সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

চায়না কি আসলেই যুদ্ধ চায় না ? তাইওয়ান তাহলে কার ? তাইওয়ান কেন এতটা গুরুত্বপূর্ণ আমেরিকার এবং চায়নার জন্য ?

  চীন বিপদ নিয়ে খেলছে. চীন তাইওয়ান আক্রমণ করলে দ্বীপটি রক্ষার জন্য আমেরিকার সামরিকভাবে হস্তক্ষেপ করবে. তেইশে মে টোকিওতে কোয়ার্ড নেতাদের সাথে বৈঠক কালে এমনটাই জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন. চীন ও কিন্তু বসে নেই. বেজিং এর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ওয়াং ওয়েন বিন জোর দিয়ে বলেছেন তাইওয়ান, চীনের মূল ভূখণ্ডের একটা অবিচ্ছেদ্য অংশ. সেখানে কোনরকম আপস বা ছারের কোন সুযোগ নেই. তাইওয়ানের স্বাধীনতাকে উৎসাহ দেওয়াটা হবে আগুন নিয়ে খেলারই নামান্তর। দু হাজার একুশ সালে এমনটাই বলেছিলেন চীনা প্রেসিডেন্ট সি জিনপিং। বিষয়টা যদি এইরকম বাক যুদ্ধের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতো তাহলে এটা নিয়ে মাথা ঘামানোর তেমন কিছুই থাকতো না চাইনা সংবিধানে অ্যান্টি অ্যাসোসিয়েশন ল নামে তাইওয়ানকে নিয়ে একটি আইনও রয়েছে যেখানে বলা হয়েছে তাইওয়ান যদি চীনের সাথে একত্রিত না হয় তাহলে সাংবিধানিকভাবে চীন তাইওয়ানে সামরিক হস্তক্ষেপ করতে বাধ্য । অনেক আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক মনে করেন যদি আগামীতে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের  মধ্যে কোনো যুদ্ধ বেঁধে যায় তাহলে তাইওয়ান হবে সেই যুদ্ধের ফ্ল্যাশ পয়েন্ট । প্রশ্ন হচ্ছে বর্তমান ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তাইওয়ান হঠাৎ এত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠলো কেন ? কেনই বা যুক্তরাষ্ট্র এবং চীন তাইওয়ান প্রশ্নে এক চুলও আপস করতে রাজি নয়? 



 চলুন একটু আগে থেকে শুরু করি সময়টা ঊনিশশো বারো সালের ফেব্রুয়ারি মাস চীনে চলমান দীর্ঘ দুই হাজার বছরের রাজতন্ত্রের অবসান ঘটে দেশটি আত্মপ্রকাশ করে চীন প্রজাতন্ত্র বা রিপাবলিক অফ চায়না হিসেবে । উনিশশো-উনিশ সালের প্রতিষ্ঠাতা পায় চাইনিজ ন্যাশনাল পার্টি নামে চীনের প্রথম রাজনৈতিক দল. এই দলটির প্রধান ছিলেন জেনারেল সিয়াঙ্কাই শেখ. উনিশশো-একুশ সালের প্রতিষ্ঠা পায় চাইনিজ কমিউনিস্ট পার্টি যার প্রধান ছিলেন মাও সেতুং। উনিশশো সাতাশ সাল থেকে শুরু হয় খেলা. ন্যাশনালিস্ট পার্টির জিয়াঙ্কাই শেখ কমিউনিস্টদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করে. ন্যাশনালাইজ পার্টিকে সহায়তা করে যুক্তরাষ্ট্র. অন্যদিকে কমিউনিস্ট পার্টিকে সহায়তা করে সোভিয়েত ইউনিয়ন. শুরু হয় গৃহযুদ্ধ. উনিশশো সাঁইত্রিশ সালে চীনের চলমান অরাজকতার সুযোগে জাপান চীনকে আক্রমণ করে বসে.


 জাপানকে মোকাবিলা করতে দুই পার্টি সাময়িক দ্বন্দ্ব ভুলে একত্রিত হয়. উনিশশো পঁয়তাল্লিশ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানের পরাজয়ের পর পনেরোই আগস্ট চীন, জাপান যুদ্ধ শেষ হয়. যুদ্ধ শেষে সোভিয়েত রাশিয়ার নেতা স্টালিনের সহায়তায় মাও সেতুং। ও তার কমিউনিস্ট দল শক্তিশালী হয়ে ওঠে চিয়াং কাইশের ন্যাশনালিস্ট দলের উপর চলে দমন, পীড়ন, আরো অনেক কিছু. ফলশ্রুতিতে উনিশশো ঊনপঞ্চাশ সালে চিয়াঙ্কাইশেতা দলের বিপুল সংখ্যক নেতা চীনের মূল ভূখণ্ড ছেড়ে তাইওয়ানে আশ্রয় নেন.


