো হয়. মোসাদের বিশেষজ্ঞ ইউনিট চূড়ান্তভাবে টার্গেট হিসেবে ফাইল করলে তা পাঠানো হয় গোয়েন্দা সংস্থাটির এক ঊর্ধ্বতন কমিটির কাছে যাকে হিব্রুতে বলা হয় বা রাসায়ফিম. এই কমিটির অপারেশন অনুমোদন করা বা বাতিল করার আইনগত কোন বৈধতা নেই. তাঁরা শুধু অপারেশনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন পরামর্শ প্রদান করতে পারে. মোসাদের অপারেশন অনুমোদন বা বাতিল করার বৈধতা একমাত্র প্রধানমন্ত্রীর হাতেই রয়েছে.



 যদিও বিভিন্ন রাজনৈতিক কারণে প্রধানমন্ত্রী নিজে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন না। যদি প্রধানমন্ত্রী অপারেশনটি পরিচালনা করার অনুমতি দেন তাহলে তা বাস্তবায়নের জন্য আবার মোসাদের ওপর দায়িত্ব অর্পিত হয় এবং তার ধারাবাহিকতায় মোসাদের পরিকল্পনা মাফিক গুপ্ত হত্যাটি সম্পন্ন করে। হত্যাকান্ড বাস্তবায়নের দায়িত্ব পরে স্পেশ্যাল অপারেশন ডিপার্টমেন্টের ওপর. অপারেশনটি যদি বেশি সংবেদনশীল এবং গুরুত্বপূর্ণ হয় তাহলে এর দায়িত্ব পড়ে মোসাদের একটি বিশেষ ইউনিটের উপর যাকে হিব্রতে বলা হয় কিডন । বাংলায় কিডন অর্থ পিয়নে. এরা গুপ্তহত্তায় বিশেষভাবে প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত. মশাদের সবচেয়ে আলোচিত গুপ্তহত্যা মিশন অপারেশন গড পরিচালনা করে এই কিডন ইউনিট. যা সারা বিশ্বের গোয়েন্দা অপারেশনের ইতিহাসে একটি দৃষ্টান্ত সৃষ্টিকারী অপারেশন. শেষ করব আজ. শেষ করার আগে দুটি ঘটনা বলে তারপর শেষ করবো. সময়টা দু হাজার সাল. বিবিসির প্রখ্যাত সাংবাদিক আসামের অধিবাসী ভারতের সুবীর ভৌমিক দি উইক পত্রিকায়ড abouted মিশন. ডিট মুসাদ এটেম্পট টু ইনফিল ট্রেড ইসলামিক রেডিক্যালস আউট ফিটস ইন সাউথ এশিয়ান শিরোনামে একটি অনুসন্ধানে প্রতিবেদন লেখেন ।


জেব দু হাজার সালের বারোই জানুয়ারি ভারতীয় গোয়েন্দা কর্মকর্তারা কলকাতায় ঢাকা অভিমুখী বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইট থেকে এগারো জন বিদেশি নাগরিককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেন। তাদের ঢাকায় অবতরণের অনুমতি ছিল অথচ ভিসা ছিল না. ধারণা করা হচ্ছিল তারা আফগান নাগরিক. কিছু সময় ছিল ইরানের. তারপর ভারত হয়ে ঢাকায় অবতরণের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে. সেই এগারো জনের জাতীয়তা তথ্য নিয়ে ভারতীয় গোয়েন্দা কর্মকর্তারা প্রায় হতবাক হয়ে গেছিলেন। তারা সবাই ইজরায়েলের হয়ে কাজ করছে এবং একটি মিশনে তারা যাচ্ছিল বাংলাদেশ. অনুসন্ধান প্রতিবেদনটিতে বলা হয় তেলআবিব তাদের মুক্তি নিশ্চিত করতে দিল্লিকে ব্যাপক চাপ প্রয়োগ করে. তারপর অভিযান থেকে তাদের দ্রুত ফেরত নেওয়া হয়.


 তার মানে মোসাদ শুধু মধ্যপ্রাচী না বা উন্নত বিশ্বেই নয়. খোদ বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশেও ছড়িয়ে আছে আর তাদের যাতায়াত আছে অহরহ.



 সেপ্টেম্বর এগারো দুহাজার এক. টুইন টাওয়ার তথা ওয়ার্ল্ড রেড সেন্টারে এই শতকের সবচেয়ে আলোচিত হামলাটি করা হয়. সিআইএ এই হামলার পেছনে ওসামা বিন লাদেনের আল কায়দাকেই দায়ী করে. সেই সময় ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে প্রায় চার হাজারের মতো ইহুদি কাজ করতেন. সেই বছর জেরুজালেম পোস্টের ইন্টারনেট সংস্করণে বলা হয় হামলার দিন চার হাজার ইহুদীর মধ্যে মাত্র দুইজন মারা যায়. ওই দিন এত বিপুল সংখ্যক ইহুদী কিভাবে নিরাপদে ছিল তার জবাব আজ পর্যন্ত কেউ দিতে পারেনি বা দেয়নি. অথচ যে সময় ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে হামলা হয়েছে প্রতিদিন ওই সময় প্রায় সমস্ত ইহুদী নাগরিকেরই কিন্তু অফিসে থাকার কথা. ব্যতিক্রম শুধু ওই হামলার দিনটাই. এই ঘটনার ওপর ভিত্তি করে কিন্তু এটা নিশ্চিত করে বলা যায় না. যে এটা মোসাদ ঘটিয়েছে বা মোসাদ ই এই সম্পর্কে আগে থেকেই জানতো. তবে এই ঘটনা যে বিশাল একটা সংশয় তৈরি করে. এটা বলার অপেক্ষা রাখে না হয়তো. হয়তো কোনো অপ্রকাশিত রহস্য থাকতেও পারে. মোসাদের লক্ষ্য কিন্তু একটাই ইজরায়েলকে বিশ্বের মোড়লদের এক জোট হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা. তা কি আসলেই হতে যাচ্ছে? 



কমেন্ট করে জানান আপনার মতামত ! 



    


     

মন্তব্যসমূহ

Blog Posts

পেগাসাস স্পাইওয়ার কি ?

গত কিছুদিন ধরেই বিশ্ব রাজনীতি এবং প্রযুক্তি জগৎ এই দুই জায়গাতেই আলোচনার বিষয়বস্তু একটাই। সেটা হচ্ছে পেগাসাস স্পাইওয়ার. বিশ্বজুড়ে নানান দেশের মানবাধিকার কর্মী সাংবাদিক আইনজীবী ও রাজনীতিকদের ফোনের নজরদারি চালানোর ঘটনা ফাঁস হওয়ার পর ইজরায়েলের বেসরকারি কোম্পানি nso গ্রুপের তৈরি করা এই সফটওয়্যার নিয়ে এখন তুমুল তরজা চলছে দুনিয়া জুড়ে । চলুন কথা বলি দুনিয়া ওলট পালট করে দেওয়া স্পাইওয়ার সম্পর্কে । পেগাসাস মূলত একটি নজরদারি বিষয়ক সফটওয়্যার । ইজরাইলের সংস্থা এনএসও ই সফটওয়্যার তৈরি করেছে। যা দিয়ে যে কারো মোবাইলে আড়ি পাতা যায়. এটা কিন্তু সাধারণ কোন নজরদারি নয়. আগে ফোনে আড়ি পেতে শুধু দুই প্রান্তের কথাবার্তা শোনা যেত. আর সফটওয়্যারের মাধ্যমে গোটা ফোনটারই নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় হ্যাকাররা. ফোনের কথাবার্তা WhatsApp এর চ্যাট, ছবি, ফোনে কি কি তথ্য আছে সবই জানা যায়. আরো ভয়ানক ব্যবহার হচ্ছে মোবাইল যিনি ব্যবহার করছেন তিনি জানতেই পারেন না যে তার ফোন হ্যাক করা হয়েছে. সমস্ত তথ্য পাচার হয়ে যাচ্ছে নির্দিষ্ট একটি গোষ্ঠীর কাছে. কিন্তু কারো ফোনে পেগাসাস software install করতে হলে তো সেই ফোনটাকে...

প্রযুক্তি দুনিয়াতে পর্দার আড়ালে থেকে যাওয়া এক প্রতিভাবান এর গল্প ।

পর্দার আড়ালে একা খেলে যাচ্ছেন একজন. কামাচ্ছেন বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার. অথচ তাকে চেনে খুব কম সংখ্যক মানুষ. আইটি জগতে ইলন মাস্ক, জেফ বোজোস বা বিট গ্রেটসের সাথে তার নামও সমান তালে চলার কথা ছিল. কিন্তু বিহাইন্ড দা সিনে একা গোল করে যাচ্ছেন তিনি. নাম ড্রোন ইয়াং পিং ড্রোন ইয়াং পিং নামটি মোবাইল ফোনের জগতে খুবই কম মানুষের শোনা. তবে তার নাম অজানা থাকলেও তার কোম্পানি বিবিকে ফোন গিগদের মধ্যে বেশ পরিচিত. ওয়ান প্লাস, রিয়েলমি, অপো, ভিভো এবং আইকিউ. এই পাঁচটি জনপ্রিয় মোবাইল ব্র্যান্ডের একক মালিক ডোন ইয়াং পিন.  এই ব্র্যান্ড গুলো তার কোম্পানিতে পরিণত করেছে বর্তমানের সবচেয়ে বড় মোবাইল ফোন উৎপাদনকারী কোম্পানিতে. অ্যাপেল , শাওমি বা স্যামসাং যারা মোবাইল ফোনের জগতে বর্তমানে সবচেয়ে বড় ব্র্যান্ড তাদেরকেও পেছনে ফেলে এগিয়ে গিয়েছে বিবিকে কোম্পানি। কিন্তু এত সফলতার সত্ত্বেও বেশিরভাগ মোবাইল ফোন ব্যবহারকারী এমনকি ফোন গিগরাও তার সম্পর্কে বলতে গেলে তেমন কিছুই জানে না. এলেন মাস্ক, স্টিভ জবস বা জ্যাকমা, যারা কিনা টেকনোলজির জগতে খুবই পরিচিত তাদের সম্পর্কে অনলাইনে  অগণিত তথ্য রয়েছে। কিন্তু ডন ইয়ং পিং এর...

ডিপ্রেশন কি ? এটা কত প্রকার ? বাইপোলার ডিসঅর্ডার কি ?

আজকাল খুব কমন একটা শব্দ ডিপ্রেশন. যার বাংলা অবসাদ । ডিপ্রেশনের সাথে সাথে পরিচিত হয়ে উঠছি আমরা মুড সুইং শব্দটার সাথেও । এই জেনারেশনের কারো সোশ্যাল মিডিয়ায় ডিপ্রেশনে না ভোগাটাই যেন বিরাট অপমানজনক। সবাই কেন যেন অস্থির হয়ে আছে বোঝাতে যে সে ডিপ্রেশনে ভুগছে । কখনো গানের লিরিক্স আবার কখনো বিখ্যাত লেখকের কোটেশন সবকিছুতেই ডিপ্রেশন । সাইকিয়াট্রিতে এই ডিপ্রেশন হল এক ধরনের মুড ডিসঅর্ডার । যেটা একমুখী অবসর বা ইউনিফুলার ডিপ্রেশন । কিন্তু সম্প্রতি আর এক ধরণের অবসাদ বিজ্ঞানীদের মাথা খারাপ করে দিচ্ছে। যেটাকে বলা হচ্ছে বাই পোলার ডিপ্রেশন । বাই পোলার অর্থাৎ দ্বিমুখী । একে ম্যানিক ডিপ্রেশনে বলা হয়। এখনো পর্যন্ত মনোবিজ্ঞানীরা বাই পোলার ডিসঅর্ডারের কারণ সম্পর্কে সঠিকভাবে জানতে পারেন নি। এর ওপর প্রচুর গবেষণা চলছে। জানলে অবাক হবেন যে শুধুমাত্র আমেরিকাতেই সাত মিলিয়নেরও বেশি মানুষ বাইপোলার ডিসঅর্ডারে ভুগছে । কিন্তু আসলে কি ঘটে? বাইপোলার ডিসঅর্ডারে? চলুন কথা বলি বাই পোলার ডিসঅর্ডার নিয়ে আজ কথা বলা যাক।   বাইপোলার ডিসঅর্ডার কাকে বলে? খুব সংক্ষেপে বলা যায় বাইপোলার ডিসঅর্ডার একটি মানসিক অবস্থা। যে...

কিভাবে লিমিটলেস হওয়া যায় ? লিমিটলেস আসলে কিভাবে কাজ করে ?

এনজিটিপিল,  এটা এমন এক পিল যা আপনাকে করবে আল্ট্রা ফোকাসড. দেবে দুর্দান্ত মোটিভেশন. বের করে আনবে আপনার সর্বোচ্চ সম্ভাবনা. আপনি হয়ে উঠবেন আনস্টপল. বাস্তবতা পাবে প্রতিটি স্বপ্ন. কিন্তু সমস্যা হচ্ছে এমন কোন পিলের অস্তিত্ব নেই. ফলাফল আপনি আটকে আছেন একটি খাদে. সারাক্ষণ ক্লান্তি নিয়ে হয়ে উঠছেন আনপ্রোডাক্টিভ. নষ্ট হচ্ছে ক্রিয়েটিভিটি. সময় গড়িয়ে যায়. ঋতুর পরিবর্তন ঘটে. কিন্তু আপনি ডুবে থাকেন এক হতাশায় যাতে আপনি দিন দিন পিছিয়ে পরছেন. আপনি যা যা এতদিন অর্জন করবেন ভেবেছিলেন তা কিছুই আপনি অর্জন করতে পারেননি । নিজেকে সান্তনা দিচ্ছেন আগামীকাল হবে ভিন্ন। কিন্তু তা কখনোই হয়ে ওঠে না এখন যদি আপনাকে বলি কোনো জাদুকরী পিলের সাহায্যে নয় বাস্তবিক লিমিটলেস হয়ে ওঠা সম্ভব।  একদম প্রমাণিত পদ্ধতিতে যা একেবারে ফ্রিতে ব্যবহার করা সম্ভব.  তো আছেন তো শেষ পর্যন্ত ?  Limit less হওয়ার যাত্রায় ।  স্টেপ ওয়ান : এনার্জি--  মাত্র কয়েক মাস আগে আমি নিজেও আপনার মতো কর্মশক্তিহীন অনুভব করতাম. সামান্য কাজেই আসতো অবসন্নতা, গেয়ে ধরতো ক্লান্তি একদিন হঠাৎ টের পেলাম আমি নিজেই নিজের energy নি...

ম্যান্ডেলা ইফেক্ট কেনো হয়?

   আচ্ছা নিজের স্মৃতি শক্তির উপর কতটা বিশ্বাস আছে আপনার? আচ্ছা বাদ দিয়ে আপনার কথা. গণমানুষের স্মৃতিশক্তির উপর নিশ্চয়ই বিশ্বাস আছে অনেকটা. না না. ধর্মীয় কোন বিশ্বাস না. এই গ্রহে ঘটে যাওয়া এমন সব ঘটনা. যা সবাই জানে. তা কি রকম মিথ্যা? এক দশক আগেও পৃথিবীর প্রায় এক তৃতীয়াংশ মানুষ জানতো যে অস্ট্রেলিয়ার রাজধানীর নাম সিডনি. আসলে কি তাই? গত এক দশকে এই ধারণা মোটামুটি পরিবর্তন হয়ে মানুষ জেনেছে অস্ট্রেলিয়ার রাজধানীর নাম ক্যানভেরা. এখনো এই ভুল হরমামেশাই করে যাচ্ছে মানুষ. বিশ্বাস না হলে আশেপাশের কিছু মানুষকে জিজ্ঞেস করে দেখতে পারে. প্রশ্ন করতে পারেন ম্যান্ডেলার নাম কেন? এই ফ্ললস মেমোরি সিন্ড্রোমকে ম্যান্ডেল এফেক্ট নামকরণ করেছেন প্যারানরমাল কনসালটেন্ট ফীয়না ব্রুম তার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে । দু হাজার দশ সালের এক আলোচনা সভায় উঠে আসে দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদ বিরোধী আন্দোলনের নেতা উনিশশো আশি সালে কারা জানে মারা যাওয়ার প্রসঙ্গ । অনেকেই সেদিন বলেছিল, টিভিতে এই নেতার শেষকৃত্যের আনুষ্ঠানিকতা দেখার অভিজ্ঞতার কথা. ম্যান্ডেলার স্ত্রীর হৃদয় নিন্দারও ভাষণের কথা উল্লেখ করেছিলেন কেউ কেউ. এমনক...

সারোগেসি কি ?

সারোগেসির মাধ্যমে সন্তান ধারণ করা নিয়ে এখনো বহু বিতর্ক আছে. শুধু আমাদের দেশে নয়, সারা বিশ্বেই এই পদ্ধতি নিয়ে তর্ক বিতর্কের শেষ নেই.  এটার আইনি প্রক্রিয়াও জটিল। কারণ এটি একেক রাষ্ট্রে. শারোগেসি আইন একেক রকম. নারী মা হবেন প্রাকৃতিক নিয়ম সমাজ এমনটাই দেখতে অভ্যস্ত. কিন্তু কোন কারণে মা হবার ক্ষমতা না থাকলে তাকে পরিবার ও আশপাশ থেকে যে পরিমাণ কটু কথা শুনতে হয় তা সাধারণ মানুষের ধারণারও বাইরে.   সরোগেসি বিষয়টি কি? চিকিৎসা শাস্ত্রের অগ্রগতি এমন মায়েদের সামনে এনেছে যারা গর্ভ ভাড়া দিয়ে নিজে বাঁচেন অন্যদের মাতৃ সুখ দেন । একজন নারীর গর্ভে অন্য দম্পতির সন্তান ধারণের পদ্ধতিকে সারোগেসি বলা হয়.সারোগেসির এই  পদ্ধতি বেশ দীর্ঘকালীন. আইভিএফ পদ্ধতিতে স্ত্রী ও পুরুষের ডিম্বাণু শুক্রাণু দেহের বাইরে নিষিক্ত করে তা নারীর গর্ভাশয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়. কিন্তু এখানেও জটিলতা. কেন? সে বিষয়ে পরে আসছি. বাংলাদেশ সহ বহু দেশই এই সারোগেসি একরকম ভাবে নিষিদ্ধ. সুতরাং বিষয় টি  সংবেদনশীল. এমনকি বেশিরভাগ ধর্মেও রয়েছে নিষেধাজ্ঞা. চলুন কথা বলি সারোগেসি মাদার সম্পর্কে। আইভিএফ বা টেস্ট টি...

রেট রেস কি ?

      আপনি ঠিক কখন ইঁদুর দৌড়ে যোগ দিয়েছেন এটা হিসাব করা কঠিন. কিন্তু নিশ্চিত থাকুন আপনি এই দৌড়ে আছেন. ক্লাস eight এ পড়ার সময়ের কথা মনে আছে? সামনে বৃত্তি পরীক্ষা পাটিগণিত বীজগণিতের অংক প্যাঁচ লাগাচ্ছে বিজ্ঞানের জটিল সব সূত্র ভোরে ওঠে প্রাইভেট টিউটরের বাসায় ছোটা রাত জেগে পড়াশোনা. বয়সের তুলনায় অনেক বেশি কর্ম ব্যস্ত একটা সময় নিশ্চয়ই কাটিয়েছেন তখন? আমরা সবাই কাটিয়েছি. সেই সময় নিশ্চয়ই অভিভাবক বলেছে এই তো আর কটা দিন. বৃত্তি পরীক্ষা শেষ হলেই জীবন শান্তি আর শান্তি. জীবনের নানা এপিসোডে আপনি এই কথাগুলো শুনেছেন অনেকবার অনেকের মুখে. এসএসসি পরীক্ষাটা দাও, কলেজে উঠলেই তো স্বাধীনতা. একবার ভার্সেটিতে উঠতে পারলেই জীবন হবে আনন্দে ভরপুর. একবার জব লাইফে ঢোকো. নিজের টাকায় আয়েশ করার মজাই অন্যরকম. শুনেছেন না এসব?  বয়স ঘড়ির ত্রিশের প্রান্তে দাঁড়িয়ে হিসেবগুলো মেলাতে পারেন কি? কি মনে হয়? এই এপিসোডগুলোর কোনোটা পার হবার সময় জীবন খানিকটা হলেও সহজ হয়েছে? সুন্দর হয়েছে? হয়নি, হবেও না, মিথ্যা একটা মরীচিকার আশায় আমরা ছুটেছি ঠিকই আমাদের ছোটানো হয়েছে, কিন্তু হিসাব মেলেনি ছুটত...

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কি ? আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কতটা ভযঙ্কর হতে পারে আগামী দিনের জন্য ?

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বহুল চর্চিত এবং ব্যবহৃত একটি শব্দ. মানুষের বুদ্ধিমত্তা ও চিন্তা শক্তিকে কম্পিউটার প্রোগ্রামিং এর মাধ্যমে মেশিন ল্যাঙ্গুয়েজে স্থাপন করা টেকনোলজিটাই হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স । এর মাধ্যমে কোন যন্ত্র নির্দিষ্ট প্রোগ্রামের আওতাধীন কিছু কাজ নিজে থেকেই করতে পারে নিজে নিজে সিদ্ধান্ত নিতে পারে।  টার্মিনেচার টাইপের কোনো সাইফাই সিনেমার গুরু বন্ধুর সংলাপ নয়।  A.I নিয়ে ভবিষ্যৎবাণী করেছিলেন পৃথিবীর সেরা বিজ্ঞানীদের একজন স্টিফেন হকিং আমার ভয় হয় তারা সত্যিই হয়তো একদিন মানুষকে হটিয়ে নিয়ন্ত্রকের আসনে বসে যাবে। বেঁচে থাকতেই BBC কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স তথা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে এভাবেই সবাইকে সতর্ক করেছিলেন তিনি। হকিংসের এই ভয় এখনো ভবিষ্যতের বিষয় হলেও অমূলক নয় মোটেও যন্ত্রকে বুদ্ধিমান করে তার আশীর্বাদ অনেক আছে। কিন্তু দীর্ঘ মেয়াদে সেই যন্ত্রই পৃথিবীর দখল নিতে চলেছে কিনা স্বয়ং সম্পূর্ণ হয়ে মানুষকেই বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে একদিন অপদার্থ তে পরিণত করবে কিনা সেই প্রশ্নটা উঠছে বারবার।  যুক্তরাষ্ট্রে...

রাশিয়ান হ্যাকাররা এত ভয়ঙ্কর কেন ?

  হ্যাকিং !  খুব ছোট্ট একটা শব্দ কিন্তু এই তাৎপর্য এবং গুরুত্ব দুটোই অপরিসীম. একজন মানুষের জীবন ধ্বংস করার ক্ষমতা তো হ্যাকারদের আছেই. গোটা একটা জাতির অপরিসীম ক্ষতি সাধনা করা সম্ভব. শুধুমাত্র এই হ্যাকিংএর মাধ্যমে. বাংলাদেশ ব্যাংকের টাকা চুরির ঘটনাটা কি উদাহরণ ধরতে পারেন. স্প্যাম মেল পাঠিয়ে সার্ভারের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সরকারি ছুটির সময়টাকে কাজে লাগানোর মাধ্যমে হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশের কিছু ব্যাংক একাউন্টে ট্রান্সফার করে নিয়েছিল এই হ্যাকাররা. এর মধ্যে কিছু টাকা ফিরিয়ে আনা গেছে সত্যি কিন্তু বেশিরভাগেরই কোন হদিস পাওয়া যায় নি.  সাউথ ইন্ডিয়ান সিনেমায় হ্যাকিং এর দৃশ্য দেখে আপনি যদি ভেবে থাকেন যে ভার্সিটি থেকে ড্রপ আউট হওয়া ক্র্যাক হেডেট কিছুর দরুন দিনরাত কম্পিউটারের সামনে বসে এসব করে ফেলছে তাহলে আপনি বোকার স্বর্গে বাস করছেন । হ্যাঁ এরকম হ্যাকার যে নেই তা নয় । ইন্ডিপেন্ডেন্ট হ্যাকার সংখ্যাও পৃথিবীতে কম নয় । কিন্তু দুনিয়া জুড়ে হ্যাকিংকে যারা শিল্পে পরিণত করেছে যারা হ্যাকার হিসেবে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে হয়ে উঠেছে মূর্তিমান আতঙ্কের নাম ...

কেনো বাংলাদেশীরা ইন্ডিয়াকে ঘৃনা করে?

একাত্তর সালের ডিসেম্বর মাস মুক্তিযুদ্ধ চলছে। ভারত তখনও সরাসরি অংশগ্রহণ করেনি মুক্তিযুদ্ধে। বাংলাদেশের পক্ষে কূটনৈতিক তৎপরতা চালাচ্ছে তাঁরা। প্রায় এক কোটি শরণার্থী আশ্রয় নিয়েছে ভারতে। মুজিবনগর সরকারের অস্থায়ী সদর দপ্তর স্থাপিত হয়েছে কোলকাতায়। মুক্তি যোদ্ধারা ভারতের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে ক্যাম্প করে সেখান থেকে আক্রমণ হানছে পাকিস্তানি সেনাদের উপর.  তেসরা ডিসেম্বর বিকেলে ভারতের তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল শ্যাম টেলিফোন করলেন ভারতের ইস্টার্ন আর্মির চিফ অফ স্টাফ, লেফটেন্যান্ট জেনারেল জ্যাক জ্যাকবের এর কাছে. মানিক সো জ্যাকব কে বললেন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীকে বলুন, পাকিস্তানি বিমান থেকে ভারতের পশ্চিমাঞ্চলের এয়ার ফিল্ড গুলোতে বোমা বর্ষণ করা হয়েছে. ইন্দিরা গান্ধী তড়িৎ সিদ্ধান্ত নিলেন. পাকিস্তানের বিপক্ষে যুদ্ধ ঘোষণা করল ভারত। ছয় ডিসেম্বর প্রথম রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশকে স্বাধীন দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দিল ইন্দিরা গান্ধীর সরকার। বাংলাদেশের বয়স পঞ্চাশ বছর পূর্ণ হয়েছে. ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের বয়সও হয়ে গেছে পঞ্চাশ বছর. কিন্তু গত পঞ্চাশ বছরে এদেশের অনেক মানুষের মধ্যে ভারত বির...