অক্টোবর দু হাজার উনিশ স্থানীয় এক পত্রিকায় সাক্ষাৎকার দেওয়ার সময় ইরানের ইসলামিক রেভোলুয়েশনারি গার্ডের প্রধান কাসেম সোলেমানী বলেন মোসাদের পক্ষে তাকে হত্যা করা অসম্ভব । তার এমন কথার জবাবে অক্টোবরের এগারো তারিখে the times of ইসরায়েলকে দিয়ে এক সাক্ষাৎকারে মোসাদ প্রধান কোহেন তাচ্ছিল্য করে বলেছিলেন, কাশেম সোলায়মনের প্রতি সম্মান রেখে বলছি সে এখনো এমন কিছু করে বসেনি যার জন্য মসাদ তাকে গুপ্ত হত্যার চিন্তা করবে । বিষয়টা এমন ছিল যে মূসাদের নজরে আসতে হলে কাসিম সোলার মানে কে আরো তাৎপর্যপূর্ণ কিছু একটা করতে হবে.
এ ঠিক দুই মাস পরেই যুক্তরাষ্ট্রের এক ড্রোন হামলায় বাগদাদের কাশেম সোলায়মানে নিহত হন. তার এক সপ্তাহ পর এমবিসি নিউজ তাদের অনুসন্ধান মূলক এক প্রতিবেদনের মাধ্যমে প্রকাশ করে কাসেম সোলাইমানির দামেস্ক থেকে বাগদাদ ফ্লাইটের বিস্তারিত তথ্য মোসাদের মাধ্যমে CI এর কাছে পাঠানো হয়েছিল. কিছুদিন পর কাশেম সোলামনির ব্যক্তিগত ফোনে মোসাদ আরি পেতেছিল. এমনটাই দাবি করে ইয়াহু নিউজ। এই প্রতিবেদন চাইলে যে কেউ গুজব বলে উড়িয়ে দিতে পারতেন, যদি না ইজরাইলের একজন অবসরপ্রাপ্ত আর্মি জেনারেল বোমাটা না ফাটাতেন। মেজর জেনারেল তামির হায়ম্যান 2020 সালের শেষের দিকে এক সাক্ষাৎকারে কাশেম সোলায়মান হত্যায় মোসাদের সম্পৃক্ত তা স্বীকার করেন ।তিনি নিজেই বলেন , যদি কাশেম সোলায়মানের উপরে হামলা আমেরিকা করেছে পরিচালনা করেছে কিন্তু মোসাদ ই ছিল মূল হোতা। সোলায়মানীকে হত্যা করা ছিল তার জন্য একটা অন্যতম বড় অর্জন. যেহেতু ইরানি. ইজরায়েলের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি. অর্থাৎ কাশেম সোলায়মানের হত্যাকাণ্ডের সামগ্রিকভাবে মোসাদের উপস্থিতি কিন্তু ছিল. তার মৃত্যু
ইরানের জন্য যে কতটা ট্রেজেডি ছিল তা আমরা কিন্তু সবাই দেখেছি.