 চিয়াঙ্কাই শেখের নেতৃত্বে তাইওয়ান আত্মপ্রকাশ করে রিপাবলিক অফ চায়না নামের একটি নতুন রাষ্ট্র হিসেবে. অন্যদিকে কমিউনিস্ট পার্টি দখল করে নিয়েছিল চায়নার মূল ভূখণ্ড যার নাম দেওয়া হয় দা পিপল  রিপাবলিক অফ চায়না.


 অর্থাৎ উনিশশো ঊনপঞ্চাশ সালে চীন বলে দুটো রাষ্ট্রের উত্থান হয়. আপনি শুনলে আশ্চর্য হবেন একটা সময় জাতিসঙ্গে চীন বলতে. তাইওয়ানকেই বোঝানো হতো. যেহেতু প্রথম দিকে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন ছিল তাইওয়ানের দিকে।


 কিন্তু উনিশশো একাত্তর সালে the peoples republic of China জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে স্থায়ী সদস্য লাভের পর সদস্য হিসেবে তাইওয়ান তার সদস্য পদ হারায়. এখন প্রশ্ন হচ্ছে তাইবান ইস্যুতে তাইবান চীন এবং যুক্তরাষ্ট্রের এজেন্ডা আসলে কি?



 যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানকে একটি স্বাধীন দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি. যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানকে চীনের অংশ মনে করে. এখন যুক্তরাষ্ট্র চাচ্ছে চীন যেন তাইওয়ানকে একা ছেড়ে দেয়. আমেরিকায় একটি আইনও রয়েছে যে আইনে তাইওয়ানকে তাদের নিজস্ব প্রতিরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম আমাদের দেওয়ার বিধান রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের। এটা খুব স্পষ্ট. যুক্তরাষ্ট্র একদিকে তাইওয়ানকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতিও দিচ্ছে না. আবার তাইওয়ানে চীনের হস্তক্ষেপও মেনে নিচ্ছে না. তাইওয়ানের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানকে আখ্যায়িত করা হয় strategic ambiguity বা কৌশলগত ধোঁয়াশা হিসেবে.



 কৌশলগত ধোঁয়াশার প্রধান তাৎপর্যটি হচ্ছে তাইওয়ানের প্রতিরক্ষার ব্যাপারে আমেরিকা কোনো প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে না কিন্তু তারা যে তা করবে না তাও তারা বলছে না. এর একটা উদ্দেশ্য হলো চীনকে অনুমান নির্ভর করে রাখা. আশির দশকে তাইওয়ান প্রশ্নে চীন উদগ্রীব থাকলেও নব্বইয়ের দশকে এসে এই ইস্যুতে তারা কিন্তু চুপচাপই ছিল বলা যায়  । কারণ ততদিনে এক মেরুর বিশ্বব্যাবস্থায় যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের পরাশক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে তাছাড়া ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময়কাল থেকেই তাইবান প্রণালীতে যুক্তরাষ্ট্র এয়ারক্রাফট কেরিয়ার গাইডেড মিসাইল ক্রুজারের মতো ভারী  সরঞ্জাম দিয়ে মহড়া চালিয়ে আসছিল। কিন্তু চীন এখন আর আশি বা নব্বইয়ের দশকের সেই চীন নেই। চীন এখন সি জিনপিংয়ের তৃতীয় বিপ্লব যুগে প্রবেশ করেছে। চীন হয়ে উঠেছে বর্তমান ভূরাজনৈতিক সমীকরণের গেম changer। বর্তমানে অর্থনীতির দিক দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকেও ছাড়িয়ে যাচ্ছে। উনিশ শতক থেকে আজ পর্যন্ত চীনের মতো প্রতিদ্বন্দ্বীর মুখোমুখি যুক্তরাষ্ট্র একবারও হয়নি। তাছাড়া চায়না রয়েছে বিশাল সেনাবাহিনী যেখানে সব সময় কর্মরত থাকে নয় লক্ষ পনেরো হাজার সৈনিক।


 তা ছাড়া রয়েছে উন্নত প্রযুক্তির missile, tank, helicopter, সাবমেরিন, যুদ্ধ জাহাজ. যার মাধ্যমে চীন, যে কারো সাথেই চোখ গরম করার সক্ষমতা রাখে. তাইওয়ান ইস্যুতে চায়না এখন আগের চেয়ে আরো বেশি কঠোর. অনেক আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকের মতে তাইওয়ানকে চীনের সঙ্গে যুক্ত করায় চীনের প্রধান স্ট্র্যাটেজিক প্রায়োরিটি আর মাত্র সাতাশ বছর অর্থাৎ দুহাজার ঊনপঞ্চাশ সালে চীনের শতবর্ষ পূরণ হবে তার আগেই তাইওয়ানকে চীনের সাথে একিভূত করতে চায় সিজন পিং।


