সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

রুশ মার্কিন মহাকাশ বিবাদ ।

  . স্পেস স্টেশন ! মহাশূন্যের ওপরে অদ্ভুত এক দুনিয়া পত্র পত্রিকা বা টেলিভিশনের খবরে এই বস্তুর খবর শুনে বা পড়ে থাকলেও মহাকাশ স্টেশন সম্পর্কে আমাদের অনেকেরই স্পষ্ট কোনো ধারণা নেই. তবে একটা আলাপ হয়তো ইদানিং অনেকের কানেই এসেছে. ইউক্রেন রাশিয়া যুদ্ধের কারণে রাশিয়ার সঙ্গে স্পেস স্টেশনের বাকি অংশীদার দেশগুলোর বিশেষ করে আমেরিকার দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছে.


 রাশিয়া ইতিমধ্যেই এই স্পেস স্টেশন প্রকল্প থেকে সরে গিয়ে নিজেদের আলাদা স্পেস স্টেশন বানানোর কথা ভাবছে. কাজেই শঙ্কায় পড়েছে বর্তমান স্পেস স্টেশনের ভবিষ্যৎ. পৃথিবীর বাইরের মানুষের নির্মিত সবচেয়ে বড় স্থাপনাটির ভাগ্যে. পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ অনুসন্ধান, গবেষণা বা অন্য কোন বিশেষ উদ্দেশ্যে মহাকাশে space craft বা মহাকাশযান পাঠায়. সেগুলো নির্দিষ্ট কাজ সম্পন্ন করে আবার ফিরে আসে পৃথিবীর মাটিতে. স্পেস স্টেশন হচ্ছে পৃথিবী থেকে দুশো পঞ্চাশ মাইল উপরে অবস্থিত বিশাল আকারে মহাকাশযান. এটি প্রতিদিন প্রায় ষোলোবার পৃথিবীর চারপাশে নির্দিষ্ট কক্ষপথে ঘুরে চলেছে. এই স্টেশনের মূল উদ্দেশ্য হলো মহাকাশ বিষয়ক গবেষণাকে আরো বেশি ত্বরান্বিত করা. ভবিষ্যতে মহাকাশে মানুষের অভিযান, মাইক্রো গ্রাভিটি, মহাকাশে জীবের টিকে থাকা ইত্যাদি বিষয়ে গবেষণা করা হয় এখানে. আর এই মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্রই আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন বা ইন্টারন্যাশনাল স্পেস স্টেশন বা সংক্ষেপে. আইএসএস।





 বিশ্বের ষোলটি দেশের বাঘা বাঘা পাঁচটি মহাকাশ গবেষণা সংস্থা যৌথভাবে এই সমন্বিত প্রকল্পটি তৈরি করে. এই পাঁচটি সংস্থা হচ্ছে রাশিয়ার রুশ মহাকাশ সংস্থা, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাসা, জাপানের মহাকাশ অনুসন্ধান সংস্থা ইউরোপীয় ইউনিয়নের ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থা এবং কানাডার কানাডিয়ান স্পেস এজেন্সি. দু হাজার সাল থেকে বিভিন্ন দেশের মহাকাশ বিজ্ঞানীরা আইএসএস এ কাজ করছেন. এদের অধিকাংশই মার্কিন এবং রুশ বিজ্ঞানী. বিগত দশ বছর ধরে রাশিয়ার স্পেস ক্যাপসুল এই স্টেশনে বিজ্ঞানীদের এবং রসদ আনা নেওয়ার একমাত্র মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে. এছাড়া মহাকাশে আইএসএসের অবস্থান এবং দিক নির্দেশনা ঠিক রাখতে রাশিয়ার উপর নির্ভর করেন নাসা. এটা থেকে প্রমাণিত হয় যে পৃথিবীতে অন্যকে থোড়াই care করলেও অন্তত মহাকাশে পরশক্তি গুলো বিশেষ করে রাশিয় ও আমেরিকা একে অন্যের উপর ভীষণভাবে নির্ভরশীল। মহাকাশ থেকে এবার মর্তে ফিরে আসি চব্বিশ ফেব্রুয়ারী দু হাজার বাইশ ভ্লাদিমির পুতিনের নির্দেশে ভোরবেলা রুশবাহিনী ইউক্রেন আক্রমণ শুরু করে. ইউক্রেন ইস্যুতে রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দেয় যুক্তরাষ্ট্র ও তাঁর মিত্র দেশগুলো. পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা মিত্র দেশগুলো রাশিয়ার ওপর আরোপিত সাম্প্রতিক অবরোধ নিষেধাজ্ঞা তুলে না নিলে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন প্রকল্পে অংশ নেওয়া দেশগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা বন্ধের ঘোষণা দেয় রাশিয়া. এখন রাশিয়া যদি তাদের নভোচারীদের ফিরিয়ে নিয়ে এসে নিজেদের স্পেস ক্র্যাপ সৈয়সকে অব্যবহৃত অবস্থায় ফেলে রাখে. তাদের হয়তো বা তেমন কোনো ক্ষতি নেই. কিন্তু এর ফলে নিঃসন্দেহে অন্যান্য দেশের নভোচারীদের জীবন ও গবেষণায়  নেতিবাচক প্রভাব পড়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে. Iss প্রকল্পের সঙ্গে রাশিয়ার আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পর্ক ছিন্ন করার তারিখ খুব শিগগিরই ঘোষণার কথা জানিয়েছে রাশিয়ার মহাকাশ গবেষণা সংস্থার প্রধান দিবেন্দ্র রুবি সিং. এছাড়া রাশিয়ার সংশ্লিষ্টতা ছাড়া মহাকাশ স্টেশনটি পৃথিবীতে আছড়ে পড়তে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি. রাশিয়া যদি সহযোগিতা বন্ধ করে দেয় তাহলে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের ভবিষ্যৎ কি এটা নিয়েই আমাদের আজকের আয়োজন.