মহসিন ফখরিজাদ । তেহেরানে অবস্থিত ইমাম হোসেন ইউনিভার্সিটির পদার্থ বিজ্ঞানের এক জাগরেল অধ্যাপক। ছিলেন ইসলামিক রেভলিশন এই গার্ডের একজন উর্দ্ধতন কর্মকর্তাও । ইজরায়েল এবং অনেক পশ্চিমা পরাশক্তির কাছে তিনি ফাদার অফ ইরানস নিউক্লিয়ার ওয়েপার্স প্রোগ্রাম নামেও পরিচিত।
নভেম্বর দুহাজার বিশ. কাসেম সোলামনির রক্তের দাগ তখনও শুকায়নি. শোনা গেল মহসিন ফকিজাদেরকে হত্যা করা হয়েছে. এবার ইরানের বাইরের কোন দেশ নয়, বরং খোদ তেহেরানে। মুসাদেরই অপারেশনে কোন ব্যক্তি অংশ নেয়নি বরং অপারেশনটি পরিচালনা করা হয়. স্বয়ংক্রিয় কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত মেশিন গানের মাধ্যমে। এই হত্যাকাণ্ডের পর ইরানের নিরাপত্তা গোয়েন্দা মন্ত্রী মাহমুদ আলভি দাবি করেন যে ব্যক্তি এই হত্যার পরিকল্পনা করেছিল সে ছিল ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর একজন সদস্য মানে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীতে স্বয়ং মোসদের উপস্থিতি । ইরান সামরিক এবং গোয়েন্দা তৎপরতার দিক দিয়ে বেশ শক্তিশালী রাষ্ট্র. শত্রু রাষ্ট্র হিসেবে ইজরায়েলকে তাঁরা সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রাখে সেটা বলাই বাহুল্য. এমন একটি অবস্থায় তেহরানে মশাদ এই ঘটনা ঘটাবে এটা অনেকেই ভাবতে পারেনি. অনেকের কাছে বিষয়টি আশ্চর্য লাগলেও মোসাদের কাছে এসব গুপ্ত হত্যা অনেকটা পান্তা ভাতের মতো. কারণ কি? কারণ একটাই তারা মোসাদ । ইজরায়েলের অনুসন্ধান মূলক সাংবাদিক রণেন বার্গ ম্যান তার বই দা রাইজ অ্যান্ড কিল ফার্স্ট সিক্রেট হিস্ট্রি অফ ইজরায়েল টার্গেটেড অ্যাসাসিনেশান বইতে বলেন, মূসাদ সৃষ্টির পর থেকে দু হাজার পাঁচ পর্যন্ত প্রায় পাঁচশোটি অপারেশন চালানো হয়. যেখানে এক হাজারের মতো মানুষ মারা গেছে. মোসাদের চোখ সারা বিশ্বে বিস্তৃত.
মধ্যপ্রাচ্যে ইরাক, জর্ডান, লেবানন, সিরিয়া আরব আমিরা থেকে শুরু করে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ভারত দক্ষিণ কোরিয়ার শ্রীলঙ্কায় তাদের পদচারণা বিস্তৃত. ইউরোপও বাদ নেই তাদের চোখ থেকে. এটা খুব নিশ্চিতভাবেই বলা যায় ইজরায়েল রাষ্ট্রের নৈতিক ভিত্তি মূলত ইহুদীদের ঘরে ফেরার প্রেরণা থেকে. বিভিন্ন সময় বিভিন্ন জায়গা থেকে বিতাড়িত ইহুদীরা আঠেরোশো সত্তর ও আঠারোশো আশির দশকে একটি স্বতন্ত্র ইহুদি রাষ্ট্রের কথা বলতে থাকে. সেই প্রকল্পকে সামনে রেখে আঠারোশো সাতানব্বই সালে জাওনিস্ট সংগঠন গড়ে তোলা হয় যাদের প্রধান উদ্দেশ্যই ছিল ইজরাইল রাষ্ট্রের ভিত্তি স্থাপন করা এবং ইজরাইলকে একটি শক্তিশালী রাষ্ট্রে পরিণত করা. যাইহোক হিটলারের নাৎসি বাহিনীর হাতে প্রায় ষাট লক্ষ ইহুদির মৃত্যুর পর ইহুদি রাষ্ট্রের দাবি আরো জোরালো হতে থাকে. জাওনিস্ট আন্দোলনের ফলশ্রুতিতেই ইজরায়েল প্রথমে ব্রিটিশ ও উপনিবেশিক শক্তি এরপর সম্মিলিত আরব শক্তির বিরুদ্ধে সংগ্রাম চালিয়ে এক নতুন ইসরাইল রাষ্ট্রের ভিত্তিকে মজবুত করে । রাষ্ট্র হিসেবে ইজরাইলের প্রতিষ্ঠার উনিশ মাসের মাথায় উনিশশো ঊনপঞ্চাশ সালে দেশের প্রধানমন্ত্রী ডেভিড বেঙ্গুরিয়ান মোসাদ প্রতিষ্ঠা করেন. তবে ইজরাইলের প্রতিষ্ঠার আগেই যেসব ইহুদী নিষিদ্ধ সংগঠন সংগ্রাম চালাচ্ছিল তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করতে যে কাঠামো গড়ে উঠেছিল তাদের মোসাদের পূর্বসূরি হিসেবে বলাই যায়.