 তাই আর কি মাদারল্যান্ডের সাথে একিভুত করার পরিকল্পনাকে বলা হচ্ছে চীনের নেশনস রিজিউবিনেশন. বর্তমান প্রেক্ষাপটে আলোচিত চীনতায়ওয়ান, অস্থিরতা, নতুন মাত্রা পায় দু হাজার একুশ সালের প্রথম দিকে. তখন থেকেই চায়নার এয়ারক্রাফট নিয়মিত বিরতিতে কোন ধরনের অনুমতি ছায়ারাই তাইওয়ানের আকাশ সীমা  বা এয়ার ডিফেন্স আইডেন্টিফিকেশন জোন অতিক্রম করতে থাকে. দিনে এক থেকে দুইবার নয়. বরং বারো থেকে চোদ্দ বারেরও বেশি. দু হাজার একুশ সালের অক্টোবরে সংখ্যাটি দাঁড়ায় দিনে নব্বই বারেরও বেশি. এর মাধ্যমে তাইওয়ানকে চীন এটাই বোঝাতে চেয়েছে. ইউ উইল বি আওয়ার্স. তার প্রতি উত্তরে যুক্তরাষ্ট্রেও তাইওয়ান প্রণালীতে গাইড মিসাইল ডেস্ট্রয়ার মোতায়েন করে যা এই অঞ্চলের অস্থিরতাকে আরো বাড়িয়ে তোলে. 



তাহলে এবার আসা যাক পরের প্রশ্নে. বর্তমান ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে. তাইওয়ান কেন এতো গুরুত্বপূর্ণ?  প্রথমে দেখা যাক ভৌগোলিক বাস্তবতা পিত সাগর, পূর্ব চীন সাগর এবং দক্ষিণ চীন সাগরের অববাহিকা ঘেঁষে রয়েছে চায়নার চোদ্দ হাজার পাঁচশো কিলোমিটারের সমুদ্রসীমা. এই সমুদ্রসীমা ধরে গড়ে উঠেছে হংকং, সেনসিং, নিংপো, সাংহাই , থিনচিনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্র. দল চায়নার রপ্তানিমুখী অর্থনীতি এবং গ্লোবাল সাপ্লাই চেইন কে সম্মুনত রাখার জন্য এই সমুদ্র বন্দরগুলোর গুরুত্ব অপরিসীম.



এই সমুদ্র বন্দরগুলোর নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে চায়না কখনোই চাইবে না. এখানে যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্য কোনোভাবেই বৃদ্ধি পান. প্রশান্ত মহাসাগর থেকে পিঠ সাগর, পূর্ব চীন সাগর এবং দক্ষিণ চীন সাগরকে আলাদা করে রয়েছে অনেকগুলো ছোট, বড়, উপদীপ এবং দ্বীপ এই দ্বীপ শৃঙ্খলের মধ্যে জাপানিস দীপপুঞ্জ, রিও কিউ দ্বীপপুঞ্জ, তাইওয়ার, সিলিপিন, বর্ণীয় দ্বীপপুঞ্জ এবং সুমাত্রা দ্বীপপুঞ্জ অন্যতম চীনের দুর্ভাগ্য যে এই সবগুলো দ্বীপই যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র এবং প্রভাব বলয়ের মধ্যে. এই দিকগুলো ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্র, প্রশান্ত মহাসাগরের ওপার থেকেও তাদের শক্তিমত্তা দেখাতে পারে. ভবিষ্যতে কোনো ধরনের দ্বন্দ্ব দেখা দিলে আমেরিকার নৌবাহিনী চাইলেই প্রণালী গুলো ব্লক করে দিতে পারে. যার ফলে প্রশান্ত মহাসাগর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে চীন. যা হতে পারে চায়নার অর্থনীতির জন্য একটা বিরাট হুমকি. তাই চায়না যদি তাইওয়ানকে নিয়ন্ত্রণে আনতে পারে তাহলে পুরো প্রশান্ত মহাসাগর অঞ্চল তাদের জন্য উন্মুক্ত হয়ে যাবে. তাই যুক্তরাষ্ট্রের জন্য দায়ওয়ান একটি গুরুত্বপূর্ণ তা ছাড়া চীনের মূল বাণিজ্য যেহেতু দক্ষিণ চীন সাগর ও মালাকা প্রণালীকে কেন্দ্র করে এবং চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ প্রকল্প শুরু দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া থেকে তাই যুক্তরাষ্ট্র চাইবে এই অঞ্চল নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবার চোখ রাখি অর্থনৈতিক গুরুত্বগুলোর দিকে। তাইওয়ানের আর একটি বিষয় হচ্ছে তার বিশাল আকারের অর্থনীতি, তাইওয়ান হচ্ছে একুশ শতকের সবচেয়ে ধনী দ্বীপ, যার জিডিপি প্রায় সাতশো-পঁচাশি বিলিয়ন ডলার। মাইক্রোচিপ বা সেমি কন্ডাক্টর টেকনোলজির উৎপাদনে তাইওয়ান বিশ্বের প্রথম.