 একটা সময় ছিল যখন মহাকাশ স্টেশনের কথা সাইন্স ফিকশনের গল্পে ঠাঁই পেত কিন্তু সেটি বাস্তবে পরিণত হয় বিংশ শতকের একেবারে শেষ ভাগে এসে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের আলোচনা করতে গেলে যেই মানুষটার নাম সবার আগে উঠে আসে তিনি হলেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট রুনাল রিগান। উনিশশো চুরাশি সালের পঁচিশ জানুয়ারি তিনি নাসাকে বিভিন্ন দেশের সহযোগিতায় এবং অংশীদারিত্বের মাধ্যমে দশ বছরের মধ্যে একটি স্পেস স্টেশন নির্মাণ করার নির্দেশ দেন. উনিশশো ছিয়াশি সালে আমেরিকার স্পেস শার্টাল চ্যালেঞ্জের দুর্ঘটনায় সাত নভোচারীর মৃত্যু হয়. এই দুর্ঘটনার প্রায় সতেরো বছর পর আবারো নাসার সেই স্পেস সার্টেল প্রোগ্রামেরই মহাকাশযান কলম্বিয়ায় বিধ্বস্ত হয় দু-হাজার-তিন সালে. এই মহাকাশযানে থাকা সাতজন ক্রু মেম্বারই মৃত্যুবরণ করেন. এরপরই নাসা শুরু করে ঘটনার তদন্ত. দুই বছরের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয় স্পেস সার্টেল পাঠানো আর তখন থেকে এখন পর্যন্ত আইএসএসের রসদ ও ক্রু পাঠানোর একমাত্র মাধ্যম রাশিয়ার সৈউস।  দুহাজার সাল পর্যন্ত আইএসএস নভোচারীদের বসবাসের উপযোগী ছিল না । দুহাজার সাল পর্যন্ত জীবনধারণের নানা সুযোগ সুবিধা যুক্ত করে একে নবচারীদের বাসযোগ্য করা হয়েছে। দু হাজার সালের নভেম্বরের পর থেকে মহাকাশচারীরা নিয়মিতভাবে এখানে বসবাস করছেন। এই স্টেশনে সার্বক্ষণিকভাবে ছয় থেকে সাতজন নভোচারী অবস্থান করেন, তাদেরকে এখানে রাখার প্রধান উদ্দেশ্য হলো এমন সব গবেষণা করা যেগুলো শুধুমাত্র মহাশূন্যে বসেই করা সম্ভব।



 এই স্টেশনে কর্মরত প্রত্যেক মহাকাশচারি অবস্থানের সময়সীমা থাকে কমপক্ষে ছয় মাস কিন্তু ক্ষেত্র বিশেষে কাউকে প্রায় বছর খানেকও এখানে থাকতে হয়।      