হিবরু ভাষায় মূসাদ শব্দের অর্থ ইনস্টিটিউট. আনুষ্ঠানিকভাবে এই গোয়েন্দা সংস্থাটির নাম দ্য ইন্সটিটিউট অফ ইন্টেলিজেন্স এন্ড স্পেশাল অপারেশনস. উল্লেখ্য ইজরাইলে আরো দুটি গোয়েন্দা সংস্থা রয়েছে. আভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থার নাম সিংবেদ এবং সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার নাম আগাফ আমুদী বা সংক্ষেপে আমন.
ইজরাইলের এই তিন ধরনের গোয়েন্দা সংস্থার মধ্যে মোসাদের কাজ বৈদেশিক অপারেশনগুলো পরিচালনা করা. চরম গোপনীয়তার বেড়াজালে মোড়া মোসাদ সম্পর্কে খুব কমই জানা যায়. কর্মী সংখ্যাও কারোর ঠিক জানা নেই. এখন যাওবা ইজরায়েলের আইন অনুযায়ী শুধুমাত্র সংস্থার প্রধানের নাম প্রকাশ করা হয়. উনিশশো ছিয়ানব্বই সালের আগে সেটাও হতো না. মোসাদের প্রতিষ্ঠাতা তৎকালীন ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রী ডেভিড বেঙ্গুরিয়ান মনে করতেন. গোয়েন্দা বৃদ্ধি ইজরাইলের প্রথম লাইন অফ ডিফেন্স.
এর নীতিমালা ও কার্যক্রম অনেকটা যুক্তরাষ্ট্রের সিআইএ যুক্তরাজ্যের এমআই সিক্স ও কানাডার সিএসআইএস এর মতোই । অন্যান্য বৈদেশিক গোয়েন্দা সংস্থার তুলনায় মোসাদের দায়িত্ব বা কাজের পরিধির বেশ পার্থক্য লক্ষ্য করা যায় । সংস্থাটির স্বঘোষিত উদ্দেশ্যের মধ্যে রয়েছে ইজরাইলের সীমানার বাইরে গোপনে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করা, শত্রূভাবাপন্ন দেশগুলোর পারমাণবিক কার্যক্রমকে ব্যাহত করা, দেশে-বিদেশে ইসরাইলের লক্ষ্যবস্তুর ওপর হামলার ষড়যন্ত্র আগাম প্রতিরোধ করা।
যেসব দেশে বিশেষ করে ইজরায়েলের অধিবেশন সংস্থা আইনত সক্রিয় হতে পারে না সেইসব দেশ থেকে ইহুদীদের ইজরায়েলে নিয়ে আসার দায়িত্ব পালন করে মোসাদ. মনে রাখতে হবে বিশ্বের যে কোন ইহুদীর জন্য ইজরাইলের দ্বার কিন্তু খোলা রয়েছে. যাতে সে সেখানেই পাকাপাকি ভাবে বসবাস করতে পারে ।
ইজরাইলের সীমানার বাইরে বিশেষ অভিযানের পরিকল্পনা ও কার্যকর করার বিশেষ দায়িত্বও পালন করে মোসাদ. তাছাড়া কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স পরিচালনা, গুপ্তহত্যা, বৈদেশিক নীতি নির্ধারণের সহায়তা, কাউন্টার টেরোরিজম, নিজস্ব লোক সংগ্রহ নেটওয়ার্ক তৈরি, বিদেশি কূটনীতিকদের উপর নজরদারি, শত্রু এজেন্টদের সন্ধান সাইবার ওয়লফেযার পরিচালনা, নতুন প্রযুক্তি সংগ্রহ, গোপন অপারেশন পরিচালনা, ড্রোন আক্রমণ , গুপ্ত কারাগার পরিচালনা, বিশ্বের বড় বড় কর্পোরেশনের নীতি নির্ধারণের চেষ্টা ইত্যাদি বিষয় মোসাদের প্রধান এজেন্ডা।