 বিশ্বের প্রায় বিরানব্বই শতাংশ মাইক্রোচিপ. তাইওয়ান উৎপাদন করে. যা মোটামুটি বেশিরভাগ দেশের স্মার্ট ফোন, কম্পিউটার যুদ্ধ সমরাষ্ট্র এয়ারক্রাফট তৈরিতে ব্যবহৃত হয়. তাদের উৎপাদিত মাইক্রোচিপে নির্ভর করতে হয় চায়না এবং যুক্তরাষ্ট্রের টেক কোম্পানিগুলোকে. ইন্টেল, অ্যাপেল , এমডি কোম্পানিগুলো তাইওয়ানে উৎপাদিত মাইক্রোচিপের উপর অনেকটাই নির্ভরশীল. তাইওয়ানে মাইক্রো চিপ বানিজ্য নিয়ন্ত্রণ করে তাইওয়ান সেমি কন্ডাক্টর ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি নামে একটা প্রতিষ্ঠান. যার ব্যবসার আকার পাঁচশো চল্লিশ বিলিয়ন ডলার. যা অনেক দেশের জিডিপির তুলনায় অনেক বেশি. চীন তাইওয়ান দখল করলে চিপ উৎপাদন চীনের দখলে চলে যাবে যা যুক্তরাষ্ট্র কখনোই হতে দিতে চাইবে না. এখন আসি আজকের শেষ প্রশ্নে. যদি তাই মানে চীন সামরিক হস্তক্ষেপ করে তাহলে আমেরিকাও সরাসরি যুদ্ধে অংশ নেবে নাকি ইউক্রেন ইস্যুর মতো নিষেধাজ্ঞা দিয়ে বসে থাকবে.

 যুক্তরাষ্ট্র পুরো বিশ্বের রাজনীতি দুইভাবে নিয়ন্ত্রণ করে. প্রথমটি সেন্ট্রাল কন্ট্রোল বা সরাসরি হস্তক্ষেপ আর দ্বিতীয়টি পেরিফেরাল কন্ট্রোল বা পরোক্ষ হস্তক্ষেপ. যেমন এখন যুক্তরাষ্ট্র, আফ্রিকা, ল্যাটিন আমেরিকা, মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি পরোক্ষভাবে ও প্রতিনিধির মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করে. ওই প্রতিনিধিরাই সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ হাসিল করে. যেমন আফ্রিকায় তাদের প্রতিনিধি মিশর ও মরোক্কো আর মধ্যপ্রাচ্যে ইজরাইল. যুক্তরাষ্ট্রের এখন প্রধান প্রতিযোগী যেহেতু চীন. তাই যুক্তরাষ্ট্রের আগামী কয়েক দশকের রাজনীতি চীন তথা এশিয়া এবং দক্ষিণ পূর্ব এশিয়াকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হবে এটা বলাই যায়. সেই জন্য যুক্তরাষ্ট্র মনোযোগ এখন এই অঞ্চলে. যেখানে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি অংশগ্রহণ করবে সেই ক্ষেত্রে তাইওয়ান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র আসলেই সিরিয়াস. এটা বলার কিন্তু কোনই অপেক্ষা রাখে না. ইউক্রেন ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি হস্তক্ষেপ না করলেও তাইওয়ানের বেলায় সেই সম্ভাবনা কিন্তু উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তাইওয়ানকে কেন্দ্র করে পৃথিবীর আর একটি বিশ্বযুদ্ধ দেখবে কিনা তা সময়ই বলে দেবে। একুশ শতকে এসেও সামরিক হস্তক্ষেপ অস্বাভাবিক কিছু নয় তা আমরা রাশিয়া, ইউক্রেন যুদ্ধে দেখতে পেয়েছি।  যুদ্ধে যে লাখ লাখ মানুষ মারা যাবে এটা সকলেই নিশ্চিত. যুদ্ধের পর কোন ধরনের বিশ্ব ব্যবস্থা আমরা দেখব, সেই আলোচনা না হয় আরেকদিন হবে.   

 

মন্তব্যসমূহ

Blog Posts

লুসিড ড্রিম কাকে বলে ? লুসিড ড্রিম কিভাবে দেখতে হয় ?

 স্বপ্ন নিয়ন্ত্রণ করার কথা ভেবেছেন কখনো? নিশ্চয়ই ভাবছেন জেগে জেগে দিবাস্বপ্ন দেখার কথা বলছি না তো? কিন্তু না, রীতিমতো ঘুমিয়ে দেখা স্বপ্নও নিয়ন্ত্রণের কথাই বলছি, আপনার ইচ্ছামত স্বপ্ন দেখবেন। ইচ্ছা মতো নিয়ন্ত্রণ করবেন। আর পছন্দ না হলে অর্থাৎ দুঃস্বপ্ন দেখা শুরু করলে সেটার গতিপথ পাল্টে দেবেন একেবারে নিমেষে। আধুনিক বিজ্ঞানের ভাষায় এটা খুবই সম্ভব একে বলা হয় লুসিভ ড্রিম। লুসিড ড্রিমিং এর সাথে আপনারা অনেকেই হয়তো পরিচিত আছেন। অনেকে পরিচিত থাকলেও হয়তো এটা কেন হচ্ছে বা কিভাবে হচ্ছে তা নিয়ে বেশ দ্বিধা দ্বন্দ্বে আছে এসবেরই উত্তর মিলবে আজকের এই লিখাতে।   লুসিড ড্রিম অর্থ কি? সহজ বাংলায় অনুবাদ করতে গেলে বলা যায় লুসিড অর্থ পরিষ্কার. অর্থাৎ স্পষ্ট আর dream মানে তো আমরা সবাই জানি যে স্বপ্ন। লুসিড ডিম হলো সেই স্বপ্ন যে আমাদের স্পষ্ট ভাবে মনে থাকে এবং স্বপ্ন চলাকালীন সময়েও আমরা এ উপলব্ধি করতে পারি যে এটি বাস্তব নয় বরং এটি স্বপ্ন কিন্তু শুধুমাত্র আক্ষরিক অর্থ দিয়ে লুসিড ড্রিম ব্যাখ্যা করলে ভুল হবে একটু অন্যভাবে বলা যাক ।  মনে করুন স্বপ্নে আপনি কি পাহাড়ের উপর থেকে দ্রুত গ...

সারোগেসি কি ?

সারোগেসির মাধ্যমে সন্তান ধারণ করা নিয়ে এখনো বহু বিতর্ক আছে. শুধু আমাদের দেশে নয়, সারা বিশ্বেই এই পদ্ধতি নিয়ে তর্ক বিতর্কের শেষ নেই.  এটার আইনি প্রক্রিয়াও জটিল। কারণ এটি একেক রাষ্ট্রে. শারোগেসি আইন একেক রকম. নারী মা হবেন প্রাকৃতিক নিয়ম সমাজ এমনটাই দেখতে অভ্যস্ত. কিন্তু কোন কারণে মা হবার ক্ষমতা না থাকলে তাকে পরিবার ও আশপাশ থেকে যে পরিমাণ কটু কথা শুনতে হয় তা সাধারণ মানুষের ধারণারও বাইরে.   সরোগেসি বিষয়টি কি? চিকিৎসা শাস্ত্রের অগ্রগতি এমন মায়েদের সামনে এনেছে যারা গর্ভ ভাড়া দিয়ে নিজে বাঁচেন অন্যদের মাতৃ সুখ দেন । একজন নারীর গর্ভে অন্য দম্পতির সন্তান ধারণের পদ্ধতিকে সারোগেসি বলা হয়.সারোগেসির এই  পদ্ধতি বেশ দীর্ঘকালীন. আইভিএফ পদ্ধতিতে স্ত্রী ও পুরুষের ডিম্বাণু শুক্রাণু দেহের বাইরে নিষিক্ত করে তা নারীর গর্ভাশয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়. কিন্তু এখানেও জটিলতা. কেন? সে বিষয়ে পরে আসছি. বাংলাদেশ সহ বহু দেশই এই সারোগেসি একরকম ভাবে নিষিদ্ধ. সুতরাং বিষয় টি  সংবেদনশীল. এমনকি বেশিরভাগ ধর্মেও রয়েছে নিষেধাজ্ঞা. চলুন কথা বলি সারোগেসি মাদার সম্পর্কে। আইভিএফ বা টেস্ট টি...

ন্যানো টেকনোলজি কিভাবে কাজ করে ?

  যদি বলি আপনার চোখ দেখতে পারে না এমন গভীর ও প্রায় অনাবিষ্কৃত একটা পৃথিবী আছে. হয়তো বলতে পারেন যে মহাবিশ্বে কত গ্রহই তো আছে? সব খোঁজ কি আমরা পেয়েছি? কিন্তু যদি বলি আমাদের এই পৃথিবীর ভেতরে আরো একটি জগত আছে এবং যে জগৎ ছড়িয়ে আছে আমাদের গোটা বিশ্ব জুড়ে. এইবার হয়তো নড়েচড়ে বসবেন. হ্যাঁ আমাদের চোখের সামনেই রয়েছে এমন এক রাজ্য যে আমরা খালি চোখে দেখতে পাই না. এটাকে বলা হয় অণুবীক্ষণিক বিশ্ব. এই অণুবীক্ষণই বিশ্ব প্রচন্ড আকর্ষণীয় ও চমকে দেওয়ার মতো. কি কি ঘটছে এখানে তা আমার আপনার কল্পনারও বাইরে. এটা যেন কোনো ভিন গ্রহ বাসীদের রাজ্য. সম্ভাবনার দুয়ার খুলে রাখা আছে এই অণুবীক্ষণিক বা nano বিশ্বে.  ন্যানো কি ন্যানো হলো পরিমাপের একক। এক মিটারের একশো কোটি ভাগের এক ভাগ হচ্ছে এক ন্যানো। আর ন্যানো টেকনোলজি হলো বিজ্ঞানের এই অতি ক্ষুদ্র স্তরে একটা কিছু তৈরী করা আসলে শুধু তৈরি করা না. ন্যানোমিটার স্কেলে পরিবর্তন, পরিবর্তন, ধ্বংস বা সৃষ্টি সম্পর্কিত টেকনোলজিকেই ন্যানো টেকনোলজি বলে. অর্থাৎ ন্যানোমিটার স্কেলে পরিমিত যেকোনো বিষয়ে বহুমাত্রিক টেকনোলজিকে ন্যানো প্রযুক্তি বা ন্যানো টেকনোলজি বলা যে...

পেগাসাস স্পাইওয়ার কি ?

গত কিছুদিন ধরেই বিশ্ব রাজনীতি এবং প্রযুক্তি জগৎ এই দুই জায়গাতেই আলোচনার বিষয়বস্তু একটাই। সেটা হচ্ছে পেগাসাস স্পাইওয়ার. বিশ্বজুড়ে নানান দেশের মানবাধিকার কর্মী সাংবাদিক আইনজীবী ও রাজনীতিকদের ফোনের নজরদারি চালানোর ঘটনা ফাঁস হওয়ার পর ইজরায়েলের বেসরকারি কোম্পানি nso গ্রুপের তৈরি করা এই সফটওয়্যার নিয়ে এখন তুমুল তরজা চলছে দুনিয়া জুড়ে । চলুন কথা বলি দুনিয়া ওলট পালট করে দেওয়া স্পাইওয়ার সম্পর্কে । পেগাসাস মূলত একটি নজরদারি বিষয়ক সফটওয়্যার । ইজরাইলের সংস্থা এনএসও ই সফটওয়্যার তৈরি করেছে। যা দিয়ে যে কারো মোবাইলে আড়ি পাতা যায়. এটা কিন্তু সাধারণ কোন নজরদারি নয়. আগে ফোনে আড়ি পেতে শুধু দুই প্রান্তের কথাবার্তা শোনা যেত. আর সফটওয়্যারের মাধ্যমে গোটা ফোনটারই নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় হ্যাকাররা. ফোনের কথাবার্তা WhatsApp এর চ্যাট, ছবি, ফোনে কি কি তথ্য আছে সবই জানা যায়. আরো ভয়ানক ব্যবহার হচ্ছে মোবাইল যিনি ব্যবহার করছেন তিনি জানতেই পারেন না যে তার ফোন হ্যাক করা হয়েছে. সমস্ত তথ্য পাচার হয়ে যাচ্ছে নির্দিষ্ট একটি গোষ্ঠীর কাছে. কিন্তু কারো ফোনে পেগাসাস software install করতে হলে তো সেই ফোনটাকে...

রেট রেস কি ?

      আপনি ঠিক কখন ইঁদুর দৌড়ে যোগ দিয়েছেন এটা হিসাব করা কঠিন. কিন্তু নিশ্চিত থাকুন আপনি এই দৌড়ে আছেন. ক্লাস eight এ পড়ার সময়ের কথা মনে আছে? সামনে বৃত্তি পরীক্ষা পাটিগণিত বীজগণিতের অংক প্যাঁচ লাগাচ্ছে বিজ্ঞানের জটিল সব সূত্র ভোরে ওঠে প্রাইভেট টিউটরের বাসায় ছোটা রাত জেগে পড়াশোনা. বয়সের তুলনায় অনেক বেশি কর্ম ব্যস্ত একটা সময় নিশ্চয়ই কাটিয়েছেন তখন? আমরা সবাই কাটিয়েছি. সেই সময় নিশ্চয়ই অভিভাবক বলেছে এই তো আর কটা দিন. বৃত্তি পরীক্ষা শেষ হলেই জীবন শান্তি আর শান্তি. জীবনের নানা এপিসোডে আপনি এই কথাগুলো শুনেছেন অনেকবার অনেকের মুখে. এসএসসি পরীক্ষাটা দাও, কলেজে উঠলেই তো স্বাধীনতা. একবার ভার্সেটিতে উঠতে পারলেই জীবন হবে আনন্দে ভরপুর. একবার জব লাইফে ঢোকো. নিজের টাকায় আয়েশ করার মজাই অন্যরকম. শুনেছেন না এসব?  বয়স ঘড়ির ত্রিশের প্রান্তে দাঁড়িয়ে হিসেবগুলো মেলাতে পারেন কি? কি মনে হয়? এই এপিসোডগুলোর কোনোটা পার হবার সময় জীবন খানিকটা হলেও সহজ হয়েছে? সুন্দর হয়েছে? হয়নি, হবেও না, মিথ্যা একটা মরীচিকার আশায় আমরা ছুটেছি ঠিকই আমাদের ছোটানো হয়েছে, কিন্তু হিসাব মেলেনি ছুটত...

ম্যান্ডেলা ইফেক্ট কেনো হয়?