 রুশ মহাকাশ সংস্থা এর চিফ এক ট্যুইট বার্তায় লেখেন যেহেতু আমেরিকা আমাদের স্পেস ইন্ডাস্ট্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে তাই তাদের উচিত আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে যাওয়ার জন্য ট্রাম্প পোলিং ব্যবহার করা । পরবর্তীতে নাসা ঘোষণা দেয় যে তারা ক্রিমিয়া সংকটের কারণে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন বাদে অন্য সব ক্ষেত্রে রাশিয়ার সাথে সব ধরনের সহযোগিতা বন্ধ রাখবে। রুশ মহাকাশ সংস্থার চিফের টুইট বার্তাকে তৎকালীন নাসা চিফ খুব একটা সিরিয়াসলি নেননি। তার মতে তারা পৃথিবীর কোনো দ্বন্দ্বকে মহাকাশে নিয়ে যেতে রাজি নন ।তিনি এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন যে, তারা দু দেশের মধ্যকার স্পেস ডিপ্লোম্যাটিক রিলেশন কন্টিনিউ করবেন যা তাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের গুরুত্বকে নির্দেশ করে । সাম্প্রতিক ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনকে কেন্দ্র করে রুশ মার্কিন সম্পর্ক প্রায় তলানিতে পৌঁছেছে স্নায়ু যুদ্ধের অবসানের পর তাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আগে কখনোই এতটা খারাপ হইনি। কিন্তু এত কিছুর পরেও দুই পক্ষের মহাকাশে যে সহযোগিতা সম্পর্ক তা বজায় রয়েছে এখনো পর্যন্ত. রাশিয়া মার্কিন মহাকাশচারীদের মহাকাশে রেখে আসেনি. বরং সুইজে করে তাদেরকে পৃথিবীতে নিয়ে এসেছে. এমনকি সম্প্রতি রাশিয়া মহাকাশে নতুন একদল রুশ নভোচারী পাঠিয়েছে. এ থেকে প্রমাণিত হয় যে এখনো পর্যন্ত সকল দেশের সহায়তায় আইএসএস ভালোভাবেই চলছে । পৃথিবীর ভূরাজনৈতিক যে সমস্যা তা এখনো পর্যন্ত অন্তত মহাকাশে পৌঁছায়নি.




 গত এক দশকে মহাকাশে নানান অজানা দিক জানানোর ব্যাপারে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন অপরিসীম ভূমিকা পালন করেছে । কিন্তু এটা সত্য যে এই স্টেশনটি এখন বেশ পুরোনো হয়ে গেছে। এই স্টেশনে বিভিন্ন দেশের মধ্যে সহযোগিতার যে চুক্তি রয়েছে তার মেয়াদ শেষ হবে দু হাজার চব্বিশ সালে । যদিও আমেরিকায় এটাকে দু হাজার ত্রিশ সাল পর্যন্ত বাড়াতে চায় । রাশিয়া এখনো এই ব্যাপারে কোনো সম্মতি দেয়নি এবং চুক্তিও স্বাক্ষর করেনি । যদি দুই দেশের চুক্তি স্বাক্ষর হয় ভবিষ্যতে স্পেস প্রোগ্রাম নিয়ে তাদের ভিন্ন ভিন্ন পরিকল্পনা রয়েছে। বেসরকারি কোম্পানিগুলো আগামী দিনে নিজেদের মালিকানাধীন স্পেস স্টেশন তৈরির পরিকল্পনা করছে. এদিকে নাসা ও এইসব বেসরকারি স্পেস স্টেশনের ওপর নির্ভর করে কাজ করতে চায়. নাসা চাইছে অন্যান্য দেশের সহযোগিতায় আর্টিমিস প্রোগ্রাম তৈরি করতে. যেটার মাধ্যমে তারা আবারও চাঁদে মানুষের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে পারবে.


 পর তারা ধীরে ধীরে মঙ্গল গ্রহের জয়ের দিকে যাত্রা করতে চায়। কিন্তু আমেরিকার এই উদ্দেশ্যের সাথে দুটি দেশ এখনো একমত হয়নি ।কারণ তাদের ভিন্ন উদ্দেশ্য রয়েছে রাশিয়া বর্তমানে নিজস্ব স্পেস স্টেশন তৈরীর পরিকল্পনা করছে অন্যদিকে চীন এবছরের মধ্যেই তাদের নিজস্ব স্পেস স্টেশন তৈরির কাজ সম্পন্ন করতে চায়. আমেরিকার পর বিশ্বের দ্বিতীয় দেশ হিসেবে চাঁদের পৃষ্ঠে নিজেদের পতাকা স্থাপন করেছে চীন. যা অবশ্যই তাদের মহাকাশ জয়ের পথে নতুন এক মাইল ফলক.