ইজরায়েলের সামরিক ও বেসামরিক গোয়েন্দা বিভাগের বাছাই করা কর্মকর্তাদের নিয়ে পরিচালিত মোসাদের মোট আটটি বিভাগ রয়েছে. এর মধ্যে পাঁচটি সম্পর্কে কিছু তথ্য জানা যায়. কালেকশন ডিপার্টমেন্ট মোসদের সবচেয়ে বড় বিভাগ. এই ডিপার্টমেন্টের প্রধান কাজ হচ্ছে বিভিন্ন দেশে গুপ্তচর বৃত্তি করা. বিভিন্ন দেশে কাজ করার জন্য তাঁরা দক্ষ গুপ্তচর নিয়োগ দিয়ে থাকে. বহির্বিশ্বে ডিপ্লোম্যাট ব্যবসায়ী, সাংবাদিক সহ অন্যান্য ছদ্মবেশে কাজ করেন এই বিভাগের এজেন্টরা. পলিটিক্যাল অ্যাকশন এবং লিয়াজো ডিপার্টমেন্ট গ্রুপের কাজ প্রতিটি বন্ধুভাব পণ্য দেশের গোয়েন্দা ও গুপ্তচর সংস্থার সাথে সমন্বয় রক্ষা করা. স্পেশাল অপারেশন ডিপার্টমেন্ট গ্রুপকে গুপ্তহত্যার কাজে ব্যবহার করা হয়. ল্যাব ডিপার্টমেন্ট প্রতিপক্ষের উপর চাপ সৃষ্টি করতে নানান মিথ্যা প্রোপাগান্ডা চালায় ও শত্রু শিবিরে ভুল খবর ছড়িয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করে. research department এর কাজ যাবতীয় গোয়েন্দা গবেষণা ও counter intelligence এর ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত উন্নতি বৃদ্ধির জন্য নিরন্তর কাজ করে চলা. মোসাদ কিভাবে তাদের অপারেশন গুলো সম্পন্ন করে. একটি গুপ্তহত্যা বা অ্যাসাসিনেশন সম্পন্ন করতে হলে কয়েকটি ধাপে তারা এগোয়. প্রথমে কালেকশন টিমের তথ্য অনুসারে যাকে হত্যা করা হবে তাকে প্রাথমিকভাবে টার্গেট করা হয়. টার্গেট করার পর ওই বিষয়টি নিয়ে একটি cost benefit analysis করা হয়. তাকে হত্যা করা হলে ইজরাইল কিভাবে লাভবান হবে? যদি দেখা যায় এই হত্যাকাণ্ড ঘটালে আসলে ইসরায়েলের লাভ তাহলে এই হত্যার নীল নকশা সাজানো হয়. মোসাদের বিশেষজ্ঞ ইউনিট চূড়ান্তভাবে টার্গেট হিসেবে ফাইল করলে তা পাঠানো হয় গোয়েন্দা সংস্থাটির এক ঊর্ধ্বতন কমিটির কাছে যাকে হিব্রুতে বলা হয় বা রাসায়ফিম. এই কমিটির অপারেশন অনুমোদন করা বা বাতিল করার আইনগত কোন বৈধতা নেই. তাঁরা শুধু অপারেশনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন পরামর্শ প্রদান করতে পারে. মোসাদের অপারেশন অনুমোদন বা বাতিল করার বৈধতা একমাত্র প্রধানমন্ত্রীর হাতেই রয়েছে.