   আচ্ছা নিজের স্মৃতি শক্তির উপর কতটা বিশ্বাস আছে আপনার? আচ্ছা বাদ দিয়ে আপনার কথা. গণমানুষের স্মৃতিশক্তির উপর নিশ্চয়ই বিশ্বাস আছে অনেকটা. না না. ধর্মীয় কোন বিশ্বাস না. এই গ্রহে ঘটে যাওয়া এমন সব ঘটনা. যা সবাই জানে. তা কি রকম মিথ্যা? এক দশক আগেও পৃথিবীর প্রায় এক তৃতীয়াংশ মানুষ জানতো যে অস্ট্রেলিয়ার রাজধানীর নাম সিডনি. আসলে কি তাই? গত এক দশকে এই ধারণা মোটামুটি পরিবর্তন হয়ে মানুষ জেনেছে অস্ট্রেলিয়ার রাজধানীর নাম ক্যানভেরা. এখনো এই ভুল হরমামেশাই করে যাচ্ছে মানুষ. বিশ্বাস না হলে আশেপাশের কিছু মানুষকে জিজ্ঞেস করে দেখতে পারে. প্রশ্ন করতে পারেন ম্যান্ডেলার নাম কেন? এই ফ্ললস মেমোরি সিন্ড্রোমকে ম্যান্ডেল এফেক্ট নামকরণ করেছেন প্যারানরমাল কনসালটেন্ট ফীয়না ব্রুম তার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে । দু হাজার দশ সালের এক আলোচনা সভায় উঠে আসে দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদ বিরোধী আন্দোলনের নেতা উনিশশো আশি সালে কারা জানে মারা যাওয়ার প্রসঙ্গ । অনেকেই সেদিন বলেছিল, টিভিতে এই নেতার শেষকৃত্যের আনুষ্ঠানিকতা দেখার অভিজ্ঞতার কথা. ম্যান্ডেলার স্ত্রীর হৃদয় নিন্দারও ভাষণের কথা উল্লেখ করেছিলেন কেউ কেউ. এমনক...

কিভাবে লিমিটলেস হওয়া যায় ? লিমিটলেস আসলে কিভাবে কাজ করে ?

এনজিটিপিল,  এটা এমন এক পিল যা আপনাকে করবে আল্ট্রা ফোকাসড. দেবে দুর্দান্ত মোটিভেশন. বের করে আনবে আপনার সর্বোচ্চ সম্ভাবনা. আপনি হয়ে উঠবেন আনস্টপল. বাস্তবতা পাবে প্রতিটি স্বপ্ন. কিন্তু সমস্যা হচ্ছে এমন কোন পিলের অস্তিত্ব নেই. ফলাফল আপনি আটকে আছেন একটি খাদে. সারাক্ষণ ক্লান্তি নিয়ে হয়ে উঠছেন আনপ্রোডাক্টিভ. নষ্ট হচ্ছে ক্রিয়েটিভিটি. সময় গড়িয়ে যায়. ঋতুর পরিবর্তন ঘটে. কিন্তু আপনি ডুবে থাকেন এক হতাশায় যাতে আপনি দিন দিন পিছিয়ে পরছেন. আপনি যা যা এতদিন অর্জন করবেন ভেবেছিলেন তা কিছুই আপনি অর্জন করতে পারেননি । নিজেকে সান্তনা দিচ্ছেন আগামীকাল হবে ভিন্ন। কিন্তু তা কখনোই হয়ে ওঠে না এখন যদি আপনাকে বলি কোনো জাদুকরী পিলের সাহায্যে নয় বাস্তবিক লিমিটলেস হয়ে ওঠা সম্ভব।  একদম প্রমাণিত পদ্ধতিতে যা একেবারে ফ্রিতে ব্যবহার করা সম্ভব.  তো আছেন তো শেষ পর্যন্ত ?  Limit less হওয়ার যাত্রায় ।  স্টেপ ওয়ান : এনার্জি--  মাত্র কয়েক মাস আগে আমি নিজেও আপনার মতো কর্মশক্তিহীন অনুভব করতাম. সামান্য কাজেই আসতো অবসন্নতা, গেয়ে ধরতো ক্লান্তি একদিন হঠাৎ টের পেলাম আমি নিজেই নিজের energy নি...

প্রযুক্তি দুনিয়াতে পর্দার আড়ালে থেকে যাওয়া এক প্রতিভাবান এর গল্প ।

পর্দার আড়ালে একা খেলে যাচ্ছেন একজন. কামাচ্ছেন বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার. অথচ তাকে চেনে খুব কম সংখ্যক মানুষ. আইটি জগতে ইলন মাস্ক, জেফ বোজোস বা বিট গ্রেটসের সাথে তার নামও সমান তালে চলার কথা ছিল. কিন্তু বিহাইন্ড দা সিনে একা গোল করে যাচ্ছেন তিনি. নাম ড্রোন ইয়াং পিং ড্রোন ইয়াং পিং নামটি মোবাইল ফোনের জগতে খুবই কম মানুষের শোনা. তবে তার নাম অজানা থাকলেও তার কোম্পানি বিবিকে ফোন গিগদের মধ্যে বেশ পরিচিত. ওয়ান প্লাস, রিয়েলমি, অপো, ভিভো এবং আইকিউ. এই পাঁচটি জনপ্রিয় মোবাইল ব্র্যান্ডের একক মালিক ডোন ইয়াং পিন.  এই ব্র্যান্ড গুলো তার কোম্পানিতে পরিণত করেছে বর্তমানের সবচেয়ে বড় মোবাইল ফোন উৎপাদনকারী কোম্পানিতে. অ্যাপেল , শাওমি বা স্যামসাং যারা মোবাইল ফোনের জগতে বর্তমানে সবচেয়ে বড় ব্র্যান্ড তাদেরকেও পেছনে ফেলে এগিয়ে গিয়েছে বিবিকে কোম্পানি। কিন্তু এত সফলতার সত্ত্বেও বেশিরভাগ মোবাইল ফোন ব্যবহারকারী এমনকি ফোন গিগরাও তার সম্পর্কে বলতে গেলে তেমন কিছুই জানে না. এলেন মাস্ক, স্টিভ জবস বা জ্যাকমা, যারা কিনা টেকনোলজির জগতে খুবই পরিচিত তাদের সম্পর্কে অনলাইনে  অগণিত তথ্য রয়েছে। কিন্তু ডন ইয়ং পিং এর...

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কি ? আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কতটা ভযঙ্কর হতে পারে আগামী দিনের জন্য ?

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বহুল চর্চিত এবং ব্যবহৃত একটি শব্দ. মানুষের বুদ্ধিমত্তা ও চিন্তা শক্তিকে কম্পিউটার প্রোগ্রামিং এর মাধ্যমে মেশিন ল্যাঙ্গুয়েজে স্থাপন করা টেকনোলজিটাই হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স । এর মাধ্যমে কোন যন্ত্র নির্দিষ্ট প্রোগ্রামের আওতাধীন কিছু কাজ নিজে থেকেই করতে পারে নিজে নিজে সিদ্ধান্ত নিতে পারে।  টার্মিনেচার টাইপের কোনো সাইফাই সিনেমার গুরু বন্ধুর সংলাপ নয়।  A.I নিয়ে ভবিষ্যৎবাণী করেছিলেন পৃথিবীর সেরা বিজ্ঞানীদের একজন স্টিফেন হকিং আমার ভয় হয় তারা সত্যিই হয়তো একদিন মানুষকে হটিয়ে নিয়ন্ত্রকের আসনে বসে যাবে। বেঁচে থাকতেই BBC কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স তথা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে এভাবেই সবাইকে সতর্ক করেছিলেন তিনি। হকিংসের এই ভয় এখনো ভবিষ্যতের বিষয় হলেও অমূলক নয় মোটেও যন্ত্রকে বুদ্ধিমান করে তার আশীর্বাদ অনেক আছে। কিন্তু দীর্ঘ মেয়াদে সেই যন্ত্রই পৃথিবীর দখল নিতে চলেছে কিনা স্বয়ং সম্পূর্ণ হয়ে মানুষকেই বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে একদিন অপদার্থ তে পরিণত করবে কিনা সেই প্রশ্নটা উঠছে বারবার।  যুক্তরাষ্ট্রে...

মিনিমালিজম কি ? কিভাবে মিনিমালিস্ট হওয়া যায় ?

মিনিমামলিজম এই ধারণাটি বিগত কয়েক বছরে বেশ জনপ্রিয়তা লাভ করেছে এবং এর যথেষ্ট কারণও আছে. এই পুরো ব্যাপারটা কি? সেটাকে সঙ্গায়িত করা যায় এভাবে যে,  মিনিমালিজম হচ্ছে যা আমাদের জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সেগুলোকে ধারণ করা এবং বাকি সব কিছু যা আমাদের দৃষ্টিকে অন্যদিকে সরিয়ে নেয় সেগুলোকে ইচ্ছাকৃতভাবে ত্যাগ করা।   অর্থাৎ কোন কোন বিষয়ে জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং কোন জিনিসগুলোকে আমাদের কাছে সবচেয়ে মূল্যবান সেই সম্পর্কে একটা পরিষ্কার ধারণা থাকা এবং বাকি সব ত্যাগ  করে দেয়. সেগুলো নিয়েই জীবন ধারণ করা. কিন্তু এমন সংজ্ঞায়ন সত্ত্বেও minimalism কোন ধরাবাধা জীবন ব্যবস্থা নয় বা মিনিমালিস্ট হতে হলে কোন নির্দিষ্ট মানদণ্ড মেনে চলতে হবে এরকমটিও কিন্তু নয়. মিনিমালিস্ট লাইফ স্টাইল এমন একটি বিষয় যা প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য স্বতন্ত্র। এক্ষেত্রে মূল বিষয়টি হচ্ছে সত্যিকার অর্থে কোন কোন বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও প্রয়োজনীয় সেই সম্পর্কে একটা পরিষ্কার ধারণা নিয়ে সেই অনুযায়ী জীবন ধারণ করা. প্রিয় দর্শক চলুন দেখি মিনিমালিজম কিভাবে আপনার জীবনধারা বদলে দিতে পারে।  মিনিমালিস্ট জীবন অবশ...