 যদি দুহাজার-চব্বিশ সালের পর রাশিয়া আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশনে অংশগ্রহণ না করে তখন নেভিগেশনসহ আইএসএসের যে সকল বিষয় বর্তমানে রাশিয়া নিয়ন্ত্রণ করছে তা হয়তো আমেরিকার ডিজাইন করতে হতে পারে আর এই কাজে আমেরিকাকে হয়তো এলন মাস্কের স্পেস এক্সের এর মত বেসরকারি কোম্পানিগুলোর সহায়তা নিতেই হবে। স্পেস এক্সের তৈরি প্রথম ফ্যালকন ওয়ান নামক রকেট প্রথম চেষ্টায় অরবিটে পৌঁছতে সক্ষম হয়. এ যাবৎ স্পেস এক্স পরিচালিত মোট সাতাশিটি স্পেস মিশনের মধ্যে পঁচাশিটি মিশন সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে. দীর্ঘদিন ধরে কোম্পানিটি নিজস্ব রকেটে মহাকাশে স্যাটেলাইট যাত্রী এবং কার্গো পরিবহনের কাজ সফলভাবে করে আসছে। দু হাজার বিশ সালে তাদের সফলভাবে সম্পন্ন করা মিশন রাশিয়ার সুইজের ওপরে নির্ভরশীলতা কমিয়েছে অনেকটাই। মানব সভ্যতার ইতিহাসে সহযোগিতার সবচেয়ে বড় উদাহরণ হলো আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন.



 ইউক্রেন সংকট হয়তো বা এই স্টেশনে সহযোগিতার পথ বন্ধ করে দেবে. কিংবা এই স্টেশনটি হয়তো বা চিরতরে বন্ধ হয়ে যাবে. কিন্তু এটা আসলে পূর্বেই অনুমিত ছিল. এখন হয়তো এই সংকটের কারণে বন্ধ হওয়ার প্রক্রিয়াটা আগের চেয়ে একটু দ্রুততর হবে. কিন্তু মূল চিন্তার বিষয় এটা নয় যে আইএসএস বন্ধ হয়ে যাচ্ছে বা বন্ধ হয়ে যাবে যেটা চিন্তার বিষয় তা হলো ভবিষ্যতে মহাকাশে বিভিন্ন দেশের মধ্যকার সহযোগিতার লক্ষ্যে আর কোনো কমন গ্রাউন্ড বা প্ল্যাটফর্ম হয়তো থাকবে না। সবাই আলাদা আলাদা ভাবে মহাকাশে নিজ নিজ খুঁটি গেড়ে বসতে চাইবে। পৃথিবী এখনো পর্যন্ত অনেক যুদ্ধ বিগ্রহ দেখেছে. ভবিষ্যতে হয়তো মহাশূন্যর সাক্ষী হবে যুদ্ধ বা বিশ্বযুদ্ধের.   

মন্তব্যসমূহ

Blog Posts

পেগাসাস স্পাইওয়ার কি ?

গত কিছুদিন ধরেই বিশ্ব রাজনীতি এবং প্রযুক্তি জগৎ এই দুই জায়গাতেই আলোচনার বিষয়বস্তু একটাই। সেটা হচ্ছে পেগাসাস স্পাইওয়ার. বিশ্বজুড়ে নানান দেশের মানবাধিকার কর্মী সাংবাদিক আইনজীবী ও রাজনীতিকদের ফোনের নজরদারি চালানোর ঘটনা ফাঁস হওয়ার পর ইজরায়েলের বেসরকারি কোম্পানি nso গ্রুপের তৈরি করা এই সফটওয়্যার নিয়ে এখন তুমুল তরজা চলছে দুনিয়া জুড়ে । চলুন কথা বলি দুনিয়া ওলট পালট করে দেওয়া স্পাইওয়ার সম্পর্কে । পেগাসাস মূলত একটি নজরদারি বিষয়ক সফটওয়্যার । ইজরাইলের সংস্থা এনএসও ই সফটওয়্যার তৈরি করেছে। যা দিয়ে যে কারো মোবাইলে আড়ি পাতা যায়. এটা কিন্তু সাধারণ কোন নজরদারি নয়. আগে ফোনে আড়ি পেতে শুধু দুই প্রান্তের কথাবার্তা শোনা যেত. আর সফটওয়্যারের মাধ্যমে গোটা ফোনটারই নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় হ্যাকাররা. ফোনের কথাবার্তা WhatsApp এর চ্যাট, ছবি, ফোনে কি কি তথ্য আছে সবই জানা যায়. আরো ভয়ানক ব্যবহার হচ্ছে মোবাইল যিনি ব্যবহার করছেন তিনি জানতেই পারেন না যে তার ফোন হ্যাক করা হয়েছে. সমস্ত তথ্য পাচার হয়ে যাচ্ছে নির্দিষ্ট একটি গোষ্ঠীর কাছে. কিন্তু কারো ফোনে পেগাসাস software install করতে হলে তো সেই ফোনটাকে...

প্রযুক্তি দুনিয়াতে পর্দার আড়ালে থেকে যাওয়া এক প্রতিভাবান এর গল্প ।

পর্দার আড়ালে একা খেলে যাচ্ছেন একজন. কামাচ্ছেন বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার. অথচ তাকে চেনে খুব কম সংখ্যক মানুষ. আইটি জগতে ইলন মাস্ক, জেফ বোজোস বা বিট গ্রেটসের সাথে তার নামও সমান তালে চলার কথা ছিল. কিন্তু বিহাইন্ড দা সিনে একা গোল করে যাচ্ছেন তিনি. নাম ড্রোন ইয়াং পিং ড্রোন ইয়াং পিং নামটি মোবাইল ফোনের জগতে খুবই কম মানুষের শোনা. তবে তার নাম অজানা থাকলেও তার কোম্পানি বিবিকে ফোন গিগদের মধ্যে বেশ পরিচিত. ওয়ান প্লাস, রিয়েলমি, অপো, ভিভো এবং আইকিউ. এই পাঁচটি জনপ্রিয় মোবাইল ব্র্যান্ডের একক মালিক ডোন ইয়াং পিন.  এই ব্র্যান্ড গুলো তার কোম্পানিতে পরিণত করেছে বর্তমানের সবচেয়ে বড় মোবাইল ফোন উৎপাদনকারী কোম্পানিতে. অ্যাপেল , শাওমি বা স্যামসাং যারা মোবাইল ফোনের জগতে বর্তমানে সবচেয়ে বড় ব্র্যান্ড তাদেরকেও পেছনে ফেলে এগিয়ে গিয়েছে বিবিকে কোম্পানি। কিন্তু এত সফলতার সত্ত্বেও বেশিরভাগ মোবাইল ফোন ব্যবহারকারী এমনকি ফোন গিগরাও তার সম্পর্কে বলতে গেলে তেমন কিছুই জানে না. এলেন মাস্ক, স্টিভ জবস বা জ্যাকমা, যারা কিনা টেকনোলজির জগতে খুবই পরিচিত তাদের সম্পর্কে অনলাইনে  অগণিত তথ্য রয়েছে। কিন্তু ডন ইয়ং পিং এর...

ম্যান্ডেলা ইফেক্ট কেনো হয়?

   আচ্ছা নিজের স্মৃতি শক্তির উপর কতটা বিশ্বাস আছে আপনার? আচ্ছা বাদ দিয়ে আপনার কথা. গণমানুষের স্মৃতিশক্তির উপর নিশ্চয়ই বিশ্বাস আছে অনেকটা. না না. ধর্মীয় কোন বিশ্বাস না. এই গ্রহে ঘটে যাওয়া এমন সব ঘটনা. যা সবাই জানে. তা কি রকম মিথ্যা? এক দশক আগেও পৃথিবীর প্রায় এক তৃতীয়াংশ মানুষ জানতো যে অস্ট্রেলিয়ার রাজধানীর নাম সিডনি. আসলে কি তাই? গত এক দশকে এই ধারণা মোটামুটি পরিবর্তন হয়ে মানুষ জেনেছে অস্ট্রেলিয়ার রাজধানীর নাম ক্যানভেরা. এখনো এই ভুল হরমামেশাই করে যাচ্ছে মানুষ. বিশ্বাস না হলে আশেপাশের কিছু মানুষকে জিজ্ঞেস করে দেখতে পারে. প্রশ্ন করতে পারেন ম্যান্ডেলার নাম কেন? এই ফ্ললস মেমোরি সিন্ড্রোমকে ম্যান্ডেল এফেক্ট নামকরণ করেছেন প্যারানরমাল কনসালটেন্ট ফীয়না ব্রুম তার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে । দু হাজার দশ সালের এক আলোচনা সভায় উঠে আসে দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদ বিরোধী আন্দোলনের নেতা উনিশশো আশি সালে কারা জানে মারা যাওয়ার প্রসঙ্গ । অনেকেই সেদিন বলেছিল, টিভিতে এই নেতার শেষকৃত্যের আনুষ্ঠানিকতা দেখার অভিজ্ঞতার কথা. ম্যান্ডেলার স্ত্রীর হৃদয় নিন্দারও ভাষণের কথা উল্লেখ করেছিলেন কেউ কেউ. এমনক...

কিভাবে লিমিটলেস হওয়া যায় ? লিমিটলেস আসলে কিভাবে কাজ করে ?

এনজিটিপিল,  এটা এমন এক পিল যা আপনাকে করবে আল্ট্রা ফোকাসড. দেবে দুর্দান্ত মোটিভেশন. বের করে আনবে আপনার সর্বোচ্চ সম্ভাবনা. আপনি হয়ে উঠবেন আনস্টপল. বাস্তবতা পাবে প্রতিটি স্বপ্ন. কিন্তু সমস্যা হচ্ছে এমন কোন পিলের অস্তিত্ব নেই. ফলাফল আপনি আটকে আছেন একটি খাদে. সারাক্ষণ ক্লান্তি নিয়ে হয়ে উঠছেন আনপ্রোডাক্টিভ. নষ্ট হচ্ছে ক্রিয়েটিভিটি. সময় গড়িয়ে যায়. ঋতুর পরিবর্তন ঘটে. কিন্তু আপনি ডুবে থাকেন এক হতাশায় যাতে আপনি দিন দিন পিছিয়ে পরছেন. আপনি যা যা এতদিন অর্জন করবেন ভেবেছিলেন তা কিছুই আপনি অর্জন করতে পারেননি । নিজেকে সান্তনা দিচ্ছেন আগামীকাল হবে ভিন্ন। কিন্তু তা কখনোই হয়ে ওঠে না এখন যদি আপনাকে বলি কোনো জাদুকরী পিলের সাহায্যে নয় বাস্তবিক লিমিটলেস হয়ে ওঠা সম্ভব।  একদম প্রমাণিত পদ্ধতিতে যা একেবারে ফ্রিতে ব্যবহার করা সম্ভব.  তো আছেন তো শেষ পর্যন্ত ?  Limit less হওয়ার যাত্রায় ।  স্টেপ ওয়ান : এনার্জি--  মাত্র কয়েক মাস আগে আমি নিজেও আপনার মতো কর্মশক্তিহীন অনুভব করতাম. সামান্য কাজেই আসতো অবসন্নতা, গেয়ে ধরতো ক্লান্তি একদিন হঠাৎ টের পেলাম আমি নিজেই নিজের energy নি...

সারোগেসি কি ?

সারোগেসির মাধ্যমে সন্তান ধারণ করা নিয়ে এখনো বহু বিতর্ক আছে. শুধু আমাদের দেশে নয়, সারা বিশ্বেই এই পদ্ধতি নিয়ে তর্ক বিতর্কের শেষ নেই.  এটার আইনি প্রক্রিয়াও জটিল। কারণ এটি একেক রাষ্ট্রে. শারোগেসি আইন একেক রকম. নারী মা হবেন প্রাকৃতিক নিয়ম সমাজ এমনটাই দেখতে অভ্যস্ত. কিন্তু কোন কারণে মা হবার ক্ষমতা না থাকলে তাকে পরিবার ও আশপাশ থেকে যে পরিমাণ কটু কথা শুনতে হয় তা সাধারণ মানুষের ধারণারও বাইরে.   সরোগেসি বিষয়টি কি? চিকিৎসা শাস্ত্রের অগ্রগতি এমন মায়েদের সামনে এনেছে যারা গর্ভ ভাড়া দিয়ে নিজে বাঁচেন অন্যদের মাতৃ সুখ দেন । একজন নারীর গর্ভে অন্য দম্পতির সন্তান ধারণের পদ্ধতিকে সারোগেসি বলা হয়.সারোগেসির এই  পদ্ধতি বেশ দীর্ঘকালীন. আইভিএফ পদ্ধতিতে স্ত্রী ও পুরুষের ডিম্বাণু শুক্রাণু দেহের বাইরে নিষিক্ত করে তা নারীর গর্ভাশয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়. কিন্তু এখানেও জটিলতা. কেন? সে বিষয়ে পরে আসছি. বাংলাদেশ সহ বহু দেশই এই সারোগেসি একরকম ভাবে নিষিদ্ধ. সুতরাং বিষয় টি  সংবেদনশীল. এমনকি বেশিরভাগ ধর্মেও রয়েছে নিষেধাজ্ঞা. চলুন কথা বলি সারোগেসি মাদার সম্পর্কে। আইভিএফ বা টেস্ট টি...

রেট রেস কি ?

      আপনি ঠিক কখন ইঁদুর দৌড়ে যোগ দিয়েছেন এটা হিসাব করা কঠিন. কিন্তু নিশ্চিত থাকুন আপনি এই দৌড়ে আছেন. ক্লাস eight এ পড়ার সময়ের কথা মনে আছে? সামনে বৃত্তি পরীক্ষা পাটিগণিত বীজগণিতের অংক প্যাঁচ লাগাচ্ছে বিজ্ঞানের জটিল সব সূত্র ভোরে ওঠে প্রাইভেট টিউটরের বাসায় ছোটা রাত জেগে পড়াশোনা. বয়সের তুলনায় অনেক বেশি কর্ম ব্যস্ত একটা সময় নিশ্চয়ই কাটিয়েছেন তখন? আমরা সবাই কাটিয়েছি. সেই সময় নিশ্চয়ই অভিভাবক বলেছে এই তো আর কটা দিন. বৃত্তি পরীক্ষা শেষ হলেই জীবন শান্তি আর শান্তি. জীবনের নানা এপিসোডে আপনি এই কথাগুলো শুনেছেন অনেকবার অনেকের মুখে. এসএসসি পরীক্ষাটা দাও, কলেজে উঠলেই তো স্বাধীনতা. একবার ভার্সেটিতে উঠতে পারলেই জীবন হবে আনন্দে ভরপুর. একবার জব লাইফে ঢোকো. নিজের টাকায় আয়েশ করার মজাই অন্যরকম. শুনেছেন না এসব?  বয়স ঘড়ির ত্রিশের প্রান্তে দাঁড়িয়ে হিসেবগুলো মেলাতে পারেন কি? কি মনে হয়? এই এপিসোডগুলোর কোনোটা পার হবার সময় জীবন খানিকটা হলেও সহজ হয়েছে? সুন্দর হয়েছে? হয়নি, হবেও না, মিথ্যা একটা মরীচিকার আশায় আমরা ছুটেছি ঠিকই আমাদের ছোটানো হয়েছে, কিন্তু হিসাব মেলেনি ছুটত...

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কি ? আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কতটা ভযঙ্কর হতে পারে আগামী দিনের জন্য ?

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বহুল চর্চিত এবং ব্যবহৃত একটি শব্দ. মানুষের বুদ্ধিমত্তা ও চিন্তা শক্তিকে কম্পিউটার প্রোগ্রামিং এর মাধ্যমে মেশিন ল্যাঙ্গুয়েজে স্থাপন করা টেকনোলজিটাই হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স । এর মাধ্যমে কোন যন্ত্র নির্দিষ্ট প্রোগ্রামের আওতাধীন কিছু কাজ নিজে থেকেই করতে পারে নিজে নিজে সিদ্ধান্ত নিতে পারে।  টার্মিনেচার টাইপের কোনো সাইফাই সিনেমার গুরু বন্ধুর সংলাপ নয়।  A.I নিয়ে ভবিষ্যৎবাণী করেছিলেন পৃথিবীর সেরা বিজ্ঞানীদের একজন স্টিফেন হকিং আমার ভয় হয় তারা সত্যিই হয়তো একদিন মানুষকে হটিয়ে নিয়ন্ত্রকের আসনে বসে যাবে। বেঁচে থাকতেই BBC কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স তথা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে এভাবেই সবাইকে সতর্ক করেছিলেন তিনি। হকিংসের এই ভয় এখনো ভবিষ্যতের বিষয় হলেও অমূলক নয় মোটেও যন্ত্রকে বুদ্ধিমান করে তার আশীর্বাদ অনেক আছে। কিন্তু দীর্ঘ মেয়াদে সেই যন্ত্রই পৃথিবীর দখল নিতে চলেছে কিনা স্বয়ং সম্পূর্ণ হয়ে মানুষকেই বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে একদিন অপদার্থ তে পরিণত করবে কিনা সেই প্রশ্নটা উঠছে বারবার।  যুক্তরাষ্ট্রে...

মারিয়ানা ট্রেঞ্চ কি ?

গুটঘুটে অন্ধকার, কনকনে ঠান্ডা আর জলের চাপ হলো আট টন। অর্থাৎ প্রতি বর্গ ইঞ্চিতে প্রায় পনেরো হাজার সাতশো পঞ্চাশ পাউন্ড। অবাক করা বিষয় হলো এখানেও প্রাণের অভাব নেই। এখানকার বাসিন্দারা সংখ্যায় যেমন অনেক তেমনি বৈচিত্রেও কম নয়। কোনটি দেখতে অতীব বীভৎস আবার কোনটি বিষ্ময় জাগায় । অথচ এই গভীরতম বিন্দুর রহস্য এখনো অনেকটাই ভেদ করা সম্ভব হয়নি। পৃথিবীর গভীরতম স্থান মারিয়ানা ট্রেন্স।  এতটাই গভীর যে আপনি যদি মারিয়ানা ট্রেন্সের নিচে আস্ত মাউন্ট এভারেস্ট স্থাপন করেন তবুও মাউন্ট এভারেস্টের শিখর সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে সাত হাজার ফুট নিচে থাকবে। মারিয়ানা ট্রেন্সের সম্পর্কে আজও পুরোটা জানা সম্ভব হয়নি বলেই পৃথিবীর মানুষের কাছে আকর্ষণীয় ও বিস্ময়কর স্থান এটি।  বহু মিথ আছে একে ঘিরে। যার বেশিরভাগই অপমানি।.   মারিয়ানা আইল্যান্ডসের সবচেয়ে বড় দ্বীপ গোয়া। এখানে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের খুবই শক্তিশালী সামরিক ঘাঁটি। মারিয়ানার আর একটি দ্বীপ তিনিয়ন। উনিশশো পঁয়তাল্লিশ সালে এখান থেকেই জাপানে বোমা হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। ষোলশো আটষট্টি সালে প্রশান্ত মহাসাগরের পশ্চিম দিকে দ্বীপপুঞ্জে কলোনি স্থাপ...

ডিপ্রেশন কি ? এটা কত প্রকার ? বাইপোলার ডিসঅর্ডার কি ?

আজকাল খুব কমন একটা শব্দ ডিপ্রেশন. যার বাংলা অবসাদ । ডিপ্রেশনের সাথে সাথে পরিচিত হয়ে উঠছি আমরা মুড সুইং শব্দটার সাথেও । এই জেনারেশনের কারো সোশ্যাল মিডিয়ায় ডিপ্রেশনে না ভোগাটাই যেন বিরাট অপমানজনক। সবাই কেন যেন অস্থির হয়ে আছে বোঝাতে যে সে ডিপ্রেশনে ভুগছে । কখনো গানের লিরিক্স আবার কখনো বিখ্যাত লেখকের কোটেশন সবকিছুতেই ডিপ্রেশন । সাইকিয়াট্রিতে এই ডিপ্রেশন হল এক ধরনের মুড ডিসঅর্ডার । যেটা একমুখী অবসর বা ইউনিফুলার ডিপ্রেশন । কিন্তু সম্প্রতি আর এক ধরণের অবসাদ বিজ্ঞানীদের মাথা খারাপ করে দিচ্ছে। যেটাকে বলা হচ্ছে বাই পোলার ডিপ্রেশন । বাই পোলার অর্থাৎ দ্বিমুখী । একে ম্যানিক ডিপ্রেশনে বলা হয়। এখনো পর্যন্ত মনোবিজ্ঞানীরা বাই পোলার ডিসঅর্ডারের কারণ সম্পর্কে সঠিকভাবে জানতে পারেন নি। এর ওপর প্রচুর গবেষণা চলছে। জানলে অবাক হবেন যে শুধুমাত্র আমেরিকাতেই সাত মিলিয়নেরও বেশি মানুষ বাইপোলার ডিসঅর্ডারে ভুগছে । কিন্তু আসলে কি ঘটে? বাইপোলার ডিসঅর্ডারে? চলুন কথা বলি বাই পোলার ডিসঅর্ডার নিয়ে আজ কথা বলা যাক।   বাইপোলার ডিসঅর্ডার কাকে বলে? খুব সংক্ষেপে বলা যায় বাইপোলার ডিসঅর্ডার একটি মানসিক অবস্থা। যে...

লুসিড ড্রিম কাকে বলে ? লুসিড ড্রিম কিভাবে দেখতে হয় ?

 স্বপ্ন নিয়ন্ত্রণ করার কথা ভেবেছেন কখনো? নিশ্চয়ই ভাবছেন জেগে জেগে দিবাস্বপ্ন দেখার কথা বলছি না তো? কিন্তু না, রীতিমতো ঘুমিয়ে দেখা স্বপ্নও নিয়ন্ত্রণের কথাই বলছি, আপনার ইচ্ছামত স্বপ্ন দেখবেন। ইচ্ছা মতো নিয়ন্ত্রণ করবেন। আর পছন্দ না হলে অর্থাৎ দুঃস্বপ্ন দেখা শুরু করলে সেটার গতিপথ পাল্টে দেবেন একেবারে নিমেষে। আধুনিক বিজ্ঞানের ভাষায় এটা খুবই সম্ভব একে বলা হয় লুসিভ ড্রিম। লুসিড ড্রিমিং এর সাথে আপনারা অনেকেই হয়তো পরিচিত আছেন। অনেকে পরিচিত থাকলেও হয়তো এটা কেন হচ্ছে বা কিভাবে হচ্ছে তা নিয়ে বেশ দ্বিধা দ্বন্দ্বে আছে এসবেরই উত্তর মিলবে আজকের এই লিখাতে।   লুসিড ড্রিম অর্থ কি? সহজ বাংলায় অনুবাদ করতে গেলে বলা যায় লুসিড অর্থ পরিষ্কার. অর্থাৎ স্পষ্ট আর dream মানে তো আমরা সবাই জানি যে স্বপ্ন। লুসিড ডিম হলো সেই স্বপ্ন যে আমাদের স্পষ্ট ভাবে মনে থাকে এবং স্বপ্ন চলাকালীন সময়েও আমরা এ উপলব্ধি করতে পারি যে এটি বাস্তব নয় বরং এটি স্বপ্ন কিন্তু শুধুমাত্র আক্ষরিক অর্থ দিয়ে লুসিড ড্রিম ব্যাখ্যা করলে ভুল হবে একটু অন্যভাবে বলা যাক ।  মনে করুন স্বপ্নে আপনি কি পাহাড়ের উপর থেকে দ্রুত গ...