যদিও বিভিন্ন রাজনৈতিক কারণে প্রধানমন্ত্রী নিজে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন না। যদি প্রধানমন্ত্রী অপারেশনটি পরিচালনা করার অনুমতি দেন তাহলে তা বাস্তবায়নের জন্য আবার মোসাদের ওপর দায়িত্ব অর্পিত হয় এবং তার ধারাবাহিকতায় মোসাদের পরিকল্পনা মাফিক গুপ্ত হত্যাটি সম্পন্ন করে। হত্যাকান্ড বাস্তবায়নের দায়িত্ব পরে স্পেশ্যাল অপারেশন ডিপার্টমেন্টের ওপর. অপারেশনটি যদি বেশি সংবেদনশীল এবং গুরুত্বপূর্ণ হয় তাহলে এর দায়িত্ব পড়ে মোসাদের একটি বিশেষ ইউনিটের উপর যাকে হিব্রতে বলা হয় কিডন । বাংলায় কিডন অর্থ পিয়নে. এরা গুপ্তহত্তায় বিশেষভাবে প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত. মশাদের সবচেয়ে আলোচিত গুপ্তহত্যা মিশন অপারেশন গড পরিচালনা করে এই কিডন ইউনিট. যা সারা বিশ্বের গোয়েন্দা অপারেশনের ইতিহাসে একটি দৃষ্টান্ত সৃষ্টিকারী অপারেশন. শেষ করব আজ. শেষ করার আগে দুটি ঘটনা বলে তারপর শেষ করবো. সময়টা দু হাজার সাল. বিবিসির প্রখ্যাত সাংবাদিক আসামের অধিবাসী ভারতের সুবীর ভৌমিক দি উইক পত্রিকায়ড abouted মিশন. ডিট মুসাদ এটেম্পট টু ইনফিল ট্রেড ইসলামিক রেডিক্যালস আউট ফিটস ইন সাউথ এশিয়ান শিরোনামে একটি অনুসন্ধানে প্রতিবেদন লেখেন ।
জেব দু হাজার সালের বারোই জানুয়ারি ভারতীয় গোয়েন্দা কর্মকর্তারা কলকাতায় ঢাকা অভিমুখী বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইট থেকে এগারো জন বিদেশি নাগরিককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেন। তাদের ঢাকায় অবতরণের অনুমতি ছিল অথচ ভিসা ছিল না. ধারণা করা হচ্ছিল তারা আফগান নাগরিক. কিছু সময় ছিল ইরানের. তারপর ভারত হয়ে ঢাকায় অবতরণের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে. সেই এগারো জনের জাতীয়তা তথ্য নিয়ে ভারতীয় গোয়েন্দা কর্মকর্তারা প্রায় হতবাক হয়ে গেছিলেন। তারা সবাই ইজরায়েলের হয়ে কাজ করছে এবং একটি মিশনে তারা যাচ্ছিল বাংলাদেশ. অনুসন্ধান প্রতিবেদনটিতে বলা হয় তেলআবিব তাদের মুক্তি নিশ্চিত করতে দিল্লিকে ব্যাপক চাপ প্রয়োগ করে. তারপর অভিযান থেকে তাদের দ্রুত ফেরত নেওয়া হয়.
তার মানে মোসাদ শুধু মধ্যপ্রাচী না বা উন্নত বিশ্বেই নয়. খোদ বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশেও ছড়িয়ে আছে আর তাদের যাতায়াত আছে অহরহ.
সেপ্টেম্বর এগারো দুহাজার এক. টুইন টাওয়ার তথা ওয়ার্ল্ড রেড সেন্টারে এই শতকের সবচেয়ে আলোচিত হামলাটি করা হয়. সিআইএ এই হামলার পেছনে ওসামা বিন লাদেনের আল কায়দাকেই দায়ী করে. সেই সময় ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে প্রায় চার হাজারের মতো ইহুদি কাজ করতেন. সেই বছর জেরুজালেম পোস্টের ইন্টারনেট সংস্করণে বলা হয় হামলার দিন চার হাজার ইহুদীর মধ্যে মাত্র দুইজন মারা যায়. ওই দিন এত বিপুল সংখ্যক ইহুদী কিভাবে নিরাপদে ছিল তার জবাব আজ পর্যন্ত কেউ দিতে পারেনি বা দেয়নি. অথচ যে সময় ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে হামলা হয়েছে প্রতিদিন ওই সময় প্রায় সমস্ত ইহুদী নাগরিকেরই কিন্তু অফিসে থাকার কথা. ব্যতিক্রম শুধু ওই হামলার দিনটাই. এই ঘটনার ওপর ভিত্তি করে কিন্তু এটা নিশ্চিত করে বলা যায় না. যে এটা মোসাদ ঘটিয়েছে বা মোসাদ ই এই সম্পর্কে আগে থেকেই জানতো. তবে এই ঘটনা যে বিশাল একটা সংশয় তৈরি করে. এটা বলার অপেক্ষা রাখে না হয়তো. হয়তো কোনো অপ্রকাশিত রহস্য থাকতেও পারে. মোসাদের লক্ষ্য কিন্তু একটাই ইজরায়েলকে বিশ্বের মোড়লদের এক জোট হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা. তা কি আসলেই হতে যাচ্ছে?
কমেন্ট করে জানান আপনার মতামত !
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন